-
কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
(না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে #মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ২১
আমার পুতুলটা ঘুম থেকে উঠে গেছে,
তাই এসব অতীত ভেবে সময় নষ্ট করতে বর্তমানকে অবহেলা করতে চাই না।
তারেক এর সাথে বিয়ে হয়েছে বলেই তো একটা জীবন্ত পুতুল আমার জীবনের এসেছে এটা কি কম পাওয়া!
এই পুতুলের মুখের হাসি দেখার জন্য আমি সব কষ্ট মেনে নিতে রাজি আছি।
কথাটা ভেবে মেয়েকে বুকের মধ্যে নিতেই সে তার নিজের খাবার খুঁজে নিতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ল।
মেয়েটা আমার খুব লক্ষ্মী।
দিনে তেমন একটা না ঘুমালে ও রাতে বিরক্ত করে না।
ক্ষুধা লাগলে ঘুমের মধ্যেই খাবার খুঁজবে আর খাবার পাওয়ার পর তা খেয়ে দেরি না করে ঘুমিয়ে যায়।
তার খাবার তো আমার কাছে।
সেজন্য খুঁজতে দেরি হয় না।
আল্লাহ্ পাক এর অসীম রহমত রয়েছে প্রতিটি মায়ের উপর।
একটা নবজাতক শিশু পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার খাওয়া নিয়ে তাকে চিন্তা করতে হয়।
কারণ রাব্বুল আলামীন তাদের জন্য খাবার হিসেবে মায়ের বুকের দুধ দিয়েছেন।
খেয়ে শিশুটি ক্ষুধা নিবারণ করতে পারবে,
যা গরম বা ঠান্ডা করতে হয় না।
আমার মেয়েটা খাওয়ার পর আবারো ঘুমিয়ে গেছে, তা দেখে আমার পুতুলটার কপালে চুমু দিলাম।রাতে বাবা বাসায় আসার পর আমার মেয়েকে ঘুমে দেখে বললেন, ইস্ আরেকটু আগে আসলেই নানুমণিকে সজাগ পেতাম।
আমি বাবার কথা শুনে বললাম, বাবা আপনি আজ আগে এলেও কাজ হতো না।
সারাদিন কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে আপনার নানুমনি সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে গেছে।
শাহেদ বেপারি তার মেয়ের কথা শুনে মুচকি হেসে বলেন,হম তা গত সপ্তাহে না জামাই দেশে থেকে আসলো আবার হঠাৎ করে দেশে গেল?
আব্বা,আম্মাকে আনতে গিয়েছে,গত সপ্তাহে আম্মা আসতে রাজি হয়নি।
তাছাড়া গত সপ্তাহে লায়লাকে দিতে গিয়ে ছিলেন।
তাই এই সপ্তাহে গেছেন তাদের নিতে।
শাহেদ বেপারি তার মেয়ের কথা শুনে বললেন, ওহ্ ভালো।
জামাইয়ের মা বাবার প্রতি ভালোবাসা দেখে ভালো লাগছে।
প্রতিটি সন্তানের উচিত তার মা বাবার খেয়াল রাখা,
আর মা একটা কথা সব সময় মনে রাখবি তারেক এর মা মানে তোর ও মা।
তোর দ্বারা যেন তারা কখনো কষ্ট পায় না।
তুই তাদের কষ্ট দিলে তোর ভাইয়ারা যখন বিয়ে করবে তখন তারাও আমাদের এমন করবে।
আমি বাবার কথা শুনে বললাম,বাবা আমার দ্বারা কখনো এমন অভিযোগ শুনবেন না ইনশাআল্লাহ।
শাহেদ বেপারি তার মেয়ের কথা শুনে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ।
আর বাসায় একজন মুরব্বি না থাকলে হয় না,তা বিয়ান এর সাথে লায়লা এবার আসবে না?
তোর ননাশ ও আসবে শুনলাম ?
