-
অ্যানড্রোমিডা ছায়াপথ
The Andromeda Galaxy
—————————————-
এ অপার বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বড় ছায়াপথ হচ্ছে অ্যালসিওনিয়াস (Alcyoneus Galaxy) । দৈত্যাকার রেডিও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ছায়াপথটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ (১.১ গিগাপারসেক) দূরে উত্তর গোলার্ধের Lynx নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত এবং ছায়াপথ SDSS J081421.68+522410.0 এর সাথে সম্পর্কিত । অ্যালসিওনিয়াসের কেন্দ্রে রয়েছে এক বিশাল কৃষ্ণগহ্বর । Martijn Oei এর নেতৃত্বে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল ছায়াপথটি আবিষ্কার করেন । অ্যালসিওনিয়াস ছায়াপথের নামকরণ করা হয়েছে গ্রীক পুরাণের ভয়ঙ্কর দানব অ্যালসিওনিয়াসের নামানুসারে, যিনি পৌরাণিক রোমান বীর ও দেবতা হারকিউলিসের সাথে লড়াই করেছিলেন । এছাড়া, মহাবিশ্বে একই আকৃতির 3C 236 নামে আরেকটি দানব রেডিও ছায়াপথ রয়েছে । তবে, এর আগে যে বৃহত্তম IC 1101 ছায়াপথের সাথে মানুষের পরিচয় হয়েছিল এটি তার চেয়েও ৪ গুণ বড় । অ্যালসিওনিয়াস ছায়াপথের প্রস্থের পরিমাপ ১ কোটি ৬৩ লক্ষ আলোকবর্ষ এবং এর ব্যাস আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের (Milky Way Galaxy) তুলনায় ১৬০ গুণ বেশি । অ্যালসিওনিয়াস ছায়াপথের মোট ভর সূর্যের ভরের তুলনায় প্রায় ২৪ হাজার কোটি গুণ বেশি ।
কুণ্ডলী পাঁকানো অ্যানড্রোমিডা ছায়াপথও একটি প্রকাণ্ড ছায়াপথ । এটি মহাবিশ্বের এক বিস্ময়কর সৌন্দর্য । অনেক সময় এটিকে Great Andromeda Nebula বলা হয়ে থাকে । অ্যানড্রোমিডা ছায়াপথ ধ্রুবমাতা মণ্ডলের অন্তর্গত একটি কুণ্ডলিত বা সর্পিলাকার ছায়াপথ । উত্তর আকাশে প্যাগাসাস নক্ষত্রমণ্ডলের পাশে অ্যানড্রোমিডা নক্ষত্রমণ্ডলে এর অবস্থান । অ্যানড্রোমিডা ছায়াপথ পৃথিবী থেকে প্রায় ২.৫৪ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত । এর ব্যাস প্রায় ২২০০০০ আলোকবর্ষ যেখানে আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের ব্যাস প্রায় ১০০০০০ আলোকবর্ষ । অতএব, আকাশগঙ্গা ছায়াপথের চেয়েও বৃহদাকার । অ্যানড্রোমিডায় ১ ট্রিলিয়নেরও (১ লক্ষ কোটি) বেশি নক্ষত্র রয়েছে । আপনি কল্পনা করতে পারেন, এ কিংবদন্তী ছায়াপথ কতো বিশাল? গ্রীক পুরাণ অনুসারে প্রাচীন পূর্ব আফ্রিকার ইথিওপিয়া রাজ্যের রাজা সিফিয়াস এবং রাণী ক্যাসিওপিয়ার রাজকন্যা অ্যানড্রোমিডার নামানুসারেই এ ছায়াপথের নামকরণ করা হয়েছে । ইরান তথাপি প্রাচীন পারস্যের মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী আবদ আল-রহমান আল-সুফি ৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে এ ছায়াপথটিকে পর্যবেক্ষণ করেন । পরবর্তীতে ফরাসি জ্যোতির্বিদ শার্লে মেসিয়ে (Charles Messier) এর নামানুসারে এ ছায়াপথের নাম হয় মেসিয়ার ৩১ (M 31) বা ধ্রুবমাতা বা NGC 224 । অ্যানড্রোমিডা ছায়াপথের ৭টি সর্পিল বাহুর মধ্যে ২টি বাহু নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রিকার সাথে সংযুক্ত রয়েছে এবং অবশিষ্ট ৫টি বাহু অধিকার করে আছে অসংখ্য সৌরমণ্ডলকে । ছায়াপথের এ পেঁচানো বাহুতে অসংখ্য নবীন নক্ষত্র ও কেন্দ্রভাগে প্রবীণ নক্ষত্র দ্বারা পরিপূর্ণ । এ ছায়াপথে অগণিত গুচ্ছনক্ষত্র স্তবক রয়েছে । ছায়াপথের ভিতরের অংশে একটি পূর্ণ ঘূর্ণন সমাপ্ত করতে সময় নেয় প্রায় ১১ মিলিয়ন বছর এবং বাইরের দিকটায় প্রায় ৯০-২০০ মিলিয়ন বছরে একটি ঘূর্ণন সম্পন্ন করে ।
