Profile Photo

Soma malaker TandraOffline

  • Tandrasoma82
  • Profile picture of Soma malaker Tandra

    Soma malaker Tandra

    4 years, 3 months ago

    নেশার যাত্রী
    সোমা মালাকার তন্দ্রা

    সেদিন বাসে চড়ে এক বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলাম। আমার সিটটা ছিল বাসের মাঝামাঝি। বাসটা একটা বাজারে এসে থামল। থামার সাথে সাথে একটা ছোট শিশু বাসে উঠলো। বলা যায় ছোট হকার, বয়স ১০ থেকে ১১ বছর হবে। সে সুর কেটে কেটে বলছে, এই তিলের খাজা, তিলের খাজা খাইলেই পাবেন মজা। জোড়েই জোড়েই সে বলছিল। শিশুটির এমন জোড়ে জোড়ে কথা শুনে, বাসের সামনে বসা এক যাত্রী রাগ হয়ে শিশুটিকে ডেকে দাঁড় করিয়ে বকা ঝকা করেছিল। এই ছেলে এত জোড়ে জোড়ে কথা বলছিস কেন? তোদের জ্বালায় একটুকু কি শান্তি পাব না? এক্ষুনি নাম বাস থেকে_
    আমি প্রথমে ঘটনাটি বুঝতে পাইনি। হঠাৎ শুনি আমার সামনে এক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে বলছে ওর দোষ কি?
    পেটের দায়ে ওরা এত ছোট বয়সে কাজে নেমেছে। আপনারা কি বুঝবেন? ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করছেন কেন? প্রতিবাদ করার কেউ নেই নাকি? কাজ করে খায় চুরিতো করে না। যদি ভিক্ষা করে, সেটাও সমস্যা আপনাদের। চুরি করলে সমস্যা, কাজ করছে সেটাও আপনাদের সমস্যা। ওরা তাহলে যাবে কোথায়?
    এই বলে ভদ্রলোক মৌন রইলেন।
    আমি ভাবছি ভদ্রলোকটির কথা একদম ঠিক। প্রতিবাদ করার লোক নেই বলে সমাজ আজ অন্য পথে হাঁটছে।
    বর্তমান সমাজে ১০ থেকে ১২ বছরের শিশু গুলো আমাদের সমাজ ব্যবস্থার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
    হয়ে যাচ্ছে বখাটে, অভদ্র আর নেশাখোর। অতি শাসনে, অতি আদরে আর অবহেলার কারণে অনেক রকম অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হয়ে পড়ছে।
    আমি ছোট থেকে শুনে আসছি নেশা মানে মদ আর গাঁজা। এখন কত নতুন নতুন নাম শুনি। হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল।
    ফেনসিডিল কে আবার অনেকে ডাইলও বলে। তার মধ্যে একটা হচ্ছে ড্যান্ডি বা গামকিং। যাহা এক ধরনের জুতার আঠা। এই বারো থেকে চৌদ্দ বছরের শিশু গুলো জুতার আঠা দিয়ে নেশা করে। পলিথিন ব্যাগে ঢেলে নাক দিয়ে টানলে নাকি নেশা হয়।
    যাহা ড্যান্ডি নামে পরিচিত। এই ড্যান্ডি দিয়েই শুরু হয় নেশার জগৎ। পরে আস্তে আস্তে তাদের বয়স বাড়তে থাকে নেশা গুলোও বড় হতে থাকে।
    ড্যান্ডি থেকে ইয়াবা, মদ, গাঁজা, হেরোইন ইত্যাদি। এই নেশার কারণে ধ্বংস হচ্ছে পরিবার,সমাজ ক্ষতি হচ্ছে দেশের।
    বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ। অধিক জনবহুল এর কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ গুলো পায়না মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে। এর মধ্যে সঠিক শিক্ষাতো একদমই পায়না। সচেতনতা কাকে বলে বুঝতেই পারেনা। অপরিকল্পিত সংসার গড়ে তোলে। ফলে প্রকৃতির নিয়মেই তাদের সন্তানেরা বড় হয়। এসব কারণে ছোট থেকেই এদের ছেলে সন্তান গুলো নেশার খপ্পরে পড়ে এবং এদের সাথে যোগ দেয় সমাজের অতি আদরে থাকা, শাসনে থাকা ও অবহেলিত সন্তানগুলো।
    সবাই যে নষ্ট হয়, আমি সেটা বলছি না তবে, বেশির ভাগ এরকমই হয়।
    আজকাল শুধু ছেলেরা নয় মেয়েরাও নেশার জগতে হারিয়ে যাচ্ছে।
    অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাহিদার কারণে অনেক বাবা-মা সন্তানের দিকে বিশেষ খেয়াল না নেওয়ার কারণে সন্তানেরা নেশায় আসক্ত হচ্ছে।
    আমি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতাম। ছাত্র-ছাত্রীদের সুশিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে একটি অভিভাবক মিটিং এ আমার এক পরিচিত স্যার একটি উক্তি করে ছিল যে, “আগের মানুষের দশ থেকে পনেরটি বাচ্চা হতো তার মধ্যে এক দুইটা বাচ্চা এমনিতেই মানুষ হয়ে যেতো। আর এখনকার মানুষের বাচ্চা এক থেকে দুইটা তাদেরকে অবশ্যই সুশিক্ষিত করার চেষ্টা করতে হবে”। তাহলে বোঝা যাচ্ছে আমাদের বলতে পরিবার,সমাজ প্রতিবেশী সবারই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে।
    ছোট থেকে সুসন্তান গড়ে তোলার লক্ষ্যে পথশিশু থেকে প্রতিটি শিশুকে উৎসাহ দিতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি বাবা-মার সাথে দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করবে। এতে করে বাবা-মার সাথে সন্তানের সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে। ফলে সন্তান নষ্ট হওয়ার কোন আশঙ্কা থাকবে না।
    এবার আসি বাসে, বাসের প্রথম সিটে বসা সেই যাত্রী তিলের খাজা বিক্রেতা সেই ছোট্ট শিশুটির সাথে রাগ না করে তাকে যদি বলতো, এই বাবু তুমি তোমার কথা গুলো আস্তে আস্তে বলো তাতে সবাই শুনতে পাবে।
    তুমি কি শুধু তিলের খাজাই বিক্রি করো?
    তোমার নাম কি?
    তিলের খাজা বিক্রির পাশাপাশি লেখা-পড়া করবা।
    আমাকে একটা তিলের খাজার প্যাকেট দাওতো।
    তাহলে শিশুটি কতই না খুশি হতো।
    বাদ থাকলো প্রতিবাদী ভদ্রলোক আমি সেই অচেনা প্রতিবাদী ভদ্রলোকটি কে সালাম জানাই সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি এরকম অন্যায়ের প্রতিবাদ করত ন্যায়ের শিক্ষা দিত তবে সুন্দর হতো আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ, আমাদের সোনার বাংলা

    11
    6 Comments
Skip to toolbar