-
গল্প 5
ফাতেমা সিনথিয়াদিনের পর দিন যায়,বুড়ো গল্প বলে যায়।
কখনো তীব্র শিত, কনকনে ঠান্ডা,
কখনো গরমের দাবদাহ,কখনো বা বসন্ত বাতাসে।
কোনো গল্প হাসায়, কোনো গল্প কাঁদায়।
এভাবেই চলতে থাকে,সময় এগিয়ে যায়।
এখন বসন্ত, বুড়ো আজ রাতেও গল্প বলছে, সবাই তৈরী হয়ে এসেছে।
জোছনা থেকে থেকে উঁকি দিচ্ছে,
সবার চোখে কৌতূহল,বুড়ো এলো,দাঁত বের করে একটু হেসে বসে পরল দাওয়ায়,কেরোসিনের আলো ও আঁধারে, মৃদু হাওয়ায় সব দোল খাচ্ছে।
শোনো শোনো সবাই ,শোনো দিয়া মন,
আলেয়া সুন্দরীর কথা করি গো বর্ণন।
বাপ মায়ের বড় আদুরে কন্যা ছিল সে যে,বয়স ষোল যখন হলো, গেল শ্বশুর বাড়িতে।
গায়ের রং শ্যামলা বরণ,ডাগর ডাগর চোখ,স্বামীর মন জিতে নিল কন্যা,
সে যে বুদ্ধিমতী করে পরখ।
সুখে শান্তিতে তার গেল কেটে পাঁচ বছর, সন্তান এলো না কোল জুড়ে
দু:খ অতি ঘোর।
শাশুড়ি সে যে স্বামীর কানে কান কথা কয়,ধীরে ধীরে স্বামীর সোহাগ কমে যায় বোধ হয়।
কি করবে আলেয়া? কি ই বা আছে করার?
কোন মুখে কথা কবে,লজ্জা করে ঘোর, স্বামী কয়দিন মানবে সন্তান ছাড়া ঘর।
বছর দুই ঘুরে এলো, কিছুই হলো না,
হায়!কি সর্বনাশ হলো!
কত বদ্যি,কবিরাজ কিছুই হলো না।
তারপরে একদিন ভর দুপুরে,
স্বামীর সাথে করে সতীন এলো ঘরে।
রূপবতী সে খুব,ফর্সা গায়ের রং,
কান্না জুড়ে দিল কন্যা,শাশুড়ি কয়, এ কেমন ঢং।
এত বছর চলে গেল,কোল না ভরল,না ই বাচ্চা এলো,চোখের জলের রং,এবার বন্ধ কর ওলো।
তোর ন্যাকা গলার আওয়াজ আর ভাল লাগে না,
তোরে শাস্তি পেতে হবে,কোনো রেহাই না।
সকলে ঠিক করল,কি শাস্তি হবে
নিজ হাতে ফুলে-জলে সতীন বরণ করে নিতে হবে।
বেচারি রাজি হয়ে গেল তখনি, না হলে বের করে দিত সকলি।
নিল সতীন বরণ করে,আদুরে আলেয়া
, চোখের পানি বাধ ভেঙ্গে নামে,
মুখ বলে থাম,থাম মন নাই মানে।
ধীরে ধীরে সয়ে গেল অভিমানি মন,
সতীনরে দেখতে লাগল ছোট বোনের মতন।
দুই সতীন মিলে হলো এক সংসার,
নেই কোনো ঝামেলা,কোনো অহংকার ।ননদীনির বিয়ে ঠিক হলো জমিদারের বেটার সাথে,
দশ গ্রামের বাসিন্দা দাওয়াত পেল,
সবাই খুশি মনে বিদায় দিল একসাথে।
এভাবেই চলে গেল বছর দুই, হঠাত নন্দাই একদিন দেখে আলেয়ার রূপ।
স্নান সেরে উঠে, দরজা দিয়ে শুকনো বসন করছিল পরিধান,
ওখানেই সে ননদের স্বামী ,জানালা একটু খোলা ছিল,তাই উঁকি দিয়ে সামান্য চেষ্টায় করে আনুমান।
নেশা হলো,রাত পহালে,ঘুম নাই এলো,
আলেয়ারে পেতে সে নানা বুদ্ধি পাকাল।
একদিন হেসেল ঘরে গেল যে জামাই,
কুপ্রস্তাব করল যে, আলেয়া কে পেতে চায়।
মুখের ওপর না বলে দিল সে রমণী,
তারপর সে চেপে ধরে হাতের কব্জি খানি।
এইবার সজোরে মারিল এক থাপ্পড়,
রব শুনে লোক এসে ভরল হেসেল ঘর।
জামাই,সে যে বড় আদুরে,দোষ কি তার হয়? সব দোষ এই নস্টা নারীর,
মিথ্যেই যেন সত্যি হয়।
আলেয়া যেন উঠল জেগে,উঁচু করে গলা,” ঠিক আছে। আমি তবে কেউ নই । শোনো তবে নির্জলা,যে দুষ্টু লোক টারে স্বামী বলেছ,সে তো বটে আসামি।
আজকের অপমান আর সইব না আমি।
হায়রে, হায়,এতদিন যে ঘরে করল সংসার, আজ তার পক্ষে কেউ নেই কথা বলার।
মিথ্যে,সব মিথ্যে, মরীচিকা সব,নিজের স্বামীই যখন নিল না পক্ষ,কি হবে সয়ে এতসব?
(পনের বছর পরে)
বাণিজ্যের কাজে ঘুরে দেশ হতে দেশান্তর, কত কাজ কত কিছু করে নিরন্তর।
দুই কন্যা এক পুত্র আছে, কি সুখের ঘর।
একদিন ভিনদেশে গেল জাহাজ নিয়ে,
সেখানে বানিজ্য করে অর্থ যাবে বাড়ি নিয়ে।
একদিন নদীর ধারে দেখে,এক বালক,
মুখের আদল তার মতই,পনের বছড়ের যুবক।
কাছে ডাকে,নাম সুধায় তারে,পরিচয় জেনে নিজেরে রুখিতে না পারে।
শেষে মায়ের নাম জিজ্ঞাসা করে,
হায়!এ যে আমার পুত্র, কতদিন পর দেখলাম তোমারে।
বিনে দোষে,বিনে বিচারে,তারে করেছি ঘরহারা,
এখন কি আর হবে ক্ষমা? বেচারা কি আর করে,ঝরঝর করে ঝরে অশ্রুধারা।
নিজের পরিচয় সে না করে বর্ণন,
খানিক পরেই সেখান থেকে লজ্জায় প্রস্থান করে, হায় রে নিয়ম,হায় বিধান,
তুমি বড়ই নির্মম।
কোনো মুখ নেই আমার ক্ষমা চাইবার,
আলেয়া আর তুমি থেকো ভালো
এই প্রার্থনা রইলো আমার।4 Comments
Friends
মেহেদী হাসান আইয়ুশ
@kobimahadihasanaayush
দীপান্বিতা পালিত
@dipannitachowdhury669gmail-com
Moin Uddin
@moinuddin1
মোস্তফা কামাল সাকি
@mostofakamal
উত্তম কুমার
@uttamkumarpaul75
উম্মে সালমা
@ummaysalma
Md arafat
@mdarafat
Liakat Jowardar
@liakatjowardar
গীতিকবি খোকন বিবাগী
@lokmanhasan


লোককথার সুরে লেখা হলেও এর যন্ত্রণা আজও সমান প্রাসঙ্গিক।