<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | আসাদুজ্জামান জুয়েল | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/asadjewel/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/asadjewel/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for আসাদুজ্জামান জুয়েল.</description>
	<lastBuildDate>Wed, 24 Jun 2026 06:19:58 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">4a9a665eb5571b28e600e3491560574c</guid>
				<title>আমার মায়ের প্রথম স্কুল যাত্রা

আমার আদরের মেয়ে রওশন আসাদ প্রিয়ন্তী আজ (০৬ মার্চ ২০২২ ইং, রবিবার) প্রথম স্কুলে গেলো। প্রথম স্কুলে গমন এতটা সুন্দর, সহজ, সাবলিল হবে আমি ভাবিনি। আমি যখন প্রথম স্কুলে যাই তখন আমরা স্বর্ণঘোষ গ্রামে দাদার বাড়িতে থাকি। আমার মা আমাকে নিয়ে ধানুকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যায়য়ে গিয়ে রেখে আসেন। আমাকে স্কুলে রেখে বাড়ি চলে আসার কিছুক্ষণ পরে পিছন দিকে তাকিয়ে দেখে আমি তার পিছু পিছু আসছি। অগত্যা আর কী করা? দাড়িয়ে থেকে প্রথম দিন আমাকে সাথে নিয়েই বাড়ি ফিরেছিলেন মা। স্কুলে আমার মন টিকবে কি, আমার মায়েরও হয়তো আমাকে রেখে এসে ভালো লাগছিলো না, তা না হলে মা কেন বার বার পিছু ফিরে ফিরে দেখবে? এভাবে কত দিন যে আমাকে রেখে এসে কিছুদূর যাওয়ার পরে পিছু ফিরে তাকিয়ে দেখেছে আমি চলে এসেছি, আবার গিয়ে স্কুলে দিয়ে এসেছে, আবার চলে এসেছি। সেই দিনগুলো আজো মনে পরে। চলে এসে এসে বার বার ফিরে গিয়ে গিয়ে আজ আমি আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর (এলএল.এম) ডিগ্রি নিয়ে আইন পেশায় যুক্ত আছি যার সকল কৃতিত্ব মহান আল্লাহ তায়ালার পরে আমার মা-বাবার।
করোনা অতিমারি জীবনের সকল হিসাব নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। গতবছর ২০২১ সালে রওশন আসাদ প্রিয়ন্তীকে আমার শৈশবের দ্বিতীয় বিদ্যাপিঠ তুলসার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যা বর্তমানে তুলাসার সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীতে ভর্তি করিয়েছিলাম। ভর্তি করেছি আমি একাই গিয়ে। একদিনের জন্যও স্কুলে যেতে হয়নি প্রিয়ন্তীর। মাঝে একদিন ম্যাডামের কাছ থেকে ওর বইপত্র নিয়ে এসেছি আমি নিজেই। তাও ম্যাডামের বাসা থেকে, স্কুল থেকে নয়। 
সবাইকে অটো পাস দেয়া হয়েছে সেবছর। আমার কন্যাও অটোপাস করে শিশু শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস চলে গেলেও কন্যার স্কুলে যাওয়া হয়নি। শিশু পূর্ব থেকে প্রথম শ্রেণীর পড়াশুনা বাড়িতেই করতো। কন্যার মা যেহেতু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন মানুষ গড়ার কারিগর। তাই মায়ের কাছেই এতদিন যাবৎ পড়াশুনা করে আসছে প্রিয়ন্তী। 
করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে স্কুল খুলে দেয়ার ঘোষণায় আজ মেয়েকে প্রথম স্কুলে নিয়ে গেলাম আমি। কথা ছিলো মেয়ের মা মেয়েকে প্রথম দিন স্কুলে দিয়ে আসবে এবং স্কুলের বিষয়াদি জেনে আসবে। কিন্তু তারও যে স্কুল খুলেছে। অগত্যা আমাকেই নিয়ে যেতে হলো। মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যেতে হবে তাই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে একদম রেডি হয়ে গেলাম। আমার আগেই মেয়ের মা ও মেয়ে রেডি। কয়েকদিন আগেই মেয়ের জন্য নতুন স্কুল ব্যাগ, পানির পট, পেন্সিল বক্স, খাতা ইত্যাদি সরঞ্জামাদি কিনে এনেছে তার মা। সব গুছিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশেই তার ফুপিদের বাড়িতে গেলাম। মেয়ে প্রথমেই তার বড় ভাই রজিবুল ইসলাম শানকে সালাম করলো। বড় ভাই তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একশত টাকা উপহার দিলো। এর পর তার বড় ফুপি, বড় ফুপা, ছোট ফুপিকে ছালাম করে দোয়া নিলো। সবাই একশত টাকার নোট দিয়ে দোয়া করে বিদায় দিলো। মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গিয়েই আমার বন্ধু স্কুলের শিক্ষক শাহ আলম এর সাথে, প্রধান শিক্ষকের সাথে পরিচয় করিয়ে প্রিয়ন্তীর ফুপু কনিকা ম্যাডামের হাতে তুলে দিলাম। কনিকা ম্যাডাম প্রিয়ন্তীকে স্কুলের দোতলায় দক্ষিণ কর্ণারের কক্ষে বসিয়ে দিয়ে আসতে বললো। আমি প্রিয়ন্তীকে দোতলায় তার রুমে ঢুকিয়ে পশ্চিম দিকের একটি বেঞ্চে বসিয়ে দিয়ে বাইরে এসে অপেক্ষা করলাম ওর প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য। কিছুক্ষণ পরে দেখলাম, না, কোন প্রতিক্রিয়া নাই। সে স্কুলকে ভালোভাবেই নিয়েছে। আমি প্রিয়ন্তীকে শ্রেণীকক্ষের বাইরে ডেকে এনে আবার কিছু কথা বলে ভিতরে দিয়ে দিলাম। ম্যাডামরা চলে এসেছে। আমি চলে আসলাম আমার চেম্বারে। চেম্বারে এসে কাজ করলেও মন ছিলো স্কুলের দিকে। কি করে, কেমন করে, কান্না করবে কিনা এই নিয়ে চিন্তায় ছিলাম যেমনটা আমার মা ভাবতো আর বার বার পিছন ফিরে তাকাতো। বারোটার দিকে স্কুল থেকে ফোন এলো। স্কুলের সেলিম স্যার ফোন করে আমাকে জানালো স্কুল ছুটি হয়ে গেছে, মেয়ে টিচার্স রুমে অপেক্ষা করছে। আমি দ্রুত মোটরবাইক টান দিয়ে চলে গেলাম স্কুলে। আমাকে দেখে মেয়ে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলো। এক হাতে মেয়ে আরেক হাতে স্কুল ব্যাগ নিয়ে বাইরে আসতেই স্কুল মাঠের খেলনার দিকে তার নজর পরলো। আমাকে বললো, বাবা আমি খেলবো। তাকিয়ে দেখি একেকটা খেলনায় চড়ার জন্য বাচ্চারা লাইন দিয়ে দাড়িয়ে আছে। রাইডে উঠতে ওর অপেক্ষা করতে হবে অন্তত আধাঘন্টা। তার উপর বাচ্চারা হুরোহুরি করছে। আমি মেয়েকে বললাম, আজ না মা, আরেকদিন উঠবে। মেয়ে আমার কথায় সায় দিয়ে রওয়ানা দিলো। জিজ্ঞেস করলাম, কিছু খেয়েছো। বললো, কনিকা ম্যাডাম বিস্কুট দিয়েছিলো তা খেয়ে পানি খেয়েছি। কনিকা ম্যাডাম আমার মামাতো বোন হয়, তাই ফুপি তার দায়িত্ব ঠিকিই পালন করেছে, ভাতিজিকে বিস্কিট খাইয়েছে। আমি বললাম, এখন কিছু খাবে মা? বললো, ফুচকা খাবো। আমি বললোম, ঠিক আছে, আজকে প্রথম দিন তাই খাও, এসব খাবার ভালো না, প্রতিদিন খাওয়া যাবে না। মেয়ে তাতেই রাজি হলো। ওকে ফুচকা খাইয়ে বাসায় দিয়ে আসলাম। 
বাসায় যেতে যেতে সে স্কুলের নানান গল্প করলো আমার সাথে। নতুন একজন বান্ধবী জুটে গেছে তার। নামটা মনে নেই, কাল আবার জিজ্ঞেস করবে। ম্যাডামরা বাংলা, গণিত, পরিবেশ পরিচিতিসহ বিভিন্ন বিষয় পড়িয়েছে, লিখিয়েছে, গল্প বলিয়েছে। সে সবই পেরেছে। ম্যাডামরা তাকে গুড দিয়েছে জানালো আমাকে। তার মুখে আনন্দের ঝিলিক। প্রথম দিন স্কুলে গেলেও তার মধ্যে কোন জড়তা নেই। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেমন লাগলো স্কুল? সে বললো, আমার খুব ভালো লেগেছে বাবা। মেয়ের ভালো লাগায় আমারও ভালো লেগেছে। বাবার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মেয়ের স্কুল ব্যাগ কাধে নিয়ে চলার আনন্দ উপভোগ করলাম। আমারও যে অনেক ভালো লেগেছে মা। তুমি মানবিক মানুষ হলেই শ্রম স্বার্থক হবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/100043/</link>
				<pubDate>Sun, 06 Mar 2022 10:14:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার মায়ের প্রথম স্কুল যাত্রা</p>
<p>আমার আদরের মেয়ে রওশন আসাদ প্রিয়ন্তী আজ (০৬ মার্চ ২০২২ ইং, রবিবার) প্রথম স্কুলে গেলো। প্রথম স্কুলে গমন এতটা সুন্দর, সহজ, সাবলিল হবে আমি ভাবিনি। আমি যখন প্রথম স্কুলে যাই তখন আমরা স্বর্ণঘোষ গ্রামে দাদার বাড়িতে থাকি। আমার মা আমাকে নিয়ে ধানুকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যায়য়ে গিয়ে রেখে আসেন। আমাকে স্কুলে রেখে বাড়ি চলে আসার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-100043"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/100043/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e20a9095eebf1f3aac7e1592c85a6747</guid>
				<title>সমকালীন রঙ্গ-৫
আমারতো চাচা আছে, ওদের কান্দে নিবো কে!
...........................
আসাদুজ্জামান জুয়েল
...........................
সন্দেশে সংক্ষিপ্ত ট্যুরে গিয়ে আমি দীর্ঘদিন ছিলাম! আপনারা নিশ্চই এ বিষয়ে অবগত আছেন। সেখানকার পরিবেশ, মানুষ, কৃষ্টি কালচার দেখার জন্যই স্বপ্নে প্রাপ্ত ভিসায় গিয়েছিলাম। আমার পপি গাইড আমার সাথে যথারিতি ঘুরছে। আমাকে তাদের দেশের কৃষ্টি কালচারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। আমিতো আগেই বলেছি, আমি যা দেখি তাতেই পুলকিত হই। আর আমার পপি গাইড মোটেও তাতে পুলকিত হয় না। কিন্তু মাঝে মাঝে আমার পুলক দেখে সে ডাবল পুলকিত হয়। অবশ্য ডাবল পুলকিত হওয়ার কারনও আছে। সেই গল্প বলার জন্যই আপনাদের জন্য সমকালীন রঙ্গ নিয়ে বসেছি। তাদের রঙ্গ দেখে মনে মনে গান চলে আসছে, ‘কত রঙ্গ জানোরে সন্দেশী... কতো রঙ্গ জানো...!

