Profile Photo

AHMADULLAH ARAFATHOffline

  • ahmadullah0521
  • Profile picture of AHMADULLAH ARAFATH

    AHMADULLAH ARAFATH

    4 years, 6 months ago

    “ছেলেবেলার রঙিন জীবন”

    শৈশবের কথা খুবই মনে পড়ে। মনে পড়ে সকালের দুষ্টু কালচারের কথা। কতই না আনন্দময় দিন ছিলো তখন।বড় জনের আদরের কথাগুলো। একসাথে সাথীদেরকে নিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়া। বিকালে বন্ধুদের নিয়ে মাঠে অস্থির খেলাধুলা। রাতে উঠানে শুকনো লতাপাতা – বন দিয়ে আগুন জালিয়ে গরম তাপ পোহানো। তার মাঝে মুরব্বিদের মুখে মজার মজার কিচ্ছা শোনা। শীতেই বেশির সময় এমন আনন্দময় দিন কাটে। পিঠা- পুলির উৎসব তো আছেই।

    ——————————-

    অন্য সময়ের চেয়েও বেশি সময় ধরে ডাইরীর পাতায় লেখালেখি চলে শীতকালের ঈদময় দিন নিয়ে। ছোটবেলার গল্পগুলোই লেখে ভরে ফেলি জীবন খাতার পাতায়।
    কখনো রাত জেগে, বিকালে বাসার খোলা ছাদে অথবা এলাকার যেকোনো পার্কের এক ব্রেণ্চে।

    —————————-

    একদিন শীতের ভোর সকালে। কুয়াশা ভরা সকালে। দাদুর সাথে মসজিদে যাচ্ছি ফজরের নামাজ পড়তে। কঠিন শীত। হাড় কাঁপানো শীতেও আমাদের গ্রামের মসজিদে প্রচুর মুসল্লির আগমন।
    অনেকেরই হাতে এক গুচ্ছু তসবীহর দানা ঝুলছে। জিকিরে গুনগুন। সবাই সময়মত জামাআতে দাড়িয়ে পড়ি।

    আমি ছোট হওয়ার কারণে সবার পিছনে কাতারে দাড়াই। মসজিদে কার্পেট বিছানো থাকলেও পিছনের একস্থানে কিছু কার্পেট সংকট জায়গা ছিলো।একজন ভদ্রলোক এসে সে স্থানে দাড়িয়ে পরে।
    সাথে সাথেই পা কাপাকাপি শুরু হয় তার। জায়গা না পাওয়ার কারণেই সেখানে দাড়িয়ে ছিলো। লোকটার এমন করুণ অবস্থা দেখে আমার খুব মায়া লাগছিলো। নিজের কার্পেট বিছানো স্থানে তাকে দিয়ে কার্পেট ছাড়া স্থানে দাড়াই। ভদ্রলোক প্রথমে অনেকবার নাকোচ করেছিলেন, জোর করে তাকে আমার কার্পেট বিছানো স্থানে দাড় করাই।
    কষ্ট হলেও বেশ আনন্দিত হয়েছি। একজন মুসলমান ব্যক্তিকে সাহায্য করে। লোকটা ভালোভাবে জামাআতের সহিত নামাজ আদায় করে।

    মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দাদুকে বলে ঃ-

    — এই ছেলেটা কি আপনার নাতি?

    — হ্যা।

    — মাশাআল্লাহ, সে একদিন অনেক বড় হবে। শত শত আল্লাহর বান্দাদের খেদমত করিবে।

    দাদুজান আমার এসব কান্ডর কথা একদমও জানতো না। ভদ্রলোকটি জিজ্ঞেসা করার পর জানতে পারলেন। দাদুও আমার মাথায় হাত বুলেন দিলেন। বাড়িতে যেয়ে সবার কাছে এ কথাগুলো ছড়িয়ে যায়। আদরের বন্যা বয়ে যায়।

    —————————

    কাহিনী আরও বহু ছিলো। লেখে লেখে ভেবে ভেবে স্মরণ করছি এখনও, প্রতিক্ষনে। শৈশবের ভালো – মন্দ সবই আমার হৃদয়ের স্মৃতিচারন।বড় হয়ে গেছি। এখন আর মিলে না ছোটবেলার মতো রঙিন জীবন কাটাতে। সারাক্ষণ পড়াশোনায় ব্যস্ততা। গ্রামের বাড়ীতে বছরে একবার করে যাওয়া হয়। শৈশবের জীবন শুধু আমার না, আমি ছাড়াও অগনিত মানুষেরা যারা যাদের শৈশবের জীবন স্মৃতিমালা করে পড়িয়ে সাজিয়ে রেখেছে নিজেদের অন্তরের ভাজে, স্মরনের পাতায়।
    সত্যি! ছেলেবেলার কথা খুবই মনে পড়ে।

    আহমাদুল্লাহ আরাফাত

Skip to toolbar