<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Abu Taher Abdullah | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/abutaher/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/abutaher/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Abu Taher Abdullah.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 08 Jun 2026 09:28:47 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">4ebbe778a77310a70b78487f07988c10</guid>
				<title>জরা ও জীবন 
-----------------------------------------------
জরাকে জয় করার চেষ্টা আমাদের সার্বজনীন। ক্ষণজন্মা এই মনুষ্য জীবন নিয়ে আমাদের কত স্বপ্ন। ক্ষণজন্মাই বলবো কারণ আমাদের এই পৃথিবীর লক্ষ কোটি বছরের সাথে তুলনা করলে, মানুষের ৬০, ৭০ অথবা ৮০ বছরের জীবনকাল কিছুই নয়। মানুষের ইতিহাস আর কয় দিনের। এই পৃথিবীর জন্ম লগ্নের কথা চিন্তা করলে মনে হবে এইতো সেদিন গুহাবাসী আদিম মানুষের আবির্ভাব ঘটেছিল। প্রকৃতি-বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের গবেষণা এবং যুক্তি-তর্কের বাস্তবতা মেনে নিয়ে যদি কল্পনার রাশ ছেড়ে দেয়া যায় তবে মনুষ্য সমাজের ধারাবাহিক এবং পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনটা উপলব্ধি করা কঠিন কিছু নয়। অবশ্য সুদূর সেই অতীতকে জানার ক্ষেত্রে আর আপনার কল্পনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার  জন্য গবেষকদের বহু প্রামানিক এবং দালিলিক বইপত্র আপনাকে সাহায্য করবে। বাকি সবটাই কিন্তু আপনার কল্পনা। অতীতে আমাদের সেই পূর্বপুরুষ পিথিকানথ্রপাস বা নিয়ান্ডারথালদের কাল্পনিক রূপ আমাদেরকে রোমাঞ্চিত করতে পারে, তবে অতটুকুই অর্থাৎ প্রকৃতির ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের কিছু জ্ঞান বৃদ্ধি হল, যদিও আমাদের সমাজে এ নিয়ে বহু বিতর্ক। আমাদের নিজেদের পেরিয়ে আসা অতীত নিয়েও কিন্তু আমরা তেমন খুব বেশি চিন্তিত হই না। অতীত রোমন্থন করা যদিও অনেকের অভ্যাস এবং বিলাসিতা তবুও তাদের এবং আমাদের সকলের জীবনই হচ্ছে বাস্তবতা কেন্দ্রিক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মগ্ন। বর্তমান সময়টা যেমনই কাটুক না কেন, আগামীকালটা যেন সুন্দর হয় ফলপ্রসু হয় সেটা আমাদের সবারই কাম্য। অর্থাৎ এক্ষেত্রে পৃথিবীতে মানুষ কেমন করে আসলো, কিভাবে সভ্য হলো, পৃথিবীর অবস্থা কিভাবে পরিবর্তিত হলো এই বিষয়গুলি একেবারেই গৌণ। আমাদের শারীরিক সুস্থতা এবং কর্ম ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য, ভবিষ্যৎ জীবনের পরিকল্পনা, দীর্ঘকাল সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকা, নিজেকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা, এই বিষয়গুলিই আমাদের চিন্তাধারাকে সর্বক্ষণ অথবা বেশিরভাগ সময় প্রভাবিত করে রাখে। নিজেকে আরও আকর্ষণীয়  ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার সুপ্ত বাসনা নারী পুরুষ সকলের মধ্যেই কমবেশি সক্রিয়। এই ক্ষেত্রে শুরুতেই যেটা বলেছিলাম, জরাই হচ্ছে এর প্রধান বাধা। কালের আবর্তে আমাদের বয়স বাড়বে, শরীরে নানা রকম পরিবর্তন দেখা দেবে, মানুষ এবং অন্যান্য যে কোন জীবন্ত প্রাণীর জন্য এটাই প্রকৃতির নিয়ম। মানুষ অর্থাৎ আমরা কিন্তু এতে সন্তুষ্ট নই। প্রাকৃতিক এই নিয়মকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য আমাদের কতইনা চেষ্টা। কালো চামড়া ফর্সা করার জন্য বা বার্ধক্য জনিত কুঁচকানো চামড়া মসৃণ করতে, সাদা চুল কালো করার জন্য অথবা দাঁতের গঠন সুন্দর করার জন্য অথবা দৃষ্টিশক্তিকে আরো শক্তিশালী করার জন্য অর্থাৎ নিজের অভিব্যক্তি এবং উপস্থাপনাকে আরো আকর্ষণীয় আর গ্রহণযোগ্য করার জন্য কত কৃত্রিম উপায়ই না আমরা অবলম্বন করি, আবরণ এবং আভরনের কথা না হয় বাদই দিলাম। মানুষের এই আত্মসাচেতনতা অতীতে যেমন ছিল এখনো তেমনি আছে এবং ভবিষ্যতেও হয়তো এমনই থাকবে। অবশ্য সমাজে সম্মানিত হতে, নিজেকে একজন আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে কার না ইচ্ছে হয়। প্রশ্ন জাগে এটাই কি তাহলে জীবনের সার্থকতা? তবে যাই হোক না কেন, সবার এটা মনে রাখা উচিত যে, একটা ছোট্ট সত্য হচ্ছে মানুষকে এ পৃথিবী থেকে একদিন বিদায় নিতেই হবে। যেটা আমরা বেশিরভাগ সময় ভুলে থাকার চেষ্টা করি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/212775/</link>
				<pubDate>Sat, 20 Apr 2024 16:19:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জরা ও জীবন<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
জরাকে জয় করার চেষ্টা আমাদের সার্বজনীন। ক্ষণজন্মা এই মনুষ্য জীবন নিয়ে আমাদের কত স্বপ্ন। ক্ষণজন্মাই বলবো কারণ আমাদের এই পৃথিবীর লক্ষ কোটি বছরের সাথে তুলনা করলে, মানুষের ৬০, ৭০ অথবা ৮০ বছরের জীবনকাল কিছুই নয়। মানুষের ইতিহাস আর কয় দিনের। এই পৃথিবীর জন্ম লগ্নের কথা চিন্তা করলে মনে হবে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-212775"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/212775/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b7fc7d758236767b070271728edf7fde</guid>
				<title>স্মৃতিময় সেই সব দিনগুলো 
---------------------------------------------------
ঘেরা জাল দিয়ে মাছ ধরা দেখা আমার জীবনে এই প্রথম। ব্যাপারটা যে এমন আড়ম্বরপূর্ণ তা না দেখলে বোঝানো যাবে না। আমাদের গ্রামের বাড়ির পুকুরটা বেশ বড়, প্রায় দু বিঘা জমি নিয়ে সেটাকে একটা দিঘীই বলা যায়। আমার বড় চাচা গ্রামের প্রায় ৬/৭ জন জেলেকে এই কাজে বহাল করেছেন। ভোরবেলাতেই তারা তাদের বিশাল জাল নিয়ে এসে হাজির। এখানে বলে রাখি আমাদের পুকুরটা বিভিন্ন রকম মাছে ভর্তি। কিছুদিন আগেই আমার বড় ভাই ছিপ দিয়ে মাত্র ঘন্টাখানেকের মধ্যে প্রায় ১৫-১৬ টা বাইন মাছ ধরে ফেলেছিল। আমিও বেশ কয়েকবার হাত ছিপ দিয়ে রুই মাছের পোনা ধরেছি এই পুকুরে। নভেম্বরের শেষে বেশ ভালই শীত পড়ে গেছে। জেলেরা এসে প্রথমেই পুকুরের ধারে বসে হুঁকো ধরিয়ে ধূমপান করতে বসে পড়ল। পুকুরের চারপাশ ঘিরে বড় বড় গাছ। বেশিরভাগই নানা জাতের আমগাছ। পুকুরের উত্তর কোনায় বেশ বড় একটা বাঁশ ঝাড়। তার পাশেই বিশাল একটা চালতা গাছ। এছাড়াও কত যে ছোট বড় গাছ আর ঝোপঝাড় তার লেখাজোখা নাই। বেশ অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিল মাছ ধরা দেখতে। তার মধ্যে আমার বন্ধুদেরও দুই একজনকে দেখলাম। একজন তো ঝোপের পাশে উবু হয়ে বসে সিগারেট ধরালো। কেমন একটু অবাক লাগলো, তার তো এখানে আসার কথা না, সে কিভাবে এলো? তখন অবশ্য এত কিছু চিন্তা করার সময় নেই জেলেরা তখন পানিতে নেমে পড়েছে।

পুকুরের ধারে ধারে কোথাও কোমর পানি কোথাও গলা পানিতে নেমে ধীরে ধীরে জালটাকে পুকুরের চারধার দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। এরপরই দেখতে পাওয়া গেল নয়নাভিরাম এক দৃশ্য। পুকুরজুড়ে শুরু হল নানা জাতের ছোট-বড় নানান মাছের ঝাঁপাঝাপি। সে এক দেখার মতন দৃশ্য। কখনো একটা, কখনো দুটো কখনো বা তিন-চারটা মাছ একসাথে লাফিয়ে উঠছে আবার ঝপাং করে পানিতে পড়ছে। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের আবছা আলোতেই তাদের রূপালি আঁশ ঝিকমিকিয়ে উঠছে। বাঁধানো পুকুর ঘাটটা বেশ বড়, ঘাটের ওপরে দুই পাশে পোশাক বদলানোর জন্য দুটো ছোট ছোট ঘর আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা মাছ ধরা দেখছিলাম। বড়দের নিষেধ ধমক ভুলে ছোটরা আনন্দে চিৎকার চেঁচামেচি সাথে সাথে লাফাতে শুরু করলো এবং সাথে সাথে আমিও। অবাক হয়ে দেখলাম মাছগুলো আস্তে আস্তে যেন আরো বড় হয়ে উঠছে। একেকটা দশসেরি পনেরসেরি মাছ লাফিয়ে উঠে আবার পানিতে পড়ার সময় পানি ছিটিয়ে আমাদেরকে ভিজিয়ে দিতে লাগলো। মনে হল পুকুরটা যেন আরো বড় হয়ে গেছে। অন্য পারে দাড়ানো মানুষগুলোকে আর চেনাই যাচ্ছে না। চারদিকে কেমন কুয়াশা কুয়াশা ভাব। আরেকটা প্রকাণ্ড দৈত্যাকার মাছ লাফিয়ে উঠে ঝপাং করে পানিতে পড়ার সময় এত জোরে পানির ছিটালো যে আমার কাপড় চোপড় সব ভিজে গেল।

গায়ে মাথায় পানির ঝাপটা লাগাতে ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসলাম। কোথায় আছি বুঝতে বেশ অনেকক্ষণ সময় লাগলো। আমি স্বপ্ন দেখছিলাম। আশ্চর্য, এতো স্পষ্ট স্বপ্ন! আর কি দেখলাম! বহু বছর আগে ছেলেবেলায় দেশের বাড়ির পুকুরে ঘেরা জালে মাছ ধরা দেখার স্মৃতি এত বছর পর এতো স্পষ্ট হয়ে ফিরে এলো! বাইরে বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হওয়া বইছে। মাথার কাছে জানলাটা খোলা থাকায় বৃষ্টির ছাঁটে কাপড়চোপড় সত্যিই ভিজে যাচ্ছিল। তাড়াতাড়ি জানলাটা বন্ধ করে দিলাম।

বেশ অনেক বছর পর গ্রামের বাড়িতে এসেছি। বাড়িতে শুধুমাত্র এক চাচা ছাড়া আর কেউই থাকে না। চাচি বেশ কয়েক বছর হল মারা গেছেন এবং তাঁদের কোন ছেলে মেয়ে নেই। চাচার বয়সও আশি পেরিয়েছে। উনিও অসুস্থ, প্রায় চলতশক্তিহীন বলা যায়। উনিই এতদিন আমাদের গ্রামের বাড়ির দেখাশোনা করে এসেছেন। বিশাল জায়গা নিয়ে বাড়ি। চারদিকে চারটে বড় বড় ঘর, বাড়ির উত্তর পাশে পেছনদিকে সেই বিরাট পুকুর। পুকুরের পাশে উত্তরের বড় ঘরটাতেই চাচা থাকেন। এছাড়া বাকি অন্যান্য ঘর গুলি সারা বছর খালি পড়ে থাকে। দক্ষিণে বারান্দা ওয়ালা  ঘরটাকে এক সময় বৈঠকখানা বলা হতো। এখন বলা হয় বারবাড়ি। প্রায় ৩০/৩৫ ফিট লম্বা এবং কুড়ি ফিটের মতন চওড়া চারদিকে কাঠের দেয়াল আর উপরের টিনের ছাউনি দেয়া এই ঘরটাই আমার সবচেয়ে পছন্দের। গ্রামে আসলে সব সময় আমি এই ঘরটাতেই থাকতে চেষ্টা করি। ছোটবেলায় দেখতাম এই ঘরে অতিথিদের বসার জন্য কালো বার্নিশ করা সুদৃশ্য চেয়ার টেবিল, মেহগনি কাঠের বড় বইয়ের আলমারি, দেয়ালে বংশের সফল পুরুষদের বাঁধানো ছবি ঝুলছে। এখনো অবশ্য সেই আভিজাত্যের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। ঘরের একপাশে বনেদিয়ানার শেষ চিহ্ন, একটা বড় খাট বা পালঙ্ক, একটা বড় টেবিল যার একটা পায়া ভাঙ্গা বলে দেয়ালে ঠেস দিয়ে রাখা, আর একটা হাতল ভাঙ্গা চেয়ার। বহু বছরের অযত্নে সবই ধূলি ধূসর। দেয়ালের কাঠগুলোর নিচের অংশ জাগায় জাগায় এমন ভাবে খেয়ে গিয়েছে যে সেই ফাঁক দিয়ে অনায়াসে কুকুর বেড়াল যে কোন কিছু ঘরে ঢুকে পড়তে পারে। আমাকে অবশ্য এই ঘরে থাকতে অনেকবার নিষেধ করা হয়েছে। কারণ বাড়ির সামনে আগাছার জঙ্গলটার মধ্যে শেয়ালের আনাগোনা আমি নিজেই দেখেছি।  আর প্রহরে প্রহরে তাদের কোরাস তো রীতিমতো ভয় ধরিয়ে দেয়।  ঘরের সামনে এ মাথা থেকে ওমাথা পর্যন্ত লম্বা বারান্দা। বারান্দা পেরিয়ে সামনের খোলা জায়গাটায় এক সময় বাগান মতো ছিল, এখন শুধুই আগাছার জঙ্গল। আরো আট দশ গজ সামনে গিয়ে বাড়ির সীমানা শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপরের বেশ চওড়া একটা খাল। খালটা একেবেঁকে মাইল দেড়েক গিয়ে মেঘনা নদীর সাথে মিশেছে। এখানেই গ্রামের লঞ্চঘাট এবং বাজার। একসময় বর্ষার মরশুমে এই খালটাই ছিল যাতায়াতের মূল মাধ্যম। 

১৫-১৬ বছর আগেও এবং তারও আগে যখনি গ্রামে এসেছি তখন এই খালে নৌকা নিয়ে অনেক ঘুরেছি। চাচাতো ফুফাতো ভাই-বোনদের সাথে নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানো, দক্ষিণের ঘরের বারান্দায় রাত জেগে আড্ডা দেয়া আর তার জন্য চাচার বকুনি খাওয়া মনে হয় এইতো সেদিন এর কথা। তখন বাড়িটাতে কত মানুষের আনাগোনা ছিল আর এখন পুরো বাড়িটা নিস্তব্ধ নিঝুম হয়ে পড়ে আছে, যেন প্রাণ নেই। কমিয়ে রাখা হারিকেনের আবছা আলোয় বিছানায় বসে বসে স্বপ্নটার কথা ভাবতে লাগলাম। কি অদ্ভুত স্বপ্ন। ছেলেবেলায় সত্যিই একবার এই ঘেরা জাল দিয়ে মাছ ধরা দেখেছিলাম। সেই একবারই। দাদি তখনো বেঁচে। চাচা,ফুফু এবং চাচাতো-ফুফাতো ভাই-বোনদের আনাগোনায় বাড়িটা তখন সবসময় সরগরম থাকতো। বেলায় বেলায় ১৫-২০ জনের জন্য রান্না হতো। আর এখন মানুষ বলতে অসুস্থ চাচা এবং তাকে দেখাশোনার জন্য একজন লোক তার পরিবার নিয়ে এক পাশে থাকে। চাচা না থাকলে হয়তো আর কেউই এই বাড়িতে থাকবে না। চাচাতো ফুফাতো ভাই বোনদের কারোরই বাড়ির জন্য তেমন টান নেই। কেউ এলেও কোনোমতে এক দুদিন থেকেই পালিয়ে যায়। সংস্কারের অভাবে এখনই বাড়ির চালা, কড়িকাঠ, জানালা দরজা, আসবাবপত্র সবই ভেঙে পড়ছে। পুকুরের সেই শান বাঁধানো ঘাট টার অবস্থাও শোচনীয়। আর কয়েক বছর পরই হয়তো বাড়িটা ভুতুড়ে বাড়ির রূপ নিবে। আমার কিন্তু এই ভাঙাচোরা দক্ষিণের ঘরটায় থাকতে এখনো ভালো লাগে। শুয়ে শুয়ে অতীত দিনের কথা ভাবি। মনে মনে ভাবতে ভালো লাগে সংসার আর কাজকর্মের চিন্তা না থাকলে হয়তো এখানেই থেকে যেতাম। আমাদের বাপ চাচারা কিন্তু এই গ্রামের স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তীতে তারা সকলেই শহর মুখী হয়ে গ্রামকে ত্যাগ করেছেন বলতে গেলে। কেউ হয়েছেন কলেজের অধ্যাপক কেউ সাংবাদিক এবং দুজন ডাক্তারও আছেন আমাদের ফুফুর পরিবারে। আমার বাবা এবং আরেক চাচা যোগ দিলেন রেলওয়ের চাকরিতে। শুধু এক চাচা যিনি গ্রামের একটা স্কুলে মাস্টারি করতেন, তিনি এবং তার স্ত্রী রয়ে গেলেন বাড়ীর দায়িত্ব নিয়ে। দাদি মারা যাওয়ার পর চাচা-ফুফুদের বাড়ির সাথে যোগাযোগ আরো কমে গেল। তারপর থেকেই হয়তো অবক্ষয়ের শুরু, চাচা অসুস্থ হওয়ার পর যা আরো প্রকট হয়েছে।

বাইরে বৃষ্টি ধরে এসেছে। বাতাসের সঙ্গে সঙ্গে টিনের চালের সাথে আম গাছের ডালের ঘষাঘষির একঘেয়ে শব্দটাও থেমে গেছে। জানালাটা খুলে দেখলাম বাইরে ভোরের আবছা আলো ফুটে উঠেছে। দরজা খুলে বারান্দায় এসে বেঞ্চিটায় বসলাম। একটা সরু কাঠের বেঞ্চি সবসময় বারান্দায় থাকে। সামনের জঙ্গলে খচমচ শব্দ, নির্ঘাত শেয়াল। অবশ্য ভয়ের কিছু নেই মানুষ দেখলে ওরা সামনে আসে না। কিন্তু ভয়টা এলো অন্য দিক থেকে। এতক্ষণ একেবারেই খেয়াল করিনি, হঠাৎ দেখি বারান্দার প্রান্ত থেকে থেকে একটা লোক উঠে দাঁড়ালো। সূর্য উঠার এখনো অনেক দেরি। এই সময় অন্ধকারাচ্ছন্ন বারান্দার এক কোণে কারো উপস্থিতি আমি কল্পনাই করতে পারিনি। আমি এমন কোন সাহসী লোক নই। নিস্তব্ধ বাড়ির এই অন্ধকার বারান্দায় একজন লোকটাকে উঠে দাঁড়াতে দেখে ভীষণ চমকে উঠলাম। আমার ঘাড়ের লোম সরসর করে দাঁড়িয়ে গেল। অন্ধকারে লোকটার চেহারা দেখা যাচ্ছিল না। কি বলবো বা করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। একটু এগিয়ে এসে লোকটাই বলল &quot;খালে বরশি বানছিলাম ভাইসাব, মাছ পড়ছেনি দেহি গিয়া&quot;। একটু হেসে আবার বলল &quot; আফনে আইবেন নি ভাইসাব?&quot; আশ্বস্ত হোতে বেশ খানিকটা সময় নিলাম, বললাম &quot;চলো যাই দেখি তোমার মাছ&quot;।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/212759/</link>
				<pubDate>Sat, 20 Apr 2024 09:05:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্মৃতিময় সেই সব দিনগুলো<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;<br />
ঘেরা জাল দিয়ে মাছ ধরা দেখা আমার জীবনে এই প্রথম। ব্যাপারটা যে এমন আড়ম্বরপূর্ণ তা না দেখলে বোঝানো যাবে না। আমাদের গ্রামের বাড়ির পুকুরটা বেশ বড়, প্রায় দু বিঘা জমি নিয়ে সেটাকে একটা দিঘীই বলা যায়। আমার বড় চাচা গ্রামের প্রায় ৬/৭ জন জেলেকে এই কাজে বহাল করেছেন। ভ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-212759"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/212759/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9b10d13c088166f7c197ae99e8d35a7e</guid>
				<title>চিন্তার মৃত্যু
---------------------------------------------------------
আমাদের সবার জীবনেই এমন কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যা অলৌকিক না হলেও অদ্ভুত তো বটেই, চিন্তা করেও যার কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। তখন চিন্তা করাটাও অর্থহীন বলে প্রতীয়মান হয়। অবশ্য অর্থহীন না বলে নিরর্থক বলাই ভালো। 

