Profile Photo

সাইফুন নেসা সীমা।Offline

  • MeherMeherShima
  • #কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
    (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
    লেখনীতে #মেহের_মেহের_সীমা।

    পর্বঃ #২৫

    গল্পটা সত্যি ঘটনা অবলম্বনে
    আজকের পর্বটির প্রতিটি ঘটনা সত্য।

    নোটঃ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ গল্প দিতে পারিনি সেজন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।
    এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি, এরমধ্যে ছেলের পরীক্ষা চলছে।
    সুস্থ হলে আবার নিয়মিত গল্প দিব ইনশাল্লাহ।

    আমার সন্তানের কী হয়েছে আমায় বলছেন না কেন?
    ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আপনারা।
    আমার বাচ্চাকে আমার কাছে দিন।
    আমার কথা কেউ শুনছেন না কেন?
    দেখুন আপনি ঘুমাতে চেষ্টা করুন।
    কিছুক্ষণ আগে আপনার সিজার হয়েছে।
    এই সময়ে উত্তেজিত হলে আপনার ক্ষতি হতে পারে, একটু শান্ত হোন বাচ্চার কি হয়েছে না হয়েছে তা আমরা দেখছি তো!
    ডাক্তার আপা আমার দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে আমার সন্তানকে কোলে নিয়ে বাহিরে চলে যান।
    হঠাৎ করে বাচ্চাটার কি হয়ে গেল তা বুঝতে পারছি না, গতকাল রাতেও তো আমার বাচ্চার সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।
    এই ডাক্তার আপা তো তাই বলেছিলেন তাহলে এখন আমার বাচ্চাকে নিয়ে কোথায় গেলেন?
    আমি ছটফট করছি আর গতকাল রাতের কথা ভাবছি।
    গতকাল রাতে আমার শরীর ভীষণ খারাপ লাগছিল তারেক তা দেখে বুঝতে পেরে ডাক্তার ইয়াসমিন হক এর কাছে নিয়ে গেলেন।
    ইয়াসমিন হক হচ্ছেন গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন বঙ্গবন্ধু (পিজি)মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
    তাছাড়া তিনি এই প্রাইভেট ক্লিনিকের গাইনি সার্জারি বিভাগের সিনিয়র সার্জন।
    এই হসপিটালে তিনি প্রতিদিন ১২-১৫ সিজার করেন।
    হসপিটালে সিজারিয়ানে তার বেশ সুনাম রয়েছে।
    আমার বড় সন্তানের সময় তিনিই সিজার করেছেন।
    শুরু থেকেই সে আমার চেকআপে করেছেন।
    গতকাল শরীর খারাপ লাগছিল সেজন্য তারেক আমাকে তার কাছে নিয়ে আসেন।
    তিনি আসার সাথে সাথেই আমার আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর পর বললেন, বাচ্চা আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে এবং বাচ্চার গ্রোথ ও যথেষ্ঠ ভালো।
    তবে সময়ের আগেই বাচ্চা বেশি নিচে নেমে গেছে যা রোগীর জন্য ক্ষতিকর।
    তার প্রথম বাচ্চা যেহেতু সিজারিয়ান তাই বাচ্চা নিচে নেমে যাওয়াতে যে কোন মূহুর্তে সেলাই ফেটে যেতে পারে।
    তখন রোগী এবং বাচ্চার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
    ডাঃ এর মুখে এমন কথা শুনে তারেক এবং আমি চমকে যাই!
    তারেক কিছুক্ষণ সময় নিলেন নিজেকে সামলাতে তারপর ডাঃ ইয়াসমিন হককে বললেন,ম্যাডাম বিশ দিন আগে সিজার করলে বাচ্চার সমস্যা হবে না?
    তারেকের কথা শুনে ডাঃ ইয়াসমিন হক বলেন,আমরা সাধারণ রোগীর সমস্যা হলে বাচ্চার বয়সের এক দুই মাস আগে অপারেশন করি।
    সে সব বাচ্চাদের ওজন দুই কেজি বা তারও একটু কম থাকে।
    বা যে বাচ্চাদের এখনো চোখ ফোটেনি তাদের সিজার করার পর ইনকিউবেটরে রাখা হয়।
    (এটা এই শিশুদের গর্ভের বাইরে বেঁচে থাকতে সাহায্য করার জন্য, তারা একটি ইনকুলেটর হিসাবে পরিচিত একটি যন্ত্রের মধ্যে স্থাপন করা হবে যা নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (NICU) সময় নবজাতককে উন্নত করার জন্য পরিবেশগত অবস্থার প্রয়োজন।)
    সে সব বাচ্চাদের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রামের মধ্যে আপনার বাচ্চাকে যথেষ্ট ভালো অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।
    এমনকি বাচ্চার চোখও ফুটে গেছে।
    এখন আপনাদের বাচ্চা ওজন প্রায় সাড়ে তিন কেজির মত।
    তাই আমার মতে হচ্ছে এখন সিজার করলে সমস্যা হবে না।
    তাছাড়া এখন সিজার না করলে পরে সেলাই ফেটে গেলে আমি রোগীর ট্রিটমেন্টের দায়িত্ব নিতে পারব না।
    আর যদি সিজার করতে রাজি থাকেন তো এখনই রোগীকে ভর্তি করুন।
    আগামীকাল সকাল নয়টার মধ্যে সিজার করবো।
    আপনারা সিজার করাবেন কিনা তা ভেবে দেখুন?
    তারেক ডাঃ ইয়াসমিন হকের কথা শুনে ভয় পেয়ে যান।
    কিছুক্ষণ ভেবে বলেন,ম্যাডাম সিজার করতে হলে করবেন কিন্তু এখন তো ভর্তি করতে পারব না।
    আমার স্ত্রীর মা বাবাকে জানাতে হবে তাছাড়া আমাদের সাথে ছোট বাচ্চা আছে এবং আমার মা বয়স্ক মানুষ।
    একা বাসায় রয়েছেন।
    তাছাড়া আমরা প্রস্তুতি নিয়ে আসিনি।
    ডাক্তার আপা, তারেকের কথা শুনে বললেন, আগামীকাল ভোর ছয়টার মধ্যে ভর্তি করতে পারবেন?
    তারেক ডাক্তার আপার কথা শুনে সাথে সাথেই বললেন,তা পারব সমস্যা হবে না।
    ডাক্তার আপার সাথে কথা শেষ হলে হসপিটালে থেকে বের হয়ে আসি আমরা।
    রাতে বাসায় আসার পথে তারেক আমার মা ও বাবাকে ফোন করে বাসায় আসতে বলেন।

