<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Abdullah Al Mozahid | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/abdullah-al-mozahid/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/abdullah-al-mozahid/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Abdullah Al Mozahid.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 13 Jun 2026 05:17:28 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">89acdae33bda0ace4864afdd485662d0</guid>
				<title>কুড়ি বছর পরে (কবিতা)
.
আমি বদলাইনি একটুও
আগের মতই আছি-
সেই শুকনো মুখ, শীর্ণদেহ,
মাথার উপর একগোছা রুক্ষ চুল,
তেল চিটচিটে ধূসর টিশার্ট,
সব আগের মতই আছে।
মাঝখানে শুধু খোয়া গেছে ক&#039;টা বছর
হারিয়ে ফেলেছি কিছু স্মৃতি, সোনালী অতীত,
আর তোমাকে...
.
আমার চোখজুড়ে আজও নীরবতা বর্তমান
ঠিক তখন যেমন ছিল
তবে আশ্বিনের উজ্জ্বল রোদের মত
রহস্যঘেরা উন্মাদনাটুকু আজ আর নেই
তার বদলে আজ শুধু কিছু প্রশ্নাকূল হাহাকার ! 
তবে এখন আর আগের মত কাঁদি না
গত বন্যায় সব পানি নেমে গেছে
কেননা, তুমিই তো বলেছিলে :
&quot;কবির চোখে কাঁন্না মানায় না...&quot;
আজ আমার চোখে পউশের কুয়াশামাখা ভোর
জানি তোমায় আর ফিরে পাবো না কোনোদিনও 
তবুও আজও ঝড়েভেজা নীড়হারা কাকের মত খুঁজি তোমায় ! 
.
বোধহয় বড্ড সুখেই আছো তুমি, আমিও আছি---
মাথাব্যথা আগের মতই আছে, 
ডাক্তারের মতে, অর্ধেক মস্তিষ্ক পোকার দখলে
মাঝেমাঝে নিজেই নিজেকে ভুলে যাই
আবার নতুন রূপে আবিষ্কার করি নিজেকেই 
অচেতন-অবচেতন অবস্থায় ! 
ভালোই লাগে- রোজ আর তোমার বকা খেতে হয় না,
জোড় করে অষুধ গিলতে হয় না,
সত্যি বলতে কি, অষুধে আমার বড্ড বিতৃষ্ণা
যেমনটি শেষের দিনগুলিতে আমার প্রতি তোমার বিতৃষ্ণা ছিল।
.
আমি এখনো আগের মতই আছি,
একটুও বদলাইনি :
মাঝখান থেকে শুধু খোয়া গেছে কুড়িটি বছর
আর হারিয়ে গেছ তুমি...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/29555/</link>
				<pubDate>Mon, 30 Aug 2021 14:07:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কুড়ি বছর পরে (কবিতা)<br />
.<br />
আমি বদলাইনি একটুও<br />
আগের মতই আছি-<br />
সেই শুকনো মুখ, শীর্ণদেহ,<br />
মাথার উপর একগোছা রুক্ষ চুল,<br />
তেল চিটচিটে ধূসর টিশার্ট,<br />
সব আগের মতই আছে।<br />
মাঝখানে শুধু খোয়া গেছে ক&#8217;টা বছর<br />
হারিয়ে ফেলেছি কিছু স্মৃতি, সোনালী অতীত,<br />
আর তোমাকে&#8230;<br />
.<br />
আমার চোখজুড়ে আজও নীরবতা বর্তমান<br />
ঠিক তখন যেমন ছিল<br />
তবে আশ্বিনের উজ্জ্বল রোদের মত<br />
রহস্যঘেরা উন্মাদনাটুকু আজ আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-29555"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/29555/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">872f3edf4f97243f61a45cea8e134c1b</guid>
				<title>বর্ষাবরণ (অনুগল্প)
.