সেদিন রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে কোথাও যাচ্ছিলাম। কোন রাস্তা আর যাচ্ছিলামই বা কোথায় সেটা ঠিক বলতে পারবো না। কেন বলতে পারব না সেটা পরে বলছি। পকেটের মোবাইল ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠল। ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে একটা কান্না ভেজা নারী কন্ঠ শুনতে পেলাম। মহিলা পরিচয় দিলেন তিনি আমার এক বন্ধুর স্ত্রী। জানালেন আমার সেই বন্ধুটি হঠাৎ মারা গেছে। আমি জানতাম আমার সেই বন্ধুটি লন্ডন প্রবাসী। অর্থাৎ খুব সম্ভব মহিলাটি লন্ডন থেকে আমাকে ফোন করেছে। কলেজ জীবনের আমার সেই বন্ধুটির সাথে আমার তেমন কোন ঘনিষ্ঠতা বা যোগাযোগ ছিল না কখনোই। অনেক বছর আগে হঠাৎ একদিন ঢাকার উত্তরায় তার সাথে দেখা এবং কথা হয়, তখন জানতে পারি যে সে পরিবারের সাথে লন্ডনে থাকে। সে সময় আমার ঘনিষ্ঠ আরেকজন কলেজ  জীবনের বন্ধুর অকাল মৃত্যু নিয়ে তার সাথে কথা হয়েছিল। আমরা দুজনেই তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ এবং দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম। কি আশ্চর্য আমার সেই স্বল্প পরিচিত লন্ডন প্রবাসী বন্ধুটিও মারা গেল? আর তার স্ত্রী যাকে কিনা আমি আদৌ চিনি না সে আমাকে ফোন করে এই মৃত্যু সংবাদ দিল? মহিলা আরও আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল কোন সূত্রে তার স্বামীর সাথে আমার বন্ধুত্ব। ব্যাপারটা চিন্তা করে দেখেন, কলেজ জীবনের আমার সেই বন্ধুটির সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই, তার স্ত্রীকেও আমি চিনি না, সে কেন বিশেষ করে আমাকেই ফোন করে এই মৃত্যু সংবাদ দিবে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হল আমি কিন্তু ঘটনাটা বেশ স্বাভাবিকভাবেই নিলাম। মহিলার সাথে আমার কথোপকথনটা নৈমিত্তিক ঘটনার মতনই মনে হচ্ছিল। বিষয়টা নিয়ে যখন ভাবছিলাম তখন কানে এলো মৃদু বাজনার শব্দ। প্রথমে বুঝতে পারিনি। পরে বুঝতে পারলাম যে সেটা মোবাইলের অ্যালার্মের শব্দ, আর স্বপ্ন ভেঙ্গে ঘুম থেকে জেগে উঠলাম। 

হ্যাঁ, পুরো ব্যাপারটাই ছিল স্বপ্ন! কোন কারণ ছাড়াই এমন অদ্ভুত একটা স্বপ্ন কেন দেখলাম সেটা কিছুতেই মাথায় আসলো না। অনেক কথাই মনে আসছিল। লন্ডনে আমার আরো দুই একজন বন্ধু আছে, আমার এক বোনই বহু বছর ধরে লন্ডন প্রবাসী। একবার ভাবলাম তাদের কাছ থেকে কোন খবর নিব কিনা। পরে চিন্তা করে দেখলাম যে ব্যাপারটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যাবে। হয়তো সে মারা গেছে অথবা যায়নি, এটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন অর্থ খুঁজে পেলাম না। চিন্তা কিন্তু থেমে থাকল না, অবচেতন মনে সে ঘটনার কার্যকারণ বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করতেই থাকলো। ভেবে দেখলে মানুষের জীবনটা সত্যি বড় অদ্ভুত। আমার সেই প্রয়াত ঘনিষ্ঠ বন্ধুটির কথাও নতুন করে আবার ভাবতে থাকলাম, মধ্য তিরিশেই যে আমাদের ছেড়ে আকস্মিকভাবে চলে গেল। স্কুল জীবনেও ক্লাস এইটে পড়ার সময় এক সহপাঠী বন্ধুর মৃত্যু দেখতে হয়েছিল। পরিবারের সাথে বেড়াতে গিয়ে সে কাপ্তাই লেকে ডুবে যায়। পৃথিবীতে মানুষের আসা-যাওয়া অর্থাৎ জন্ম মৃত্যু সম্পর্কে তখন থেকেই আমার এই অর্থহীন চিন্তাভাবনা, যে চিন্তার কোন শেষ নেই। অবশ্য অর্থহীন না বলে নিরর্থক বলাই ভালো, যেহেতু এর কোন কারণ জানা নেই। এইরকম কতশত বিয়োগান্ত ঘটনা প্রতিদিন ঘটে চলেছে। আমার এই পঞ্চাশোর্ধ জীবনেই নিজেদের পরিবারের কতজনকে চলে যেতে দেখলাম। 

কত লক্ষ কোটি মানুষ এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করছে, কিছু মানুষের সাথে কিছু মানুষের পরিচয় ঘটছে, ভাবের আদান প্রদান হচ্ছে, ঘনিষ্ঠতা হচ্ছে, নারী-পুরুষের মিলন এবং বংশবিস্তার ঘটছে,  আবার একটা সময় তারা সবাইকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। শুধু মানুষ কেন সমগ্র জীবজগৎ সম্পর্কেই এই চিন্তা খাটে। মানুষের মতন তারাও পৃথিবীতে আসছে, বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ করছে, বংশবিস্তারের জন্য বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষিত হচ্ছে। অবশ্য মানুষের সাথে অন্যান্য জীবের মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে যৌনাকাঙ্খার জন্য কাম তাড়িত হয়ে তারা যা ইচ্ছা তাই করছে না, যেটা মানুষ করে। ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা এ ব্যাপারে তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা হয়তো দেবেন, আমরাও তাদের সাথে সুর মিলিয়ে বলবো একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, আমাদের জন্ম ও মৃত্যুর জন্য তিনিই দায়ী। কিন্তু কেন? তার কোন সার্বজনীন ব্যাখ্যা কি কেউ দিতে পারবে? ইসলাম ধর্মের অনুসারী হওয়ায় আমরা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করি, বিশ্বাস করি তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা এবং পালনকর্তা। মানবতার শিক্ষা এবং সৎ জীবন যাপনের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আল্লাহ প্রেরিত যেসব নবী-রসূল এসেছেন তাঁদের উপরও বিশ্বাস রাখি। ইসলামী অনুশাসন মেনে জীবনকে পরিচালিত করতে হবে সেটাও বিশ্বাস করি। কিন্তু পৃথিবীর অধিকাংশ লোকইতো ইসলাম ধর্মের অনুসারী নয়। হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এবং আরো অন্যান্য ধর্মে জীবন দর্শন সম্পর্ক আছে ভিন্ন ভিন্ন মত। আবার সৃষ্টিকর্তার উপরই যাদের বিশ্বাস নেই তারা কি বলবে? এক পশ্চিমা গায়ক তার গানে বলেছেন If there&#039;s a God or any kind of justice under the sky. If there&#039;s a point, if there&#039;s a reason to live or die. HIV আক্রান্ত সেই গায়ক এমন সময় এই গানটা লিখেছে যখন সে জানে কিছুদিন পরে তার মৃত্যু হবে।

আবার স্বপ্নের প্রসঙ্গে ফিরে আসি। স্বপ্ন কমবেশি সবাই দেখে। স্বপ্ন নিয়ে বিস্তর গবেষণাও হয়েছে। অনেকে বলেন পশুপাখিরাও নাকি দেখে, যদিও তার কোন যুক্তিযুক্ত কারণ বা ব্যাখ্যা তারা দিতে পারেন না। আমরা অর্থাৎ সাধারণ মানুষেরা স্বপ্ন ব্যাপারটাকে স্বাভাবিক বলেই  ধরে নেই, এর গভীরে যাওয়ার কোন চেষ্টাই করি না। আবার সেই একই কথা - ব্যাপারটা নিয়ে যখন পরিষ্কার ধারণা নেই তখন নিরর্থক গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করেই বা লাভ কি? যখন কোন খারাপ স্বপ্ন দেখি তখন মনে ভীতির সঞ্চার হয়, অশুভ কিছুর আশঙ্কায় মন কু-ডাকতে থাকে। তখন সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি বাস্তব জীবনে এমন বিপদের সম্মুখীন যেন হতে না হয়। আবার সুন্দর কোন স্বপ্ন দেখলে মনটা খুশি হয়ে ওঠে। আমার এক খালা ছিলেন যিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতেন। অনেকেই নাকি স্বপ্নকে ব্যাখ্যা করতে পারে, কিভাবে পারে, সেটাও একটা রহস্য। অনেকেই বলেন স্বপ্ন ব্যাপারটা হচ্ছে কোন ঘটনা বা চিন্তার উপর ভিত্তি করে সুপ্ত অবচেতন মনের দর্শন। কিন্তু আমি গতরাতে অত্যন্ত স্বাভাবিক বাস্তবধর্মী যে ঘটনাটা স্বপ্নে দেখলাম সেরকম কিছু তো আমি ঘুনাক্ষরেও কখনো চিন্তা করিনি। যার মৃত্যুর খবর আমাকে দেওয়া হলো তার বা তার পরিবারের সম্পর্কে কখনো কোনো চিন্তাই আমি করিনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বপ্নের ব্যাপারটা পরে আর ঠিকভাবে মনে আসে না, কি দেখেছি সেটা স্পষ্ট করে বলা যায় না। আবার কিছু ক্ষেত্রে স্বপ্নদ্রষ্টা স্পষ্টভাবেই তা মনে করতে পারে এবং অন্য কাউকে সেটা বলতেও পারে। স্কুলে নিচু ক্লাসে পড়ার সময় ভীতিকর একটা স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম যেটা আজ পর্যন্ত আমি ভুলিনি। আমার বাবার মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে কিছু স্বপ্ন দেখেছিলাম যেগুলো এখনো আমি স্পষ্ট ভাবে মনে করতে পারি। সেগুলোর কিছু গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাও মনে মনে চিন্তা করে দাঁড় করানো যায়। কিন্তু গতরাতে দেখা স্বপ্নটা যদিও খুব স্পষ্ট কিন্তু ব্যাপারটা সম্পূর্ণ অন্যরকম। এর কোন ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই। অবশ্য জগতের কতটুকুই বা আমরা জানি? কিছুই জানি না বলতে গেলে। আমাদের প্রয়াত সঙ্গীত শিল্পী নিনা হামিদের গাওয়া সেই গানটাই শেষমেশ সব চিন্তার শেষে কানে বাঁচতে থাকে। আইলাম আর গেলাম পাইলাম আর খাইলাম ভবে, দেখিলাম শুনিলাম কিছুই বুঝলাম না। 

আমাদের এই ক্ষুদ্র জীবনটা বোধ হয় এমনই, জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে হয়তো বলব দেখে গেলাম। শুধুই দেখে যাওয়া, কারণ সৃষ্ট জগতের এই রহস্য উপলব্ধি করার মতন শক্তি শুধু মানুষ কেন অন্য কোন প্রাণীরও আছে বলে আমার মনে হয় না। সৃষ্টিতত্ত্ব থেকে শুরু করে প্রাণের বিকাশ,  মানব সভ্যতার সৃষ্টি ও পরিবর্তন, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই ক্রমবর্ধমান পরিচলন, পরিবর্ধন, মহাকাশের অন্তহীন বিস্তার তার কতটুকুই বা আমরা উপলব্ধি করতে পারি? আমাদের জীবনটা আর কতটুকু? আমার মা বলতেন জীবনের শেষ প্রান্তে গিয়ে দেখবে যে ওই মৃত্যু মুহূর্তটাই হচ্ছে শুধুমাত্র তোমার বর্তমান। ফেলে আসা জগৎটাকে মনে হবে কয়েক মুহূর্তেরও নয়। আমার মা খুব শিক্ষিত কেউ ছিলেন না। কিন্তু তার এই কথাটা আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। মৃত্যুর পর কোথায় যেতে হবে তা কেউ জানে না। স্বর্গ-নরক বা বেহেশত-দোযখ সম্পর্কে একটা বিশ্বাস আমাদের সকলেরই আছে, কিন্তু সেটা যে বাস্তবিক কেমন সে সম্পর্কে কোন ধারণাই আমাদের নেই। লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মানুষ যে আসছে আবার চলে যাচ্ছে, শুধু মানুষ কেন, ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র অনুজীব থেকে শুরু করে বিশালাকৃতির ডাইনোসর বা তিমি মাছের মতন প্রাণী, তারাও তো এই ধরিত্রীকে ছুঁয়ে এক সময় হারিয়ে যাচ্ছে। তারা সবাই কোথায় যাচ্ছে এ কথা কি আমরা চিন্তা করি? অবশ্য একথা ঠিক যে যার যার মতন চিন্তা আমরা সবাই করি। কারণ চিন্তা এমন একটা জিনিস যেটা কখনো থেমে থাকে না, অবিশ্রান্ত ভাবে সেটা চলতেই থাকে। সেই চিন্তার পরিসমাপ্তি ঘটে আমাদের অবশ্যম্ভাবী বর্তমানে, অর্থাৎ আমাদের অন্তিম কালে। আমাদের সাথে সাথে আমাদের চিন্তাশক্তিও থেমে পড়ে হয়তোবা  চিরকালের জন্য। পার্থিব জীবনের পূর্ণচ্ছেদ ঘটে। চিন্তারও মৃত্যু হয় তখনই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/153722/</link>
				<pubDate>Thu, 29 Sep 2022 13:19:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চিন্তার মৃত্যু<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;<br />
আমাদের সবার জীবনেই এমন কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যা অলৌকিক না হলেও অদ্ভুত তো বটেই, চিন্তা করেও যার কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। তখন চিন্তা করাটাও অর্থহীন বলে প্রতীয়মান হয়। অবশ্য অর্থহীন না বলে নিরর্থক বলাই ভালো। </p>
<p>সেদিন রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে কোথাও যাচ্ছিলাম। কোন রাস্তা আর য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-153722"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/153722/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cbf6643d6ee06f67acde78e0841dd23e</guid>
				<title>সত্তরের দশকের টেলিভিশন
------------------------------------------------------------
টেলিভিশন যে একটা বিনোদনের মাধ্যম তা এখন আর বোঝাই যায় না। অন্তত আমাদের বাসাতে তো নয়ই। আমার টিভি দেখা বলতে শুধু নিউজ চ্যানেল গুলোতে চোখ বুলানো, তাও নিয়মিত নয়। মাঝেমধ্যে খেলা দেখা, অবশ্য যদি বাংলাদেশের খেলা হয়। স্ত্রী কিছু দিন আগেও মাঝে মধ্যে কোন কোন ভারতীয় সিরিয়াল বা সিনেমা দেখতেন। এখন তাকেও আর টিভির সামনে বসতে দেখা যায় না। আমার দুই ছেলে তারা তো টিভির ধারেই ঘেঁষে না। তাদের যা কিছু দেখার তা তারা দেখে হয় মোবাইলে নয়তো কম্পিউটার স্ক্রিনে। আমার স্ত্রীকে দেখি বেশ রাতে কানে হেডফোন গুঁজে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে আছে। কে জানে হয়তো মোবাইলেই তার পছন্দের সিরিয়াল দেখে। মুঠো ফোনের ক্ষমতা তো এখন প্রায় আলাদিনের চেরাগের মতন। দরকারি অদরকারি সবকিছুই প্রায় এখন আপনার হাতের মুঠোয়। নাটক সিনেমা তো তুচ্ছ, দৈত্যকে বলে দিলেন &#039;নিয়ে আয় অমুক জিনিস; তমুক খাবার...&#039;, আর সেটা হাজির হয়ে গেল আপনার দরজার সামনে। আলাদিনের চেরাগ না তো কি! আমি আর কি বলবো, আমারও বদভ্যাস হয়েছে রাত জেগে মোবাইলে হাবিজাবি দেখা। চারিদিকেই এখন স্মার্ট ফোনের জয়জয়কার। কার কত দামি ফোন তা নিয়ে চলে চাঁপা রেষারেষি। সব আনন্দ বিনোদনই এখন স্মার্টফোন নির্ভর। তাই শখ করে কেনা ৪৩ ইঞ্চির টিভিটা অনাদ্রিতই পড়ে থাকে এখন। দিনের পর দিন হয়তো বন্ধই পড়ে থাকলো। কাজের বুয়াকে মাঝে মাঝে দেখি ঝাড়ন দিয়ে টিভির উপর জমে থাকা ধুলো পরিষ্কার করছে। অথচ এমন একদিন ছিল যখন টিভিই ছিল সকলের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। ছোটদের তো কথাই নেই, বড়দেরও সন্ধ্যার পর টিভির সামনে বসাটা ছিল একরকম বাধ্যতামূলক। 

বলছি সত্তরের দশকের কথা, যখন টেলিভিশন নামক বস্তুটি ছিল সত্যিকার একটা বিনোদনের মাধ্যম। রঙিন টিভি নয় সাদাকালো। স্বাধীনতার পর সত্তরের দশকেই কোন এক সময় শুরু হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রচার। সেই সময় আমাদের পাড়ার খুব কম মানুষের বাড়িতেই টিভি ছিল। কিন্তু পাড়ায় একজনের সাথে আরেক জনের মেলামেশা এতটাই আন্তরিক ছিল যে অন্য বাসায় গিয়ে টিভি দেখাতে কোন সংকোচ ছিল না কারো। সেই সময় টিভির অনুষ্ঠান শুরু হতো সন্ধ্যার কিছু আগে থেকে আর রাত বারোটার পর টিভি বন্ধ। আমাদের ছোটদের প্রিয় ছিল কার্টুন শো আর ইংরেজি সিরিজগুলো। দ্য সেইন্ট, ডেঞ্জার ম্যান, হাওয়াই ফাইভ ও, অ্যাডভেঞ্চার ইন প্যারাডাইস, সবগুলোই ছিল আমাদের ভীষণ প্রিয় আর কোনটা কখন দেখাবে তা ছিল আমাদের সবার মুখস্ত। অনেকগুলি মজার কার্টুনও তখন দেখানো হতো আর আমরা ছোটরা ছিলাম তার একনিষ্ঠ ভক্ত। যদিও তখন অনেক ছোট, ইংরেজি বোঝার মতন বয়স ছিল না তবু ছবিগুলো দেখার পরে কার্টুন বা সিরিজগুলোর ঘটনা এবং চরিত্র নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা হতো বন্ধুদের সাথে। কেউ কেউ তো রীতিমতো অভিনয় করে দেখাতো কোনো কোনো কার্টুন চরিত্রের কথা এবং বীরত্ব-ব্যাঞ্জক অঙ্গভঙ্গি। অবশ্য বড়রা কেউ কোন সময় সে সব দেখে ফেললে তাদের ,বিশ্রী হাসাহাসি, টিটকিরি আর গা জ্বালানো কথা আমাদের সহ্য করতে হতো।

টেলিভিশনের আর দুটি আকর্ষণ ছিল বাংলা ছায়াছবি এবং নাটক। সপ্তাহে একদিন পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি দেখানো হতো টিভিতে আর একদিন, খুব সম্ভব রোববার হতো নাটক। সেদিন আর টিভির সামনে বসার জায়গা পাওয়া যেত না। পাড়ার সমস্ত লোক যেন হাপিত্যেশ করে থাকত সেই দিনটির জন্য। যাদের বাসায় টিভি ছিল না তারা সবাই এসে জমা হতো যাদের বাসায় টিভি আছে তাদের বসার বা শোবার ঘরে। এখন ভাবতে অবাক লাগে সেই সময় সবার বাসা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। খাট, চেয়ার, টুল, মোড়া, মেঝে যে যেখানে পারতো বসে পড়তো। ছোটরা সামনের দিকে আর বড়রা পেছনে। বাংলা সিনেমা দেখানোর দিনেই ভিড় হতো সবচেয়ে বেশি। রীতিমতো হাউসফুল। কেবল ঘরের ভেতরে নয়, টেলিভিশনের দিকে মুখ করা জানলা থাকলে সেখানেও অনেক দর্শক জমতো। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত বেশ কিছু ছবি সে সময় টেলিভিশনে প্রচারিত হতো। অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, ওরা এগারো জন, সংগ্রাম এই ধরনের ছবিগুলি দেখার জন্য আমাদের উৎসাহ ছিল বেশি।