বলতে পারছি না বাবা,
লায়লা এলে আপা আসার কথা না।
কারণ আপা এলে তো তাদের বাড়ি খালি থাকবে।
তাছাড়া আপা ঢাকায় এলে তার ছেলেদের খাওয়া দাওয়ার কষ্ট হয়।
সেজন্য আপা আসছে না,
শাহেদ বেপারি মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন,হম। মা নানুমণির পাশে পাশ বালিশ দিয়ে তুই খেতে আয় আমি তোর জন্য অপেক্ষা করছি।
কথাটা বলে তিনি রুমে থেকে চলে গেছেন।
ও লায়লা সম্পর্কে আপনাদের তো বলাই হয়নি ।
আমার বড় ননাশের ছোট মেয়ের নাম হচ্ছে লায়লা।
আমার ননাশের চার মেয়ে দুই ছেলে।
আপার স্বামী বিদেশ কাজ করতে যাওয়ার তিন মাসের মাথায় বিদেশে মারা গেছেন।
অবশ্য তা আরও ১৪ বছর আগে।
আপার তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে তারা নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যাস্ত।
ছেলেরা তার দুই মেয়ের পরে হয়েছে।
তারা এখনো বিয়ে করেননি
আর লায়লা আমার থেকে বয়সে ছয় মাসের ছোট।
আমারা সমবয়সী হওয়াতে সম্পর্কটা মামী ভাগ্নীর থেকে বন্ধুর মত বেশি।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে বিয়ের আগেও লায়লা আমাকে তার ছোট মামী হিসেবে পছন্দ করেনি।
কিন্তু এখন আমাকে ছাড়া মেয়েটার মন টিকে না।
লায়লা পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিল তার পর আর পড়াশোনা করেনি।
ওর পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না,সেজন্য আপা ওকে বিয়ে দিতে চাচ্ছে ছেলেও দেখা হচ্ছে পছন্দ হলেই যে কোন সময় বিয়ে দিবে।
আমাদের লায়লা দেখতে শুনতে মাশআল্লাহ।
যেমন রূপ তেমন চুল।
ওর আমার মধ্যে পার্থক্য ওর চোখের মণি কালো এবং আমার থেকে লম্বায় দের ইঞ্চি ছোট,
পাকা সুন্দর।
এছাড়া আমরা কোথায় একসাথে গেলে সবাই আমাদের কাজিন ভাবে।
আরেকটি কথা লায়লা আমাকে মামী বলে ডাকে না সব সময় ময়না পাখি বলে।
আমি ওকে টিয়া পাখি বলি।
বিয়ের পর থেকেই ও আমার সাথে থাকে আপা আসেন বছরে দুই তিন বার।
ইস্ আপনাদের সাথে বকবক করতে গিয়ে ভুলেই গেছি বাবা আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন।
খেয়ে আসি তারপর না হয় বকবক করব।পরের দিন সকাল
ঘুম থেকে উঠে পাশে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা গভীর ঘুমে।
এদিকে রান্না ঘরে থেকে টুং টাং শব্দ শুনে সেদিক গেলাম।
গিয়ে দেখি মা সকালের নাস্তা বানাচ্ছে , মা’কে বললাম,মা তুমি একা কাজ করছো আমাকেও কিছু করতে দাও।
মা আমার কথা শুনে বলেন, তোকে কাজ করতে হবে না।
তুই যা মা , পরি ঘুমিয়ে রয়েছে এখন তুই ও একটু ঘুমিয়ে নে।
তুমি একা একা কাজ করবে আর আমি ঘুমাতে যাব এটা কোন কথা হলো!
মা আমার কথা শুনে বললেন,মারে আমার খারাপ লাগলে কাজ করে দেওয়ার লোক রয়েছে কিন্তু তোর তো সম্পূর্ণ সংসার একা সামলাতে হয়।
কাজের লোক নেই।
নাতিকে নিয়ে কাজ করতে কত কষ্টে হয় তা আমি বুঝি, এখানে আসলে একটু বিশ্রাম করবি তা না করে কাজ করতে চাস!
