Profile Photo

Al Amin LimonOffline

  • limon88
আজ ২রা জানুয়ারি ! মাহিনের জীবনে বলতে গেলে সবচাইতে স্পেশাল একটা দিন । এদিন মাহিনের জীবনে সবচাইতে আবেগঘন মুহূর্তটি ঘটে । এদিন তানিশার সাথে প্রথম ঘুরতে যাওয়া , তাঁকে একান্তে কিছু সময় কাছে পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিলো মাহিনের । যতোটা আনন্দের ছিলো দিনটা তার চাইতেও অনেক বেশী কষ্টের ছিলো সেদিনের অনুভুতিগুলো ! সকাল বেলা তানিশা ফোন করে মাহিন কে জানায় তার খুব মন খারাপ ! কিছুতেই তার ভালো লাগছেনা । এদিকে মাহিন সারারাত ঘুমোতে পারেনি।
জ্বরের ঘোরে ছটফট করতে করতে ভোঁর রাতের দিকে একটু ঘুম পেয়েছিলো মাহিনের । মাহিনের ঘুম ভাঙ্গে তানিশার ফোনে । তানিশা যখন মাহিন কে বললো যে সে মাহিনের সাথে আজকে সারাদিন ঘুরবে , মাহিনের তখন মনে হয়েছিলো সে যেন স্বপ্ন দেখছে ! হাতে চিমটি কেটে দেখলো মাহিন , না ! এটা স্বপ্ন না, বাস্তব ! মাহিনের এতো আনন্দ হচ্ছিলো যে; ওর গায়ে যে ১০৩ ডিগ্রী জ্বর আছে সেটাই ভুলে গিয়েছে । তড়িঘড়ি করে তৈরি হয়ে মাহিন বের হয়ে পড়ে । মনে মনে মাহিন ভাবতে থাকে এবার বুঝি তানিশা সত্যি সত্যি তার ভালোবাসা বুঝতে পেরেছে , তাই হয়তো মাহিন কে আলাদা করে একান্তে একটু বুঝে নিতে চাইছে । মনে মনে সে ঠিক করে ফেলে আজকে তানিশাকে সাথে নিয়ে রিকশায় করে অনেক ঘুরবে । তানিশার খোলা চুল বাতাসের দোলায় ঠিকরে এসে মাহিনের মুখের উপর পড়বে , আর মাহিন সেই চুলের গন্ধ শুকে অদ্ভুত এক ভালোলাগার মাঝে নিজেকে হারাবে । অনুভুতিগুলো কল্পনা করতেই যেন মাহিনের শরীরে ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ খেলে গেলো ! অদ্ভুত এক সুখাভুনুতি মাহিনের মনটাকে ভরিয়ে দিলো ।

সকাল ১১ টা ! মাহিন অপেক্ষা করছে তানিশার জন্য ! সে তানিশাকে বলেছে শাড়ি পড়ে আসার জন্য । সাদা পেরে নীল শাড়ি ! অনেক পছন্দের রং মাহিনের । ভীষণ ভালবাসে মাহিন এই রঙটাকে । একটু সামনে তাকাতেই মাহিন লক্ষ করলো তানিশা আসছে , রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছে সে । কিন্তু তানিশার গায়ে সেই নীল শাড়ি কোথায় ?? মুহূর্তেই মাহিন একটা ধাক্কা খেলো মনে । তানিশা সামনে এসে হাই বললে , মাহিন উত্তর করলো তোমার শাড়ি কোথায় ? বলেছিলাম শাড়ি পড়ে আসতে , আসলেনা যে ? তানিশা বললো শাড়ি পড়ে আসলে বাসায় সন্দেহ করতো তাই শাড়ি পড়েনি ও । মাহিন কষ্ট পেলেও, মনে মনে বললো ও তো এসেছে , তাতেই অনেক পাওয়া ! তখনো মাহিন জানেনা যে তার কল্পনার রংগুলো এখান থেকেই ফিকে হতে শুরু করেছে । মাহিন বলল, চল তাহলে রিকশা ডাকি ! রিকশায় উঠে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে কোথায় যাবো ? তানিশা বলল, না না ! রিকশায় উঠা যাবেনা কেউ দেখে ফেলতে পারে ! আবারো একটা ধাক্কা খেয়ে মাহিন নিজেকে সামলে নিয়ে বলল তাহলে একটা সি এন জি নেয়া যাক ! তানিশা বলল হ্যাঁ তাই ভালো ! অতঃপর ওরা একটা সি এন জি ডাকল । সি এন জি তে বসেই মাহিন তানিশাকে জিজ্ঞাসা করলো কোথায় যাবে ? তানিশা ঠিক স্থির করতে পারছিলোনা কি বলবে ? ও বলল- খুব নৌকায় চরতে ইচ্ছে করছে । তাই মাহিন ঠিক করলো ওরা বেড়িবাঁধের দিকে যাবে । প্রথমে মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাবে তারপর ওখান থেকে ভেতর দিয়ে বেড়িবাঁধে পৌঁছুবে । মাহিন সি এন জি কে বলল বোটানিক্যাল গার্ডেনের দিকে যেতে । ওদের সি এন জি চলতে শুরু করেছে । দুটো মানুষ সি এন জির ভেতোর দুদিকে মুখ করে বসে আছে । কারো মুখে কোন কথা নেই ! একটু পর মাহিন নিজেই কথা বলা শুরু করলো ।
তোমার মন খারাপের কারণটা কি জানতে পারি ? তানিশা কোন কথা বলছেনা , চুপ করে বসে আছে ! কি হলো ? কথা বলছো না যে ? তানিশা বলল না কিছুনা এমনি ! গাড়ি থেকে নেমে কথা বলি ? মাহিন চুপ করে গেলো । তানিশার মুখটা কেমন স্তব্ধ পাথর হয়ে আছে । মাহিন লক্ষ করলো তানিশা গাড়ির ভেতোর এক কোনে চুপটি করে বসে আছে যাতে মাহিনের গায়ের সাথে গা না লাগে ! মাহিনের মনে হচ্ছিলো তানিশাকে তার বাহুতে আবদ্ধ করে সান্ত্বনা দিয়ে বলে “ এই পৃথিবীতে শুধু আমি তোমাকেই ভালবাসি এবং আমি আমার ভালোবাসাকে আগলে রাখবো সারাজীবন এমনি করে , সমস্ত দুঃখ কষ্টের থাবা থেকে । কিন্তু উচাটন মন আর বিবেক কখনোই এক কথা বলেনা ! মাহিন জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রাস্তার মানুষের ছোটাছুটি দেখছে । সবাই কি ব্যাস্ত !