আমাদের বাসায় প্রথম টিভি আসে ১৯৭৪ সনে। ঠিক আমাদের বাসায় নয়, আমার বড় মামার বাসায়। বাবা তখন বাংলাদেশ মিশনের হয়ে কলকাতায় বাংলাদেশ হাই কমিশনে কর্মরত ছিলেন। উনিই একবার দেশে আসার সময় কলকাতা থেকে টিভিটা নিয়ে এসেছিলেন। মামার বাসাটা একতলা আর বড় হওয়ায় এবং আশেপাশের সব বাড়ির প্রতিবেশীরাই যেন টিভি দেখা থেকে বঞ্চিত না হয় সেই কথা চিন্তা করে টিভিটা সেখানে একটা বড় ঘরে রাখা হলো। এমন ভাবে রাখা হলো যেন সেই ঘরের দুটো জানলা দিয়েও বাইরে থেকে অনেকে টেলিভিশন দেখতে পারে। 

১৯৭৫ এর মার্চ মাসে কোন এক সময়, আমি তখন ক্লাস ফোর এর ছাত্র, রাতে আমরা সবাই জড়ো হয়েছি টিভিতে বাংলা ছায়াছবি দেখতে। আরাম করে টিভি দেখার জন্য সেই ঘরটায় সোফার সাথে একটা বড় খাটও রাখা হয়েছিল। ছবিটা ছিল খুব সম্ভবত অরুনোদয়ের অগ্নিসাক্ষী। আমার ভাই বোনরা ছাড়াও দুই মামা-মামি, তাদের ছেলে মেয়ে এবং পাড়ার মামাতো খালাতো ভাই-বোন মিলিয়ে ঘরে তিল ধারণের স্থান নেই। আমরা ছোটরা বসে ছিলাম খাট ঘেঁষে মেঝেতে। খাট, সোফা আর মেঝেতে মিলিয়ে ঘরে প্রায় ৩০/৩২ জন দর্শক। ঘরের দুটো জানালাতেও অনেক নারী-পুরুষ বিশেষ করে বস্তিবাসী বেশ কিছু মহিলা বাইরে থেকে দেখছে। তারা তাদের সুবিধার জন্য সেখানে একটা চৌকি পেতে নিয়েছিল। সেই চৌকির উপর দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১০/১২ জন তো হবেই। বাইরে তখন মেঘ করেছে। বাতাস আর বিদ্যুৎ চমকানোর সাথে সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিও শুরু হয়েছে তখন। কিন্তু জানালার সব দর্শকের তাতে কোন ভ্রুক্ষেপ নাই। একাগ্র চিত্তে তারা দেশের মুক্তিযুদ্ধ দেখছে, যে যুদ্ধের স্বাদ তারা কিছুদিন আগেও হাঁড়ে হাঁড়ে টের পেয়েছিল। আমাদের সবার চোখও তখন টিভি স্ক্রিনের দিকে। গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা তখন পাক বাহিনীদের ঘাঁটি আক্রমণ করেছে, ভীষণ উত্তেজনা। এমন সময় হঠাৎ মুড়মুড় করে কিছু ভেঙে পড়ার শব্দ সাথে সাথে বিকট চিৎকার। ঘরের ভেতরেও অনেকে ভয় চিৎকার করে উঠলো। আমরা তখন আতঙ্কিত হয়ে সবাই উঠে দাঁড়িয়েছি। কি হলো হঠাৎ! এতদিন পরে কি আবার পাকবাহিনী আক্রমণ করলো নাকি!! ঘরের ভেতর থেকে কিছু বুঝতে পারছিলাম না। একটু পরেই শুনি ঘরের সবাই হেসেই কুটিকুটি। কি হয়েছে, না - বাইরের যে চৌকিটা ছিল সেটা ভেঙে পড়ে সবাই মাটিতে গড়াগড়ি। ওরা নিজেরাও খুব হাসাহাসি করছিল। কেউ খুব একটা ব্যথা পায়নি। অবশ্য সিনেমাটাও তাদের ভালো করে দেখা হলো না। যাই হোক সিনেমা দেখার আনন্দের সাথে এটা ছিল আমাদের ছোটদের জন্য উপরি পাওনা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/152194/</link>
				<pubDate>Mon, 26 Sep 2022 21:50:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সত্তরের দশকের টেলিভিশন<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;<br />
টেলিভিশন যে একটা বিনোদনের মাধ্যম তা এখন আর বোঝাই যায় না। অন্তত আমাদের বাসাতে তো নয়ই। আমার টিভি দেখা বলতে শুধু নিউজ চ্যানেল গুলোতে চোখ বুলানো, তাও নিয়মিত নয়। মাঝেমধ্যে খেলা দেখা, অবশ্য যদি বাংলাদেশের খেলা হয়। স্ত্রী কিছু দিন আগেও মাঝে মধ্যে কোন কোন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-152194"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/152194/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1327ebadfe7893462c7ae1c8273bfb81</guid>
				<title>দূর থেকে দেখা
-------------------------------------------
ছোট্ট ছেলেটা একা একাই মাঠে খেলছে। কতই বা হবে বয়স, বড়জোর ছয় কিংবা সাত। খালি গা পরনে একটা ছেঁড়া হাফপ্যান্ট। কিছুক্ষণ আগেও তার কয়েকজন সঙ্গী সাথীকে দেখা গিয়েছিল আশেপাশে। এখন ছেলেটা একাই। ঘড়িতে দেখলাম বাজে প্রায় একটার কাছাকাছি। ভাদ্রের মেঘ শূন্য আকাশে জ্বলন্ত সূর্য উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বাতাস নেই বললেই চলে। একটা গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে আমি ছেলেটাকে লক্ষ্য করছিলাম। লক্ষ্য করার কারণ ছিল ছেলেটার হাতে ধরা একটা জিনিস। 

জায়গাটা বনশ্রী ছাড়িয়ে নন্দীপাড়ার বেশ কিছুটা ভেতরে। যদিও আশেপাশে অনেক বাড়ি-ঘর উঠেছে, এই জায়গাটা এখনো অনেকটা ফাঁকাই রয়েছে। তবে বেশিদিন যে ফাঁকা থাকবেনা, জাগায় জাগায় ইট আর বালুর স্তুপ দেখে সেটাও বোঝা যায়। উঁচু নিচু পায়ে চলা পথ, ছাড়া ছাড়া কিছু টিনের বাড়ি আর কিছু কিছু খোলা জমি দেখে বোঝা যায় কিছু দিন আগেও এখানে চাষবাস হতো। আশেপাশে বেশকিছু ডোবাও চোখে পড়ে। ডোবার আশেপাশে ঝোপঝাড়, কলা গাছের ঝাড়, বড়ই আর আম গাছের ফাঁকে ফাঁকে চোখে পড়ে টিনের ছাউনি দেওয়া নিম্ন আয়ের মানুষদের বসতি। বাড়িগুলির পাশ দিয়ে পায়ে চলা পথ চলে গেছে আরও ভেতরে। ওই এলাকায় গিয়েছিলাম এক লোকের সাথে দেখা করতে। বাড়ি এবং রাস্তার কোন নাম বা নম্বর না থাকায় একে তাকে জিজ্ঞেস করে বহু কষ্টে বাড়ি খুঁজে পাওয়া গেল, তবে ভদ্রলোককে বাড়িতে পাওয়া গেল না। ভদ্রলোক জমির দালালি করেন, একটা জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার জন্যই তার কাছে আসা। টিনের ছাউনি দেওয়া জীর্ণ চেহারার বাড়ি। ভদ্রলোকের স্ত্রী বোধহয় রান্না করছিলেন, আমাকে ভেতরে এসে বসতে বললেন। ভেতরটা গুমোট আর অন্ধকার, তাই ভাবলাম ভেতরে বসার চেয়ে বাইরে দাঁড়িয়েই অপেক্ষা করি। বাড়ির সামনে বেশ অনেকটা খোলা জায়গা, বড় বড় বেশ কয়েকটা গাছও আছে। একটা ঝুপসি জাম গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরালাম। তখনই ছেলেটাকে চোখে পড়ল, আপন মনে মাঠে খেলে বেড়াচ্ছে। এই কাঠফাটা রোদেও তার কোনো অসুবিধা হচ্ছে বলে মনে হলো না। পরনের হাফপ্যান্টটা তার কোমরের তুলনায় বড় হাওয়াতে একটু পরপর নেমে গিয়ে পশ্চাদ্দেশ বেরিয়ে পড়ছিল। সাথে সাথেই সে বা হাতে সেটাকে যথাস্থানে নিয়ে আসছিল। অবাক হয়ে দেখলাম তার ডান হাতে ধরা আছে একটা পাখি। মনে হলো শালিক পাখি। ছেলেটা একবার পাখিটা হাত থেকে মাটিতে নামিয়ে রাখল। তখন খেয়াল করে দেখলাম একটা সরু দড়ি দিয়ে শালিকের পা বাধা এবং দড়ির অন্য প্রান্ত ছেলেটার হাতে। সাথে সাথে ছেলেবেলার একটা স্মৃতি মনে পড়ে গেল। ছেলেবেলায় ঠিক এইভাবে খেলার ছলে শালিকের পায়ে দড়ি বেঁধে আমিও ঘুরেছি একসময়। 

আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। আব্বার চাকরির সুবাদে পরিবারের সাথে চট্টগ্রামে থাকতাম। একদিন সকালে দেখলাম দরজার পাশে সিঁড়ির কোনায় একটা শালিক। পাখিটা উড়তে পারছিল না। ধরতে যেতেই সেটা হাতে ঠুকরে দিল। পরে হাতে কাপড় পেঁচিয়ে সেটাকে ধরে ঘরে নিয়ে আসলাম। দেখলাম একটা ডানা ভাঙ্গা। খুব সম্ভবত চিল বা বাজের ঠোকরে এই অবস্থা হয়েছে। বাড়িতে খাঁচা জাতীয় কিছু না থাকায় পাখিটার পায়ে সরু দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখলাম। স্কুল থেকে ফিরে বিকেলবেলা পাখিটাকে নিয়ে উঠোনে ছেড়ে দিতাম। পায়ে বাঁধা সরু দড়িটা থাকতো আমার হাতে, যাতে লাফিয়ে বেশিদূর যেতে না পারে। কিন্তু কি দুর্ভাগ্য, তিন দিনের মাথায় পাখিটা মরে গেল। বিকেলে পাখিটাকে ঘাসে ঢাকা উঠোনে ছেড়েছিলাম। একটু হয়তো অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বাউন্ডারির কাছে ঝোপের আড়াল থেকে একটা বিড়াল এসে পাখিটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে গেল ঘটনাটা কিছু বুঝে উঠার আগেই। পায়ে দড়ি বাঁধা থাকায় পাখিটাকে নিয়ে যেতে পারলো না, ছুটে কাছে গিয়ে দেখি গলার কাছটায় কামড়ে ধরায় সেখান থেকে রক্ত পড়ছে। বিড়ালকে কেন যে বাঘের মাসি বলা হয় সেদিন সেটা বুঝলাম। শিশু মনে ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলেন সেদিন পাখিটার জন্য। বাচ্চাটার হাতে পাখিটা দেখে ছেলেবেলার সেই স্মৃতি স্পষ্ট হয়ে ভেসে উঠল মনের মধ্যে। শিশুকালটা বোধহয় সব মানুষের একই রকম। জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে আনন্দ খুঁজে নেওয়ায় তার জুড়ি নেই। দরিদ্র পরিবারের এই বাচ্চাটার কথা চিন্তা করলাম, ভবিষ্যৎ জীবন হয়তো কিছুই তাকে দেবে না, কিন্তু এই শিশু বয়সে তার এই ছোট্ট জগৎ জুড়ে কত যে আনন্দের উপকরণ ছড়িয়ে আছে তার কোন তুলনা হয় না।  

অতীত চিন্তার জাল সরিয়ে আবার বাচ্চাটার দিকে তাকালাম। সে তখন শালিকটাকে নিচে নামিয়ে দিয়েছে আর পাখিটাও লাফাতে লাফাতে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছে। আমি যে ওকে দেখছি সেটা সে বুঝতে পেরেছে, মাঝে মাঝেই ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকাচ্ছিল। এমন সময় আতঙ্কিত হয়ে দেখলাম - একটা বেড়াল। বড় বড় আগাছা আর ঘাসের আড়ালে থাকায় এতক্ষণ সেটাকে দেখিনি। এখন দেখলাম সেটা গুড়ি মেরে ছেলেটার ৫-৬ গজের মধ্যে চলে এসেছে এবং তার দৃষ্টিও পাখিটার দিকে। আশ্চর্য - আবারো কি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে? আমি কি করবো? চিৎকার করে ছেলেটাকে সাবধান করব? কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমার ছেলেবেলায় ঘটে যাওয়া সেই একই ঘটনা কি আবারও ঘটতে যাচ্ছে? এটাকে কি বলবো? সমাপতন? কিন্তু ছেলেটা দেখলাম তার পাখির ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। ঠিক সময়েই সে ঘুরে বেড়ালটাকে দেখতে পেল, আর তাড়াতাড়ি করে পাখিটাকে আবার হাতে তুলে নিল। বেড়ালটার ভাব গতিক সে ঠিকই বুঝতে পেরেছিল। আমিও হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। একটা জিনিষ বুঝতে পারলাম, বাবা-মায়ের আদরে বেড়ে ওঠা সচ্ছল পরিবারের সন্তানদের চেয়ে এই দরিদ্র পরিবারের বাচ্চাগুলোর পারিপার্শ্বিক বিষয়ে সচেতনতা অনেক বেশি। নিজ পরিবেশের ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে যতটুকুই সে পায়, তা যেন হাতছাড়া না হয় এই ব্যাপারে সে সবসময়ই সতর্ক। এক হাতে প্যান্ট আর অন্য হাতে পাখিটাকে নিয়ে সে দৌড়ে বেড়ালটাকে তাড়িয়ে দিয়ে আসলো। তারপর বেশ খানিকটা দূর থেকে আমার দিকে ঘুরে তাকালো। আমি তার দিকে তাকিয়ে হাসলাম। কি সুন্দর ফুটফুটে চেহারার একটা বাচ্চা। ছেলেটাও আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো। জগতের সব আনন্দ যেন ঝরে পড়লো তার  সেই সুন্দর হাসিতে। আমার মনে হল তার সেই আনন্দ মাখা হাসিটা ছড়িয়ে পড়ল সবখানে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/141129/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Sep 2022 13:21:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>দূর থেকে দেখা<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
ছোট্ট ছেলেটা একা একাই মাঠে খেলছে। কতই বা হবে বয়স, বড়জোর ছয় কিংবা সাত। খালি গা পরনে একটা ছেঁড়া হাফপ্যান্ট। কিছুক্ষণ আগেও তার কয়েকজন সঙ্গী সাথীকে দেখা গিয়েছিল আশেপাশে। এখন ছেলেটা একাই। ঘড়িতে দেখলাম বাজে প্রায় একটার কাছাকাছি। ভাদ্রের মেঘ শূন্য আকাশে জ্বলন্ত সূর্য উত্তাপ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-141129"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/141129/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">238e9af48693e9110fbb61d5da91fd6f</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/117534/</link>
				<pubDate>Wed, 01 Jun 2022 14:22:14 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3dee1e46610cd88d99d2b2cb652f8177</guid>
				<title>সমুদ্রের সান্নিধ্য
-----------------------------------------------
আশির দশকের মাঝামাঝি একটা সময়। সবে মাত্র ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে অখন্ড অবসরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে ফিরছি। দেহ মনে তারুণ্যের উদ্দীপনা, দিনগুলো যেন হাওয়ায় ভেসে চলেছে। বন্ধুর যেন শেষ নেই। বন্ধুর বন্ধু, তার বন্ধু, সবাই তারা আপন। নিজের একটা সাইকেল থাকাতে আরো সুবিধা, ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চলে যাওয়ায় কোন বাধাই নেই। কখনো পুরোনো ঢাকার কোন নড়বড়ে ভাঙ্গা বাড়ির ছাদে, কখনো পরিত্যক্ত কোনো অফিস ঘরে আবার কখনো খোলা মাঠে চলতো দিন ভর আড্ডা। 

মহাখালী ডিওএইচএস এর পাশে রেল লাইনের ধারে বসে দেখতাম রেল লাইন ঘেষা বস্তির খোলার ঘরে সাহেব আলির আড্ডায় গাজা খেয়ে চোখ মুখ লাল করে লোক জন বেরোচ্ছে। তাদের কাজ কারবার দেখে আমরা খুবই মজা পেতাম। সেই সাহেব আলির প্রসাদ আমরাও যে দু-এক বার পাইনি, সেটা বললে মিথ্যে বলা হবে। আবার মামার বাসার ছাদে সমবয়সী  মামাতো ভাই আর পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে তাসের আড্ডাও চলতো। এর মধ্যে একজন আবার তিন তাসের খেলা আমদানি করলো, যেটা ছিল খাঁটি জুয়া। আমরাও চার আনা আট আনা কবুল করে খেলা শুরু করে দিলাম। অর্থাৎ ষোলো কলার কোনো কলাই আর বাকি থাকলো না। দেখলাম যে এই খেলাটা নেশার মত আমাদের পেয়ে বসেছে। কি ভাবে এর থেকে রেহাই পেলাম সে এক মজার কাহিনী। যখন দেখলাম খেলার নেশায় আমাদের নাওয়া-খাওয়া কাজ-কর্ম সব মাথায় উঠে যাচ্ছে, তখন বাধ্য হয়ে লাগাম টানতে হলো। 

এক দিন খেলার সময় তাস ভাঁজ করার ছল করে সবার কাছে ভালো ভালো তাস বেঁটে দিলাম। কেউ বুঝতে পারলো না আমার জোচ্চুরি। আমি রাখলাম সবচেয়ে ভালো তাস, তিন টেক্কা। চার জনে খেলা হচ্ছিল। একজন পেল, তিন বিবি, একজন সাহেব, বিবি গোলামের রানিং আর একজন পেল একই রঙের রানিং তাস। মনে রাখতে হবে আমরা তখনো এই খেলায় অভ্যস্ত না। ভালো তাস পেয়ে নির্বিকার থাকা আমরা তখনো শিখিনি। সবার চোখ মুখ জ্বল জ্বল করে উঠলো তাস দেখে। আমি আঁড় চোখে দেখছিলাম তাদের অভিব্যাক্তি। ভীষন হাঁসি পাচ্ছিলো, কিন্তু হাঁসলেই তো সব পন্ড হবে, কোন রকমে হাঁসি চেপে খেলতে লাগলাম। আমরা মামা বাড়ির ছাদে খেলতে বসেছিলাম। বিকালের ঠান্ডা মিষ্টি রোদেও দেখি সবাই ভীষণ রকম ঘামছে। তাসগুলো যখের ধনের মত বুকে চেপে বোর্ডে টাকার অংক বাড়িয়ে চলেছে। চার আনা আট আনার খেলা হলেও বোর্ডে তখন ১০০ টাকা ছুই ছুই। কারো কাছেই আর টাকা নেই, কিন্তু কেউ তাস শো করছে না। সবার চোখ মুখে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। শেষ পযন্ত আমি হো হো করে হেসে উঠে হাতের তাস দেখিয়ে দিলাম। সবার তো চোখ কপালে উঠলো, এটা কিভাবে সম্ভব। ততক্ষণে তারা আমার জোচ্চুরি ধরে ফেলেছে। সবাই মারমুখো হয়ে উঠে দাড়াতে আমি ছুটে ছাদের এক প্রান্তে গিয়ে দাড়ালাম। পরে অবশ্য পুরো ব্যপারটা ভীষণ হাঁসাহাসির মধ্যে শেষ হলো। ঠিক করলাম এই  খেলা আর না, এইবার অন্য কিছুতে মন দেই। 

