Profile Photo

অভিমানী মনOffline

  • ovimanimon
  • Profile picture of অভিমানী মন

    অভিমানী মন

    4 years, 5 months ago

    কোথাও মুক্তাঞ্চল ছিলো না

    যুদ্ধ একটা ব্যবসা; অস্ত্র কারবারিদের।
    আমেরিকা, রাশিয়া, চীন; এমনকি নব্য ভারতও এই ব্যবসায় পক্ষ-বিপক্ষকে সহায়তার নামে সামিল হয়।
    হানাদারদের অস্ত্রের দাপটে অসহায় মানুষ ছিটকে বেরিয়ে যায় সীমান্তের ওপারে।
    আমরা নগর ছেড়ে মুক্তাঞ্চলের খোঁজে নিজগ্রামে ফিরে যাওয়ার বাসনা পোষণ করি। জানিনা, জুনের তপ্ত মৌসুমে আমাদের গ্রামখানি নিরুপদ্রব আছে কিনা।
    সেনাপ্রহরায় চলতে চলতে জাহাজ যখন কীর্তণখোলা নদীতে প্রবেশ করে তখন ঝকঝকে সকল। তাকিয়ে দেখি, নদীতীর থমথমে হয়ে আছে সৈনিকদের পদচারণায়।
    জাহাজ থেকে নেমে লঞ্চঘাটে আসি। ঘাটে হকার আর মাঝিদের কোলাহল নেই। পল্টুন খালি।
    কালুরঘাটের মতন পোড়া নরকসদৃশ না হলেও বড়গাছগুলোর মাথায় বসে গা খোটে শতশত শকুন। আর দূরে, কচুরিপানার সাথে ভাসতে দেখি শবদেহ।
    আনেক আপেক্ষার পর একটা ছোট্ট লঞ্চ ঘাটে এসে ভেড়ে। অল্পকিছু যাত্রীর সঙ্গে আমরাও উঠে পড়ি। তল্লাশির পর সৈনিকরা সংকেত দিলে লঞ্চ ছেড়ে দেয়।
    এ এক দীর্ঘ দুর্গম যাত্রা, যুদ্ধের দুর্যোগ মাথায় নিয়ে; যা আমাদের অভূতপূর্ব শৈশবস্মৃতি; যা হাজার বছরেও কম মানুষের জীবনের অংশ হয়।
    ছোট লঞ্চটায় যেত যেতে যতগুলো ঘাট পেয়েছি, সবকটা ছিল মিলিটারির অধিকারে।
    স্বরূপকাঠি থেকে কয়েকজন যুবক উঠে আমাদের সঙ্গে খাতির জমিয়ে দেয়। লঞ্চটি যখন কাউখালি বন্দরে ভেড়ে, যুবকদের একজন একটা পিস্তল অতি সন্তর্পণে আম্মাকে দেখিয়ে পাছার নিচে নিয়ে চুপচাপ বসে থাকতে বলে।
    ঘাট থেকে টহল সৈনিক ঝপ করে লঞ্চে উঠে এসে তল্লাশি শুরু করে দেয়। দীর্ঘ পথযাত্রার এইক্ষণে এসে আমার বুক ডিপডিপ করে কেঁপে ওঠে। মাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে বসে থাকি, যেন কেউ কিছু জিজ্ঞেস না করে।
    সৈনিকরা যাত্রীদের মালসামানা তছনছ করে নেমে যায়। মা বুকভরে শ্বাস নেয়। ছোট্ট লঞ্চটি হাসের মতন মাঝনদীতে নেমে এসে টুপটুপ করে চলতে থাকে।
    একটা মোয়ামুড়ির নৌকা কাউখালি ঘাট থেকে লঞ্চটার সংলগ্ন হয়ে এগুচ্ছিল। যুবকরা নৌকাটায় উঠে গিয়ে লঞ্চের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে নেয়।
    একজন কন্ঠ উঁচু করে মাকে বলে–বোন, যে উপকার তুমি করলা; চিরদিন মনে থাকবে…। মা না-শোনার ভান করে বসে থাকে।
    স্রোতের টানে নৌকাটা বহুদূরে সরে গিয়ে ক্রমশ তীরে চলে যায়। তাকিয়ে দেখি, সামনে হুলারহাট বন্দর। এরপর জোলাগাতী; আমাদের বাড়ি।
    কচা-বলেশ্বরের সঙ্গমের বিশাল পাথারে ধূসর শুশুক ডিগবাজি খায়।
    দুপুরের আকাশে ভেসে থাকে সোনালী ডানার চিল।
    নদীর মাঝদিয়ে ভেসে যেতে দেখি উল্টে যাওয়া একটা লঞ্চ।
    আমাদের পাশদিয়ে ছুটে যায় পাঞ্জাবিদের দুইটা গানবোট।
    বুঝতে পারি, যুদ্ধ এই দুর্গম গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে গেছে। তাহলে মুক্তাঞ্চল কোথায়! #
    *চলবে…

    24
    13 Comments
Skip to toolbar