-
মনের গহীনে আলো
বিকেলের আলোটা আজ কেমন যেন মলিন। সারাদিন আকাশে রোদ ছিল না। ধূসর মেঘগুলো শহরের ওপর একটা বিষণ্ন চাদরের মতো ঝুলে আছে। সামনের বাড়ির ছাদের কার্নিশ থেকে বৃষ্টির জমে থাকা পানি টুপটাপ করে নিচে পড়ছে। দূরে কোথাও একটা কাক ডেকে উঠল। তারপর আবার চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। এমন বিকেলগুলোতে মানুষের মন খুব সহজেই খারাপ হয়ে যায়।
জানালার পাশে ছোট্ট বিছানাটার কোণায় বসে আছে নীলা। দুই হাঁটু ভাঁজ করে বুকের কাছে তুলে নিয়েছে। থুতনিটা হাঁটুর ওপর রাখা। তার দৃষ্টি জানালার ওপারে। সামনের বাড়ির ছাদে দুটো কবুতর পাশাপাশি বসে আছে। একটার ঠোঁট আরেকটার গায়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যটা দেখে হঠাৎ বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠল। ঘরটার ভেতর কেমন একটা অগোছালো ভাব। পড়ার টেবিলের ওপর কলেজের বইগুলো এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে আছে। খোলা খাতার ওপর একটা নীল রঙের কলম। পাশে অর্ধেক খাওয়া কফির মগ। কফিটা অনেক আগেই ঠান্ডা হয়ে গেছে। টেবিলের এক কোণে ছোট্ট একটা টবে মানিপ্ল্যান্ট গাছ। কয়েকদিন পানি না দেওয়ায় পাতাগুলো ঝুলে পড়েছে। অনেকটা নীলার মনের মতো।
পাশের ঘরে টেলিভিশনের শব্দ ভেসে আসছে। তার মা সোফায় আধশোয়া হয়ে সিরিয়াল দেখছেন। মাঝেমধ্যে আবার ফোন হাতে নিয়ে ফেসবুক স্ক্রল করছেন। কখনো কারও ছবিতে লাইক দিচ্ছেন, কখনো কোনো আত্মীয়ের পোস্টে মন্তব্য করছেন। একেক সময় নিজের মনেই হেসে উঠছেন। বাবা এখনো ফেরেননি। তিনি ফিরবেন রাত দশটার পরে। তারপর খাওয়া-দাওয়া করে ক্লান্ত শরীরটা বিছানায় ছুড়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়বেন। মেয়ের সঙ্গে দুটো কথা বলার সময় তার নেই। শেষ কবে তিনি মেয়ের ঘরে এসে মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “মা, কেমন আছিস?” তা নীলার মনেও নেই।
ঠিক তখনই তার ফোনটা টুং করে বেজে উঠল। সে চমকে স্ক্রিনের দিকে তাকাল। অচেনা একটা মেসেজ। “আপনার কবিতাটা খুব সুন্দর ছিল।”
নীলা ভুরু কুঁচকে প্রোফাইলটা খুলল। নাম, আরিফ রহমান। প্রোফাইল ছবিতে হাসিমুখের একটা ছেলে। খুব সাধারণ চেহারা। কোনো অদ্ভুত কিছু নেই। সে কিছুক্ষণ দ্বিধায় রইল। অচেনা কাউকে উত্তর দেওয়া ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত আঙুলের ডগা দিয়ে ছোট্ট করে লিখল, “ধন্যবাদ।”
মেসেজটা যেতেই সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এল। “আপনি কি নিয়মিত লেখেন?”