    এক ঘন্টা পর
    আমরা বাসায় ফিরে দেখি
    তারা দুজন, আমরা বাসায় আসার আগেই এসে পড়েছেন।
    মা আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরলেন আর বাবা তারেকের কোলে থেকে পরিকে কোলে নিলেন।
    পরির চোখে তখন ঘুম ঘুম ভাব।
    তবুও নানা ভাই কে দেখে গলা জড়িয়ে ধরে হামি দিতে ভুললেন না।
    পরিকে আমার বাবা কোলে নেওয়ায় তারেক হাতমুখ ধুতে চলে গেলেন ওয়াশ রুমে।

    তারেক হাতমুখ ধুয়ে এসে মা বাবাকে সব খুলে বলেন।
    মা সব শুনে অস্থির হয়ে আমার কাছে বসে আমার শরীরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর জানতে চাচ্ছেন বেশি কষ্ট হচ্ছে কিনা।
    আমি ঠিক আছি তা বোঝাতে মুচকি হেসে মা’কে আস্বস্ত করলাম।
    রাতে সিদ্ধান্ত হলো ,মা বাবা এখন বাসায় চলে যাবেন আগামীকাল ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে তারা আমার সাথে হসপিটালে যাবেন।
    এবং আমার ভাইয়ারা আমার মেয়ে ও শ্বাশুড়িকে তাদের সাথে করে বাসায় রেখে তারপর হসপিটালে আসবেন।
    রুনা আপা ও তার মেয়েরা পরি এবং তার দাদুর খেয়াল রাখবেন।
    সেই কথামত আজকে ভোরে আমি হসপিটালে ভর্তি হই।
    নয়টার কিছুক্ষণ আগে আমার সিজার শুর করেন ডাঃ ইয়াসমিন হক।
    ডাক্তার আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি ঘুমাতে চাই কিনা।
    আমি তাকে বলেছিলাম, আগেরবার যেহেতু ঘুমিয়ে ছিলাম তাই এবার জেগে থাকতে চাই।
    যাতে আমার সন্তানকে আমি প্রথম দেখতে পারি।
    আমার কথা শুনে ডাঃ মুচকি হাসেন।
    এরপর তারা সিজারে প্রস্তুতি নেন।
    আমার পেট বরাবর একটা কাপড় দেওয়া থাকলেও আমি ডান দিকে মাথা কাত করে ছিলাম। তবে আগের বার সিজার শুরু থেকে সিজার শেষ হওয়ার আধাঘণ্টা পর আমার ঘুম ভেঙ্গেছে।
    সে সময়ে কিছু বুঝতে পারিনি।
    তবে এবার তাদের হাতে কেচি তুলায় রক্ত সব কিছু দেখছিলাম।
    সবচেয়ে বেশি বিরক্ত এবং ভয় লাগছিল ডাঃ আপা ও তার সহকর্মীর কথা শুনে।
    সিজার রুমে ঢোকার পর থেকে টাকা নিয়ে তারা দুজন কথা বলেছেন।
    ডাঃ ইয়াসমিন হক কার কাছে যেন অনেকগুলো টাকা পাবেন।
    তা দিচ্ছে না এমনকি তাকে এড়িয়ে চলছেন এসব নিয়ে সেই কখন থেকে তারা কথা বলছেন আর কাজ করছেন।
    আমার ভয় করছিল কারণ,তার টাকার শোকে সিজার করতে গিয়ে পেটে ভুল করে কিছু রেখে আসে কিনা তা ভেবে!
    সে সময়ে আমি অনুভব করছিলাম আমার পেটে তারা কিছু করছে।
    তাই ধরে নিয়েছি তারা পেট কাটছে। কোমড়ের নিচে থেকে অবশ করা হয়েছে।
    সেজন্য ব্যথা অনুভব হয়নি বা পা নাড়াচাড়া করতে পারিনি।
    হঠাৎ তাদের দুই হাত রক্তে মাখামাখি অবস্থা দেখে মাথা কেমন করে গুলিয়ে উঠে।
    আমি ডাক্তার আপাকে বললাম,আপা আমি ঘুমাতে চাই।
    আমি কিছু দেখব না।
    ডাঃ আপা আমার কথা শুনে বললেন,ঠিক আছে আপনি চোখ বন্ধ করে থাকুন।
    দেখবেন ঘুম এসে যাবে।
