-
প্রথম টিউশনীর অভিজ্ঞতাঃ
************************
মু্ঁই আগোতে ম্যালা কয়বার কচুঁ যে, কারমাইকেল কলেজত ইন্টার থাকি অনার্স, মাস্টার্স তামান পাশ দিচুঁ। আর ছাত্র জেবণে লজিং থাকি, টিউশনী করি ন্যাকাপাড়া কচ্চুঁ।পোত্থম পোত্থম তো টিউশনী পাওঁনা দেকি কি কি কচ্চিনু তাকো তো শোনচেন। আইজ শোনো কওঁ মোর পোত্থম টিউশনীর অভিজ্ঞতা।
টিউশনী ঠিক করি দিচিল মোর এক বড়ভাই। শুরু করার আগোত বড়ভাই মোক কয়াও দিচিল, ছাত্র কিন্তুক য়্যানা বাঁন্দর টাইপের। এ যাবত ম্যালায় মাস্টার চেস্টা কচ্চে। শ্যাশোত টিউশনী ছাড়ি পালাইচে। শুনিয়্যা কনু, মোচ্চ্যায়াও বড় বান্দর ফির আচে! ওটাক মুঁই যেকোনো ভাবে টাইট দিম।
যাউক উল্যা গুদড়ী ফ্যাদলা না পাড়িয়্যা আসল কতা কওঁ। লজিং বাড়িত পড়াইলেও শহরের ছাত্র কোনোদিন পড়াঁও নাই। পোত্থম দিন য়্যানা আগে ভাগে গেনু। ছাত্রর মাও আসিয়্যা দুয়্যার খুলি মোক বসপ্যার দিয়্যা ছাত্রক পটে দেচে।
ছাত্র আসি মোক সালামালকি দিয়্যা বসিল। দেকি তো ভদ্রয় মনে হইল।
-তোর নাওঁ কি?
-স্যার মোন্নাওঁ ফটিক। কিন্তুক স্কুলের বন্দুগুল্যা মোক ফটকাবাজ কয়া ডাকায়।উয়্যার পোত্থম কতাতে বুজনু যেংকা চিন্ত্যা কচ্চিনু, সেংকা নোয়ায়। টাওনের চ্যাংড়া তো! ভালয় টাউট।
মুঁইও য়্যানা ভাব নিয়্যা কনু,-শুন ফটিক, মোর কিন্তুক খুব রাগ। মোর কতা হইল দিনের পড়া দিনোত করব্যা নাগবে। তোর ন্যাকান ম্যালায় ফটকাবাজক মুঁই সাইজ কচ্চুঁ।
চ্যাংড়া আর মোর মুকের প্যাকে দ্যাকপ্যার সাহস পাইল ন্যা। চিন্ত্যা কন্নু, ভাব ন্যাওয়াতে কাম হইচে।
চ্যাংড়া মোর প্যাকে না দেকিয়্যা কওচে,
-ত্যা একটা কতা, মুঁই তোমাক স্যার কইম না দুল্যাভাই কইম?
-দুল্যাভাই কবু মানে? মুঁই কি তোর দুল্যাভাই হওঁ না কি? য়্যাক্কে থাপড়ে তোর কানশাকা নাল করি দিম। মুঁই তোর স্কুলের বন্দু! মোর সাতে উল্যা ফটকাবাজী চলব্যান্ন্যায়।
-রাগ হন্না, রাগ হন্না। কয়দিন পরে তো দুল্যাভাই হইমেনে, মুঁই নাহায় য়্যানা আগ থাকি ডাকানু।
-দুল্যাভাই হইম মানে?
