-
সমকালীন রঙ্গ-৪
মহামান্য হাইকোর্টে হাজী সাহেবের সাজা বহাল ও কিছু পজেটিভ চিন্তা
………………………..
আসাদুজ্জামান জুয়েল
………………………..
বিশ্বে করোনা অতিমারি হানা দেয়ার পর মানুষ যেমন চোখে সরষে ফুল দেখে আমি তেমনি চোখে এখন পজেটিভ দেখি। প্রতিদিন আক্রান্তর সংখ্যা পজেটিভ! গতকাল যা দেখেছি তার থেকে পজেটিভ হয়ে গ্রাফটা উপর দিকে। আবার মৃত্যুর সংখ্যার ক্ষেত্রেও একই রকম। একটু হাঁচি-কাশি, গায়ে জ্বর জ্বর ভাব? পরীক্ষা করলে দেখা যায় রেজাল্ট পজেটিভ! জেএসসি, এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রচার হয়েছে, তো দেখবেন এ প্লাস কে পেলো, কয়টা পেলো তা নিয়ে মাতামাতি। সংসার জীবনে স্ত্রীর প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা যদি পজেটিভ আসে আমরা আনন্দে গাছের উপর উঠে মিষ্টি ছিটাই, বাবা হওয়ার আনন্দে ভাসতে থাকি। এত কথা বলার কারন হলো, ইদানিং তাই আমি চোখে যাই দেখি তাতেই পজেটিভ কিছু খুঁজে পাই।
রাত থেকেই একটা খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিউজ ফিডে, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের অনলাইন ভার্সনে ও অনলাই গণমাধ্যমে, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে। খবরটা হলো, বিজ্ঞ নিম্ন আদালতের দেয়া হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে দশ বৎসর কারাদন্ড বহাল রেখেছে মহামান্য উচ্চ আদালত। মহামান্য উচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেন, দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের সাংবিধানিক পদধারী হলেও তাকে বিচারের আওতায় এনে দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে হবে। এটা অত্যন্ত পজেটিভ একটি বিষয় আমার কাছে। আপনাদের কাছে কেমন আমি হয়তো বলতে পারবো না।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের দায়ে নিম্ন আদালত হাজি সেলিমকে দশ বছর কারাদন্ড ও তথ্য গোপনের দায়ে তিন বছরের কারাদন্ডের রায় শুনিয়েছিলেন। একই সঙ্গে দশ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশের রায় দেন আদালত। এছাড়া ওইদিন একই আদালতে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে যে তিন বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল সেই অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই খালাস দেয়াটাও আমার কাছে পজেটিভ। কেন জানেন? অবৈধ সম্পদ অর্জন করবে আর সাজা হবে না এটা হতে পারে না। কিন্তু অবৈধ সম্পদ অর্জন করে সেটা গোপন না করে প্রচার করে বেড়াবে সেটাওতো ঠিক নয়!
রায়ের পর্যবেক্ষণে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মহামান্য হাইকোর্ট বলেছেন, সাংবিধানিক পদধারী বা পদধারী নন অথবা তিনি যেই হোন না কেন, দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে তাকে বিচারের আওতায় এনে দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনার কারণেই দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে আমরা সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। মহামান্য আদালত আরো বলেন, আমরা সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, এখন পর্যন্ত দুদক এ রকম হাজারো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনতে সক্ষম হয়নি। কিন্তু এর জন্য চেষ্টা থাকতে হবে। দুর্ভাগ্যজনক যে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুদক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ওপর নির্ভর করে আছে। রায়ে দুর্নীতিকে মানসিক ব্যাধি আখ্যায়িত করে মহামান্য হাইকোর্ট বলেন, এতে বিশেষ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবিশেষ আসক্ত হয়ে পড়েছে। দুর্নীতিতে জড়িতদের চিহ্নিত করে দুদক, বিচার বিভাগসহ সরকারি-বেসরকারি এবং আদালতের প্রধানরা সমন্বিতভাবে তাদের সতর্ক করে বার্তা দেবেন। যদিও এ কাজ কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। একজন সৎ ব্যক্তি একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির খপ্পরে পড়ে যেতে পারেন। কিন্তু তারপরও দুর্নীতিমুক্ত জাতি ও সমাজ গঠনে এ কাজ শুরু করতে হবে। মহামান্য উচ্চ আদালত সবসময় পজেটিভ পর্যবেক্ষণই দিয়ে থাকেন।
হাজী সেলিমের বিষয়ে আমার পজেটিভ চিন্তা হলো, সে একজন গুণী মানুষ। সে জানে কিভাবে অর্থের পাহাড় গড়তে হয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা কোন বাধা হয়ে দাড়ায় না সেটা হাজী সাহেব তৈলাক্ত বাঁশের মাথায় উঠে প্রমান করে দিয়েছেন। কত নিপুনভাবে একজন অশিক্ষিত মানুষ অর্থের পাহাড় গড়ে জাতীয় সংসদের মত মহান জায়গায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। হয়েছেন একজন আইন প্রণেতা। তার এই সাফল্যকে পজেটিভ ভাবে না নেয়া বোকামী নয় কী! এত এত সম্পদ অর্জন করে সে সেই সম্পদের তথ্য এতদিন গোপন রাখতেও সফল হয়েছেন। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, হাজী সাহেবের গুনাগুনগুলো অনুকরণীয় হলেও ভুলেও কিন্তু অনুকরণ করা যাবে না।
হাজী সাহেবরা আমাদের দেখিয়ে দিলো, কিভাবে সাফল্যের চুড়ায় উঠতে হয়। আর মহামান্য উচ্চ আদালতও আমাদের দেখিয়ে দিলো, অপরাধ করলে কোন ছাড় পাওয়া যায় না, সেটা দুদিন আগে বা দুদিন পরে! আমাদের এসব দেখে যদি শিক্ষা না হয়, তবে হাজী সাহেবদের মতই পরিনতির জন্য প্রস্তত থাকতে হবে। আমাদের আনাচে কানাচে এমন অনেক হাজী সাহেব ঘাপটি মেরে বসে আছেন। ইসমাইলী শরিয়া মোতাবেক জীবনযাপন করছে কিন্তু শরীর ধরে ঝাকুনি দিলে কেবলই অবৈধ আয়ের রক্ত মাংস ঝন ঝন করে নড়ছে! বৈধ আয়ের কৌশল অবলম্বন করুন, আয়কে যথা সময়ে যথাযথ নথিতে অর্ন্তভূক্ত করুন, স্বচ্ছ থাকুন আর আমার মতো পজেটিভ ভাবে দেখুন!5 Comments
Friends
Foyzur Khan
@foyzur-khan
Humayun Kabir Surjo
@humayunkabir-surjo
Sajid Raiyan ( সাজিদ রাইয়ান)
@sajid07
Shohag arnob
@shohagarnobgmail-com
আব্দুল মজিদ মারুফ
@abdulmojid
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
এড: সাজেদুল হক টুটুল
@sazedul
নিশাত আনজুম
@nishathunzom
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib


ভালো লাগলো আজকের পর্ব দুইটি। দুর্নীতি নামক মহামারী থেকে পরিত্রাণ চাই।