সেখানে আমাদের সাথে ছিলো আমার এক মামাতো ভাই, আর দুই জন পাড়ার বন্ধু। তারা সবাই ছিলো খুব কাছের মানুষ, প্রাণের মানুষ। আমরা ঠিক করলাম একবার ঢাকা ছেড়ে বাইরে কোন যায়গায় যাওয়া দরকার। ঢাকাটা ভীষণ এক ঘেয়ে হয়ে গেছে। তখনি ঠিক করলাম সমুদ্র দেখতে যাবো। আমাদের মধ্যে দুই জনের তখনো সমুদ্র দেখার অভিজ্ঞতা হয়নি। আমি অবশ্য আব্বার চাকুরীর সুবাদে চট্টগ্রাম থাকার ফলে বেশ অনেকবারই সমুদ্রের কাছা কাছি হয়েছি। কক্সবাজার, পতাঙ্গা আর ফৌজদার হাট অনেক বার গিয়েছি। সমুদ্রের সান্নিধ্য আমাকে সবসময়ই আনন্দ দেয়। বন্ধুদের মধ্যে যারা সমুদ্র দেখেনি  তাদের উৎসাহই ছিল বেশী। ঠিক হলো কক্সবাজার যেতে হবে। কিন্তু বললেই তো আর হলো না, ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়া, সেখানে থাকা আবার সেখান থেকে ফিরে আসা, সে এক বিরাট খরচের ধাক্কা। এই দিকে আমাদের পকেট তো সবসময় গড়ের মাঠ। বন্ধুদের মধ্যে একজন বললো তার কাছে জমানো দেড় হাজার টাকা আছে, সেটা সে খরচ করবে। আরেক জন বললো চেষ্টা করলে সেও কিছু জোগাড় করতে পারবে। আমার মামাতো ভাইটা বললো সে কয়েকশ টাকা তার মায়ের কাছ থেকে চেয়ে নিতে পারবে। বাকি থাকলাম আমি। বাসায় তুমুল হট্টোগোল করে আমিও কয়েকশ টাকা জোগাড় করে ফেললাম। এত চেষ্টা করেও সর্বসাকুল্যে আমাদের কাছে মোট আড়াই হাজার টাকাও জোগাড় হলো না। কিন্তু আমরা দমলাম না। মামাতো ভাইএর এক ফুফা তখন ছিলো কক্সবাজারে জেলের সুপারিনটেন্ডেন্ট। ঠিক হলো থাকার ব্যবস্থাটা ওখানেই করা যাবে। জেলেই থাকবো না হয়। সবচেয়ে সস্তা খাবার খাবো আর ঘোরাঘুরি সব পায়ে হেঁটে। এর মধ্যে আমার আরেক কলেজের বন্ধুও এসে যোগ দিলো, অবশ্য খালি পকেটে। তাকেও সাথে নেওয়া ঠিক হলো। পূর্ণ উদ্যমে লেগে গেলাম জোগাড় যন্ত্র করার কাজে। সবার বাড়িতেই অবশ্য এইটা নিয়ে বেশ হইচই হলো, তবে আমাদের দমাতে পারলো না। আব্বা রেলওয়েতে চাকরী করার জন্য রিটায়ারমেন্টের পরেও পরিবারের জন্য রেলভ্রমনের পাশ পেত। তবে তা ফ্যামিলি পাশ। তবে রেলওয়ের আরেকটা সুন্দর সিস্টেম ছিলো। চাকুরীরত অথবা পেনশনপ্রাপ্ত অফিসাররা আবেদন সাপেক্ষে পিটিও বা এক তৃতীয়াংশ খরচে টিকিট কিনতে পারতো। আমি সেটাই করলাম। আব্বাকে বলে কয়ে আমাদের পাঁচজনের জন্য পিটিও জোগাড় করলাম। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের তৃতীয় শ্রেণীর টিকিট। সাধারণ মূল্য ৪৫ টাকা, আমরা পেলাম ১৫টাকা করে প্রতিজনের জন্য। অর্থাৎ আমাদের পাঁচজনের ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাবার খরচ মাত্র ৭৫টাকা। জিনিষপত্র বেশি নিলাম না। সবার সাথে একটা করে ছোট ব্যাগ। বাড়তি জিনিষের মধ্যে ছিলো দুইটা গিটার। আমার আর আমার কলেজের বন্ধুটির গিটার বাজিয়ে গান গাওয়ার বদভ্যাস ছিল যার জন্য এই গিটারের বাড়তি ঝামেলা। সমুদ্রের পারে বসে গিটার বাজিয়ে গান গাইবো, চিন্তা করতেই রোমাঞ্চ অনুভব করতাম। গিটারের আবার কোন কভার ছিলনা, হাতে হাতে নিতে হবে। 

যাই হোক একদিন সকাল সকাল রওয়ানা হয়ে গেলাম কমলাপুরের উদ্দেশ্যে। তখনো আমাদের রেলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভ্রমনের কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। কর্ণফুলি এক্সপ্রেসের এক তৃতীয় শ্রেণীর কম্পার্টমেন্টে উঠতে গিয়ে দেখি, ও বাবা এ যে অসম্ভব ব্যাপার। গাড়ি ছাড়ার বেশি দেরি নেই, এদিকে আমরা কামরায় উঠতেই পারছি না ভিড়ের চাপে। সাথের গিটারগুলো সবথেকে বিপদ ডেকে আনলো। কোনক্রমে দুইজন মালপত্র নিয়ে ভিতরে ঢুকতে পারলেও আমি আর সাথের দুইজন গাড়ির দরজা পার হতে পারলাম না। গিটার সহ ঝুলতে লাগলাম প্রায় পুরো শরীর বাইরে রেখে। আশে পাশের যাত্রীরা গিটারসহ আমাদেরকে দেখে বেশ মজা পেয়ে গেছে। নানা রকম মন্তব্যের সাথে কয়েকজন অবশ্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো। এক সময় গাড়ি তো ছাড়লো আর আমরাও ঝুলতে ঝুলতে চললাম। আমাদের সেই ঝুলনযাত্রা অবশ্য খুব খারাপ লাগছিলো না, কারণ দেখলাম পাশের ফার্স্টক্লাস কম্পার্টমেন্টে একটা ছোট মেয়ে জানালা দিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে কি যেন বলছে আর হাঁসছে। আমরাও হাঁসলাম। এর পর আমাদের অবাক করে দিয়ে আরো দুইজন খুব সম্ভব কলেজে পড়া সুন্দরী জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে আমাদের দেখতে লাগলো, মুখে মৃদু হাঁসি। আমাদের আর পায় কে। সেই ছোট মেয়েটার সাথে আমরা ইশারায় কথা শুরু করলাম। বড় মেয়েগুলো মনে হয় আমাদের সম্পর্কে তার বাবা মার সাথে কিছু বলে থাকবে। গাড়ি তখন নরসিংদী এসে থেমেছে। ছোট মেয়েটা আমাদের ডাক দিলো। আমরা তাড়াতাড়ি নেমে ওর কাছে গেলে সে বললো বাবা বলেছে তোমরা এই ভাবে দরজায় না ঝুলে আমাদের কম্পার্টমেন্টে চলে এসো। না চাইতে এইরকম আপ্যায়ন কোনদিন পেয়েছি বলে মনে করতে পারলাম না। তাড়াতাড়ি আমরা যারা ঝুলছিলাম, পাশের কামরার দরজা খুলে একদম ফাঁকা যায়গায় উঠে আসলাম। এতক্ষণ গিটার নিয়ে ঝোলার জন্য হাত টন টন করছিল। তখন উপলব্ধি করলাম এই রকম ঝুলে ঝুলে আর বেশিক্ষণ থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমরা ফার্স্টক্লাস কম্পার্টমেন্টের দরজায় দাড়িয়ে ছিলাম। বড় মেয়েগুলো কিন্তু কাছে আসলো না, তবে ছোট মেয়েটার মাধ্যমে আমাদের খোজখবর নিতে লাগলো। আমরা কোথায় থাকি, কোথায় যাচ্ছি, চট্টগ্রামে কেউ আছে কিনা এইসব খবর তাদের জানা হয়ে গেল। আমরাও জানলাম তারা চট্টগ্রামেরই বাসীন্দা, ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। কি সুন্দর এই পথের পরিচয়। একসময় চট্টগ্রাম এসে পৌছালাম। তখন বিকেল শেষ হয়ে সন্ধ্যা নেমে আসছে। স্টেশনে নেমে ছোট মেয়েটার মাধ্যমে ওদেরকে ধন্যবাদ জানালাম। বড় মেয়ে দুটোও ছোট্ট করে হেসে হাঁত নাড়লো। ঠিকানা দেয়া নেয়া হলো না। হারিয়ে গেল আমাদের ত্রাণকর্তারা জনারণ্যে। আমরাও জিনিষপত্র নিয়ে আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।

চট্টগ্রামে আমার বন্ধুর এক আত্মীয়র বাসায় কোন রকমে রাতটা কাটিয়ে পরদিন সকালে রওয়ানা দিলাম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। আমরা একটা মোটামুটি ভালো বাস পেয়েছিলাম। রাস্তাও সুন্দর। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার মোটামুটি ৯০ কিলোমিটার। বাসে আর তেমন কিছু হলো না। শুধু আমরা সিগারেট খাচ্ছি দেখে দুয়েক জন মৃদু আপত্তি জানিয়েছিলো, আমরা বেশি পাত্তা দিলাম না। সাথে গিটার দেখে মনে হয় ওরা আর বেশি কিছু বললো না। হয়তো ভাবলো আমরা কোন শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য। কক্সবাজার পৌছে সেই জেল সুপারিনটেন্ডেন্টের বাসা খুঁজে মালপত্র রেখে বের হতে হতে সন্ধ্যা পার হয়ে রাত নেমে আসলো। আমরা তাড়াতাড়ি সমুদ্র দেখতে চললাম। 

আমরা যখন বেলাভূমিতে এসে পৌছালাম ততক্ষণে অন্ধকারে দেখার আর বিশেষ কিছু ছিলো না। তখন সমুদ্রে জোয়ার এসেছে। আকাশটাও মেঘলা। ভয়ঙ্কর গর্জনে ফসফরাসের মালা পরে ঢেউগুলো অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের কয়েক ফুট দূরে আছড়ে পড়ছিলো। রীতিমত ভয় ধরানো অনুভুতি। আমরা দাড়িয়ে রইলাম সেই বিশালত্যের সামনে নির্বাক হয়ে। আমার মনে হচ্ছিলো ঢেউগুলো যেন আমাদের পা ছুঁয়ে যাবার জন্য আরো এগিয়ে আসছে। যেন বলছে কেউ কি এসেছো? দেখেছো আমাকে? কেউ কি আছো.........</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/112767/</link>
				<pubDate>Wed, 18 May 2022 11:51:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সমুদ্রের সান্নিধ্য<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
আশির দশকের মাঝামাঝি একটা সময়। সবে মাত্র ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে অখন্ড অবসরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে ফিরছি। দেহ মনে তারুণ্যের উদ্দীপনা, দিনগুলো যেন হাওয়ায় ভেসে চলেছে। বন্ধুর যেন শেষ নেই। বন্ধুর বন্ধু, তার বন্ধু, সবাই তারা আপন। নিজের একটা সাইকেল থাকাতে আরো সুবিধা, ঢাকার এক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-112767"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/112767/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">45fe63923f9f24ac11116a9a10b4763a</guid>
				<title>পাহাড়ের উপর সেই বাড়িটা
--------------------------------------------------
দূর থেকে বাড়িটা দেখে কিন্তু মনে হয়নি সেটি পরিত্যাক্ত। বেশ উঁচু একটা টিলার উপর দোতলা বাড়িটা অনেকখানি জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আরো খানিকটা কাছে যাওয়ার পর দেখা গেল একতলা দোতলার বেশ কয়েকটি জানালার কোন কপাট নেই। আশে পাশের পাহাড়গুলোর উপরে আর কোন বাড়ি কিন্তু চোখে পড়লো না। আমার সাথে ছিল বাবার এক কলিগের ছেলে, আমার দু-তিন বছরের বড়, তবে বন্ধুর মতই সম্পর্ক। আমরা দুজন মিলে পাহাড়ে পাহাড়ে অনেক ঘুরেছি। আমাদের ভাষায় পাহাড় পরিক্রমা। চট্টগ্রাম শহরের আশে পাশের পাহাড় পরিবেষ্ঠিত অজানা জায়গাগুলো দেখতে সুযোগ পেলেই বেড়িয়ে পড়তাম। বাবার রেলওয়ের চাকুরীর সুবাদে আমরা থাকতাম সিআরবি অর্থাৎ সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং সংলগ্ন অফিসার্স কোয়াটার্স বা বাংলোগুলোর একটাতে। সিআরবি সংলগ্ন বলতে আবার বিল্ডিং ঘেষা না। বাংলোগুলো ছিলো বেশ অনেকটা দূরে দূরে, একেকটা পাহাড়ের উপরে। বাড়িগুলোতে ওঠার জন্য সিড়ি বা ঘোরানো পাকা রাস্তা রয়েছে। পাহাড় আর টিলায়  ঘেরা রেলওয়ের এই বিশাল এলাকাটাও দেখার মত সুন্দর। 

যাক, যেটা বলছিলাম, আমি আর আমার ওই সিনিয়র বন্ধুটির পাহাড়ে পাহাড়ে ঘোরাটা একরকম নেশার মত পেয়ে বসেছিল। আমাদের একটা প্রিয় বিচরন ভুমি ছিল ফয়েজ লেক আর তার আশে পাশের পাহাড়গুলি। যখনকার কথা বলছি তখন খুব অল্প কিছু লোকই সেখানে বেড়াতে আসতো। ফয়েজ লেকই রেলওয়ের বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িগুলোর পানির উৎস। পাহাড়ের ভেতরে ভেতরে বিস্তৃত লেকটা সত্যিই দেখার মতো সুন্দর। সেখানে কয়েক জন মাত্র কর্মচারীকে দেখতাম। এখন তো সেখানে রীতিমত এম্যুজমেন্ট পার্ক তৈরি হয়েছে শুনি।  আগের সেই নির্জন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যটা আর নাই নিশ্চয়। আমাদের সেই কিশোর কালে বেড়ানোর কোন বাধানিষেধ ছিলো না। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে এয়ার গান ঘাড়ে করে চলে যেতাম যত দূর যাওয়া যায়। বলতে ভুলে গেছি, আমার একটা এয়ার গান ছিলো, যেটা প্রায়ই আমাদের সঙ্গী হোত। সেই বয়সে নিজেকে বেশ শিকারী শিকারী মনে হোত। অনেক পাখীও শিকার করেছি সেই সময়, এখন মনে হলে সেই নির্বোধ পাখীগুলোকে মারার জন্য খুব খারাপ লাগে।

এই রকম পাহাড় পরিক্রমার সময় আমরা দুজনই একটা অদ্ভুত ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলাম। অদ্ভুত না বলে অবিশ্বাস্য বললেই বোধ হয় ঠিক হবে। আমাদের সিআরবি থেকে মাইল দেড়েক দূরে বাটালী হিলের কথা হয়তো অনেকেই শুনেছে, যারা চট্টগ্রামে থেকেছে তারা তো অবশ্যই একবার হলেও সেখানে বেড়াতে গেছে। বাটালী হিলটা এক সময়ে চট্টগ্রাম শহরের মধ্যে সব চেয়ে উঁচু পাহাড় ছিলো। পাহাড়ে ওঠার রাস্তা থাকায় অনেকেই সেখানে উঠতো। সামনে নেভাল ব্যারাক তার পাশে টাইগার পাস রেলওয়ে কলোনী আর বাটালী হিলের পেছনে ঢেউ খেলানো একের পর এক পাহাড়। পাহাড়গুলোর ফাঁকে ফাঁকে কিছু সরু  সরু রাস্তা এঁকেবেঁকে চলে গিয়েছে। মাঝে মাঝে বাড়ি ঘর চোখে পরে। একদিন দুজন মিলে এই এলাকার পাহাড় পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়লাম। এখন ভাবলে অবাক লাগে আমাদের কাছে কিন্তু তেমন কোন টাকা পয়সা থাকতো না। দোকান থেকে কিছু কিনে খেতাম বলেও মনে পড়ে না, অথচ ঘন্টার পর ঘন্টা পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরেছি। সেই দিন এভাবেই বেশ অনেক দূর কখনো রাস্তা ধরে আবার কখনো পাহাড়ের ঢাল বেয়ে একটা উঁচু মতো পাহাড়ে এসে বাড়িটাকে দেখতে পেলাম। 

তখন বিকেল হয়ে রোদ পরে আসছে। আমি বন্ধুকে বললাম কাছাকাছি এসেছি যখন চলো বাড়িটা দেখে আসি। ও কিন্তু রাজী হচ্ছিল না, বললো কি দরকার, কার না কার বাড়ি। হুট করে যাওয়া উচিৎ হবে না। বাড়িটা দেখতে সত্যিই রাজকীয় মনে হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল কোন বিরাট বড়লোকের বাড়ি। তবে কপাটহীন জানালা দেখে মনে হোল না সেখানে কেউ থাকে, বা থাকলেও বাড়ির আসল মালিক নিশ্চয় থাকে না। দেখেই বোঝা যায় বহু বছর বাড়িটার কোন পরিচর্যা হয়নি। অনেক বলে বন্ধুকে রাজী করিয়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে বাড়িটার দিকে এগোতে লাগলাম। দেখলাম বাড়িটাতে ওঠার জন্য পাহাড়টার চারদিক দিয়ে ঘোরানো রীতিমত বাঁধানো রাস্তা রয়েছে। রাস্তার ধার ঘেষে যে এক সময় ফুলগাছ লাগানো হয়েছিলো তার চিহ্ন এখনো বোঝা যায়। দেখে অবাক হয়ে গেলাম, এমন একটা বাড়ির এই অবস্থা কিভাবে হয়। অবাক হবার তখনো অনেক বাকি ছিলো। রাস্তা ধরে এগোতে থাকলাম। বাড়িতে ঢুকবার পথে বিশাল গেটের ধ্বংসাবশেষ, তার দুই পাশে ১২/১৩ ফুট উঁচু সিমেন্টের সুদৃশ্য স্থাপনা। বাড়ির কম্পাউন্ডটা মনে হলো বেশ কয়েক বিঘা জমি নিয়ে। গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে চোখে পড়লো কম্পাউন্ডের শেষ মাথায় একটা বড় টিনে র চালা। বহুদিন আগে সেটা হয়তো গাড়ীর গ্যারাজ ছিলো। সেখানে যে কেউ থাকে প্রথমে বুঝতে পারিনি। একতলার চওড়া বারান্দায় উঠে মুক্ত দ্বারপথে ভেতরে প্রবেশ করে এসে পড়লাম এক মুক্তাঙ্গনে। বিরাট হলরুমটা হা হা খালি। বড় বড় দরজা জানালাগুলোর কোন কপাট নাই। এক পাশে চওড়া সিড়ি দোতলায় উঠে গেছে। সিড়ির রেলিংএ আশ্চর্য্য সুন্দর কাজ করা। রেলিংএর কাঠের অংশ কিছু কিছু এখনো রয়ে গেছে। মার্বেলের মত মোজাইক করা মেঝে আর সিড়ি বহুদিনের ধুলো ময়লার আস্তরনে ঢেকে আছে। তবে দেখলেই  বোঝা যায় অনেক যত্ন নিয়ে আর অনেক খরচ করেই এক সময় বাড়িটা তৈরি করা হয়েছিল। কয়েক যায়গায় পলেস্তরা খসে গিয়ে ইট দেখা যাচ্ছিল। ইটগুলো সাধারণ ইটের মতো না। সময় বেশি নাই, তাই চট করে দোতলাটা ঘুরে আসলাম দুইজনে। দোতলার বড় বড় ঘরগুলো আর বিরাট চওড়া খোলা বারান্দাগুলিও দেখার মতো সুন্দর। 

সিড়ি দিয়ে নামতে যাব এমন সময় সিড়ির নিচে একটা মহিলাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভুত দেখার মত চমকে উঠলাম।  সর সর করে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেল। কাউকে দেখবো বলে একদমই আশা করিনি। না ভূত টুত কিছু না, নিতান্তই দরিদ্র শ্রেণীর একজন মহিলা। 

মহিলাটাও মনে হলো ভয় পেয়েছে, কাঁপা গলায় চাঁটগাইয়া ভাষায় জিজ্ঞেস করলো, আপনারা কে, এইখানে কেন আসছেন। ততক্ষণে একটা বুড়ো লোক এসে মহিলার পাশে দাড়িয়েছে। আমার বন্ধু বুঝিয়ে বললো আমরা বেড়াতে বেড়াতে এদিকে চলেএসেছি। লোকটা বললো আপনারা কাজটা ভালো করেন নাই। এই বাড়িতে নাকি অনেকেই ভয় পেয়েছে। পরে তার মুখে এই বাড়ির ইতিহাস শুনলাম। এক ধনী জাহাজ ব্যবসায়ী নাকি সখ করে এই বাড়িটা বানায়। এই পাহাড়টায় নাকি এক দরবেশের কবর ছিলো, বাড়ি বানানোর সময় নাকি কবরটা ওই ব্যবসায়ীর হুকুমে ভেঙ্গে ফেলা হয়। পরে নাকি সেই দরবেশ স্বপ্নে দেখা দিয়ে তাকে বলে আমি এখানেই থাকবো কিন্তু তুই বা তোর পরিবারের কেউ এই বাড়িতে বাস করতে পারবি না। আরো কত কি সব বলে গেল। লোকটার গল্প শুনে আমার হাঁসি পাচ্ছিল ভিষন। এই কবর ভেঙ্গে ফেলে, বাড়ি বানানো আর ফকির দরবেশের অভিশাপ, এই একই কাহিনী কতবার যে শুনতে হয়েছে। বন্ধুকে তাড়া দিলাম। অন্ধকার হয়ে আসছে, যেতে হবে অনেকটা পথ। ফিরতি পথ ধরার আগে বাড়িটার চারদিকটা একবার ঘুরে দেখবার জন্য বাড়ির পেছন দিকটায় গেলাম। লোকটা বলছিলো বাড়িটার পেছন দিকে নাকি মাটির নিচে একটা ঘর আছে। আবছা আলোয় দেখলাম সত্যি বাড়ির পেছনের দেয়ালে চার ফুট মত উঁচু একটা লোহার পাল্লা দেয়া দরজা দেখা যাচ্ছে। কেন এই রকম একটা ঘর তৈরি করা হলো?  একটু ভয় ভয় করছিলো। এই রকম নির্জন পাহাড়ে এমন একটা বাড়ি, তার আবার মাটির নিচে ঘর। বুড়ো লোকটাকে সেই কথা জিজ্ঞেস করতে গিয়ে দেখি সে চলে গেছে। আশেপাশে ওই বুড়ো আর তার সাথের মহিলাটা ছাড়া আর কোন মানুষ জন নেই। সন্ধ্যাও হয়ে আসছে। ভয় করছিলো আবার মাটির নিচের ঘরটা একবার দেখার খুব ইচ্ছাও হচ্ছিলো। আলো খুবই কম। দরজাটা আধখোলা হয়েই ছিলো। ঠেলা দিয়ে আর একটু খুলে ভেতরে উঁকি দিলাম দুইজন। দেখলাম একটা সিড়ি নেমে গেছে নিচ পর্যন্ত। 

