<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | bithy 123 bithy | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/bithy123bithy/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/bithy123bithy/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for bithy 123 bithy.</description>
	<lastBuildDate>Fri, 23 Oct 2026 10:09:56 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">85ba665fc3e6a04cb5322929e614691f</guid>
				<title>আজ লিখছি।

পাউরুটি
ফাতেমা সিনথিয়া 

দুধে ভেজানো বিস্কুট,
হাতে এক কাপ চা, খোলা জানলা,
বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে খুব।
আমি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করি।
দুধ চা আর বিস্কুট,
স্বাদ ই আলাদা ।
কিন্তু, 
দুধে ভেজানো পাউরুটি?
অনেক দিন হলো খাই না। 
ছোট্ট থাকতে কত খেতাম,
এখন আর খাওয়া হয় না।
অনেক কিছুই আগের মত নেই,
বৃষ্টি হচ্ছে।
যদি ভিজে ভিজে কাঁদি ,
কেউ বুঝবে না তো?
খোলা আকাশের নিচে ভিজি আর কাঁদি।
না,ভালো মেয়ে কাঁদে না।
তুমি না কত শক্ত!
কাঁদে তো দুর্বল।
পাউরুটি দেখনি,
দুধে ভিজে ও নেতিয়ে যায়,
কিন্তু মিশে যায় না।
তুমিই তো খেয়েছ? 
তুমি কেন বৃষ্টির পানিতে ভিজে কান্না করো?
তুমি না ভালো, কাঁদে না?
কে যেন বলছে? 
হ্যাঁ,তাই তো।
দুধে পাউরুটি ভিজিয়ে কত খেয়েছি,
সে নেতিয়ে পরেছে,কিন্তু শেষ হয় না ই।
আমি কেন ভেঙে পরব?
খোলা আকাশ, মৃদু হাওয়া, পানির ফোঁটা 
সব হাসবে আমায় দেখে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/285868/</link>
				<pubDate>Mon, 19 Oct 2026 18:51:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজ লিখছি।</p>
<p>পাউরুটি<br />
ফাতেমা সিনথিয়া </p>
<p>দুধে ভেজানো বিস্কুট,<br />
হাতে এক কাপ চা, খোলা জানলা,<br />
বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে খুব।<br />
আমি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করি।<br />
দুধ চা আর বিস্কুট,<br />
স্বাদ ই আলাদা ।<br />
কিন্তু,<br />
দুধে ভেজানো পাউরুটি?<br />
অনেক দিন হলো খাই না।<br />
ছোট্ট থাকতে কত খেতাম,<br />
এখন আর খাওয়া হয় না।<br />
অনেক কিছুই আগের মত নেই,<br />
বৃষ্টি হচ্ছে।<br />
যদি ভ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-285868"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/285868/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e1cdf574e2551e891eea086827bb7769</guid>
				<title>ধূলি ধূসরিত পথ

ইমাম হাফিজ সাহেব নামাজে সালাম ফিরিয়ে মোনাজাত ধরলেন। আয়তুল কুরসি পড়ে শরীর মসিহ  করেন। নিচের তলায় ভাড়া থাকেন। দো তলার বন্যাকে নিজের মেয়ের মতন দেখেন। বন্যার ছোট্ট একটা ছেলে আছে, ক্লাশ  সিক্স এ পড়ে। এখন বর্ষাকাল, থেকে থেকে বৃষ্টি হয়। বন্যা খুব লক্ষী মেয়ে একটা। স্কুলে চাকরি করে, আসার সময় বাজার নিয়ে ফেরে,পল্লবের লেখাপড়া সব দেখতে হয়।অসুস্থ বাবার সেবা ও করতে হয়।
সেইদিন ফেরার সময় হাফিজ ইমামকে সালাম দেয় পল্লব। “ বহত খুব,বহত খুব। মা ই এতো ভালো, কি সুন্দর ছেলে আল্লাহ দিয়েছেন। মা বন্যা, দেখিস আল্লাহ যা নেন তার চেয়ে দামি উপহার দেন। আল্লাহ ভরসা, কিচ্ছু হবে না। খালি লক্ষ্য করিস,পল্লব যেন ঐ চিপা ঘিন্জি গলি দিয়ে না যায়।” হাফিজ সাহেব কথা বলতে বলতে বৃষ্টি নেমে এলো।

এইএলাকায় বের হওয়ার জন্য দুই রাস্তা, একটা পিছের মাঠ আরেকটা চিপা গলি,কেমন যেন অন্ধকার। একবার এক প্রেগনেনট মহিলা তিন মাসের বাচ্চা নিয়ে ঐ গলি দিয়ে যাওয়ার সময় মরে যায়। তার রক্তের দাগ দেওয়ালে এখনো আছে। কিন্তু,কেস ঝুলছে। কে মেরেছে, সঠিক তথ্য পাওয়া যায় নি। সবার মতে,এই গলি থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পাওয়া যায়,কেউ যাতায়াত করলে মনে হয় কেউ পেছন থেকে ডাকছে। পল্লবকে বারবার না করেছে মা। তবুও কৌতূহলী হয়ে সে দু একবার চিপা গলি দিয়ে এসেছে, রক্তের দাগ দেখেছে,কিন্তু কই সেই চিতকার বা কোনো আত্মা ও তো পিছু নেয় নি ওর। 

ঝড় এলোপাতাড়ি হচ্ছে,বৃষ্টি হচ্ছে। পল্লব খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। রাত প্রায় 10টা। “ মা বন্যা, দেখত, বাবার কাশি হয়েছে। “ মায়ের কথা শুনে বন্যা ওষুধ আনতে গিয়ে দেখে নেই। বুদ্ধি করে আদা,লবঙ্গ,তেজপাতা দিয়ে লেবু চা করে দিল। বুড়ো খায় আর অল্প অল্প কাশে।বাহিরে ঝড়, বন্যার মনেও ঝড়। চা করতে গেলেই সেই খারাপ লোক,যাকে সে মন দিয়ে ভালোবেসেছিল সেও চা খেত। সে বই পড়তে বসলে বন্যা দুধ চা করে দিত। তার ঘন চুলে হাত বুলিয়ে দিত,যাতে ঘুমিয়ে পড়ে। তার মা,বোন সবাইকে নিজেরপরিবারের  মতো করে আগলে রেখেছে। বিনিময়ে জুটেছে একটা পেপার, তারপর সব শেষ। আগে পল্লবকে দেখতে আসত,এখন সময় নেই। সাদা চামড়া ওয়ালা সেই মেয়েটি কি বন্যার বিকল্প? না কি তার ধন-দৌলত তাকে এনে দিল বন্যা আর ফিরনাস এর মধ্যে? এসব প্রশ্নের জবাব সে খুঁজেছে অনেক কিন্তু,আগে। এখন অত ভাবা যায় না,সময় হয় না তার। কিন্তু, পল্লব, ওর সামনে তো হাসতে হয় হাসি আসুক আর না আসুক। হাফিজ সাহেব সবসময়ই বলেন,আল্লাহ ভালো কিছু দেবেন। আসলেই কি? এইসব ভাবার সময় নেই।
বাবার চায়ের কাপ ধুয়ে রেখে দেয়, পল্লবকে মশারি টাঙিয়ে দেয়। ঘুমিয়ে পরে ক্লান্ত বন্যা।
“জানো, ভাবী, সেই চিপা গলির মহিলা যে মরে গেছিল, সেই মামলার আসামি কে,তদন্ত করতে পুলিশ এসেছিল, গতকাল। কি শুনেছে,কে জানে? যতই বলি, ঐ গলি ভূতের,পুলিশ বিশ্বাস করে না। এলাকার দুষ্টু দুষ্টু কতগুলো ছেলের নাম লিখে নিয়েছে।……. ।” হাফিজ সাবের বৌ আর বন্যার মা আলাপ করে।” ওখানে ভূত নেই। হেঁটে হেঁটে গেলেও কিচছু হয় না।” পল্লবের কথা শুনে সবাই একবার ওর দিকে তাকিয়ে থাকে।
“ চলো,স্কুলে চলো,দেরি হয়ে যাচ্ছে। “ বন্যা পল্লবকে নিয়ে স্কুলে গেল। বৃষ্টির দিন,ছাতা নিয়ে গেল। সামনে একটা গাড়ি এসে থামল, কালো শার্ট, মুখে অল্প কিছু দাড়ি,সুন্দর দেখতে। বোধ হয় মালিকের ছেলে,তিন তলায় থাকে মালিক। আজ ওর আসার কথা ছিল। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পড়া শেষ করে ফিরেছে। বন্যাকে হ্যালো বলল। হাফিজ সাবকে সালাম দিল। বন্যা শুধু চেয়ে আছে। ছেলেকে নিয়ে স্কুলে গেল। বৃষ্টির দিন,তাতে কি? সামনে পরীক্ষা।
পল্লব বিকেল বেলা বল খেলতে যায়। আজ ও তাই গেল। উচ্ছ্বাস, মালিকের ছেলে ছোটদের সঙ্গে খেলছে। পল্লব, কচি আর মোট আট-দশজন হবে। পল্লব খেলা শেষ করে মাঠেই হাত পা ধুয়ে যাচ্ছিল বাড়ি, একটু দেরি হয়েছে ফিরতে। “ এই হারামি, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ভূত বলে কিচ্ছু মানছে না। এখন কি হবে? শোন, মোমিন, আমার ভয় করছে। আমার ব্যবসায় লাল বাতি জ্বলবে, তোর ও। আমি সহ্য করতে পারব না। কিছু কর। ওর মা আর বড় ভাই এসব করছে।……….।” হাফিজ সাবের গলা! সে এসব কথা বলছে! যাকে সবাই দেবতা ভাবে। পল্লব শুধু কথা শোনে  ক্লান্ত দেহে দো তলা ওঠে। মা হর্লিক্স বানিয়ে ফেলেছে,সাথে বিস্কুট। পল্লব খাচ্ছে আর মা কে বলছে,” মা, চিপা ঐ গলিতে যে ভূত আছে তা সত্যি। কিন্তু,যে যে ঐ গর্ভবতী মহিলাকে সন্তান পেটেই মেরেছে ভূত ভূত শুধু তারাই করে। অন্য কেউ ভূত দেখেও না, গল্প ও বলে না। কথাটা মাথা নয়,মন দিয়ে বুঝ। ভূত হলো সব মৌলবাদী মুনাফেক, কোনো ভালো মানুষ না।”
বন্যা ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। পল্লবকে কোনো ঝামেলাতে জড়াতে না করল। পল্লব মা কে ও তেমন কিছু বলল না। থ বনে যায় সে, এলাকার লোকজন যাকে ফেরেশতা বলে,তার ভেতর এই। 
প্রতিদিনের মত আজ ও ঘুমিয়ে পড়ে সে। এক বৃহস্পতিবার, স্কুলে হাফ ক্লাশ হয়। পল্লব মনের সাথে বুঝে, বুঝে,শেষে থানায় যায়। নিজের কানে যা শুনেছে সব বলে। ওখানে বল্টু,পিন্টু, মামুন এরা অযথা বন্দী। পুলিশ সব গোপন রাখবে বলে ওকে আশ্বাস দেয়। 
দিন যাচ্ছে ভালোই, রোদ উঠে বৃষ্টির পানি শুকিয়ে যায়। সবাই একটু বাহিরে বের হতে পারে। 
কোনো এক বিকেলে সেই চিপা গলির দেওয়ালে রক্তের দাগ হাতিয়ে দেখে পল্লব।পেছন থেকে কে যেন চাকু দিয়ে ডান পায়ের হাঁটুতে আঘাত করে। জোরে জোরে চিল্লায়, মুখ ঢাকা সে। উচ্ছ্বাস, হামিদ দোকানি,ব্যাপারি সব দৌড়ে আসে। বেশি লাগে নি,তবে ঘাতক খুব চেষ্টায় ছিল। তারপর চোখে অন্ধকার দেখে সে। জ্ঞান ফিরে দেখে মা,উচ্ছ্বাস,মালিক,বন্ধুরা আর সেই ভণ্ড হাফিজ। 
ইনজেকশন,স্যালাইন আরো কত কি। “ তেমন কিচ্ছু হয় নি,ঠিক হবে সব।” বন্যা একটু একটু চোখ মুছে। “ হ্যাঁ,আসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে, সবকিছুরই বিচার শুরু হবে। দেখো।” এবার পল্লবের মুখের দিকে হাফিজ সাব তাকিয়ে থাকে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত থেকে চলে যায় সবাই।
আবার সেই বৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি। কচির মা এসেছে, এখনো যায় নি। উচ্ছ্বাস পল্লবের সঙ্গে কথা বলছে। এখন কে বাইরে যাবে ওষুধের জন্য। অথচ, বড় ডাক্তার ওষুধ লিখেছে। পল্লব আর বাবা দুইজনেরই ওষুধ আনতে হবে। উচ্ছ্বাস গেল আনতে। ওকে ছাতা দিয়ে দেয় বন্যা। রাত প্রায় সাড়ে আটটায় কচির মা চলে গেল। হাফিজ সাবের বৌ বারবার এলো পল্লবকে দেখতে। সেই রাত যেন আর কাটে না ওদের। উচ্ছ্বাস এলো ওষুধ নিয়ে। পল্লব নিজে ও জানে সে কি করেছে।

( 2 মাস পরে)

কোনো এক বিকেলে পল্লব,উচ্ছ্বাস আর সবাই খেলছে। হটাত এ কি, পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে হাফিজ সাব,মোমেন আরো 4 জনকে। আর বল্টুসহ কয়েকজন মুক্তি পায়। “ বলেছিলাম না, সব কিছুরই বিচার হবে। যাও, তোমার জায়গায়। মুখোশ তো খুলে পরে গেছে।” পল্লব খুব তেজি হয়ে কথা বলে। বল্টু,পল্টু জুতো মারতে গেলে পুলিশ ওদের বাধা দেয়। 

“এই হাফিজ সাব আর মোমেন নারী ব্যবসায়ী। মোমেন বৌ দিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছিল। কিন্তু,রাজি হয় নি সে। তাই, চিপা গলিতে তাকে মরতে হয়। বন্যার প্রতি ও লোভ ছিল হাফেজ বেটার,ওকেও বিক্রির কথা বলেছিল। কিন্তু এখন, সব শেষ।” ওসি সালাউদ্দিন বলেন এসব কথা।
 
তারপর দিন যেতে থাকে, যেতে থাকে সময়।
এখন কেউ চিপা গলিকে ভুতুরে বলে না। কোনো এক বিকেলে পল্লব খেলা শেষ করে হাত পা ধুয়ে বাড়ি ফেরার সময় মনে হলো পেছন থেকে কোনো মহিলা বলছে,” পল্লব, ধন্যবাদ তোমায়।” আওয়াজ শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখে সেই রক্তমাখা দেওয়াল। ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। হয়ত ওদের ধরে নিয়ে গেছে বলেই সে খুশী হয়েছে। পল্লব মোটেও ভিতু নয়। এটা কার আওয়াজ হতে পারে? পেছনে তাকিয়ে দেখে একজন মহিলা। &quot;ওসি সাহেব আমার  দুলাভাই। উনি তোমার সাহসের প্রশংসা করেছেন। আমি সত্যিই অবাক হয়ে গেছি তোমার সাহস দেখে। খুব ভালো লাগছে।&quot; পল্লব ওনাকে ধন্যবাদ দিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। তাহলে আওয়াজ ওনারই ছিল, মানুষের মন, কখন যে কি ভাবে।
দেখতে দেখতে দিন চলে যাচ্ছে। পল্লব বড় হয়। সপ্তম শ্রেণীতে উঠে। নিজের বাবাকে সে দেখতে চায়। তা কি পারবে? এমন বিচ্ছেদ কেন হলো, সে তো জানে ও না। বন্যা কিছুই বলে না ওকে। শুধু ফিরনাস এর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/280550/</link>
				<pubDate>Wed, 30 Sep 2026 17:04:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ধূলি ধূসরিত পথ</p>
<p>ইমাম হাফিজ সাহেব নামাজে সালাম ফিরিয়ে মোনাজাত ধরলেন। আয়তুল কুরসি পড়ে শরীর মসিহ  করেন। নিচের তলায় ভাড়া থাকেন। দো তলার বন্যাকে নিজের মেয়ের মতন দেখেন। বন্যার ছোট্ট একটা ছেলে আছে, ক্লাশ  সিক্স এ পড়ে। এখন বর্ষাকাল, থেকে থেকে বৃষ্টি হয়। বন্যা খুব লক্ষী মেয়ে একটা। স্কুলে চাকরি করে, আসার সময় বাজার নিয়ে ফেরে,পল্লবের লেখাপড়া সব দেখতে হয়।অ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-280550"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/280550/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">31f0cebed214ac3b309bbdab1817d9ce</guid>
				<title>আজ একটি গল্প দিচ্ছি। পরের চমক আরো আসছে।
ধূলি ধূসরিত পথ

ইমাম হাফিজ সাহেব নামাজে সালাম ফিরিয়ে মোনাজাত ধরলেন। আয়তুল কুরসি পড়ে শরীর মসিহ  করেন। নিচের তলায় ভাড়া থাকেন। দো তলার বন্যাকে নিজের মেয়ের মতন দেখেন। বন্যার ছোট্ট একটা ছেলে আছে, ক্লাশ  সিক্স এ পড়ে। এখন বর্ষাকাল, থেকে থেকে বৃষ্টি হয়। বন্যা খুব লক্ষী মেয়ে একটা। স্কুলে চাকরি করে, আসার সময় বাজার নিয়ে ফেরে,পল্লবের লেখাপড়া সব দেখতে হয়।অসুস্থ বাবার সেবা ও করতে হয়।
সেইদিন ফেরার সময় হাফিজ ইমামকে সালাম দেয় পল্লব। “ বহত খুব,বহত খুব। মা ই এতো ভালো, কি সুন্দর ছেলে আল্লাহ দিয়েছেন। মা বন্যা, দেখিস আল্লাহ যা নেন তার চেয়ে দামি উপহার দেন। আল্লাহ ভরসা, কিচ্ছু হবে না। খালি লক্ষ্য করিস,পল্লব যেন ঐ চিপা ঘিন্জি গলি দিয়ে না যায়।” হাফিজ সাহেব কথা বলতে বলতে বৃষ্টি নেমে এলো।

এইএলাকায় বের হওয়ার জন্য দুই রাস্তা, একটা পিছের মাঠ আরেকটা চিপা গলি,কেমন যেন অন্ধকার। একবার এক প্রেগনেনট মহিলা তিন মাসের বাচ্চা নিয়ে ঐ গলি দিয়ে যাওয়ার সময় মরে যায়। তার রক্তের দাগ দেওয়ালে এখনো আছে। কিন্তু,কেস ঝুলছে। কে মেরেছে, সঠিক তথ্য পাওয়া যায় নি। সবার মতে,এই গলি থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পাওয়া যায়,কেউ যাতায়াত করলে মনে হয় কেউ পেছন থেকে ডাকছে। পল্লবকে বারবার না করেছে মা। তবুও কৌতূহলী হয়ে সে দু একবার চিপা গলি দিয়ে এসেছে, রক্তের দাগ দেখেছে,কিন্তু কই সেই চিতকার বা কোনো আত্মা ও তো পিছু নেয় নি ওর। 

