Profile Photo

রাসেল আদিত্যOffline

  • RaselAditta
  • Profile picture of রাসেল আদিত্য

    রাসেল আদিত্য

    4 years, 5 months ago

    পঁচে যাচ্ছে নৈতিকতা, বদলে যাচ্ছে মন
    ভেঙে যাচ্ছে সম্পর্ক আর নিষ্পাপ পাচ্ছে শাস্তি আজীবন। কোথায় চলেছি
    আমরা?

    রাসেল আদিত্য

    বাংলাদেশ এখন সবদিক দিয়েই বদলে যাওয়া এক দেশ।উন্নতির ছবিটা দেশজুড়েই কমবেশি দৃশ্যমান।যদি পর্দার আড়ালের প্রেতাত্মারা সদা সর্বশক্তি দিয়ে অগ্রগতির গতিরোধের চেষ্টা না করতো,তাহলে বাংলাদেশের গল্পটা এতোদিনে রুপকথাকে হারমানানো বিষ্ময়ের হতো।না,এটি তোষামোদী বা অতি আবেগ থেকে বলা কথা নয় বরং নিরেট বাস্তবতা। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ, উন্নয়ন এসবই মুদ্রার এক পিঠের চিত্র।

    মুদ্রার অপর পিঠের চিত্রটি দুঃখজনক
    ভাবে হতাশা ও আতংকের।আমাদের দেশে সুশীল সমাজ, হেভিওয়েট সোশ্যাল ওয়ার্কার,ডাকসাইটে ব্যক্তিত্ব আর রাজনৈতিক দল ও নেতার কোন অভাব নেই। পান থেকে চুন খসলেই সরব হয়ে ওঠেন তাঁরা।সরকার কোথায়
    কি ভুল করলো,অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে তা
    সবসময় খুঁজে বেড়ান।যেই প্রত্যাশায় তাঁরা এগুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূর্ণতা পায়নি,শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে হবে বলেও মনে হয়না।

    প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় সয়লাব গোটা দেশ।আছে স্মার্টফোনের
    স্মার্টনেস।অবাক না হয়ে পারিনা,যখন
    দেখি মিডিয়া, পলিটিকাল ও সোশ্যাল পার্টি আর পারসন,পূর্বে উল্লেখিত বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তথা সবাই মজে আছেন চলমান সময়, রাজনীতি আর চটকদার শিরোনাম নিয়ে। কেউ পক্ষে কেউ বিপক্ষে এইযা!

    কথায় আছে সাপের কামড়ের ব্যথা সে ই বোঝে,সাপ যাঁকে কামড়ায়।আমি লিখছি আমার জীবন থেকে শিখে।আমি ভীত-সন্ত্রস্ত,কেননা দিব্যদৃষ্টে দেখতে পাচ্ছি আমরা ভয়ানক সামাজিক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে চলেছি।দেশের দূর্ভাগ্য,ধেয়ে আসা বিপর্যয়,অবিশ্বাস্য দ্রুততায় নৈতিকতার
    অবক্ষয়ের ধারাবাহিকতা, দেশাত্মবোধের প্রকট অভাব,বিশ্বাস নামের অমূল্য সম্পদটি ক্রমেই একটি শব্দে রুপ নিতে থাকা, ফলশ্রুতিতে ঠুনকো কারণে সম্পর্কের ভেঙে যাওয়ার
    মতো সামাজিক ও নৈতিক সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবিত নন দেশের ভাবুক সম্প্রদায়।