এরপর যেটা দেখলাম সেরকম কিছু দেখার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। আবছা আলোয় দেখলাম পাঁচ-ছয় ফিট নিচে মেঝের উপর মনুষ্যাকৃতির কিছু একটা হেঁটে বেড়াচ্ছে। হু হু করে একটা শব্দ হচ্ছিলো। আমরা উঁকি দিতেই খ্যাক করে একটা শব্দ শুনলাম। মনে হলো ওই জিনিষটা আমাদের দেখতে পেয়েছে। প্রচন্ড আতঙ্কে মাথার চুল দাঁড়িয়ে গিয়েছিল মনে হয়। দুইজন ছিটকে সরে আসলাম। কোন রকমে বাড়ির সীমানা পার হয়ে হোচট খেতে খেতে রাস্তা ধরে নেমে এলাম। পিছন ফিরে আর তাকানোর সাহস হচ্ছিল না। ওই বয়সে ভয় পাবার অনেক অভিজ্ঞতাই হয়েছে, কিন্তু এমন সাংঘাতিক ভয় আর কোন সময় পাইনি। 

পরে এটা নিয়ে অনেক চিন্তা করেছি। ওইটা আসলে কি ছিলো? আসলেই কি মানুষের মত কিছু? নাকি বড় কোন কুকুর বা শেয়াল। কিন্তু কুকুর শেয়াল কি দু-পায়ে হাঁটতে পারে? আর সেই বাড়িটায় যাই নি। ওই মহিলা আর বুড়ো লোকটা কিভাবে সেখানে থাকে? ওরা আসলে কারা। সেটা আর কোন দিন জানা হয়নি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/112184/</link>
				<pubDate>Tue, 17 May 2022 11:34:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পাহাড়ের উপর সেই বাড়িটা<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
দূর থেকে বাড়িটা দেখে কিন্তু মনে হয়নি সেটি পরিত্যাক্ত। বেশ উঁচু একটা টিলার উপর দোতলা বাড়িটা অনেকখানি জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আরো খানিকটা কাছে যাওয়ার পর দেখা গেল একতলা দোতলার বেশ কয়েকটি জানালার কোন কপাট নেই। আশে পাশের পাহাড়গুলোর উপরে আর কোন বাড়ি কিন্তু চোখে পড়লো&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-112184"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/112184/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3fc96236435e23ed53b9a02075f61197</guid>
				<title>পাহাড়তলীর সেই মিশনারী স্কুল
---------------------------------------------------
বেশ উঁচু পাহাড়ের ওপর বিশাল গোলাকার কংক্রিটের তৈরি ওয়াটার ট্যাঙ্ক। এই বিরাট ট্যাঙ্কটা থেকে পানি সরবরাহ করা হয় পাহাড়তলী এলাকার সমস্ত রেলওয়ে কর্মচারীদের বাসায় বাসায়। পানির ট্যাঙ্কটা পাহাড়ের মাথায় স্থায়ীভাবে বসানো, সেই ব্রিটিশদের সময় থেকে। কিছু দূরেই পাহাড়ের পাদদেশে একটা ওয়াটার ট্রিটমেন্টের বড় রিজার্ভয়ার, যেখান থেকে ট্যাঙ্কে পানি ওঠে। পাহাড়ের ঢাল থেকে পানির ট্যাঙ্কের ওপরে ওঠার একটা লোহার সিড়ি ছিলো। ট্যাঙ্কের ওপরে বসে চট্টগ্রাম শহরের অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। বহুদূরের সমুদ্র বন্দরের জাহাজগুলো এবং দিকচক্রবাল রেখায় বঙ্গপোসাগরের বিস্তারও চোখে পড়ে। এই পাহাড়ের আসে পাশের বেশ কয়েক বর্গমাইল এলাকার (অবশ্য বলতে গেলে পুরো পাহাড়তলী এলাকার) সব কিছুই ছিলো রেলওয়ের সম্পত্তি। ইংরেজরা যখন বাংলাদেশ অংশে রেল যাতায়াত ব্যবস্থার গোড়াপত্তন করে সেই সময়েই চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অনেকটা জায়গা জুড়ে বিশাল আকারের রেলওয়ে ওয়ার্কশপ তৈরি হয়। চট্টগ্রামের অন্যান্য অংশেও বেশ কিছু অঞ্চল সেই্ সময়ে রেল কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণ করে।  শহরের লালখান বাজার সংলগ্ন এলাকায় সিআরবি বা সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং, রেলওয়ে ক্লাব, রেলওয়ে হসপিটাল, পোলোগ্রাউন্ড, খেলার মাঠ, রেলওয়ে স্কুল আর অফিসার কর্মচারীদের থাকার জন্য বাংলো এবং কোয়ার্টার ইত্যাদিও তৈরি করা হয়। ইংরেজদের পছন্দ অনুযায়ী পাহাড়বেষ্ঠিত শহরের সুন্দর এলাকাগুলোই রেলওয়ের অধিভূক্ত হয়। বিরাট এলাকা নিয়ে রেলওয়ের সেই সব স্থাপনাগুলি সত্যিই দেখার মত ছিলো। পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকারের সময় এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকারের আমলে আরও নতুন কিছু বাড়ী-ঘর, অফিস বিল্ডিং প্রয়োজনের তাগিদে তৈরি করা হয়, তবে ইংরেজদের তৈরি স্থাপনাগুলো তাদের অনবদ্য সৌন্দর্য্য নিয়ে পাহাড়গুলোর যে শোভা বর্ধন করেছিল তা মোটামুটি অটুট থেকে যায়। লাল রঙের মজবুত করোগেটের টিনের উঁচু চালা, আর পুরু দেয়ালের বাড়িগুলো ব্রিটিশদের তৈরি রেলওয়ের বহু বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে, অন্তত আশির দশক পর্যন্ত ছিলো। 

সত্তরের দশকের শেষ দিকে আব্বার রেলওয়ের চাকরীর সুবাদে আমার স্কুলজীবনের বেশিরভাগ সময়টাই রেলওয়ে অফিসার্স বাংলোতে কেটেছে। যুদ্ধের পর আমার স্কুল জীবনের শুরুটা ঢাকাতে হলেও পরবর্তী কয়েক বছর আব্বা বাংলাদেশ মিশনের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থানের কারণে ক্লাস ফোর পর্যন্ত কোলকাতার একটা স্কুলে পড়ার সুযোগ হয়ে ছিলো। কলকাতায় সপরিবারে আমরা প্রায় দুই বছর ছিলাম। দুই বছর পর পূণরায় দেশে ফিরে আব্বা চট্টগ্রাম রেলওয়ের সিআরবি অফিসে যোগ দেয়ায় আমরা আবার সপরিবারে চট্টগ্রামে চলে আসি। সেটা ছিল বছরের মাঝামাঝি একটা সময়। যার জন্য আমাকে স্কুলে ভর্তি করতেও সমস্যায় পড়তে হয় আব্বাকে। যাই হোক শেষ পর্যন্ত আমি পাহাড়তলীর সেই অদ্ভুত সুন্দর মিশনারী স্কুল সেন্ট জেভিয়ার্সে ক্লাস ফাইভে ভর্তি হই। সেই বয়সে সৌন্দর্য্য বোধ কতটা ছিল বলতে পারবো না তবে এখন ভাবি আব্বার বদলীর চাকরীর জন্য যতগুলো স্কুলে আমার পড়ার সুযোগ হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ছিল পাহাড়তলীর সেই সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলটি। সিআরবিতে আমাদের বাড়িটিও ছিল পাহাড়ের ওপর। পাহাড়েরর ঢাল বেয়ে নেমে সিআরবির সামনে সাতরাস্তার মোড় থেকে পাহাড়তলীর রেলওয়ে স্কুলের মোড় পর্যন্ত মাইলখানেক রাস্তা রিক্সায় যাওয়া যেত। বাকি পাহাড়ী রাস্তা হেঁটে স্কুলে পৌঁছাতে হতো। অনেক সময় সুযোগ পেলে আব্বার অফিসের জীপেও স্কুলে গিয়েছি। পাহাড়তলীর ঢাল বেয়ে একটা রাস্তা চলে গেছে নিচের দিকে, যেখানে রেলওয়ের নিম্নশ্রেণীর কর্মচারীদের বিরাট একটা কলোনী, আর একটা রাস্তা ডান দিকে বেশ খানিকটা ওপরের দিকে উঠে গিয়ে শেষ হয়েছে স্কুল কম্পাউন্ডের সামনে। এ ছাড়াও পাহাড়েরর ওপরে এদিকে, সেদিকে বিচ্ছিন্ন কিছু বাংলোও দূর থেকে দেখা যেত। আব্বার কলিগদের অনেকের সাথেই আমাদের পারিবারিক যোগাযোগ এবং ঘনিষ্ঠতা ছিলো। সেই রকম কয়েকটি পরিবারও পাহাড়তলীর রেলওয়ে কোয়ার্টারে থাকতো এবং তাদের কয়েক জন ছেলে-মেয়েও সেই স্কুলটিতে পড়তে আসতো।

সেন্ট জেভিয়ার্স ছিল পূরোদস্তুর একটা মিশনারী স্কুল। স্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন সত্যিকার একজন ইংরেজ ভদ্রমহিলা যাকে আমরা বলতাম ‘মাদার’।  এ ছাড়া আরও এক-দুইজন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান শিক্ষক ও ছিলেন। আমি যদিও কোলকাতার স্কুলে পড়েছিলাম, কিন্তু সেটাও ছিল বাংলা মাধ্যমের একটা স্কুল। তাই হঠাৎ করে বছরের মাঝামাঝি সময়ে ভর্তি হয়ে পুরোপুরি ইংরেজি মাধ্যমের এই মিশনারী স্কুলটিতে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পাড়ছিলাম না। মিশকালো সেই অ্যাংলো সিস্টার যখন ক্লাসে পড়া জিজ্ঞেস করতেন, তখন বোকার মতো দাঁড়িয়ে এদিক সেদিক তাকানো ছাড়া কিছু করার থাকতো না। খেয়াল করতাম ক্লাসের সবগুলো ছাত্র মুখে মুচকি হাঁসি নিয়ে আমাকে দেখছে। ভিষন লজ্জা লাগতো। তখনই স্কুল সম্পর্কে আমার একটা ভীতি তৈরি হয়। অবশ্য স্কুলের পড়াকে ভয় পেলেও স্কুলটিকে কিন্তু আমি ভিষন ভালোবেসে ফেলি। এখানে বোধহয় স্কুলটির একটা বর্ণনা দেয়া উচিৎ।

শুরুতে যে পানির ট্যাঙ্কের কথা বলেছি, সেই পাহাড়ের নিচের কয়েকটি ধাপেই ছিল স্কুলটির অবস্থান। ছিল কেন, এখনো অবশ্যই আছে তবে লোকমুখে শুনেছি আগের সেই সুন্দর পরিবেশ এখন আর নেই। সেই সময় পানির ট্যাঙ্কের কাছে পৌঁছাতে হলে স্কুলের পাশ দিয়েই যেতে হতো। ওই সময়ে স্কুলের কোন বাউন্ডারি ছিলো না। স্কুল ছুটির পর পুরো এলাকাটা হয়ে পড়তো প্রায় জনমানবহীন। এখন যদি কেউ সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলটি দেখে তারা কল্পনাও করতে পারবে না শত্তরের দশেকে স্কুলটি কেমন ছিল। তখন স্কুলটির চারিদিকে ছিলো বৃক্ষহীন সবুজ ঘাসে ঢাকা বহুদূর পর্যন্ত উঁচু নিচু পাহাড়ের বিস্তার। সম্ভবত বেলে মাটির আধিক্যের জন্যই কিছু ঝোপঝাড় ছাড়া বড় কোন গাছ সেখানে জন্মাতো না। বিচ্ছিন্ন কিছু রেলওয়ের বাংলো ছাড়া আশেপাশে আর তেমন কোন বাড়ি-ঘর চোখে পড়তো না। স্কুলটার চারপাশে অবশ্য বড় কিছু গাছ ছিলো। আমি যখন সেখানে ভর্তি হই, তখন ছিলো একটাই একতলা লম্বা মূল স্কুল বিল্ডিং। সামনে ছিলো কয়েকশ বর্গফুটের একটা ইট বিছানো চত্বর। স্কুলবাড়ির পেছনে কয়েক গজের মধ্যেই উঠে গেছে পাহাড়ের ঢাল। তাতে বোঝা যায় পাহাড় কেটেই স্কুলটি তৈরি করা হয়েছিলো। একটা চওড়া জাফরিকাটা বারান্দার একদিকে ছিলো সারি সারি কয়েকটা ক্লাসরুম। যতদূর মনে আছে ক্লাসগুলোর কোন সেকশন ছিলো না, একেক রুমে একেকটি ক্লাস বসতো। আমাদের ক্লাস ফাইভে ছিল মাত্র পনের-ষোল জন ছাত্র-ছাত্রী। অন্যান্য ক্লাসেও ১৫/২০ জনের বেশি ছাত্র-ছাত্রী ছিলো না। স্কুল বিল্ডিংএর বা দিকে পাহাড়ের ঢালে বেশ কয়েক ধাপ সিড়ি দিয়ে উঠার পর ছিল স্কুলের অফিসরুম আর শিক্ষকদের বসার ঘর। এই অংশটি ছিল স্কুল বিল্ডিং থেকে একদম আলাদা। অফিস রুমটি ছিল লাল ইটের তৈরি কংক্রিটের ছাদ দেয়া। ভর্তির সময় ছাড়া সেই কক্ষে ঢোকার আর সুযোগ হয় নি যার জন্য অফিস রুমটির ভিতরের তেমন কিছু মনে পড়ে না। অফিস রুম ছাড়িয়ে আরো বেশ কয়েক ধাপ সিড়ি দিয়ে উপরে উঠলে ছিল বেশ বড় একটি গির্জা। গির্জাটি ছিল লম্বা, লাল করোগেটের উঁচু চালার একটি বাড়ি। ভেতরে সারি সারি বেঞ্চে তিরিশ চল্লিশ জন বসার ব্যবস্থা আর ফাদার বা পাদ্রির বক্তৃতার মঞ্চ। বড়দিন বা অন্য কোন উৎসবে বেশ কয়েকবার আমার ভিতরে ঢোকার সুযোগ হয়েছিল। উৎসবের সময় মাদার এবং সিস্টাররা বাচ্চাদের কে চকলেট, বিস্কিট আর সুন্দর ছবির স্টিকার উপহার দিতেন। স্কুলের পাশ দিয়ে সিড়ি দিয়ে উঠলে গির্জার ডান পাশে ছিল ছোট একটা ঘাসে ঢাকা সমতল মাঠ। মাঠের কিনারায় পাহাড়ের ঢালের ধারে বড় বড় কিছু দেবদারু আর অন্য কয়েকটা গাছ ছিলো। মনে আছে কোন কোন দিন ড্রিলের সময় আমাদেরকে গির্জার পাশের সেই মাঠের চোরকাঁটা পরিস্কার করতে হয়েছে। গির্জার ঢোকার রাস্তা ছাড়িয়ে কিছু দূরে পাহাড়ের আরো কয়েক ধাপ উপরেই ছিলো সেই পানির ট্যাঙ্কটা। গির্জার পাশেই একটা ঝুপড়িতে খুবসম্ভব ওই পানির ট্যাঙ্কের কেয়ার টেকারের থাকার ঘর ছিলো। কোন কোন বিকেলে জনহীন সেই স্কুলের পাশ দিয়ে আমরা উঠে যেতাম পানির ট্যাঙ্কটার ওপরে। একটু দূর থেকে দেখলে তিনটি ধাপে অবস্থিত স্কুলটি ছিল সত্যেই ছবির মত সুন্দর। 

এখন স্কুলটি অনেক বড় হয়েছে। বিরাট বিরাট উঁচু কয়েক তলা ভবন তৈরি হয়েছে, হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী সেই স্কুলে পড়ছে। চারিদিকে বাউন্ডারির জন্য এখন কেউ আর ইচ্ছা করলেই স্কুলের পাশ দিয়ে গিয়ে সেই পানির ট্যাঙ্কটির উপরে বসে সূর্যাস্ত দেখতে পারে না। তবে আগের সেই শান্ত নির্জন পরিবেশের কিছুই এখন আর নেই। মানুষ বাড়ার সাথে সাথে পাহাড়তলীর সেই নিরব পাহাড়গুলো জনবসতি, রাস্তাঘাট আর দোকানপাটের ভীড়ে আগের সেই দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য্যও হারিয়ে ফেলছে। আমার সেই কৈশোরের দিনগুলো এখন শুধুই দূর অতীতের স্মৃতি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/94152/</link>
				<pubDate>Thu, 27 Jan 2022 18:15:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পাহাড়তলীর সেই মিশনারী স্কুল<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;<br />
বেশ উঁচু পাহাড়ের ওপর বিশাল গোলাকার কংক্রিটের তৈরি ওয়াটার ট্যাঙ্ক। এই বিরাট ট্যাঙ্কটা থেকে পানি সরবরাহ করা হয় পাহাড়তলী এলাকার সমস্ত রেলওয়ে কর্মচারীদের বাসায় বাসায়। পানির ট্যাঙ্কটা পাহাড়ের মাথায় স্থায়ীভাবে বসানো, সেই ব্রিটিশদের সময় থেকে। কিছু দূরেই প&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-94152"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/94152/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b1e5b22a841544072a145431198b1e73</guid>
				<title>বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি
-------------------------------------------
কতই বা বয়স তখন, পাঁচে পড়েছি কেবল। সারাদেশ লন্ডভন্ড হওয়া যুদ্ধ সবে শেষ হয়েছে। শত অভাবেও সকল বাঙালীর ঘরে ঘরে আনন্দ, সবার মুখে হাঁসি। বিজয়ের মাস  ডিসেম্বর শেষ হয়ে জানুয়ারি, স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন বছর। শোনা গেল বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে ছাড়া পেয়েছেন, উনি দেশে আসছেন। আমরা তখন ঢাকার তেজতুরি বাজারে নিজেদের বাসায় ফিরে এসেছি। এখন ভাবতে অবাক লাগে মুক্তি যুদ্ধের এই নয় মাস ঢাকায় থেকেও পরিবারের সবাই এবং আত্মীয়-পরিজন সকলেই বেঁচে ছিলাম। যুদ্ধের সময়গুলোতেও মাঠে, বাড়ির উঠোনে খেলাধুলার কিছু কমতি ছিলোনা। দিনে রাতে সবসময় কাছে-দূরে রাইফেল,মেশিনগান আর মর্টারের গোলার শব্দ শুনে শুনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম যেন সবাই। অবশেষে স্বাধীনতা তো আসলো; পূর্ব দিগন্তে সূর্য হেঁসে উঠলো, সেই হাঁসি ছড়িয়ে পড়লো সব বাঙালীর মুখে মুখে। বড়দের সবার মুখে মুখে শুধু শেখ সাহেবের কথা; উনি কবে আসছেন। অবশেষে সেই দিনটিও আসলো বাঙালীর জীবনে। ১০ই জানুয়ারি। বাড়িতে বাড়িতে সাজ সাজ রব। বড় রাস্তায়, মানে ফার্মগেট থেকে শাহবাগ যাবার রাস্তাটায় সবাই দাঁড়াবে মহানায়ককে ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে। আমি তো অনেক ছোট। সবাই বললো ভীড়ের মধ্যে যাবার দরকার নাই। কিন্তু আমার বোন সালমা আপা বললো সে আমাকে দেখে রাখবে। আমি গেলাম সালমা আপার সাথে। রাস্তার পাশে কি ভীড়, দাঁড়ানোর যায়গা নাই। আপা আমাকে নিয়ে উঠে গেল একটা অর্ধেক হওয়া বাড়ির খোলা বারান্দায়। মনে আছে সেখানেও অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলো। হাজার মানুষের কোলাহল। এক সময় দেখা গেল উনি আসছেন। এতো ছোটবেলার স্মৃতি খুব ভালো মনে নেই, তবে মনে আছে আমাকে দেখানোর জন্য আপা আমাকে কোলে তুলে নিয়েছিল। আমিও কয়েক ঝলক দেখলাম ইতিহাসের মহানায়ককে খোলা গাড়িতে  ফুলের মালা গলায় জনতার উদ্দশ্যে হাত নাড়তে নাড়তে এগিয়ে চলেছেন। চারিদিকে জয় বাঙলা ধ্বনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আজ পূর্ণতা পেল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/88206/</link>
				<pubDate>Mon, 10 Jan 2022 02:10:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
কতই বা বয়স তখন, পাঁচে পড়েছি কেবল। সারাদেশ লন্ডভন্ড হওয়া যুদ্ধ সবে শেষ হয়েছে। শত অভাবেও সকল বাঙালীর ঘরে ঘরে আনন্দ, সবার মুখে হাঁসি। বিজয়ের মাস  ডিসেম্বর শেষ হয়ে জানুয়ারি, স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন বছর। শোনা গেল বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে ছাড়া পেয়েছেন, উনি দেশে আসছেন। আমরা তখন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-88206"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/88206/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cda0b1ccef2bcce9c98ef373f7916433</guid>
				<title>প্রথম দেখা সুন্দরবন
-------------------------------------------
যশোর থেকে খুলনা, তারপর বাসে করে সাতক্ষীরা হয়ে কালিগঞ্জ, তারপর থেমে পড়তে হলো। নদী পেরোতে হবে। ঢাকা থেকে যাওয়া হয়েছিল গাড়ীতেই। ছোট্ট গাড়ী, টয়োটা পাবলিকা। আমি তখন ক্লাস সেভেন এর ছা্ত্র। গাড়ীতে যাত্রী বলতে আব্বা, আম্মা আর আমার বড় আপার ছেলে রাজু আর আমি। শীতের এক ভোরে ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে যশোর, সেখানে একদিন থেকে পরদিন ভোরে আবার খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা। এবার কিন্তু আর আব্বা আম্মার সাথে গাড়ীতে না, কারণ যশোর থেকে আমার বোন আর তার স্বামী আমাদের সাথে যোগ দেওয়াতে আমার আর আমাদের ড্রাইভারের বাসে যাওয়াই ঠিক হলো। গাড়ী চালাবেন আমার বোন জামাই। আর আমাদের সঙ্গি হলো সুন্দরবনের কাছের এক বাসিন্দা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিওলজিতে পড়া ২১/২২ বছর বয়সী ছেলে, যাদের বাসায় গিয়ে আমাদের কিছুদিন থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রাপথের খুটিনাটি এতদিন পর আর বিশেষ মনে নেই তবে খুলনা এসে আব্বাদের সাথে মিলিত হওয়ার সময় শহরটা এক ঝলক দেখা হলো। বেশ ফাঁকা ফাঁকা পরিচ্ছন্ন সুন্দর একটা শহর।  সময়ের অভাবে তখন খুলনা শহরটা ভালো করে দেখা হয়নি । তড়ি ঘড়ি করে দুপুরের বেশ আগেই রওয়ানা হলাম আগের মতই বাসে করে। খুলনা থেকে সাতক্ষীরা হয়ে কালিগঞ্জ প্রায় ৪০ মাইল পথ। রাস্তাও বেশ ভালো। আমরা আব্বাদের কিছু আগেই রওয়ানা হলাম। আব্বা বলে দিলেন কালিগঞ্জ গিয়ে দুপুরের খাবার হিসাবে কিছু খেয়ে নেয়া হবে।
 
