-
জরা ও জীবন
———————————————–
জরাকে জয় করার চেষ্টা আমাদের সার্বজনীন। ক্ষণজন্মা এই মনুষ্য জীবন নিয়ে আমাদের কত স্বপ্ন। ক্ষণজন্মাই বলবো কারণ আমাদের এই পৃথিবীর লক্ষ কোটি বছরের সাথে তুলনা করলে, মানুষের ৬০, ৭০ অথবা ৮০ বছরের জীবনকাল কিছুই নয়। মানুষের ইতিহাস আর কয় দিনের। এই পৃথিবীর জন্ম লগ্নের কথা চিন্তা করলে মনে হবে এইতো সেদিন গুহাবাসী আদিম মানুষের আবির্ভাব ঘটেছিল। প্রকৃতি-বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের গবেষণা এবং যুক্তি-তর্কের বাস্তবতা মেনে নিয়ে যদি কল্পনার রাশ ছেড়ে দেয়া যায় তবে মনুষ্য সমাজের ধারাবাহিক এবং পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনটা উপলব্ধি করা কঠিন কিছু নয়। অবশ্য সুদূর সেই অতীতকে জানার ক্ষেত্রে আর আপনার কল্পনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য গবেষকদের বহু প্রামানিক এবং দালিলিক বইপত্র আপনাকে সাহায্য করবে। বাকি সবটাই কিন্তু আপনার কল্পনা। অতীতে আমাদের সেই পূর্বপুরুষ পিথিকানথ্রপাস বা নিয়ান্ডারথালদের কাল্পনিক রূপ আমাদেরকে রোমাঞ্চিত করতে পারে, তবে অতটুকুই অর্থাৎ প্রকৃতির ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের কিছু জ্ঞান বৃদ্ধি হল, যদিও আমাদের সমাজে এ নিয়ে বহু বিতর্ক। আমাদের নিজেদের পেরিয়ে আসা অতীত নিয়েও কিন্তু আমরা তেমন খুব বেশি চিন্তিত হই না। অতীত রোমন্থন করা যদিও অনেকের অভ্যাস এবং বিলাসিতা তবুও তাদের এবং আমাদের সকলের জীবনই হচ্ছে বাস্তবতা কেন্দ্রিক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মগ্ন। বর্তমান সময়টা যেমনই কাটুক না কেন, আগামীকালটা যেন সুন্দর হয় ফলপ্রসু হয় সেটা আমাদের সবারই কাম্য। অর্থাৎ এক্ষেত্রে পৃথিবীতে মানুষ কেমন করে আসলো, কিভাবে সভ্য হলো, পৃথিবীর অবস্থা কিভাবে পরিবর্তিত হলো এই বিষয়গুলি একেবারেই গৌণ। আমাদের শারীরিক সুস্থতা এবং কর্ম ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য, ভবিষ্যৎ জীবনের পরিকল্পনা, দীর্ঘকাল সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকা, নিজেকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা, এই বিষয়গুলিই আমাদের চিন্তাধারাকে সর্বক্ষণ অথবা বেশিরভাগ সময় প্রভাবিত করে রাখে। নিজেকে আরও আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার সুপ্ত বাসনা নারী পুরুষ সকলের মধ্যেই কমবেশি সক্রিয়। এই ক্ষেত্রে শুরুতেই যেটা বলেছিলাম, জরাই হচ্ছে এর প্রধান বাধা। কালের আবর্তে আমাদের বয়স বাড়বে, শরীরে নানা রকম পরিবর্তন দেখা দেবে, মানুষ এবং অন্যান্য যে কোন জীবন্ত প্রাণীর জন্য এটাই প্রকৃতির নিয়ম। মানুষ অর্থাৎ আমরা কিন্তু এতে সন্তুষ্ট নই। প্রাকৃতিক এই নিয়মকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য আমাদের কতইনা চেষ্টা। কালো চামড়া ফর্সা করার জন্য বা বার্ধক্য জনিত কুঁচকানো চামড়া মসৃণ করতে, সাদা চুল কালো করার জন্য অথবা দাঁতের গঠন সুন্দর করার জন্য অথবা দৃষ্টিশক্তিকে আরো শক্তিশালী করার জন্য অর্থাৎ নিজের অভিব্যক্তি এবং উপস্থাপনাকে আরো আকর্ষণীয় আর গ্রহণযোগ্য করার জন্য কত কৃত্রিম উপায়ই না আমরা অবলম্বন করি, আবরণ এবং আভরনের কথা না হয় বাদই দিলাম। মানুষের এই আত্মসাচেতনতা অতীতে যেমন ছিল এখনো তেমনি আছে এবং ভবিষ্যতেও হয়তো এমনই থাকবে। অবশ্য সমাজে সম্মানিত হতে, নিজেকে একজন আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে কার না ইচ্ছে হয়। প্রশ্ন জাগে এটাই কি তাহলে জীবনের সার্থকতা? তবে যাই হোক না কেন, সবার এটা মনে রাখা উচিত যে, একটা ছোট্ট সত্য হচ্ছে মানুষকে এ পৃথিবী থেকে একদিন বিদায় নিতেই হবে। যেটা আমরা বেশিরভাগ সময় ভুলে থাকার চেষ্টা করি।6 Comments -
Friends
কবি মোঃ সামিদুল ইসলাম
@samidul
Santo Chowdhury
@santo-chowdhury
নাহিদ হাসান নয়ন
@nahid-hasan-noyon
মিথিলা কনক
@methila06
সৈয়দ তারেক শাহরিয়ার
@shahriar-protik
মোঃ আব্বাস উদ্দীন ধ্রুব।
@dhrubo-abbas
আব্দুল মজিদ মারুফ
@abdulmojid
Pritam Biswas
@pritam-biswas


সুন্দর একটা বিষয় সামনে নিয়ে এসেছেন লেখকপ্রিয়! আমি কিছুদিন আগে একটা কঠিন সত্যের মুখোমিখি হই। গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম, এক বৃদ্ধা হঠাৎ আমায় দেখে প্রশ্ন করে বসে, “আচ্ছা ক্যামনে মরা যায় বলতে পারো” তাঁর হাতের লাঠিটা দেখিয়ে বলে, “এই লাঠিটা দিয়া আমার মাথায় একটা বাড়ি দাও”
তাঁর সাথে আরো কিছুক্ষণ কথা বলে বুঝতে পারলাম, জরা তাকে গ্রাস করেছে। সে জীবিত ঠিকি তবে, মৃত্যুই তাঁর একমাত্র চাওয়া! তাঁর দীর্ঘ জীবন বিস্বাদ হয়ে উঠেছে এই জরার কারনে।
উপলদ্ধি হল, জীবন সুন্দর ও আকর্ষনীয় ততদিন পর্যন্ত যতদিন পর্যন্ত এই দেহ, মন সবল থাকবে।