    আমি তার কথা মত চোখ বন্ধ করে রাখি তবে চোখে তো আর ঘুম আসে না।
    কিছুক্ষণ পরপর পিটপিট করে তাকিয়ে দেখি আমার পেট থেকে একটা বাচ্চা বের করে আনলেন।
    বাচ্চাটা পিটপিট করে তাকিয়ে অপারেশন রুমের আলোর ঝলকানি দেখে চিৎকার করে কেঁদে তার উপস্থিতি জানান দেয়।
    আমার বাচ্চাটা তার উপস্থিতি বুঝাচ্ছে আর আমি কিনা তাকে কোলে নিতে পারছি না।
    বাচ্চাটিকে দেখে আমার মনে এক ধরনের তৃপ্ততা অনুভব করি।
    ডাঃ ইয়াসমিন হক একজন নার্সের কাছে আমার বাচ্চাকে দিয়ে পরিষ্কার করতে বলেন।
    নার্স ট্রে তে করে আমার বাচ্চাকে নিয়ে একটা টেবিলের উপর রেখে আস্তে আস্তে পরিষ্কার করছিলেন।
    আমি সে দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম।
    এসি চালু থাকায় আমার শীত করছে
    জানুয়ারি মাসের ৩০ তারিখ আজ।
    এমনিতেই শীতের সময় তার মধ্যে এসি চলছে যার কারণে আমার শীত করছিল।
    আমার হঠাৎ মনে হল আমার শীত করছে তার মানে আমার বাচ্চাটার ও শীত করছে।
    তাছাড়া ওকে যে টেবিলে রেখে পরিষ্কার করছে তার উপরে এসি রাখা।
    কথাটা ভেবে আমি আস্তে আস্তে বললাম,ওর শীত করছে তো,
    এরমধ্যে হঠাৎ করে তাকিয়ে দেখি আমার বাচ্চাটার নিঃশ্বাস ঘন ঘন উঠানামা করছে।
    এরমধ্যে নার্স ডাক্তার আপার কাছে ওকে নিয়ে আসলো।
    এতক্ষণ ডাক্তার আপা মাত্রই আমার পেটের সেলাই শেষ করলেন।
    নার্স তাকে কি যেন বলেন।
    সে শুনে সাথে সাথে আমার বাচ্চাকে নিয়ে কি কি যেন করলেন।
    তারপর দ্রুত বাহিরে নিয়ে গেলেন
    কতক্ষণ হয়ে গেছে আমার বাচ্চা আমার কাছে দিচ্ছে না।
    তখন কোথায় নিয়ে গেছে তাও বলছে না।
    কিছুক্ষণ পর দুইজন নার্স ও ওয়ার্ড বয় আসল।তারা স্টেচারে করে আমাকে কেবিনে দিয়ে আসবে।
    আমি কয়েকবার জিজ্ঞেস করলাম আমার বাচ্চা কোথায়?
    তারা কিছু বলছে না।
    আমাকে কেবিনে দেওয়া হলো, আমার পাশের বেডে আমার স্বামী তারেক শুয়ে আছেন।
    নার্স তার শিরা চেক করেছে আর বলছে আহারে লোকটা তার বাচ্চার অবস্থা দেখে জ্ঞান হারাচ্ছে বারবার।
    আমি আসেপাশের দিকে তাকিয়ে আমার সন্তানকে না দেখে চমকে উঠি।
    মা,বাবা ও ভাইয়াদের দেখতে পেলাম না।
    আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে, পেটে ব্যথা করছে কিন্তু তার থেকে বেশি কষ্ট হচ্ছে বুকের মধ্যে।
    আমার বাচ্চাকে তখন এক নজর দেখেছি তার পর তো ভালো করে দেখতে পারলাম।
    কোথায় আছে আমার নাড়িছেঁড়া ধন।
    আচ্ছা আমার বাচ্চাটা বেঁচে আছে তো?

    #চলব
    বিঃদ্রঃ আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও আপনাদের মূল্যবান মতামত দিয়ে পাশে থাকবেন।
    লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
    গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।

    9
    7 Comments

Saifun nesa Shima

Housewife

Skip to toolbar