সন্দেশের রাজধানী ছানা থেকে বারোশো কিলোমিটার দূরের জেলা বাছুর ছাড়া। নাম মাত্র ভাড়ায় প্লেনের টিকেট কেটে নসিমনে চড়ে গেলাম। ভ্রমণটা মন্দ নয়। কোন ক্লান্তি নেই। বলবেন, প্লেনের টিকেট কেটে কেউ নসিমনে যায়? সন্দেশে গিয়ে মনে হয় লোকটার মাথাই খারাপ হয়ে গেছে! আসলে বিষয়টা তা নয়। সন্দেশে প্লেনের টিকেটের দাম আর নসিমনের ভাড়া একই! যেহেতু ভাড়া একই তাই নসিমনের টিকেট কেটে নিজের স্টাটাস লো করে কে, তাই প্লেনের টিকেট কেটেছি। সন্দেশে তেলের দাম আর ঘিয়ের দাম সমান। তেলের দাম আর ঘিয়ের দাম সমান হলে কি হয় সেই গল্প সমকালীন রঙ্গ ছয়তে বলবো। আজ অন্য একটি বিষয়ে বলছি। 
বাছুর ছাড়া জেলায় সু-শীল কমিউনিটির, মানে ভালো মানের নাপিত যারা তাদের নির্বাচন চলছে। নাপিততো অনেক আছে। সবাইতো আর সু-শীল নয়। আমাদের দেশে দেখেছি, কেউ পিঁড়িতে বসিয়ে দুই রানের চিপায় মাথা ঢুকিয়ে চুল কেটে দিতো। অবশ্য দুষ্ট প্রকৃতির ছেলেরা দুই রানের চিপায় থাকতে থাকতে হাপিয়ে উঠলে নাপিতের শুপারি দুটিতে টন করে টোকা দিতো! যন্ত্রনায় নাপিত কিছু বলতেও পারতো না, তখন কিছুক্ষণের বিরতি দিতো অক্সিজেন নেয়ার জন্য! আবার অনেক নাপিত আছে শীতলীকরণ যন্ত্র বসিয়ে রুম টেম্পারেচার বিবেকের টেম্পারেচারের চেয়ে নিচে নামিয়ে চুল কাটে। এদের রেট একটু বেশি! এরা কমরেটে কামাতে পারে না, কারন তাদের খরচ একটু বেশি যে! তাইতো সবার সামাজিক মর্যাদা এক হয় না, এক হতে পারে না। সেই সু-শীলদের নির্বাচন দেখলাম বেশ জমে উঠেছে। 

সন্দেশে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা আমাদের দেশের মতই। ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট, মিছিল, মিটিং, ভুরিভোজ, আদর আপ্যায়ন কোন বিষয়েই কমতি নেই। নির্বাচনে প্রার্থীদের, প্যানেলের পক্ষের কর্মীদের বেশ উৎফুল্ল দেখা যাচ্ছে। এক প্রার্থী মাছ দিয়ে বারবিকিউ পার্টি করলে আরেক প্রার্থী খাসি কোরবানি দিয়ে বারবিকিউ করে। এক প্রার্থী মোরগ দিয়ে করলে আরেক প্রার্থী গরু জবাই করে পার্টি দিচ্ছে। যে সার জীবন বাড়িতে পোল্ট্রি মুরগি খায় সেও বলে, আমি দেশি মুরগি ছাড়া মুখেই তুলি না! এভাবেই চলছে তুষ্টি আর সন্তুষ্টির প্রতিযোগিতা। তুষ্টির প্রতিযোগিতা পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও আরেক ধরনের পার্টি দেখে অবাক হলাম। যে আপ্যায়নে পুষ্টির চেয়ে গুষ্ঠির চোখ লাল আর পা ঢুলুঢুলই বেশি করে। 

কিছু নির্বাচনী কর্মীকে দেখি ঢুলুঢুল করছে। আমার সাথে যেহেতু পপি গাইড আছে, কোন কিছুই জানতে দেরি হয় না। জিজ্ঞেস করতেই বললো, ওরা সুরায় মত্ত আছে। দেখছেন না, পা কেমন টলছে! সন্দেশে প্রচুর আঙ্গুর চাষ হয়। তাই সুরার তেমন অভাব হয় না। আমি মনে মনে ভাবলাম, বেটা বলদ, আমাদের দেশেতো আঙ্গুর চাষ হয়ই না তাই বলে কী আমাদের দেশে সুরার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে? আমাদের দেশে চিনি কলে চিনি উৎপাদন করে বছর বছর প্রতিষ্ঠান লস দেয়, কিন্তু সেই একই প্রতিষ্ঠানের সাবসিডিয়ারি কোম্পানী চিনির গাদ থেকে সুরা উৎপাদন করে প্রফিটেবল কোম্পানীতে রুপান্তরিত হয়। মনে মনে বললাম, বেটা বুঝবি নারে তুই বুঝবি না! কিছুদূর এগুতেই দেখি এক লোক আরেক লোকের কাঁধে চড়ে যাচ্ছে আর মিটি মিটি হাসছে। আমি আমার পপি গাইডকে বললাম, লোকটা কি প্রতিবন্ধী? হাটতে পারে না? আরেক লোকের কাঁধে চড়ে যাচ্ছে। আবার হাসছে দেখো। আমার পপি গাইড বললো, আমি ঐ লোকটাকে চিনি। ওতো প্রতিবন্ধী নয়। কেনইবা কাঁধে চড়ে যাচ্ছে আর হাসছেই বা কেন তা চলেন গিয়ে জিজ্ঞেস করে জেনে নেই। 

আমরা একটু এগিয়ে গিয়ে তাদের থামালাম। আমার পপি গাইড বললো, কিরে, তুই কাঁধে চড়ে যাচ্ছিস কেন? আর ঐদিকে তাকিয়ে হাসছিসই বা কেন? আমাদের দিকে চোখ তুলে একটু তাকিয়ে বললো, গাইড ভাই, কেমন আছেন? আপনার সাথে উনি কে? আমার গাইড বললো উনি আমাদের দেশে বেড়াতে এসেছে। ঘুরে দেখছে দেশটা। এখানে নির্বাচন হচ্ছে তা দেখার জন্য রাজধানী থেকে ছুটে এসেছে। লোকটি বললো, কেন ওদের দেশে নির্বাচন হয় না, নাকি সব অটোপাস? গাইড বললো, হয়, হয়। ওদের দেশে এক ধরনের নির্বাচন আর আমাদের দেশে আরেক ধরনের নির্বাচন, পার্থক্যটা বোঝার জন্য দেখতে এসেছে। এখন তুই কেন কাঁধে আর কেন হাসিস তা বল। এবার লোকটি কাঁধে বসেই বলতে শুরু করলো। 

আগেই কইয়া লই, আমারে যে কান্দে লইছে হে আমার চাচা। আমি সেই সকালে বাইর হইছি। আমার প্রার্থী খুব দিল দরিয়া মানুষ। একদম দুধের নহর! সারাদিন খাটাখাটুনির ফাঁকে ফাঁকে মৌজ মাস্তির অনেক সুব্যবস্থা ছিলো। সকালে বিয়ার দিয়া কুলকুলি কইরা দুপুরে ভদকা সহযোগে বিরিয়ানি মারছি। বিকালে হুইস্কির সাথে একটু নাস্তা সেরে রাতে ড্রাই ভেজিটেবলের সাথে কয়েক পিস নিদ্রানাশক বড়ি খাইছি। কথার ফাঁকে আমার গাইড জিজ্ঞেস করলো, ড্রাই শাক সবজি আর নিদ্রানাশক বড়ি খালি মানে বুঝলাম না! তখন বললো, আরে ড্রাই শাক সবজি মানে বুঝলি না, হালকা গঞ্জিকা মানে গাঁজা টানছি আর নিদ্রানাশক বড়ি মানে এক ধরনের ট্যাবলেট যা খেলে ঘুম আসে না। তুইতো মনে করবি ট্যাবলেট গিলছি। এই ট্যাবলেট পানি দিয়া খায় না, এটা পুইরা ধুয়াডা নিতে হয়। তোমার বয়স কম, বোঝও কম! আমি বললাম, আমি বুঝতে পেরেছি। আমাদের দেশে এই ট্যাবলেটকে মানুষ খুব শ্রদ্ধা ভক্তি করে। একে আদর করে কেউ ইয়া আব্বা, কেউ বাবা, কেউ গুডি, কেউ টেবলেট বলে। 

আমার গাইড এবার জিজ্ঞেস করলো, বুঝলাম তুই পুরা লোড। তাই হাটতে না পাইরা চাচার কান্দে উঠছোস। কিন্তু হাসতাছিলি ক্যান? এবার সে বললো, আমি সারাদিন বাইরে বাইরে নির্বাচনী কাজে কুত্তার মত পরিশ্রম করছি। বিনিময়ে বেশ নির্মলানন্দ উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছে আমাদের বস। এখনতো আমার পা চলে না। আমি চাচারে ফোন দিয়ে বলছি, চাচা আমি এখানে আছি, বাড়িতে যাওয়ার শক্তিতো আমার নাই। শুনেই চাচা আমারে নিতে আইয়া পড়ছে। তাই চাচার কান্দে কইরা বাড়ি ফিরতাছি। কিন্তু ঐ যে দেহেন, ঐহানে কয়েকজন বইসা আমাদের মেহমানের ভাষায় ইয়া আব্বা না বাবা তা টানতাছে। ওদের অবস্থা এমন যে ওরাও আর হাটতে পারবো না। ফাও পাইয়া গাবুরের মত গিলতাছে আর টানতাছে। আমি চিন্তা করতাছি, আমার নাহয় চাচায় আছে, আমারে কান্দে কইরা বাড়ি নিয়া যাইতাছে, ওদের তো চাচাও নাই, মামুও নাই। ওদের কান্দে নিবো কে? এই কথা মনে কইরা হাসি আইসা পরছে। 