নীলা একটু অবাক হলো। আজকাল কে আর কারও লেখা পড়ে! সে কয়েক সেকেন্ড ভেবে লিখল, “না। মাঝে মাঝে লিখি।”
ওপাশ থেকে আবার মেসেজ এল। “লিখবেন। আপনার লেখায় কষ্টটা বেশ স্পষ্ট।”
কথাটা পড়ে তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন কেঁপে উঠল। একজন অচেনা মানুষ তার লেখার ভেতরের কষ্টটুকু বুঝে ফেলল, অথচ এতদিনে বাড়ির কেউ একবারও জিজ্ঞেস করেনি তার মন খারাপ কি না।
সেদিন তাদের আরও কিছু কথা হলো। কী পড়ে, কোন কলেজে পড়ে, কী ধরনের বই ভালো লাগে, এসব নিয়ে ছোট ছোট কথা।
রাত অনেক হয়ে গেলে আরিফ একটা মেসেজ পাঠাল। “অনেক রাত হয়েছে। ঘুমিয়ে পড়ুন। আর একটা কথা… ভালো থাকবেন।”
মেয়েটা অনেকক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। কেউ তাকে শেষ কবে ভালো থাকার কথা বলেছে, তা তার মনে নেই। তারপর খুব আস্তে করে ফোনটা বুকের কাছে চেপে ধরল।
এরপর দিনগুলো কেমন দ্রুত বদলে যেতে লাগল। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নিত সে। দেখত, একটা মেসেজ পড়ে আছে। “ঘুম ভেঙেছে?” দুপুরে আবার আরেকটা। “খেয়েছো?” রাতে। “আজ এত চুপচাপ কেন?” এই ছোট ছোট খোঁজ নেওয়াগুলো ধীরে ধীরে নীলার জীবনের অংশ হয়ে গেল।
একদিন দুপুরে খাওয়ার টেবিলে বসে সে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, “মা, আজ কলেজে আমি আবৃত্তিতে প্রথম হয়েছি।”
মা ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ না তুলেই বললেন, “ভালো হয়েছে।” কথাটা বলে তিনি আবার মোবাইলে ডুবে গেলেন।
নীলা চুপচাপ ভাত মাখতে লাগল। তার খুব ইচ্ছে করছিল মা একবার জিজ্ঞেস করুন, “কি কবিতা বলেছিস?” কিংবা একটু হাসিমুখে বলুন, “আমার মেয়েটা তো খুব ভালো।” কিন্তু কিছুই হলো না। ডাইনিং টেবিলের ওপরে রাখা গ্লাসের পানিটা হঠাৎ তার কাছে খুব ঝাপসা লাগতে শুরু করল।
সেদিন রাতে আরিফের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সে হঠাৎ লিখে ফেলল, “আজ আমি আবৃত্তিতে প্রথম হয়েছি।”
মেসেজটা দেখেই সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এল। “সত্যি! অভিনন্দন। আমি জানতাম তুমি পারবে।”
অদ্ভুত ব্যাপার। কথাটা পড়ে নীলার চোখের কোণে পানি এসে গেল। সারাদিন ধরে সে যে একটা কথার অপেক্ষা করছিল, সেটা একজন অচেনা মানুষ তাকে বলে দিল।
এরপর শুধু মেসেজ নয়, ফোনেও কথা হতে লাগল। কখনো বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে, কখনো ছাদে দাঁড়িয়ে, কখনো গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে যাওয়ার পরে। একদিন বিকেলে আকাশে প্রচণ্ড বৃষ্টি নামল। জানালার কাঁচ বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ছে। দূরে বিদ্যুতের তারে কয়েকটা ভেজা চড়ুই বসে আছে। ঠিক তখনই ফোনটা টুং করে বেজে উঠল।
আরিফ লিখেছে, “মাঝে মাঝে খুব একা লাগে।”
নীলা অনেকক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে লিখল, “আমারও।”
ওপাশ থেকে আবার মেসেজ এল। “তোমাকে একটা কথা বলি? যারা খুব হাসে, তারা সাধারণত খুব একা হয়।”
মেয়েটা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর লিখল, “আমিও খুব একা।”
এই একটা বাক্যের মধ্যেই যেন দুজন মানুষের দূরত্ব অনেকটা কমে গেল।
শীত পড়তে শুরু করেছে। এক সন্ধ্যায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে পশ্চিম আকাশ দেখছিল নীলা। আকাশটা কমলা রঙে রাঙা হয়ে আছে। পাখিরা ঝাঁক বেঁধে নিজেদের বাসায় ফিরছে। দূরের একটা মিনার থেকে মাগরিবের আজান ভেসে আসছে।
ঠিক তখনই ফোনে একটা মেসেজ এল। “তোমাকে একটা কথা বলব?”