আচমকা মাহিনের গাড়ি হার্ড ব্রেক কশার কারনে পুরো গাড়িটা দুলে উঠলো । মাহিন সম্বিৎ ফিরে পেলো । নিজেকে নিজেই ধিক্কার দিলো সে । কি সব ফালতু অতীত নিয়ে ভাবছে সে ! যার কোন মূল্যই নেই তানিশার কাছে । আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পড়েই তানিশা অন্য কারো ঘরে বউ হয়ে চিরদিনের মতো পর হয়ে চলে যাবে । মাহিন যতোটাই না তানিশাকে ভালবাসুক তার ছিটেফোঁটাও যদি তানিশা মাহিন কে ভালোবাসতো তাহলে মাহিন আজকের এই দিনে অন্তত নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারতোনা । ভাগ্য কখনোই মাহিনের সাথে থাকেনি । শুধু কষ্ট আর যন্ত্রনাই উপহার দিয়েছে । কিন্তু মাহিন যে তানিশাকে অনেক অনেক বেশী ভালবাসে ! নিজের জীবনের চাইতেও বেশী । তানিশার স্মৃতির মায়াজাল থেকে পালাতে গিয়ে কখন যে নিজেই সেই স্মৃতির জালে আটকে গিয়েছিলো, বুঝতেই পারেনি । প্রায় ঘণ্টা খানিকের মধ্যে মাহিনের বাস কক্সবাজার শহরে পৌঁছে গেলো । ঘটনাক্রমে আজকেও ২রা জানুয়ারি তারিখ ! মাহিন বাস থেকে নেমেই সোজা চলে গেলো হিমছড়ি পাহাড়ের দিকে । সন্ধ্যা প্রায় হয়ে এসেছে । মাহিন পাহাড়ের উপর উঠে এলো ! এখান থেকে সমুদ্রটাকে ভালো করে দেখা যাবে । মাহিন পাহাড়ের উপর দাড়িয়ে সমুদ্রের দিকে হাত বাড়িয়ে তার ঢেউ ছোঁয়ার চেষ্টা করছে । আকাশে আজ বোধহয় পূর্ণিমা ! মাহিন খেয়ালই করেনি । চাঁদের আলোয় সবকিছু কেমন যেন রুপোলী ছবির মতো লাগছে । মাহিন হঠাৎ দেখলো তার সামনে কিছু দূরে তানিশা দারিয়ে আছে ! একদম বউ সেজে এসেছে ও ! দু হাত বাড়িয়ে মাহিন কে কাছে ডাকছে । মাহিন পাগলপ্রায় হয়ে তানিশার হাত ছোবার চেষ্টায় সামনে এগিয়ে যেতে থাকলো । কি একটা অদ্ভুত শক্তি যেন মাহিন কে ঝটকা মেরে গড়িয়ে নিচের দিকে নামাতে থাকে ! মাহিনের দু চোখ এবার আকাশের দিকে তাক হয়ে আছে ! মাহিনের প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে , চারিদিকের রুপোলী জোছনার আলো যেন ক্রমেই অমাবস্যার কালো অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে । মাহিনের কানে শুধুই তানিশার গলার আওয়াজ “ উঠো মাহিন, উঠে পড়, নৌকা চলে যাচ্ছে” ।

Al Amin Limon

Skip to toolbar