ঝড় এলোপাতাড়ি হচ্ছে,বৃষ্টি হচ্ছে। পল্লব খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। রাত প্রায় 10টা। “ মা বন্যা, দেখত, বাবার কাশি হয়েছে। “ মায়ের কথা শুনে বন্যা ওষুধ আনতে গিয়ে দেখে নেই। বুদ্ধি করে আদা,লবঙ্গ,তেজপাতা দিয়ে লেবু চা করে দিল। বুড়ো খায় আর অল্প অল্প কাশে।বাহিরে ঝড়, বন্যার মনেও ঝড়। চা করতে গেলেই সেই খারাপ লোক,যাকে সে মন দিয়ে ভালোবেসেছিল সেও চা খেত। সে বই পড়তে বসলে বন্যা দুধ চা করে দিত। তার ঘন চুলে হাত বুলিয়ে দিত,যাতে ঘুমিয়ে পড়ে। তার মা,বোন সবাইকে নিজেরপরিবারের  মতো করে আগলে রেখেছে। বিনিময়ে জুটেছে একটা পেপার, তারপর সব শেষ। আগে পল্লবকে দেখতে আসত,এখন সময় নেই। সাদা চামড়া ওয়ালা সেই মেয়েটি কি বন্যার বিকল্প? না কি তার ধন-দৌলত তাকে এনে দিল বন্যা আর ফিরনাস এর মধ্যে? এসব প্রশ্নের জবাব সে খুঁজেছে অনেক কিন্তু,আগে। এখন অত ভাবা যায় না,সময় হয় না তার। কিন্তু, পল্লব, ওর সামনে তো হাসতে হয় হাসি আসুক আর না আসুক। হাফিজ সাহেব সবসময়ই বলেন,আল্লাহ ভালো কিছু দেবেন। আসলেই কি? এইসব ভাবার সময় নেই।
বাবার চায়ের কাপ ধুয়ে রেখে দেয়, পল্লবকে মশারি টাঙিয়ে দেয়। ঘুমিয়ে পরে ক্লান্ত বন্যা।
“জানো, ভাবী, সেই চিপা গলির মহিলা যে মরে গেছিল, সেই মামলার আসামি কে,তদন্ত করতে পুলিশ এসেছিল, গতকাল। কি শুনেছে,কে জানে? যতই বলি, ঐ গলি ভূতের,পুলিশ বিশ্বাস করে না। এলাকার দুষ্টু দুষ্টু কতগুলো ছেলের নাম লিখে নিয়েছে।……. ।” হাফিজ সাবের বৌ আর বন্যার মা আলাপ করে।” ওখানে ভূত নেই। হেঁটে হেঁটে গেলেও কিচছু হয় না।” পল্লবের কথা শুনে সবাই একবার ওর দিকে তাকিয়ে থাকে।
“ চলো,স্কুলে চলো,দেরি হয়ে যাচ্ছে। “ বন্যা পল্লবকে নিয়ে স্কুলে গেল। বৃষ্টির দিন,ছাতা নিয়ে গেল। সামনে একটা গাড়ি এসে থামল, কালো শার্ট, মুখে অল্প কিছু দাড়ি,সুন্দর দেখতে। বোধ হয় মালিকের ছেলে,তিন তলায় থাকে মালিক। আজ ওর আসার কথা ছিল। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পড়া শেষ করে ফিরেছে। বন্যাকে হ্যালো বলল। হাফিজ সাবকে সালাম দিল। বন্যা শুধু চেয়ে আছে। ছেলেকে নিয়ে স্কুলে গেল। বৃষ্টির দিন,তাতে কি? সামনে পরীক্ষা।
পল্লব বিকেল বেলা বল খেলতে যায়। আজ ও তাই গেল। উচ্ছ্বাস, মালিকের ছেলে ছোটদের সঙ্গে খেলছে। পল্লব, কচি আর মোট আট-দশজন হবে। পল্লব খেলা শেষ করে মাঠেই হাত পা ধুয়ে যাচ্ছিল বাড়ি, একটু দেরি হয়েছে ফিরতে। “ এই হারামি, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ভূত বলে কিচ্ছু মানছে না। এখন কি হবে? শোন, মোমিন, আমার ভয় করছে। আমার ব্যবসায় লাল বাতি জ্বলবে, তোর ও। আমি সহ্য করতে পারব না। কিছু কর। ওর মা আর বড় ভাই এসব করছে।……….।” হাফিজ সাবের গলা! সে এসব কথা বলছে! যাকে সবাই দেবতা ভাবে। পল্লব শুধু কথা শোনে  ক্লান্ত দেহে দো তলা ওঠে। মা হর্লিক্স বানিয়ে ফেলেছে,সাথে বিস্কুট। পল্লব খাচ্ছে আর মা কে বলছে,” মা, চিপা ঐ গলিতে যে ভূত আছে তা সত্যি। কিন্তু,যে যে ঐ গর্ভবতী মহিলাকে সন্তান পেটেই মেরেছে ভূত ভূত শুধু তারাই করে। অন্য কেউ ভূত দেখেও না, গল্প ও বলে না। কথাটা মাথা নয়,মন দিয়ে বুঝ। ভূত হলো সব মৌলবাদী মুনাফেক, কোনো ভালো মানুষ না।”
বন্যা ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। পল্লবকে কোনো ঝামেলাতে জড়াতে না করল। পল্লব মা কে ও তেমন কিছু বলল না। থ বনে যায় সে, এলাকার লোকজন যাকে ফেরেশতা বলে,তার ভেতর এই। 
প্রতিদিনের মত আজ ও ঘুমিয়ে পড়ে সে। এক বৃহস্পতিবার, স্কুলে হাফ ক্লাশ হয়। পল্লব মনের সাথে বুঝে, বুঝে,শেষে থানায় যায়। নিজের কানে যা শুনেছে সব বলে। ওখানে বল্টু,পিন্টু, মামুন এরা অযথা বন্দী। পুলিশ সব গোপন রাখবে বলে ওকে আশ্বাস দেয়। 
দিন যাচ্ছে ভালোই, রোদ উঠে বৃষ্টির পানি শুকিয়ে যায়। সবাই একটু বাহিরে বের হতে পারে। 
কোনো এক বিকেলে সেই চিপা গলির দেওয়ালে রক্তের দাগ হাতিয়ে দেখে পল্লব।পেছন থেকে কে যেন চাকু দিয়ে ডান পায়ের হাঁটুতে আঘাত করে। জোরে জোরে চিল্লায়, মুখ ঢাকা সে। উচ্ছ্বাস, হামিদ দোকানি,ব্যাপারি সব দৌড়ে আসে। বেশি লাগে নি,তবে ঘাতক খুব চেষ্টায় ছিল। তারপর চোখে অন্ধকার দেখে সে। জ্ঞান ফিরে দেখে মা,উচ্ছ্বাস,মালিক,বন্ধুরা আর সেই ভণ্ড হাফিজ। 
ইনজেকশন,স্যালাইন আরো কত কি। “ তেমন কিচ্ছু হয় নি,ঠিক হবে সব।” বন্যা একটু একটু চোখ মুছে। “ হ্যাঁ,আসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে, সবকিছুরই বিচার শুরু হবে। দেখো।” এবার পল্লবের মুখের দিকে হাফিজ সাব তাকিয়ে থাকে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত থেকে চলে যায় সবাই।
আবার সেই বৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি। কচির মা এসেছে, এখনো যায় নি। উচ্ছ্বাস পল্লবের সঙ্গে কথা বলছে। এখন কে বাইরে যাবে ওষুধের জন্য। অথচ, বড় ডাক্তার ওষুধ লিখেছে। পল্লব আর বাবা দুইজনেরই ওষুধ আনতে হবে। উচ্ছ্বাস গেল আনতে। ওকে ছাতা দিয়ে দেয় বন্যা। রাত প্রায় সাড়ে আটটায় কচির মা চলে গেল। হাফিজ সাবের বৌ বারবার এলো পল্লবকে দেখতে। সেই রাত যেন আর কাটে না ওদের। উচ্ছ্বাস এলো ওষুধ নিয়ে। পল্লব নিজে ও জানে সে কি করেছে।

( 2 মাস পরে)

কোনো এক বিকেলে পল্লব,উচ্ছ্বাস আর সবাই খেলছে। হটাত এ কি, পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে হাফিজ সাব,মোমেন আরো 4 জনকে। আর বল্টুসহ কয়েকজন মুক্তি পায়। “ বলেছিলাম না, সব কিছুরই বিচার হবে। যাও, তোমার জায়গায়। মুখোশ তো খুলে পরে গেছে।” পল্লব খুব তেজি হয়ে কথা বলে। বল্টু,পল্টু জুতো মারতে গেলে পুলিশ ওদের বাধা দেয়। 

“এই হাফিজ সাব আর মোমেন নারী ব্যবসায়ী। মোমেন বৌ দিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছিল। কিন্তু,রাজি হয় নি সে। তাই, চিপা গলিতে তাকে মরতে হয়। বন্যার প্রতি ও লোভ ছিল হাফেজ বেটার,ওকেও বিক্রির কথা বলেছিল। কিন্তু এখন, সব শেষ।” ওসি সালাউদ্দিন বলেন এসব কথা।
 
তারপর দিন যেতে থাকে, যেতে থাকে সময়।
এখন কেউ চিপা গলিকে ভুতুরে বলে না। কোনো এক বিকেলে পল্লব খেলা শেষ করে হাত পা ধুয়ে বাড়ি ফেরার সময় মনে হলো পেছন থেকে কোনো মহিলা বলছে,” পল্লব, ধন্যবাদ তোমায়।” আওয়াজ শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখে সেই রক্তমাখা দেওয়াল। ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। হয়ত ওদের ধরে নিয়ে গেছে বলেই সে খুশী হয়েছে। পল্লব মোটেও ভিতু নয়। এটা কার আওয়াজ হতে পারে? পেছনে তাকিয়ে দেখে একজন মহিলা। &quot;ওসি সাহেব আমার  দুলাভাই। উনি তোমার সাহসের প্রশংসা করেছেন। আমি সত্যিই অবাক হয়ে গেছি তোমার সাহস দেখে। খুব ভালো লাগছে।&quot; পল্লব ওনাকে ধন্যবাদ দিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। তাহলে আওয়াজ ওনারই ছিল, মানুষের মন, কখন যে কি ভাবে।
দেখতে দেখতে দিন চলে যাচ্ছে। পল্লব বড় হয়। সপ্তম শ্রেণীতে উঠে। নিজের বাবাকে সে দেখতে চায়। তা কি পারবে? এমন বিচ্ছেদ কেন হলো, সে তো জানে ও না। বন্যা কিছুই বলে না ওকে। শুধু ফিরনাস এর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/280548/</link>
				<pubDate>Wed, 30 Sep 2026 17:02:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজ একটি গল্প দিচ্ছি। পরের চমক আরো আসছে।<br />
ধূলি ধূসরিত পথ</p>
<p>ইমাম হাফিজ সাহেব নামাজে সালাম ফিরিয়ে মোনাজাত ধরলেন। আয়তুল কুরসি পড়ে শরীর মসিহ  করেন। নিচের তলায় ভাড়া থাকেন। দো তলার বন্যাকে নিজের মেয়ের মতন দেখেন। বন্যার ছোট্ট একটা ছেলে আছে, ক্লাশ  সিক্স এ পড়ে। এখন বর্ষাকাল, থেকে থেকে বৃষ্টি হয়। বন্যা খুব লক্ষী মেয়ে একটা। স্কুলে চাকরি করে, আসার সম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-280548"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/280548/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d4053e13560e42b09991a856b8cd9261</guid>
				<title>আজঅসমাপ্ত সংলাপ
ফাতেমা সিনথিয়া 

একজন কবিকে বলছি, সে যেন আমার প্রশ্নের জবাব দিয়ে যায়,
আমার জানতে চাওয়া কথাগুলো বলে যায়, তাঁকে বলো, সে যেন চলে না যায়।
এ জগত সংসারে সে একজন কবি,
কলম ধরলেও কবি হওয়া যায় না।
তার কাছে কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে যে আমার।
সে কোথা হতে এসেছে?এ মহাকাল,
শত জনমের যে শূন্যতা, যে অনুরাগ,বাতুলতা, যে বাঁধনে বাঁধা সবাই, সেও কি তাদের মধ্যে একজন নয়? তার কি মন চায় নি একটা ঘরে কোনো এক রমণীর সাথে বনিবনা হোক? সে হতে পারত কোনো ছকে বাঁধা মানুষ?
কিন্তু, কবি কেন হলো?
তার একটা কবিতা আমি পড়ব, নিয়ে এসো।
পড়ে যদি বুঝতে পাড়ি, সে কেন কবি হলো, কেন এ জগতের সাথে তার লেনদেন কম?
তাহলে আমার কৌতূহলী মন একটু শান্তি খুঁজে পাবে।
হ্যা, এলো চিঠি, একটা চিঠি,হয়ত এই  সামান্য নারীর কথার জবাব সে কবি দিয়েছে।
বাসন্তী রঙের খামের ভেতর সবুজ রঙের চিঠি।
আমি খুব উতসাহ নিয়ে ধীরে ধীরে চিঠি বের করি, সংলাপ আকারের সে চিঠি।
পড়তে থাকলাম কিছু সময় ধরে দাঁড়িয়ে,কিছু ঘটনা, কিছু কথা,আবেগ,স্মৃতির পাতায় হাজার ভাষা যেন একটা সুরে গেঁথেছেন উনি।
চোখে জল চলে এলো,জানতে পারি,উনি কেন কবি।
সময় যেমন করে তার নিজস্ব গতিতে চলতে থাকে,কিছু কেড়ে নেয়, কিছু ফিরিয়ে দেয়,কিছু শিক্ষা দিয়ে যায়।
যেজন্য মানুষ কখন কে কি করে,কোন ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোন পথে চলতে থাকে, 
তার কোনো সূচি নেই।
সেও ভালোবাসতে জানত, তার ও স্বপ্ন ছিল, কিন্তু, নিয়তির নিঠুর পরিণতি,স্বপ্নভঙ্গ আরো কত কিছুর প্রতিফলনে আজ উনি একজন কবি।
পুরো চিঠিই যেন কোনো কথা বলছে, সেখান থেকে হাসি, কান্না, মন ভাঙার 
অনুভুতি,কাছের মানুষের দেওয়া আঘাত- এইসব কিছুই তার ইন্ধন জোগায় কবি হওয়ার জন্য।
কোনো এক মুহূর্তে তিনি কবি হননি।
তার লেখা শেষ শব্দগুলো,

&quot; থেমে যেও না, থেমে যেও না,
এ জগত সংসার জুড়েই রয়েছে নিখুঁত বৈজ্ঞানিক ইতিকথা,গতি।
কারুর মায়ায় নিজেকে বেঁধে রেখো না, যে মুক্তি চায়, তাকে মুক্তি দাও।
যেমন পায়রা উড়িয়ে দেয়া হয় নীল আকাশে।
তুমিও পারবে, যেমন আমি পেরেছি,
এ বিশ্ব চরাচরে চেয়ে দেখ, কারুর মায়ায় কেউ আটকে নেই।
আবার বলছি,তুমি পারবে।
গহীন আঁধারের বুক চিরে,বুনো ঝোপঝাড় এর গন্ধ,আঁধার সব উপেক্ষা করে,তবুও সুর ওঠে,গান বাজে,ফুল ফোটে, চেয়ে দেখ।

তাই থেমে যেও না,লিখ লিখ
অসমাপ্ত সংলাপ।
লিখ, কোনো এক প্রচন্ড ঝড়ের কবলে নাবিক কিভাবে সামাল করে,
যুদ্ধের সময় কেন মা কোনো চিন্তা না করেই তার সন্তানকে পাঠায় দেশ রক্ষা করতে?
কেন কত ফুল ফুটে আছে আর কত ঝড়ে পড়ে,সে হিসেব কেউ রাখেনি?
কেন সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দিয়েও সেই মিথ্যেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে?
কেন সমুদ্রের অতল গহ্বরে এতকিছু,আর তুমি জানোই না?
কেন পাহাড় ভাঙার গান শুনতে পেলাম না?
কেন মায়ের ছেড়া শাড়ি?
শহীদের পিতার আর্তনাদ কেন ক্ষমতালোভীরা শোনে না?
খোঁজ,খোঁজ, এগুলোই খোঁজ,কলমের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হোক জালিমের
তলোয়ার।
 আমি যে কবি, কেন কবি, জানতে চাইলে শোনো,কান পেতে সেই আওয়াজ শোনো।
যে আওয়াজ আছে মৃত্তিকার অতল গহ্বরে,
যে আওয়াজ আছে সন্তান হারা মায়ের কণ্ঠে,
যে আওয়াজ আছে শহীদের রক্তাক্ত জখম হওয়া কাপড়ে।
জিজ্ঞাসা কর,প্রশ্ন কর,জবাব চাও,কি হয়েছিল ওদের সাথে।
কেন যুগে যুগে বিশ্বাসঘাতকগুলো আরামে আছে?
খোঁজো,খোঁজো,খোঁজ কর।
কলম ধর,ধর,ভয় নেই তোমার।
তোমার পেছনে এরা সবাই,আমি হঠাত কবি হইনি।
তুমি ঠিকই বুঝেছ, আমায় ইন্ধন জোগায় কিছু ঘটনা,কিছু অশ্রু,কিছু যুদ্ধ,কিছু কথা।
কবির ভাষায় কথা শুনে আমার দু চোখে ছলছল করে উঠল।
তিনি আরো লিখেছেন,
গভীর সমুদ্রের বুকে আছড়ে পড়ে ঢেউয়ে, সেখানে নাবিক কি করে টিকে থাকে?
সন্তান হারা মা কেন খোকা ফিরবে বলে পথের পানে তাকিয়ে থাকে?
যেন আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি শোনা যায়?
কেন অপেক্ষা করতে করতে গোলাপের পাপড়ি শুকিয়ে গেছে কিন্তু সে আসে নি?
এ নিখিল বিশ্ব জুড়ে কিসের এত আর্তনাদ, এসো,কেউ এসো, একটা মোমবাতি নিয়ে এসো।
কেউ কি আসলেই আসে?
কেন আদিনিবাস ভেঙে নগর, সভ্যতা মানবতা গ্রাস করেছে? 
পাথরে কেন চেয়ে আছে, কেন পূর্বপুরুষদের রক্ত, সংগ্রাম,কাহিনি বলতে চাচ্ছে?
থেকে থেকে কেন ম্লান হয়ে যায় সত্যের তরবারি?&quot;

আমি পড়ি আর ভাবি,
কবি, হায় কবি, যে দিগন্ত জুড়ে তোমার দৃষ্টি, যে মহাকাল তুমি লিখেছ,যে অন্তর আত্মা তোমার,
আমি কবি হতে পারব কি না, তা জানি না।
কিন্তু, সত্যের সন্ধানে এসে পরেছি।
তুমি গভীর থেকে গভীরে গিয়েছ,
আমার বন্ধ চোখের পাতা খুলে দিয়েছ,
আমাকে কবি মন কেমন হয়, তা বুঝিয়ে দিয়েছ।
তুমি ধন্য, তুমি ধন্য,
আমিও কিছু লিখে যাব তোমার জন্য,
এখন নয়, চিঠি পড়ে শেষের দিকে।

তুমি আরো লিখেছ,
এ সমাজ, সভ্যতা ধ্বংস করেছে যে লুটেরা, যাদের হাতে মোমবাতি নেই,
ন্যায় বিচারের নামে ওরা প্রহসন চালু করেছে।
একদিন নিয়তি ও ওদের নিয়ে প্রহসন করবে, ওদের কান্না দেখে হাসবে।
কিছু সময় অপেক্ষা কর, দেখতে পাবে, কোনো হিসেব থাকে না বাকি,
বাকির খাতার সব হিসেব একদিন পূর্ণ হবে।

যে জমিন ভিজেছিল শহীদের রক্তে, সেই একই সময়ে, কোনো ঘটনা, কোনো শক্তিশালী ঝড় এসে বিচার করবে।
রক্ত, রক্ত,
তখন রক্ত ঝরবে সেই জালিমের, সব ঋণ শোধ হয়ে যাবে।
যত ঋণ আছে-
সেই শহীদের রক্তের দাগ, মায়ের অশ্রু,বোনের আর্তনাদ, সেই রক্ত মাখা কাপড়, হুম, সব হিসেব চুকিয়ে দিয়ে 
নিয়তি বিচার করবে।
তুমি মিলিয়ে নিও আমার কথা। 
 
আঁধারের বুক চিরে ছোট্ট খুকির আর্তনাদ শোনা যায়,
কেউ এগিয়ে আসেনি, কেউ না।
তার শিশুবেলা শেষ হওয়ার আগেই সে ঐ নরপিশাচ এর বিকৃত ভোগের সামগ্রী হয়েছে।
তার রক্তাক্ত জামা, ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ, ছেড়া চুল তার মা দেখেছে।
তবুও আলো হাতে কেউ এগিয়ে আসেনি, শুধুই মিথ্যে বুলি,ফাঁকা আওয়াজ, মন ভোলানো কথা।
আমি আমার কলমের কালির আঁচড় কেটে যদি একটু আলো জ্বেলে দিতে পারি,
তাই আমি কবি।

গভীর সমুদ্রের বুকে যে ঢেউ খেলানো মায়াবতীর খেলা,
ওতে নাবিক লড়ে যায়, প্রতিনিয়ত ।
সমাজ ও সভ্যতা টিকে থাকে এভাবেই।
এ লড়াই আদি অন্তহীন,চিরন্তন।
শরীরের ঘাম দিয়ে, শক্তি নিংড়ানো লড়াই,এ জগত সংসার জুড়েই এ যুদ্ধ।
এ টিকে থাকার লড়াই বটে।
যতক্ষণ বুকে শ্বাস আছে,এ লড়াই ও আছে।
এতটুকুও ছাড় নয়, কোনো আপোস নয়,শুধু লড়াই আর লড়াই।
পাথরে আগুন ধরিয়ে যে লড়াই শুরু হয়েছে,তা এখনো শেষ হয়নি।

যে বধূ চুলে বিনুনী গেঁথে ফুলের মালা দিয়ে সাজে, বেনারশি শাড়ি পড়ে,ঘোমটা টেনে দেয়,
তার হাতেই আত্মরক্ষার জন্য ঢাল-তলোয়ার দেখা যায়।
হ্যাঁ,এটাই বাস্তব।
যেখানে কোমলতর ফুল ফোটে,সেই খানেই রাতের যবনিকা কাটে না,ভোর ও হয় না।
শুধুই অপেক্ষা আর অপেক্ষা।
একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত, তারপরে ভোর হয় ধীরে ধীরে, পক্ষীকূল ডানা মেলে উড়ে যায়।
ভোর তো হওয়ারই ছিল, কিন্তু,সেই পরমসত্তা,উনি ধৈর্যের পরীক্ষা নিলেন।

কবি, হায় কবি!দুচোখে জল ছলছল করে উঠল তোমার লেখা পড়ে।
আমি পুরো চিঠি পড়তে চাই।

&quot; কবি হতে হলে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ দেখতে হবে? কিন্তু,খালি চোখে নয়।
কবি হতে হলে,সূর্যের সোনালি আভায় নিজের মুগ্ধতা মিলিয়ে নেবে,
বনে বাদাড়ে ঘুরে ওখানে পরিচিত হতে হবে,
কোনো এক মা, তার সন্তানের জন্য অপেক্ষয় আছে, আমায় যেতে হবে।
তার চোখের দিকে তাকিয়ে না বলা কষ্ট বুঝে নিতে হবে।
তবেই আমি কবি।
ছোট্ট কিশোরীর ঘুঙুর পায়ে যে আওয়াজ,যা দুর্লভ, তা শুনতে হবে।
তুমিও যদি কবি হতে যাও,
বলছি,শোনো,
এ লোকালয় ছেড়ে যেতে হবে না।
আমি সে কথা বলিনি
তৃতীয় নয়ন খুলে রেখ,হ্যাঁ,তৃতীয় নয়ন খুলে দাও।
প্রতি ভাঁজে ভাঁজে যে রহস্য,তা খুঁজে পেতে যেন বেগ পেতে না হয়।
আর প্রেম,প্রেম সন্ধান কর।
প্রেম,যা না থাকলে এ মহাকাল বিনাশ হয়ে যেত।
পৃথিবী আর তার আশেপাশের যা কিছু,যত কিছু সবই প্রেম।
এ পৃথিবীর সাথে আমাকে-তোমাকে বেঁধে দিয়েছে প্রেম।
এ প্রেম বুঝতে হবে,
এজন্য দুর্লভ কিছুই করতে হবে না।
আমি আবার ও বলছি,তৃতীয় নয়ন খুলে রাখ।

তুমিও কবি হতে পারবে,হ্যাঁ,পারবে,
এ জগত সংসার, নির্মম সত্য,বিশ্বাস ঘাতকতা, ক্ষত বিক্ষত চিন্হ তোমায় কবি করে তুলবে।
কিন্তু,মনে রেখ যে যুবা যে যে মিথ্যে ভালোবাসি বলে তোমায় ছুড়ে ফেলে দিয়েছে,
না তুমি তাদের কাছে যাবে, না তাদের তোমার কাছে আসতে দেবে।&quot;

কবি,হায় কবি,
চিঠি পড়ে শেষ করেছি।
কিন্তু,চোখের জল বাঁধ ভেঙে ঝড়ে পড়ে,দু গাল বেয়ে অশ্রু নামছে।
আমার সব প্রশ্নের উত্তর আমি পেয়েছি।
ওগো কবি,
জীবনের একটা পর্যায়ে যেখানে আমরা সবাই হেরে যাই, তা যত্ত শক্ত লোক হোক না কেন।
জ্বলে পুড়ে রুপো যেমন হয়,তুমিও তেমন কবি।
তোমার কথা মনে রইলো,
তোমার বাণী গেঁথে দিয়েছি,
তোমার কষ্ট নিজের মত করে বুঝে নিয়েছি।
তোমায় আমার আরাধ্য মেনেছি।
ওগো কবি, হায় কবি,
পাহাড় ভাঙার গান শুনতে যে ওখানে যেতে হয় না,তুমিই শেখালে।
তুমি তো সেই কাননের ফুল, যা ফোটে ভোর হওয়ার আগেই।
বনের প্রকৃতি দেখতে হলে তৃতীয় নয়ন লাগে, 
তুমি মায়ের চোখের অশ্রু মুছে দিলে ভালোবাসি।
ওগো কবি,
এতদিন শুধু কবিই বলেছি,
আমার আরাধ্য তুমি।

তুমি মাটির বুক চিরে বৃক্ষ জন্ম নেওয়ার গল্প শুনেছ,
তুমি মায়ের চোখের যে অশ্রু তা দেখেছ,
তুমি সৈনিকের যুদ্ধে যাওয়ার যে উন্মাদনা তা দেখেছ,
তুমি ফুলের মালা নিয়ে প্রেমিকার অপেক্ষার প্রহর গুণে যে কষ্ট,তা দেখেছ,
তুমি গ্রাম্য, নগ্ন শিশুর উচ্ছ্বল হাসি শুনেছ,
তুমি স্বামীহীনা নারীর প্রতি সহিংসতা দেখেছ,
তুমি শহীদের রক্তের দাগ শুকিয়ে যে লক্ষ লক্ষ প্রাণ জেগে উঠতে থাকে তা দেখেছ,
তুমি ফুল ঝড়ে পড়ার কষ্ট দেখেছ,
পাতালের গুহার নীরব কান্না শুনেছ,
বিধবা মায়ের আঁচল সাদা তা দেখেছ 
তাই তুমি কবি।
আমার আরাধ্য,
তুমি রয়ে যাবে যুগ থেকে যুগান্তকারী নায়ক হিসেবে।
আর আমরা বিলুপ্ত হয়ে যাব, 
তুমি তখন ও বেঁচে থাকবে,
যখন তোমার দেহ মাটির নিচে পঁচে গলে যাবে।
হ্যাঁ,এটাই সত্যি, বাস্তব কথা।

এসো, আমার আরো প্রশ্নের জবাব দিয়ে আমায় ধন্য করো,
আমি যে তোমার পরম ভক্ত,
শুধু জ্ঞানের সমুদ্রে এক টুকরো নুড়ি পাথর হয়ে থাকতে চাই।

আমার পরবর্তী প্রশ্নগুলো,
 তুমি কি দর্পণে মুখ দেখো না? 
বসন্তের বাতাস কি তোমার মনে সারা দেয় না?




পড়ে দেখুন। একটি কবিতা দিচ্ছি</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/276774/</link>
				<pubDate>Mon, 21 Sep 2026 19:18:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজঅসমাপ্ত সংলাপ<br />
ফাতেমা সিনথিয়া </p>
<p>একজন কবিকে বলছি, সে যেন আমার প্রশ্নের জবাব দিয়ে যায়,<br />
আমার জানতে চাওয়া কথাগুলো বলে যায়, তাঁকে বলো, সে যেন চলে না যায়।<br />
এ জগত সংসারে সে একজন কবি,<br />
কলম ধরলেও কবি হওয়া যায় না।<br />
তার কাছে কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে যে আমার।<br />
সে কোথা হতে এসেছে?এ মহাকাল,<br />
শত জনমের যে শূন্যতা, যে অনুরাগ,বাতুলতা, যে বাঁধনে বাঁধা সবাই, সেও কি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-276774"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/276774/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">00e25d99ae4e8f7f477a3d9731e1d527</guid>
				<title>আজ একটা গল্প দিচ্ছি। আপনাদের কেমন লাগে জানি না।

ধূলি ধূসরিত পথ

ইমাম হাফিজ সাহেব নামাজে সালাম ফিরিয়ে মোনাজাত ধরলেন। আয়তুল কুরসি পড়ে মসিহ করছিলেন। ভীষণ ভালো মানুষ উনি। নিচের তলায় ভাড়া থাকেন। দো তলার বন্যাকে নিজের মেয়ের মতন দেখেন। বন্যার ছোট্ট একটা ছেলে আছে, ক্লাশ  সিক্স এপড়ে। এখন বর্ষাকাল, থেকে থেকে বৃষ্টি হয়। বন্যা খুব লক্ষী মেয়ে একটা। স্কুলে চাকরি করে, আসার সময় বাজার নিয়ে ফেরে,পল্লবের লেখাপড়া সব দেখতে হয়।অসুস্থ বাবার সেবা ও করতে হয়।
সেইদিন ফেরার সময় হাফিজ ইমামকে সালাম দেয় পল্লব। “ বহত খুব,বহত খুব। মা ই এতো ভালো, কি সুন্দর ছেলে আল্লাহ দিয়েছেন। মা বন্যা, দেখিস আল্লাহ যা নেন তার চেয়ে দামি উপহার দেন। আল্লাহ ভরসা, কিচ্ছু হবে না। খালি লক্ষ্য করিস,পল্লব যেন ঐ চিপা ঘিন্জি গলি দিয়ে না যায়।” হাফিজ সাহেব কথা বলতে বলতে বৃষ্টি নেমে এলো।

এই।এলাকায় বের হওয়ার জন্য দুই রাস্তা, একটা পিছের মাঠ আরেকটা চিপা গলি,কেমন যেন অন্ধকার। একবার এক প্রেগনেনট মহিলা তিন মাসের বাচ্চা নিয়ে ঐ গলি দিয়ে যাওয়ার সময় মরে যায়। তার রক্তের দাগ দেওয়ালে এখনো আছে। কিন্তু,কেস ঝুলছে। কে মেরেছে, সঠিক তথ্য পাওয়া যায় নি। সবার মতে,এই গলি থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পাওয়া যায়,কেউ যাতায়াত করলে মনে হয় কেউ পেছন থেকে ডাকছে। পল্লবকে বারবার না করেছে মা। তবুও কৌতূহলী হয়ে সে দু একবার চিপা গলি দিয়ে এসেছে, রক্তের দাগ দেখেছে,কিন্তু কই সেই চিতকার বা কোনো আত্মা ও তো পিছু নেয় নি ওর। 

ঝড় এলোপাতাড়ি হচ্ছে,বৃষ্টি হচ্ছে। পল্লব খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। রাত প্রায় 10টা। “ মা বন্যা, দেখত, বাবার কাশি হয়েছে। “ মায়ের কথা শুনে বন্যা ওষুধ আনতে গিয়ে দেখে নেই। বুদ্ধি করে আদা,লবঙ্গ,তেজপাতা দিয়ে লেবু চা করে দিল। বুড়ো খায় আর অল্প অল্প কাশে।বাহিরে ঝড়, বন্যার মনেও ঝড়। চা করতে গেলেই সেই খারাপ লোক,যাকে সে মন দিয়ে ভালোবেসেছিল সেও চা খেত। সে বই পড়তে বসলে বন্যা দুধ চা করে দিত। তার ঘন চুলে হাত বুলিয়ে দিত,যাতে ঘুমিয়ে পড়ে। তার মা,বোন সবাইকে নিজেরপরিবারের  মতো করে আগলে রেখেছে। বিনিময়ে জুটেছে একটা পেপার, তারপর সব শেষ। আগে পল্লবকে দেখতে আসত,এখন সময় নেই। সাদা চামড়া ওয়ালা সেই মেয়েটি কি বন্যার বিকল্প? না কি তার ধন-দৌলত তাকে এনে দিল বন্যা আর ফিরনাস এর মধ্যে? এসব প্রশ্নের জবাব সে খুঁজেছে অনেক কিন্তু,আগে। এখন অত ভাবা যায় না,সময় হয় না তার। কিন্তু, পল্লব, ওর সামনে তো হাসতে হয় হাসি আসুক আর না আসুক। হাফিজ সাহেব সবসময়ই বলেন,আল্লাহ ভালো কিছু দেবেন। আসলেই কি? এইসব ভাবার সময় নেই।
বাবার চায়ের কাপ ধুয়ে রেখে দেয়, পল্লবকে মশারি টাঙিয়ে দেয়। ঘুমিয়ে পরে ক্লান্ত বন্যা।
“জানো, ভাবী, সেই চিপা গলির মহিলা যে মরে গেছিল, সেই মামলার আসামি কে,তদন্ত করতে পুলিশ এসেছিল, গতকাল। কি শুনেছে,কে জানে? যতই বলি, ঐ গলি ভূতের,পুলিশ বিশ্বাস করে না। এলাকার দুষ্টু দুষ্টু কতগুলো ছেলের নাম লিখে নিয়েছে।……. ।” হাফিজ সাবের বৌ আর বন্যার মা আলাপ করে।” ওখানে ভূত নেই। হেঁটে হেঁটে গেলেও কিচছু হয় না।” পল্লবের কথা শুনে সবাই একবার ওর দিকে তাকিয়ে থাকে।
“ চলো,স্কুলে চলো,দেরি হয়ে যাচ্ছে। “ বন্যা পল্লবকে নিয়ে স্কুলে গেল। বৃষ্টির দিন,ছাতা নিয়ে গেল। সামনে একটা গাড়ি এসে থামল, কালো শার্ট, মুখে অল্প কিছু দাড়ি,সুন্দর দেখতে। বোধ হয় মালিকের ছেলে,তিন তলায় থাকে মালিক। আজ ওর আসার কথা ছিল। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পড়া শেষ করে ফিরেছে। বন্যাকে হ্যালো বলল। হাফিজ সাবকে সালাম দিল। বন্যা শুধু চেয়ে আছে। ছেলেকে নিয়ে স্কুলে গেল। বৃষ্টির দিন,তাতে কি? সামনে পরীক্ষা।
পল্লব বিকেল বেলা বল খেলতে যায়। আজ ও তাই গেল। উচ্ছ্বাস, মালিকের ছেলে ছোটদের সঙ্গে খেলছে। পল্লব, কচি আর মোট আট-দশজন হবে। পল্লব খেলা শেষ করে মাঠেই হাত পা ধুয়ে যাচ্ছিল বাড়ি, একটু দেরি হয়েছে ফিরতে। “ এই হারামি, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ভূত বলে কিচ্ছু মানছে না। এখন কি হবে? শোন, মোমিন, আমার ভয় করছে। আমার ব্যবসায় লাল বাতি জ্বলবে, তোর ও। আমি সহ্য করতে পারব না। কিছু কর। ওর মা আর বড় ভাই এসব করছে।……….।” হাফিজ সাবের গলা! সে এসব কথা বলছে! যাকে সবাই দেবতা ভাবে। পল্লব শুধু কথা শোনে  ক্লান্ত দেহে দো তলা ওঠে। মা হর্লিক্স বানিয়ে ফেলেছে,সাথে বিস্কুট। পল্লব খাচ্ছে আর মা কে বলছে,” মা, চিপা ঐ গলিতে যে ভূত আছে তা সত্যি। কিন্তু,যে যে ঐ গর্ভবতী মহিলাকে সন্তান পেটেই মেরেছে ভূত ভূত শুধু তারাই করে। অন্য কেউ ভূত দেখেও না, গল্প ও বলে না। কথাটা মাথা নয়,মন দিয়ে বুঝ। ভূত হলো সব মৌলবাদী মুনাফেক, কোনো ভালো মানুষ না।”
বন্যা ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। পল্লবকে কোনো ঝামেলাতে জড়াতে না করল। পল্লব মা কে ও তেমন কিছু বলল না। থ বনে যায় সে, এলাকার লোকজন যাকে ফেরেশতা বলে,তার ভেতর এই। 
প্রতিদিনের মত আজ ও ঘুমিয়ে পড়ে সে। এক বৃহস্পতিবার, স্কুলে হাফ ক্লাশ হয়। পল্লব মনের সাথে বুঝে, বুঝে,শেষে থানায় যায়। নিজের কানে যা শুনেছে সব বলে। ওখানে বল্টু,পিন্টু, মামুন এরা অযথা বন্দী। পুলিশ সব গোপন রাখবে বলে ওকে আশ্বাস দেয়। 
দিন যাচ্ছে ভালোই, রোদ উঠে বৃষ্টির পানি শুকিয়ে যায়। সবাই একটু বাহিরে বের হতে পারে। 
কোনো এক বিকেলে সেই চিপা গলির দেওয়ালে রক্তের দাগ হাতিয়ে দেখে পল্লব।পেছন থেকে কে যেন চাকু দিয়ে ডান পায়ের হাঁটুতে আঘাত করে। জোরে জোরে চিল্লায়, মুখ ঢাকা সে। উচ্ছ্বাস, হামিদ দোকানি,ব্যাপারি সব দৌড়ে আসে। বেশি লাগে নি,তবে ঘাতক খুব চেষ্টায় ছিল। তারপর চোখে অন্ধকার দেখে সে। জ্ঞান ফিরে দেখে মা,উচ্ছ্বাস,মালিক,বন্ধুরা আর সেই ভণ্ড হাফিজ। 
ইনজেকশন,স্যালাইন আরো কত কি। “ তেমন কিচ্ছু হয় নি,ঠিক হবে সব।” বন্যা একটু একটু চোখ মুছে। “ হ্যাঁ,আসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে, সবকিছুরই বিচার শুরু হবে। দেখো।” এবার পল্লবের মুখের দিকে হাফিজ সাব তাকিয়ে থাকে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত থেকে চলে যায় সবাই।
আবার সেই বৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি। কচির মা এসেছে, এখনো যায় নি। উচ্ছ্বাস পল্লবের সঙ্গে কথা বলছে। এখন কে বাইরে যাবে ওষুধের জন্য। অথচ, বড় ডাক্তার ওষুধ লিখেছে। পল্লব আর বাবা দুইজনেরই ওষুধ আনতে হবে। উচ্ছ্বাস গেল আনতে। ওকে ছাতা দিয়ে দেয় বন্যা। রাত প্রায় সাড়ে আটটায় কচির মা চলে গেল। হাফিজ সাবের বৌ বারবার এলো পল্লবকে দেখতে। সেই রাত যেন আর কাটে না ওদের। উচ্ছ্বাস এলো ওষুধ নিয়ে। পল্লব নিজে ও জানে সে কি করেছে।

( 2 মাস পরে)

