Profile Photo

আফরিন ইনায়াত কায়াOffline

  • inayatkaya55
  • #মায়ানগরের_প্রেম
    #পার্ট১৩
    #আফরিন_ইনায়াত_কায়া
    .
    .
    -জানতে চাই না তোমার অতিত। আমি শুধু জানি আমি তোমার বর্তমান আর আমিই তোমার ভবিষ্যত। তোমার সবকিছুতে শুধু আমার অধিকার শুধুইইইই আমার।এক আল্লাহ ছাড়া তোমাকে আমার থেকে কেউ আলাদা করতে পারবে না। কেউ না।
    এক নিশ্বাসে চিতকার করে কথাগুলো বলে আরদ্ধ হাপাতে লাগল।দুই হাত দিয়ে ইনায়াতের গাল ধরে তার কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে সে।
    ইনায়াত কিছু বলতে চেয়েও চুপ হয়ে গেল।যে শুনতে চায় না তাকে বলে কি লাভ।আচমকা আরদ্ধ ইনায়াতকে কোলে তুলে নিল।ইনায়াতও এমন করায় ভয় পেয়ে আরদ্ধকে জড়িয়ে ধরল।আরদ্ধ ইনাকে কোলে নিয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে এল।নিজের রুমের সামনে এসে সিকিউরিটি চেকার ডিভাইসের সামনে দাড়াল।আরদ্ধের রেটিনা স্ক্যান হওয়া মাত্রই দরজা খুলে গেল।ইনায়াত তখনো আরদ্ধের বুকে মাথা গুজে আছে।ইনাকে কোল থেকে নামিয়ে দিল।ইনা তখনো চোখ দুটো বন্ধ করে আছে।
    -Welcome to my world my love.
    আরদ্ধের এমন কথায় চোখ মেলে তাকাল ইনা।চোখ খুলে যেন সে জীবনের সেরা সারপ্রাইজ পেল।তার সামনে পুরো রুম সাজানো।বিছানায় লাল পাপড়ি ছরানো।আলমারিগুলো লাল গোলাপ আর রজনীগন্ধা ফুলের মালা জড়ানো।বেড সাইড টেবিলে ফুলদানিতে রাখা আছে টকটকে লাল তাজা গোলাপ।জায়গায় জায়গায় লাল আর ভ্যানিলা মোমবাতি জ্বলছে।আর ফ্লোরে ছড়ানো হার্ট শেপের লাল আর সাদা বেলুন।বিছানার উপর ওয়ালে আরদ্ধের একটা বড় ছবি টাঙানো আছে।ইনায়াত যত দেখছে তত মুগ্ধ হচ্ছে। অবাক চোখে সবটা দেখছে ইনায়াত।
    ঘরের এক কোনায় একটা টেবিলে বড় পিতলের বাটি রাখা আছে।আরদ্ধ ইনায়াতের হাত ধরে সেখানে নিয়ে গেল। বাটিটাতে সাদা পানির উপর অনেকগুলো গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো।ইনায়াত আরদ্ধের দিকে তাকাল।
    -ওটা দুধ পানি। ওর ভিতরে একটা আংটি রাখা আছে। ইরিন আন্টি বলেছেন যে আগে আংটিটা খুজে পাবে এবংং নিজের কাছে রাখতে পারবে সেই জয়ী হবে আর সংসার সবসময় তার কথা মতই চলবে।
    আরদ্ধ ইনায়াতকে একটা চেয়ারে বসিয়ে নিজে তার পাশে বসল।তারপর দুজনেই হাত ডুবিয়ে আংটি খুজতে লাগল।আরদ্ধের হাত পানিতে ডুবা থাকলে চোখ দুটো ইনায়াতের মায়ায় ডুবে আছে।মাঝে মাঝে আরদ্ধ ইনায়াতের হাত চেপে ধরছে দুষ্টুমি করে আর ইনায়াত বলে উঠছে
    -আরদ্ধ আপনি কিন্তু চিটিং করছেন
    আরদ্ধ মুচকি হেসে ইনায়ায়েত হাত ছেড়ে দেয়।ইনায়াত বেশ আগ্রহ নিয়ে খুজছে।হঠাত ইনায়াত হাত উঠিয়ে নিল।আরদ্ধ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল
    -কি ব্যাপার হাত গুটিয়ে নিলে কেন?