-স্যার, শোনো ত্যা হইলে কওঁ। মোর তিনট্যা বড় বইন। দুঁই ট্যার বিয়্যাও হইচে মোর আগের স্যারের ঘরে সাতে। আর একটা আচে। এটা হামার বাড়ির কালচার হয়া গেইচে পেরাইভেট মাস্টারোক দিয়্যা বিয়্যাও দ্যাওয়া। তাতে কোনো টাকা পাইস্যা খরচ হয় না।কতাটা মোর কজ্জ্যাত হক্কাৎ করি নাগিল। আগোত য়্যাংক্যা ম্যালায় কাহিনি শুনচুঁ। ত্যাওঁ মনে ফকটাবাজক য়্যানা বাজে দ্যাকোঁ।
-আচ্চা ফটিক, ঘটনা খুলি কওতো।
-স্যার হামার পরিবারের অবস্তা তো দ্যাকোয়চেন। মোর বাপ ছোট্ট য়্যাকটা চাকরী করে। তার তিন তিনট্যা বেটী। আইজ কাইল একটা বেটীর বিয়্যাও দেতে ম্যালা টাকা নাগে। মোর বাপ চিন্ত্যা করে তিনট্যা বেটীর বিয়্যাও ক্যাংকা করি দেবে। তার পাচে মোর মায়ের বুদ্দি শুনিয়্যা তোমার কলেজের ফাইন্যাল ইয়্যারের একটা চ্যাংড়াক মোর পড়ার তকন্যা মাস্টার ঠিক করিল। তার পরে ঐ স্যার যকন মোক পড়বার আসপ্যার ধরিল, মাওত্যায় খুব খাতির করব্যার ধরিল। পোত্ত্যেক দিন স্যারক চা নাস্তা খিল্যায়। কোনো সমস্যা হয় না কি তাক পুচ করে। মুঁই বাঁন্দারামী করোঁ না কি, সিগল্যা পুচ করে। আর মাজে মাজে মোর বড় বইন বেশ সাজুগুজু করি আসি চায়ের কাপ নিয়্যা যায়। য়্যাংক্যা কত্তে কত্তে স্যারের মোর বড় বইনেরও ভালয় খাতির হয়। তার পাচে মোর মায়ের পরিকল্পনা মতন একদিন মুঁই মুতপ্যার গেইলে মোর বড় বইন আসি পড়ার ঘরোত স্যান্দে হঁড়ক্যা (দরজার খিল) নাগে দেচে। মোর মাও আসি দুয়্যারোত ঢাক্কা-ঢাক্কি কচ্চে। পাড়ার মানুষ জড়ো হইচে। সব্বাঁয় এই ঘটনা দেকি কওচে, ওমার বিয়্যাও পড়ে দ্যাও।
স্যার ব্যাচরার তকন্যা হায়রে কাঁন্দন। কান্দিয়্যাও কোনো লাব হয় নাই। শ্যাষ ম্যাষ বিয়্যাও করায় নাগচে। য়্যালা অবশ্য ওমরা ভালয় আচে।য়্যাংক্যা করিয়্যায় মোর দুইট্যা বইনের বিয়্যাও দেচে। আর তিন নম্বরটার তকন্যা তোমাক পচন্দ কচ্চে।
ছাত্রর মুকোত য়্যাগলৗা কতা শুনিয়্যা মোর তো অবস্তা খারাপ। কপাল থাকি টপাস টপাস করি ঘামের ফোটা পড়ব্যার ধরিল। মন্টায় কওচে এলায় পালাওঁ, কিন্তুক সব্ব শরিল ঘামব্যার ধরিল মন্টায় কওচে কাঁচা গুয়্যাদি পান খ্যায়া ঘুম নাগচে।
মোর এই অবস্তায় ফটিক ফির কওচে,
-স্যার, আর য়্যানা পরে মোর অই বইনট্যা চা দিব্যার ছলে তোমাক দ্যাপ্যার আসপে, কিন্তুক।মুঁই কিচু বুজি উটপ্যার আগোতে, দ্যাকোঁতা খাটো করি মোটা গাঁটিয়্যা একটা চেংড়ি চা হাতত নিয়্যা এইপ্যাকে আইসোচে। ত্যালকম পাউট্যাল দিয়্যা মুকখ্যান ধলা বানাইচে আর ওঁটোত ধ্যাদড়া করি লেবেস্টিক দেচে। দেকি য়্যাক্কেব্যারে বিচ্ছিরি নাগোচে।
ফটিক মাতা তলাপাকে করি ফিসফিস করি মোক কওচে,
-অই যে, স্যার আইসোচে মোর বইন তোমাক দ্যাকপ্যা তকন্যা। এই বইনট্যায় আচে, যাক দিয়্যা তোমার বিয়্যাও দ্যাওয়া হইবে।মোর তো অবস্তা বোজোয়চেন। মনে হওচে মোর ঠ্যাংগের তল থাকি তামান মাটি সারি যাওচে। জোরে করি একটা চেকরোন দিনু,
-না————-।
তারপাচে আর কি হইল কিচ্চু ফমে নাই।তারপাচে যকন মোর জ্ঞান ফিরিল, দ্যাকোঁত ছাত্রটার মাও মোর মাতাত পানি ঢালোচে আর উয়্যার বাপ মোর হাত-পাঁয়ের তালাত ত্যাল মালিশ করোচে।এমার যত্তন খাতির দেকি ফির মোর ফটিকের কতা ফমে হইলে, হাঁউমাউ করি কাঁন্দি উটিয়্যা ছাত্রর মায়ের ঠ্যাং দুখ্যান জড়ে ধন্নু আর কনু,
-মোক মাপ করি দ্যাও। মুঁই বিয়্যাও করব্যার পারব্যান্ন্যাওঁ। মোর মায়ের ম্যালা আশা মুঁই ল্যাকাপড়া শ্যাষ করি চাকরি করিম। তাছাড়া মোর মায়ের হাউস ওমার ভাইয়ের বেটিক আনবে। মোর মায়ের স্বপ্ন ভাংগেন না।-আরে বাবা তুমি আমার পা ছাড়ো। আর বিয়ে করবে না মানে কি?