কথাটা শুনে আমারও অবাকই লাগলো। সকাল থেকে রাত অবধি টানাটানির পরও সেন্সতো দেখি পাগলার ঠিকই আছে। কথাটাতো মন্দ বলেনি, ওর নাহয় চাচা আছে, ওদের অবস্থা কি হবে একবারও কী ভেবে দেখেছে ওরা? ওদের গডফাদার এখন নিজের স্বার্থে ওদের হাতে যা সাপ্লাই দিচ্ছে, কদিন পরেইতো সাপ্লাই বন্ধ করে দিবে। গডফাদারের ব্যাংক ব্যালেন্স আছে, ভালো কামাই আছে সাথে উপরী কামাইও আছে। চাইলেই গডফাদারকে ব্যাংক কোটি কোটি টাকা লোন দেবে। দাতা বন্ধুরা ধার দিবে কোটি কোটি টাকা। গডফাদারের ব্যাংক চাচা, ইনকাম চাচা, বন্ধু চাচা, স্বজন চাচা, এত চাচা থাকতে তারতো চিন্তার কিছুই নেই। কিন্তু ঐযে পথের ধারে বসা, ওদের তো চাচা নেই। কদিন পরে যখন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে তখন ওদের কি হবে? সবার তো চাচা থাকে না, মামা থাকে না। বাবা অথবা আব্বা অথবা পিতা নিশ্চই থাকে। না থাকলেতো জন্মনেয়ার সুযোগ নাই! তাই ভেবে চিন্তে গিলা উচিৎ। মাগনা আলকাতরা খাইলে পেটের কি হবে সেদিক চিন্তা না করলে হবে?!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/97729/</link>
				<pubDate>Wed, 16 Feb 2022 08:56:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সমকালীন রঙ্গ-৫<br />
আমারতো চাচা আছে, ওদের কান্দে নিবো কে!<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;<br />
আসাদুজ্জামান জুয়েল<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;<br />
সন্দেশে সংক্ষিপ্ত ট্যুরে গিয়ে আমি দীর্ঘদিন ছিলাম! আপনারা নিশ্চই এ বিষয়ে অবগত আছেন। সেখানকার পরিবেশ, মানুষ, কৃষ্টি কালচার দেখার জন্যই স্বপ্নে প্রাপ্ত ভিসায় গিয়েছিলাম। আমার পপি গাইড আমার সাথে যথারিতি ঘুরছে। আম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-97729"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/97729/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9ce255b679e2fc1234a6113e8388f7d5</guid>
				<title>সমকালীন রঙ্গ-৪
মহামান্য হাইকোর্টে হাজী সাহেবের সাজা বহাল ও কিছু পজেটিভ চিন্তা
.............................
আসাদুজ্জামান জুয়েল
.............................
বিশ্বে করোনা অতিমারি হানা দেয়ার পর মানুষ যেমন চোখে সরষে ফুল দেখে আমি তেমনি চোখে এখন পজেটিভ দেখি। প্রতিদিন আক্রান্তর সংখ্যা পজেটিভ! গতকাল যা দেখেছি তার থেকে পজেটিভ হয়ে গ্রাফটা উপর দিকে। আবার মৃত্যুর সংখ্যার ক্ষেত্রেও একই রকম। একটু হাঁচি-কাশি, গায়ে জ্বর জ্বর ভাব? পরীক্ষা করলে দেখা যায় রেজাল্ট পজেটিভ! জেএসসি, এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রচার হয়েছে, তো দেখবেন এ প্লাস কে পেলো, কয়টা পেলো তা নিয়ে মাতামাতি। সংসার জীবনে স্ত্রীর প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা যদি পজেটিভ আসে আমরা আনন্দে গাছের উপর উঠে মিষ্টি ছিটাই, বাবা হওয়ার আনন্দে ভাসতে থাকি। এত কথা বলার কারন হলো, ইদানিং তাই আমি চোখে যাই দেখি তাতেই পজেটিভ কিছু খুঁজে পাই। 
রাত থেকেই একটা খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিউজ ফিডে, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের অনলাইন ভার্সনে ও অনলাই গণমাধ্যমে, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে। খবরটা হলো, বিজ্ঞ নিম্ন আদালতের দেয়া হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে দশ বৎসর কারাদন্ড বহাল রেখেছে মহামান্য উচ্চ আদালত। মহামান্য উচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেন, দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের সাংবিধানিক পদধারী হলেও তাকে বিচারের আওতায় এনে দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে হবে। এটা অত্যন্ত পজেটিভ একটি বিষয় আমার কাছে। আপনাদের কাছে কেমন আমি হয়তো বলতে পারবো না।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের দায়ে নিম্ন আদালত হাজি সেলিমকে দশ বছর কারাদন্ড ও তথ্য গোপনের দায়ে তিন বছরের কারাদন্ডের রায় শুনিয়েছিলেন। একই সঙ্গে দশ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশের রায় দেন আদালত। এছাড়া ওইদিন একই আদালতে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে যে তিন বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল সেই অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই খালাস দেয়াটাও আমার কাছে পজেটিভ। কেন জানেন? অবৈধ সম্পদ অর্জন করবে আর সাজা হবে না এটা হতে পারে না। কিন্তু অবৈধ সম্পদ অর্জন করে সেটা গোপন না করে প্রচার করে বেড়াবে সেটাওতো ঠিক নয়! 
রায়ের পর্যবেক্ষণে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মহামান্য হাইকোর্ট বলেছেন, সাংবিধানিক পদধারী বা পদধারী নন অথবা তিনি যেই হোন না কেন, দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে তাকে বিচারের আওতায় এনে দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনার কারণেই দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে আমরা সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। মহামান্য আদালত আরো বলেন, আমরা সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, এখন পর্যন্ত দুদক এ রকম হাজারো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনতে সক্ষম হয়নি। কিন্তু এর জন্য চেষ্টা থাকতে হবে। দুর্ভাগ্যজনক যে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুদক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ওপর নির্ভর করে আছে। রায়ে দুর্নীতিকে মানসিক ব্যাধি আখ্যায়িত করে মহামান্য হাইকোর্ট বলেন, এতে বিশেষ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবিশেষ আসক্ত হয়ে পড়েছে। দুর্নীতিতে জড়িতদের চিহ্নিত করে দুদক, বিচার বিভাগসহ সরকারি-বেসরকারি এবং আদালতের প্রধানরা সমন্বিতভাবে তাদের সতর্ক করে বার্তা দেবেন। যদিও এ কাজ কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। একজন সৎ ব্যক্তি একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির খপ্পরে পড়ে যেতে পারেন। কিন্তু তারপরও দুর্নীতিমুক্ত জাতি ও সমাজ গঠনে এ কাজ শুরু করতে হবে। মহামান্য উচ্চ আদালত সবসময় পজেটিভ পর্যবেক্ষণই দিয়ে থাকেন। 
হাজী সেলিমের বিষয়ে আমার পজেটিভ চিন্তা হলো, সে একজন গুণী মানুষ। সে জানে কিভাবে অর্থের পাহাড় গড়তে হয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা কোন বাধা হয়ে দাড়ায় না সেটা হাজী সাহেব তৈলাক্ত বাঁশের মাথায় উঠে প্রমান করে দিয়েছেন। কত নিপুনভাবে একজন অশিক্ষিত মানুষ অর্থের পাহাড় গড়ে জাতীয় সংসদের মত মহান জায়গায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। হয়েছেন একজন আইন প্রণেতা। তার এই সাফল্যকে পজেটিভ ভাবে না নেয়া বোকামী নয় কী! এত এত সম্পদ অর্জন করে সে সেই সম্পদের তথ্য এতদিন গোপন রাখতেও সফল হয়েছেন। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, হাজী সাহেবের গুনাগুনগুলো অনুকরণীয় হলেও ভুলেও কিন্তু অনুকরণ করা যাবে না। 
হাজী সাহেবরা আমাদের দেখিয়ে দিলো, কিভাবে সাফল্যের চুড়ায় উঠতে হয়। আর মহামান্য উচ্চ আদালতও আমাদের দেখিয়ে দিলো, অপরাধ করলে কোন ছাড় পাওয়া যায় না, সেটা দুদিন আগে বা দুদিন পরে! আমাদের এসব দেখে যদি শিক্ষা না হয়, তবে হাজী সাহেবদের মতই পরিনতির জন্য প্রস্তত থাকতে হবে। আমাদের আনাচে কানাচে এমন অনেক হাজী সাহেব ঘাপটি মেরে বসে আছেন। ইসমাইলী শরিয়া মোতাবেক জীবনযাপন করছে কিন্তু শরীর ধরে ঝাকুনি দিলে কেবলই অবৈধ আয়ের রক্ত মাংস ঝন ঝন করে নড়ছে! বৈধ আয়ের কৌশল অবলম্বন করুন, আয়কে যথা সময়ে যথাযথ নথিতে অর্ন্তভূক্ত করুন, স্বচ্ছ থাকুন আর আমার মতো পজেটিভ ভাবে দেখুন!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/97001/</link>
				<pubDate>Fri, 11 Feb 2022 09:39:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সমকালীন রঙ্গ-৪<br />
মহামান্য হাইকোর্টে হাজী সাহেবের সাজা বহাল ও কিছু পজেটিভ চিন্তা<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;..<br />
আসাদুজ্জামান জুয়েল<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;..<br />
বিশ্বে করোনা অতিমারি হানা দেয়ার পর মানুষ যেমন চোখে সরষে ফুল দেখে আমি তেমনি চোখে এখন পজেটিভ দেখি। প্রতিদিন আক্রান্তর সংখ্যা পজেটিভ! গতকাল যা দেখেছি তার থেকে পজেটিভ হয়ে গ্রাফটা উপর দিক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-97001"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/97001/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">abc8826ead124ab347b5f1a472fa4efc</guid>
				<title>সমকালীন রঙ্গ-৩
নির্বাচন পরিচালানকারী পরিষদ বাছাই রঙ্গ
.................................
আসাদুজ্জামান জুয়েল
.................................
বন্ধুরাতো জানোই যে, আমি একটু ঘুরতে ভালোবাসি। সেটা হোক দেশে কিংবা বিদেশে। এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে একদিন গিয়েছিলাম নতুন একটি দেশে। দেশটির নাম শুনলে জিভে জল চলে আসতে পারে। হ্যা বন্ধুরা, দেশটির নাম ‘সন্দেশ’। সন্দেশে ভিসা প্রাপ্তিতে খুব একটা জটিলতা পোহাতে হয় না। আন্তরিকতা নিয়ে ভিসা চাইলেই দিয়ে দেয়। আমি অবশ্য স্বপ্নে পেয়েছিলাম ভিসাটা। যেতে কোনই খরচ নেই। সন্দেশে স্বপ্নে প্রাপ্ত ভিসা নিয়ে গিয়ে আমার বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা হয়েছে। ঘুরে ঘুরে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সেই অভিজ্ঞতা আমি শেয়ার করবো সবার সাথে। আসলে জ্ঞানীরা বলেন, জানার কোন শেষ নাই। তাই আমি প্রতিনিয়ত জানার চেষ্টা করি এবং অন্যকে জানাতে চেষ্টা করি।   

আমাদের দেশের বড় বড় অফিসাররা বিদেশে যায় অভিজ্ঞতা নিতে। আমার মতে এটা দরকার আছে। কারন, আমাদের দেশে কোন বিষয় যেভাবে চর্চা করা হয়, বিদেশে একই বিষয় অন্য ভাবেও চর্চা করতে পারে। এমনও হতে পারে সেই চর্চাটা আমাদের দেশের চর্চার চেয়ে বেশি টেকশই, ফলপ্রসু, স্বল্প ব্যায়ী। অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজটা করলে সকলের জন্যই মঙ্গল হবে।  

যেমন আমাদের দেশে স্কুলের বাচ্চাদের মিড ডে মিল সম্পর্কে আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন। আমাদের দেশের বাচ্চাদের মিড ডে মিলে খিচুরি দেয়া হয়। গরম খিচুরি গিলতে গিয়ে অনেকেরই গলায় ঘা হয়ে যায়। অনেকের ঝাল সহ্য হয় না। নানান সমস্যা হয়। বিদেশে কিভাবে এই প্রকল্প ফলপ্রসু করে তা দেখার জন্য বিদেশ ভ্রমণ খুবই দরকারী। সমস্যা হলো, বাচ্চাদের পেটের সাইজ বাচ্চা টাইপ আর আমাদের অফিসারদের পেটের সাইজ চৌবাচ্চার সমান। এটাই হলো আমাদেরর দেশের মূল সমস্যা। আবার আমাদের দেশে খাল, পুকুর কাটা হয় এক পদ্ধতিতে। বিদেশে নিশ্চই সফটওয়্যার ব্যবহার করে কাজটা করা হয়! সেটা যদি না দেখা হয় তাহলে কিভাবে আমাদের দেশে সেই পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা উন্নত হবো? একশ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রয়োজনে দুইশ কোটি টাকা খরচ করে হলেও অভিজ্ঞতা নেয়া দরকার। 

আপনারা তো জানেনই যে, কিছুদিন আগে গিয়েছিলাম সন্দেশে। আমি অবশ্য প্রকল্প দেখতে যাইনি। নিজের গাটের সময় ও স্বপ্ন খরচ করে গিয়েছিলাম অবকাশ যাপন করতে। কিন্তু ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। নরকে গেলেও কিন্তু ধান ভানে সেটা কেউ জানে না! সন্দেশে ঘুরতে গিয়ে নানান বিষয়ে আমার অটো অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা আমি আস্তে আস্তে শেয়ার করবো।