কোনো এক বিকেলে পল্লব,উচ্ছ্বাস আর সবাই খেলছে। হটাত এ কি, পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে হাফিজ সাব,মোমেন আরো 4 জনকে। আর বল্টুসহ কয়েকজন মুক্তি পায়। “ বলেছিলাম না, সব কিছুরই বিচার হবে। যাও, তোমার জায়গায়। মুখোশ তো খুলে পরে গেছে।” পল্লব খুব তেজি হয়ে কথা বলে। বল্টু,পল্টু জুতো মারতে গেলে পুলিশ ওদের বাধা দেয়। 

“এই হাফিজ সাব আর মোমেন নারী ব্যবসায়ী। মোমেন বৌ দিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছিল। কিন্তু,রাজি হয় নি সে। তাই, চিপা গলিতে তাকে মরতে হয়। বন্যার প্রতি ও লোভ ছিল হাফেজ বেটার,ওকেও বিক্রির কথা বলেছিল। কিন্তু এখন, সব শেষ।” ওসি সালাউদ্দিন বলেন এসব কথা।
 
তারপর দিন যেতে থাকে, যেতে থাকে সময়।
এখন কেউ চিপা গলিকে ভুতুরে বলে না। কোনো এক বিকেলে পল্লব খেলা শেষ করে হাত পা ধুয়ে বাড়ি ফেরার সময় মনে হলো পেছন থেকে কোনো মহিলা বলছে,” পল্লব, ধন্যবাদ তোমায়।” আওয়াজ শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখে সেই রক্তমাখা দেওয়াল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/272285/</link>
				<pubDate>Wed, 09 Sep 2026 22:15:01 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজ একটা গল্প দিচ্ছি। আপনাদের কেমন লাগে জানি না।</p>
<p>ধূলি ধূসরিত পথ</p>
<p>ইমাম হাফিজ সাহেব নামাজে সালাম ফিরিয়ে মোনাজাত ধরলেন। আয়তুল কুরসি পড়ে মসিহ করছিলেন। ভীষণ ভালো মানুষ উনি। নিচের তলায় ভাড়া থাকেন। দো তলার বন্যাকে নিজের মেয়ের মতন দেখেন। বন্যার ছোট্ট একটা ছেলে আছে, ক্লাশ  সিক্স এপড়ে। এখন বর্ষাকাল, থেকে থেকে বৃষ্টি হয়। বন্যা খুব লক্ষী মেয়ে একটা।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-272285"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/272285/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">74be8b43f8d95d0797261c1472c470d2</guid>
				<title>ধূলি ধূসরিত পথ

ইমাম হাফিজ সাহেব নামাজে সালাম ফিরিয়ে মোনাজাত ধরলেন। আয়তুল কুরসি পড়ে মসিহ করছিলেন। ভীষণ ভালো মানুষ উনি। নিচের তলায় ভাড়া থাকেন। দো তলার বন্যাকে নিজের মেয়ের মতন দেখেন। বন্যার ছোট্ট একটা ছেলে আছে, ক্লাশ  সিক্স এপড়ে। এখন বর্ষাকাল, থেকে থেকে বৃষ্টি হয়। বন্যা খুব লক্ষী মেয়ে একটা। স্কুলে চাকরি করে, আসার সময় বাজার নিয়ে ফেরে,পল্লবের লেখাপড়া সব দেখতে হয়।অসুস্থ বাবার সেবা ও করতে হয়।
সেইদিন ফেরার সময় হাফিজ ইমামকে সালাম দেয় পল্লব। “ বহত খুব,বহত খুব। মা ই এতো ভালো, কি সুন্দর ছেলে আল্লাহ দিয়েছেন। মা বন্যা, দেখিস আল্লাহ যা নেন তার চেয়ে দামি উপহার দেন। আল্লাহ ভরসা, কিচ্ছু হবে না। খালি লক্ষ্য করিস,পল্লব যেন ঐ চিপা ঘিন্জি গলি দিয়ে না যায়।” হাফিজ সাহেব কথা বলতে বলতে বৃষ্টি নেমে এলো।

এই।এলাকায় বের হওয়ার জন্য দুই রাস্তা, একটা পিছের মাঠ আরেকটা চিপা গলি,কেমন যেন অন্ধকার। একবার এক প্রেগনেনট মহিলা তিন মাসের বাচ্চা নিয়ে ঐ গলি দিয়ে যাওয়ার সময় মরে যায়। তার রক্তের দাগ দেওয়ালে এখনো আছে। কিন্তু,কেস ঝুলছে। কে মেরেছে, সঠিক তথ্য পাওয়া যায় নি। সবার মতে,এই গলি থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পাওয়া যায়,কেউ যাতায়াত করলে মনে হয় কেউ পেছন থেকে ডাকছে। পল্লবকে বারবার না করেছে মা। তবুও কৌতূহলী হয়ে সে দু একবার চিপা গলি দিয়ে এসেছে, রক্তের দাগ দেখেছে,কিন্তু কই সেই চিতকার বা কোনো আত্মা ও তো পিছু নেয় নি ওর। 

ঝড় এলোপাতাড়ি হচ্ছে,বৃষ্টি হচ্ছে। পল্লব খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। রাত প্রায় 10টা। “ মা বন্যা, দেখত, বাবার কাশি হয়েছে। “ মায়ের কথা শুনে বন্যা ওষুধ আনতে গিয়ে দেখে নেই। বুদ্ধি করে আদা,লবঙ্গ,তেজপাতা দিয়ে লেবু চা করে দিল। বুড়ো খায় আর অল্প অল্প কাশে।বাহিরে ঝড়, বন্যার মনেও ঝড়। চা করতে গেলেই সেই খারাপ লোক,যাকে সে মন দিয়ে ভালোবেসেছিল সেও চা খেত। সে বই পড়তে বসলে বন্যা দুধ চা করে দিত। তার ঘন চুলে হাত বুলিয়ে দিত,যাতে ঘুমিয়ে পড়ে। তার মা,বোন সবাইকে নিজেরপরিবারের  মতো করে আগলে রেখেছে। বিনিময়ে জুটেছে একটা পেপার, তারপর সব শেষ। আগে পল্লবকে দেখতে আসত,এখন সময় নেই। সাদা চামড়া ওয়ালা সেই মেয়েটি কি বন্যার বিকল্প? না কি তার ধন-দৌলত তাকে এনে দিল বন্যা আর ফিরনাস এর মধ্যে? এসব প্রশ্নের জবাব সে খুঁজেছে অনেক কিন্তু,আগে। এখন অত ভাবা যায় না,সময় হয় না তার। কিন্তু, পল্লব, ওর সামনে তো হাসতে হয় হাসি আসুক আর না আসুক। হাফিজ সাহেব সবসময়ই বলেন,আল্লাহ ভালো কিছু দেবেন। আসলেই কি? এইসব ভাবার সময় নেই।
বাবার চায়ের কাপ ধুয়ে রেখে দেয়, পল্লবকে মশারি টাঙিয়ে দেয়। ঘুমিয়ে পরে ক্লান্ত বন্যা।
“জানো, ভাবী, সেই চিপা গলির মহিলা যে মরে গেছিল, সেই মামলার আসামি কে,তদন্ত করতে পুলিশ এসেছিল, গতকাল। কি শুনেছে,কে জানে? যতই বলি, ঐ গলি ভূতের,পুলিশ বিশ্বাস করে না। এলাকার দুষ্টু দুষ্টু কতগুলো ছেলের নাম লিখে নিয়েছে।……. ।” হাফিজ সাবের বৌ আর বন্যার মা আলাপ করে।” ওখানে ভূত নেই। হেঁটে হেঁটে গেলেও কিচছু হয় না।” পল্লবের কথা শুনে সবাই একবার ওর দিকে তাকিয়ে থাকে।
“ চলো,স্কুলে চলো,দেরি হয়ে যাচ্ছে। “ বন্যা পল্লবকে নিয়ে স্কুলে গেল। বৃষ্টির দিন,ছাতা নিয়ে গেল। সামনে একটা গাড়ি এসে থামল, কালো শার্ট, মুখে অল্প কিছু দাড়ি,সুন্দর দেখতে। বোধ হয় মালিকের ছেলে,তিন তলায় থাকে মালিক। আজ ওর আসার কথা ছিল। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পড়া শেষ করে ফিরেছে। বন্যাকে হ্যালো বলল। হাফিজ সাবকে সালাম দিল। বন্যা শুধু চেয়ে আছে। ছেলেকে নিয়ে স্কুলে গেল। বৃষ্টির দিন,তাতে কি? সামনে পরীক্ষা।
পল্লব বিকেল বেলা বল খেলতে যায়। আজ ও তাই গেল। উচ্ছ্বাস, মালিকের ছেলে ছোটদের সঙ্গে খেলছে। পল্লব, কচি আর মোট আট-দশজন হবে। পল্লব খেলা শেষ করে মাঠেই হাত পা ধুয়ে যাচ্ছিল বাড়ি, একটু দেরি হয়েছে ফিরতে। “ এই হারামি, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ভূত বলে কিচ্ছু মানছে না। এখন কি হবে? শোন, মোমিন, আমার ভয় করছে। আমার ব্যবসায় লাল বাতি জ্বলবে, তোর ও। আমি সহ্য করতে পারব না। কিছু কর। ওর মা আর বড় ভাই এসব করছে।……….।” হাফিজ সাবের গলা! সে এসব কথা বলছে! যাকে সবাই দেবতা ভাবে। পল্লব শুধু কথা শোনে  ক্লান্ত দেহে দো তলা ওঠে। মা হর্লিক্স বানিয়ে ফেলেছে,সাথে বিস্কুট। পল্লব খাচ্ছে আর মা কে বলছে,” মা, চিপা ঐ গলিতে যে ভূত আছে তা সত্যি। কিন্তু,যে যে ঐ গর্ভবতী মহিলাকে সন্তান পেটেই মেরেছে ভূত ভূত শুধু তারাই করে। অন্য কেউ ভূত দেখেও না, গল্প ও বলে না। কথাটা মাথা নয়,মন দিয়ে বুঝ। ভূত হলো সব মৌলবাদী মুনাফেক, কোনো ভালো মানুষ না।”
বন্যা ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। পল্লবকে কোনো ঝামেলাতে জড়াতে না করল। পল্লব মা কে ও তেমন কিছু বলল না। থ বনে যায় সে, এলাকার লোকজন যাকে ফেরেশতা বলে,তার ভেতর এই। 
প্রতিদিনের মত আজ ও ঘুমিয়ে পড়ে সে। এক বৃহস্পতিবার, স্কুলে হাফ ক্লাশ হয়। পল্লব মনের সাথে বুঝে, বুঝে,শেষে থানায় যায়। নিজের কানে যা শুনেছে সব বলে। ওখানে বল্টু,পিন্টু, মামুন এরা অযথা বন্দী। পুলিশ সব গোপন রাখবে বলে ওকে আশ্বাস দেয়। 
দিন যাচ্ছে ভালোই, রোদ উঠে বৃষ্টির পানি শুকিয়ে যায়। সবাই একটু বাহিরে বের হতে পারে। 
কোনো এক বিকেলে সেই চিপা গলির দেওয়ালে রক্তের দাগ হাতিয়ে দেখে পল্লব।পেছন থেকে কে যেন চাকু দিয়ে ডান পায়ের হাঁটুতে আঘাত করে। জোরে জোরে চিল্লায়, মুখ ঢাকা সে। উচ্ছ্বাস, হামিদ দোকানি,ব্যাপারি সব দৌড়ে আসে। বেশি লাগে নি,তবে ঘাতক খুব চেষ্টায় ছিল। তারপর চোখে অন্ধকার দেখে সে। জ্ঞান ফিরে দেখে মা,উচ্ছ্বাস,মালিক,বন্ধুরা আর সেই ভণ্ড হাফিজ। 
ইনজেকশন,স্যালাইন আরো কত কি। “ তেমন কিচ্ছু হয় নি,ঠিক হবে সব।” বন্যা একটু একটু চোখ মুছে। “ হ্যাঁ,আসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে, সবকিছুরই বিচার শুরু হবে। দেখো।” এবার পল্লবের মুখের দিকে হাফিজ সাব তাকিয়ে থাকে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত থেকে চলে যায় সবাই।
আবার সেই বৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি। কচির মা এসেছে, এখনো যায় নি। উচ্ছ্বাস পল্লবের সঙ্গে কথা বলছে। এখন কে বাইরে যাবে ওষুধের জন্য। অথচ, বড় ডাক্তার ওষুধ লিখেছে। পল্লব আর বাবা দুইজনেরই ওষুধ আনতে হবে। উচ্ছ্বাস গেল আনতে। ওকে ছাতা দিয়ে দেয় বন্যা। রাত প্রায় সাড়ে আটটায় কচির মা চলে গেল। হাফিজ সাবের বৌ বারবার এলো পল্লবকে দেখতে। সেই রাত যেন আর কাটে না ওদের। উচ্ছ্বাস এলো ওষুধ নিয়ে। পল্লব নিজে ও জানে সে কি করেছে।

( 2 মাস পরে)

কোনো এক বিকেলে পল্লব,উচ্ছ্বাস আর সবাই খেলছে। হটাত এ কি, পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে হাফিজ সাব,মোমেন আরো 4 জনকে। আর বল্টুসহ কয়েকজন মুক্তি পায়। “ বলেছিলাম না, সব কিছুরই বিচার হবে। যাও, তোমার জায়গায়। মুখোশ তো খুলে পরে গেছে।” পল্লব খুব তেজি হয়ে কথা বলে। বল্টু,পল্টু জুতো মারতে গেলে পুলিশ ওদের বাধা দেয়। 

“এই হাফিজ সাব আর মোমেন নারী ব্যবসায়ী। মোমেন বৌ দিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছিল। কিন্তু,রাজি হয় নি সে। তাই, চিপা গলিতে তাকে মরতে হয়। বন্যার প্রতি ও লোভ ছিল হাফেজ বেটার,ওকেও বিক্রির কথা বলেছিল। কিন্তু এখন, সব শেষ।” ওসি সালাউদ্দিন বলেন এসব কথা।
 
তারপর দিন যেতে থাকে, যেতে থাকে সময়।
এখন কেউ চিপা গলিকে ভুতুরে বলে না। কোনো এক বিকেলে পল্লব খেলা শেষ করে হাত পা ধুয়ে বাড়ি ফেরার সময় মনে হলো পেছন থেকে কোনো মহিলা বলছে,” পল্লব, ধন্যবাদ তোমায়।” আওয়াজ শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখে সেই রক্তমাখা দেওয়াল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/272283/</link>
				<pubDate>Wed, 09 Sep 2026 22:13:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ধূলি ধূসরিত পথ</p>
<p>ইমাম হাফিজ সাহেব নামাজে সালাম ফিরিয়ে মোনাজাত ধরলেন। আয়তুল কুরসি পড়ে মসিহ করছিলেন। ভীষণ ভালো মানুষ উনি। নিচের তলায় ভাড়া থাকেন। দো তলার বন্যাকে নিজের মেয়ের মতন দেখেন। বন্যার ছোট্ট একটা ছেলে আছে, ক্লাশ  সিক্স এপড়ে। এখন বর্ষাকাল, থেকে থেকে বৃষ্টি হয়। বন্যা খুব লক্ষী মেয়ে একটা। স্কুলে চাকরি করে, আসার সময় বাজার নিয়ে ফেরে,পল্লবের লে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-272283"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/272283/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">22ae020ae6b28de7a4abfdce811bf31e</guid>
				<title>কলম

একটা কলম আছে,একটা কলম। সে কলম দিয়ে কারা লিখে? কি লিখে,জান? আমি আজ বলছি,শোনো। 

যে কলম দিয়ে লিখব সব অন্যয়,জুলুমের বিরুদ্ধে,
যে কলম কথা বলবে,সাক্ষ্য দেয় লুটপাটের ঘটনা তুলে ধরবে।
যে কলম গোপনে করা খুন, গুমের কাহিনি তুলে ধরবে।
যে কলমের কালি ততক্ষণ শেষ হবে না,যতক্ষণ না জালিমের পতন হবে।
যে কলম হাজারো বীরের হত্যার বিচার চেয়ে লিখবে,লিখে প্রতিবাদ করবে।
যে কলম শহীদের রক্তের বিনিময়ে রক্ত চাইবে,
যে কলম স্বৈরাচারের সিংহাসন ছেড়ে দেওয়ার কারণ হবে,
যে কলমের লিখা দেখে, ভণ্ড সব ভয়ে থরথর করে কেঁপে উঠে,
যে কলম লুটেরা শাসকদের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়,
যে কলমের লিখা দেখে কপাল ঘেমে যায় চরিত্রহীন নরপিশাচের।

সেই কলম কি খুঁজে পাওয়া যায়?
কেউ কি পেয়েছে এমন কলম?
সেই কলম যে ধরে তাকেই তো চোরের দল গুলি করে,প্রমাণ লোপাট করবে বলে।
কিন্তু,কলম, কলম এখনো আছে,ছিল,থাকবে।
কলমের কালি ও আছে, কলম লিখবে,লিখে যাবে?
কি করবি তোরা? বল, কি করবি?
যে জীবন দিতে হবে জেনেও সেই কলম ধরে, তার বুকের ওপর গুলি করে ভাবছিস, শেষ,সব শেষ।
তোদের বুদ্ধি এখনো হাঁটুর নিচে,
হা,হা,হা।
কলম আছে,ছিল,থাকবে,
যে যে জালিমের বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে,ওরা সেই কলম ধরবে,লিখবে।
আর তা দেখে তোদের কপাল ঘেমে যাবে, তোদের হাত পা অবশ হয়ে যায়,তাই না?
তোরা দুর্বল, তোরা দুর্বল,
একটা কলমের কালির কাছে,
হা,হা,হা,
তোরা ভিতু, তোদের সাহস নেই।
তোরা ভীরু,চোর,লুটেরা,মাগিবাজ,
পেছনের দরজা রাখিস পালাতে।
ছি,ছি ছি,
অথচ তোরা না কি প্রশাসনের লোক?
এখন বল,হাসব, না,আফসোস করব?

