Profile Photo

আফরিন ইনায়াত কায়াOffline

  • inayatkaya55
  • #মায়ানগরের_প্রেম
    #পার্ট১৫
    #আফরিন_ইনায়াত_কায়া
    .
    .
    ওয়াশরুম থেকে মাথা বের করে উকি মারছে ইনা।আরদ্ধ উল্টো দিকে মুখ করে ঘুমুচ্ছে।টাওয়েল টা পেচিয়ে পা টিপে বেরিয়ে আসল।ব্লাউজ আর পেটিকোটটা পরে টাওয়েলটা বুকে জড়িয়ে শাড়ি পরছে।
    -উহ ওভাবে ধরো না কুচি খুলে যাবে।
    .
    .
    কথাটা শুনেই চমকে উঠে ইনা।পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখে আরদ্ধ হাতের উপর মাথা দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।ইনায়াত হা করে তাকিয়ে আছে আরদ্ধের দিকে। তার চোখ আটকে আছে আরদ্ধের লোমহীন বুকটার দিকে।
    .
    .
    আরদ্ধ বিছানা ছেড়ে ইনায়াতের দিকে আসতে লাগল।আরদ্ধ নেশাতুর দৃষ্টিতে ইনায়াতের দিকে তাকিয়ে আছে।আরদ্ধের চোখকে অনুসরণ করে ইনায়াত দেখল তার বুকের উপর থেকে টাওয়েল টা অনেক আগেই পরে গেছে।আরদ্ধের দুই চোখ সেখানেই নিবদ্ধ।ইনায়াত দু হাতে বুক ঢেকে উল্টো দিকে ঘুরে দাড়াল।আরদ্ধ এসে ইনায়াতের পিছনে দাড়াল।চুল থেকে টাওয়েল টা খুলে দিল।ভেজা চুলগুলো ছড়িয়ে পরল ইনার পিঠের উপর।তাই দেখে সে ভেজা চুলে নাক গুজল।অনেক গল্পে পরেছে মেয়েদের ভেজা চুলের গন্ধ নাকি মাতাল করা।কথাটা সত্যি কিনা নিশ্চিত করতে চায় সে। তার দুই হাত ইনার দুই কাধ বেয়ে নেমে হাতের উপর এসে থামল।ইনায়াতের পেট চেপে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল সে।ইনার ভেজা চুলের পানিতে তার বুক ভেসে যাচ্ছে।ইনা যেন মুর্তির মত অনড় হয়ে আছে।এক চুল ও নড়ার শক্তি পাচ্ছে না সে।আরদ্ধ একহাত দিয়ে ইনায়াতের পেটে স্লাইড করছে।অনেক কস্টে গলা দিয়ে বের করল
    -আ…আ..আরদ্ধ। ক..কি করছেন আপনি???
    .
    .
    -শসসসস।তুমি জানো ইনা তুমি একটা নেশা। প্রচন্ড কড়া নেশা। ইচ্ছে করে সারাদিন তোমার নেশায় বুদ হয়ে থাকি। খুব ভালবাসি ইনা খুব বেশিই ভালবাসি।
    .
    .
    নেশাগ্রস্থ কন্ঠে কথাগুলো বলে ইনায়াতের কানের লতিতে আলতো করে চুমু খেল আরদ্ধ।তার প্রতিটা কথা ইনায়াতের বুকে তোলপাড় শুরু করে দিয়েছে।আবেশে সে আরদ্ধের গায়ে হেলে পরল। আরদ্ধের গা খামচে ধরে বলল
    -আমিও ভালবাসি আপনাকে আরদ্ধ।
    আরদ্ধ মুচকি হেসে ইনায়াতের বুকে শাড়ির আচলটা তুলে শাড়িটা ঠিক করে দিল। তারপর টাওয়ালটা নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।
    .
    .
    ইনায়াত চুলগুলো আচড়ে নিয়ে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল। শহীদুল চাচা বাজার করতে গেছেন।ইরিন আন্টি আসবেন ১০টার পর। পুরো রান্নাঘর ফাকা।ইনায়াত টুপ করে রান্নাঘরে ঢুকে গেল।খুজে খুজে হাতের কাছে পাতিল আর কফি পেয়ে গেল।চুলোয় পানি চড়িয়ে চারপাশে চোখ বুলাচ্ছে।অনেক গুছানো সব কিছু। এই সংসারটা এখন তার। আগলে রাখবে সে তার সংসারটাকে।কিন্তু পরক্ষনেই মনে হল আরদ্ধ কি তাকে সংসারের দায়িত্ব দিবে?
    .
    .