ক&#039;দিনের কাঠফাটা রোদে মৃত্তিকার অনুজীবগুলো এক-এক করে যখন না ফেরার দেশে চলে যাচ্ছিল, তখনও সূর্যদেবের করুণ ভ্রুকুটি এতটুকুও কমেনি। আর আজ কালোমেঘের সেই অভিশাপ আকাশের কান্না হয়ে সকাল থেকে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে ধরণীমাতার রুক্ষ বুকে। কখনো কখনো মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে, আবার কখনোবা গুড়িগুড়ি বৃষ্টি।
.
মেঘেদের গুড়ুগুড়ু ডাকে মহাপৃথিবী আজ জাগ্রত ; বটবৃক্ষের শিকড়ের ন্যায় বিদ্যুতের আভা গগনে সহস্র বক্ররেখা এঁকে ফের মুহূর্তেই আত্মগোপন করছে--- সে দৃশ্য বড়ই রোমাঞ্চকর ! 
অবিরাম বর্ষণ জমিনের দুঃখ-কষ্টের ফাঁটলগুলি বারিধারার কোমল চাদরে ঢেকে দেয়। খরাপীড়িত ঝিঁ-ঝিঁ পাড়ায় ফের বেঁজে ওঠে আনন্দঢাক। অতীতের সব দুঃখ ভুলে ব্যাঙের কণ্ঠে সুর পায় বর্ষাবরণের গান।  
.
কুঁড়েঘর নেই ; টিনের চালে বৃষ্টিবালিকাদের নৃত্য মনের মধ্যে এক দ্যোতনার জন্ম দেয়। মন চায় আমিও গিয়ে তাদের সঙ্গী হই। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে আমার প্রিয়ার কথা। কিজানি সেও বিরহী রাধার মত নীল শাড়ি পড়ে আমার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছে ; হয়তোবা হিজলের পাঁপড়িতে মনের বিরহগাঁথা লিখে জলে ভাসিয়ে দিচ্ছে ! 
.
দেহ থেকে মনটা যেন তার কাছে ছুটে চলে যায়। অতঃপর, বৃষ্টিতে ভেজা আর হয়ে উঠে না। মলিন বদনে আবার ঘরে ফিরে যাই, গিয়ে বসি জানালার পাশে। খোলা বাতায়ন আমার দৃষ্টিকে নিয়ে যায় খালের অদূরে একাকী দাঁড়ানো কদমগাছটার দিকে। আহা, কি ফুলের মেলা ! কাল অব্দি যে গাছে একটা ফুলও ছিল না, আজ তার প্রতিটি শাখায়-শাখায় শতশত কদমকলি যেন ফুলের মেলা বসিয়েছে। 
.
আমার কল্পনা গভীর থেকে আরও গভীরে চলে যায়। বার বার ইচ্ছে হয়, যদি একগোছা কদম ফুল তাকে দিতে পারতাম। হয়তোবা সে ফুলে মালা বানিয়ে পড়িয়ে দিত আমার গলায়। কদমতলায় কদমফুল দিয়েই তৈরি হত আমাদের প্রণয়শয্যা ! সে আমাকে জড়িয়ে ধরে, আমার বুকে মাথা রেখে একদা ঘুমিয়ে পড়ত !! 
.
একদা আমার কল্পনার ঘোর কেটে যায়। কল্পনা আর বাস্তবতার মধ্যেকার ফারাকটুকু মনের মধ্যে আন্তঃদ্বন্দ্বে জড়িয়ে কলহের সৃষ্টি করে। ক্ষোভ আর হিংসায় আমি হয়ে উঠি বিদ্রোহী। নিষ্ঠুর প্রণয়িনীরূপ কদমগাছটিকে কেটে ফেলতে উদ্যত হই। কিন্তু তা আর সম্ভব হয় না। 
.
বৃষ্টিবালিকারা তখনো আপন মনে জল-কাদার খেলা খেলে চলে। তারপর, একদা সন্ধ্যা নামে প্রকৃতির বুকে; আঁধারে ছেয়ে যায় চারদিক। দূর মসজিদে মুয়াজ্জিনের আযানের ধ্বনি কানে ভেসে আসে। ঘোষদের পাড়ার তখন শাখের তালে তালে পিতলের থালায় মৃদুমন্দ ঘণ্টাধ্বনি মুহুর্মুহু সুর সাঙ্গ করে দিবসাবসানের সে আয়োজন ! 