কলম হাতে তুলে নিয়ে দেখ,হাত কেঁপে কেঁপে উঠে,যেন ভূমিকম্প।
তোরা এ কলমের যোগ্য না,
তোদের কোনো যোগ্যতা নেই এ কলম হাতে নেওয়ার।
তোদের হাত কলুষিত,ঘুষের দায়ে,ব্যাভিচারের দায়ে।
তোরা এখন বন্য শুকরের তুল্য,
বিশ্বাস না হলে মিলিয়ে নিস।
তোদের গায়ে কি গন্ধ!
পোড়া মাটির, তোদের আর মনুষ্যত্ব নেই, তোরা মজলুমের চোখের পানির কারণ,অভিশাপ।

কলম চলবেই , এমন কেউ কলম ধরবে,যে, কালি নয়,রক্ত দিয়ে লিখবে।
তোদের মুখোশ খুলে পড়ে যাবে,তোরা নগ্ন হয়ে যাবি।
জাতি হাসবে তোদের দেখে।
কলম চলবেই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/271298/</link>
				<pubDate>Mon, 07 Sep 2026 19:26:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কলম</p>
<p>একটা কলম আছে,একটা কলম। সে কলম দিয়ে কারা লিখে? কি লিখে,জান? আমি আজ বলছি,শোনো। </p>
<p>যে কলম দিয়ে লিখব সব অন্যয়,জুলুমের বিরুদ্ধে,<br />
যে কলম কথা বলবে,সাক্ষ্য দেয় লুটপাটের ঘটনা তুলে ধরবে।<br />
যে কলম গোপনে করা খুন, গুমের কাহিনি তুলে ধরবে।<br />
যে কলমের কালি ততক্ষণ শেষ হবে না,যতক্ষণ না জালিমের পতন হবে।<br />
যে কলম হাজারো বীরের হত্যার বিচার চেয়ে লিখবে,লিখ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-271298"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/271298/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b4b77a69eecad9c52cdbb218903c7c52</guid>
				<title>একটি বট গাছের আত্মকাহিনি 
ফাতেমা সিনথিয়া 

এখানে দাঁড়িয়ে আছি আমি প্রায় 30 বছর হলো। এই 30 বছরে অনেক কিছুই দেখেছি। অনেক কথাই শুনেছি। আমাকে কেটে পরিষ্কার করার কথাও বলে অনেকে। আমি চুপ করে শুনি। কি করব,আমি তো আর কথা বলতে পারি না। কিছু কিছু কাহিনি আমাকে পীড়া দেয়,কিছু ঘটনা দেখে আমি থ বনে যাই। এরকম কিছু কথা বলছি শোনো।

সবচেয়ে করুন ঘটনা, একটা ছোট্ট ছেলে কোলে নিয়ে এসে একজন ভদ্রমহিলা খুব বৃষ্টির কারণে আমার ছায়ায় বসে রইল। বাচ্চাটা বারবার জিজ্ঞাসা করছিল,&quot; মা, তুমি বাবার ফোনে কি এমন মেসেজ দেখলে যে, বকে দিলে। আর বাবা তোমায়, বেরিয়ে যেতে বলল। কি হয়েছে? তুমি।কি আর যাবে না।&quot; মহিলা জবাবে বলল,&quot; না,বাবা। তুমি যেতে পার, আমার বোধ হয়, যাওয়া ঠিক হবে না।।&quot;
বৃষ্টি বন্ধ হলে সে বাচ্চাটা নিয়ে চলে গেল। তারপরে,আর আসে নি।
আমার ছায়ায় দুইজন প্রেম করত, তিন বছর ধরে । হঠাত, মেয়েটি একা এসে অপেক্ষা করতে লাগল কয়েক দিন। ছেলেটি আর এলো না। মেয়েটি ও পনের দিন এলো না। হটাত, আবার দুইজন একসাথে এলো। ওদের আলাপ আমি শুনেছি। &quot; দেখো, আমার পরিবার তোমায় চায় না। আগেও বলেছি। মেয়ে দেখা হয়ে গেছে। মানে, মা দেখেছে। তুমি ভুল বুঝলে কিছুই করার নেই। সব ভুলে অন্য কোথাও দেখ, নতুন জীবন শুরু কর। ভালো থেকো।&quot; এই বলে সে চলে গেল। মেয়েটি মুখে কিছুই বলেনি। শুধু দু চোখের কোণে থেকে ঝরঝর করে পানি ঝরে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ বসে থাকে আমার ছায়ায়, তারপরে চলে যায়। ধীরে ধীরে পা বাড়িয়ে চলে। তার পরের কাহিনি আমি জানিনা ।

এই আমারই নিচে দুইভাই মিলে আরেক ভাইকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়ে যায়। আমি তাও দেখেছি। ওদের আলাপ শুনে মনে হচ্ছিল, সম্পত্তির দখল নেওয়ার জন্য এসব করেছে। তারপরে পুলিশ এলো, আরো কত কি! যে দুই ভাই মিলে মেরেছে, ওরা কি নকল কান্নার রোল তুলল, ছি!ছি!

আমারই পাশ দিয়ে মিছিল যায়, &quot;স্বৈরাচার নিপাত যাক&quot; বলে বলে কত যুবক মিছিলে এসেছিল। 30 বছর ধরে এখানে আছি। এইটুকু সময়ে আমি যতকিছু দেখেছি, শুনেছি তার সব কিছু যদি বলতে যাই, তাহলে তোমরা পড়ে শেষ করতে পারবে না।

আমার নিচে বসে কত আড্ডা, কত গান,কত কথা। কেউ অপেক্ষা করে প্রিয়জনের জন্য। আসলে আমি বৃক্ষ হয়ে ও যা বুঝি, এখানে কেউ কারুর প্রিয়জন না,প্রয়োজন। কারণ, বেশী আবেগে পরে যে যে ভালোবেসেছে, তাদের সেই আবেগের মুল্য দিতে হয়েছে চোখের জল দিয়ে। আর আকৃতজ্ঞ বেইমানগুলি সব ভালো আছে।


মানুষ বড়ই নির্মম হয়ে গেছে।
কবে যে আমায় উপড়ে ফেলে ঠিক নেই । তবুও যদি থাকি, তোমাদের সাথে এমন আরো আরো গল্প শেয়ার করব। ভালো থেকো সবাই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/270761/</link>
				<pubDate>Sun, 06 Sep 2026 18:13:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটি বট গাছের আত্মকাহিনি<br />
ফাতেমা সিনথিয়া </p>
<p>এখানে দাঁড়িয়ে আছি আমি প্রায় 30 বছর হলো। এই 30 বছরে অনেক কিছুই দেখেছি। অনেক কথাই শুনেছি। আমাকে কেটে পরিষ্কার করার কথাও বলে অনেকে। আমি চুপ করে শুনি। কি করব,আমি তো আর কথা বলতে পারি না। কিছু কিছু কাহিনি আমাকে পীড়া দেয়,কিছু ঘটনা দেখে আমি থ বনে যাই। এরকম কিছু কথা বলছি শোনো।</p>
<p>সবচেয়ে করুন ঘটনা,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-270761"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/270761/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bf83df17237c6d8f75b2e3305f0ea99d</guid>
				<title>শেষ চিঠি

প্রিয় মা,
আর হয়ত মা বলে ডাকতে পারব না।
ওরা আমায় একটু পরেই জবাই করে ফেলে দেবে।
ওরা আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা জানতে চেয়েছিল। 
আমি বলেছি, মা বলে ডাকব।
চিঠিতে তো কি হয়েছে,তাও তো ডেকেছি।
কত দুষ্টুমি করেছি,চুরি করে মিষ্টি খেয়েছি, তুমি কান মলেছ আমার।
পড়তে বসিনি বলে বেত দিয়ে পিটিয়ে দিয়েছ, সেই পিটুনি আর খাওয়া হবে না।
আজ সত্যের পক্ষে কথা বলেছি বলে,ওরা সেই জবান ছিড়ে ফেলবে।
চিঠি পেয়ে তুমি কেঁদো না মা,
ওরা আমায় পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেছে,আমি করিনি।
ওদের দলেও যাইনি। 
তুমি আজকের পরে বুক ফুলিয়ে বলবে,আমার ছেলে শহীদ হয়েছে।
আমায় ওরা খুব মেরেছে, রড দিয়ে, দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে,তবু মাথা নত করিনি।
মা, আমার লিখা শেষ চিঠি পড়ে তুমি কেঁদো না, তুমি এক শহীদের মা।
তোমার বুকে গর্ব থাকবে,চোখে পানি না।

তোমার প্রিয়,
মহিম</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/268067/</link>
				<pubDate>Mon, 31 Aug 2026 19:27:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শেষ চিঠি</p>
<p>প্রিয় মা,<br />
আর হয়ত মা বলে ডাকতে পারব না।<br />
ওরা আমায় একটু পরেই জবাই করে ফেলে দেবে।<br />
ওরা আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা জানতে চেয়েছিল।<br />
আমি বলেছি, মা বলে ডাকব।<br />
চিঠিতে তো কি হয়েছে,তাও তো ডেকেছি।<br />
কত দুষ্টুমি করেছি,চুরি করে মিষ্টি খেয়েছি, তুমি কান মলেছ আমার।<br />
পড়তে বসিনি বলে বেত দিয়ে পিটিয়ে দিয়েছ, সেই পিটুনি আর খাওয়া হবে না।<br />
আজ সত্যের পক্ষে কথা ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-268067"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/268067/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e1bd3261d708bd1b9791c22eb7b6db7b</guid>
				<title>চোর 
সিনথিয়া 

আরে ভাই, শুনছ নাকি?
সবাই না কি চোর?
আমি চোর,তুমিও চোর,
বড় ভাই বড় চোর, ছোট ভাই ছোট চোর।
টাকাওয়ালা টাকা চোর,
গাড়িওয়ালা গাড়ি চোর,
কেরানি ঘুষখোর।

আরে ভাই, জানো নাকি?
মন্ত্রী নাকি লোভী চোর,
সচিব নাকি ছিচকে চোর,
আর্মি নাকি জারোয়া চোর,
কিছু নাকি ঘুষখোর।

এমন হলে চলবে কেমনে?
আরে ভাই, কি যে বলো,
চলছে যেমন, চলবে তেমন,
দুই একজন সাধু হলে তখন বিপদ হত।
চোরের কোনো বিচার হলে তখন দেখা যেত।
ছোট, বড়, মেঝ,সেজ , বোয়াল,পুটি 
সবাই চোর বটে,
কেউ লম্বা চোর,কেউ বেটে।
কেউ চুরি করে পেটের দায়ে,কেউ বা হেসে হেসে।
আরে, চিন্তা কিসের দেশটাই এমন,
চলো মাল লোপাট করি এই দেশে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/266475/</link>
				<pubDate>Thu, 27 Aug 2026 20:06:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চোর<br />
সিনথিয়া </p>
<p>আরে ভাই, শুনছ নাকি?<br />
সবাই না কি চোর?<br />
আমি চোর,তুমিও চোর,<br />
বড় ভাই বড় চোর, ছোট ভাই ছোট চোর।<br />
টাকাওয়ালা টাকা চোর,<br />
গাড়িওয়ালা গাড়ি চোর,<br />
কেরানি ঘুষখোর।</p>
<p>আরে ভাই, জানো নাকি?<br />
মন্ত্রী নাকি লোভী চোর,<br />
সচিব নাকি ছিচকে চোর,<br />
আর্মি নাকি জারোয়া চোর,<br />
কিছু নাকি ঘুষখোর।</p>
<p>এমন হলে চলবে কেমনে?<br />
আরে ভাই, কি যে বলো,<br />
চলছে যেমন, চলবে তেমন,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-266475"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/266475/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1b5afdba5bbb1451b4c3939533314c39</guid>
				<title>প্রতিধ্বনি

কিসের এত আওয়াজ? শব্দ হয় কিসের? 
তুমি কি শুনতে পাচ্ছ? 
আমি শুনছি। 

আমার বোনের আওয়াজ, মুখে কাপড় পেচিয়ে,অর্ধনগ্ন করে ফেলে দিয়েছে,পুরনো ঝোপঝাড়ে।
 মুখে লেগে আছে রক্ত,রক্তে ভেজা কাপড়, চুলের বিনুনী খুলে আছে,ঠোট জোড়া রক্তে ভেজা,কপালে খামচিড় দাগ,পেটে আঙুলের ছাপ,স্তনে কামড় দিয়ে ছিলে ফেলেছে।

ওরা কি মানুষ?
হ্যাঁ, ওরাই তো মানুষ,ওরা রাজা- মহারাজা, মন্ত্রী,উজির।
ওদের আজ ধরলে কাল ই ছেড়ে দেবে।
তুমি নিয়ম জানো না?মূর্খ মানব!
তাহলে শোনো, নিয়ম কি?
এখানে নিয়ম হলো, অবলা নারীদের সাথে এরকমই করা,এটা এমনই দেশ।
এ দেশে যেখানে সেখানে এমন উলঙ্গ-অর্ধ উলঙ্গ মা- বোন আছে,এখানে সেখানে।
কে কি করল, এত ভেবে কে সময় নষ্ট করবে?
প্রশাসন খুব শক্ত এখানে, যারা এসব করে ওদের দুধেভাতে প্রতিপালন করতে হয়।
বিচারের জন্য ফালতু সময় নেই ওদের, কত কাজ করে ওরা,
তুমি কি জান? মূর্খ মানব!
আমি বলছি শোনো,
ওদের মদ্যপান করতে হয়, রাত হলে বেশ্যা নিয়ে ফুর্তি করতে হয়, গরিবের অর্থ লুটে নিয়ে বৌ এর ভাণ্ডার ভরতে হয়, যার আছে তাকে আরো দিতে হয়।

তাহলে, দেখ,ওদের কত কাজ,
তুমি কি জানতে?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/266021/</link>
				<pubDate>Wed, 26 Aug 2026 16:39:28 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রতিধ্বনি</p>
<p>কিসের এত আওয়াজ? শব্দ হয় কিসের?<br />
তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?<br />
আমি শুনছি। </p>
<p>আমার বোনের আওয়াজ, মুখে কাপড় পেচিয়ে,অর্ধনগ্ন করে ফেলে দিয়েছে,পুরনো ঝোপঝাড়ে।<br />
 মুখে লেগে আছে রক্ত,রক্তে ভেজা কাপড়, চুলের বিনুনী খুলে আছে,ঠোট জোড়া রক্তে ভেজা,কপালে খামচিড় দাগ,পেটে আঙুলের ছাপ,স্তনে কামড় দিয়ে ছিলে ফেলেছে।</p>
<p>ওরা কি মানুষ?<br />
হ্যাঁ, ওরাই তো মানু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-266021"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/266021/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fdf1075b576674d79656b303de8daac3</guid>
				<title>চিনি কম 
ফাতেমা ওরফে সিনথিয়া 

পড়ন্ত বিকেলে বেঞ্চিতে বসে,
মিঠে রোদের আলপনা দেখছি।
এক হাতে কলম, ডায়েরি, 
ডায়েরির পাতার ভাজ খুললেই 
একটা শুকনো লাল গোলাপ।
আমার এলোমেলো চুল বাতাসে 
উড়ে উড়ে যাচ্ছে,
কেমন যেন অবাধ্য,  বাধঁনহারা।
মোরগ ফুলের ঝুটি দুলে দুলে উঠছে,
সাদা রঙের গোলাপ,রজনীগন্ধা 
দুলে উঠছে।
এমন সময় মা এলেন, 
তার হাতে এক কাপ চা।
চিনি কম হয়েছে আজ।
আজ চিনি কম হলে ও কি হয়েছে?
কিছুই বলব না আমি,
আমার মন ডায়েরির পাতায়,
বারেবারে উল্টে পাল্টে দেখতে মন চাচ্ছে,
কি আছে ওতে? কিছু কথা,
কিছু গান, কিছু ঘটনা সাক্ষী দিচ্ছে,
আমার অতিতের।
চিনি নাকি সাদা বিষ?
হ্যাঁ, ঠিক আছে।
চিনি না খেলেই হবে।
কিন্তু, কিছু মানুষ আছে যাদের 
মুখে হাসি কিন্তু মনে বিষ,
সেটা কি করে বুঝব?
পিস্তল দেখে ভয়ে পালিয়ে যাওয়া যায়,
চাকু দিয়ে আঘাত করতে চাইলে,
পাল্টা ধাওয়া করা যায়।
কিন্তু, মনের যে লোভ, হিংসা, মরচে পড়া সমাজ,
তা কি চিনির চেয়েও বিষাক্ত নয়?
চিনি খাওয়া ছেরে দিলাম,
কিন্তু এই গুলো গলার কাঁটার মত যে রয়ে যাবে।
হজম করা যায় না,
গিলে ও ফেলা যায় না।
তা আবার প্রতি স্তরে স্তরে ঠিকমত 
বিরাজ করছে,
চিনির চেয়ে কি এগুলো কম ভয়ঙ্কর?
যাদের ট্যাক তেলে ভরা,
তারা দেশের নেতা।
আর, লোভ লালসা ছাড়া আমার সেই
ভাই, যে আজ ও ঘুরে বেড়ায়,
একটা চাকরির জন্য।
এই দোষ কি চিনিকে দিব?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264979/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Aug 2026 16:20:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চিনি কম<br />
ফাতেমা ওরফে সিনথিয়া </p>
<p>পড়ন্ত বিকেলে বেঞ্চিতে বসে,<br />
মিঠে রোদের আলপনা দেখছি।<br />
এক হাতে কলম, ডায়েরি,<br />
ডায়েরির পাতার ভাজ খুললেই<br />
একটা শুকনো লাল গোলাপ।<br />
আমার এলোমেলো চুল বাতাসে<br />
উড়ে উড়ে যাচ্ছে,<br />
কেমন যেন অবাধ্য,  বাধঁনহারা।<br />
মোরগ ফুলের ঝুটি দুলে দুলে উঠছে,<br />
সাদা রঙের গোলাপ,রজনীগন্ধা<br />
দুলে উঠছে।<br />
এমন সময় মা এলেন,<br />
তার হাতে এক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264979"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264979/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">25fe02aa8e505942f82d6698e8180300</guid>
				<title>ইতিহাস 
সিনথিয়া 

আমার কাছে কি শিক্ষা নিয়েছ তোমরা? বলো।
আজ বলতেই হবে,আমি জানতে চাই।
এই যে, এত বারবার নিজেদের স্বার্থ হসিলের জন্য কত নিরীহদের প্রাণ নাও, নিজের মাতৃভূমি রঞ্জিত কর, ওতে কলঙ্কের দাগ পড়ে।
এতেও কি লজ্জা লাগে না?
যুগে যুগে জুলুম, অবিচার করলে পরিণতি কি হয় তোমরা জানো।
তবুও কেন এসব নির্লজ্জতা কর?
এই যে 1952 তে এত তাজা প্রাণ লাশ হয়ে গেছিল।
1971 সালের যে রক্ত, যে লড়াই, যে ত্যাগ তোমরা তাও ব্যর্থ করেছ।

তাহলে, শোনো, 
আমার কাছে তোমরা কিছুই শিক্ষা নিতে পারনি।
আমাকে ভুলভাল করে সাজিয়ে দাও,
যার যেমন মন চায়।
যেমন করে ছোট্ট খুকী পুতুল নাচ দেখে।
আমাকে যত বেশি বিক্রিত করবে,
বাইরে যত বেশি মুখোশ পরে থাকবে,
তত মিথ্যে বলতে হবে তোমায়।
একটা সময় কোনো অস্তিতে থাকবে না তোমার।
তুমি অজানা স্রোতে ভেসে যাবে,
সবাই তোমার মরদেহে থু থু দেবে।
হুম, সত্যিই তো।

সময় সাক্ষী, ঈশ্বর কখন ও মুখোশ পরে থাকতে দেন না।
বেশি জরে দমকা হাওয়া বইতে শুরু করলে ওটা খুলে পরে যাবে।
এটা আমার অভিশাপ নয়,নিয়তি।
তোমরা মিথ্যাচার করবে বলেই তো চাও না যে, সত্য সামনে আসুক।
এই চিন্তা কেমন ছেলে মানুষের মত,
যেন রাত পেরিয়ে ভোর না হয়।
তোমাদের দুর্দশা দেখে হাসি পেয়ে গেল।

আমার কাছ থেকে কি শিক্ষা নিয়েছ?
কিছুই না।
ক্ষমতায় যাওয়ার আগে পরম মমতায় ভরা চেহারা দেখি,
আর ক্ষমতা হাতে এলেই দেশরক্ষার নাম করে নিজের পকেট ভর্তি কর।
শেষে উত্তম মধ্যম খাবে বলে হেঁটে হেঁটে নয়, উড়ে উড়ে যাও ভিনদেশে।
তাহলে, না হাসার কি আছে?
জনগনের কল্যাণ হোক বা না হোক তোমাদের বৌ এর নামে কল্যাণ ফান্ড হয়, বিভিন্ন ব্যাংকে।
না,না, বিলাসিতা ফান্ড।
দেশে মেধাবীদের মুল্য দেওয়া ছেড়ে দিয়েছ, হতচ্ছাড়ার দল।
অথচ এইসব সূর্য সন্তান গর্জে উঠে যদি,
পালাবার পথ পাবে?
এত কিছু হয়, তবু শিক্ষা হয় না তোমাদের।
নিজেদের মধ্যে বিভাজন হলে কি হয় 47 এ দেখনি?
কি তীব্র চক্রান্ত, যার ছোবলে আজ ও এ জাতি ভারাক্রান্ত।
তোমাদের মন কি মুক্তি চায় না?
পালাবার পথ খুঁজ না,
আমাকে বিক্রি করো না,
সুশিক্ষিত হয়ে যাও, সময় থাকতে মুল্য দাও।
আমি তোমাদের সাথে আদিলগ্ন থেকেই আছি।
আমাকে বিক্রি করে, উল্টো করে দিয়ে তুলে ধরতে ধরতে নিজেই সোজা পথে ছুটবে, পালানোর জন্য।
যেমন, বিড়াল দেখে ইঁদুর গর্ত খুঁজে।
আমি চাই না, ঐ পথে যাও।