    নিজস্বতাকে কবর দিয়ে আমরা,আমাদের সন্তানেরা ভিন্ন ভিন্ন জাতির সংস্কৃতিতে ডুবে থেকে খিচুড়ি কালচারের জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছি।খেলার মাঠ কমতে কমতে এমন অবস্থা হচ্ছে যে,নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশে মোট চৌষট্টিটি মাঠ থাকবে, মানে জেলার মর্যাদা টিকিয়ে রাখতে একটি করে মাঠ মোট চৌষট্টিটি।খেলার জন্য আমাদের শিশু কিশোর তরুণ যুবারা মোবাইল নির্ভর হয়ে পড়ছে।অভিভাবকদেরও একই অসুখ।সন্তানকে তাঁরা সময় দেবার সময় পাননা।নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে একটু আবদারেই তাঁরা সন্তানের হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্টফোন।আর ষ্মার্টফোনের মানে নৈতিক পতনের সূচনা। বড়জোর বারো বছর বয়স হতেই ওঁর মাথায় যৌনতা,নগ্নতা, এফেয়ার গিজগিজ করতে থাকবে।কিসের পাঠ্যপুস্তক আর কিসের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য?

    এখনই বাংলাদেশের মোট ফেসবুক ইউজারের অর্ধেকই আনম্যাচিউরড ছেলে মেয়ে। ক্লাস সিক্স পড়ুয়া মেয়ে ফেবুতে ষ্ট্যাটাস দেয়,অতীত ভুলতে চাই, সাথে চিৎকার করে কান্নার ইমোজি! বুঝুন অবস্থা!
    আমাদের তারুণ্যের বড় অংশই জাতীয় দিবস বিষয়ে তেমন একটা অবগত নয় যতোটা অবগত ভ্যালেন্টাইন্স ডে সম্পর্কে। এটা বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতা। কেনো এমন করুণ বাস্তবতার কবলে বাংলাদেশ? কারণটি স্পষ্ট। দেশপ্রেমের অভাব।
    এই অভাব তো একদিনেই তৈরী হয়নি।একবিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্ন থেকে দিনবদলের শ্লোগান আমাদের এতোটাই
    সম্মোহিত করে তোলে যে,আমরা সবকিছুই বদলে দিতে শুরু করি।সমৃদ্ধ
    সংস্কৃতির কিছু অনুসঙ্গ আমরা কবরস্থ
    করি,কিছু পাঠাই জাদুঘরে আর কিছু পাঠ্য বইয়ের পাতায় শব্দের আকারে সমাধিস্থ করি।ভাবতে অবাক লাগে, আমাদের সুশীল সমাজ, মিডিয়া, সমালোচক, রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব, সমাজকর্মী কারোরই নজর কাড়লোনা সেই বিপর্যয়।কেউ সরব হলেননা।সবাই কেবলই রাজনীতির গন্ডিতে বন্দী হয়ে রইলেন। আজো আছেন।

    সামাজিক ও নৈতিক পতনের বর্তমানের
    ভয়াবহ চিত্র আগে কখনো দেখেনি বাংলাদেশ।পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় আমাদের পুরুষেরা তো আগে থেকেই অভিযুক্ত। আতঙ্কিত হবার মতো
    বিষয় হচ্ছে, আমাদের নারীরা এখন ব্যাপক মাত্রায় বিবিধ অপরাধের সাথে জড়িয়ে খবরের নিয়মিত শিরোনাম হচ্ছেন। আর কি নেই সেই অপরাধের তালিকায়?লোমহর্ষক খুন,অপহরণ, মাদকের ক্যারিয়ার,মাদকব্যবসায়ী, প্রতারনা, চারিত্রিক স্খলন, এমনকি সন্তান হন্তারক হয়ে প্রায়শঃই আমাদের চোখ কপালে তুলে দিচ্ছে বাংলার নারীগণ। এমন নয় যে এসব কদাচিত ঘটছে। দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে নারীদের অপরাধ সংশ্লিষ্টতা।অথচ আজো সবাই  নিরব ভূমিকায়।

