-
আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)
“পাঁচ”
একতলার সিড়ি ঘরের মাঝখানে পাতা চেয়ারগুলোয় গোল হয়ে বসে আছে আইসোটেক টিমের সদস্যরা। তাদের মাঝে চাপা ফিসফাস। পাশেই তদন্তকারী অফিসার ইন্সপেক্টর শামিম উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে সিড়ির দিকে। কন্সটেবল এসে জানালো শিরিন আজ দুপুরের পরেই বাসায় চলে গেছে।শামীম সাহেব এবার নিজেই চলে গেলেন তিন তলায়, বাড়ির মালিক রাশেদ সাহেবের ফ্ল্যাটে। দরজা খুললেন রাশেদ সাহেবের স্ত্রী, হাফিজা বেগম।
প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন, “হ্যাঁ, শিরিন আমার কাজের মেয়ে। কিন্তু, আজ এত বড় একটা ঘটনা ঘটার পর সে বেশ মুষরে পড়ে। লিনার অস্বাভাবিক খুনটা সে মেনে নিতে পারেনি। তাই অসুস্থতা ফীল করে। বাথরুমে যেয়ে কয়েকবার বমিও করে। তাই আমিই বাসায় চলে যেতে বলি। ”
“তার বাসা কোথায় জানেন?”
“না। শুনেছি মিরপুরের কড়াইল বস্তিতে থাকে।”
“তার কোন মোবাইল নাম্বার আছে?”
“না স্যার। অনেকদিনের পুরনো কাজের মেয়ে। কোনদিন কাজে ফাঁকি দেয় নাই। তবে খুব জরুরী ব্যপার হলে বা কোনদিন অসুস্থ থাকলে তার ভাইয়ের নাম্বার থেকে কল দিয়ে জানিয়ে দিত।”
“ওর ভাই কি রাজু?”
“জ্বী স্যার?”
“ও যে আজ দুপুরে শিরিনের সাথে দেখা করতে এখানে এসেছিল, সেটা কি আপনি জানেন?”
“কই নাতো!” বাড়িওয়ালী বেশ অবাক হলেন। “তবে খুনের ঘটনার কিছুক্ষণ আগে শিরিন বাইরে গিয়েছিল। বলেছিল লিনাদের বাসায় যাবে। তারপর ওই তো এসে খবর দিল, লিনা খুন হয়েছে।”
ইন্সপেক্টর শামিম অবাক হলেন। জানতে চাইলেন, “শিরিন কেন লিনাদের বাসায় যাবে? ও না আপনাদের কাজের মেয়ে!”
“স্যার লিনার মা মাঝে মাঝে ওকে ডেকে পাঠাতো। ওদের কাপড় ছাদে শুকোতে দেওয়া, বাসার টুকটাক কাজ করে দেওয়া বা ময়লা বাইরে ফেলে দেওয়ার কাজটাও মাঝে মাঝে করে দিত।”
“কাজের মেয়ে আপনাদের, তাহলে ওদের কাজ করে দিত কেন?”
“আসলে লিনা’রা আমাদের অনেক পুরনো ভাড়াটিয়া। ওদের বাবা মারা গেছে এই বাসাতেই, তাও সাত বছর আগে। উনার রেখে যাওয়া টাকাতেই অনেক কষ্টে-সৃষ্টে ওদের সংসার চলে। কিন্তু, বুয়া রাখার মত অবস্থা এখন আর ওদের নেই। এদিকে শিরিনও আমার পুরনো কাজের মেয়ে। তাই আমার অনুমতি নিয়েই ও মাঝে মাঝে লিনাদের কাজ করে দেয়।”
“হুমম, বুঝেছি। আপনার কাছে রাজুর নাম্বার আছে নিশ্চয়ই। ওটা যদি কাইন্ডলি দিতেন।”
“একটু ওয়েট করুন স্যার। আমি মোবাইলটা নিয়ে আসছি।” হাফিজা বেগম ভেতরে গেলেন।
নাম্বারটা মোবাইলে টুকেই কল দিলেন শামিম সাহেব। বন্ধ পাওয়া গেল। তখনি থানায় ফোন করে রাজুর শেষ অবস্থান সনাক্ত করতে বললেন।
তদন্তকারী অফিসার নিচে নেমে এসে আবার সায়মা রহমানের সঙ্গে কথা বললেন। সায়মা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, “শিরিন মাঝে মাঝে আসত, কিন্তু খুব একটা কথা বলত না। একরকম চুপচাপ। তবে খুনের তিন দিন আগে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল।”
“কি রকম?”
“একদিন দুপুরে দেখি, শিরিন আমার মেয়ের রুমের পায়ের কাছে বসে আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কি হয়েছে?’ ও কিছু না বলে সাথে সাথে উঠে দাঁড়িয়ে চলে গেল।
পরে লিনাকে জিজ্ঞেস করায় বলে, “জানিনা মা। মনে হয় কিছু একটা বলতে চেয়েছিল। কিন্তু, তোমাকে দেখে না বলেই চলে গেল।” আমি খেয়াল করেছি, আমার মেয়ের চোখে তখন কিছু একটা ছিল, কেমন যেন ভয়? কিংবা ঘৃণা? আমি ঠিক বুঝতে পারিনি। যদিও পরে আমি তাকে এ বিষয়ে কোন চাপাচাপি করিনি।”
শামিম সাহেব বুঝে গেলেন, শিরিনও এখানে সন্দেহভাজন হয়ে উঠেছে। এমনি সময় ফোনটা বেজে উঠলো তার।
“স্যার রাজুর অবস্থান সনাক্ত করা গেছে।” মোবাইলটা কানে ঠেকাতেই শুনতে পেলেন।
(চলবে)6 Comments
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন
ডিজাইনার
স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
Friends
জুলহাজ আলী জীবন
@julhaj
মোঃ মাহফুজুর রহমান
@nnxnsnmfkfkkgmail-com
পিপীলিকা
@abujubair
কাশফিয়া নাহিয়ান
@kashfianahian
জিসান মাহমুদুল হাসান
@mxesun
Md fujal Hossen
@mdfujalhossen
shewly khatun
@shewlykhatun
আরাফাত আল মেহেদী
@arafat76
Hossain Muhammad Anwar
@hossainmuhammadanwar


শব্দের মায়ায় রহস্যের এক জাল…..🤍