Profile Photo

অনিক ভট্টাচার্য্যOffline

  • Cholechi-Udoyer-Pathdhore
  • আজ দীর্ঘ ২০ বছর পর “অনন্ত” “আরশিনগর” এ আবার এলো, অনেক সময় ধরে আসবে আসবে করে সাহস করতে পারছেনা, দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পর প্রতিদিন প্রতিরাত শুধু “আরশিনগর” আর প্রিয় মুখ গুলোর কথা মনে পড়তে কেঁদেছে, চরম অভিমান আর মনের কষ্টে “আরশিনগর” চেয়েছিল অনন্ত , ছোট্ট বেলা থেকে প্রানের চেয়েও বেশি ভালোবাসার জায়গা, এক কালে বিশাল পরিবার ছিলো, মা, বাবা , চাচা, চাচী, চাচাতো, ভাই, সব ,এর পর সময়ের পালাক্রমে জীবনে এলো “ময়ুরী” স্কুলের পাঠ চুকিয়ে শহরের কলেজে পড়তে গিয়ে আলাপ, , সেও গ্রাম থেকে শহরে পড়তে আসছে,ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব এর পর প্রেম , লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে গ্রামেই একটা ব্যবসা করে “অনন্ত” তার ওপর খেত খামার আছে, চাচা চাচী, বাবা মা সবার বয়স‌ও হচ্ছে তাই আর শহরে থাকার চেষ্টা করেনি, সময়ের চাকা ঘুরতে থাকে, এক সময়ে পারিবারিক বিবাদে চাচা , বাবা সবাই আলাদা হয়ে যায়,সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা তে অনন্তরা ভাগে বেশি পাই, অনন্ত এক ছেলে হ‌ওয়ায় , এতে চাচা রা অসন্তুষ্ট বেশি হয়, সম্পর্কের তিক্ততা এতোটা চরমে পৌঁছাই , চাচার পরিবার সব সময় চেষ্টা করতে থাকে , যেকোন দুর্বলতা খুঁজতে থাকে “অনন্ত”দের ক্ষতি করার , এর‌ই মাঝে “অনন্ত”আর ময়ুরীর বিয়ে হয়, বেশ ভালোই চলছিলো সুখে, নিজেদের জগতে অনন্তরা , এর‌ই মাঝে নেমে এলো এক কালো মেঘের তিব্র ঝড়, নৌকা করে পাশের গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সময় নৌকা ডুবিতে অনন্তর মা বাবা মারা যায়, অনন্তর তখন সন্তান হবে, সে খুশির খবরটা সেদিন‌ই ব‌উকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে জানতে পারলো, কিন্তু এতো বড়ো খুশির খবর “অনন্ত”তার মা বাবাকে দিতে পারলো না, তার আগেই খুশি টা দু‌ঃখে পরিনত হলো, এভাবে শোক , দুঃখের সাথে সঙ্গী করে অনন্ত আবার ভেঙ্গে যাওয়া থেকে সবে পূণরায় দাঁড়াতে চেষ্টা করছে, এমন সময় চাচাতো ভাইয়েরা মিলে “অনন্ত”র জায়গা দখল করতে ঝামেলা শুরু করে নানা ভাবে, প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু সমস্যা তৈরী করে , অনন্তকে ফাঁসাতে চাই, একদিন চাচাতো ভাইয়েরা মিথ্যে মামলা করে বলে অনন্তর বাবা তাদের থেকে অনেক গুলো টাকা ধার নিয়েছিল যা শোধ করেনি,তার বদলে সম্পত্তি বন্ধক করেছিলো এমন নকল দলিল করে দেখায় প্রমান হিসাবে, অনেক মামলা মোকাদ্দমা করেও লাভ হয়নি, প্রায় সব কিছুই কেড়ে নেয় তারা, আর তাদের শেষ সম্বল বাড়ির ওপর‌ও নজর পরে, তারা রটিয়ে দেয় পুরো গ্রামে, অনন্ত আর তার স্ত্রী, গোপনে মানুষের ক্ষতি করার জন্য তাবিজ করে,গ্রামে ছোট বড়ো যতো গুলো দূর্ঘটনা , খরা, মৃত্যু সব‌ই অনন্ত আর তার স্ত্রীর কারনে, এ খবর ছড়াতেই, “অনন্ত”র দোকানে মানুষ আসা বন্ধ হয়ে যায়, পুরো গ্রাম এ তাদের সাথে আস্তে আস্তে সম্পর্ক ছিন্ন করতে থাকে ,এক প্রকার এক ঘরা করে দেয়, একদিন হটাৎ “ময়ুরী”মানে অনন্তর স্ত্রীর প্রসব বেদনা ওঠে, কোন ভাবেই একা স্ত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়া যাচ্ছেনা, কারন মাটি কাটার ফলে রাস্তায় বড়ো বড়ো গর্ত, আর এতো চিৎকারেও কোন মানুষ এগিয়ে আসেনা, শেষে উপায় না দেখে , অনন্ত রাস্তায় আসে কিন্তু রাস্তাঘাট ফাঁকা কোথাও কেউ নেই, আধ ঘন্টা চেষ্টা করেও না পেরে শেষে অসহায় হয়ে ঘরে ফিরে আসে , এসে দেখে ,ব‌উ তার আর চিৎকার করছেনা, চুপচাপ, মাটিতে পড়া রক্ত গড়িয়ে যাচ্ছে, ডেকেও সারা নেই, শেষে উপায় না পেয়ে নিজেয় কষ্ট করে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসে কিন্তু অনেক দেরী হয়ে যায়, স্ত্রী আর পেটে নবাগত অতিথি তার সন্তান দুজনেই আর বেঁচে নেই, এ আঘাতে উন্মাদের মতো হয়ে যায়, এর কিছুদিন পর বিদেশ থেকে “অনন্ত”র বন্ধু দেখা করতে আসে, সব দেখে শুনে এক প্রকার জোর করে নিজের সাথে করে বিদেশ নিয়ে যায়, কারন এখানে থাকলে অনন্তকে বাঁচানো যাবেনা, বিদেশে গিয়েও প্রানের গ্রাম, বাড়ি ঘর ,স্ত্রী, মা বাবার কবর এক বারের জন্য ও ভুলতে পারেনা, আজ বাড়ির সামনে এসে সব মনে পরে যেতেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে গেল, বাড়িটি এখন আধুনিকতার ছোঁয়া পেলো, চাচাতো ভাইয়েরা সেটিও দখল করে নিজেদের করে নিলো, শুধু দখল করতে পারলো না, খানিকটা দূরে চরম অবহেলিত, গাছ গাছালি, আগাছায় ভরা “অনন্ত”র মা, বাবা, স্ত্রীর কবর গুলোর জমি , হয়তো পাড়ার কবর বলে পারেনি, নিজস্ব জমিতে হলে সেগুলো ও আর থাকতো না।।।।।

    5
    3 Comments

Friends

Profile Photo
Md-Zahidul-Islam-Prince
@md-zahidul-islam-prince
Profile Photo
Mohammad-Rakibul-Hasan
@mohammad-rakibul-hasan
Profile Photo
Tahmina-Shikha
@tahmina-shikha
Profile Photo
MD-Naimul-Islam
@md-naimul-islam
Profile Photo
charumannan
@charumannan
Profile Photo
Mehebub-Hasan
@mehebub-hasan
Profile Photo
Omar Faruk Rayhan
@rayhanpoet
Profile Photo
Arif Muslimeen
@arif-muslimeen
Skip to toolbar