Profile Photo

আফরিন ইনায়াত কায়াOffline

  • inayatkaya55
  • #মায়ানগরের_প্রেম
    #পার্ট১০
    #আফরিন_ইনায়াত_কায়া
    .
    .
    মি.আরদ্ধ আপনি এত বড় একজন বিজনেস আইকন হয়েও ইনার মত এক জন মেয়ের সাথে…
    -Wait a minute doctor. What do u mean by ইনায়াতের মত মেয়ে?
    -আসলে মি আরদ্ধ মিস ইনায়াতের ব্রেইনে একটা টিউমার আছে।যেটা দিনে দিনে বড় হচ্ছে।অপারেশন করলে মিস ইনায়াত বেচে গেলেও উনার মেন্টাল স্টেট বিগড়ে যেতে পারে।এমনকি উনি তার পুরো মেন্টাল ব্যালেন্স ও হাড়িয়ে ফেলতে পারেন।
    .
    .
    ডাক্তারের কথা শুনে আরদ্ধের যেন পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে।কি শুনছে ও? সত্যি কি ইনায়াত……?
    .
    .
    -আমি জানি না উনি আপনাকে কেন বিষয়টা জানায় নি বাট
    -এক সেকেন্ড ডক্টর।ইনায়াত কি আগে থেকেই জানতো?
    -ইয়েস মি.আরদ্ধ।ছয় মাস আগে উনি একবার চেকাপ করার জন্যে এসেছিলেন।তখন উনার রোগটা ধরা পরে।তবে তখন সেটা প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল।আমি উনাকে কিছু মেডিসিন প্রেসক্রাইব করেছিলাম।সেগুলো রেগুলার কন্টিনিউ করলে হয়তো আজকে এত বড় আকার ধারন করতো না।আর এই বিষয় সম্পর্কে মিস ইনা খুব ভাল ভাবেই জানতেন। ইনফ্যাক্ট দুই দিন আগেও তিনি চেকাপ করার জন্যে এসেছিলেন।আমি উনাকে অপারেশন এর কথা বললে উনি বললেন
    .
    .
    -যখন বাচার ইচ্ছা ছিল না তখন বেচে থাকা ছাড়া উপায় ছিল না।এখন বেচে থাকতে চাচ্ছি কিন্তু উপায় আমার সাধ্যের মধ্যে না।
    .
    এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে থামলেন ডাক্তার।এতক্ষনে যেন আরদ্ধের কাছে সব কিছু পরিস্কার হয়ে গেল।কেন ইনা সেদিন বার বার তাকে এড়িয়ে যাচ্ছিল,কেন তার কাছে সময় চেয়েছিল আর কেনই বা লুকিয়ে চলে যাচ্ছিল।
    মাথা ঘুরাচ্ছে আরদ্ধের।শুধু মাথা না পুরো দুনিয়াটাই যেন ঘুরাচ্ছে তার। সবকিছু পেয়েও যেন হারিয়ে ফেলছে সে।
    .
    .
    মাথা তুলে ডাক্তারের দিকে তাকাল আরদ্ধ।
    -আপনি অপারেশনের ব্যবস্থা করেন।
    -কিন্তু মি.আরদ্ধ এটা অনেক এক্সপেন্সিভ। আর…
    -ডক্টর আপনি হয়তো ভুলে যাচ্ছেন আমি কে।যত টাকা লাগে আমি দিব। দরকার হলে বিদেশ থেকে এক্সপার্ট সার্জন দিয়ে অপারেশনের ব্যবস্থা করেন।কিন্তু ইনায়াত কে আমি সুস্থ দেখতে চাই।আর একটা কথা মাথায় রাখবেন ইনায়াত আমার অস্তিত্ব।আর আমার অস্তিত্বের সামান্যতম ক্ষতি হলে আপনার অস্তিত্ব আমি মিটিয়ে দিব।কথাটা মনে থাকে যেন।
    .
    .
    কথাগুলো বলে চোখে সানগ্লাস এটে ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসল আরদ্ধ।ইনায়াতের কেবিনের জানালা দিয়ে দেখল মেয়েটা গুটিশুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে। স্ট্রেস নিতে নিতে মেয়েটা যেন হাপিয়ে উঠেছে।সেখান থেকে সরে এসে সোজা বাসায় চলে আসল আরদ্ধ।বাসায় এসে জ্যাকেটটা খুলে সোফায় ছুড়ে ফেলে সোজা চলে গেল শাওয়ার নিতে।