.
খালের পাড়ের ব্যাঙের ঘ্যাঙোর-ঘ্যাঙ ডাক আর ঝিঁ-ঝিঁ পোকার একটানা রি-রি শব্দে বাতাসে এখনো এক নতুন ব্যাঞ্জনা সৃষ্টি হচ্ছে। আমার দৃষ্টি তখনো অন্ধকারে নিক্ষেপিত। হয়তোবা এখনো হারানো কিছুকে খুঁজে বেরাচ্ছে সে দৃষ্টি !! 
অতঃপর, একদা ঘুমপরীরা এসে আমাকে নিয়ে যায় শ্রান্তির দেশে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/26378/</link>
				<pubDate>Wed, 04 Aug 2021 17:34:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বর্ষাবরণ (অনুগল্প)<br />
.<br />
ক&#8217;দিনের কাঠফাটা রোদে মৃত্তিকার অনুজীবগুলো এক-এক করে যখন না ফেরার দেশে চলে যাচ্ছিল, তখনও সূর্যদেবের করুণ ভ্রুকুটি এতটুকুও কমেনি। আর আজ কালোমেঘের সেই অভিশাপ আকাশের কান্না হয়ে সকাল থেকে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে ধরণীমাতার রুক্ষ বুকে। কখনো কখনো মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে, আবার কখনোবা গুড়িগুড়ি বৃষ্টি।<br />
.<br />
মেঘেদের গুড়ুগুড়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-26378"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/26378/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">53265f3fd65ccf3b1fa2e08f7130efaf</guid>
				<title>Abdullah Al Mozahid and অভিমানী মন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17690/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Jul 2021 16:28:31 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9ec186f174367817ec8d0ab08911e6ab</guid>
				<title>Abdullah Al Mozahid and Neel tripura are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/15776/</link>
				<pubDate>Thu, 24 Jun 2021 20:52:18 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">28d7a036da190601a8aa4873cfbaa7ac</guid>
				<title>তুমি (কবিতা)
.

তুমিতো ব্যস্তশহরে এক কলের মানুষ---
তবু বলি: কখনো কি আকাশ দেখেছ?
নাকি সময় পাওনি...
.
প্রতিরাতে একাকী জেগেছি তোমার জন্য
কিন্তু ফিরেও চাওনি...
গোটা আকাশের নির্বাক তারকারাজি
অশ্রুসিক্ত বেদনার্ত সহানুভূতি
আর সান্ত্বনার হাত বাড়িয়েছিল আমার প্রতি!
.
অজুহাত খোঁজার দরকার নেই---
কেননা, তুমিই এক বিশাল আকাশ
ধরণীর আকাশ তো ছার...!
তবু বলি: এখন আর প্রতিরাতে
তোমার জন্য মিটিমিটি চেয়ে রবো না।
কি দরকার বলো
সাদাকাগজের বুকে কয়লার ক&#039;টা আঁচড় কাটার....
তার চেয়ে বরং আমি চলেই যাবো---
শুধু তোমার অগোচরে নয়,
একেবারে লোকচক্ষুর অন্তরালে!
তবে বলে রাখি: একদিন আমাকে তুমি খুঁজবে
খুঁজবে আর খুঁজবে....
কিন্তু হায়! সেদিন আর আমার ছায়াকেও খুঁজে পাবে না!
.
আপন ভেবে কাছে টেনেছি তোমায়
কিন্তু তুমি...!!!
সত্যি বলতে কি: ভালবাসার মতো হৃদয় তোমার নাই!
