-
কম দামি রবিন
রুনুকে তার বড় বোন ঝুনু এক কাপ চা হাতে দিয়ে দুলাভাইকে দিয়ে আসতে বললো।
আপা তুমি দিয়ে এসো না। রুনু জানে এসব কথা বলা যাবেনা। স্বামীকে তার স্ত্রী এক কাপ চা দিয়ে আসবে তা না। অলস আপাটা তাকে দিয়েই চা পাঠাবে।রুনু দুলাভাইয়ের টেবিলের উপর হাসিমুখে চা টা রাখে। দুলাভাই বই থেকে মুখ তোলে না।
দুলাভাই কী পারতো না তাকে ধন্যবাদ জাতীয় কিছু একটা বলতে!বোনের স্বামীকে একদম পছন্দ করে না রুনু। তার বোনটা আহ্লাদী আর স্বার্থপর। স্বামীটাও সেকেলে সারাক্ষণ বই পড়ছে। দুলাভাইয়ের কোন মহত্ব বা বিশেষত্ব তার এখনো চোখে পড়েনি। রুনু আবার সাধারণ মানুষ দেখতে পারেনা। সারাক্ষণ ডাক্তারি বই পড়া দুলাভাইকে অনেক বাজার দর দিয়েই কিনতে হয়েছে তারা বাপকে। ব্যাপারটা হচ্ছে জুতার দোকানে যাও। কম্ফের্টবল, রিজেনবল, স্টাইলিশ ও সিম্পল ইত্যাদি দেখে জুতা কেন তারপর সেটা বাসায় এনে কিছুদিন পরে হাটাহাটি করো যাতে একবারে জুতাটা পরলে পায়ে ফোস্কা না পরে। তারপর আবার জুতাটা পরে খুশি মনে হেটে বেড়াও।
তার বোন ডাক্তার স্বামী পেয়ে মহা খুশি। সারাক্ষণ তোর দুলাভাই তোর দুলাভাই করছে। চোখে মুখে খুশি উপচে উপচে পড়ছে। রুনু মুখে কিছু বলছে না। কিন্তু সে বোন আর দুলাভাই কাউকেই সহ্য করতে পারছে না। রবিনকে দেখ-না দেখায় সে দাম, না আছে হামবড়াই। মুখে সারাক্ষণ হাসি লেগে আছে। সবার বিপদে ঝাপিয়ে পড়ে। সারাক্ষণ জোক বলে। কেয়ার করা কাকে বলে তা জানে রবিন। এই হাসিখুশি সদা আনন্দে থাকা ছেলেটির বাজার দর কেন কম হবে? কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগে পড়া ছেলেটি সমাজে দাম পাবেনা। সমাজ কেন ডাক্তার ছেলেকে মাথায় করে রাখবে? রুনুর মেজাজটাই খারাপ হয়ে যায়। আর বাবা মাকে যদি বলে আমি রবিনকে বিয়ে করব। বাবা একটা ঝামেলা বাধাবেই বাধাবে। বাবা বেশি টাকা খরচ করে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে বিয়ে দিতে পারলেই বেশি খুশি।
এসব ভাবলেই রুনুর রাগ ধরে যায়। রাগ কমাতেই সে নিজের আসন্ন সংসার নিয়ে ভাবতে শুরু করে। কীভাবে ঘর সাজাবে সেসব ভাবে। তার ঘরে ফার্নিচার কম থাকবে। বেশি বেশি গাছ লাগাবে সে। একটা খাট, একটা শেল্ফ, আর দুইটা টেবিল ছাড়া আর কিছুই থাকবে না তার ঘরে। রবিন আবার অল্প সল্প ছবি আকে। ওইসব ছবিই সে ঘরে বাধিয়ে রাখবে।
আসন্ন সংসারের চিন্তায় বিভোর রুনু চারদিকে কী আন্দোলন, বিক্ষোভ চলছে তেমন একটা খোঁজ রাখেনি। রাজনীতি অসচেতন রুনু কখনো খুব একটা সংবাদপত্র পড়ে না। সবেই তার অনার্স ফাইনাল শেষ। বাড়িতে তার বিয়ের কথা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎই আন্দোলন তুংগে উঠে। সেও দুই একদিন যায় বিক্ষোভে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন-বিক্ষোভ নতুন কিছু না। আসন্ন বিয়ের চিন্তায় বিভোর রুনু কখনো ভাবেনি এই আন্দোলনেই রবিন মারা যাবে। এই বাজারে কম দামি রবিনের রক্তে এই দেশে আবার স্বাধীনতা আসবে কখনো ভাবেনি রুনু!
1 Comment
Friends
Rokter Sagor
@roktersagor
Promit Chowdhury
@promitchowdhury
Mahmudul Hasan
@mahmudulhasan1
Emran Hasan Najmul
@emranhasannajmul
Arif
@arif1
Dipankar Shuva
@dipu42dramagmail-com
Maizbhandari Sufi Academy
@maizbhandarisufiacademy
Sharmin
@sharmin1
Zahidul Islam Roni
@roni03



তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 16 September 2024 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!