দুই আড়াই ঘন্টা বাস যাত্রার পর কালিগঞ্জ যখন পৌঁছলাম তখন দুপুর দুইটা। ওদের গাড়ী দেখি আগেই এসে আমাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে। সামনেই ছোট একটা নদী যেটা আমাদের পেরিয়ে যেতে হবে। নদীটার নাম খুব সম্ভব খাকসালি, খুব বেশী হলে ১৪০/১৫০ গজ চওড়া একটা শাখা নদী, খেয়া নৌকায়ে সবাই পার হচ্ছে। গাড়ী বা ছোট ট্রাক পার করার জন্য আছে বড় দুইটা নৌকার ওপরে পাটাতন দিয়ে বানানো র‌্যাফ্ট বা ভেলা, যাতে প্রতিবার একটি গাড়ী পারাপার হতে পারে। সবারই বেশ খিদা লেগেছিল। নদী পার হওয়ার আগে কিছু খাবার জন্য নদীপারের একটা খাবার দোকানে ঢুকলাম সবাই। দেখি চেয়ার টেবিল কিছু নাই, মাটিতে চাটাই পাতা। খাবার দিলো মোটা চালের ভাত আর ভীষন ভালো বড় রুই মাছের ভাজা। খাবার ভালোই লাগলো কিন্তু মুশকিল হলো পানি খাওয়া নিয়ে। ভীষন নোনা আর ঘোলা। ওই সময় তো এখনকার মতো বোতলজাত ফিল্টারড পানি পাওয়া যেত না, তাই সেই পানিই বাধ্য হয়ে খেতে হলো সবার। যাই হোক খাওয়া শেষ করে একসাথেই সবাই সেই ভেলায় গাড়ীসহ নদী পার হলাম। এখান থেকে দশ বার মাইল পাকা সরক, তারপরই কাঁচা মেঠো পথে আরও ৪/৫ মাইল যেতে হবে। ওরা তো গাড়ী নিয়ে চলে গেল। আমাদের যাতায়াতের বাহন বলতে তিন চাকার রিক্সা ভ্যান অথবা আদ্যিকালের লক্কড় মার্কা টু-স্ট্রোক ইঞ্জিনের স্কুটার। তাতেই চড়ে বসলাম আমরা তিনজন। দশ বার মাইল পারি দিয়ে যখন পাকা রাস্তার প্রান্তে পৌঁছালাম তখন রাস্তার ধুলা আর স্কুটারের ঝাঁকুনিতে কান মাথা বোঁ বোঁ করছে। স্কুটার থেকে নেমে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
 
শুনলাম এবার বাকি রাস্তা নাকি যেতে হবে হেলিকপ্টারে চড়ে। শুনে নিশ্চয় আপনারা চমকে গেলেন। আমিও ভীষন চমকে ছিলাম। তখন বয়স কম ছিলো, ভাবলাম হলে হতেও তো পারে। নেপোলিয়ন তো বলেই ছিলেন পৃথিবীতে কোনকিছুই নাকি অসম্ভব না। পরে দেখলাম, দুর দুর!! হেলিকপ্টার শুধু নামে, আসলে সেটা পেছনে টায়ারের বাতাস ভরা টিউবের বসার আসন ওয়ালা সাইকেল। তিনজনের জন্য তিনটা। আমরা শুধু পেছনে ক্যারিয়ারে বসবো, চালাবে হেলিকপ্টারের চালক। ক্যারিয়ারে আরামদায়ক নরম আসন। তখন শীতের রোদ মরে এসেছে। ঠান্তা বাতাস দিচ্ছে। আমরা চললাম ধান ক্ষেত, সবজী ক্ষেত, ঝোপ ঝাড়, কিছু কিছু বসতির পাশ কাটিয়ে উচু নিচু রাস্তা ধরে, সেই যন্ত্রণাদায়ক স্কুটার যাত্রার চেয়ে হাজারগুণ আরামে। আমরা চেঁচিয়ে পরস্পরের সাথে কথা বলতে পারছিলাম। আশে পাশে প্রচুর তাল গাছ চোখে পড়ছিলো। এত তাল গাছ আগে কখনো দেখিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া সিনিয়র ভাইটি বললো বাড়িতে গেলে তালের রস খাওয়াবে। তালের যে রস হয় সেটাই আমি জানতাম না। আমি চিন্তা করছিলাম এই রাস্তা দিয়ে আমাদের ছোট্ট গাড়ীটা কিভাবে গেল। পরে দেখেছিলাম বিশেষ ক্ষতি ছাড়াই গাড়িটা ঠিক ভাবেই পৌঁছে ছিল। যাই হোক শেষ পর্যন্ত সেই হেলিকপ্টার ভ্রমন শেষ হলো। আমরা পৌঁছালাম এসে সেই সিনিয়র ভাইটির বাসায়।

এসে দেখলাম গাড়ীটা অনেক আগেই এসে পৌঁছেছে আর আব্বা, আম্মা আর বোন, বোন-জামাই সবাই  বাড়ীর বৈঠকখানায় বসে গৃহস্বামী এবং উনার ছেলে মেয়েদের সাথে কথা-বার্তা বলছেন। বেশ বড় বাড়ী, চার দিকে বড় বড় চারটে ঘর, তারই একটাতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হযেছে। বৈঠক খানাতে তখন বাঘ শিকারের গল্প বেশ জমে উঠেছে। শুনলাম গৃহস্বামী যৌবনে অনেক শিকার করেছেন। বেশ কয়েকটা রয়েল বেঙ্গল বাঘ ও মেরেছেন ষাট-এর দশকে, তাঁর শিকার জীবনের শেষ ভাগে। তাদের মধ্যে একটা ছিল রীতিমত মানুষ খেকো, যেটা ছিল চল্লিশ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ। বাঘটা নাকি মানুষ শিকার করতে লোকালয়ের আশেপাশেই ঘোরাঘুরি করতো। আমরা খুব উৎসাহ নিয়ে তাঁর সেই শিকার কাহিনী শুনলাম। সেই চল্লিশটা মানুষ খাওয়া বাঘের চামড়া এবং খুলিটা উনার বাড়িতেই ছিল। উনি সেটা আমাদের দেখালেন! বিশাল এক বাঘের মাথার খুলি! স্ব-দন্ত মাড়ি থেকে আলগা হয়ে ছিল। এক একটা প্রায় তিন ইঞ্চি লম্বা আর সেই অনুপাতে মোটা। পরে ঠিক হলো উনি আমাদেরকে সেই মানুষখেকো শিকারের যায়গাটায় নিয়ে যাবেন। এর পর খাওয়া দাওয়ার পর আমরা সবাই ঘুমাতে চলে গেলাম।

পরদিন সকালে উঠে জানতে পারলাম ওদের এইখানে নাকি সকালে তেমন কোন নাস্তার ব্যবস্থা নেই। গৃহস্বামীর চাষের আবাদ আছে, সকালে যে যার মত বাসি পান্তা খেয়ে কাজে চলে যান আর দুপুরে ফিরে এসে ভাত । আসেপাশে কোন দোকানপাট নেই আর আটাও এখানে পাওয়া দুস্কর। অতএব আমাদের নাস্তার ব্যবস্থা হলো প্রচুর হাঁসের ডিম ভাজা আর সেই তালের রস। কাঁচের জাগে করে আনা সেই ঠান্ডা সোনালী তালের রসের কোন তুলনা হয় না। আমি একাই এক জাগ রস খেয়ে ফেললাম। এর পর যে কয়দিন সেখানে ছিলাম, প্রতি দিনই সেই রস খেয়েছি প্রাণ ভরে। তাল জিনিষটা আমি কোনদিনই পছন্দ করিনি, কিন্তু সেই তালের রসের স্বাদ যে এতো ভালো, এখনো আমার মুখে লেগে আছে।

সেই দিনটা আমরা বাড়ির আশেপাশে আর একটু দুরে নদীর পারে ঘুরে কাটিয়ে দিলাম। ঠিক হলো পরদিন সুন্দরবনের ভেতর প্রবেশ করা হবে। গৃহস্বামীর একটা বেশ বড় নৌকা ছিল, সেটাতে যাবে আব্বা, আম্মা, বোন, বোনজামাই সহ বাড়ির আরো কয়েকজন ছেলে মেয়ে। আর একটা ছোট নৌকার ব্যবস্থা হলো। সেটাতে যাবো আমি, আমাদের ড্রাইভার, ভাগ্নে রাজু, ভার্সিটিতে পড়া ভাইটি আর একজন বন্দুকধারী শিকারী এবং নৌকার মাঝি। বড় নৌকাতে থাকবেন গৃহস্বামী এবং সুন্দরবন স্কুলের একজন মাস্টার। তাঁরা দুজনেই শিকারী আর তাদের দুজনের কাছেই দো-নলা বন্দুক। আর আমাদের নৌকাতে বন্দুকধারী একজন।

পরদিন সকালে নৌ-যাত্রার তোড়জোড় শুরু হলো। বাড়ি থেকে একটু দূরে একটা খালে নৌকাদুটো বাঁধা ছিলো। আমরা সবাই চড়ে বসার পর যাত্রা শুরু হলো। বেশ কিছুদূর খালে খালে চলার পর একজায়গায় এসে পড়লাম যেখানে উঁচু একটা বাঁধ। এই বাঁধের ওপারেই বড় নদী। সেটা ছিলো হাড়িভাঙ্গা নদীর একটা বড় শাখা। সবাই নৌকা থেকে নেমে আমরা ছেলেরা নৌকা দুটোকে হেঁইও হেঁইও করে টেনে এবং ঠেলে সেই বাঁধ পেরিয়ে বড় নদীতে এনে ফেললাম। সবারই হাত-পা কাদায় মাখামাখি হলো। নৌকা দুটো নদীতে নামানোর পর আবার যাত্রা শুরু হলো। শুনলাম নদীর ওপারেই নাকি ভারত। নদীতে দেখলাম বেশ স্রোত। ওপারে দেখা যাচ্ছে ভারত অংশের সুন্দরবনের ঘন গাছের সারি। সেই নদী ধরে কিছুদূর গিয়ে একটা বড় খালে ঢুকে পড়লো নৌকা দুটো। দু&#039;পাশে ঘন গাছের বন। এখান থেকেই বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে সুন্দরবনের সাথে প্রথম পরিচয় হলো। সুন্দরবনের ভেতর যারা প্রবেশ করেনি তাদেরকে ভাষায় বর্ণনা করে কিছুই বোঝানো যাবে না। মনে হলো অন্য এক পৃথিবীতে এসে পড়লাম। এত নিস্তব্ধতা আমি আগে কোনদিন অনুভব করিনি। নদীতে তখন জোয়ার। পানির কুল কুল শব্দ ছাড়া বিশ্বে আর কোন শব্দ আছে বলে মনে হলো না। মনে হলো খালি একটা ঘরে বসে আছি, সামান্য একটা শব্দও কান এড়িয়ে যাচ্ছিলো না। মনে হচ্ছিলো আমরা ঘরের মধ্যে কথা বলছি। মাঝে মাঝে একটা দুটো পাখীর ডাক শোনা যাচ্ছিলো। আর নৌকার বৈঠার সাথে পানির স্রোতের শব্দ। আর কোন শব্দ নেই। কেউ আমরা তেমন কথা বলছিলাম না। আব্বা, আম্মাদের নৌকাটা বেশ এগিয়ে গেছে, আর দেখা যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে নদীতে পানির ঘুর্ণি। এই ঘুর্ণির আবর্তে পড়লে আর দেখতে হবে না, সাথে সাথেই তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের নৌকার মাঝি সাবধানে সেগুলো এড়িয়ে যাচ্ছিলো। কিছুদূর গিয়ে আবার একটা ছোট খালে ঢুকে পড়লাম। চারদিকে কত যে ছোট বড় খাল, সব যেন একই রকম দেখতে। বন এখানে আরো নিস্তব্ধ। অবশেষে একটা ছোট নিস্তরঙ্গ খালে প্রবেশ করলাম যেটা বনের প্রান্তে এসে আস্তে আস্তে শেষ হয়ে গেছে। বড় নৌকাটাও এখানে এসে থেমেছে। চারদিকে সুন্দরী, গোলপাতা আর হেথালের বন আর মাটিতে চোখা চোখা শ্বাসমূল যাকে চলতি ভাষায় বলে শুলো। মাটি লবনাক্ত আর কর্দমাক্ত হওয়ার জন্য গাছের মূলগুলি মাটি ভেদ করে ওপরে উঠে আসে। তার ফাঁকে ফাঁকে অসংখ্য হরিণ আর শুয়োরের পায়ের ছাপ। খালের দুইপাশে কেওড়ার ঝোপ। 

এটাই সেই যায়গা সেখানে আমাদের গৃহস্বামী ১১ বছর আগে মানুষখেকো বাঘটাকে মেরেছিলেন। উনি আমাদের দেখালেন কোন ঝোপটার নিচে বাঘটা ছিলো আর উনি কিভাবে নৌকা থেকে নেমেই বসে পড়ে বাঘটাকে গুলি করেছিলেন। আস্তে আস্তেই কথা হচ্ছিলো। আমরা সবাই পারে নামলাম। যায়গাটা ভিষন নির্জন। এতদূর আসলাম কিন্তু গাছে গাছে কয়েকটা বানর ছাড়া আর কোন বন্যপ্রাণী কিন্তু তেমন দেখলাম না। এর যে কোন কারণ ছিলো তা কিন্তু আগে  বুঝিনি। নামার পরে  যে দুজন শিকারী আমাদের সাথে ছিলো তারা গাছ থেকে দু-ইঞ্চি মতো মোটা আর হাত তিনেক লম্বা ডাল কেটে নিয়ে প্রায় সবার হাতে ধরিয়ে দিলেন, আর বললেন কোন শব্দ না করতে আর চারি দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে। আমরা কর্দমাক্ত মাটিতে আস্তে আস্তে শুলো বাঁচিয়ে কিছুটা ভেতর দিকে এগুলাম। সবার মধ্যে ভয়ের একটা গা শিরশির করা অনুভুতি। একজন শিকারী মাটিতে উবু হয়ে বসে কি যেন দেখলো, তারপর সবাইকে ডেকে দেখতে বললো। গিয়ে দেখলাম বাঘের পায়ের ছাপ। সেই প্রথম বাঘের থাবার ছাপ দেখলাম। ভেজা কাদা মাটিতে একদম তাজা ছাপ, চুইয়ে চুইয়ে পানি জমছে তাতে। উনি বললেন ছয়/সাত মিনিটও হয় নি বাঘটা এখান দিয়ে গেছে, আরও বললেন দরকার হলে সবাই যেন গাছে উঠতে প্রন্তুত থাকি, আর সবাই কাছাকাছি একসাথে থাকি। শুনে তো আমাদের গলা শুকিয়ে গেল। এই শীতের সকালেও মনে হলো গরম লাগছে। আমার সেই বয়সে এতটা উত্তেজনা খুব কমই অনুভব করেছি। কোন কথা না বলে আমরা যার যার যায়গায় দাড়িয়ে থাকলাম। আমি চিন্তা করছিলাম বাঘ মশাই যদি সত্যি দেখা দেন, তখন কি করবো। আশেপাশের গাছগুলোও তেমন মজবুত নয় চড়ে বসার জন্য। যাই হোক প্রায় দশ পনের মিনিট সেই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকার পর শিকারী দুজন বললেন বিপদ সম্ভবত কাছাকাছি নেই তবুও  আর সময় নষ্ট না করে নৌকায় গিয়ে বসতে বললেন। আমরাও হাপ ছেড়ে বাঁচলাম। বাঘের থাবার সেই ছাপটা আমি কাদামাটি থেকে যত্ন করে তুলে এনেছিলাম স্বারক হিসেবে, কিন্তু কি আফসোস নৌকাতেই সেটা ভেঙ্গে গিয়েছিল।
 
মাঝিরা নৌকা দুটোকে আবার বড় খালে এনে ফেললো। সাথে খাবার ছিলো। আমরা নৌকাতে বসেই দুপুরের খাবার, খিচুড়ি আর ডিমের ভুনা খেলাম। সেটাও একটা দারুণ অভিজ্ঞতা। আগে এই ভাবে নৌকায় বসে কোনদিন খাওয়া হয়নি। বড় নৌকাতে ওরা কি গল্প করছিলো জানি না, তবে আমরা আমাদের মাঝি আর যে শিকারী আমাদের সাথে ছিল, তাদের অভিজ্ঞতার অনেক গল্প শুনলাম। আমাদের ড্রাইভার, সিনিয়র ভাইটি আর আমার ভাগ্নে রাজূ আমরা সবাই শুনছিলাম ওরা কিভাবে রাতের অন্ধকারে জোরালো টর্চের আলোয় হরিণ শিকার করে নিয়ে যায়। সুন্দরবনের আশেপাশের গ্রামগুলোর অনেকেই নাকি তাই করে। তখনো শিকার বন্ধে এত কড়াকড়ি ছিলনা। শিকারী বলছি বটে কিন্তু উনিও কোন পেশাদার শিকারী নন। মাংসের জন্য মাঝে মাঝে হরিণ বা পাখি শিকার করেন। উনি বললেন আমাদের আসা উপলক্ষে হরিণ শিকারের একটা পরিকল্পনা নাকি করা হয়েছে এবং সেটা আগামীকাল রাতেই। উত্তেজনায় আমার তো প্রায় দম বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়। আমার নিজেরও একটা এযারগান ছিলো এবং ওই বয়েসে সেটা দিয়ে অনেক পাখিও শিকার করেছি। শিকারের প্রতি একটা আকর্ষন আমার সব সময়ই ছিলো। মনে মনে ঠিক করলাম ওনাদের শিকার অভিযানে সঙ্গি হবো। আমরা কথা বলছিলাম, মনে হচ্ছিলো আমাদের কথা ছাড়া আর নদীর পানির একটানা কুলকুল শব্দ ছাড়া জগতে আর কোন শব্দ নাই। তখন বিকেল হয়ে আসছে। হঠাৎ খালের অপর পারে, খুব সম্ভবত আমাদের থেকে ৩৫/৪০ গজ দূরে একটা বড় সাদা বক এসে বসলো। সাথে সাথে ভার্সিটিতে পড়া সিনিয়র ভাইটি শিকারী ভাইটির কাছ থেকে বন্দুকটা নিয়ে কোন কিছু চিন্তা না করেই ফায়ার করে দিলো। নৌকাটা ভিষণ ভাবে দুলে উঠলো আর বন্দুকের বিকট শব্দ সেই নিদারুণ নিস্তব্ধতা খান খান করে বহুক্ষণ ধরে প্রতিধ্বনিত হতে থাকলো। বেশ অনেকটা সময় সেই শব্দের রেশ থেকে গেল। কিন্তু আশ্চর্য্যর বিষয় এত কাছ থেকে ছোড়া ৫ নম্বর কার্তুজের একটা ছিটাও অত বড় বকটার গায়ে লাগলো না, দিব্যি উড়ে চলে গেল।