নীলার বুকের ভেতরটা অকারণে ধক করে উঠল। সে কয়েক সেকেন্ড স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকে লিখল, “বলো।”
ওপাশ থেকে উত্তর আসতে বেশি সময় লাগল না। “একদিন দেখা করতে চাই।”
মেয়েটা স্থির হয়ে গেল। হালকা ঠান্ডা বাতাস এসে তার চুলগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে। নিচের রাস্তায় দোকানগুলোতে একে একে আলো জ্বলে উঠছে। সে অনেকক্ষণ কিছু লিখতে পারল না।
অবশেষে খুব ধীরে টাইপ করল, “আমি কখনো ফেসবুকের কারও সঙ্গে দেখা করিনি।”
আরিফ সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল। “আমি খারাপ কেউ নই। শুধু একটু গল্প করব।”
নীলা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার বুকের ভেতরে কেমন অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছে। ভয়ও লাগছে, আবার ভালোও লাগছে। অনেকক্ষণ পরে সে লিখল, “আচ্ছা।”
মেসেজটা পাঠানোর পর সে ফোনটা বুকে চেপে ধরল। জানালার ওপারে তখন সন্ধ্যা পুরোপুরি নেমে এসেছে। আশপাশের বাড়িগুলোর জানালায় আলো জ্বলছে। দূরে কোথাও একটা ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল।
অন্ধকার ঘরে দাঁড়িয়ে নীলা নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে রইল। তার মনে হলো, জীবনে বুঝি নতুন একটা দরজা খুলতে যাচ্ছে। সে জানত না, সেই দরজার ওপাশে আলোও আছে, আবার গভীর অন্ধকারও আছে।
সেদিন সকাল থেকেই নীলার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কাঁপছিল। ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই বারবার মোবাইলের স্ক্রিনে সময় দেখছে। কখনো আলমারি খুলছে, কখনো আবার বন্ধ করে দিচ্ছে। বিছানার ওপর তিনটা জামা ছড়িয়ে রেখেছে। কোনটা পরে যাবে, সেটাই বুঝতে পারছে না। জানালার বাইরে মেঘলা আকাশ। মাঝেমধ্যে হালকা বাতাস এসে পর্দাটা উড়িয়ে দিচ্ছে। নিচের রাস্তায় ভ্যানওয়ালা চিৎকার করে সবজি বিক্রি করছে। পাশের বাড়ির একটা ছোট ছেলে সাইকেল চালাতে চালাতে বারবার হর্ন বাজাচ্ছে। কিন্তু নীলার কানে এসব কিছুই ঢুকছে না। আজ সে প্রথমবারের মতো আরিফের সঙ্গে দেখা করতে যাবে। ভোর থেকে বুকের ভেতরটা এমনভাবে ধুকপুক করছে যেন সে কোনো পরীক্ষার হলে বসতে যাচ্ছে।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে নিজেকে অনেকক্ষণ দেখল। হালকা আকাশি রঙের একটা কামিজ বের করল। চুলগুলো আঁচড়ে খোলা রাখল। চোখে সামান্য কাজল দিল। তারপর আবার সব মুছে ফেলল। মনে হলো, বেশি সাজলে খারাপ দেখাবে। ঠিক তখনই ফোনটা টুং করে বেজে উঠল।
আরিফ মেসেজ পাঠিয়েছে। “ভয় লাগছে নাকি?”