বিংশ শতাব্দীতেও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথ হচ্ছে এ মহাবিশ্বের একমাত্র ছায়াপথ । আকাশগঙ্গা ছায়াপথের ব্যাস প্রায় ১০০০০০ আলোকবর্ষ এবং এর সবচেয়ে নিকটবর্তী বামন ছায়াপথ হচ্ছে Canis Major Dwarf Galaxy (Canis Major Overdensity) যা আকাশগঙ্গা ছায়াপথের Galactic Core কে কেন্দ্র করে মহাকর্ষীয় শক্তি দ্বারা আকাশগঙ্গা ছায়াপথের সাথে আবদ্ধ রয়েছে । Canis Major ছায়াপথে ১ বিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে যেখানে আকাশগঙ্গা ছায়াপথ প্রায় ২০০-৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের আবাসস্থল । এ জায়গার নক্ষত্রগুলোকে খালি চোখে দেখা যায় না, তবে অবলোহিত আলোকরশ্মির সাহায্যে এগুলো দৃষ্টিগোচর হয় । অ্যানড্রোমিডা ছায়াপথ হচ্ছে স্থানীয় ছায়াপথ সমুহের মধ্যে সবচেয়ে বিশালাকার ছায়াপথ যার প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথ ও ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথসহ আরো প্রায় ৪৪টি ছোট ছায়াপথ রয়েছে । পৃথিবী থেকে অন্ধকারের মধ্যে খালি চোখে অ্যানড্রোমিডা ছায়াপথকে দেখা যায় এবং এ ছায়াপথেই নক্ষত্রের সংখ্যা সর্বাধিক । অসীম মহাবিশ্বে আনুমানিক ১০০-২০০ বিলিয়ন ছায়াপথ রয়েছে । তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে যে, অ্যানড্রোমিডা ছায়াপথের কেন্দ্রের বিশাল কৃষ্ণগহ্বরটি ছাড়াও এখানে আরো ২৬টিরও বেশি কৃষ্ণগহ্বর রয়েছে । এদের মধ্যে ২টি যুগল কৃষ্ণগহ্বর বিদ্যমান যারা একে অপরকে ঘিরে সুন্দরভাবে ঘূর্ণিপাক খাচ্ছে । তাদের ভর জলন্ত অগ্নিপিণ্ড সূর্যের প্রায় ১৪ কোটি গুণ । জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, আজ থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন বছর পর আমাদের বাসস্থান আকাশগঙ্গা ছায়াপথের সাথে অ্যানড্রোমিডা ছায়াপথের প্রচণ্ড সংঘর্ষ হবে এবং দুটি ছায়াপথ মিলে গিয়ে একটি বৃহৎ উপবৃত্তাকার ছায়াপথে রূপান্তরিত হবে । ভাবা যায়, কি নৃশংস পরিণতি! কিন্তু ততোদিনে এ পৃথিবী গ্রহটি টিকে থাকবে তো? যদিও, ছায়াপথ দুটি প্রতি সেকেন্ডে ৭৫ মাইল বেগে একে অপরের দিকে ধেয়ে আসছে ।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, আন্তর্জাল (The Internet) ।
Friends
মোঃ মাহফুজুর রহমান
@nnxnsnmfkfkkgmail-com
শাহ্ আলম আল মুজাহিদ
@shahalam
Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]
@md-zaker-hayat-khan
শরীফ এমদাদ হোসেন
@sharif-emdad-hossain
শায়েরুল ইসলাম
@shaerulislam
সা দি য়া (নন্দিনী)
@nandini
Mahmuda Sultana
@mahmudamahi
Arshadul Khan Tuhin
@aktuhin
Muhammad Jabed
@jabed92