এবার ফেরার পালা। নদীতে তখন ভাটার টান। আশে পাশে আরো কয়েকটা গোলপাতা আর কাঠ নিয়ে যাওয়া নৌকা দেখা যাচ্ছে। আমার ভাগ্নে খুবই ছোট তখন, সবে ক্লাস টুতে পড়ে। সে কি মনে করে হঠাৎ প্রশ্ন করে বসলো রাস্তায় যেমন ট্রাফিক পুলিশ থাকে, নদীতেও সেরকম ট্রাফিক পুলিশ আছে কিনা। আর যায় কোথায়, সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। শিকারী ভদ্রলোক রসিক মানুষ। উনি দুষ্টামি করে বললেন, থাকবে না কেন অবশ্যই আছে। এই যে নৌকা থেকে গুলি করা হলো, এর জন্য সামনে ট্রাফিক পুলিশ আমাদের আটকাতে পারে। আমাদেরকে খুব সাবধানে যেতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের ব্যপারটায় সবাই খুব মজা পাচ্ছিলো। আমাদের ড্রাইভার যখন জিগেস করলো আর কতক্ষণ লাগবে বাসায় ফিরতে, উনি বললেন আর বেশিক্ষণ না, ঘন্টা খানেকের মধ্যে পৌঁছে যাব, অবশ্য যদি ট্রাফিক পুলিশ না আটকায়।

সারাটা দিন বনের ভেতর কাটিয়ে কয়েকটা বানর আর একটা সাদা বক ছাড়া তেমন কিছুই দেখা হলো না। তারপরও কিন্তু মনটা আনন্দে ভরে রইল। সুন্দরবনের বর্ণনাতীত সৌন্দর্য দেখার আনন্দ। সন্ধ্যা হবার কিছু আগেই পৌঁছালাম সেই উঁচু বাঁধের কাছে। আবার ঠেলে, ধাক্বিয়ে নৌকা দুটো তোলা হলো বাঁধের উপরে। উঁচু পারের উপর দাঁড়িয়ে দেখা যায় দূরে সুন্দরবনের ঘন নিবিড় গাছের সারি। আমার কৈশরের সেই প্রথম দেখা সুন্দরবনের স্মৃতি অবিস্মরনীয় হয়ে রইল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/86599/</link>
				<pubDate>Wed, 05 Jan 2022 10:08:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রথম দেখা সুন্দরবন<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
যশোর থেকে খুলনা, তারপর বাসে করে সাতক্ষীরা হয়ে কালিগঞ্জ, তারপর থেমে পড়তে হলো। নদী পেরোতে হবে। ঢাকা থেকে যাওয়া হয়েছিল গাড়ীতেই। ছোট্ট গাড়ী, টয়োটা পাবলিকা। আমি তখন ক্লাস সেভেন এর ছা্ত্র। গাড়ীতে যাত্রী বলতে আব্বা, আম্মা আর আমার বড় আপার ছেলে রাজু আর আমি। শীতের এক ভোরে ঢাকা থেকে রওয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-86599"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/86599/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ed2fb9de59943629779fa73502e33341</guid>
				<title>সংসদ ভবন
-------------------------------
মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন সংসদ ভবনের সাথে পরিচয় সেই ৮০&#039;র দশকের শুরুতে। অবশ্য তখনও দেখতাম সেটা অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা বিশাল এক স্থাপনা। মনে হতো পরিত্যক্ত। তবে ক্রিসেন্ট লেকের দিকটায় গাছপালা আর ঘাসে ঢাকা খোলামেলা জায়গাটা বেড়ানোর মতোই ছিলো। বাবার রেলওয়েতে চাকুরীর সুবাধে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে থাকবার অভিজ্ঞতা হয়েছে। চট্টগ্রামেই স্কুল জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে। নিজেদের বাড়ি এবং প্রায় সব আত্মীয়-স্বজন ঢাকাবাসী হওয়াতে ঢাকা আসাটা ছিল সবসময় ভিষন আনন্দের। আর ঢাকা এলেই এই সংসদ ভবনের ভিতরে আর আশেপাশে বেড়ানোটা ছিল একরকম অবধারিত। এর সামনে পেছনের বিস্তৃত আঙ্গিনা আর ক্রিসেন্ট লেকের দিক থেকে আসলে ভবনের সামনের বিশাল জায়গা নিয়ে শ্বেতপাথরের সিড়ি, সিড়ি দিয়ে উঠলেই মাঠের মত বিরাট খোলা চত্বর, (আমরা ভাবতাম হেলিপ্যাড) এরপরেই ভবনে ঢোকার প্রসস্থ বিশাল দরজা। যত দেখতাম ততই বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়তাম। ১৯৮০ তে বাবা রিটায়ার করার পর আমরা পাকাপাকি ভাবে চলে আসি ঢাকায়। ফার্মগেট সংলগ্ন তেজতুরী বাজারে নিজেদের এবং দুই মামা আর খালার বাড়ি হওয়ায় বেশির ভাগ সময় কাটতো সেখানেই, আর বিকেলে মামাতো ভাই আর কয়েক জন বন্ধুর সাথে চলে যেতাম সংসদ ভবনের বিশাল মুক্তাঙ্গনে। মুক্তাঙ্গন এই জন্য যে সেখানে যাওয়ার কোন বাঁধা ছিল না। কিছুক্ষণ বাইরে দৌড়া দৌড়ি করে ঢুকে পড়তাম ভবনের ভিতরে। ভেতরটা ছিলো যেন এক বিরাট গোলকধাঁধা। কত শত ঘর, কত গলি (করিডোর), কত সিড়ি। আমাদের একটা চেষ্টা থাকতো কত নতুন নতুন পথ খুঁজে বাড়িটার ছাদে পৌঁছানো যায়। ভবনের ভিতর কোন কোন জায়গাতে দেখতাম কিছু লোক যেন দায়সারা ভাবে কাজ করছে। ওরা আমাদের কিছু বলতো না। ছাদে উঠলে দেখা যেত এক দিকে ক্রিসেন্ট লেক সংলগ্ন চন্দ্রিমা উদ্যান, দূরে আগারগাঁও আবহাওয়া অফিস আর অন্য দিকে মানিক মিয়া এভিনিউ এর বিশাল চওড়া আইল্যান্ডের এর উপর গাছের ভিড় (তখনও গাছগুলো কাটা হযনি)। ওই গাছে ঢাকা আইল্যান্ডটার জন্য এখনো খুব কষ্ট হয়। এরপর মিরপুর পল্লবীর বাসায় উঠে আসায় আর পড়াশুনার চাপ বাড়ায় সংসদ ভবনের সাথে যোগাযোগ কমতে থাকে। আস্তে আস্তে সংসদ ভবন এলাকায় ঢোকায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এরপর নানা রকম পটপরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে দেশ এগিয়ে যেতে থাকে। বয়সের সাথে সাথে জীবনের নানা আয়োজনে ব্যস্ততাও বাড়তে থাকে। এখনতো শুধু বাসে বা গাড়িতে যাওয়ার সময় দূর থেকে এক ঝলক দেখা। তবুও কৈশরের সেই স্মৃতি বিজড়িত সংসদ ভবনটিকে খুব আপন মনে হয়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/85725/</link>
				<pubDate>Sun, 02 Jan 2022 13:43:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সংসদ ভবন<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন সংসদ ভবনের সাথে পরিচয় সেই ৮০&#8217;র দশকের শুরুতে। অবশ্য তখনও দেখতাম সেটা অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা বিশাল এক স্থাপনা। মনে হতো পরিত্যক্ত। তবে ক্রিসেন্ট লেকের দিকটায় গাছপালা আর ঘাসে ঢাকা খোলামেলা জায়গাটা বেড়ানোর মতোই ছিলো। বাবার রেলওয়েতে চাকুরীর সুবাধে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে থাকবার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-85725"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/85725/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c0cd5cfe9863fbe5918f5ea94902abef</guid>
				<title>আমাদের মেঘনা নদী
---------------------------------------------
সেটা ছিলো আমার প্রথম সত্যিকার নৌকায় নদী ভ্রমনের অভিজ্ঞতা, অন্তত বোধ বুদ্ধি হওয়ার পর। কারণ খুব ছোট বেলায় দেশের বাড়ি থেকে একবার নৌকায় ঢাকা আসার ঝাপসা কিছু স্মৃতি থাকলেও সেই লম্বা নদী ভ্রমনের কিছুই প্রায় মনে নেই। শুধু মনে আছে উঁচু উঁচু ধান আর পাট খেতের ভিতর দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে নৌকাটা চলছিলো, কারণ সেটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়। আমি তখন খুবই ছোট। যুদ্ধের সময় ঢাকা থেকে প্রাণ নিয়ে যারা গ্রামের বাড়িতে যেতে পেরেছিলো তাদের মধ্যে আমাদের পরিবারও ছিল। স্ব-চোক্ষে নদী দেখার অভিজ্ঞতা আমার সেটাই ছিলো প্রথম। না, কথাটা বোধ হয় ঠিক হলো না। আব্বার কর্মক্ষেত্র সৈয়দপুর থেকে ঢাকা আসতে পদ্মা পারি দিতে হয়। তবে সেই স্মৃতি একেবারেই নেই। যুদ্ধের সময় পালিয়ে  ঢাকার ডেমরা থেকে নদীপথে নরসিংদী। তবে নৌকায় নয়, লঞ্চে। আমি যদিও খুবই ছোট কিন্ত মনে পড়ে আমাদের যায়গা হয়ে ছিলো লঞ্চের নিচের তলায়। গাদাগাদি করে কতযে মানুষ উঠেছিলো সেটাতে আর লঞ্চটা প্রবল ঢেউ এর মধ্যে কিভাবে যে নদী পার হয়ে ছিলো সে এক ভয়ঙ্কর কাহিনী। টালমাটাল লঞ্চটা যখন ভরা মেঘনায় মাঝ নদীতে, তখন মনে আছে নিচের জানলা দিয়ে দেখছিলাম কিছু দূরে একটা ছোট নৌকা চলেছে লঞ্চের পাশ দিয়ে. ঢেউএর  তোড়ে নৌকাটা একবার দেখা যাচ্ছে, পরক্ষণেই ঢেউএর নিচে হারিয়ে যাচ্ছে। আর মনে আছে লঞ্চের জানালার কয়েক ইঞ্চি নিচেই নদীর পানি, হাত বাড়ালেই পানি ধরা যাচ্ছিলো। ছোট ছিলাম বলেই ভয়ের অনুভুতিটা ছিলো না। পরে বড়দের মুখে শুনেছি আমাদের পরম সৌভাগ্য যে আমরা নদী পার হয়ে আসতে পেরেছিলাম। 

এখানে বলে রাখি ছোট বেলাতেই আমাকে সাতার শেখানোর একটা চেষ্টা নেওয়া হয়েছিল। আমার ভাই-বোনরা সবাই সাতার জানতো। আব্বার চাকরীর সুবাদে আমরা যখন সৈয়দপুর রেলওয়ে অফিসার্স কোয়ার্টারে থাকতাম তখন আমার ভাই-বোনরা প্রায় সবাই অফিসার্স ক্লাবের সুইমিং পুলে সাতার কাটতে যেত। সেইখানে আমার মেজ বোন আমাকে একবার সাতার শেখানোর চেষ্টা করে। আমার তখন চার, সারে চার বছর বয়স। সুইমিংপুলের পারে বসে পানিতে পা ডুবিয়ে বসে ওদের সাতার কাটা আর ডাইভিং দেখতে বেশ মজাই লাগতো। কিন্তু যখন আমাকে পানিতে ছেড়ে দেওয়া হলো তখন হাবুডুবু খেতে খেতে চিৎকার করে এমন কান্না শুরু করলাম যে সেটাই হলো আমার সাতার শেখার ইতি। তার পর তো যুদ্ধ শুরু হলো, আমরাও সৈয়দপুর ছেড়ে চলে আসলাম ঢাকায় নিজ বাড়িতে। তার কিছুদিন পরেই লঞ্চে করে সেই ভয়ঙ্কর নদী পারাপার হওয়ার ঘটনা আর তার কয়েক মাস পরেই আবার গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরে আসা। এরপর অনেক বছর আর পানির সাথে কোন সম্পর্ক ছিলো না। আমারও আর সাতার শেখা হলো না।

যাই হোক, যেটা বলছিলাম, আবার যখন একবার নদীতে নৌকা যাত্রার অভিজ্ঞতা হয় সেটা আমার মেট্রিক পরিক্ষার পর। সেটা হয়েছিল কিছু অদ্ভুত ভাবে। আব্বার চাকরীতে অবসর নেওয়ার পর আমরা তখন পাকাপাকি ভাবে ঢাকার পল্লবীতে নিজেদের বাসায় থাকি। আমার মেট্রিক পরিক্ষার পর পরই আমার এক চাচা মারা যান। আব্বাদের ছয় ভাই-এর মধ্যে তিনিই ছিলেন সবার ছোট। ওনার মৃত্যুটা ছিলো একটা দু্র্ঘটনা। ওনাকে তখন দেশের বাড়িতে আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার জন্য নেওয়া হয়। সাথে গিয়েছিলো আমার মেজ ভাই আর দুই চাচাতো ফুফাতো ভাই। আমাদের আরো কিছু আত্মীয় আগেই গ্রামে চলে গিয়ে ছিলো। কোন কারণে তখন আমার যাওয়া হয়নি। কয়েক দিন পরে আমারও খুব যেতে ইচ্ছা করতে লাগলো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১০ বছরের বেশী সময় আমার আর দেশে যাওয়া হয়নি। বাসায় জোর করে আব্বা আম্মাকে রাজী করিয়ে একদিন একাই রওয়ানা দিলাম দেশের উদ্দেশ্যে এক নিরুদ্দেশ যাত্রায়। কারণ কোথা থেকে বাসে উঠে নরসিংদী যেতে হবে, কোথায় নামতে হবে, সেখান থেকে কিভাবে লঞ্চে উঠতে হবে আর কোথায়ই বা নামতে হবে আর লঞ্চ থেকে নেমে কিভাবে মাইল দেড়েক হেঁটে বা নৌকায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতে হবে সেই সব কিছু বারে বারে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও আমার নিজের কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না।

যাই হোক রওয়ানা তো দিলাম এক সকালে। মিরপুর পল্লবী থেকে বাসে করে গুলিস্থান, সেখান থেকে জিজ্ঞেস করে করে নরসিংদীর বাসে উঠলাম। লক্কর মার্কা মুড়ির টিন বাসে ঢাকা থেকে প্রায় তিন ঘন্টা পরে নরসিংদী বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে পৌঁছালাম। তখন প্রায় দুপুর। সাথে কিছু খাবার দেওয়া হয়েছিলো। তাই খেয়ে লঞ্চে উঠলাম। সেটাও ছিলো বর্ষার ভরা নদী। মৃদু বাতাস থাকলেও নদী বেশ শান্তই মনে হচ্ছিলো। লঞ্চের টিকিট কালেক্টর কে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম আমার গ্রামের যে লঞ্চ ঘাট সেখানে পৌঁছাতে তিন ঘন্টা মত সময লাগবে। আমাদের গ্রামের ঘাট হচ্ছে মানিকনগর। কন্ডাক্টরকে বললাম মানিকনগর আসলে যেন জোরে জোরে চিৎকার করে বলে। আমি দেখছিলাম ঘাটের পন্টুনে নাম লেখা থাকে। আমিও খুব খেয়াল করতে লাগলাম কোন ভাবে মানিকনগর যেন ফসকে না যায়। বলতে গেলে জীবনের প্রথম এই রকম একা একা ভ্রমন। মন প্রাণ দিয়ে উপভোগ করছিলাম। কোন স্টেশনে লঞ্চ ভীড়লে ঘাটের নামটা দেখছিলাম। কিছু কিছু যায়গায় কোন ঘাট নেই, নদীর পারে দুই একটা চালা। সেখানেই লঞ্চ থামছিলো, যাত্রি ওঠা-নামা করছিলো। আমাকে বলা হয়েছিলো মানিকনগর ঘাট বেশ বড় বাজার এলাকা এবং সেখানে ঘাটের পন্টুনে নাম লেখা থাকবে। এই ভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর এক বার একটা ঘাটে লঞ্চ ভিড়লে মনে হলো কেউ যেন ডাকলো মানিকনগর....মানিকনগর বলে। অনেক লোক নামলো উঠলো। আমি তাড়াতাড়ি ঘাটের নামটা দেখলাম। দেখলাম লেখা সারিয়াকান্দি। তার মানে আমার ঘাট এখনো আসে নি। কিন্তু এতক্ষণ তো লাগার কথা নয়, তিন ঘন্টার বেশি সময় পার হয়ে গেছে। আরো দুইটা ঘাট পার হলো। এদিকে বিকেল শেষ হয়ে আসছে। আমি সবসময়েই একটু লাজুক স্বভাবের ছিলাম। কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করতেও কেমন লজ্জা লাগছিলো। কিন্তু এই বার বাধ্য হয়ে লঞ্চের কন্ডাক্টর কে জিজ্ঞেস করলাম। কন্ডাক্টর তো আকাশ থেকে পড়লো। বললো আপনি কোন দুনিয়ায় ছিলেন, মানিকনগর তো অনেক্ষণ পার হয়ে এসেছি। দুই স্টেশন আগে যে বড় ঘাটটা পার হলাম সেইটাই তো মানিকনগর। শুনে আমার তো মাথা ঘুরে গেল। বলে কি এই লোক। আমি বললাম, কই মানিকনগর তো নাম দেখলাম না, লেখা ছিলো সারিয়াকান্দি। তখন সে বললো মানিকনগরের পন্টুন টা খারাপ হওয়াতে অন্য একটা পন্টুন সেখানে দেয়া ছিলো। শুনে তো আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসলো। এখন কি করি। শেষ বিকেলের আলোয় নদীটা কি চমৎকার দেখাচ্ছে, এই যায়গায় নদীটা বাঁক নিয়ে বামদিকে জেগে ওঠা চরের পেছনো হারিয়ে গেছে, সেগুলি উপভোগ করার মানসিক অবস্থা আর ছিলো না। আমার অবস্থা বুঝে কন্ডাক্টর বললো, সামনে  একটা ঘাট পড়বে, সেটা অবশ্য একট চরের মত। সেখানে নেমে ফিরতি লঞ্চে মানিক নগর যেতে পারবো, তবে তার জন্য ঘন্টা দুয়েক অপেক্ষা করতে হবে। আমার আর কিছু করার ছিলো না। কিছুক্ষণ পর সেই জনহীন চরে নেমে পড়লাম।

নেমে দেখলাম সেটা সত্যিকার অর্থে ধু ধু একটা চরের মতই। অনেক দূরে উঁচু পারে কয়েকটা চালা ঘর, ফাঁকা পড়ে আছে। সেখানে কোন জনমানব নেই। কোন দোকানপাট ও দেখলাম না। দিনের আলো দ্রুত নিভে আসছে। এই জনহীন প্রান্তরে একা দাঁড়িয়ে কেমন ভয় ভয় করতে লাগলো। কিছু দূরে দেখলাম কয়েকটা নৌকা বাঁধা আছে। সেদিকেই এগুলাম। পারে তিনটা নৌকা বাঁধা ছিলো। দুজন মাঝি দেখলাম পারে বসে কথা বলতে বলতে তামাক খাচ্ছে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করে জানা গেল, নবীনগর থেকে ছেড়ে আসা ফিরতি লঞ্চ একটা আসবে ঠিকই তবে সেটা কখন তা বলা যাচ্ছে না। এমন কি বেশি রাত হয়ে গেলে সেটা হয়তো নাও আসতে পারে। আমার জন্য খবরটা মরার উপর খাঁড়ার ঘা এর মতই হলো। তখন তারা আমার সম্পর্কে কৌতুহলী হয়ে নানা কথা জিজ্ঞেস করতে লাগলো। বাড়ি কোথায়, এখানে কেন আসলাম এই সব। তাদের কে সবই খুলে বললাম। ওরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আমাকে বললো, আমি চাইলে তারা নৌকায় আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে পারে। আমিও সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলাম।