এখানে থেকে যা বলছি,পরি উঠলে তখন বাহিরে আসবি এখন যা।
ও আপনাদের হয়তো বলা হয়নি আমার পুতুলটা কে মা পরি বলে ডাকেন।
পরিকে একদিন না দেখে আমার মা থাকতে পারে না।
প্রতিদিন বিকালে একবার হলেও আমাদের বাসায় পরিকে দেখতে আসেন।
যেখানে আমাদের বাসায় আসতে প্রতিদিন রিকসায় আসতে সময় লাগত ২৫ মিনিট ।
মাঝে মাঝে মা হেঁটেও আসতেন।
বাসায় কাজ করে ক্লান্ত হলেও তা প্রকাশ করতেন না বরং আমার বাসায় এসে কাজে লেগে যেতেন।
নিষেধ করলেও শুনেন না।
কিন্তু আমি এখানে এলে আমাকে কোন কাজ করতে দিবে না।
আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য তাদেরকে প্রতিটি পদক্ষেপ হিসেবে নিকেশ করে চলতে হয়।
এতো হিসেবের জীবনেও মা তার পরিকে দেখতে আসতে ভুলতেন না।
মা নিজের শরীরের খেয়াল না করে আমাকে এবং পরিকে নিয়ে চিন্তিত থাকতেন সবসময়।
মায়েরা বোধহয় এমনেই কোন কিছুর সাথেই তাদের তুলনা হয় না।
কথাগুলো ভাবছিলাম এরমধ্যে মা ধমকে বিশ্রাম নিতে পাঠিয়ে দিলেন।ওদিকে
শ্রাবণ সকাল থেকে দোকানে বসে রয়েছে, আজকে বেচাকেনা তেমন নেই।দুপুরে হয় এসেছে বাসায় খেতে যাবে।
কিন্তু যেতে ইচ্ছে করছে না, আজকাল খাবার প্রতি অরুচি ধরে গেছে।
কিছু ভালো লাগছে না।
প্রিয়ার কথা কথা বার বার মনে উঁকি দিচ্ছে।
আর দিবে নাই কেন?
কতদিন পর গতকাল রাতে শ্রাবণ দোকান বন্ধ করার পর প্রিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও তার দেখা হয়নি।
আজ পনেরো দিন ধরে মেয়েটা ওদের দেশে গেছে।
তাই দেখা হচ্ছে না।
আচ্ছা প্রিয়ার কী আমার কথা মনে পড়ে ?
মেয়েটা বুঝে না কেন ওকে না দেখে আমি থাকতে পারি না।
এই মেয়েটা নির্ঘাত আমাকে পাগল বানিয়ে ছাড়বে।
আমাকে কষ্ট না দিলে শান্তি পায় না।
শ্রাবণ কথাগুলো ভাবছে এরমধ্যে হঠাৎ করে বিরবির করে বললে, আচ্ছা আজকে প্রিয়া গ্রামে থেকে এসে পড়েনি তো?
গিয়ে একবার দেখে আসব?
যেই ভাবা সেই কাজ শ্রাবণ পাশের দোকানদার কে দোকানের খেয়াল রাখতে বলে বাহিরের বাজারে গেলেন।
বাহিরের বাজারে তার বাবা ও বড় ভাই দোকান করেন।
আর ভিতরের দোকান সে নিজে করেন।
বাহিরে এসে শ্রাবণ তার ভাইকে দেখে বললো, ভাইয়া আমি খেতে যাচ্ছি তুমি একটু আমার দোকানে গিয়ে বসতে পারবে?
সাব্বির তার ছোট ভাইয়ের কথা শুনে বলেন, প্রতিদিন তো আমিই বসি তাহলে আজকে পারব না কেন!