    -আমি পেয়ে গেছি?
    -কই দেখাও তো?
    -ইনায়াত হাত পেতে আংটিটা দেখায়। যেই আরদ্ধ তার হাত থেকে আংটিটা নিতে যাবে সেই ইনায়াত হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নেয়।
    -এটা কি হল?
    -খেলার নিয়ম কিছু আমিও জানি।(ঠোট টিপে হেসে)
    আরদ্ধ কপট রাগ দেখিয়ে বলল
    -বারে মেরি বিল্লি মুঝিসে মেও। দাড়াও দেখাচ্ছি।বল আরদ্ধ ইনায়াতের হাত থেকে আংটি নেওয়ায় চেস্টা করতে লাগল।কিন্তু পারছে না।ইনা বেশ শক্ত করেই আংটিটা ধরে রেখেছে।শেষ মেষ আরদ্ধ ইনায়াতের হাত ছেরে দিল।ইনায়াত জিতে গেল আর আংটিটা আবার পানিতে ফেলে দিল।এভাবে তিনবার খেলল তারা। পরপর দুইবার ইনায়াত জিতে গেল।তৃতীয়বারের বেলায় আংটিটা ইনায়াতের একটা আংগুলে চেপে বসেছে। আরদ্ধ সেটাকে কেড়ে নেওয়ার চেস্টা করছে।হঠাত করে ইনা চেচিয়ে উঠল
    -আহ….
    আরদ্ধধ ইনায়াতের হাতটা ছেড়ে দিল।সাথে সাথে ইনার হাত থেকে আংটিটা পরে গেল। আরদ্ধের চোখ গেল ইনার হাতের উপর।আংটিটা যেখানে চেপে বসেছিল সে জায়গাটা লাল হয়ে আছে।আরেকটু হলে হয়তো কেটেই যেত।আরদ্ধ সাথে সাথে আঙুলটা মুখে পুরে নিল।
    -আম সরি ইনা।আম রেলি সরি।আমারই ভুল। আমার সাবধান থাকা উচিত ছিল।আরেকটু হলেই হাতটা কেটে যেত।তুমি বসো আমি ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে আসছি।
    আরদ্ধ উঠে যেতে লাগলে ইনায়াত তার হাত টেনে ধরে।
    -আমি ঠিক আছি আরদ্ধ।আপনি বসুন।
    -আর ইউ শিওর?
    ইনা মাথা নাড়ায়।আরদ্ধ পানিতে হাত ডুবিয়ে আংটিটা তুলে ইনার হাতে পরিয়ে দিয়ে আলতো করে হাতের পিঠে চুমু খেল।আরদ্ধের স্পর্শ পেয়ে ইনা কেপে উঠল।
    -আজ থেকে এই সংসার তোমার।এই সংসারকে গুছিয়ে রাখার দায়িত্ব তোমার। আমার সবকিছুতেই আমার আগে তোমার অধিকার।আর তোমার ঠোটে হাসি ধরে রাখার দায়িত্ব আমার।
    কথাগুলো বলে আরদ্ধ নেশাতুর দৃষ্টিতে ইনায়াতের দিকে তাকিয়ে আছে।ইনায়াত বেশ লজ্জা পেয়ে যায় আরদ্ধের চাহুনিতে।
    -রাত অনেক হয়েছে। চলেন ঘুমাবেন।
    ইনায়াত উঠে গিয়ে আয়নার কাছে দাঁড়ায়।সেখানে তার দরকারি সবকিছুই রাখা আছে।
    আরদ্ধ ইনায়াতকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে তার কাধে মুখ গুজে।
    -বাসর রাতে কি কেউ ঘুমায় নাকি?তোমার তো কত্ত শখ ছিল বাসর রাতে বরের সাথে পুর্নিমা দেখবে রাত জেগে গল্প করবে তাকে আদর করবে।
    -আ..আপনি কিভাবে জানলেন?