আগেই বলেছি সেটা ছিলো বর্ষা কালের বিশাল চওড়া নদী। মেঘনা নদী। ভরা বর্ষায় যাদের মেঘনা নদী দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, তারা বলতে পারবে কি বিশাল তার বিস্তার। তখন সন্ধ্যা হয় হয়। বেশ বাতাস দিচ্ছিলো আর পারে বাঁধা নৌকাগুলো ঢেউএর তোড়ে দুলছিলো। তখনো আন্দাজ করতে পারিনি এইরকম অশান্ত নদীতে ছোট একটা নৌকায় এপার ওপার করতে কেমন লাগতে পারে। আমি যেখানে নেমেছিলাম আমাদের মানিকনগর ঘাট ছিলো তার উল্টো পারে এবং প্রায় মাইল তিনেক দূরে। নৌকার ভাড়া ১০০ টাকায় রফা হয়েছিলো। আমার সাথে ছিলো শ তিনেক টাকা। যখনকার কথা বলছি তখন তিনশ টাকা মানে বেশ অনেক টাকা। নৌকা তো ছাড়লো, আর কিছু দূর যেতেই আমার টনক নড়লো। বুঝলাম ঝোঁকের মাথায় নৌকায় উঠে কাজটা ঠিক করিনি। ছোট নৌকাটা এত বেশি দুলছিলো যে ঠিক হয়ে বসতেই পারছিলাম না। দুই পাশে দুইজন মাঝি তখন লগি ছেড়ে বৈঠা ধরেছে। আমাকে বললো শক্ত হয়ে বসেন ভাইসাব, নৌকা কিন্তু ঢেউএর ধাক্কায় অনেক এদিক ওদিক করবে। শুধু দুলুনি না, নৌকা এক একবার প্রায় দুই তিন ফুট উপরে উঠে আবার ধপাস করে ঢেউএর মাথায় পরছে, আবার উঠছে। আমার তো এদিকে নারি ছেড়ার দাখিল। পাটাতনের দুইপাশের কাঠ শক্ত করে ধরে রেখেছি আর আল্লাহ্ র নাম নিচ্ছি। মনে হচ্ছিল এখনি কাত হয়ে নৌকাটা ডুববে আর যেহেতু সাতার জানা নেই আমিও বালুর বস্তার মত টুপ করে তলিয়ে যাবো। মাঝি দুই জন না থাকলে মনে হয় হাউমাউ করে কান্না শুরু করতাম। কতক্ষণ এই ভাবে চলছিলাম বলতে পারবো না। মনে হচ্ছিল অনন্তকাল। চারি দিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। দূরে নদীর অন্য পারে জোনাকির মত দুই একটা আলো মিট মিট করে আবার হারিয়ে যাচ্ছে। 

আরো প্রায় এক ঘন্টা পরে, তখন বেশ রাত হয়ে গেছে, নৌকার দুলুনি কমে আসলো। আকাশে চাঁদ উঠেছে, তার আলোয় দেখলাম আমরা নদী পেরিয়ে এসেছি। এতক্ষণ পরে বড় করে নিশ্বাস নিতে পারলাম। ঘাম দিয়ে যেন জ্বর ছাড়লো। মাঝিদের একজন বললো আমরা মানিকনগর এসে পড়েছি। আমরা এখন যাচ্ছিলাম পারের ধান খেতের পাশ দিয়ে। হঠাৎ দেখি নৌকাটা ধান খেতের ভেতর ঢুকে পড়লো। আমার আবার দম আটকে আসলো। মাঝিদের মতলব কি, এখানে কেন আনলো? ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম চাচা খেতের মধ্যে ঢুকালেন কেন নৌকা? ওরা বললো চকের মধ্যে দিয়ে তাড়াতাড়ি যাওয়া যাবে। দেশের ভাষায় এই বিস্তির্ণ খেতগুলোকে চক বলে। শর শর করে একটানা শব্দে ধান গাছগুলো ভেদ করে চলেছি। এ এক নতুন অভিজ্ঞতা। মাঝিদের একজন হুকো ধরিয়ে তামাক খেতে লাগলো। বাতাসে কড়া তামাকের গন্ধ আর জোছনার আলোয় ডুবে থাকা এক অপার্থিব পরিবেশ। ভয় কেটে গিয়ে মনে এক অদ্ভুত আনন্দবোধ জেগে উঠলো। স্তব্ধ হয়ে নতুন এই প্রকৃতিকে উপলব্ধি করলাম।

ধান খেত থেকে বেরিয়ে আসতেই মাঝি বললো, “আমরা কইলাম আইয়া পরসি ভাইসাব, ওই দেহেন আপনেগো পুকুর পার”। সামনে ঝুপসি অন্ধকার গাছপালায় ঢাকা পার দেখা যাচ্ছে সত্যিই। আরো কাছে যেতে দেখলাম পুকুর পারের ঢালে একটা বড় আম গাছের শিকড়ে বসে সিগারেট খাচ্ছে আমার মেজ ভাই আর ফুফাতো ভাই। তখন রাত আটটা বাজে। পুরো বার ঘন্টা পর আমার সেই রোমাঞ্চকর যাত্রা শেষ হলো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/84158/</link>
				<pubDate>Thu, 30 Dec 2021 05:03:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমাদের মেঘনা নদী<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;<br />
সেটা ছিলো আমার প্রথম সত্যিকার নৌকায় নদী ভ্রমনের অভিজ্ঞতা, অন্তত বোধ বুদ্ধি হওয়ার পর। কারণ খুব ছোট বেলায় দেশের বাড়ি থেকে একবার নৌকায় ঢাকা আসার ঝাপসা কিছু স্মৃতি থাকলেও সেই লম্বা নদী ভ্রমনের কিছুই প্রায় মনে নেই। শুধু মনে আছে উঁচু উঁচু ধান আর পাট খেতের ভিতর দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে ন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-84158"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/84158/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">30f9a66c71be00b89e2209676d9f1b0b</guid>
				<title>৭১’এর ১৬ই ডিসেম্বর

আমি তখন খুব ছোট। এত ছোটবেলার স্মৃতি স্পষ্ট মনে থাকার কথা না, তবুও কিছু কিছু বিশেষ ঘটনা ঝাপসা ভাবে স্মৃতির আড়াল থেকে উঁকি দেয়। আবার পরবর্তি জীবনে বাড়ির বড়দের সাথে কথা বলে সেই মনে পড়াটা আরো স্পষ্ট হয়ে আসে। ৭১’এর ১৬ই ডিসেম্বর আমার বয়স ছিলো ৫ বছরের মত। আমরা তখন থাকতাম কাওরান বাজারের কাছে পূর্ব তেজতুরি বাজারে আমাদের বাড়িতে। যুদ্ধের শেষের দিকে ভারতীয় মিত্রবাহিনী ঢাকার বিভিন্ন যায়গায় পাকিস্তানীদের অবস্থানের উপর বোমা ফেলছিলো। সেই ভারী বোমার আঘাতে ধ্ংসস্তুপ হওয়া তেজগাঁওয়ের এতিম খানা আমাদের বাসা থেকে বেশি দুরে ছিলো না। অন্ধকার রাতে মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টার আর কিছুক্ষণ পরে জগৎ প্রকম্পিত করা বোমার শব্দ আর দোলনার মত দুলতে থাকা ধরিত্রী সেই সাথে বাসার সামনে ট্রেঞ্চে মৃতবত পরিবারের মানুষগুলির সাথে বসে থাকার স্মৃতিও কিছু কিছু মনে পড়ে। সেই সময় বাবা মনে করলেন যে তেজতুরি বাজারে আমাদের বাসায় থাকা কোন ক্রমেই নিরাপদ নয়। তাই একদিন সকালে আমরা প্রাণ হাতে করে চলে আসলাম শান্তিনগরে আমার বড় ফুফুর ছেলে আহমেদ হুমায়ুনের সাহেবের বাসায়। প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং লেখক আহমেদ হুমায়ুন সাহেব কে আপনারা অনেকে অবশ্যই চিনবেন। এর পরের দিনগুলি এবং স্বাধীনতার সময় আমি বাবা মার সাথে শান্তিনগরে হুমায়ুন দাদার বাসাতেই ছিলাম। উনার স্ত্রী, নেফিসা ভাবী ছিলেন ডাক্তার। ওনাদের এক ছেলে অদিত ছিলো আমার কাছাকাছি বয়সী। দুজনে একসাথে খেলে সময কাটিয়েছি বেশ মনে পড়ে। যেহেতু অনেক ছোট ছিলাম, স্বাধীনতা বোঝার মত বোধশক্তি হয়তো তখন ছিলো না। শুধু মনে আছে ৭১’এর সেই ১৬ই ডিসেম্বর দিনটি ছিলো অন্য রকম। সকাল থেকেই কানে আসছিলো অনেক মানুষের কোলাহল, অনেক মানুষের স্লোগান, চিৎকার। শুনলাম যুদ্ধ শেষ, আমরা এখন স্বাধীন। দৌড়ে ছাদে চলে গেলাম। একাই গিয়েছিলাম কিনা আজ আর মনে পড়েনা। দেখলাম আসে পাশে অনেক মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। একজন আরেক জনের সাথে হাত মিলাচ্ছে, জড়িয়ে ধরছে। ভ্রাতৃত্বের বাধন। আত্মীয়তার বাধন। সবার মুখে হাসি। দেখলাম দূর থেকে বেশ কয়েকটা হেলিকপ্টার আসছে কিন্তু কেউ আর ভয়ে পাচ্ছে না। আমরা যেই ছাদে ছিলাম সেখানে একজন, খুবসম্ভব মুক্তিসেনা, তাঁর রা্ইফেল দিয়ে আকাশের দিকে গুলি ছুড়লো। আমি গুলির খোসাটা কুড়িয়ে নিলাম, তখনো বেশ গরম। সদ্য পাওয়া স্বাধীনতার মতন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/83786/</link>
				<pubDate>Tue, 28 Dec 2021 18:35:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>৭১’এর ১৬ই ডিসেম্বর</p>
<p>আমি তখন খুব ছোট। এত ছোটবেলার স্মৃতি স্পষ্ট মনে থাকার কথা না, তবুও কিছু কিছু বিশেষ ঘটনা ঝাপসা ভাবে স্মৃতির আড়াল থেকে উঁকি দেয়। আবার পরবর্তি জীবনে বাড়ির বড়দের সাথে কথা বলে সেই মনে পড়াটা আরো স্পষ্ট হয়ে আসে। ৭১’এর ১৬ই ডিসেম্বর আমার বয়স ছিলো ৫ বছরের মত। আমরা তখন থাকতাম কাওরান বাজারের কাছে পূর্ব তেজতুরি বাজারে আমাদের বাড়িতে।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-83786"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/83786/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6522e32245034c6a76464f0b3be8b64c</guid>
				<title>Abu Taher Abdullah changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/83617/</link>
				<pubDate>Tue, 28 Dec 2021 14:27:00 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">61f4c3d6068b8c318c469aa657130d01</guid>
				<title>এক রাত্রি

কালভার্টটা বেশি বড় না, লম্বায় খুব বেশি হলে ফুট দশেক, চওড়ায় আরও কম। তবে কালভার্টের ওপরটা ঝকঝকে পরিস্কার, মনে হয় কেউ যত্ন করে পরিস্কার করে রেখেছে। কালভার্টটা পাকা হলেও এর দুই পাশে কিন্তু বাঁধানো রাস্তা নেই। সামনে উচুঁ বাধের ওপর পায়ে হাঁটা রাস্তা চলে গেছে বহুদূর। বড় রাস্তা অর্থাৎ গ্রামের প্রধান রাস্তাটাও পাকা নয়। দুই একটা রিক্সা বা রিক্সা ভ্যান ছাড়া এই গ্রামে অন্য কোন যান-বাহন দেখা যাবে না। দক্ষিন-পশ্চিম দিকে গ্রামের মূল বসতির পাশ দিয়ে বড় রাস্তাটা বাজারের দিকে চলে গেছে। কালভার্টের পেছনে চল্লিশ পঞ্চাশ গজ দূরে বড় রাস্তার বাঁমদিক ধরে হেঁটে এসে কালভার্ট পার হয়ে আরও কিছু দূর সামনে গেলে আর একটা ছোট খাল, এটার ওপর দিয়েও একটা পোল। পোল পার হয়ে আরও চল্লিশ পয়তাল্লিশ গজ সামনে একটা ঝুপসি বাঁশঝাড়, তার আশে পাশে আরও কিছু বড়ই, চালতা আর কতগুলো বুনো গাছ যায়গাটা অন্ধকার করে রেখেছে। তার পাশ দিয়ে পায়ে চলা পথ চলে গেছে। দুই পাশে চাষের জমি, মাঝে মাঝে দুই-একটা ডোবা। বাঁশঝাড় টার পেছনেই একটা ছোট কবরস্থান মতো, কয়েকটা মাত্র বাঁধানো কবর। কবরস্থানটা ঘিরে সবুজ ঘাসের গালিচা। যায়গাটা বেশ নির্জন, মানুষের খুব বেশি চলাচল নেই। এখানে আসার পর এই জায়গাটাই আমার ভিষন পছন্দ হয়েছে। দুই দিন হলো এখানে এসেছি আমার এক বন্ধুর সাথে তাদের গ্রামে। গ্রামের নামটা আর নাই বা বললাম।  রাত্রে এই কালভার্টের ওপর বসে থাকতে খুবই ভালো লাগছে। বিকেলে গ্রামের ছেলেরা দেখেছি এখানে বসে, তবে রাত্রে জায়গাটা ভিষন নিস্তব্ধ। নিজের সত্ত্বাকে পরিপূর্ণভাবে অনুভব করার এর চেয়ে ভালো পরিবেশ আর হয় না। গত রাতে আমার বন্ধুকে নিয়ে কিছু সময় বসে থেকেছি। এইদিক দিয়ে আমার বন্ধু ভিষন বেরসিক। তার কাছে প্রকৃতির এই নির্জনতার কোন মূল্য নেই, সে নয়টা দশটার মধ্যে নাক ডাকাতে শুরু করে। তাই আজকে একাই এসেছি। কালভার্টটার ওপর পশ্চিম দিকে মূখ করে বসলে সামনে নিচু চাষের জমি। সেটা ছিল জুলাই মাসের মাঝামাঝি, ভরা বর্ষার পানিতে নিচু জমি গুলি পানিতে ডুবে বিশাল লেকের মত মনে হয়। বর্ষায় পানি বেশি হলে নাকি এই কালভার্টটাও তলিয়ে যায়। পশ্চিমে মাইল খানেক দূরেই মেঘনার একটা শাখা। আরো কিছুটা সামনে গেলে সেখানে মেঘনার সাথে তিতাস এসে মিশেছে। জায়গাটাকে ওরা বলে টেক। সেখানেও বিস্তির্ণ চাষের জমি ছাড়া কোন বাড়ি ঘর নেই। অদ্ভুত সুন্দর দেখতে। আমি যেখানে বসেছি, সেখানে মাঝে মাঝে দমকা নদীর বাতাস এসে লাগছে। আশে পাশে দেড়শ, দুশ গজের মধ্যে কোন বাড়ি চোখে পরে না। দূর থেকে দমকা বাতাসে মাঝে মাঝে দুই একটা মানুষের গলার স্বর ছিটকে আসে, তখন খুব আশ্চর্য্য লাগে। বর্ষাকাল হলেও আকাশ বেশ পরিস্কার, অর্ধেকটা চাঁদের আলোয় আশপাশটা বেশ ভালোই দৃষ্টিগোচর হয়। রাত বোধহয় এগারোটার কাছাকাছি। এমন সময় একটা ব্যাপার ঘটলো। 

আমি তেমন একটা সাহসি মানুষ নই, তবে অলৌকিক কোন কিছুর উপর বিশ্বাস ও আমার নেই। মানে মৃত আত্মা, জিন, ভুত নিয়ে কেউ কিছু বল্লে হেঁসেই উড়িয়ে দেই। অবশ্য বইয়ে পড়া ভুতের গল্পগুলো কিন্তু ভালোই লাগে। যাই হোক, উঠে পড়বো কিনা চিন্তা করছি, রাত ও হয়েছে অনেক, চাঁদ ও ডুবে যাবে কিছুক্ষণ পরেই। চারদিকের আলো কমে আসছে। দূরের বাড়িগুলো এখন আর ভালো বোঝা যাচ্ছে না। এমন সময় মনে হলো আমার পেছনে কালভার্টের ওপর দিয়ে কেউ একজন হেঁটে গেল। স্পষ্ট করে কিছু শুনিনি, কিন্তু পাশ দিয়ে কেউ গেলে যে গায়ে বাতাস লাগার অনুভুতি হয়, ঠিক সেই রকম। মনে হলো কারো হালকা পায়ের আওয়াজও পেলাম, আর চাপা গলায় কেউ যেন কথা বললো। ঘাড়ের কাছে শিরশির করে উঠলো। পেছন ফিরে, এদিক ওদিক তাকিয়ে কিছু দেখতে পেলাম না। ভাবছি আর থাকার দরকার নেই। আবার মনে করলাম হয়তো মনের ভুল। বাতাসে দূরের কোন শব্দ শুনেছি হয়তো। উঠবো না আর কিছুক্ষণ বসবো চিন্তা করতে করতে আরো কিছু সময় পার হয়ে গেল। এমন সময় আবার মনে হলো কেউ একজন ছুটে পাশ দিয়ে চলে গেল। এই বার কিন্তু বেশ ভয় পেলাম। যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালাম। 

এমন সময় তীব্র একটা আর্তনাদ আমার চিন্তাশক্তিকে প্রায় অকেজো করে দিল। ওহ মারে, ওরে মারে, আহ ... আহ।
 
মনে হলো যেন কারো অন্তিম চিৎকার। সেই মর্মান্তিক আর্তনাদ কিছুক্ষণ ধরে প্রতিধ্বনি হতে থাকলো চার পাশে। আমার পাদুটো যেন জমে গেছে, নড়তে পারছি না। ঘাড়ের চুল গুলি দাঁড়িয়ে গেছে। কি করবো চিন্তা করতে করতে আবার মনে হলো কয়েক টা পায়ের আওয়াজ পেছনের ধান ক্ষেতের আল ধরে দৌড়ে চলে যাচ্ছে। কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। আরও কতক্ষণ পরে বলতে পারবো না, আস্তে আস্তে বড় রাস্তার দিকে হেটে গেলাম। বড় রাস্তাটা বেশ উচু। দুইটা পথের সংযোগের যায়গায় কয়েকটা টং দোকানের চালা। যায়গাটা ভিষন অন্ধকার। কোন রকমে বড় রাস্তায় উঠে বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে উঠলাম। চিন্তা করে খুবই আশ্চর্য্য লাগলো এমন একটা ঘটনা ঘটলো অথচ গ্রামের কোন বাড়ি থেকে কারো সারা পাওয়া গেল না। কিছুই মাথায় ঢুকছিলো না। চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লাম এক সময়ে।

সকালে উঠে দেখলাম সব কিছুই স্বাভাবিক। রাতে কোন ঘটনা ঘটেছে বলে কারো ব্যবহারে কিছু প্রকাশ পেল না। বিকালে হাঁটতে হাঁটতে আবার কালভার্ট পার হয়ে, কবরস্থানের পাশ দিয়ে বেশ কিছুদূর গেলাম। একজন বৃদ্ধকে আসতে দেখে দাঁড়ালাম। কাছে আসতে উনি হেঁসে জিজ্ঞেস করলেন ’ভাই সাহেব কোন বাড়ির’। তাকে বললাম কোথায় উঠেছি, তারপর জিজ্ঞেস করলাম আপনি কি এখানেই থাকেন। উনি কিছু দূরে উনার বাড়িটা দেখিয়ে দিলেন, কবরস্থান থেকে একশ গজ আন্দাজ দূরে। বললাম কালকে রাত্রে আমি ওই কালভার্টটার ওপরে বসেছিলাম, তখন একটা চিৎকার শুনেছি, মনে হয়েছিল কেউ কাউকে মারছে, আপনার বাসা তো বেশি দূরে না, আপনি কি কিছু শুনেন নি। উনি অবাক হয়ে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। পরে বললেন না সেরকম তো কিছু শুনি নাই। তারপর কিছুক্ষণ কি ভাবলেন, তারপর বললেন কবরস্থানটার পেছনে গত বছর এই সময়টায় একটা ছেলে খুন হয়েছিল, সেটা নিয়ে গ্রামে ভিষন তোলপার হয়। তবে আসামিরা অনেক প্রভাবশালী হওয়ায় এর কোন বিচার হয়নি। ছেলেটা নাকি অনেক ভালো ছিল। বাজারে তার ছোট মুদির দোকান ছিল একটা। একটা মেয়ের সাথে সম্পর্কের জের ধরে ছেলেটা খুন হয়ে যায়। মৃত্যুর সময় তার অন্তিম আর্তনাদ নাকি অনেকেই শুনেছে। আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম কবে ঘটেছিল ঘটনাটা। বললেন জুলাই মাসের সতের তারিখ রাতে।

আমি এখন জানি জুলাইএর সতের তারিখ রাত এগারটার কিছু পরে খুনটা হয়েছিল। হাতের ঘড়িটা চোখের সামনে আনলাম, এতে তারিখ ও দেখা যায়। দেখলাম জুলাই এর আঠার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/83616/</link>
				<pubDate>Tue, 28 Dec 2021 14:22:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এক রাত্রি</p>
<p>কালভার্টটা বেশি বড় না, লম্বায় খুব বেশি হলে ফুট দশেক, চওড়ায় আরও কম। তবে কালভার্টের ওপরটা ঝকঝকে পরিস্কার, মনে হয় কেউ যত্ন করে পরিস্কার করে রেখেছে। কালভার্টটা পাকা হলেও এর দুই পাশে কিন্তু বাঁধানো রাস্তা নেই। সামনে উচুঁ বাধের ওপর পায়ে হাঁটা রাস্তা চলে গেছে বহুদূর। বড় রাস্তা অর্থাৎ গ্রামের প্রধান রাস্তাটাও পাকা নয়। দুই একটা রিক্সা বা রিক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-83616"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/83616/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>