-
ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর
পার্থসারথি
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব-২৩
কিন্তু আমি তো একজন মানুষ। নিজস্ব একটা জগত নিশ্চয়ই থাকবে। এবং এর পেছনে আবেগ-ভালোবাসা জড়িয়ে থাকাটাই স্বাভাবিক। আর না পাওয়ার একটা দুঃখ প্রত্যেকের থাকে আমারও থাকাটা স্বাভাবিক। তুমি সুখে থেকো এতে আমি কখনও বাদ সাধবো না। শুধু আমাকে আমার মত থাকতে দাও প্লিজ!- বলতে বলতে সৈকত বেশ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে, কন্ঠস্বরটা বেশ ভারি হয়ে আসে।
পারমিতা হাত জোড় করে বলে- তুমি আমাকে ক্ষমা করো সৈকত। তোমার আশীর্বাদ ছাড়া আমি বাঁচতে চাই না।- বলেই পারমিতা সৈকতের হাত জড়িয়ে ধরে এবং চোখে চোখ রাখে।
সৈকত পারমিতার হাতে হাত রেখে বলে- ছি! পারমিতা, আমি কি তোমাকে অভিশাপ দিতে পারি? আমি তোমাকে ভালোবাসি, খুব খুব ভালোবাসি। তুমি যদি বলো, সাত আসমান পেরিয়েও তোমাকে আমি রাশি রাশি তারা ছিনিয়ে এনে দিতে পারি। আমি কি কোনদিন তোমার অমঙ্গল চাইতে পারি? তোমাকে ছাড়া আমি নিজেকে আর ভাবতেই পারছি না।
তাহলে নিজেকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছ কেন?- পারমিতা অভিমানভরা কন্ঠে বলে।
সৈকত আর কথা বাড়ায় না। চুপচাপ বসে আছে। দু’জনই চুপচাপ। কষ্টের নীল আকাশে একলা একলা উড়ে বেড়াচ্ছে ভালোবাসার দুটো পাখি। দু’জনের দু’রকম কষ্ট; তবে দু’জনই কষ্টের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। পারমিতা দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে সৈকতের দিকে অসহায় দৃষ্টি নিয়ে তাকায়। কিন্ত সৈকত ইচ্ছে করেই দৃষ্টিতে আটকাচ্ছে না। দৃষ্টি জোড়া চড়ুই পাখির বাসায় যেন স্থির হয়ে আছে।
তোমার ক্লাস শুরু হয়েছে এক সপ্তাহ হল। অথচ একদিনও যাওনি।- পারমিতা অভিযোগ করে বলে।
ইচ্ছে হয় না, যাই না।- না তাকিয়েই সৈকত কথাগুলো বলে।
তোমাকে অনুরোধ করছি, এভাবে নিজেকে কষ্ট দিও না। আর ক্লাসগুলো অন্তত ঠিকভাবে করো।
না করতে গেলেই অনেক কথা বাড়বে এই ভেবে সৈকত বলে- হ্যাঁ, ক্লাস করবো।
আজ ক্লাস নেই?
রুটিন জানা নেই।
তাহলে ক্যাম্পাসে চল।
একটু কাজ আছে। এখন ক্যাম্পাসে যাব না।
ক্যাম্পাস হয়েই চলে যেও। তোমাকে বেশিক্ষণের জন্য আটকাবো না।
সৈকত কোন কথা বলে না। উঠে গিয়ে আলনার আড়ালে যায়। পারমিতা মিটিমিটি হাসে। আলনার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে কেডস জোড়া তুলে নেয়। ফিতা আটকাতে আটকাতে বলে- তুমি আমার রুমে আর এসো না, দরকার হলে খবর দিও।
পারমিতা কোন কথা বলে না। তাকিয়ে তাকিয়ে শুধু সৈকতকে নীরবে দেখেই যাচ্ছে। এই ক’দিনে চেহারাটা কেমন মলিন হয়ে গেছে। দেখলেই বুঝা যাচ্ছে ভীষণ কষ্টের ভেতর সময় কাটাচ্ছে। কষ্টের দীর্ঘশ্বাস বুকের গভীর থেকে বেরিয়ে আসে। কোনমতে নিজেকে সামলে নেয় পারমিতা।
নীরবতা ভেঙে সৈকত বলে- চলো।
সিঁড়ি বেয়ে দু’জন নেমে আসে। সৈকত হালকা নাস্তা করে। পারমিতা শুধু এককাপ চা খেল। চায়ে শেষ চুমুক দিয়ে সৈকত সিগারেট ধরায়। পারমিতা শুধু তাকিয়ে থাকে। সৈকত বুঝতে পেরে দৃষ্টি অন্যত্র ঘুরিয়ে আপন মনে সিগারেটে দিল এক লম্বা টান।
রিকশায় বসে পারমিতা সৈকতের জন্য জায়গা ছেড়ে বলে- উঠে এসো।
সৈকত কোন কথা না বলে রিকশার হুডটা টেনে দেয়।
পারমিতা বলে- আবার কবে দেখা হচ্ছে?