    কফি বানিয়ে রুমে ঢুকে ইনা।আরদ্ধ মাত্র ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এসে চুল মুছছে।ইনাকে দেখে তার চোখ মুখ কালো হয়ে গেল।রাগী কন্ঠে জিজ্ঞেস করল
    -কই ছিলে?
    -কিচেনে এ গিয়েছিলাম।
    -কেন?
    -কফি বানাতে।
    -কিচেনে কেউ ছিল না?
    ইনা মাথা এদিক দুলায়। রাখো ওখানে। টেবিলের দিকে ইশারা করে।
    ইনায়াত কফির মগ রাখতেই আরদ্ধ তার দিকে টাওয়েলটা এগিয়ে দিয়ে ধুপ করে বিছানায় বসে পরল।
    ইনায়াত টাওয়েলটা হাতে নিয়ে আরদ্ধের চুল মুছতে লাগল।আরদ্ধ ইনায়াতের পেটে মাথা হেলান দিল।আরদ্ধের ছোট ছোট চুলগুলো ইনায়াতের পেটে সুড়সুরি দিতেই খিলখিল করে হেসে উঠল।
    আরদ্ধ একটানে ইনাকে কোলের উপর বসিয়ে নিল।তার মুখে এখনো হাসির রেশ লেগে আছে।
    -কি হলো হাসছ কেন?
    -আপনার চুল আমার পেটে শুড়শুরি লাগছিল বলেই আবার খিলখিল করে হেসে উঠল।
    ইনাকে হাসলে অনেক সুন্দর লাগে। এই প্রথম সে ইনাকে হাসতে দেখছে।
    আরদ্ধ রাগীভাবটা ধরে রেখে বলল
    -এই মেয়ে শুনো আমার সাথে থাকতে হলে আমার কথা শুনতে হবে।
    মুহুর্তেই ইনার মুখটা কালো হয়ে গেল।
    -কি কথা?
    -রোজ ঘুম থেকে উঠে যেন তোমার মুখটা দেখি।আমি গোসল করে বের হলে আমার চুল মুছে দিবা।রোজ সকালে আমার জন্যে কফি বানাবা।আমি অফিস যাওয়ার সময় আমাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিবে।অফিস থেকে ফিরলে আমাকে জড়িয়ে ধরবে।ইনফ্যাক্ট আমি যখনই বাসায় ফিরব আমাকে জড়িয়ে ধরবে আর…..
    -আরু বাবা
    ইনায়াত মনযোগ দিয়ে আরদ্ধের কথাগুলো শুনছিল।হঠাত কারো আওয়াজ পেয়ে সে উঠে দাড়াল।শাড়ির আচলটা মাথায় তুলে নিল।
    -আরু বাবা নাস্তা কি ইরিন আফা বানাইছে?
    -ইরিন আন্টি তো ১০টার আগে আসেন না।
    শাহেদ চাচার মুখটা এবার ফ্যাকাশে হয়ে গেল।আরু বাবা আমি বাজার করতে গেছলাম। আসে দেখি নাস্তা রেডি।তাহলে নাস্তা…
    -নাস্তা আমি বানিয়েছি।
    ইনার কথায় ঘুরে তাকাল আরদ্ধ।
    কোন কথা না বলে আরদ্ধ আলমারি থেকে শার্ট বের করে পরতে লাগল।
    শাহেদ চা হা হয়ে ইনাকে দেখছে।গতকাল ছুটিতে থাকার কারনে ইনায়াতের সাথে তার পরিচয় হয় নি।
    -ইনায়াত উনি শাহেদ চাচা।আর চাচা ও আপনার বউ মা।আজ থেকে এই সংসারের সব দায়িত্ব ইনার। কখন কি হবে না হবে কোন জিনিশ কোথায় থাকবে। কখন কি রান্না হবে সব কিছু আজ থেকে আপনার বউমার হাতে।আপনি যান।আমরা আসছি।
    .
    .
    শাহেদ চাচা হাসিমুখে চলে গেলেন।ইনা হা হয়ে এতক্ষন কথাগুলো শুনছিল।শাহেদ চাচা চলে যেতেই আরদ্ধকে জড়িয়ে চোখের পানি ছেড়ে দিল।
    -আরে আরে কাদছ কেন?আমি যখন তোমার তখন এই সংসারটা তো তোমার হবেই।ইনা আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।আরদ্ধ দুষ্টু হেসে বলল
    -একটা শর্ত কিন্তু বলা হয় নি?
    ইনা মুখ তুলে বলল
    -কি?
    -সকাল আর রাতে আমাকে স্পেশাল মিষ্টি দিতে হবে কিন্তু।বলেই চোখ টিপ মেরে আরদ্ধ বেরিয়ে গেল।
    চলবে

    5
    4 Comments
Skip to toolbar