পথে এসো, পথে এসো।
লোহা বাতাসের সংস্পর্শ পেলে ওতে মরিচা ধরে।
আর, তোমাদের যে নেশা, এই নেশা না কাটলে ঘোর না কাটলেও তলিয়ে ঠিকই যাবে।
কেউ রুখতে পারবে না।
প্রকৃতির প্রতিশোধ ভয়ংকর , যখন সময় হবে, সে আসবে শোধ নিতে।
সে না বেশি দেবে, না ই কম,
ঠিক তুমি যতটুকু পাবে তাই।

আমার দ্রহের কবিতা পড়ে আপনাদের মতামতখুব ভালো লাগছে। সেই উতসহে ই আজ একটা দিলাম।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264669/</link>
				<pubDate>Sat, 22 Aug 2026 19:38:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ইতিহাস<br />
সিনথিয়া </p>
<p>আমার কাছে কি শিক্ষা নিয়েছ তোমরা? বলো।<br />
আজ বলতেই হবে,আমি জানতে চাই।<br />
এই যে, এত বারবার নিজেদের স্বার্থ হসিলের জন্য কত নিরীহদের প্রাণ নাও, নিজের মাতৃভূমি রঞ্জিত কর, ওতে কলঙ্কের দাগ পড়ে।<br />
এতেও কি লজ্জা লাগে না?<br />
যুগে যুগে জুলুম, অবিচার করলে পরিণতি কি হয় তোমরা জানো।<br />
তবুও কেন এসব নির্লজ্জতা কর?<br />
এই যে 1952 তে এত তাজা প্রাণ ল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264669"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264669/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5e916da48a9d2665c1ed493a288092aa</guid>
				<title>অস্ত বেলার মুখোমুখি 
ফাতেমা ওরফে সিনথিয়া 

নিভে যাবে সব প্রদীপ।
অন্ধকার বুনো ঝোপঝাড়,
হুতোম প্যাচার ডাক,
নৌকা আছে, নেই মাঝিমাল্লা।
থেকে থেকে গুমরে ওঠে ঝি ঝি পোকা,
মৃদু বাতাস। শকুন উড়ে যাচ্ছে,
দিগন্তে নীলের আভা নেই,
কালচে মেঘের ঘন স্তূপ যেন।
ওপরে ঝাউ গাছ।
নেই সোনালী সূর্যের ঝিলিক,
শুধু গোমড়া মুখের এক নীরব,
এক কাতর, পিপাসার্ত,ক্ষুধিত অন্তর।
যেখানে আলো নেই,
সেখানে কি ফুল ফুটবে?
দেখেছে কেউ কখন ও?
কাকে ডাকছ তুমি,
কেউ তো আলো নিয়ে আসবে না।
এখানে তেমন কিছু তুমি পাবে না।
এখানে প্রদীপ জ্বলে না,
তুমি জ্বালতে পারবে না,
নিভে যাবে দমকা হাওয়া এসে।
এখানে সব অন্ধকারের সঙ্গী,
তোমাকে নিয়ে হাসছে,
কত নিঠুর সে হাসি।
তুমি ছি ছি বললেও ওদের লজ্জা 
হবে না।
ওরা তোমাকে চায় না।
এখানে শুধুই অস্ত বেলা আছে,
তুমি যে দিকেই যাও,
কোনো আলো নেই।
তুমি আলো চাইলে ওরা করাত এর মত দাত বের করে শুধুই হাসে।
একদিন কাল চাদর মুড়ি দিয়ে 
দেখবে অকাল মৃত্যু আসছে।
সে সবাইকে দেখে হাসছে আর হাসছে,
তার মুখে কালচে ভাব,
সে নীরব,প্রাণহীন,
তবুও সে হাসে।
কারণ,সে জানে তাকে রুখে দিতে পারবে না কেউ।
এমনকি, আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই শুধু 
ওর দিকে তাকিয়ে আছে,
কেউ কিছুই বলছে না।
কেমন একটা নীরব, জঘন্য নীরব,
সে হাসছে আর হাসছে।
সবাই চেয়ে থাকে সেই মৃত্যুর পানে,
এগিয়ে যাচ্ছে না কেউ।
থেকে থেকে এ অন্ধকার আরো গভীর 
থেকে গভীর হয়।
এ মৃত্যু জানে,
এ জাতি পরাজিত, মূর্খ, শক্তির পূজারি।
এইসব জেনেই সে এসেছে।
কেউ এগিয়ে যায় না,
মৃত্যু কামনা করছে কি তাহলে সবাই?
না, এদের প্রতি অঙ্গের পচন ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।
যে রোগের কোনো ওষুধ নেই।
কোনো প্রতিকার নেই।
মৃত্যু, হ্যাঁ, মৃত্যু,
তবে, এরা কি প্রাণ চায় না?
সেই ইচ্ছাশক্তি মরে গেছে,
তা সহস্র বছরের কঙ্কাল হয়ে মাটির নিচে দেবে গিয়েছে।
এদের কে জাগায়?
ঘুত্ঘুতে অন্ধকার, বিশাল স্তূপ।
কি আছে ওতে? 
হিসস, আওয়াজ কর না,
ওরা ঘুমচ্ছে।
ওরা হচ্ছে জান্নাতি ফুল, ঘুম ভেঙ না।
অকাল মৃত্যু এসেছিল ওদের নিতে,
তারপর, কেউ জানেনি,
বাধা দেয় না ই,
আওয়াজ তোলে নি।
নিঠুর নিথর রক্ত মাংসে গড়া ছোট্ট একটা দেহ, নিষ্পাপ শিশুর কচি লতার মতো নেতিয়ে পড়ে।
ওরা রক্তাক্ত, নির্যাতিত, ওদের তীব্র আর্তনাদ কেউ শোনেনি।
শুনে ও শোনেনি,
হ্যাঁ, এটাই সত্যি।
মৃত্যুর আগমন এভাবে ঘটবেই,
সে জানে, তাকে কোনো দিন ও কেউ কাঠগড়াতে দাড় করাতে পারবে না।
এদের বিবেক,রক্ত,মাংসে এমন পচন ধরে গেছে, ওরা আর জীবিত নেই।
তুমি বলবে, ওরা তো ক্ষুদে শিশু,
ওদের কি এমন দোষ?
সব দোষ ওদের,
এই ঘন কুয়াশা আর শৈত্য,
এই মরা জীর্ণতার দেশে জন্ম গ্রহণ করে ওরা ভুল করেছে,
তাই হাসতে হাসতে অকাল মৃত্যু
ওদের শেষ করে দিয়েছে।
কিন্তু,না, শেষ হবে না।
তুমি দেখে নিও, আবার ও হবে,
কেউ জেগে উঠবে না।
কারন, নেই কোন আলো,
তুমি আলো চাইলে ওরা নিঠুর দাত বের করে হা হা করে হাসবে।
এখানে আছে শুনশান নীরবতা,
আছে নরখাদক, শকুন, শিয়াল,
হায়েনা।
এই নিষ্পাপ ফুলগুলো কিছু চায় নি,
কোন অপরাধ ও করেনি।
এদের হাত থেকে তবুও রেহাই পায় নি।
ওদের খণ্ড খণ্ড দেহ, রক্ত ভেজা মাটি,
মায়ের আর্তনাদ কিছুই যেন কারো কানে আসে না।
সব চুপ করে বসে আছে।
কোনটা মুখ ও কোনটা মুখোশ, 
কিছুই বোঝার উপায় নেই।

ছোট্ট ছোট্ট খুকীদের কবর আছে এখানে,
আছে ঘুত্ঘুতে রাতের আঁধারে হুতোম প্যাচার ডাক, কেউ আসবে না আলো নিয়ে। তুমি কোথাও খুঁজে পাবে না আলো।
ওদের দেহ থেকে মাথা,অঙ্গ, জনন অঙ্গ সব কেটে দিয়েছে, ওরা 
ছোট্ট হাত,ছোট্ট দেহ দিয়ে হিংস্র প্রাণী মোকাবিলা করতে পারে নি।
শুধু অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো নিষ্পাপ শিশুর চোখ,
সে বলছিল, বাচাও আমাকে,বাচাও।
তবুও কোনো মানবতা ওদের হয়ে কথা বলেনি। বলবেও না।

কারণ, ওরাও যে মৃত।
দেহে প্রাণ থাকলে, হয়ত জেগে উঠতে পারত। ওরা মরে গেছে,
ওদের বিবেকে মরীচিকা ধরেছে,
ক্ষমতার লোভ আর বিলাসিতা ওদের 
খুদে খুদে খাচ্ছে।
এইজন্য এইখানে কোন আলো আসবে না। এই আন্ধারে তুমি প্রদীপ নিয়ে না 
ই এলে, তা নিভিয়ে দিয়ে সবাই
হা হা হা করে আসবে।
ওরা তো মৃত, তুমি কাকে ডাকছ বিচার করতে হবে বলে।
ওরা প্রহসন নিয়ে ব্যস্ত,
এসবের জন্য সময় নেই ওদের।
মলিন,জীর্ণ দশা এই এলাকায়।
থেকে থেকে গুমরে ওঠে 
সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদ।
খুকীর সেই ছোট্ট জামা আর কেউ 
পরবে না,
আর আদর করে নাম ধরে ডাকতে 
পারবে না।
চুলের বেণী গেথে দেওয়া সেই হাত দুটো কেপে কেপে ওঠে।
তার সেই পুরনো ছবির দিকে তাকিয়ে থাকা যায় না, মায়ের সেই সাহস নেই।
শুধু থেকে থেকে একটাই কথা 
বুকের ভেতর চিরে চিরে খাচ্ছে,
এখানে আলো নেই।
ওরা বলে, আলো এনে দেবে।
তারপর, আর কোন কথা নাই,
মুখে কুলুপ।
অথচ, পোশাক পরে আছে যেন 
আশার বাণী নিয়ে আসবে।
মা জানে, তার চোখের জল শুকিয়ে যাবে, কিন্তু প্রদীপ জ্বলে উঠবে না,
ওরা মন ভোলানো কথা বলেছে।
বাবার সেই খুকীর কথা মনে পড়ে যায়,
সে হাটে থেকে খেলনা কিনে দিত,
ছোট্ট চুরি, আর যা কিছু সে চাইত।
হটাত, এই ছোট্ট খুকী একজন লোভী,জানোয়ার, উন্মাদ এর হাতে লালসার শিকার হবে।
সে নিজের লালসা মিটিয়ে প্রমাণ লোপাট করার জন্য খুকীর প্রাণ কেড়ে নেবে, ভাবা যায়?
যার হাতে শুধুই পুতুল, খাতা, কলম
যে বুঝেনি নারীর নারীত্ব,
তার আগেই সে চলে গেল!
বাবা আর ভাবতে পারছে না,
সে ও এখন হাসছে।
ওদের মিথ্যা বুলি, মিথ্যা কথা তাকে 
বিনোদন দিচ্ছে।
এখানে প্রদীপ জ্বলে না,
সবাই জানে।
তাহলে, কেন তোরা মিথ্যা বলিস,
আলো এনে দিবি।
হারামজাদার দল।
যদি কিছু না পারিস,চুপ করে থাক।
ভাঙা মনে মিথ্যা শুনলে 
বুকের ভেতর জ্বলে উঠে।
তাইত হাসি পায়, তোরা হাসিস 
সর্বনাশ দেখে,ঐ যে দানব সে কি একা 
হাসছে?
না তোরা সবাই হেসেছিলি।
আমি দেখেছি,
না করিসনে।
আমার খুকীর খণ্ড খণ্ড দেহ উদ্ধার
করে, জোড়া দিয়ে তারপরে এখানে
শায়িত করা হয়েছে।
সব জানিস তোরা, খুকিকে দেখে 
যার মনে বাসনা ছিল,
যে ভোগ করার পর ছিড়ে ফেলে দিয়ে 
চলে গেল, সে তো এখন ও বেচে আছে।
তাহলে, তোদের কি কাজ?
কোন মুখে বলেছিলি,আলো এনে দিবি।
এটা অস্ত রবির দেশ, আমি জানি।
মিথ্যে বলিস না, তোদের ও মা আছে।
তোদের বিচ্ছিন্ন রক্ত মাখা দেহ
যদি দেখতে হয়, মা সইতে পারবে?
আমি আর পারছি না,
আমি ও তো মা।
সো সো হাওয়া বইছে,
শকুন ঝিলিক দিয়ে শিকার খুজে ফেরে।
আমি প্রার্থনা করি, আর কোনো খুকী যেন শিকার না করতে পারে।
তাতে কি হবে,
এখানে তো আলো নেই, সূর্য ই ওঠে না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263349/</link>
				<pubDate>Tue, 18 Aug 2026 14:32:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অস্ত বেলার মুখোমুখি<br />
ফাতেমা ওরফে সিনথিয়া </p>
<p>নিভে যাবে সব প্রদীপ।<br />
অন্ধকার বুনো ঝোপঝাড়,<br />
হুতোম প্যাচার ডাক,<br />
নৌকা আছে, নেই মাঝিমাল্লা।<br />
থেকে থেকে গুমরে ওঠে ঝি ঝি পোকা,<br />
মৃদু বাতাস। শকুন উড়ে যাচ্ছে,<br />
দিগন্তে নীলের আভা নেই,<br />
কালচে মেঘের ঘন স্তূপ যেন।<br />
ওপরে ঝাউ গাছ।<br />
নেই সোনালী সূর্যের ঝিলিক,<br />
শুধু গোমড়া মুখের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-263349"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/263349/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">929c48aec49fe48a0a72552f216fa6ea</guid>
				<title>অনুসন্ধান
সিনথিয়া 
 গহীন বনের ভেতর কি আঁধার,থেকে থেকে শিয়াল, শকুনের ডাক, শোনো?
কি যেন ঝিলিক দিয়ে ওঠে,
কোনো আলো নেই, যন্ত্রণা আর পঙ্কিলতা, কিরকম যেন অদ্ভুত!
কত কিছুই দেখেছি এ নিখিল বিশ্ব জুড়ে, কখনো কি ভেবে দেখেছি?
সমুদ্রের ঢেউ খেলানো পানির নিচে যে ঝিনুক, তার পেট চিরে ডুবুরিরা মুক্তো বের করে, আহ! কি সুন্দর!
উঁচু উঁচু পাহাড় ভাঙার গান আর পাতা ঝরে পড়ে যায়,মর্মর ধ্বনি।
ফুল ফোটে, কত শত ফুল,
ঝরে পড়ে যায়,আবার ও ফোটে।
সবুজ রঙের পল্লব শীত হলে ঝরে পড়ে যায়, আবার ও নতুন করে গজায়।
কখনো কি ভেবে দেখেছি?
না, কেউ ভাবিনি। না আমি,না তুমি।
কি জানো?
কিছুই না,নিজেকে জ্ঞানী মানুষ মনে করা বিশাল মূর্খের দল, মাথা খারাপের দল,মস্তিষ্ক গোবরে ভরে আছে, আর কিছু কিতাব পড়ে ভাবছ,
&quot;আমি কি হনু!&quot;
তোমার পদবি, তুমি একটা বলদ।
তুমি যা জানো, তাতে তুমি হচ্ছ,জ্ঞানের সমুদ্রের এক বিন্দু জল,কেউ কেউ আবার তাও নয়।
তুমি কূপমন্ডূক একটা, শুধু কিতাব নিয়ে বসে থাকা আর সাদা পাতায় কলমের কালি দিয়ে দুই চার ঘা দেওয়া ই কাজ তোমার।
অথচ, তোমার দিকে কেউ তাকাতে পারে না, তুমি এত অহংকারী,এত দেমাগ তোমার!

এ নিখিল বিশ্ব জুড়ে কি এমন শক্তি আছে, কিসের তরে, কি লাভের আশায় সবাই ছুটে যায়, কেউ থামে না।
এ ছুটে চলা নিরন্তর, যে থামে সে তলিয়ে যায়, হারিয়ে যায়,
আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না।
কোনো ভালোবাসা নেই, এখানে কেউ কাউকে চেনেনা, কেউ কারুর দিকে তাকায় না, শুধুই ছুটে চলা।
এ যাত্রা শেষ করার আগেই অনেকের জীবন শেষ হয়।

যে মাটির ঘরে থাকে, সেও একদিন স্বপ্ন দেখে উঁচু উঁচু দালানের।
ছোট্ট খোকা বড় হয়ে শহরে যাবে,অনেক লেখাপড়া শেষ করে তারপর ফিরবে।
কত কল্পনা,কত স্বপ্ন।
কিন্তু দিন শেষে সেই বাবা মা র কপালে জোটে শূন্যতা আর আশ্রয় নেয় বৃদ্ধাশ্রমে।
আহ! কি মর্মান্তিক!

পর্বতের চূড়ায় উঠে যে আরোহী,সেই জানে,এটা কত কষ্ট, কত সাধনার পর।
যে মায়ের সন্তান আজ লাশ হয়েছে,পরে আছে শুধু নিথর দেহ,আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রক্ত,
সেই মা ই জানে তা দেখে কেমন অনুভুত হয়।
যে যুদ্ধে গিয়ে ফেরে না,আর ফিরে আসে না,
তার জন্য তার মায়ের অপেক্ষা,অশ্রু সজল চোখের চাউনি,ভাত বেড়ে বসে থাকা।
এগুলো কি কেউ জানে? না,জানে না।
তুমি,আমি কেউই এদের খবর রাখি না।
যে রক্তের দাগ আজ ও মাটিতে লেগে লাল হয়ে গেছে,
তার বিচার কবে হবে, কেউ কি জানে?
যে নববধূকে হাতের মেহেদি মুছে, রঙ্গিন শাড়ি খুলে সাদা শাড়ি পড়ে নিতে হয়,
যার কারণে, তার বিচার কবে হবে?
আমরা কেউ জানি না তো।
যে ছোট্ট খুকির নিথর দেহ পরে আছে,
বিচ্ছিন্ন  করে কেটে রাখা অঙ্গ, যার পুতুল খেলার বয়স হলেও সেই পিশাচ তাকে উন্মত্ততা নিয়ে ভোগ করেছে।
সেই খুকির টুকরো টুকরো করে কেটে যাওয়া অঙ্গ জোড়া দিয়ে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সেই খুকির বিচার কবে হবে?
এসব নিয়ে ভেবো না,পাপ হবে তোমার।
এক বালতি তেল নিয়ে এসো,প্রশাসনের পায়ে মাখ,মাখতে থাকো।
বিনিময়ে সে যা দেবে,হাত পেতে নাও।
হুম, এই দেশটায়, প্রতি অঙ্গের পচন ধরছে।
উপরে ফেলাও সম্ভব নয়,আবার এগুলো সহ্য করাও ঠিক নয়।

এখানে,অনুসন্ধান করা পাপ,চিন্তা করা ও পাপ।
পুণ্যভূমি তো এটা, এখানে পাপ করো না। 
আর মনে রেখো,
এক বালতি তেল নিয়ে পায়ে মালিশ করতে ভুলে যেও না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/262398/</link>
				<pubDate>Sun, 16 Aug 2026 18:34:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অনুসন্ধান<br />
সিনথিয়া<br />
 গহীন বনের ভেতর কি আঁধার,থেকে থেকে শিয়াল, শকুনের ডাক, শোনো?<br />
কি যেন ঝিলিক দিয়ে ওঠে,<br />
কোনো আলো নেই, যন্ত্রণা আর পঙ্কিলতা, কিরকম যেন অদ্ভুত!<br />
কত কিছুই দেখেছি এ নিখিল বিশ্ব জুড়ে, কখনো কি ভেবে দেখেছি?<br />
সমুদ্রের ঢেউ খেলানো পানির নিচে যে ঝিনুক, তার পেট চিরে ডুবুরিরা মুক্তো বের করে, আহ! কি সুন্দর!<br />
উঁচু উঁচু পাহ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-262398"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/262398/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">83a47fec523032f870ab85aa7af0fce4</guid>
				<title>গল্প 6
ফাতেমা সিনথিয়া 