মেয়েটার ঠোঁটের কোণে ছোট্ট একটা হাসি ফুটে উঠল। সে কয়েক সেকেন্ড ভেবে লিখল, “একটু।”
সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এল, “ভয় পেয়ো না। আমি কিন্তু দেখতে খুবই সাধারণ একজন মানুষ।”
কথাটা পড়ে নীলা অজান্তেই হেসে ফেলল। মনে হলো, ছেলেটা যেন তার সামনেই বসে আছে।
দুপুরের একটু পর সে মায়ের ঘরের সামনে এসে দাঁড়াল। তার মা তখনও ফোনে ব্যস্ত। কারও সঙ্গে ভিডিও কলে গল্প করছেন। ঘরের ভেতর হাসির শব্দ ভেসে আসছে। নীলা আস্তে করে বলল, “মা, আমি একটু বাইরে যাচ্ছি।”
মা ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ না তুলেই বললেন, “হুম, যাও।”
নীলা একটু ইতস্তত করে আবার বলল, “আমার ফিরতে একটু দেরি হতে পারে।”
এবারও একই উত্তর এল। “ঠিক আছে।”
কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে, একবারও জিজ্ঞেস করলেন না তিনি। মেয়েটা কয়েক সেকেন্ড দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর খুব ধীরে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল। নিচে নামতে নামতে তার বুকের ভেতরটা কেমন খালি হয়ে গেল। মাঝে মাঝে মানুষকে অবহেলা করার সবচেয়ে নিষ্ঠুর উপায় হলো তাকে কোনো প্রশ্ন না করা।
শহরের ব্যস্ত রাস্তার পাশে ছোট্ট একটা ক্যাফে। বাইরে লাল রঙের সাইনবোর্ড। কাঁচের দরজার ভেতর থেকে হলুদাভ আলো বাইরে এসে পড়েছে। রাস্তার পাশে দুটো কৃষ্ণচূড়া গাছ। গাছের নিচে ঝরে পড়া শুকনো ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে আছে। কাঁচের দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই কফির মিষ্টি গন্ধ নাকে এসে লাগল নীলার। দেয়ালজুড়ে কাঠের ফ্রেমে ঝোলানো পুরোনো ঢাকার কিছু সাদা-কালো ছবি। এক কোণায় টবে লাগানো মানিপ্ল্যান্ট। ছাদ থেকে ঝুলে থাকা ছোট ছোট বাতিগুলো পুরো জায়গাটাকে অদ্ভুত সুন্দর করে তুলেছে।
জানালার ধারের টেবিলটায় বসে আছে একটা ছেলে। কালো শার্ট পরা। সামনে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ। বারবার হাতঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। দরজা খুলে নীলাকে ভেতরে ঢুকতে দেখেই ছেলেটা উঠে দাঁড়াল। মুখে মিষ্টি একটা হাসি ফুটে উঠল তার। কয়েক সেকেন্ড মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থেকে সে বলল, “তুমি নীলা?”
মেয়েটা শুধু মাথা নাড়ল। এত জোরে তার বুক ধুকপুক করছে যে মনে হচ্ছে আশেপাশের সবাই বুঝি শুনতে পাচ্ছে। আরিফ হেসে বলল, “তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি ভাইভা দিতে এসেছো।”
নীলা এবার হেসে ফেলল। তারপর খুব আস্তে করে বলল, “আসলে আমি একটু নার্ভাস।”
ছেলেটা কফির কাপটা পাশে সরিয়ে রেখে বলল, “আমিও।”
সেদিন বিকেলটা খুব দ্রুত কেটে গেল। কফির কাপের ধোঁয়া একসময় মিলিয়ে গেল। জানালার ওপারে সূর্যের আলো ফিকে হয়ে এল। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টগুলো একে একে জ্বলে উঠল। কিন্তু তাদের গল্প শেষ হলো না। বই নিয়ে কথা হলো, ছোটবেলা নিয়ে কথা হলো, স্বপ্ন নিয়ে কথা হলো।
বিদায়ের আগে আরিফ একটু ইতস্তত করে বলল, “একটা ছবি তুলি?”
নীলা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে মাথা নাড়ল। ক্যাফের বাইরে কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে তারা একটা সেলফি তুলল। ছবিটায় দুজনেই হাসছে। খুব সাধারণ একটা ছবি। অথচ সেই মুহূর্তে নীলার কাছে সেটাই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ছবি।
এরপর দিনগুলো দ্রুত বদলে যেতে লাগল। এখন আর শুধু ফোনে কথা নয়, প্রায়ই দেখা হয় তাদের। কখনো লেকের ধারে, কখনো বইমেলায়, কখনো শহরের কোনো ছোট্ট রেস্তোরাঁয়। একদিন বিকেলে তারা নদীর ধারে গিয়েছিল। শীতের শেষ দিকের বিকেল। আকাশটা কমলা রঙে রাঙা। নদীর পানি সোনালি হয়ে ঝলমল করছে। দূরে কয়েকটা নৌকা ধীরে ধীরে ভেসে যাচ্ছে। নদীর পাড়ের ঘাসে বসে দুজনেই চুপচাপ সূর্যাস্ত দেখছিল।
হঠাৎ আরিফ খুব শান্ত গলায় বলল, “জানো, তোমার সঙ্গে কথা বলতে খুব ভালো লাগে।”
নীলা নদীর দিকে তাকিয়েই বলল, “আমারও।”
ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আবার বলল, “তোমার কি কখনো খুব একা লাগে না?”
মেয়েটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “সবসময় লাগে।”
আরিফ তখন তার দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল, “এখন থেকে লাগবে না।”
কথাটা শুনে নীলার বুকের ভেতরটা কেমন উষ্ণ হয়ে উঠল। কেউ কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবু তার মনে হলো, পৃথিবীতে সে আর একা নয়।
এরপর শুরু হলো ছবি তোলার দিন। কখনো কফির কাপ হাতে, কখনো বইমেলার গেটের সামনে, কখনো নদীর ধারে দাঁড়িয়ে। ছবিগুলো একসময় ফেসবুকে উঠতে শুরু করল। প্রতিটা ছবির নিচে অসংখ্য লাইক আর মন্তব্য। কেউ লিখছে, “সুন্দর জুটি।” কেউ লিখছে, “মাশাআল্লাহ।” কেউ আবার হাসির ইমোজি দিয়ে বলছে, “কবে খাওয়াচ্ছ?” প্রতিটা মন্তব্য পড়ে নীলার ভালো লাগত। সে মনে মনে ভাবত, এই মানুষটা বুঝি সত্যিই তার জীবনের শূন্য জায়গাগুলো পূরণ করে দিয়েছে।
কিন্তু বাড়িতে কেউ কিছু জানত না। একদিন রাতে খাওয়ার টেবিলে বসে তার বাবা বললেন, “তোর পরীক্ষা কবে?”
নীলা উত্তর দিল, “আগামী মাসে।”
বাবা মাথা নেড়ে বললেন, “ও আচ্ছা।” তারপর আবার খবর দেখতে শুরু করলেন।
কথাটা সেখানেই শেষ হয়ে গেল। মেয়েটা চুপচাপ ভাত মাখতে লাগল। সে মনে মনে ভাবল, যদি সে আজ বলে, আমি একজনের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করি, তাহলেও হয়তো কেউ খুব একটা অবাক হবে না। কারণ তার জীবনে কী হচ্ছে, সেটা জানার সময় এই বাড়ির কারও নেই।
শীতের এক বিকেলে তাদের দেখা হলো একটা পার্কে। গাছের পাতা ঝরে পড়ছে। শুকনো পাতার ওপর দিয়ে মানুষ হাঁটছে, আর মচমচ শব্দ হচ্ছে। সেদিন আরিফকে কেমন যেন অন্যরকম লাগছিল। সে খুব কম কথা বলছিল। মুখেও হাসি নেই।
নীলা কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “তোমার কি হয়েছে?”
ছেলেটা জোর করে হাসল। “কিছু না।”
“মিথ্যে বলছো।”
আরিফ এবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “অফিসের কিছু ঝামেলা।”
নীলা আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। কিন্তু সেদিন তার বুকের ভেতরটা অকারণে কেঁপে উঠেছিল।
এরপর ধীরে ধীরে সব বদলে যেতে শুরু করল। মেসেজের উত্তর আসতে দেরি হতে লাগল। ফোন বন্ধ পাওয়া যেতে লাগল। রাতের পর রাত কোনো কথা হতো না। একদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আরিফের কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না। পরদিনও না। তার পরের দিনও না।
উদ্বিগ্ন হয়ে নীলা বারবার মেসেজ পাঠাল। “তুমি কোথায়?” “তোমার কি হয়েছে?” “একবার উত্তর দাও।” কিন্তু কোনো উত্তর এল না।
এক রাতে ঘুম ভেঙে সে ফোনটা হাতে নিল। ফেসবুকে গিয়ে সার্চ দিল। তারপর কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে বসে রইল। আরিফের আইডিটা নেই।
সে আবার খুঁজল। আবার। আবার। কিন্তু না। আইডিটা সত্যিই নেই। মনে হলো কেউ যেন তার বুকের ভেতর থেকে একটা অংশ ছিঁড়ে নিয়ে গেছে।
