Profile Photo

Nazmul Huda ParvezOffline

  • nibadito
  • Profile picture of Nazmul Huda Parvez

    Nazmul Huda Parvez

    4 years, 5 months ago

    প্রিয় পাঠক, রাজবংশী ভাষা আমাদের মাতৃভাষা। রংপুর- দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষের প্রাণের ভাষা। মাতৃভাষায় ( রাজবংশী ভাষায় ) লেখা আমার জীবনের প্রথম কবিতা এটি। কেমন হয়েছে জানালে, বাংলা সাহিত্যে আমাদের ভাষাকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যেতে চাই।

    কবিতা-
    এলাও মন কাঁন্দে
    -নাজমুল হুদা পারভেজ

    রাইতোত যেলা আকাশোত চাঁন ওঠে
    ঝলমল করি দুনিয়াডাত আলো ফোডে,
    উঠানোত এ্যাকখ্যান পাটি বিছি তাতে শুতিয়া
    কতো আও করোঁ মুই, তাঁরার দিকি চায়্যা।
    তোমার কতা সেলা মনোত উঠিয়্যা
    কষ্টোতে মোন মোর, ফাঁটি যায় হিয়া।
    মুই জানোঁ, বাঁচি আছেন ,বুকোত পাষাণ বান্দিয়া
    আইজও ঘাটার দিকি চায়্যা থাকেন মোর নাগিয়া।
    সেইদিন ক্যানে মাইনষের হাতোত, দিছলেন তুলিয়া
    এলা ক্যানে উট্ক্যান মোক, নদীর ঘাটোত যায়্যা?
    ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপাড়োত, বন্ধু তোমার বাড়ি
    এপাড়োত বাস করোঁও মুই অসহায়া এক নারী।
    নিশি আইতোত নদীর পাড়োত বাজান বাঁশির সুর
    বাতাসোত ভাসি আইসে তাক, নাগে সুমধুর।
    এক নদী হাজার ক্রোশ, মোর নাই কোনো নাও
    সুর শুনিয়্যা মোনটায় কয়, তোমার ঠাঁই যাঁও।
    এ্যালাও মোর মনোত ভাসে, সেই আইতের আও
    নিশি আইতত নদীর পাড়োত যেলা, তোমার ঠাঁই যাঁও।
    আন্দারী আলোত হাঁটোং মুই ,ঢাকিয়া মোর গাও
    কাঁইব্যান দ্যাকে, কি ব্যান হয়, মনোত ভয় পাঁও।
    আকাশোত তাঁরার মেলা, জোছনা ঝরা আইতোত
    কনু ,বাজান মোক বিয়া দিবে অন্য মাইনষের সাথোত।
    কাঁন্দি কাঁন্দি কনু তোমাক, হাডো পালে যাই-
    তোমরা শোউগ শুনি গেইলেন, মুখোত আও নাই।
    ধনী বর জোটাইছে বাজান, আছে তার তিনখ্যান নাও
    টিনের চাইর খ্যান ঘর আছে ,তাও শুইনব্যার পাঁও।
    আগের দুইখ্যান বউ আছে, ফির কইরবে বিয়্যা
    নেকা করি নিয়্যা যাইবে মোক, গালাত হার দিয়া।
    পিড়িত করিয়া দিছোঁ মন, ট্যাকা মুই কি করোঁ?
    তোমরা যদি মোক না করেন বিয়াও,হইবে মোর মরণ।
    সোউগ কতা শুনিয়া মোর, আও কইরলেন শ্যাষে-
    কি দেকিয়া দেবে তোর বাপে , তোক মোর কাছে?
    কি আছে মোর? কিছুই নাই , একখ্যান ঘর ছাড়া
    নদী সোউগ কাড়ি নিছে মোর, হইছোঁ সর্বহারা।
    কিছুই চাঁও না, তোমার ঠাঁই, দুই বেলা খাবার দেন
    পিড়িতির ঘর বানাইম মুই, তোমরা সুখে থাইকপেন।
    মোর কতা শুনিয়া, শুস্ক হাসিয়া কইলেন, সখি যাও-
    তোমাক নিব্যার আইনছে বরে , পঙ্খিরাজ একখ্যান নাও।
    তোমার আও শুনিয়া মোর, বুক ফাঁটি কাঁন্দন বেড়ায়
    চোখের পানি ফেলি উঠনু মুই পঙ্খিরাজ নায়।
    বিয়ানায় নৌকা ছাড়িল, হামার ঘাট থাকি
    সোউগ আশা শ্যাষ হইলে মোর, থাকিল না কিছু বাকি।
    সেই থাকি বগিলা কান্দিয়্যা মরে, নদীর এই পাড়ে
    নদীর ওই পাড়ে, কষ্টে বগা, ডানা ঝাপটেয়া মরে, ।
    ===============
    বিঃদ্রঃ প্রমিত বাংলা শব্দ তুলে ধরলাম। রাইতোত -রাত্রিতে, যেলা- যখন, উঠানোত-আঙিনায়, একখ্যান-একটি, পাটি- মাদুর, বিছি- পেতে বসা যায় এমন, শুতিয়া- শয়ন করা, চায়্যা- কোন দিকে তাকান, দেখা ইত্যাদি, নাও- নৌকা, নেকা-বিবাহ, সেলা- তখন, ফাঁটি- বিদীর্ণ হওয়া, জাঁনো- পূর্ থেকে অনুমান , জানা ইত্যাদি, ঘাটা- রাস্তা, নাগিয়া- জন্যে, ক্যানে- কেন, উটক্যান- খোঁজা, এ্যালাও- এখনো, গালাত- গলায় মালা দেয়া,সোউগ- সব কিছু, বানাইম-তৈরী করার ইচ্ছা, নিব্যার- নিতে আসা, বা নেওয়া,কাঁন্দন- কান্না, বগিলা- “বক”- এর স্ত্রী রুপ, ঝাপটেয়া- ঘনঘন আলোড়িত করা।

    8
    17 Comments
Skip to toolbar