Profile Photo

বিষণ্ন সুমনOffline

  • logolabbd
  • Profile picture of বিষণ্ন সুমন

    বিষণ্ন সুমন

    3 months, 1 week ago

    ভান করেই না হয় থাকি

    ইদানীং কেউ কেউ সত্যের মত করে মিথ্যে বলে।
    মুখচোরা আমি বুঝতে পারলেও কিছু বলতে পারি না।

    ছোটবেলায় রুপকথার দঁতাল দৈত্য দানোর কথা শুনে খুব ভয় পেতাম।
    রাতের বেলা ঘুমুতে পারতাম না মোটেই।

    এখন ঘুমুতে পারি ঠিক
    কিন্তু রাতের ভয়টা কাটেনি এখনো।
    এক পরাক্রমশালী ক্ষুদ্র দানো
    ঘুম কেড়ে নিয়েছে সবার।

    অসহায় পতঙ্গের মত মরছে মানুষ।
    আবার কেউ কেউ মরতে গিয়েও বেঁচে গেছে।
    তারপরেও একরত্তি আমি দিব্যি ঘুমুতে পারি।
    যদিও শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকা অদৃশ্য মৃত্যুর আঁধার।
    প্রতিটা মুহুর্তেই জানান দেয়
    বেঁচে আছি সহসা মরে যাবার জন্য।

    আমি ভয় পাই আাঁধারকে।
    ভয় পাই না দেখা মৃত্যুকে।
    ভয় পাই কখনো মরে যেতে হবে
    সদা অনুভুত চিরন্তন এই সত্যটাকে।

    মরেই যদি যাব তবে কেন এই বাঁচবার আকুতি।
    কেননা এও তো জানি আমি বিলাসী নই মোটেই।
    নই হিমালয়ের মত কোন অটল সন্যাসী
    হাজার বছর তপস্যায় যার বিচ্যুতি ঘটেনি কখনো।

    আমি কেবলি একজন মৃত্যু কাতর মানুষ
    যে বেঁচে থাকাটাকেই ভয় পায়।
    ভয় পায় মরে যাবার আগে সত্যগুলো বলে যেতে
    কারণ বলতে গেলেই যদি গলা চেপে মেরে ফেলা হয় আমাকে।

    হ্যা আমি বলতে ভয় পাই।
    আর তাই নিশ্চুপ থাকি মুখচোরার আদলে।
    মরেই যখন যেতে হবে
    না হয় বেঁচে থাকার ছলেই বেঁচে থাকি স্বাভাবিক জীবনে।

    ইদানীং কেউ কেউ কিন্তু কিছু না বলে চুপও থাকে।
    রুপকথার দৈত্যগুলো নেই জেনেও
    আমি না হয় রাতের আঁধারেই ভয়ে থাকি।
    (২০২১ সালে করোনা মহামারীর সময়ে এ কবিতাটি লিখা। এই করোনায় আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি।)

    4
    3 Comments
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন

ডিজাইনার

স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।

Skip to toolbar