তাই আজ ফিরে যাচ্ছি।
কেননা, তোমার ভাব দেখার মতো সময় আমার নাই....</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/15731/</link>
				<pubDate>Wed, 23 Jun 2021 09:43:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তুমি (কবিতা)<br />
.</p>
<p>তুমিতো ব্যস্তশহরে এক কলের মানুষ&#8212;<br />
তবু বলি: কখনো কি আকাশ দেখেছ?<br />
নাকি সময় পাওনি&#8230;<br />
.<br />
প্রতিরাতে একাকী জেগেছি তোমার জন্য<br />
কিন্তু ফিরেও চাওনি&#8230;<br />
গোটা আকাশের নির্বাক তারকারাজি<br />
অশ্রুসিক্ত বেদনার্ত সহানুভূতি<br />
আর সান্ত্বনার হাত বাড়িয়েছিল আমার প্রতি!<br />
.<br />
অজুহাত খোঁজার দরকার নেই&#8212;<br />
কেননা, তুমিই এক বিশাল আকাশ<br />
ধরণীর আকাশ তো ছার&#8230;!<br />
তবু বলি: এখন আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-15731"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/15731/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">67e655d0453179854ecb45a5512242aa</guid>
				<title>মেকআপ বিভ্রাট (রম্যগল্প)
.

বাদ জুম্মা আহারাদির পর মোহনিদ্রার জগতে অবস্থান করিতেছিলুম। পথিমধ্যে দৈবাৎ স্বপ্নঘোরে যাহা দেখিলুম, তাহা রীতিমত অবিশ্বাস্য!
.

স্বপ্নে যাহা দেখিলুম--
আমার পরম প্রেমপূজ্য বালিকার সহিত আমি শুভ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধপ্রায়। ভালোবাসার ললনাকে জীবনতক চিরস্থায়ীভাবে অধিকার করিতে যাইতেছি - অনুভূতি বেগতিক উত্তেজনাপূর্ণ। ক্ষণিক পরেই প্রণয়িনীকে পত্নীরূপে পাইবার আহ্লাদে আবেগের পেয়ালা যেন উথলাইয়া পড়িয়া যাইবার উপক্রম এবং সেই মহানন্দে উত্তজনাসকল আপনিই আপনাকে ফুলশয্যার সুড়সুড়ি দিতে লাগিল। কাজী সা&#039;বকে কোনোমতেই বিলম্ব করিবার সুযোগ না দিয়া বারংবার তাগাদা দিতে লাগিলুম এবং অবশেষে তাহার হস্ত হইতে রেজিস্ট্রি খাতাখানা হরণ করিয়া আপনিই লিখিতে আরম্ভ করিলুম। বিবাহের মজলিসে অবস্থা যাহা দাঁড়াইল, তাহা প্রত্যক্ষ করিয়া উভয়পক্ষের উৎসুখ কুটুম্ববর্গ কানাকানি করিতে লাগিল এই বলিয়া যে, ‘আবেগের গরমে পাত্র বেচারা লজ্জা-শরমের মাথা ধুইয়া খাইয়াছে’। খবর অন্দরে পৌঁছিতে পৌঁছিতে এমনি বিকৃতভাবে রটিয়া গেল যে, ‘পাত্র বেশরম’। হেতু একটাই, কাজী মহাশয় পুছিবার পূর্বেই আমি কবুল কহিবার লোভ সংবরণ করিতে পারি নাই।
.
 অবশেষে সকল আনুষ্ঠানিকতার অবসান ঘটিয়া বিবাহের কন্যা পাত্রস্থ হইল। রাত্রি দেড় ঘটিকা পর্যন্ত কুটুম্বসকল একে একে বিদায়ের পর্ব সম্পন্ন করিল। রাত্রি দুই ঘটিকার সময় স্বজ্ঞানে দরওয়াজায় খিল দিয়া ফুলশয্যার বিছানার দিকে অগ্রসর হইলুম। কিন্তু বিছানায় চড়িয়াই যে অজ্ঞান হইবার উপক্রম হইব, তাহা কে জানিত?
.

মনের মধ্যে তখন উত্তেজনার ঝড় কল্পনার প্রশান্ত মহাসাগরকে অশান্ত করিয়া তুলিবার উপক্রম। সেই ঝড়ে আবেগের ঢেউ তটে এমনি করিয়া আঁছড়াইয়া পড়িবার উপক্রম যে এক্ষুণি গোটা কয়েক টাইটানিক সলিলের অতলে সমাধিস্থ হইবে। আনন্দ আর উত্তেজনায় বুকের ধুকধুকানি ঘড়ির কাটার শব্দকেও হার মানাইল। রবিবাবুর ভাষ্যে আমি তখন নায়ক অপু এবং “নরমাংসের স্বাদ পাইলে বাঘের যে দশা হয়, তাহার সম্বন্ধে আমার সেইরূপ দশা হইল”।
.