    -তোমার ডায়রী থেকে।
    আমার ডায়রী সেটা তো ওর লাগেজে ছিল যেটা সে স্টেশনে ফেলে এসেছিল।তার মানে আরদ্ধ সেই ডায়রিটা পরেছে?মনে মনে ভাবছে ইনা।
    -তোমার লাগেজের সাথে ডায়রীটা পেয়েছিল আমার লোকেরা যেখানে তোমার বরকে নিয়ে তোমার উইশ লিস্ট লিখা ছিল।জানো ইনা সেদিন যখন তুমি চলে যাচ্ছিলে আমার মনে হচ্ছিল কেউ আমার কলিজা টা ছিড়ে নিয়ে যাচ্ছিল।তোমার অপারেশনের দিন আমি কতটা টেনশন এ ছিলাম তুমি জানো?ডাক্তার বলেছিল তুমি নাকি আমাকে ভুলে যাবে আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।আমিও সেদিন ঠিক করে নিয়েছিলাম তুমি আমাকে ভুলে গেলেও আমি তোমাকে নিজের করে নিব।পারব না তোমাকে ছেড়ে থাকতে।অনেক ভালবাসি তোমাকে ইনা অনেক ভালবাসি।
    আরদ্ধ শক্ত করে ইনায়াতকে জড়িয়ে ধরে কথাগুলো বলছে।ঘাড়ের মধ্যে গরম কিছুর উপস্থিতি টের পেয়ে ইনায়াত চোখ তুলে তাকাল।এতক্ষন নিচের দিকে তাকিয়ে ছিল সে।আরদ্ধের চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে।ছেলেরা খুব কম কাদে।আর যখন কাদে তখন পাথর গলে যায়।আরদ্ধের চোখের পানি দেখে ইনায়াতের বুকটা হুহু করে উঠে।ঘুরে সে আরদ্ধকে জড়িয়ে ধরে।দুই হাত দিয়ে আরদ্ধের শেরওয়ানি খামচে ধরেছে ইনায়াত।
    -আমিও ভালবাসি আপনাকে আরদ্ধ।অনেক বেশি ভালবাসি।
    আরদ্ধ ইনায়াতকে ছেড়ে দিয়ে কপালে আলতো করে চুমু খেল।
    -আজকে যদি রাতপরীকে নিজের করে চাই রাতপরী কি বাধা দেবে?
    -অধিকার চেয়ে নয় আদায় করে নিতে হয়।
    আর কিছু বলার প্রয়োজন হয় নি ইনার।যা বুঝার বুঝে নিয়েছে আরদ্ধ।ইনাকে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসিয়ে দুই হাত থেকে চুড়ি গুলো খুলে নিল।চুলগুলো সরিয়ে পিঠের মধ্যে গভীর ভাবে চুমু খেল।হুক খুলে গলার হারটা নামিয়ে বক্সে ভরে রাখল।কানের দুলগুলো খুলে পাশে রাখল।আরদ্ধের গরম নিশ্বাস ইনাকে পাগল করে তুলছে।আরদ্ধ ইনাকে কোলে তুলে নিল।বিছানায় নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিল।ড্রিমলাইটের আলোতে ইনায়াতকে স্নিগ্ধ লাগছে।থেকে থেকে কেপে উঠছে ঠোটজোড়া।আরদ্ধ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। ঠোট ডুবাল ইনায়াতের ঠোট জোড়ায়।বউটাতো তারই।রাতপরীকে একটু আদর করলে ক্ষতি কি!
    চলবে

    6
    4 Comments
Skip to toolbar