সন্দেশে গিয়ে দেখি সেদেশে নির্বাচন পরিচালনার জন্য বুদ্ধিজীবী নিয়োগ দিবে। সেদেশে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য একটা পরিষদ গঠনের নিয়ম আছে। রাজা নির্বাচন পরিচালনার জন্য নতুন পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে সেদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমি যেহেতু সেদেশে ফরেইনার। আমাকে রাজা মহাশয় আমন্ত্রণ জানালো আলোচনা দেখার জন্য। আমি এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইলাম না। একটা নসিমন নিয়ে রাজপ্রাসাদে চলে গেলাম আলোচনা দেখতে। একেকটা রাজনৈতিক দল আসছে আর তারা তাদের মতামত ব্যক্ত করছে। কারো মতামতই রাজার মনের মত হচ্ছে না। কেউ কেউ এমন প্রস্তাব দিচ্ছে যে, রাজা মহাশয়, বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমাদের ভাগে পড়তে হবে। আমাদের পাস নিশ্চিত ও ক্ষমতা আমাদের হাতে আসবে এমন নিশ্চয়তা যারা যারা দিবে তাদেরই পরিষদে যুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন আইন করতে হবে। রাজা মহাশয় সকলের কথাই মনোযোগ দিয়ে শুনছেন আর মনে মনে মুচকি মুচকি হাসছে। আপনারা হয়তো ভাবতে পারেন রাজা মহাশয় মুচকি হাসছে আর আমি সেটা কেমনে দেখলাম? আসলে সন্দেশের সকল নাগরিকের মন স্বচ্ছ। একদম স্ফটিক স্বচ্ছ। তাইতো আমি দেখতে পেলাম। সন্দেশেও দেখলাম আমাদের দেশের মত তালগাছ পেলে বিচার মানা ঘাউরা দল আছে। তারা আলোচনায় গেলোই না। বাইরে বসে বিবৃতি দিচ্ছে। তাতে বিষয়টা পরিস্কার বুঝলাম একটা দুইটা তালগাছ নয়, তাদের পুরো তাল বাগানই চাই! 

রাজা মহাশয় আগত দলগুলোর সাথে আলাপ আলোচনা করলেন। সকলের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন এবং পরিশেষে একটা বিষয়ে একমত হলেন যে, আসলে কোন দলই তাদের মতামতের সাথে একমত নয়। তাই রাজা মহাশয় সকলের কথা নিয়ম মাফিক লিপিবদ্ধ করে সে যেটা ভেবে রেখেছে সেই বিষয়ে মতামত দিয়ে সেদেশের মন্ত্রীপরিষদে পাঠিয়ে দিলেন। বলে দিলেন, আইন বানাও। যেভাবে বানালে তোমাদের সুবিধা হবে সেভাবেই বানাও। কারন সবাই তালবাগান নিজের দখলে চায়। ক্ষমতাধর দলতো সেক্ষেত্রে তালবাগানের সাথে সাথে পাশের ফলবাগানও চাইবে এটাই স্বাভাবিক। ক্ষমতাধর দল অন্যান্য বাগানের সাথে অন্যদের পিছনে ব্যবহারের জন্য একটা বাঁশ বাগানও নিজেদের দখলে নিয়ে আইন তৈরীর প্রস্তাত করে বিষয়টা তাদের সংসদে পাঠিয়ে দিলো। নতুন আইনে প্রস্তাব করলো একজন প্রধান করে আরো কয়েকজন নিয়ে একটি নির্বাচন পরিচালনাকারী পরিষদ তৈরী করতে হবে। 

আমি বিষয়টা দেখে আবারও পুলোকিত হলাম। আমার পপি গাইডকে জিজ্ঞাসা করলাম, এইযে পরিষদের প্রধান সে নিশ্চই খুব জ্ঞানী গুণী এবং সততার সর্বোচ্চ চুড়ায় অবস্থান করে। এহেন গুণাগুণ না থাকলে নিশ্চই তাকে নিয়োগ দিতো না বা দেয়ার বিধান তৈরী করতো না। আমার গাইড আবারও আমার দিকে তাকিয়ে পুলোকিত হলো। আমি এবার ডাবল পুলকিত হয়ে জানতে চাইলাম, বিষয়টা কি ভাইজান? এভাবে তাকালেন কেন? 

আমার পপি গাইড আমাকে বললো, কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান কেমন হয় তা জানতে হলে একটা গল্প শুনতে হবে। কথাটা আমি শুনে বেশ আগ্রহ দেখালাম। গল্প শুনতে কার না ভালো লাগে। ছোটবেলায় কাথার নিচে শুয়ে শুয়ে কিচ্ছা শুনতাম। কিচ্ছা কয় কিচকিচানির মায়,,,,,,,,, ইত্যাদি বলে দাদী-নানীরা গল্প বলা শুরু করতেন। এক দেশে ছিলো এক রাজা... রাজা ঘোড়া দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে... যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। ঘোড়া জায়গা মত পৌছালো কিন্ জানতাম না তবে ঘুম চলে আসতো ঠিকই। সেই থেকে গল্প শোনার খুব আগ্রহ আমার। পপি গাইডকে বললাম, চলেন বাদাম খেতে খেতে আপনার গল্পটা শুনি। পপি গাইড বললো, কাচা বাদাম না ভাজা বাদাম, আমাদের দেশে কিন্তু ঐ দুটি চলে না, এখানে চলে সিদ্ধ বাদাম। আমি বললাম, এতদিন আমাদের দেশে ভাজা বাদামই খেতাম, সম্প্রতি কাচা বাদামের প্রতি আমাদের দেশে আগ্রহ বেশ বেড়ে গেছে। আপনাদের দেশে এসেছি, কাচা, পাকা, সিদ্ধ যা দেন তাই খাবো। সিদ্ধ বাদাম খেতে খেতে আমার পপি গাইড বলা শুরু করলো- 
জানেন, ছাগলের কিছু ঐতিহাসিক গুণ রয়েছে। আগেই বলে রাখি, এটা সন্দেশের ঘটনা নয়। অন্য এক দেশে ছিল এক রাজা। একদিন রাজার মৎস শিকারের শখ হলো। রাজা আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে ডেকে জিজ্ঞাস করলো, আমি মৎস শিকারে যেতে চাই, সামনে আবহাওয়া কেমন থাকবে হিসেব নিকেশ করে আমাকে জানাও। 
রাজার কথা শুনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান খাতা-পেন্সিল, কাটা-কম্পাস নিয়ে বসে পড়লো। ঘন্টা ছয়েক পরে এসে বললো-আগামী মঙ্গলবার দিনটি খুবই ভালো। মঙ্গবারে সবই মঙ্গল হবে। সুন্দর, উজ্জল, চমৎকার আবহাওয়া থাকবে জাহাপনা। আপনি মঙ্গলবার মৎস্ শিকারে নির্ভাবনায় যেতে পারেন। 
মঙ্গলবার রাজা বের হলেন মৎস শিকারে। রাজা যখন সাগর পাড়ে গেলেন, সাগর পাড়ে এক জেলে ছাগল চড়াচ্ছিলো, মহারাজকে দেখে সে কুর্নিশ জানিয়ে বলল, মহারাজ আজকে কেন আপনি সাগরে যাচ্ছেন? একটু পরেই তো বৃষ্টি হবে! 
রাজা বললেন, বেটা জেলের বাচ্চা তুই কি জানিস? আমি আবহাওয়ার খবর জেনেই এসেছি! আমার আবহাওয়া বিভাগের প্রধান অনেক জ্ঞানী। তুই বেটা জাউল্যার বাচ্চা তার উপর কথা কস!  
রাজা সাগরে গেলেন, কিছুক্ষন পর শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি! রাজা প্রাসাদে ফিরে এসে আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে বরখাস্ত করে, ঐ জেলেকে ধরে এনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানিয়ে দিলেন! 
জেলে পড়লো মহা বিপদে। সে তো আবহাওয়ার কিছুই জানেনা। রাজ দরবারে গিয়ে হাত জোড় করে জেলে বললো, মহারাজ আমাকে যেতে দিন, আমি আসলে আবহাওয়ার কিচ্ছু জানিনা। 
রাজা বললো, তাহলে ঐদিন আমার আবহাওয়া বিভাগ থেকেও সঠিক খবর তুই কি করে দিলি! 
জেলে উত্তরে বিনয়ের সাথে বললো, মহারাজ, সেখানে আমার কোন কৃতিত্ব ছিল না! সব কৃতিত্ব আমার ছাগলের! বৃষ্টি আসার আধা ঘন্টা আগে থেকে আমার ছাগলটা ঘন ঘন মুতে! এর থেকেই আমি বুঝতে পারি একটু পর বৃষ্টি হবে! 
তারপর রাজা জেলেকে ছেড়ে দিয়ে তার ছাগলটাকে ধরে এনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানিয়ে দিলেন! সেই থেকেই বড় বড় পদগুলোতে ছাগল নিয়োগ দেওয়ার রীতি চালু হয়েছে!!

