-
প্রাথমিকের পাঠশালা
(জান্নাতুল ফেরদৌসী)
===================================================================শিক্ষার ভিত যেখানে গড়ে ওঠে,
সেই জায়গাটাই যেন আজ সবচেয়ে নড়বড়ে।
শুরুতে হাতেখড়ি, ছড়া, গল্প,
আসরের আলোয় উচ্চারণ শেখা—
তারাই তো হয় জাতির স্থপতি।
কিন্তু আজ?
তিন দফা দাবি নিয়ে কর্মবিরতিতে শিক্ষকবৃন্দ।
শিক্ষকের মুখে বিরক্তি, ক্লান্তি, ক্ষোভ—
চোখে নেই সেই আগুন, যেটা একদিন শিশুদের চোখে জ্বালিয়ে দিত।
আর শিশুরা?
তারা এখন ঘুমোচ্ছে একটু বেশি,
খেলছে সকালেও, মা-বাবার বকুনি ছাড়া।
একটু আয়েষ, কিছু বিশ্রাম—
পড়ার চাপে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া শিশুমনের জন্য যেন একটুখানি বর্ষাবিরতি।
তবুও প্রশ্ন জাগে—
এই অবকাশ কি উন্নতির, না আরও পিছিয়ে পড়ার?প্রাথমিক স্তরই যদি হয় সবচেয়ে অগোছালো,
তবে মাধ্যমিকের ইটই বা কোথায় বসবে?
এই দেশে ক’জন শিক্ষক সময়মতো বেতন পান?
ক’জন শিক্ষক পাঠদানে পান সম্মান,
না কি তারা কেবল ADM, UEO এর দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত?
প্রশিক্ষণহীন শিক্ষক, উপকরণহীন শ্রেণিকক্ষ,
ভাঙা বেঞ্চে বসে সাদাকালো জীবনের পাঠ।
একদিকে স্মার্ট বাংলাদেশ, অন্যদিকে খালি পেটে স্কুলে আসা।
এই বৈপরীত্যই যেন আজকের প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিচ্ছবি।শিশুরা শিখছে মুখস্থ করে,
ভাবনা শেখানোর দায় কেউ নেয় না।
শ্রেণিকক্ষে প্রশ্নের উত্তরের আগে আসে
বোর্ডের কোণায় ঝুলে থাকা ডেটলাইন।
সময় গেলে সরে যায়, শিশুরা থেকে যায় স্থির—
কোনো এক দুর্বোধ্য পাঠ্যবইয়ের পাতায়।
তাদের চোখে নেই আগ্রহ, নেই আলো,
শুধু আছে বোঝা—বইয়ের, দুঃখের, ভবিষ্যতের।আর শিক্ষক?
তিনি বেতন চান, মান চান, মানুষের সম্মান চান।
চান না ছুটির দিনে অবৈতনিক প্রশিক্ষণ,
চান না চারপাশের অবহেলা।
তিনিও তো মানুষ, পরিবারের কর্তা,
নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তিত।
তবু তিনি থাকেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চৌকাঠে—
যতদিন না মন ভাঙে, না শরীর।এই তো বাস্তবতা—
শিক্ষার ভিতেই ফাটল,
আর আমরা স্বপ্ন দেখি উন্নয়নের,
ভাবি, প্রগতির রেলপথে ছুটছে বাংলাদেশ।
কিন্তু ভিত যখন দুর্বল,
তাতে উঁচু ভবন দাঁড়ায় না।
প্রাথমিক শিক্ষার এই দৈন্যদশা আমাদের collective ব্যর্থতা—
এটা শুধুই শিক্ষক বা শিশুর নয়,
এটা আমাদের রাষ্ট্রের, সমাজের,
আর শেষমেশ—আমাদেরই বিবেকের প্রশ্ন।
শিষ্টাচার:
সদাচার-সাধুবাদ যাবে সব ধুয়ে, রবে শুধু শিষ্টাচার, দিয়েছি যাদের মাঝে !
সদাচার-সাধুবাদ যাবে সব ধুয়ে, রবে শুধু শিষ্টাচার, দিয়েছি যাদের মাঝে !

Jannatul ferdausi
Daulatpur,Khulna
♠♣♥♦♣♠জান্নাতুল ফেরদৌসী ১৯৮২ সালের ১৯ জানুয়ারি, যশোর জেলার ছাতিয়ান তলায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহন।
শিক্ষাগতযোগ্যতাঃ এম,এ.(বাংলা) এম,এড ।
২০০০ সালে সাঁকো প্রকাশনি থেকে “কবি”হিসেবে স্বীকৃতি লাভ । ২০২২ সালে নবসাহিত্য প্রকাশনী থেকে ‘কবি সম্মাননা’-স্বরূপ সনদ এবং ক্রেস্ট গ্রহন । পেশায় একজন শিক্ষক (GPS)। যৌথভাবে প্রকাশিত বইয়ের নাম“বনফুলের সন্ধানে,,নতুন তার মিছিলে,,উদীয়মান কবি,দহনের কাব্য, কবিতায় সাতকাহ,কাব্য ফেরি,ধান শালিকের কাব্য,শব্দ শ্রমিকের কাব্য,চায়ের ধোঁয়ায় তোমাকে খুঁজি,কেউ ভালোবাসেনি,কবি কন্ঠ, রাত_তখন_বারোটা দুই (ভৌতিক)"। একক বই-"আমিত্ব","বুনট","ছায়ামানব", ''উপদেশে উপলব্ধি'', ''ধোঁয়াশা'', ''আড়াল'',সময়ের মুখোশ।
ই-মেইলঃ [email protected]
Friends
Nahar moyna
@moyna
ABDUL KADIM SHAHED
@abdulkadimshahed
জে এস এম অনিক
@00anik
মাজেদুল হক
@birohikobi
এফ. আর. মাহদী
@frmahedi
স্নিগ্ধ ধূম্রাক্ষর---
@subaiya-aymaan
হেমায়েত হোসেন হিমু
@himu68hgmail-com
মামুনুর রশিদ
@mamun01722525933gmail-com
তাহমিনা মোরশেদ
@rbtm796923t

