Profile Photo

ইসমাইল হোসেনOffline

  • ismail
  • Profile picture of ইসমাইল হোসেন

    ইসমাইল হোসেন

    • 4 years, 10 months ago

    আমার বয়স সবে ২৭ আমি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি , সেই সাথে নব বিবাহিত স্বপ্ন আছে বউ কে নিয়া গুরতে যাবো সেন্টমাটিন বন্ধুবান্ধদের মাঝে অনেকেই আমাকে মুসাফির বলে ডাকে কারন আমার গুরতে ভাল লাগে তাই স্বপ্ন পূরনের লক্ষ্যে পরিকল্পনামাফিক ছুটে চলা। এরই মধ্যে হঠাৎ যেন সবকিছু তছনছ হয়েে গেল। করোনার কারনে স্বপ্নটা স্থিমিত হয়ে গেল। ভাব ছিলাম ………!

    একে একে আমার পরিচিত আপন জনেরা যারা আছে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে । এদের কে দেখয়ে দেখতে কখন যেন আমি নিজেই Covid positive হয়ে গেলাম বুঝতেই পারি নাই ” হাসপাতালে পাশাপাশি অবস্থান। মনে হচ্ছে মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো অবস্থা। যেখানে মা-বাবা, সন্তান – সন্তানাদি, প্রতিবেশি , আত্বীয় – স্বজনদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে একে অপরকে সেবা শুশ্রূষা করার কথা সেখানে কেউ কাওকে দেখতে প্রর্যন্ত আসছে না। হাসপাতাল থেকে প্রতি টা ঘন্টায় কান্নার আওয়াজ ভেঁসে আসতো। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সব সময় অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পেতাম। এরই মাঝে একদিন হঠাৎ পাশে একটু দুরে তাকাতেই প্রত্রিকায় চোখ পড়লো মুহুর্তের মধ্যে যেন চোখ আটকিয়ে গেল। এ আমি কি দেখছি এটাও কি দেখার বাকি ছিল ” মানবতা আজ কোথাই মানুষ মরে যাচ্ছে অথচ তার ছেলে,মেয়ে, ভাই,বোন কেউ তার মৃতদেহটি গ্রহণ করে দাফন – কাফনতো দুরের কথা কেউ নিতেও প্রর্যন্ত আসছে না, এটার দেখার পর মনে হল আমার কি হবে আমি তো তাদেরি মতো এক জন covid আক্রান্ত “আমার আপন মানুষ গুলা কি তাদেরি মতো হবে ” না আমায় নিতে আসবে ” এই কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখের কনে পানি চলে আসলো বুঝতেই পারি নাই !
    মহামারি করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী একাই রাজত্ব করে চলেছে। লকডাউন , কোয়ারেন্টাইন, হোম কোয়ারেন্টাইন , আইসোলেশন , এমনকি আইসিইউ কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে একাই প্রভাব বিস্তার করেছে। বিশ্বের একটি রাষ্ট্রকে অপর রাষ্ট্রের সাথে করেছে পৃথক। অর্থাৎ গোটা পৃথিবীটা আজ অচলাবস্থা প্রায়।

    আমি আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে কত কিছু যে সইতে হয়েছে। ভয়াবহ একটা পরিস্থিতি সহ্য করেছি। ১৪ দিন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর” কত দিন ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় থেকেছি সেই সময় টা আমি দেখেছি আমার মরন কত কাছে ” আমার ঘড়ে আমি একা পাশের ঘড়ে আমার নতুন বউ, আমার, মা,বোন,!
    আমি হাসপাতাল থেকে রাত্রে বাড়ি ফিরি তাই অনেকেই জানতো না আমি বাড়িতে ” কয়েক দিন পর যখন বন্ধুরা জানতে পারলো আমি বাসায় থেকেও তাদের কাছে যাই না ” ফোন দিয়ে বলে কিরে আসবি না ” দোকান পাড়” আমি বলেদেই না, পরে আসবো ” এই ভাবে ফোন দেয়ার কারন তারা জানতো না আমি করোনা আক্রান্ত ছিলাম ” এবং এখনো আছি ” জানলে ফোন কেন আমার বাড়ির সামনে দিয়া মানুষ আসতো কিনা আমার মনে হয় না ”
    বন্ধুদের এক টাই কথা নতুন বউ পাইয়া এখন আমাদের আর দাম নাই ” কিন্তু আমি তো জানি তদের দাম আমার কাছে কত টা ” অনেক খারাপ সংবাদই পেয়েছি। ভয় , উদ্বেগ আর একরাশ ক্ষোভ নিয়ে সব সহ্য করেছি। অতীতের অনেক বিপর্যায়ের সাক্ষী আমি। সব সময় মনে করতাম, আমি মানসিকভাবে যেকোন পরিস্থিতি সহ্য করার জন্য প্রস্তুততো ? প্রতিটি মুহুর্তে মনে হতো বাঁচবোতো ! তবে কোনো মানুষের পক্ষেই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা সম্ভব নয়। ২৮ দিন ধরে কত ভয়াবহ ঘটনা যে ঘটেছে। আমি সহ অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি চেষ্টা করে গেছে কেবল সব সহ্য করে যাওয়া মানে এই না যে মৃত্যুর মাঝ থেকে ফিরে আসতে পারছি” মৃত্যুর মাঝ থেকে এত সহজ নয় আমি ফিরে আসবো,
    আমার
    জীবন পুরোপুরি পাল্টে গেছে। আগের মতো করে সব কিছু পেতে আরও কত পথ যে পেরোতে হবে জানি না এক মাত্র আল্লাহ ভাল জানে

    ২৮ দিন পর যখন প্রথম ঘরের দরজার বাইরে পা রাখি। তখন আমার মা মনে হয় একটা বড় করে নিশাস ছাড়লেন, আমার বউ তার কথা না বললে কি ভাবে হয় সে আমার এক মাত্র সাহস দাতা যে কি না আমার সেবায় ১৪ টা দিন রাত্র এক করে সেবায় দিয়ে গেছেন”, এরপর একদিন হাসপাতালে গিয়ে দেখি হাসপাতাল খুব শান্ত হয়ে আছে। কয়েকটা মাত্র অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং লটে অন্য গাড়ির সঙ্গে দাড়িয়ে ছিলো। সেদিন আর কোন পরিবারকে কাঁদতে দেখেনি ! আমার এক বড় ভাই পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ! উনারা জীবনবাঁজি রেখে দিনরাত অবিরাম অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন অথচ তারাই আজ নেই। ভাবতে খুবই কষ্ট হচ্ছিলো। এই কষ্টটি আমাকে মহামারির চেয়ে বেশি আঘাত করেছে।
    সেই আমি এই তো আমি, আল্লাহর ইচ্ছায় এখনো বেচে আছি ” আর যারা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন তাদের জন্য দোয়া ছাড়া কিছুই থাকলো না আমার কাছে ”

    3
    3 Comments

Friends

Skip to toolbar