 অতঃপর আঁখিদ্বয় বদ্ধ করিয়া তাহার মুখোমুখি বসিয়া দু’হাতে ঘোমটা সরাইয়া দিয়া তাহার চন্দ্রমুখপানে আমার অক্ষিবাণ নিক্ষেপ করিলুম। কিন্তু হায়! এ কি দেখিলুম আমি! এ কোন ললনা আমার সন্মুখে দণ্ডায়মান? আমার প্রেমপূজ্য দেবী পার্বতী কই? তাহার পরিবর্তে শ্বেতচর্ম প্রাণিটিকে কাহারা পশ্চিমা দেশ হইতে আমদানি করিয়া আনিল? ইহাকে চাইনিজ, মঙ্গোল কিংবা জাপানি বলিলেও বিভ্রম ঘটিবে নাহ্! ইহাকে তো আমি কোনোদিনও প্রণয় নিবেদন করি নাই! আমার সেই দুধে-আলতা কৃষ্ণবরণ সুচয়িনী কই?
.
 অবস্থা এমনই বেগতিক হইল যে ক্রমশ অস্বাভাবিক হইয়া পড়িলুম। দু&#039;হস্তের তালু মুষ্ঠিবদ্ধ করিয়া বেঘোরে চক্ষুদ্বয় ঘর্ষণ করিতে লাগিলুম। তারপর ফের রক্তবর্ণ চক্ষু বড় করিয়া আমার কাক্সিক্ষত ললনার সন্ধান করিলুম। কিন্তু নাহ্; কোনোমতেই তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া গেল নাহ্। পাগলপ্রায় আমি জ্ঞান হারাইবার পূূর্বে শুধু এই বলিয়া চিৎকার করিয়া উঠিলুম, ‘কন্যার বাপ আমার সহিত প্রপঞ্চ করিয়াছে...’।
.

যখন জ্ঞান ফিরিল, আপনাকে পারিবারিক ডাক্তার কাকুর হেফাজতে আবিষ্কার করিলুম। আরও দেখিলুম, মাতামহাশয়া আপনার কোলে পুত্রের মস্তক রাখিয়া তাহাতে করুণ মমতায় হস্ত বুলাইতেছে আর আঁখিনদে আপনার বুক ভাসাইতেছে। ভগ্নি আপনার নিরলস প্রচেষ্ঠায় ভ্রাতার মাথায় পানি ঢালিতেছে। আর আমার পদযুগল কোলে জড়াইয়া সেই নববধুটি কাঁদিয়া বুক ভাসাইতেছে। দেয়াল ক্লকে তখন ভোর চারটা বাজিতে মিনিট কয়েক বাকি! চতুর্দিকে একবার মস্তকাবর্তন করিয়া আমি আপনার পত্নীখোঁজে বিভোর। আকস্মাৎ বধুসাজে বালিকা এবার ডুকরাইয়া কাঁদিয়া উঠিল। ক্রন্দনের বেগ এমনই বেগতিক ঠেকিল যে, আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া গেলুম। ক্রন্দনের প্রলাপে তাহার কোনো ভাষ্যই বুঝিতে না পারিলেও ইহা ঠিকই কর্ণগোচর হইল যে, করুণ অভিমানে সে বলিয়া উঠিল, “ফুলশয্যার রাত্রিতেই যখন স্বামীধন আপনার পত্নীকে চিনিতে পারিল না, তখন ইহার চাইতে বড় পরিতাপের কি-বা আছে...”?
.