    একঘন্টা যাবত পানির নিচে দাঁড়িয়ে আছে।ঝরনার পানির সাথে ওর চোখের পানি একাকার হয়ে যাচ্ছে।চিতকার করে কাদতে ইচ্ছা করছে তার।বার বার একটা কথাই মনে মনে আওরাচ্ছে যাই হোকনা কেন সে ইনায়াতকে ছাড়বে না।ইনা যদি মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলে তবুও সে তাকে ভালবাসবে।তাকে আগলে রাখবে তার ভালবাসায়।কোথথাও যেতে দিবে না সে তার রাতপরীকে।
    .
    .
    শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসতে না আসতেই আরদ্ধের ফোন বেজে উঠল।
    -জ্বি ডাক্তার বলেন।
    -মি আরদ্ধ আমেরিকার কিছু এক্সপার্ট ডক্টর রাজি হয়েছেন মিস ইনায়াতের কেসটা হ্যান্ডেল করতে।কিন্তু তারা কাল্কেই অপারেশনের কথা বলছেন।
    -Do what is best.আমি ইনায়াতকে সুস্থ দেখতে চাই। আর টাকার কথা ভাববেন না। টাইমলি পেমেন্ট হয়ে যাবে।
    -ওকে।আমি অপারেশনের প্রিপারেশন নিচ্ছি তাহলে।
    ফোনটা কেটে দিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাড়াল আরদ্ধ।হাতে কফির মগ।কফির মগটাকে বারান্দার রেলিং এর উপর রেখে দু হাতে রেলিং এ ভর দিয়ে দাড়াল।হালকা বাতাসে আরদ্ধের ভেজা চুলগুলো মাঝে মাঝে নড়ে উঠছে।আরদ্ধ আজ আনমনে শহরটাকে আকছে।ল্যাম্পপোস্ট এর আলোয় চারদিকে কেমন একটা মায়াময় পরিবেশ তৈরী হয়েছে।ইনায়াত ঠিকি বলে শহরটা আসলেই মায়ানগর।যে মায়ানগর বার বার বাধ্য করে নিজের প্রেমে পরতে।এই মায়ানগরেই তো আরদ্ধ তার রাতপরীকে খুজে পেয়েছিল।ভাবতে ভাবতে কফির মগে চুমুক দিল।
    -ইয়াক ছি। এটা কফি হল?শায়েদ চাচা শায়েদ চাচা
    চেচিয়ে উঠল আরদ্ধ।
    আরদ্ধের চিতকার শুনে শায়েদ চাচা দৌড়ে এলেন। -জ্বি ছোট বাবা
    -কফি এরকম হয়েছে কেন?কফিতে চিনি নেই কেন?আর কফির টেস্ট এত তিতা কেন?
    শায়েদ চাচা কিছুক্ষন হা হয়ে আরদ্ধের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে উঠল
    -ছোট বাবা আপনি তো এমনই কফি খান। গাঢ় লিকারের সুগার ফ্রি কফি।
    কথাটা শুনেই আরদ্ধ চুপ হয়ে গেল।
    -আচ্ছা ঠিকাছে আপনি আসেন।
    শায়েদ চাচা চলে যেতেই আরদ্ধ আবার বেলকনিতে আসল।সত্যিই ইনায়াত তার লাইফে না আসতেই তার জীবনটাকে কতটা বদলে দিয়েছে।রঙে ভরে দিয়েছে।সেদিন ইনায়াতের হাতে বানানো মিডিয়াম সুগারের লাইট কফি যেন এখনো আরদ্ধের মুখে লেগে আছে।এতটুকু সময়েই সে অভ্যস্ত হয়ে গেছে রাতপরীর অভ্যাসে।কিভাবে পারবে সে তার রাতপরীকে ছেড়ে থাকতে?
    উহ পারবে না সে।এক মুহুর্তও পারবে না সে রাতপরীকে ছাড়া।ভাল হোক বা মন্দ ইনায়াতকে তার চাইই।রাত পোহালে কাল দুপুরে ইনায়াতের অপারেশন।ভাবতেই আরদ্ধের বুকটা কেপে উঠছে।ইনা কি আরদ্ধকে ভুলে যাবে?ভুলে যাবে তার ভালবাসা?
    না ইনায়াত চাইলেও আরদ্ধ তাকে ভুলতে দিবে না। তার ভালবাসায় মনে করিয়ে দেবে বার বার।আল্লাহ তার সাথে কখনো খারাপটা করবে না। আল্লাহর উপর পুরো ভরসা আছে তার।ভাবতে ভাবতেই রাত কেটে যায় আরদ্ধের।
    চলবে

    7
    4 Comments
Skip to toolbar