এবার আমার পুলকের আর শেষ নেই। ছাগলের ঘন ঘন মুতার মত আমিও ঘন ঘন পুলকিত হচ্ছি। আসলে দেশ বিদেশ না ঘুরলে বুঝাই যায় না, কিভাবে নিয়োগ দিতে হয় এবং কাদের নিয়োগ দেয়া হয়। জ্ঞান-ট্যান কিছুই না। ভালো মানের ছাগল হতে পারলে বড় বড় জায়গায় বসার সুযোগ হয়। সন্দেশেও নাকি জ্ঞানী-গুণী হওয়ার দরকার পরে না। জায়গা মত তেল ঢালতে পারলে আর সঠিক সময় সঠিক বাসের টিকিট কিনতে পারলে লক্ষ্যে পৌছা সুনিশ্চিত। আসলে লক্ষ্যে পৌছানোই শেষ কথা! টিকিট ব্ল্যাকে কিনছে না কাউন্টারে দাড়িয়ে কিনছে সেটা বড় কথা নয়। ভেবে দেখলাম শেখার কোন শেষ নেই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/96987/</link>
				<pubDate>Fri, 11 Feb 2022 07:57:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সমকালীন রঙ্গ-৩<br />
নির্বাচন পরিচালানকারী পরিষদ বাছাই রঙ্গ<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;<br />
আসাদুজ্জামান জুয়েল<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;<br />
বন্ধুরাতো জানোই যে, আমি একটু ঘুরতে ভালোবাসি। সেটা হোক দেশে কিংবা বিদেশে। এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে একদিন গিয়েছিলাম নতুন একটি দেশে। দেশটির নাম শুনলে জিভে জল চলে আসতে পারে। হ্যা বন্ধুরা, দেশটির নাম ‘সন্দেশ’। স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-96987"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/96987/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">81dfa21da8c24435b60dade1a271356a</guid>
				<title>সমকালীন রঙ্গ-২
নির্বাচনে গাঁজাখোরী কথা বিশ্বাস করবেন না
.................................
আসাদুজ্জামান জুয়েল
.................................
স্বপ্নে পাওয়া ভিসায় গিয়েছিলাম সন্দেশে। সন্দেশের রাজধানী ছানায় নেমেই চোখ জুড়িয়ে গেলো। এত সুন্দর পরিবেশ আমি অন্য কোন দেশে দেখিনি। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাস্তা ঘাট, সুশৃঙ্খল গাড়ি চলাচল। ফুটপাতে কোন হকার-ফেরিওয়ালা নেই। বাড়ি ঘর পরিকল্পিত। পরে শুনেছি এই দেশের মানুষ নাকি বিল্ডিং কোড মেনে বাড়ি করে। আমাদের দেশেতো নির্মান কাজ শেষই হয় না। আবার নির্মান কাজ চলার সময় ফুটপাত নির্মান সামগ্রী রেখে নিজেদের দখলে রাখে। সন্দেশের মানুষের মন খুব নরম, যেন মাখন! 
সন্দেশে নির্বাচন মৌসুম চলছিলো। স্বপ্নে ঘুরতে গেছি তাও আবার হাটবার, এমন একটা পরিস্থিতি আর কী। সেখানে বুদ্ধিজীবী এক কমিউনিটির নির্বাচন চলছে। প্রার্থীরা ভালো ভালো কথা বলছে। কোমলমতি শিশুদের মত যে ভোটারদের মন। সেই কোমলমতি ভোটাররা প্রার্থীর কথায় সহজেই যুক্ত হয়ে পিছনে পিছনে ঘুরছে। মাখনের মত নরম মনের সন্দেশবাসীরা সহজেই প্রার্থীদের কথায় পটে যাচ্ছে। দেখে আমার খুব ভালো লাগলো।
আমিতো আগেই বলেছি, সন্দেশে আমি যা দেখি তাতেই পুলকিত হই। আর মাঝে মাঝে আমার পপি গাইড আমার পুলকিত হওয়া দেখে ডাবল পুলকিত হয়। আসলে আমার সাদা মনেতো কোন কাদা নেই! তাই এই করোনা কালে সবকিছুই পজেটিভ মনে হয়। হোক সেটা হাচি, কিংবা কাশি! 
আমার পপি গাইড আমাকে পুলকিত করে বললো, ভাইরে, তুমি যে দেশ থেকে এসেছো সেখানকার নির্বাচনী পদ্ধতি, মানুষের মন মানসিকতা কেমন আমি জানি না। তবে তুমি যতটা সহজে সব কিছু মেনে নিচ্ছ আর যতটা সহজ ভাবছো তা কিন্তু নয়। এর ভিতরও কৌশল আছে, কুট কৌশলও আছে। একটা গল্প বললে বিষয়টা তুমি পরিস্কার বুঝতে পারবে। 
জঙ্গলে এক চিতা বাঘ গাছের নিচে বসে সিগারেট খাচ্ছিল। এক ইঁদুর এসে বললো, ভাই নেশা ছেড়ে দাও। নেশার জীবন কোন জীবন নয়। আমার সাথে এসো, দেখো জঙ্গল কত সুন্দর।
চিতা বাঘ চিন্তা করলো, কথাটাতো ভালই। ইঁদুরের সাথে যুক্ত হয়ে যেতে থাকল। কিছুদূর যাওয়ার পর এক হাতির সাথে দেখা। হাতি কলা বাগানে বসে কলা গাছ না খেয়ে বসে বসে মোটা সিরিঞ্জ দিয়ে ড্রাগ নিচ্ছিল। ইঁদুর হাতিকেও একই কথা বলল। এরপর হাতিও ওদের সাথে চলতে শুরু করল জঙ্গলের পথে। 
কিছুদূর এগিয়ে তারা দেখল বাংলার বাঘ হরিণের গা ঘেষে বসে হরিণ না খেয়ে হুইস্কি খাচ্ছে। ইঁদুর তাকেও একই কথা বলার সাথে সাথে বাঘ হুইস্কির গ্লাসটা মাটিতে রেখে ইঁদুরকে কষে এক থাপ্পড় দিল। সাথে সাথে ইঁদুরের দু’পাটির দুটি দাত উধাও হয়ে গেলো। এক পাশে পড়ে কোকাতে লাগলো বেচারা। 
বাঘের এহেন কান্ড দেখে হাতি ও চিতা বাঘ অবাক! হাতি ও চিতা বাঘ মনে খুব কষ্ট পেলো বাঘের আচরণ দেখে। বাঘকে বললো, তুমি বনের একজন সগ্রামী পশু। তোমার শক্তি, সৌন্দর্য সবই ইর্ষণীয়। তাই বলে যাকে তাকে যখন তখন মেরে বসবে তা কী ঠিক? বেচারা ইঁদুর কত ভালো কথা বললো। আমাদের আলোর পথে আনার কথা বললো। আর তুমি তাকে মারলে? বাঘ এবার বললো, তাহলে তোমরা মনযোগ দিয়ে শোন। এই বেটা কালকেও তিন কল্কি গাঁজা খাওয়ার পর দশটা ইয়াবা টেনে আমাকে এমন ভালো ভালো কথা বলে জঙ্গলে তিন ঘণ্টা ঘুরিয়েছিল।
আমি গল্পটা শুনেতো অবাক। আগেই বলেছিলাম, শেখার কোন শেষ নাই। এই গল্পে শিক্ষার অনেক কিছু আছে। যে যতই ভালো কথা বলুক, ভালো ভালো প্রতিশ্রুতি আউড়াক। তার মনে কোন দুরভিসন্ধি আছে কিনা দেখে বুঝার উপায় নাই। তাই বুঝতে হবে, ভাবতে হবে। প্রতিশ্রুতি শুনে বা ভালো কথা শুনে হৃদয় গলানো ঠিক হবে না। যদিও আমাদের দেশে আমরা সেটা পারি না। দুষ্টের মিষ্টি কথায় আমাদের মন গলে পানি হয়ে যায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/96823/</link>
				<pubDate>Thu, 10 Feb 2022 05:06:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সমকালীন রঙ্গ-২<br />
নির্বাচনে গাঁজাখোরী কথা বিশ্বাস করবেন না<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;<br />
আসাদুজ্জামান জুয়েল<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;<br />
স্বপ্নে পাওয়া ভিসায় গিয়েছিলাম সন্দেশে। সন্দেশের রাজধানী ছানায় নেমেই চোখ জুড়িয়ে গেলো। এত সুন্দর পরিবেশ আমি অন্য কোন দেশে দেখিনি। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাস্তা ঘাট, সুশৃঙ্খল গাড়ি চলাচল। ফ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-96823"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/96823/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">24312b4f13151f967a5af6f75f93e70c</guid>
				<title>সমকালীন রঙ্গ-১
গলা জড়িয়ে ধরা মানেই ভালোবাসা নয়! মনে দুরভিসন্ধি থাকতে পারে।
.................................
আসাদুজ্জামান জুয়েল
.................................
বন্ধুরাতো জানোই যে, আমি একটু ঘুরতে ভালোবাসি। সেটা হোক দেশে কিংবা বিদেশে। এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে একদিন গিয়েছিলাম নতুন একটি দেশে। দেশটির নাম শুনলে জিভে জল চলে আসতে পারে। হ্যা বন্ধুরা, দেশটির নাম ‘সন্দেশ’। সন্দেশে ভিসা প্রাপ্তিতে খুব একটা জটিলতা পোহাতে হয় না। আন্তরিকতা নিয়ে ভিসা চাইলেই দিয়ে দেয়। 