ইহা শুনিয়া আমার মাথা ঘুরিয়া উঠিল! এই পশ্চিমাদেশীয় শ্বেতচর্ম ললনা কি বলিতেছে? বিছানা ছাড়িয়া বারেক তাহার মুখোমুখি বসিলুম। দক্ষিণ হস্তে টর্চলাইট ধরিয়া তাহার আলো নববধুর মুখমণ্ডলে নিক্ষেপ করিয়া টানা পনের মিনিট তাহাকে নিরীক্ষণ করিলুম। কি আশ্চর্য! আঁখিজলের প্রভাবে কপোলদ্বয়ের উপরিভাগ হইতে ময়দাসম গাঢ় মেকআপের প্রলেপে ধস্ নামিতে আরম্ভ করিয়াছে - নদীভাঙ্গনের প্রভাবে স্থলের মৃত্তিকা যেইরূপে নদীগর্ভে বিলীন হয় - সেইরূপে! যাহার ফলে আমার প্রকৃত প্রেমিকার সত্যিকারের মুখাবয়ব কিঞ্চিত দৃশ্যমান হইয়াছে - কালোমেঘের আস্তরণের অন্তরাল হইতে রুপালি চাঁদের অংশবিশেষ যেমনি করিয়া মর্ত্যবাসীর দৃষ্টিগোচর হয় - তেমনিভাবে। আমি বড় অবাক হইলুম! তবে কি ইহাই আমার সুচয়িনী? বড্ড উৎসুক হইয়া তাহাকে আরও গভীরভাবে নিরীক্ষণ করিতে লাগিলুম। ব্যগ্রভাবে শেরওয়ানীর আঁচল অঙ্গুলির মস্তকে পেঁচাইয়া তাহাতে কিঞ্চিৎ থু-থু লেপিয়া তাহা দিয়া নববধুটির মুখমণ্ডলে বারকয়েক সজোরে ঘর্ষণ করিতে লাগিলুম - সিরিজ কাগজের মারফতে ইটের দেয়াল হইতে যেরুপে শ্যাওলার আস্তরণ জব্দ করে - সেই রূপে। মুহূর্তেই বুঝিলুম, আড়ম্বর জবরজং কড়া মেকআপের প্রলেপে তাহার প্রকৃত সৌন্দর্য ও কায়াকে লুকাইয়া রাখিবার চাতুরী করা হইয়াছে। মনে ভাবিলুম, স্নো-পাউডার নামক মেকআপ আর বিউটি পার্লারেরা আজকাল বালকদিগের সহিত চাতুরী করিবার নিমিত্তে কতই না কূটকৌশল রচনা করিতেছে। মুখে বলিলুম, ‘বউ...’
অমনি সে আমাকে জাপটে ধরিয়া ফের ডুকরাইয়া কাঁদিয়া উঠিল...
.

এমন সময় মশা মহাশয়ের অতর্কিত আক্রমণে আমার নিদ্রাভগ্ন ঘটিল। জাগিয়া উঠিয়া আপনাকে বিছানার এক কোণে আবিষ্কার করিলুম। ব্যাপক অনুসন্ধানের পরও আমার প্রণয়পত্নী, সেই ফুলশয্যার বিছানা খুঁজিয়া পাইলুম না। বিছানা ছাড়িয়া উঠানে আসিয়া দাঁড়াইলুম। বেলা তখন গোধূলিপ্রায়। দূর গগনে পক্ষীসকল নীড়ে ফিরিতেছে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/15550/</link>
				<pubDate>Mon, 21 Jun 2021 03:58:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মেকআপ বিভ্রাট (রম্যগল্প)<br />
.</p>
<p>বাদ জুম্মা আহারাদির পর মোহনিদ্রার জগতে অবস্থান করিতেছিলুম। পথিমধ্যে দৈবাৎ স্বপ্নঘোরে যাহা দেখিলুম, তাহা রীতিমত অবিশ্বাস্য!<br />
.</p>
<p>স্বপ্নে যাহা দেখিলুম&#8211;<br />
আমার পরম প্রেমপূজ্য বালিকার সহিত আমি শুভ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধপ্রায়। ভালোবাসার ললনাকে জীবনতক চিরস্থায়ীভাবে অধিকার করিতে যাইতেছি &#8211; অনুভূতি বেগতিক উত্তেজনাপূর্ণ। ক্ষণিক পরেই প্রণ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-15550"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/15550/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>