যা তাড়াতাড়ি আসিস।
ঠিক আছে।
সাব্বির শ্রাবণের মুখে ঠিক আছে শুনে বলেন, মনে রাখিস তুই এলে আমি খেতে যাব তারপর বাবা।
তুই তো একবার গেলে আসতে চাস না।
শ্রাবণ বড় ভাইয়ের কথা শুনে বলেন,এই জন্যই তো তোমাকে দোকানে বসতে বলতে চাই না।
থাক তোমাকে বসতে হবে না এতো কথা শুনার থেকে আমি দোকান বন্ধ করে যাই।
সাব্বির তার ছোট ভাইয়ের কথা শুনে বললেন,আর কিছু পারিস আর না পারিস অকাজের রাগ দেখাতে ভালো পারিস।
একবার ভাবিস না আমি কেন তাড়াতাড়ি আসতে বলি।
বাবা অসুস্থ মানুষ খাওয়া দাওয়া করে বিশ্রাম নিতে হয় সেজন্য সে সবার পরে খেতে যান।
তুই দেরি করলে আমার দেরি হবে।
আর আমার দেরি হলে বাবার খেতে যেতে হয় অবেলায়।
শ্রাবণ তার বড় ভাইয়ের কথা শুনে বললো, ঠিক আছে ঠিক আছে এবার একটু বিরতি দাও বলছি তো দেরি করব না।
শ্রাবণ চলে গেলে তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে সাব্বির মনে মনে বলেন,ও যে কোথায় যায় আল্লাহ জানে।
কারণ ওর দোকানে আসতে দেরি হলে জিজ্ঞেস করলে বলে, খেতে দেরি হয়েছে।
মা’কে জিজ্ঞেস করলে বলেন, খাওয়ার পর বাসায় দেরি করে না।
ও যে কি করে তাই বুঝতে পারছি না।
কথাটা ভেবে সাব্বির ভিতরে চলে গেলেন।
এদিকে শ্রাবণ প্রিয়াদের বাসায় এসে দরজায় টোকা দিচ্ছে।
তিনবার টোকা দেওয়ার পর ভিতরে থেকে একজন দরজা খুলে বলে,এই কেরে এতবার টোকা দিচ্ছে ?
দরজা খুলে কথাটা বলে থমকে যায় প্রিয়া।
কারণ বাহিরে যে শ্রাবণ দাঁড়িয়ে রয়েছে।
১৫ দিন পর তার প্রিয় মানুষটিকে দেখলো কিন্তু মনে হচ্ছে এক যুগ তাকে দেখেনি।
অন্যদিকে শ্রাবণ তার প্রাণ পাখিকে দেখে আত্মায় পানি ফিরে পেয়েছে।
প্রিয়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই
শ্রাবণ প্রিয়াকে ঠেলে ভিতরে ঢুকে বললো,না এলেই তো পারতে?
প্রিয়া শ্রাবণের কথা শুনে অভিমান করে বলে, মা অফিসে থেকে বাসায় এলে তাকে বলব আমাকে দিয়ে আসতে।
এবার গিয়ে তো দেখাও খুন করে ফেলব কথাটা বলে শ্রাবণ প্রিয়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে,#চলবে
বিঃদ্রঃ আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও আপনাদের মূল্যবান মতামত দিয়ে পাশে থাকবেন।
লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।7 Comments

Saifun nesa Shima
Housewife
Friends
Nahar moyna
@moyna
বিপুল চন্দ্র রায়
@sreebipulchondrorayraygmail-com
এমদাদ হোসেন
@emdad123
Jebunnesa jebu (জেবুন্নেছা জেবু)
@jebunnesa-jebu
TARIN
@tarin
Latifur-rahman-Pramanik
@latifur-rahman-pramanik
Md-Nadiruzzaman
@md-nadiruzzaman
Md. Habibur Rahman
@habib
তাওহীদ সুফিয়ান
@tawhidsufian


গল্পে গল্পে কেটে গেল কত বেলা। শুভেচ্ছা নেবেন।