তো, কিছুদিন আগে সন্দেশ গিয়ে দেখি সেখানকার এক বড় কমিউনিটির নির্বাচন মৌসুম চলছে। নির্বাচন দেখার মধ্যে আলাদা একটা মজা আছে। কারন আমাদের দেশে জাতীয়, বিজাতীয়, নানান কমিউনিটির নির্বাচন লেগেই থাকে। আজ বাস মালিক সমিতির নির্বাচন তো কাল শ্রমিক ইউনিয়নের, আজ সংসদ তো কাল ইউনিয়ন পরিষদের, আজ মেথর সমিতির তো কাল ঝাড়ুদার ঐক্য পরিষদের নির্বাচন। প্রতিটি নির্বাচনেই প্রচার প্রচারণার মধ্যে একটা উৎসবের মেজাজ বিরাজ করে। আমি যেহেতু সন্দেশে ফরেইনার তাই আমাকে ঘুরতে একসেস পাওয়ার দিয়েছে। আমি ঘুরতে ঘুরতে দেখলাম, সেখানে প্রার্থীরা ভোটারদের সাথে খুব কুশল বিনিময় করছে, গাল কেলিয়ে হেসে হেসে কথা বলছে, মাঝে মাঝে মডের গ্রাম নামের এক হাইওয়ে রেস্তরায় খিচুরি খাওয়াচ্ছে। আমাদের দেশে অবশ্য লাল চা খাওয়ায় তাও মিডাই দিয়া! কখনো আদা দেয়। আদার দাম বৃদ্ধি পেলে শুধুই গুর দিয়ে চা। সাথে থাকে বিড়ি। লোভি ভোটাররা সেই লাল চা বড় জাম বাটি ভরে গিলে। আমাদের দেশে দেখেছি, ফাও পেলে আলকাতরা টেট্রনের লুঙ্গিতে কোচর তৈরী করে ভরে নেয়। একশ টাকার আলকাতরা নিতে যদি তিনশ টাকার লুঙ্গি নষ্ট হয় তাতেও তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ হয় না। মাগনা আলকাতরা খাওয়াতে আমরা বেশ পটু।  
সন্দেশে একজন প্রার্থী দেখি বেশ আন্তরিক। ভোটারদের দেখলেই গলা জড়িয়ে ধরছে। গলা জড়িয়ে ধরে প্রার্থীকে কানে কানে কথা বলছে, একটু সাহছে, নানান সম্বোধনে ডাকছে। কেউ তার মামা, কেউ তার কাকা, কেউ তার শালা, আবার কেউবা দুলাভাই। আমি প্রার্থীদের এমন আন্তরিকতা দেখে বেশ মুগ্ধ ও পুলকিত। সত্যিই দেখে খুব ভালো লাগলো যে, প্রার্থী কত আন্তরিক। এমন প্রার্থী, এমন নেতাও আজকাল পৃথিবী নামক গ্রামে আছে? 
সন্দেশে আমি যেহেতু ফরেইনার। আমিতো আর সেই দেশের ভাষা জানি না। আর পিকে সিনেমার মত সুন্দরী কোন মহিয়সী নারীও পাইনি যে তার হাত ধরে বসে থেকে ভাষা নিজের মধ্যে নিয়ে নিবো। তাই, সন্দেশে যাওয়ার সাথে সাথে সেই দেশের রাজধানী থেকে আমার সাথে যুক্ত হয়েছে একজন গাইড। তাকে অনেকটা আমাদের দেশের পপি গাইডের মত বলতে পারেন। সে সবই জানে তবে সংক্ষেপে। আমি আর আমার গাইড ঘুরে ঘুরে দেখছি আর আমি পুলকিত হচ্ছি। কিন্তু আমার গাইড পুলকিত হচ্ছে না। সেটা হতেই পারে, আমরা তাদের কৃষ্টি-কালচার দেখে পুলকিত হই। আবার আমাদের দেশে এসে আমাদের নেতাদের বক্তৃতা-আশ্বাস-প্রলোভোন দেখে সন্দেশের মানুষজন পুলকিত হয়। আমার দেশের পরিবেশ-প্রতিবেশ, স্থপনা সব দেখে তারা পুলকিত হয়ে বলে ‘ওয়াও’। এটাই স্বাভাবিক। ভিন্ন দেশে যেটা চুল আমাদের দেশে সেটা গালি। ভাবা যায় বিষয়টা! সন্দেশে গিয়ে দেখি শুধু বাংলায় আজান দেয়। আর সবই অপরিচিত ভাষায়! 
আমি ভোটারের গলা প্রার্থীর জড়িয়ে ধরা দেখে পুলকিত হয়ে পপি গাইডকে বললাম, আহা, কি মনোরম দৃশ্য। এমন প্রার্থী, এমন নেতাও এখনও পৃথিবী গ্রামে আছে? কত সুন্দর করে গলা জড়িয়ে ধরেছে! কত হাসি মাখা মুখ নিয়ে কথা বলছে। হৃদয়টাও কত পরিস্কার। ভিতরে জটিলতা নেই, কুটিলতা নেই। 
এবার পপি গাইড পুলকিত হয়ে গেলো। প্রার্থীর গলা জড়িয়ে ধরা দেখে নয়, আমার কথা শুনে। আমাকে সে বললো, ভাই, গলা জড়িয়ে ধরাটা দেখলেন, মনের দুরভিসন্ধিটাতো দেখতে পেলেন না! সন্দেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও দার্শনিক একটা কথা বলে গেছেন যা হয়তো আপনি জানেন না। কথাটা হলো, ‘গলা জড়িয়ে ধরলেই তাকে ভালোবাসা ভাববেন না, বাঘও হরিণের গলা জড়িয়ে ধরে, সেটা ভালোবাসা নয়, কেবলই ভিতরের ক্ষুধার জন্য। দার্শনিকের নামটা অবশ্য বলেনি, আমিও জিজ্ঞাস করিনি। আবার গেলে জেনে আসবো। 
পপি গাইডের কথা শুনে আমি এবার ডাবল পুলকিত হলাম। আসলে দেশ বিদেশ না ঘুরলে বুঝাই যায় না, কোনটা ভালোবাসার গলা জড়িয়ে ধরা আর কোনটা দুরভিসন্ধির গলা জড়িয়ে ধরা! ধরার মধ্যেও যে পার্থক্য থাকতে পারে তা বুঝিনি। আমাদের দেশেতো হয় শক্ত করে ধরে নয় নরম করে। কিন্তু এখানের ধরার মধ্যে যে এত রহস্য লুকিয়ে আছে সেটা কে জানতো?
সন্দেশের প্রার্থীদের আচরণ দেখে ও পপি গাইডের কথা শুনে শিক্ষা হলো যে, ধরলেই হবে না। দেখতে হবে কেন ধরেছে, কিভাবে ধরেছে। মনের ভিতরটা পড়তে হবে। কোন অভিসন্ধি আছে কিনা অথবা কোন দুরভিসন্ধি। প্রার্থীর ধরা প্রার্থী ধরবে, সিদ্ধান্ত নিতে হলে আমাদের ভেবে চিন্তে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, একটি ভুল সিদ্ধান্ত সারা জীবনের কান্না হয়ে যেন না দাড়ায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/96709/</link>
				<pubDate>Wed, 09 Feb 2022 18:02:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সমকালীন রঙ্গ-১<br />
গলা জড়িয়ে ধরা মানেই ভালোবাসা নয়! মনে দুরভিসন্ধি থাকতে পারে।<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;<br />
আসাদুজ্জামান জুয়েল<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;<br />
বন্ধুরাতো জানোই যে, আমি একটু ঘুরতে ভালোবাসি। সেটা হোক দেশে কিংবা বিদেশে। এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে একদিন গিয়েছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-96709"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/96709/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">716658276a02447a98ae6c96c2250d7f</guid>
				<title>আসাদুজ্জামান জুয়েল and মোহাম্মদ শাহজামান শুভ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/89432/</link>
				<pubDate>Thu, 13 Jan 2022 09:48:07 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">05202e658cda957e88b38d6c0085fee0</guid>
				<title>আসাদুজ্জামান জুয়েল and ISMAT JAHAN LIPI are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/89051/</link>
				<pubDate>Wed, 12 Jan 2022 11:06:46 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a64e3b0eb910dda802149bb73ea4869c</guid>
				<title>আসাদুজ্জামান জুয়েল and Nilufar Ghani are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/88593/</link>
				<pubDate>Tue, 11 Jan 2022 06:20:51 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">280dd30fb4857491ba2e7ed3b128a940</guid>
				<title>আসাদুজ্জামান জুয়েল and রাসেল আদিত্য are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/88492/</link>
				<pubDate>Mon, 10 Jan 2022 18:40:07 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b4adca93faf6e092b4d9a8824e9f1cd1</guid>
				<title>গিরগিটি
-আসাদুজ্জামান জুয়েল

যদি, এবাদতেই খন্ডাবে পাপ মিলবে স্বর্গ হুরের দল
তবে, পাপের অর্থে জীবন সাজাই, পরে এবাদতে চল!

দুনিয়ার মোহেতে ডুবে করলি পরের ক্ষতি
সারা জীবন বেশ্যা হয়ে শেষ জীবনে সতি
পরের মাথায় দিয়ে বারি সাজাইলি জীবন 
মিছে আশা দিয়ে তুই ভাঙ্গলি কত মন। 
এত কিছুর পরেও যদি মিলবে স্বর্গ হুরের দল
পাপের অর্থে জীবন সাজাই, পরে এবাদতে চল!

ভন্ডমিতে সুবিধা তাই গেরুয়া গায়ে বারাইলি কেশ
স্বার্থ সিদ্ধি উদ্ধারে তুই সাজলি কামেল পীরের বেশ
অসৎ পথে করলি কামাই ভরলি গোলা পরের ধানে
প্রভাবশালীর চাটলি পাও, অসহায়কে মারলি প্রাণে। 
এত কিছুর পরেও যদি মিলবে স্বর্গ হুরের দল
পাপের অর্থে জীবন সাজাই, পরে এবাদতে চল!

নিজের মত ধর্মটাকে সাজালি তুই নিজ জীবনে
সুবিধা মত, সময় মত বদলালি তুই ক্ষণে ক্ষণে 
ভরলে উদর, উগরে দিয়ে সাজলি তুইা হাতেমতাই
তোর মত মতলববাজ ভন্ড ধরায় দুইটি নাই।
এত কিছুর পরেও যদি মিলবে স্বর্গ হুরের দল
পাপের অর্থে জীবন সাজাই, পরে এবাদতে চল!

শরীয়তপুর, ১০ জানুয়ারি ২০২২।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/88432/</link>
				<pubDate>Mon, 10 Jan 2022 17:51:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গিরগিটি<br />
-আসাদুজ্জামান জুয়েল</p>
<p>যদি, এবাদতেই খন্ডাবে পাপ মিলবে স্বর্গ হুরের দল<br />
তবে, পাপের অর্থে জীবন সাজাই, পরে এবাদতে চল!</p>
<p>দুনিয়ার মোহেতে ডুবে করলি পরের ক্ষতি<br />
সারা জীবন বেশ্যা হয়ে শেষ জীবনে সতি<br />
পরের মাথায় দিয়ে বারি সাজাইলি জীবন<br />
মিছে আশা দিয়ে তুই ভাঙ্গলি কত মন।<br />
এত কিছুর পরেও যদি মিলবে স্বর্গ হুরের দল<br />
পাপের অর্থে জীবন সাজাই, পর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-88432"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/88432/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">02b44ce3df2c9e4aa9076cba5bc75bbf</guid>
				<title>মা তুমি দূর আকাশের তাঁরা
-আসাদুজ্জামান জুয়েল
ছোটবেলায় ভাত না খেলে, পড়তে না বসলে, কখনোবা কথা না শুনলে 
মা বলতো, তুই যদি এমন করিস, আমি তাহলে থাকব না!
কৌতুহলী হয়ে মাকে জিজ্ঞেস করতাম, 
তুমি আমাকে ছেড়ে কোথায় যাবে মা?
মা বলতো, আমি হারিয়ে যাবো, অনেক দূরে হারিয়ে যাবো!
আমি বলতাম, তুমি আমায় ছেড়ে কোথ্থাও যেতে পারবে না, 
আমি ঠিকই তোমায় খুজে নেব মা!
মা বলতো, মানুষ একবার হারিয়ে গেলে আর খুজে পাওয়া যায় না বাবা!
মায়ের কথাটা শুনে আমার শীরদাড়া বেয়ে শীতল একটা প্রবাহ বয়ে যেতো।
আমি বলতাম, তুমি আমায় ছেড়ে কোথাও যেতে পারবে না মা!
মা আমাকে আরো ক্ষেপিয়ে তুলতো!
বলতো, আরে বোকা, মানুষ যখন স্রষ্টার কাছে চলে যায় 
তখন আর ফিরিয়ে আনা যায় না!
ছলো ছলো চোখে মায়ের মমতা মাখা মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকতাম।
নিরবতা ভেঙ্গে বলতাম, মানুষ স্রষ্টা কাছে কেন যায় তবে?
ভারি গলায় মা বলতেন, এটাই বিধান বাবা, এটাই নিয়ম!
মায়ের কথাগুলো শুনে বুকটা কেমন ভারি হয়ে যেতো, 
একরাশ কৌতুহল নিয়ে মাকে বলতাম,
মানুষ স্রষ্টার কাছে গিয়ে কোথায় থাকে মা?
মা দুষ্ট হাসি হেসে বলতো, ঐ দূর আকাশে তাঁরা হয়ে যায়!
আমি বলতাম, তাঁরা হয়ে দূর আকাশে কি করে মায়েরা?
মা বলতো, তাঁরা হয়ে তারা তাদের বাবু সোনাদের দেখে, 
তারা ভাত খাচ্ছে কিনা, মায়ের কথামত চলছে কিনা, পড়াশুনা করছে কিনা?
আমি কাদো কাদো কন্ঠে মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে বলতাম, 
তুমি কোথাও যাবে না মা, আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না, 
আমি তোমার সব কথা শুনবো, সব ভাত খাবো, পড়তেও বসবো!
একদিন মা ঠিকই আমায় ফাঁকি দিয়ে চলে গেলেন!
মায়েরা কখনো মিথ্যে বলে না, ছোট বেলায় যেমন বলেছিলেন, 
ঠিক তেমনই কথা রেখে চলে গেলেন হৃদয়টা শুন্য করে!
আজ গভীর রাতে পশুর নদী ধরে কটকা নদীতে ধীর গতিতে চলছে জাহাজ, 
সবাই যখন নিদ্রা দেবীর কোলে মাথা রেখে গভীর ঘুমে নিমজ্জিত, 
আমি তখন চেয়ার নিয়ে কেবিনের পাশে বসে আকাশ দেখি!
অন্ধকারেরও সৌন্দর্য থাকে, নীরবতারও থাকে সরব সুর!
নদীর দুই তীর ঘন সুন্দরবনের অপরূপ প্রকৃতি, জোঁনাকীরা জ্বলে নিভে
আমাকে বিমোহিত করে বসিয়ে রেখেছে একাকি!
মাথাটা একটু বাকিয়ে আকাশ পানে তাকাতেই নজরে এলো 
দূর আকাশে হাজারো কোটি তাঁরার মিটি মিটি চাহনি!
দেখে মনে হলো, মমতাময়ী মায়েরাই কি দেখছে তার বাবু সোনাদের?
মিটিমিটি চোখে তাকিয়ে দেখছে তার বাবুটা কি ভালো আছে,
সবটা ভাত খায় কী, সুপথে কী চলছে তার বাবু সোনাটা? 
দীর্ঘদিন পরে আকাশ আমায় জানিয়ে দিলো, মা তোমায় দেখছে
দূর থেকে মা বলছে, ভালো থাকিস বাবা, ঠিকমত চলিস!
০৩ জানুয়ারী ২০২০</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/87038/</link>
				<pubDate>Thu, 06 Jan 2022 10:22:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মা তুমি দূর আকাশের তাঁরা<br />
-আসাদুজ্জামান জুয়েল<br />
ছোটবেলায় ভাত না খেলে, পড়তে না বসলে, কখনোবা কথা না শুনলে<br />
মা বলতো, তুই যদি এমন করিস, আমি তাহলে থাকব না!<br />
কৌতুহলী হয়ে মাকে জিজ্ঞেস করতাম,<br />
তুমি আমাকে ছেড়ে কোথায় যাবে মা?<br />
মা বলতো, আমি হারিয়ে যাবো, অনেক দূরে হারিয়ে যাবো!<br />
আমি বলতাম, তুমি আমায় ছেড়ে কোথ্থাও যেতে পারবে না,<br />
আমি ঠিকই তোমায় খুজে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-87038"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/87038/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>