-মোক মাপ করি দ্যাও। মুঁই তোমার বেটিক বিয়্যাও করব্যার পাবান্ন্যাওঁ।এবার তো ছাত্রর মাও চংকি গ্যালো। তারপাচে গামচা দিয়্যা মোর মাতাটা মোচে দিয়্যা ছোপাত বসে কওচে,
– কে বলছে তোমাকে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে? আমার তো কোনো মেয়েই নেই। আমার তো একটা মাত্র ছেলে।
-তাইলে ঐ মেয়েটা কে?
-ও রত্না। ছোট বেলায় ওর বাবা-মা মারা গেছে। আমাদের বাসাতেই কাজ করে, খায় থাকে।এই কতা শুন্যার পরে মোর য়্যানা জ্ঞান আইলে পুচ কন্নু,
-ফটিক কোন্টে?
-ফটিক! ফটিক আবার কে?
-আপনার ছেলে, অই ফটকাবাজটা!
-আমার ছেলের নাম তো নয়ন। আর তুমি অজ্ঞান হবার পর অয়ন যেন কোথায় গেল।মোর মাতাটা তকনও ঝিম নাগি আচে। এই পিচ্চির গোড়ত আইজ ধরা খানু। কি টাউট রে বাবা! এই ছাত্রক পড়ার সাধ্য মোর নাই।
এগল্যা সাত-পাঁচ চিন্ত্যা কত্তে কত্তে, ছাত্রর মাও কইল,
-বাবা, তোমার শরীর টা মনে হয় আজকে ভাল নেই। আজকে আর পড়াতে হবেনা। তুমি যাও, আজকে রেস্ট করো গিয়ে।ঘাঁটাত ব্যারে হাঁটো আর চিন্ত্যা করোঁ, মোর বন্দু মহলের সব্বাঁয় জানে মুঁই চালাক। আর আইজ সেই মুঁই পিচ্চি একটা চ্যাংড়ার গোড়ত ন্যাকানী চুব্যানী খানুঁ। পেরাইভেট আর না জোটলেও অই চ্যাংড়াক আর পড়বার যাবান্ন্যাওঁ।
উয়্যাক না পড়াইলেও পরে ম্যালা ছাত্র-ছাত্রী পড়াচুঁ। তবে কোনো ছাত্রী পাত্রী হবার সুজুক পায় নাই। অনেকের হইচে। সিগল্যা ফির ম্যালা কতা। থাউক আরেকদিন কইম।
6 Comments
Friends
Risvy Ahmed
@risvy
Jubayer Al Mahmud
@jubayer
MD.RAKIB HASAN ONTO
@rhonto27
Nipun Chandra
@nipunch
Shohel Nawaz
@shohel-nawaz
Himadrika Jahan Shuvra
@himadrika-jahan-shuvra
স্মৃতি রানী রত্না
@srratna1990
আব্দুল্লাহ
@g-m-abdulah
ভাস্কর
@vaskarchou


অঞ্চলিক উচ্চারণ ভঙ্গি সাহত্যে আনলে ভালো। কিন্তু ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে।