Profile Photo

Arup GhoshOffline

  • arsumi
  • Profile picture of Arup Ghosh

    Arup Ghosh

    5 years, 6 months ago

    ধড়মড় করে বিছানাতে উঠে বসলো তপু, ঘামে ভিজে গেছে সে, একটু ধাতস্থ হয়ে সে নামলো তার ছোট্ট বিছানা থেকে, আট বাই পাঁচের ঘুপচি ঘরটাতে নড়াচড়ার বেশি জায়গা নেই, ঘরে একটা খাট , একটা টেবিল আর একটা তিন ড্রয়ার অলা পিচ্চি ওয়ারড্রব রাখতেই জায়গা শেষ। উপরে অনেক আওয়াজ করা সিলিং ফ্যান টা নড়াচড়া করছে না, মনে হয় লোডশেডিং , টেবিল থেকে নিয়ে ছোট্ট এলুমিনিয়ামের জগটা প্রায় পুরোটাই গলাতে ঢেলে দিল তপু, আর মনে মনে কারেন্ট কে শাপ শাপান্ত করল, আর ছোট ঘরকেও দোষারোপ করল গরমের জন্য, অবশ্য অনাথাশ্রমে এর থেকে আর বেশি কিই বা আশা করা যায় !!
    তপুর অনাথাশ্রমে আসার গল্পটা ছোট কিন্তু মর্মান্তিক, তার বাবা ছিলেন দিল দরিয়া মানুষ, পৈত্রিক সুত্রে অনেক জায়গা জমির মালিক ছিলেন তিনি, তাঁরা ছিলেন দুই ভাই, ভরা সংসার, তপুর কাকাকে বিয়ে করানোর পরেই বাধল বিপত্তি, আলাদা হবার জন্য কাকা শুরু করলেন জোরাজুরি, কিন্তু তপুর বাবা কিছুতেই রাজি হয়না । শেষে একদিন তুমুল ঝগড়াঝাঁটির পর তপুর বাবা ঠিক করলেন ,কোথাও থেকে বেড়িয়ে আশা যাক, সেই মতো সকালে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করল তপু, মা আর বাবা। কিন্তু বিধি বাম, মাঝপথে ভয়ঙ্কর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মা আর বাবা, কোন এক অলৌকিক শক্তি যেন হাতে ধরে তপুকে রক্ষা করল, বেঁচে গেল সে!!! তারপর যা হয়, কাকা সব দখল করলেন, আর বিপুল সম্পত্তির অধিকারী মল্লিক পরিবারের বড় ছেলে তপুর জায়গা হল অনাথ আশ্রমের ঘুপচি ঘরে।
    সে এসে দাঁড়ালো তার ছোট্ট জানালার ধারে, সকাল হয়ে আসছে, সূর্য উঠার বদলে আকাশে দেখা গেল মেঘ , দীর্ঘশ্বাস ফেলে তপু ভাবল , আরেকটি দিন এল তার জীবনে, তার ধূসর জীবনে আরেকটি ধূসর সকাল !!

    1 Share
    9
    11 Comments
    • স্বার্থের দ্বন্দ্বে কেউ হয় ধনী, কারো জায়গা মেলে অনাথ আশ্রমে। ভাল লেখা। চালিয়ে যান।

    • ভালো লাগল বেশ। শুরুতেই, খুব সাবলীল ভাবে অল্প কথার মধ্যেই কিন্তু জমে উঠল সাসপেন্স। আরও জানার আগ্রহ জেগে উঠল …লেখাটি চমৎকার ভাবে এগিয়ে যাক… শুভকামনা।

    • অসাধারণ লেখা। ছোটগল্প আমার বড়াবড়ি খুব প্রিয়।

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 06 June 2022 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • সুন্দর হচ্ছে। আশা করি আরো পড়তে পারবো।

    • অনেকদিন বাদে আবার পড়লাম। খুব ভালো লাগলো!

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 08 March 2023 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 17 September 2024 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 29 June 2025 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 20 August 2026 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

Skip to toolbar