Profile Photo

আফরিন ইনায়াত কায়াOffline

  • inayatkaya55
  • #মায়ানগরের_প্রেম
    #পার্ট১১
    #আফরিন_ইনায়াত_কায়া
    .
    .
    ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে ইনা।চাদের আলো তার মুখের উপর পরেছে।চারপাশের পরিবেশটাকে স্নিগ্ধ লাগছে অনেক।আরদ্ধ ইনায়াতের হাত ধরে ছাদের একপাশে থাকা দোলনায় কাছে নিয়ে আসল।ইনায়াতকে বসিয়ে নিজেও বসে পরল তার পাশে।ইনায়াতকে পেছন থেলে জড়িয়ে ধরল সে।শাড়ির ফাক গলিয়ে এক হাত দিয়ে পেট আরেক হাত দিয়ে বুক বরাবর আড়াআড়িভাবে জড়িয়ে ধরে ইনায়াতের খোলা চুলগুলোতে মুখ ডুবাল।একটা মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসছে ইনায়াতের চুল থেকে।আরদ্ধ মাতালের মত সেই ঘ্রান নিচ্ছে।তার মনে হচ্ছে ইনায়াতের চুলের সুবাস যেন পৃথিবীর যেকোনো পারফিউমকে হার মানাতে বাধ্য।
    .
    .
    ইনায়াত স্তব্ধ হয়ে বসে আছে।সব কিছুই এত আচমকা হচ্ছে যে সে বুঝে উঠার সময়ই পাচ্ছে না।স্টেশনে জ্ঞান হারানোর পর নিজেকে সে আবিষ্কার করে হাসপাতালের বেডে।চোখ খুলে দেখতে পায় এক নার্স তার পাশে বসে রিপোর্ট চেক করছে।
    -নার্স আমি এখানে কেন? আমি তো স্টেশনে ছিলাম….।আরদ্ধ! আরদ্ধ কোথায় নার্স?আমি এখানে..
    -আপনি এত হাইপার হবেন না প্লিজ। রিসেন্টলি আপনার ব্রেইনের অপারেশন হয়েছে। এই সময় মেন্টাল স্ট্রেস নেওয়াটা আপনার জন্য খুব হার্মফুল।প্লিজ শুয়ে পরুন।
    অপারেশনের কথা শুনে ইনায়াত হা হয়ে গেল।তার অপারেশন হয়ে গেল অথচ সে টেরও পেল না।কিন্তু অপারেশন তো অনেক এক্সপেন্সিভ ছিল। তার কাছে তো এত টাকা ছিল না। সে তো চলে যাচ্ছিল।হাজার প্রশ্ন ওর মাথায় ভিড় জমাচ্ছে।চাইলেও নিজেকে স্ট্রেস ফ্রি রাখতে পারছে না।
    .
    .
    হঠাত করে তার চোখ গেল দু হাতের উপর।দুই হাতে খুব সুন্দর করে মেহেদি রাঙানো অনেক দূর পর্যন্ত।ইনায়াত নিজের হাত দেখছে অবাক হয়ে।ইনায়াতকে দেখে নার্স হাসি মুখে বলল
    -ওহ আপনাকে তো বলাই হয় নি আজকে আপনার বিয়ে।সেজন্যে আপনার হাসবেন্ড আপনার অপারেশনের পর ডিজাইনার এনে আপনার হাতে মেহেদি লাগিয়ে দিয়েছে।আপনি অনেক লাকি আপনার হাসবেন্ড আপনাকে অনেক ভালবাসেন।আপনার যখন অপারেশন হচ্ছিল উনি খুব টেনশন এ ছিলেন।ছোট বাচ্চা গুলার মত ছটফট করছিলেন।আপনার আপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে শুনে উনি পুরো হসপিটালে সবাইকে মিষ্টি মুখ করিয়েছেন।আপনি সত্যিই অনেক লাকি।
    .
    .
    কথাগুলো বলে নার্স হাসতে হাসতে বেরিয়ে পরল।কথাগুলো যেন ইনায়াতের মাথার সাড়ে তিন ফুট উপর দিয়ে গেল।তার অপারেশন হয়েছে।আবার আজকে তার বিয়ে। অথচ এসবের কিছুই সে জানে না।কার সাথে বিয়ে কেন করছে সে এসব,অপারেশনের টাকাই বা কে দিল?সব কিছু আরদ্ধ করেনি তো?মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা করছে ইনার।দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে আছে সে।
    .
    .
    দরজা খুলার শব্দে মাথা তুলে তাকাল ইনায়াত।দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে আরদ্ধ।ডার্ক ব্লু কালারের প্যান্ট, শাদা শার্টের সাথে ডার্ক ব্লু কোর্ট,তার মধ্যে বা পাশে গোল্ডেন কালারের ব্রুশ লাগানো।চোখের নিচে কালির দাগ।চোখে মুখে ক্লান্তির দাগ স্পষ্ট।তার পিছনে একজন হুজুর গোছোর লোক হাতে খাতা নিয়ে দাঁড়ানো।ইনায়াত কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরদ্ধ কিছু ইশারা করল।সাথে সাথে একজন নার্স এসে লাল রঙের ভারী ডিজাইনের একটা ওড়না ইনায়াতের মাথায় পেচিয়ে দিয়ে গেল।ইনায়াত কিছু বলার সুযোগই পাচ্ছে না।হুজুর লোকটা ইনায়াতের পাশের চেয়ারে গিয়ে বসলেন।আর আরদ্ধ বসল অপর পাশে।
    .
    .
    ইনায়াত মুখ খুলতে যাবে তখনই লোকটা বিয়ে পরানো শুরু করে দিলেন।ইনায়াতের আর বুঝতে বাকি থাকল না লোকটা কে আর তার সাথে কি হচ্ছে।ইনায়াত এবার স্তব্ধ হয়ে গেল।তার জীবনের এত বড় একটা মুহুর্ত অথচ এই ভাবে এই জায়গায়।প্রতিটা মেয়েরই বিয়ে নিয়ে কিছু নিজস্ব স্বপ্ন থাকে মতামত থাকে।কিন্তু ইনায়াতের কাছে কোনটাই জানতে চাওয়া হচ্ছেনা।নিজেকে তার মাটির পুতুল মনে হচ্ছে।
    যখন কবুল বলার সময় আসল কাজী সাহেব বলে উঠলেন
    – কবুল বলেন।
    ইনায়াত যেন শুনেও শুনছে না। চুপটি করে বসে আছে।আরদ্ধ অলরেডি তিনবার কবুল বলে ফেলেছে।এখন শুধু ইনায়াতের পালা।অথচ ইনা কথা বলাই যেন ভুলে গেছে।আরদ্ধ ইনায়াতের সামনে এসে বসল।শান্ত দৃষ্টিতে ইনায়াতের দিকে তাকিয়ে বলল
    -কবুল বল।
    আরদ্ধের শান্ত ভঙিমায় আগ্নেয়গিরির লাভা লুকিয়ে ছিল যেটা আর কেউ না বুঝলেও ইনায়াত ঠিকি বুঝতে পেরেছিল।কথা না বাড়িয়ে ইনায়াত কবুল বলে ফেলল।সাক্ষি হিসেবে সাইন করল শায়েদ চাচা আর ডাক্তার।ইনায়াতের হয়ে দুই জন নার্স।..
    চলবে

    6
    4 Comments
Skip to toolbar