তার পরের গল্প শোনো,শোনো দিয়া মন।
রূপবতী গঙ্গার কথা করি গো বর্ণন,
এক যে ছিল কন্যা, গঙ্গা ছিল নাম।
রূপেগুণে সেরা ছিল,আর ছিল খুব সুনাম।
ঘন কাল কেশ যেন মেঘের আলপনা,
হেসে দিলে লুটিয়ে পড়ে মুখ যেন চাঁদপনা।
গরিবের ঘরে জন্ম নিয়ে, হলো রূপবতী।
তারে পেতে চেয়ে থাকে, যেন দেবী রাধাবতী।
দিন যায়, মাস যায়, যায় ষোল বছর,
গ্রামে গ্রামে রব উঠেছে, কন্যাই যে আছে একজন।
কেশ মেঘের আলপনা, মুখ যে অমরা বতী, সে হেসে দিলে সব চুপ হয়ে যায়,
নয় কোনো ভীমরতি।
রাজ্যে এক রাজা ছিল, ভীষণ দুষ্টু স্বভাব,
লোকমুখে শুনে গঙ্গার রূপের বর্ণন,
দেখতে চাইল সে তক্ষণ।
সমন জারি করে,পাঠায় পেয়াদা, গঙ্গা যেতে রাজি হয় না, বোঝায় মা , বাবা তারে, বোঝায় পড়শি সব।
না গেলে ঘরে আগুন দেবে দুষ্টু রাজা,
কোনো দোষ না করেও পাবে তুমি সাজা।
এর আগে ভালো কন্যা, রাজি হয়ে যাও, নিজের বাপ মায়েরেও একটু রেহাই দাও।
শুনে কন্যা মাথা নাড়ে, যেতে মন না চায়, ধীরে ধীরে যায় কন্যা আলতা রাঙা পায়।
দেখে গঙ্গার রূপ মুগ্ধ হলেন রাজা, গঙ্গা হবে রাজরাণী, এই তোরা বাদ্য বাজা।
কিন্তু , গঙ্গা রাণী হতে না চায়, খুব সাধারণ কন্যা হয়ে জীবন কাটাবে এটাই।
রাজা না শোনে তার কোনো কথা,না বোঝে আবদার।
তার কথার বাইরে হবে না একটি কথাও আর।
এক উজির ছিল রাজার শত্রু, জানল 
যখন সে, গঙ্গার মত রূপবতী কে রাজা বিয়ে করছে,
পাশের রাজ্যের আরেক রাজার কাছে গেল হায়।
গিয়ে কহে,&quot;তুমি কম কিসে? ধন,মান , জনে। বিশাল সাম্রাজ্য তোমার। গঙ্গার মত সুন্দরী পেতে কি চাই আর? শোনো, যুদ্ধ কর, যুদ্ধ কর। রূপসী তুলে এনে,দেখাও তুমি সব ই পার, সে কিছুই নে।&quot;
সেই রাজা হাসে উজিরের কথায়, &quot; ঠিকই বলেছ তুমি, আমি থাকতে এই রূপসী কন্যা আর কে নেবে শুনি? সেনানায়ক, তৈরী হবে, যুদ্ধ করতে হবে।গঙ্গা আমার চাই, চাই। নইলে রক্ত গঙ্গা বইবে।&quot;
বিয়ের রাতে যুদ্ধের দামামা উঠল যখন বেজে, সীমান্তের থেকে বার্তা এলো মহারাজের কাছে। 
সৈনিক সব খুলে বলে তারে, আর যে সময় নেই, দুষ্টু রাজা চলে এলো বলে, ফুরসত বেশি নেই।
আড়াল থেকে গঙ্গা শোনে সব, সে ভাবে, এ রূপ যদি হয় বিবাদের কারণ,যদি করে বিনাশ, তার আগেই রুখতে হবে এমন সর্বনাশ।
আমায় ক্ষমা করে দিও রাজা, সইতে পারি না, এই যুদ্ধ হলে যা কিছু হবে, আমি দেখতে পারব না- ভাবি মনে মনে, লিখল এক পত্র সে রাজার উদ্দেশ্যে।
 জ্বলন্ত করে আগুনে দিল ঝাপ সুন্দর কন্যা,কেউ না জানে, কেউ না দেখে।
পুড়ে ছাই হয়ে গেল এত রূপের দেহ,
পরে রইল ছাই, দেখল ও না যে কেহ।
যুদ্ধ জয়ের মুখে যখন দুরদেশের রাজা, গঙ্গাকে চায় দেখতে
নিয়ে যেতে সাথে।
এখান- ওখান খুঁজে তবুও পায় না যে কেউ, পত্র একটা পাওয়া যায়,তাই নিয়ে আসে প্রহরী, সঙ্গে নাই কেউ।
&quot;হায় রে হায়, যে রূপের মোহে যুদ্ধ করলাম জীবন বাজি রেখে, সেই দেহ পুড়িয়ে দিলে,আমায় একা রেখে। আমি জিতে গিয়েও হেরে গেলাম,কন্যা তোমার কাছে।
তুমি বড় বুদ্ধিমতী,এ রাজ্য তুচ্ছ তোমার কাছে।&quot;
বলে রাজা চলে গেল, রাজ্য ফেলে রেখে।
আর আহত রাজা, প্রজা সবাই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে।
গঙ্গার রূপের আগুনে রাজ্য পুড়ে ছাই,
রাজা আছে চুপটি করে, কিছু বলতে না চায়।
দিন যায়, বছর যায়,বহু বছর পরে, তাকে দেখা যায় বন্ধ কামড়ায়, 
উন্মাদের মতন করে।
কত কবিরাজ, কত কিছু, হলো না আর ভালো, কি যে হল, কি যে হলো,
কেউ বুঝতে না পারল।
বড় রানীর এক পুত্র, নাম তার রেহমান,সে হলো যোগ্য রাজা 
 প্রজাসকল করে তাকে সম্মান।
কিন্তু, রূপসী গঙ্গা যে স্রোতে তারে ভাসিয়ে দিয়ে গেছে, ফিরতে কি আর পারবে সে আগের রাজা হয়ে?
শুনে গঙ্গার সে কাহিনি কান্নার রোল পড়ে যায়, বুড়ো,বাচ্চা সবাই চোখ মুছে, এদিক ওদিক চায়।
কেউ বলে, হায় আল্লাহ, এ কেমন লীলা।
যারে তুমি এত রূপ দিলে, তারে ই কেড়ে নীলে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/259127/</link>
				<pubDate>Fri, 31 Jul 2026 18:27:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প 6<br />
ফাতেমা সিনথিয়া </p>
<p>তার পরের গল্প শোনো,শোনো দিয়া মন।<br />
রূপবতী গঙ্গার কথা করি গো বর্ণন,<br />
এক যে ছিল কন্যা, গঙ্গা ছিল নাম।<br />
রূপেগুণে সেরা ছিল,আর ছিল খুব সুনাম।<br />
ঘন কাল কেশ যেন মেঘের আলপনা,<br />
হেসে দিলে লুটিয়ে পড়ে মুখ যেন চাঁদপনা।<br />
গরিবের ঘরে জন্ম নিয়ে, হলো রূপবতী।<br />
তারে পেতে চেয়ে থাকে, যেন দেবী রাধাবতী।<br />
দিন যায়, মাস যায়, যায় ষোল বছর,<br />
গ্রামে গ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-259127"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/259127/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">80ce786baca264a462f516e84e91a155</guid>
				<title>একটু ভিন্ন ধরনের কবিতা:
অসমাপ্ত সংলাপ
ফাতেমা সিনথিয়া 

একজন কবিকে বলছি, সে যেন আমার প্রশ্নের জবাব দিয়ে যায়,
আমার জানতে চাওয়া কথাগুলো বলে যায়, তাঁকে বলো, সে যেন চলে না যায়।
এ জগত সংসারে সে একজন কবি,
কলম ধরলেও কবি হওয়া যায় না।
তার কাছে কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে যে আমার।
সে কোথা হতে এসেছে?এ মহাকাল,
শত জনমের যে শূন্যতা, যে অনুরাগ,বাতুলতা, যে বাঁধনে বাঁধা সবাই, সেও কি তাদের মধ্যে একজন নয়? তার কি মন চায় নি একটা ঘরে কোনো এক রমণীর সাথে বনিবনা হোক? সে হতে পারত কোনো ছকে বাঁধা মানুষ?
কিন্তু, কবি কেন হলো?
তার একটা কবিতা আমি পড়ব, নিয়ে এসো।
পড়ে যদি বুঝতে পাড়ি, সে কেন কবি হলো, কেন এ জগতের সাথে তার লেনদেন কম?
তাহলে আমার কৌতূহলী মন একটু শান্তি খুঁজে পাবে।
হ্যা, এলো চিঠি, একটা চিঠি,হয়ত এই  সামান্য নারীর কথার জবাব সে কবি দিয়েছে।
বাসন্তী রঙের খামের ভেতর সবুজ রঙের চিঠি।
আমি খুব উতসাহ নিয়ে ধীরে ধীরে চিঠি বের করি, সংলাপ আকারের সে চিঠি।
পড়তে থাকলাম কিছু সময় ধরে দাঁড়িয়ে,কিছু ঘটনা, কিছু কথা,আবেগ,স্মৃতির পাতায় হাজার ভাষা যেন একটা সুরে গেঁথেছেন উনি।
চোখে জল চলে এলো,জানতে পারি,উনি কেন কবি।
সময় যেমন করে তার নিজস্ব গতিতে চলতে থাকে,কিছু কেড়ে নেয়, কিছু ফিরিয়ে দেয়,কিছু শিক্ষা দিয়ে যায়।
যেজন্য মানুষ কখন কে কি করে,কোন ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোন পথে চলতে থাকে, 
তার কোনো সূচি নেই।
সেও ভালোবাসতে জানত, তার ও স্বপ্ন ছিল, কিন্তু, নিয়তির নিঠুর পরিণতি,স্বপ্নভঙ্গ আরো কত কিছুর প্রতিফলনে আজ উনি একজন কবি।
পুরো চিঠিই যেন কোনো কথা বলছে, সেখান থেকে হাসি, কান্না, মন ভাঙার 
অনুভুতি,কাছের মানুষের দেওয়া আঘাত- এইসব কিছুই তার ইন্ধন জোগায় কবি হওয়ার জন্য।
কোনো এক মুহূর্তে তিনি কবি হননি।
তার লেখা শেষ শব্দগুলো,

&quot; থেমে যেও না, থেমে যেও না,
এ জগত সংসার জুড়েই রয়েছে নিখুঁত বৈজ্ঞানিক ইতিকথা,গতি।
কারুর মায়ায় নিজেকে বেঁধে রেখো না, যে মুক্তি চায়, তাকে মুক্তি দাও।
যেমন পায়রা উড়িয়ে দেয়া হয় নীল আকাশে।
তুমিও পারবে, যেমন আমি পেরেছি,
এ বিশ্ব চরাচরে চেয়ে দেখ, কারুর মায়ায় কেউ আটকে নেই।
আবার বলছি,তুমি পারবে।
গহীন আঁধারের বুক চিরে,বুনো ঝোপঝাড় এর গন্ধ,আঁধার সব উপেক্ষা করে,তবুও সুর ওঠে,গান বাজে,ফুল ফোটে, চেয়ে দেখ।

তাই থেমে যেও না,লিখ লিখ
অসমাপ্ত সংলাপ।
লিখ, কোনো এক প্রচন্ড ঝড়ের কবলে নাবিক কিভাবে সামাল করে,
যুদ্ধের সময় কেন মা কোনো চিন্তা না করেই তার সন্তানকে পাঠায় দেশ রক্ষা করতে?
কেন কত ফুল ফুটে আছে আর কত ঝড়ে পড়ে,সে হিসেব কেউ রাখেনি?
কেন সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দিয়েও সেই মিথ্যেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে?
কেন সমুদ্রের অতল গহ্বরে এতকিছু,আর তুমি জানোই না?
কেন পাহাড় ভাঙার গান শুনতে পেলাম না?
কেন মায়ের ছেড়া শাড়ি?
শহীদের পিতার আর্তনাদ কেন ক্ষমতালোভীরা শোনে না?
খোঁজ,খোঁজ, এগুলোই খোঁজ,কলমের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হোক জালিমের
তলোয়ার।
 আমি যে কবি, কেন কবি, জানতে চাইলে শোনো,কান পেতে সেই আওয়াজ শোনো।
যে আওয়াজ আছে মৃত্তিকার অতল গহ্বরে,
যে আওয়াজ আছে সন্তান হারা মায়ের কণ্ঠে,
যে আওয়াজ আছে শহীদের রক্তাক্ত জখম হওয়া কাপড়ে।
জিজ্ঞাসা কর,প্রশ্ন কর,জবাব চাও,কি হয়েছিল ওদের সাথে।
কেন যুগে যুগে বিশ্বাসঘাতকগুলো আরামে আছে?
খোঁজো,খোঁজো,খোঁজ কর।
কলম ধর,ধর,ভয় নেই তোমার।
তোমার পেছনে এরা সবাই,আমি হঠাত কবি হইনি।
তুমি ঠিকই বুঝেছ, আমায় ইন্ধন জোগায় কিছু ঘটনা,কিছু অশ্রু,কিছু যুদ্ধ,কিছু কথা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/258942/</link>
				<pubDate>Wed, 29 Jul 2026 10:50:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটু ভিন্ন ধরনের কবিতা:<br />
অসমাপ্ত সংলাপ<br />
ফাতেমা সিনথিয়া </p>
<p>একজন কবিকে বলছি, সে যেন আমার প্রশ্নের জবাব দিয়ে যায়,<br />
আমার জানতে চাওয়া কথাগুলো বলে যায়, তাঁকে বলো, সে যেন চলে না যায়।<br />
এ জগত সংসারে সে একজন কবি,<br />
কলম ধরলেও কবি হওয়া যায় না।<br />
তার কাছে কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে যে আমার।<br />
সে কোথা হতে এসেছে?এ মহাকাল,<br />
শত জনমের যে শূন্যতা, যে অনুরাগ,বাতুলতা, যে বাঁধ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-258942"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/258942/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c978d584ccade12c0c63dcac1258e78f</guid>
				<title>গল্প 6
ফাতেমা সিনথিয়া 


হওয়া বদল,ঋতু বদল সবই ঠিক হয়,
বুড়োর গল্প বলা নাই থেমে রয়।
এবার তাহার গল্প শোনো, শোনো দিয়ে মন।
একখান সিন্দুকের গল্প করিগো বর্ণন।
খান বাড়ি, বিশাল সাম্রাজ্য,ধনের অভাব নেই।
আছে এক বুড়ি যুগ যুগ ধরে এই বাড়িতেই,
তার আছে একটা সিন্দুক, ভর্তি গয়না,
যে গয়নার লোভে নাতবৌদের ঘুম ও হয় না।
আছে ওতে প্রচুর সোনা,যেন ধরে না,
করে ওরা পাল্লাপল্লি কে পাবে সব গয়না।
কেউ দেয় বুড়ির হাত টিপে,কেউ টিপে পা,কেউ পান বানিয়ে দেয় তবুও সরে না।
চতুর বুড়ি বুঝে ফেলে, এইসব চাটু।
গহনা ভাগ করতে হবে মরে যাওয়ার আগে,নইলে এরা বিবাদ করে মরে পরে রবে।
একদিন সব নাতবৌ বুড়ি ডেকে আনে,
গহনা কিছু কিছু করে ভাগ করে দেয়।
কেউ পায় গলার হাড়,কেউ পায় চুড়ি,
কেউবা কানের দুল পরে দেখে ঘুরি ঘুরি।
মূল সিন্দুক সেরে রাখে কাপড়ের ভাঁজে,
গয়না দিল যাতে ওদের মনে সন্দেহ না সাজে।
এরই মধ্যে একদিন মেজ বৌএর পুত্র এলো দেশে,
উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য ছিল ভিনদেশে।
সুন্দর গড়ন তার,শিক্ষিত বটে, ভদ্র ভাষায় কথা বলে সে যে বিনয় অকপটে।
এবার বিয়ে করাও তারে, যোগ্য কন্যা দেখে,
মেজ বৌ ভারী লোভী, খালি ধনীর দুলালি দেখে।
একদিন বুড়ি ওরে করে গালমন্দ,&quot; ধনে যে জন বড় হয়,সে বড় নয়, তুমি ভুল কন্যা খুঁজ,শুন তবে বিজ্ঞজন কি কয়,গরিব কন্যা হলে হোক সে যদি হয় সংস্করি,তার চেয়ে ভালো কি আছে? তুমি বোকা ভারী।&quot;
মেজ নাতবৌ হায়,কিছু বুঝতে না চায়,
শুধু শুধু খালি মুখে তর্ক করে যায়।
নাতি এসে বৌ কে বকে,করে যে শাসন,দাদী যা বলবে,তাই হবে,তর্ক করা বারণ ।
মাস্টার এর এক কন্যা আছে, নন্দিনী নাম।
বেশী দুরে নয়,এই গ্রামেই ধাম।
শিক্ষিত কন্যা, সে যে সুন্দরী খুব,
তারে যদি আনা যায়,বহত খুব।
এ মেয়ে,ও মেয়ে কত মেয়ে দেখে,শেষে মাস্টার এর মেয়ে বৌ হয়ে আসে।
লক্ষী সে যে ভীষণ, বুদ্ধিতে নিপুণ,
দাদীর মন জিতে নিল,আছে সব গুণ।
বুড়ি এবার চিন্তা ছেড়ে শ্বাস নেয়,
যাক সিন্দুকের চাবি তুলে দেওয়ার আছে এক উপায়।
সেই বৌয়ের হাতে দিল সিন্দুকের চাবি,
বলল,&quot; শোনো এই গহনার উপর আছে সকল বৌ এর দাবী, তুমি রেখ যতন করে। পুত্র কন্যা বিয়ের সময় এই গহনা উপহার দেবে। কিন্তু, ভুলেও এইসব কথা তোমার শাশুড়ির কাছে না বলবে।&quot;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/258782/</link>
				<pubDate>Sun, 26 Jul 2026 19:56:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প 6<br />
ফাতেমা সিনথিয়া </p>
<p>হওয়া বদল,ঋতু বদল সবই ঠিক হয়,<br />
বুড়োর গল্প বলা নাই থেমে রয়।<br />
এবার তাহার গল্প শোনো, শোনো দিয়ে মন।<br />
একখান সিন্দুকের গল্প করিগো বর্ণন।<br />
খান বাড়ি, বিশাল সাম্রাজ্য,ধনের অভাব নেই।<br />
আছে এক বুড়ি যুগ যুগ ধরে এই বাড়িতেই,<br />
তার আছে একটা সিন্দুক, ভর্তি গয়না,<br />
যে গয়নার লোভে নাতবৌদের ঘুম ও হয় না।<br />
আছে ওতে প্রচুর সোনা,যেন ধরে না,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-258782"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/258782/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a9b1718ef666fb88abf2c0aad7b13f9f</guid>
				<title>গল্প 5
ফাতেমা সিনথিয়া 


