-
নিউক্লিয়ার ফিউশন_ ভবিষ্যতের শক্তির উৎস ।।, দেবজীৎ ঘোষ প্রীতম।। তথ্যসূত্র:- ITER, বিজ্ঞানচিন্তা ডিসে. ২০২৫
by
দেবজীৎ ঘোষ প্রীতম
–
February 25, 2026
মানুষ কি আকাশের তাঁরাকে মাটিতে নামিয়ে আনবে? দেবজীৎ ঘোষ প্রীতম
ভাবুন ত আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর মধ্যে কি আছে? অনেকে বলবে- খাবার, পানি, গাছ, কিংবা বেশি বিজ্ঞানমনস্ক হলে বলবে অক্সিজেন (O2-Oxyzen) । কিন্তু খুব কম মানুষই বলবে শক্তি (Energy) ‘র কথা। এই শক্তি ছাড়া আমাদের জীবনের এক মুহূর্তও চলেনা, আমরা যে শ্বাস নেই এতেও আমাদের শক্তির প্রয়োজন, আমাদের পেটের খাবার হজম হতেও এই শক্তিই লাগে।
পৃথিবীর প্রাকৃতিক শক্তি ব্যাবহার করেও অতিরিক্ত শক্তি’র চাহিদার জন্য আমরা কয়লা(Carbon), বাতাস(Air), পানি(Water), বা আলো’র(Light) ওপর নির্ভর করি। কিন্তু এই সব ক্ষেত্রেই কোন না কোন সমস্যা আছে—কোনটায় খরচ বেশি, কোনটা বেশি বর্জ্য বেশি বা কোনটায় দূষণ বেশি।
কিন্তু সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি কি জানেন, যেটায় এরকম কোন সমস্যা নেই। সেটা হলো নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion), যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সূর্য। অনেকে ভাববেন, সূর্য থেকে তো আমরা প্রতিনিয়তই শক্তি নিচ্ছি, তবে অতিরিক্ত চাহিদার জন্য আবার সূর্যকে ব্যবহার করব কেন? উত্তর হলো আমরা সূর্যকে ব্যবহার করবনা আমরা নতুন সুর্য তথা ফিউশন রিয়্যাক্টর (Fusion Reactor) বানাব। ফিউশন রিয়্যাক্টর নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion) পদ্ধতিতে কাজ করে। এর সবচেয়ে বহুল প্রচলিত পদ্ধতি হলো হাইড্রোজেনের ২ টি আইসোটোপ ডিউটেরিয়াম (D:-H¬-2) ও ট্রিটিয়াম (T:- H-3) পরস্পর সংযুক্ত হয়ে তৈরি হয় ১টি হিলিয়াম-৪ (He-4) , ১টি নিউট্রন ও বিপুল পরিমাণ শক্তি। ফিউশন রিয়্যাক্টরের অনেক ডিজাইন আছে, তবে তার মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত এবং এতে বিজ্ঞানীদের অবিজ্ঞতা বেশি_ এর নাম হলো টোকোম্যাক । টোকোম্যাক দেখতে অনেকটা ডোনাটের মতো। সর্বপ্রথম ১৯৫৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন টোকোম্যাক নিয়ে কাজ শুরু করে।
তবে এই সবের থেকে সূর্য হলো বৃহত্তম ফিউশন রিয়্যাক্তর যেখানে একই ঘটনা ঘটে।
আর প্রচলিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাজ করে নিউক্লিয়ার ফিশন (Nuclear Fision) প্রক্রিয়ায়। এক্ষেত্রে একটি ইউরেনিয়াম পরমাণু ২ ভাগে বিভক্ত হয়ে বিপুল শক্তি এবং অনেক তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য।
আর ফিউশন রিয়্যাক্টরD-T বিক্রিয়া তে কাজ করে। এই বিক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:-
H-2(D) + H-3(T) = He-4 + Neutron
এই বিক্রিয়াকে বিস্তারিত বর্ণনা করতে গেলে এটা প্রবন্ধ থেকে বিশাল এক উপন্যাস হয়ে যাবে।নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির সুবিধা-
1. এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সবই সহজলভ্য— ডিউটেরিয়াম আইসোটোপ মাটিতেই পাওয়া যায়, আর ট্রিটিয়াম সরাসরি পাওয়া না গেলেও এটা কিভাবে তৈরি করতে হয় তা বিজ্ঞানীরা জানেন।
2. কোন তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য হয়না।
3. উৎপাদিত শক্তির পরিমাণ অনেক।
4. নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির সুবিধা-নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির অসুবিধা-
1. রিয়্যাক্টরের অভ্যন্তরে অত উচ্চ তাপমাত্রা দীর্ঘক্ষন ধরে রাখা বেশ কঠিন।
2. সূর্যের কেন্দ্রে অত্যন্ত চাপের কারণে নিউক্লিয়ার ফিউশন ঘটাতে যে তাপমাত্রা লাগে পৃথিবীর এ অল্প চাপে তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি তাপমাত্রা লাগে।
যে গতিতে এ প্রযুক্তি এগোচ্ছে তার থেকে আশা করা যায় যে ২০৫০ সাল নাগাদ বানিজ্যিকভাবে নিউক্লিয়ার ফিউশন তৈরি হবে। মানে ২০৫০ এ আমর সত্যিই আকাশের তাড়াকে মাটিতে নামিয়ে আনব ( মাটিতেই ফিউশন রিয়্যাক্টর __ নক্ষত্র। )।6 Comments-
আপনার লেখাটি পড়ে বেশ নতুন অনেক কিছু জানতে পারলাম, তবে আপনি কি মনে করেন আমাদের দেশে এই প্রযুক্তি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে?
Friends
Sirajul Manik
@sirajulmanik
Shruti
@shruti
মো বুলবুল আহমেদ
@bulbul112026
অনিন্দ্য আকাশ
@freaknayan
ইশতিয়াক আহমেদ
@ishtiak
Md. Mijanur Rahman Chowdhury
@md-mijanurrahmanchowdhury
N R
@nr
Rasel Kabir
@raselkabir
পিপীলিকা
@abujubair



শক্তি উৎপাদনের জন্য খুব দরকারী একটা প্রক্রিয়া হবে এটি।