দেখা হবে।- সৈকত অনির্দিষ্টভাবে বলে।
রিকশা চলতে শুরু করতেই সৈকত অন্য রিকশার জন্য ব্যস্ত হয়। পারমিতা পেছন ফিরে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু সৈকত একবারও তাকায়নি। সৈকতের রিকশাটা উল্টোদিকে রওনা হয়। দুজনার দূরত্ব ক্রমশ বাড়তে বাড়তে দৃষ্টিসীমা ছাড়িয়ে যায়। কষ্টের নিঃশ্বাস ফেলে পারমিতা দৃষ্টি ফিরিয়ে স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করে।
একটা সিগারেট শেষ করেই সৈকত আরেকটা সিগারেট ধরাল। মনের ভেতরটা পাগলা হাওয়ায় যেন তোলপাড় করে চলছে। কোন কিছুতেই মনটাকে শান্ত করতে পারছে না। পারমিতাকে ঘিরে স্বপ্নের ভুবনটা ভেঙে যাবার পর অন্যরকম একটা জগত তৈরি করে নিয়েছে সৈকত। অবশ্য পারমিতাকে মনের আঙিনা থেকে দূরে রাখা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। পারমিতাকে যতই দূরে ঠেলে রাখে ওর প্রতিচ্ছবি ততই আঁকড়ে ধরে জড়িয়ে থাকে। ইদানীং পারমিতার প্রভাব কিছুটা হালকা হলেও ঝাপসা হয়ে এসেছিল প্রায়। কিন্তু আজ পারমিতা নিজে এসে উপস্থিত হওয়াতে সৈকতের রূপান্তরটা টেকেনি। বালির বাঁধের মত ভেঙে গিয়ে যা ছিল তাই হল । পারমিতা রুমে আসার পর সৈকত ইচ্ছে করেই বাজে ব্যবহার করেেছ। সৈকত জেনেছে এবং বোঝার চেষ্টা করেছে যে, পারমিতা নিরূপায় ছিল। সৈকতের কথা, পারমিতা ইচ্ছে করলেই সবকিছু ডিঙিয়ে আসতে পারত। অবশ্য মানবিক ব্যাপারটা জড়িয়ে থাকতো সৈকত কোন কিছু বলার সুযোগ বা সাহস পায়নি।
সৈকত মনে মনে ঠিক করে রেখেছে, পারমিতার সাথে ভালো ব্যবহার করা চলবে না। এতে করে পারমিতা কাছে আসবে বারবার। আর কাছে আসা মানে মনের যন্ত্রনা আরও বাড়বে। পারমিতার সাথে বাজে ব্যবহার করতেও কষ্ট হয়। এর চেয়ে ভালো দূরে দূরে থাকা।
রুচিরার সাথেও সৈকতের অনেকদিন হল যোগাযোগ নেই। নেই নয়, সৈকত ইচ্ছে করেই নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে। রুচিরার সাথে দেখা হলেই বুঝিয়ে-সুঝিয়ে অনেক কথা বলবে। রুচিরাকে সৈকত অন্যরকম মূল্যায়ন করে। রুচিরা কোন কথা বললে আর সেই কথা সৈকত ফেলতে পারে না। ক্যাম্পাসে সৈকত রুচিরার মুখোমুখি প্রায় হয়ে গিয়েছিল বেশ ক’বার। সৈকত দেখেও না দেখার ভান করে একটু কেটে চলে এসেছে। একটু দূরে এসে সৈকত আবার ফিরে তাকিয়ে দেখে রুচিদিকে। সৈকতের খুব কষ্ট হয় রুচিদির সাথে কথা বলতে না পারায়। রুচিদি আপন ভুবনে ডুবে ডুবে হেঁটে চলে। কিছু কষ্ট নিয়ে সৈকত রুচিদির চলে যাওয়া দেখে।
রিকশাটা নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি পেরিয়ে ডানদিকে মোড় নিল। কাঁটাবনের দিকে এগিয়ে চলছে। সৈকত ভাবছে আর আপন মনে সিগারেট টান দিয়ে যাচ্ছে। বেশ কিছুদূর এগোনোর পর রিকশাওয়ালাকে থামতে বলল।
রিকশা ভাড়া না মিটিয়ে সৈকত বলল- একটু দাঁড়ান আমি এখনই চলে আসবো।- এই বলে সৈকত একটা পানের দোকানের দিকে এগিয়ে গেল। তারপর নিচুস্বরে কিছু কথা বলল দোকানদারের সাথে। বিশটা টাকা ধরিয়ে দিতেই দোকানদার দুটো পুরিয়া দিল সৈকতকে। পুরিয়া দুটো পকেটে রাখতে রাখতে সৈকত চারপাশে দৃষ্টি বুলিয়ে নিল। মনের অজান্তেই ভয়েরা উঁকি মারে। তাড়াহুড়া করে সৈকত রিকশায় চেপে বসল। রিকশায় বসেই সৈকত রিকশাওয়ালাকে বলল- টিএসসিতে যান।
চলবে…♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
N.B: If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.1 Comment
Friends
Ashaduzzaman-Khokon
@ashaduzzaman-khokon
D K MAHANTA
@dkmahanta01718942602
রাহুল চন্দ্র দাস
@rahulchandradas13011994gmail-com
আব্দুল মজিদ মারুফ
@abdulmojid
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
Diponkar Bhowmik Antu
@diponkar
Nilufar Ghani
@nilufar-ghani
Israt Lamia
@israt-lamia
Dhali Moin
@dhali-moin


ঠিক