দিনের পর দিন যায়,বুড়ো গল্প বলে যায়।
কখনো তীব্র শিত, কনকনে ঠান্ডা,
কখনো গরমের দাবদাহ,কখনো বা বসন্ত বাতাসে।
কোনো গল্প হাসায়, কোনো গল্প কাঁদায়।
এভাবেই চলতে থাকে,সময় এগিয়ে যায়।
এখন বসন্ত, বুড়ো আজ রাতেও গল্প বলছে, সবাই তৈরী হয়ে এসেছে।
জোছনা থেকে থেকে উঁকি দিচ্ছে,
সবার চোখে কৌতূহল,বুড়ো এলো,দাঁত বের করে একটু হেসে বসে পরল দাওয়ায়,কেরোসিনের আলো ও আঁধারে, মৃদু হাওয়ায় সব দোল খাচ্ছে।
শোনো শোনো সবাই ,শোনো দিয়া মন,
আলেয়া সুন্দরীর কথা করি গো বর্ণন।
বাপ মায়ের বড় আদুরে কন্যা ছিল সে যে,বয়স ষোল যখন হলো, গেল শ্বশুর বাড়িতে।
গায়ের রং শ্যামলা বরণ,ডাগর ডাগর চোখ,স্বামীর মন জিতে নিল কন্যা,
সে যে বুদ্ধিমতী করে পরখ।
সুখে শান্তিতে তার গেল কেটে পাঁচ বছর, সন্তান এলো না কোল জুড়ে 
দু:খ অতি ঘোর।
শাশুড়ি সে যে স্বামীর কানে কান কথা কয়,ধীরে ধীরে স্বামীর সোহাগ কমে যায় বোধ হয়।
কি করবে আলেয়া? কি ই বা আছে করার?
কোন মুখে কথা কবে,লজ্জা করে ঘোর, স্বামী কয়দিন মানবে সন্তান ছাড়া ঘর।
বছর দুই ঘুরে এলো, কিছুই হলো না,
হায়!কি সর্বনাশ হলো!
কত বদ্যি,কবিরাজ কিছুই হলো না।
তারপরে একদিন ভর দুপুরে,
স্বামীর সাথে করে সতীন এলো ঘরে।
রূপবতী সে খুব,ফর্সা গায়ের রং,
কান্না জুড়ে দিল কন্যা,শাশুড়ি কয়, এ কেমন ঢং।
এত বছর চলে গেল,কোল না ভরল,না ই বাচ্চা এলো,চোখের জলের রং,এবার বন্ধ কর ওলো।
তোর ন্যাকা গলার আওয়াজ আর ভাল লাগে না,
তোরে শাস্তি পেতে হবে,কোনো রেহাই না।
সকলে ঠিক করল,কি শাস্তি হবে 
নিজ হাতে ফুলে-জলে সতীন বরণ করে নিতে হবে।
বেচারি রাজি হয়ে গেল তখনি, না হলে বের করে দিত সকলি।
নিল সতীন বরণ করে,আদুরে আলেয়া
, চোখের পানি বাধ ভেঙ্গে নামে,
মুখ বলে থাম,থাম মন নাই মানে।
ধীরে ধীরে সয়ে গেল অভিমানি মন,
সতীনরে দেখতে লাগল ছোট বোনের মতন।
দুই সতীন মিলে হলো এক সংসার,
নেই কোনো ঝামেলা,কোনো অহংকার ।ননদীনির বিয়ে ঠিক হলো জমিদারের বেটার সাথে,
দশ গ্রামের বাসিন্দা দাওয়াত পেল,
সবাই খুশি মনে বিদায় দিল একসাথে।
এভাবেই চলে গেল বছর দুই, হঠাত নন্দাই একদিন দেখে আলেয়ার রূপ।
স্নান সেরে উঠে, দরজা দিয়ে শুকনো বসন করছিল পরিধান,
ওখানেই সে ননদের স্বামী ,জানালা একটু খোলা ছিল,তাই উঁকি দিয়ে সামান্য চেষ্টায় করে আনুমান।
নেশা হলো,রাত পহালে,ঘুম নাই এলো,
আলেয়ারে পেতে সে নানা বুদ্ধি পাকাল।
একদিন হেসেল ঘরে গেল যে জামাই,
কুপ্রস্তাব করল যে, আলেয়া কে পেতে চায়।
মুখের ওপর না বলে দিল সে রমণী,
তারপর সে চেপে ধরে হাতের কব্জি খানি।
এইবার সজোরে মারিল এক থাপ্পড়,
রব শুনে লোক এসে ভরল হেসেল ঘর।
জামাই,সে যে বড় আদুরে,দোষ কি তার হয়? সব দোষ এই নস্টা নারীর,
মিথ্যেই যেন সত্যি হয়।
আলেয়া যেন উঠল জেগে,উঁচু করে গলা,&quot; ঠিক আছে। আমি তবে কেউ নই । শোনো তবে নির্জলা,যে দুষ্টু লোক টারে স্বামী বলেছ,সে তো বটে আসামি।
আজকের অপমান আর সইব না আমি।
হায়রে, হায়,এতদিন যে ঘরে করল সংসার, আজ তার পক্ষে কেউ নেই কথা বলার।
মিথ্যে,সব মিথ্যে, মরীচিকা সব,নিজের স্বামীই যখন নিল না পক্ষ,কি হবে সয়ে এতসব?
(পনের বছর পরে)
বাণিজ্যের কাজে ঘুরে দেশ হতে দেশান্তর, কত কাজ কত কিছু করে নিরন্তর।
দুই কন্যা এক পুত্র আছে, কি সুখের ঘর।
একদিন ভিনদেশে গেল জাহাজ নিয়ে,
সেখানে বানিজ্য করে অর্থ যাবে বাড়ি নিয়ে।
একদিন নদীর ধারে দেখে,এক বালক,
মুখের আদল তার মতই,পনের বছড়ের যুবক।
কাছে ডাকে,নাম সুধায় তারে,পরিচয় জেনে নিজেরে রুখিতে না পারে।
শেষে মায়ের নাম জিজ্ঞাসা করে,
হায়!এ যে আমার পুত্র, কতদিন পর দেখলাম তোমারে।
বিনে দোষে,বিনে বিচারে,তারে করেছি ঘরহারা,
এখন কি আর হবে ক্ষমা? বেচারা কি আর করে,ঝরঝর করে ঝরে অশ্রুধারা।
নিজের পরিচয় সে না করে বর্ণন,
খানিক পরেই সেখান থেকে লজ্জায় প্রস্থান করে, হায় রে নিয়ম,হায় বিধান,
তুমি বড়ই নির্মম।
কোনো মুখ নেই আমার ক্ষমা চাইবার,
আলেয়া আর তুমি থেকো ভালো 
এই প্রার্থনা রইলো আমার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/258626/</link>
				<pubDate>Fri, 24 Jul 2026 20:58:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প 5<br />
ফাতেমা সিনথিয়া </p>
<p>দিনের পর দিন যায়,বুড়ো গল্প বলে যায়।<br />
কখনো তীব্র শিত, কনকনে ঠান্ডা,<br />
কখনো গরমের দাবদাহ,কখনো বা বসন্ত বাতাসে।<br />
কোনো গল্প হাসায়, কোনো গল্প কাঁদায়।<br />
এভাবেই চলতে থাকে,সময় এগিয়ে যায়।<br />
এখন বসন্ত, বুড়ো আজ রাতেও গল্প বলছে, সবাই তৈরী হয়ে এসেছে।<br />
জোছনা থেকে থেকে উঁকি দিচ্ছে,<br />
সবার চোখে কৌতূহল,বুড়ো&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-258626"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/258626/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">34a7ab6704cc0a14e6be784d080fc7ad</guid>
				<title>গল্প 4
ফাতেমা সিনথিয়া 


রাতের পর রাত যায়, গল্প বলে চলে,
এবারের গল্প শোনো, শোনো দিয়ে মন।
চম্পা নামের এক দুর্ভাগা কিশোরীর কথা করি গো বর্ণন।
অভাবের সংসার বাবা,মা আর  ছোট ভাই, বড় লক্ষী মেয়ে চম্পা, বয়স চৌদ্দ হয়েছে কি হয় নাই।
রঘু ডাকাত দেখল তারে, মন যেন গেল ভরে।
মন তার চায়, সে চম্পারে ভোগ করে।
যখনি এই কিশোরী কন্যা জল আনতে যায়, রঘু ডাকাত ঘুরে ঘুরে তার পানে চায়।
হাসে সে পিশাচের হাসি, কন্যার রূপ দেখি,ও কন্যার লগে সঙ্গ করব আমি ,
কে রুখে দেখি।
একদিন সময় আর সুযোগ বুঝে,ডাকাত তুলে নিয়ে গেল চম্পাবতীকে।
বাপ কয় হায়, হায়, মায় কাঁদে,বিলাপ করে।
কিশোরী কন্যা আমার কিছু বুঝতে না পারে, কোন হতচ্ছাড়ার কাজ নিয়ে গেল তারে?
ছোট্ট এই কন্যার এই ছিল কপালে!
হায় বিধাতা জানতাম যদি, কন্যা হওয়া পাপ, মরে যেতাম জলে ডুবি,
এ অভাগিনির মা-বাপ।
রঘু ডাকাত কন্যা নিয়ে চলে দূর দেশে ,
কোনো কথা না শোনে, শুধু মুচকি হাসি হাসে।
আরো আছে কত শুয়োর ওর দলবল,
চম্পাকে দেখে হল খুশী, কচি কন্যা বলে, অল্প বয়স অঙ্গে যেন রূপ ঢলে পরে।
হায় রে কন্যা হায়,
 কি দেশে জন্ম তোর, না রইল মান সম্মান, হবে কি উপায়।
তুই যে একটা কচি দেহ, নরম মাংস পিণ্ড, তোরে এখন ভোগ করবে এই হায়েনার দল।
না পারবি কইতে, না পারবি সইতে,
দিন যাবে কেটে,শুয়োরগুলো তবুও 
তোরে ছাড়বে না, দেবে না যেতে।
দিন যায়, মাস যায়,কত রাত যায় কেটে, ওদের লালসার শিকার হয়ে বাচ্চা আসে পেটে।
এবার চম্পা দুই হাত জোর করে হায়,
আমারে ছেড়ে দাও না আমি অসহায়,
বাপ -মা কেউই নেই, গর্ভবতী আমি এবারে একটু দয়া কর,নইলে মরতে হবে জানি।
শুয়োরগুলো হাসে আর এদিক ওদিক চায়,বনের পশুর স্বভাব হায়, কখনো কি শুধরে যায়?
একদিন চম্পা পান করল বিষ, রক্ত গঙ্গা বয়ে গেল, কি কষ্ট, ইশ!
হাসিমুখে দিল প্রাণ, দাসী থাকার চেয়ে, এই ছিল অভাগিনির পোড়া কপালে।
ধিক,শত ধিক দেই এই সমাজ প্রশাসনে, আইন বানায়, তার উচিত ব্যবহার না জানে।
পরে পোশাক বিচারক তুই যদি হো তিস, কত চম্পা মরে গেছে,তার খবর রাখতিস,যে ক্ষমতা দিয়েছে সে তো দুর্বল নয়,সবার উপর সে যে পরম করুণাময়।
যে মা জন্ম দিছে,সে জানে এর জ্বালা,তোর ঘরেও কন্যা হবে,এমনও দিন আসবে।
বিচার নামে যে প্রহসন তৈরী করে দিলি,
খোদা না করুন,তোর কন্যা না হয় এর বলি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/258543/</link>
				<pubDate>Thu, 23 Jul 2026 20:33:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প 4<br />
ফাতেমা সিনথিয়া </p>
<p>রাতের পর রাত যায়, গল্প বলে চলে,<br />
এবারের গল্প শোনো, শোনো দিয়ে মন।<br />
চম্পা নামের এক দুর্ভাগা কিশোরীর কথা করি গো বর্ণন।<br />
অভাবের সংসার বাবা,মা আর  ছোট ভাই, বড় লক্ষী মেয়ে চম্পা, বয়স চৌদ্দ হয়েছে কি হয় নাই।<br />
রঘু ডাকাত দেখল তারে, মন যেন গেল ভরে।<br />
মন তার চায়, সে চম্পারে ভোগ করে।<br />
যখনি এই কিশোরী কন্যা জল আনতে যায়, রঘু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-258543"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/258543/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">63bcef438bccdbf1082400485a041af1</guid>
				<title>গল্প 3
ফাতেমা সিনথিয়া 

দিনের পর দিন যায় বুড়ো গল্প বলে,
সবাই ছুটে আসে শুধু
তার গল্প শুনবে বলে।
এবার গল্পের কাহিনি শোনো, শোনো দিয়ে মন।
এ নয় কোনো মিথ্যা কথা, নয় আলাপন।
এক ছিলো গৃহবধূ, নাজমা নাম তার,
অনেক কষ্ট করে গড়েছিল সংসার।
অভাব ছিল যেন নিত্যদিনের সঙ্গী,
তবুও হাল না ছেড়ে না দেয় এই বধূ।
সুখ ছিল,শান্তি ছিল, সুখে ছিল স্বামী নিয়ে। 
এক ছেলে এক মেয়ে ছিল তার ছোট্ট জীবনে।
মাটির আঙিনা ছিল ফুল দিয়ে ভরা,
সাজানো সে সংসার নয় ছন্নছাড়া।
একদিন জল আনতে নদীর ধারে যায়,
জমিদার তার পানে ফিরে ফিরে চায়।
ঘন কালো চুল যে তার, ডাগর ডাগর আঁখি, রূপ যেন দুধে আলতা,চোখ রাখিতে নারি।
একদিন কুপ্রস্তাব করে জমিদার,
নাজমা মুখের ওপর দেয় কড়া সুরে জবাব।
হোক গরীব, হোক ধনী স্বামী তার আছে,
সেই তুই কেনে বল,আসবি আমার কাছে।
জমিদার তক্ষুনি এদিক ওদিক চায়,
কথা কেউ শুনে না কি দ্রুত বাড়ি যায়।
কুটিল বুদ্ধি যেন মাথায় আসে,
এবার সে হাসবে নাজমার সর্বনাশে।
হেথা যে আছে এক নাজমার প্রতিবেশী,
পয়সা দিয়ে জমিদার তারে করল খুশি।
চুক্তি হলো, স্বামী জয়নুলরে বিনা দোষে দোষী করবে, ভরে দেবে জেলে।
তখন দেখি, নাজমার ঘর কেমনে চলে।
যেই চুক্তি, সেই কাজ,করিগো বর্ণন,
শোনো এবার বাকি কাহিনি, শোনো দিয়ে মন।
দুষ্টু সে পড়শি জমিদারের সাথে মিলে,
নিজের ঘরেতে দিল আগুন ছলে কৌশলে।
পরের দিন মহল্লায় বসিল যে বিচার,
বিচার হল প্রহসন, কিছুই নেই করার।
সাক্ষী হলো ভুয়া সাক্ষী, জয়নুলের বিরুদ্ধে,
সবাই মিলে জেলে দিল, নাজমার স্বামীকে।
জমিদার চায় ভোগ করতে নাজমারে,
এখন অখন টাকার লোভ দেখায় তারে।
তবুও নাজমা শক্ত হয়ে ধরে ঘর সংসার,
জমিদার বলে, বড় সাহস গো এই বৌটার।
দুই সন্তান কেঁদে কেঁদে হল যে বেহাল,
নাজমা বোঝায়,একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে, থাকবে না এত আহাল।
বেঁচে দিয়ে নিজের গহনা উপহার,
স্বামীকে মুক্ত করে আনে,বেচারি, কি আর করার।
ফিরে এসে স্বামী তারে কষে দিল এক থাপ্পড়,&quot; ক তুই কি করেছিলি, মাগি,
ক এইবার।
জমিদারের লগে  তোর কিসের লেন দেন?এমন বৌ পাবার আগে মরি নাই কেন? কিসের তোর এত দরদ কিসের লো ঘর, আমারে চাইবি কেন, আমি যে তর পর।&quot;
স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয় নাজমা, কেমন যেন বদলে গেছে, এরে তো যায় না চেনা।
রাত দিন কষ্ট করে এই ছিল কপালে,
হায়, মিছে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে যদি যেতাম মরে।
পুত্র কন্যা সব মায়ের পক্ষে দিল যে সাক্ষী, কোনো দোষ নেই মায়ের, শুধু শুধু দোষ দিয়ে হবে কি? অনেক কষ্টে ছিল মা, যখন তুমি ছিলে জেলে।
এখন এসে কেন শুধু শুধু মিছে অপবাদ দাও মা রে।
জয়নাল আর কোনো কথা না কয়,
নাজমা বুঝল,মিছে বদনাম করেছে বিশ্বাস, এখন তারে বুঝিয়ে লাভ নেই।
বুক ভরে নিল সে দীর্ঘশ্বাস,মনে মনে ভাবে,এই সংসার আমার এই ঘরেই বাস।
স্বামী ছেড়ে কই যাব,এ ভিটের আমি যে চিরবাসিন্দা। 
এক পুত্র, এক কন্যা আছে যে আমার,
জানি না স্বামীর প্রেম কপালে আছে কি না আমার।
যাই হোক, ছলে বলে, করব এ সংসার,
এ ভিটে, মাটি, মায়া ছেড়ে কই যাব আর? 
তারপরে চলতে থাকে নাজমার সংসার, দিন, মাস, বছর কয়েক হয়ে যায় পার।
অজানা এক ভয়ে বুক কেঁপে ওঠে তার, ফের কারো কু নজরে যদি ভেঙে যায় এ সংসার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/258472/</link>
				<pubDate>Wed, 22 Jul 2026 18:37:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প 3<br />
ফাতেমা সিনথিয়া </p>
<p>দিনের পর দিন যায় বুড়ো গল্প বলে,<br />
সবাই ছুটে আসে শুধু<br />
তার গল্প শুনবে বলে।<br />
এবার গল্পের কাহিনি শোনো, শোনো দিয়ে মন।<br />
এ নয় কোনো মিথ্যা কথা, নয় আলাপন।<br />
এক ছিলো গৃহবধূ, নাজমা নাম তার,<br />
অনেক কষ্ট করে গড়েছিল সংসার।<br />
অভাব ছিল যেন নিত্যদিনের সঙ্গী,<br />
তবুও হাল না ছেড়ে না দেয় এই বধূ।<br />
সুখ ছিল,শান্তি ছিল, সুখে ছিল স্বামী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-258472"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/258472/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2501c9e2a2007e06ad5e46bbaa86bda8</guid>
				<title>শান্তির নোট 
সিনথিয়া 
তুমি যদি শন্তি চাও,
তাহলে আর তা ভালোবাসা দিয়ে পাবে না।
সময় অনেক আগে যেমন ছিল,
এখন আর তেমন নেই।
এখন, সুখ-শান্তি সব আছে হরেক রকমের নোটে সাজানো।
যার কাছে যত বেশি নোট,
সে তত বেশি প্রিয়।
হতে পারে 500,1000 বা,200 টাকার
নোট।
তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না?
এই কুড়ে ঘর, এই অল্প কিছু রুজির টানে কেউ তোমাকে ভালোবাসবে না।
যার মন ভালো করতে চাইবে,
সে তোমাকে ভেঙে দিয়ে চলে যাবে।
হ্যা, দেরি হলেও তুমি বুঝবে যে,
এইটা চিরন্তন সত্য,
যা পুরো মানবতা কুরে কুরে খাচ্ছে।
তখন, অনেক দেরি হয়ে যাবে।
তাই, সময় থাকতেই স্বার্থপর হয়ে যা
ও।
এতে তোমারই ভালো হবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/258198/</link>
				<pubDate>Sun, 19 Jul 2026 22:25:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শান্তির নোট<br />
সিনথিয়া<br />
তুমি যদি শন্তি চাও,<br />
তাহলে আর তা ভালোবাসা দিয়ে পাবে না।<br />
সময় অনেক আগে যেমন ছিল,<br />
এখন আর তেমন নেই।<br />
এখন, সুখ-শান্তি সব আছে হরেক রকমের নোটে সাজানো।<br />
যার কাছে যত বেশি নোট,<br />
সে তত বেশি প্রিয়।<br />
হতে পারে 500,1000 বা,200 টাকার<br />
নোট।<br />
তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না?<br />
এই কুড়ে ঘর, এই অল্প কিছু রুজির টানে কেউ তোমাকে ভালোবাসবে না।<br />
যার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-258198"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/258198/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>