    আরেকটি ভীষণ বেদনাদায়ক বাস্তবতা হলো,দেশে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে ডিভোর্সের হার।পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে আঁতকে উঠতেই হয়।কিছুদিন আগে প্রথম আলো জানিয়েছিলো,শুধু ঢাকা উত্তরে প্রতিদিন ৩৮টি,ঢাকা দক্ষিণে প্রতিদিন ৩৯টি ডিভোর্স কার্যকর হচ্ছে!সম্প্রতি সমকালে ছাপা এক কলামে কলামিষ্ট জানিয়েছেন,জানুয়ারী ২০২০-এপ্রিল২০২০ সময়ে সারাদেশে মোট ১০৪২টি ডিভোর্স কার্যকর হয়েছিল।যা রেকর্ড গড়েছিলো।জানুয়ারী ২০২১-এপ্রিল২০২১ এই চার মাসে ডিভোর্স কার্যকর হয়েছে ৪৫৬৫টি!
    ভাবা যায়?আরও জানিয়েছে, এইসব
    ডিভোর্সের ৭৫%ই দিচ্ছেন নারীরা।এই গত ১২ই অক্টোবরও সমকাল নিউজ করেছে, গাজীপুরে এক বছরে নয় হাজারের বেশি ডিভোর্স হয়েছে!ভাবা যায়?

    আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না একটি ভাঙা পরিবারের সন্তানের জীবনের ভয়াবহ মানসিক বাস্তবতা কতোটা করুণ। সারা বাংলাদেশ খুঁজে আপনি একজন সফল মানুষ পাবেন না,যে ভাঙা পরিবারের সন্তান হয়েও জীবনে সাফল্য পেয়েছে।
    সম্পর্ক ভেঙে যে দিলো আর যাঁর গেলো
    উভয়ের জীবনই সময়ে স্বাভাবিক হয়ে আসে। কিন্তু তাঁদের জন্ম দেওয়া সন্তানের জীবনে স্বাভাবিকতা আসেনা কোনদিনই।নিষ্পাপ হয়েও ভয়ানক শাস্তি পাওয়া এইসব ভাগ্যহীনদের কথা
    কেউ কেনো বলেননা?বড় জোর আর বছর দশেক পরে এই দেশের মেজরিটি
    ছেলে মেয়ে হবে ভাঙা পরিবারের।আমার  ছোট্ট মস্তিষ্কে এই বুঝটা ঢোকেনা,কেনো দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশকে সবাই অচ্ছুৎ বানিয়ে রেখেছেন? আমি ঐ অচ্ছুৎ অংশের একজন।আমি জীবন থেকে শিখেছি,বাবা-মা ও স্বজন দিয়ে শুরু হয় শেষ অবধি স্বয়ং রাষ্ট্র পর্যন্ত আমাদের বিকশিত হতে প্রতিবন্ধক হয়।বিবেককে প্রশ্ন করুন,কি অপরাধ ভাঙা পরিবারের সন্তানদের?কেনো তাঁরা এমন ভাগ্যবরণ করবে?কেনো কেউ বলবেনা,থামাও এই অমানবিক অসভ্যতা?

    বিবেকের নিকট সৎ থেকে বলছি,যদি আমার ক্ষমতা থাকতো,আমি সন্তান এসে যাওয়া দাম্পত্যে ডিভোর্স নিষিদ্ধ করতাম।নিজস্ব ব্যক্তিজীবন, সেই জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার অবশ্যই সকলের আছে।কোন শিশু নিজের ইচ্ছায় পৃথিবীতে আসেনা।
    স্বামী স্ত্রীর ইচ্ছে পূরণে সে পৃথিবীতে আসে। আর নিষ্পাপ একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনার পর সেই নারী পুরুষের
    ব্যক্তিজীবন বলে কিছু থাকেনা।ঐ শিশুকে ঘিরেই আবর্তিত হয়ে যায় তাঁদের জীবন। আর একটি শিশুর মানসিক বিকাশে বাবা মা দুজনকেই দরকার হয়।আমার দৃষ্টিতে একটি নিরপরাধ শিশুর জীবনকে ভাঙা পরিবারের মতো অভিশাপ চাপিয়ে দেবার কোন অধিকার বাবা মায়ের নেই।
    যদি দেশে ভ্যাটিকান আর ফিলিপাইনের মতো ডিভোর্স নিষিদ্ধ হতো,বাংলাদেশ লাখ লাখ জিনিয়াস পেতে পারতো।আজ বাংলাদেশের গল্পটা ভিন্ন হতো।

    দেশের সুশীল সমাজ বলি,আর গুণীজন বলি,সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে
    যাবার কারণ সন্ধানী হলে,শতকরা ৭৫%
    নারী কেনো সংসার ভেঙে দিতে উদগ্রীব হয়ে উঠছে,সেই কারণ অনুসন্ধান করতে উদ্যত হলে,আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, তাঁরা কিছু কারণ নিশ্চয়ই
    দাঁড় করাবেন কিন্তু আসল জায়গায় যেতেই পারবেন না।এটা এইজন্য বলছি
    যে,বাস্তব উপলব্ধি আর গবেষণা ও পরিসংখ্যানগত উপলব্ধি এক হয়না।আগেই বলেছি,আমি জীবন থেকে শিখে বলছি।

    লক্ষ্য করে দেখুন,ছোট ছোট কারনে সম্পর্ক ভেঙে দেবার প্রবণতা গত এক দশক ধরে ঊর্ধ্বমূখী।আর সমকালের তথ্য অনুযায়ী এখনকার ডিভোর্স গুলোর ৭৫%ই দিচ্ছেন নারীরা। সরকার
    নারীদের তালাক দেবার অধিকার দিয়েছে। ভালো কথা।কিন্তু কথা হচ্ছে,
    কোন বিবেচনায় এতো সহজ আইন করা হলো?পুরুষকে তালাক দিতে হলে
    কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা করতে হয়।
    আর তিন মাসের সময় থাকে সেটা কার্যকর হওয়ার আগে।এই সময়ের মাঝে সামাজিক উদ্যোগে বহু সম্পর্ক ভাঙনের পরিণতি থেকে রক্ষা করার সহস্র নজির রয়েছে। অথচ নারীদের জন্য কেবল একটি ষ্ট্যাম্পে লিখে নোটারীর মাধ্যমে একটি সীল করিয়ে নিলেই নাকি তালাক কার্যকর হয়ে যায়!
    (যদিও আমার কয়েকজন আইনজীবী বন্ধু বলেছেন,ওটা সত্য নয়।আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কিছু অসাধু আইনজীবী সহ একটি সিন্ডিকেট টাকার বিনিময়ে জাল কাগজ তৈরী করে এসব করছে) এটা কোন সভ্য দেশের আইন হতে পারে?স্বামী জানতেও পারেনা,তাঁর স্ত্রী  তাঁকে ডিভোর্স দিয়ে অন্যের ঘরণী হয়ে গেছে বা মধ্যপ্রাচ্যে চলে গেছে দেশপ্রেমে ব্যাকুল হয়ে,রেমিট্যান্সের যোগান দিতে। হ্যাঁ,এগুলোই বাস্তবতা।আসুন এবার আমাদের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহের পরিসংখ্যানের দিকে একটু তাকাই।

    একবিংশ শতকের আগে বিদেশে আমাদের নারী শ্রমিকের সংখ্যা ছিলো শতাংশের হিসেবে ২%মাত্র।নতুন
    শতকের শুরু থেকে বিদেশে জনশক্তির বাজার হারাতে থাকি আমরা।কারন,আমাদের পুরুষ শ্রমিকেরা অদক্ষ, আন্দোলন পিপাসু,এমনকি নৈতিক স্খলনের দায়েও দুষ্ট হয়েছেন বিদেশী নিয়োগদাতাদের রিপোর্টে। গত এক দশক ধরে বিদেশে আমাদের পুরুষ
    শ্রমিক গমণের হার আশংকা জনক ভাবে নিম্নমুখী।কিন্তু রেমিট্যান্স এর হার
    কেবলই রেকর্ড ভাঙছে।(গত তিন মাস ধরে কিছুটা কমে এসেছে) প্রশ্ন হলো, যেখানে আমাদের পুরুষেরা বিদেশে যেতেই পারছেনা বা ওঁরা নিচ্ছেনা, সেখানে এই রেমিট্যান্স কি ভূতে পাঠাচ্ছে? ঠিক এই জায়গাতেই আছে অনেক প্রশ্নের উত্তর। গত এক দশকে বানের জলের মতো মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছে, এখনো প্রতিদিন যাচ্ছে লাখ লাখ নারী শ্রমিক।নারীদের মধ্যপ্রাচ্যে যেতে কেবল নিজের সম্মতিই যথেষ্ট। দশ পয়সাও খরচ করতে হয়না।এই নারীরাই আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স এর সিংহভাগ যোগানদাত্রী। আমাদের নারী শ্রমিকেরা দেশপ্রেমের জন্য সন্তানপ্রেম, স্বামী-সংসার প্রেমকে বিসর্জন দিচ্ছেন! বিদেশে যাওয়া নারীদের শতকরা ৯৮%ই সংসার ভেঙে দিচ্ছেন। তাঁরা এরাবিয়ান বর্বরদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছেন,তাঁদের বিদেশ গমণে সংসার ভেঙে যাচ্ছে, সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।কি মনেহয়?
    রাষ্ট্র এসব জানেনা? অবশ্যই জানে। ঐ রেমিট্যান্সের লোভে জেনেও না জানার ভান করে আছে। শুধু রাষ্ট্রই নয়, আমাদের সুশীল সমাজ, মিডিয়া, মানবাধিকার সংগঠন গুলো, সমাজকর্মী, মনোবিজ্ঞানী সহ সবাই এই বিষয়টি অবগত কিন্তু রহস্যজনক কারনে সকলেই  চুপ।এরা সরব না হলে রাষ্ট্র উদ্যোগী হবেনা কোনদিনই।দুঃখজনক ভাবে আজ অবধি সরব হয়নি কেউ।এই নিরবতা আমাদের কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছে,আর কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা কী এতটুকু ভাবায়না কাউকে?

    নতুন শতকে আমাদের একটি প্রজন্ম ইতিমধ্যে নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হয়ে চলমান দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে আমাদের।এখনই সোচ্চার না হলে আগামী প্রজন্মও একই পথে হাঁটবে।এখনো সময় আছে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক পথে চালিত করে সামাজিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার।সেইজন্য চাই উপযুক্ত প্লাটফর্ম থেকে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহন।জানি সেই পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা আসবে।কেননা পতনের কারণ চিন্হিত করতে গেলেই দেখা যাবে সেখানে বানিজ্যিক স্বার্থে আঘাত পড়বে কোন না কোন মহলের। কিন্তু যেখানে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভালো মন্দের প্রশ্ন,সেখানে মহল বিশেষের কথা ভাববার দায় কারো নেই।
    রেমিট্যান্স এর কথা আগেই বলেছি।
    এখন আপনি যদি পরবর্তী প্রজন্মের নৈতিক পতন রুখতে চান,সবার আগে
    আপনাকে কমপক্ষে ১৬বছর বয়সের আগে ছেলেমেয়েদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার নীতিমালা প্রনয়ন ও তাঁর
    প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।অতি স্বাভাবিক ভাবে এতে করে মহল বিশেষের বানিজ্যিক স্বার্থ ক্ষুন্ন হবে।কিন্তু যখন সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন পেয়ে যাবেন তখন এইসব বাঁধা টিকতে
    পারবেনা।আমার মতো অতি সাধারণ যতোই আর্ত চিৎকার করিনা কেনো, এতে কারো নজর পড়বেনা।যদিও আমি
    জীবন থেকে শিখে বাস্তব উপলব্ধি থেকে লিখছি।তবুও কেউ কর্ণপাত করবেনা। তাই আমাদের সুশীল সমাজ,
    মিডিয়া,মানবাধিকার সংগঠন সহ দেশের নাগরিক সমাজ থেকে আওয়াজ
    তুলতে হবে।তবেই সে আওয়াজ পৌছাবে সরকার পর্যন্ত।আর শেষ পর্যন্ত
    আইন বলি আর নিয়ম নীতি,সেতো সরকারকেই করতে হবে।
    তাই আশা করবো,আমাদের নৈতিকতার
    অবক্ষয় রোধ,সম্পর্ক ভেঙে দেবার প্রবনতার ঊর্ধ্বগতি রোধ,ভাঙা পরিবারের সন্তানদের সংখ্যাধিক্য ঠেকাতে, সর্বোপরি সামাজিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে দায়িত্বশীল মহল উদ্যোগী হবেন।জাতিগত বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হওয়া আমাদের ও আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।সেইসাথে স্কুলে, ঘরে,সমাজে দেশীয় সংস্কৃতির চর্চার প্রচলন করতে হবে।মাঠগুলো দখলমুক্ত করে শিশু কিশোর তরুণ যুবাদের মাঠমূখী করতে হবে।দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে শিশু বয়স থেকেই।
    এসবের দায়িত্ব পরিবার -সমাজ-রাষ্ট্র সবাইকে নিতে হবে। তবেই পতন রুখে দিয়ে উন্নত দেশের উন্নত জাতি হিসেবে পরিচিত হবে বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ।

    পরিশেষে পাঠকগণকে ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে বলছি,দৃশ্যমান উন্নয়ন মুদ্রার এক পিঠের চিত্র। অপর পিঠের কদর্য রুপটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেক ক্ষতি করে ফেলেছি। তাই এবার আসুন চেষ্টা করি কদর্য রুপটাও সুন্দর করে তুলি।দুটো পিঠের সমন্বয় না হলে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে সকল অর্জন।

    লেখকঃসাংবাদিক ও কলামিস্ট।

    5
    6 Comments
    • স্বাগত জানাই লেখকমনের সুন্দর ভাবনাগুলোকে। সমসাময়িকতার ভিত্তিতে চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন। নৈতিকতার অবক্ষয় রোধ করতে আপনার দেয়া যুক্তিগুলো বেশ যুতসই লাগল। আপনার মত আমিও ভালো কিছুর প্রত্যাশায়। শুভেচ্ছা নেবেন।

    • সুপ্রিয় Drako Shajib,
      একবিংশ শতাব্দীর একটি প্রজন্ম ইতিমধ্যে খিচুড়ি কালচারের ধারক বনে গেছে। অপেক্ষায় ছিলাম তথাকথিত সুশীল সমাজ থেকে ডাক আসবে।আসেনি।আমাদের সন্তানেরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কারোর মাথা ব্যথা নেই।এভাবে চলতে দেয়া যায় না।তাই আর কারো জন্য অপেক্ষা নয়।আপনি আমি আমরাই ডাক দেবো।ভাই, সময় নেই। নিজ ক্ষেত্র থেকে শুরু করে দিন। আসুন সবার আগে সমস্বরে দাবি তুলি,অবিলম্বে স্মার্টফোন ব্যবহার নীতিমালা করে তা প্রয়োগ করা হোক। ১৬বছরের কমবয়সীরা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবেনা।কেবল এই একটি দাবি প্রতিষ্ঠিত হলে কাজ অনেক এগিয়ে যাবে।
      ভালো থাকবেন।

    • শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন!

    • অভিনন্দন!

Friends

Profile Photo
Al-Masud
@al-masud
Profile Photo
Anup Dey
@anup-dey
Profile Photo
Mitul hasan
@mitul
Profile Photo
Masfi K
@masfi-mohammad
Profile Photo
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
Profile Photo
Md. Arif Hossain
@arifhossain
Skip to toolbar