সেদিন রাতটা সে জানালার পাশে বসেই কাটিয়েছিল। আকাশে কোনো চাঁদ ছিল না। চারপাশে শুধু অন্ধকার। দূরের কয়েকটা বাড়ির জানালায় মিটমিট করে আলো জ্বলছিল। সামনের বাড়ির ছাদে দুটো কবুতর পাশাপাশি বসে ছিল, ঠিক যেভাবে প্রথম দিন সে দেখেছিল। শুধু পার্থক্য একটা। সেদিন তার হাতে একটা আলো ছিল। আজ সেই আলোটা নিভে গেছে।
শীতের রাত। জানালার কাঁচে কুয়াশা জমে আছে, দূরের বাড়িগুলোর আলো কেমন ঝাপসা দেখাচ্ছে। পুরো ঘর অন্ধকার, শুধু পড়ার টেবিলের ওপর রাখা ছোট্ট স্টাডি ল্যাম্পটা জ্বলছে। তার হলুদ আলোয় বিছানার কোণায় বসে আছে নীলা। দুই হাঁটু বুকের কাছে টেনে নিয়েছে। তার চোখ দুটো ফুলে গেছে। গত তিন রাত সে ঠিকমতো ঘুমায়নি। আরিফের কোনো খোঁজ নেই। ফোন বন্ধ, ফেসবুক আইডি নেই, মেসেঞ্জারে পাঠানো সব মেসেজের পাশে শুধু একটা ধূসর টিক চিহ্ন। প্রথম দিন সে ভেবেছিল, হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে। দ্বিতীয় দিনেও নিজেকে বুঝিয়েছে। তৃতীয় দিন এসে বুকের ভেতরে একটা অজানা ভয় জমতে শুরু করেছে। মানুষের জীবন থেকে মানুষ এভাবে হঠাৎ হারিয়ে যায়?
ঠিক তখনই তার ফোনটা টুং করে বেজে উঠল। রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা। এই সময় সাধারণত কেউ তাকে মেসেজ দেয় না। সে ফোনটা হাতে নিতেই দেখল, কলেজের বান্ধবী মিথিলা একটা লিংক পাঠিয়েছে। তার নিচে শুধু একটা লাইন লেখা, “নীলা, এটা কি তুই?”
মেয়েটা ভুরু কুঁচকে লিংকটায় চাপ দিল। পরের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার পৃথিবীটা ওলটপালট হয়ে গেল। মোবাইলের স্ক্রিনে একটা ভিডিও চলছে। সেখানে একটা মেয়ে, সম্পূর্ণ নগ্ন। তার মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সেই মুখটা নীলার।
মেয়েটার হাত থেকে ফোনটা নিচে পড়ে গেল। তার বুকের ভেতরটা হঠাৎ বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেল, হাত-পা কাঁপতে শুরু করল, আর কয়েক সেকেন্ডের জন্য সে যেন বুঝতেই পারল না পৃথিবীতে কী ঘটে গেছে। তারপর আবার ফোনটা তুলে নিল। আবার ভিডিওটা দেখল। না, এটা সে নয়। এটা কোনোভাবেই সে হতে পারে না। মুখটা তার, কিন্তু শরীরটা নয়। তার মনে হলো, কেউ যেন তার বুকের ওপর বিশাল একটা পাথর চাপিয়ে দিয়েছে।
ঠিক তখনই আরেকটা মেসেজ এল। তারপর আরেকটা। তারপর আরও একটা। “এটা কি সত্যি?” “তুই এমন?” “তোর ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে!” কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফোনটা অবিরাম কাঁপতে লাগল। অচেনা নম্বর থেকে কল আসছে, মেসেঞ্জারে নোংরা মেসেজ আসছে, ফেসবুকে একের পর এক কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জমা হচ্ছে। মেয়েটা বিছানার ওপর বসে কাঁপতে লাগল। তারপর হঠাৎ বুকফাটা একটা চিৎকার বেরিয়ে এল তার মুখ থেকে।
শব্দটা শুনে পাশের ঘর থেকে তার মা দৌড়ে এলেন। ঘরে ঢুকেই তিনি অবাক হয়ে বললেন, “কী হয়েছে?”
নীলা কাঁপতে কাঁপতে ফোনটা মায়ের দিকে বাড়িয়ে দিল। তার ঠোঁট কাঁপছে, চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে। সে কোনোমতে বলল, “মা… আমি না… আমি কিছু করিনি… এটা আমি না…”
মা ভিডিওটা দেখলেন। কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর তার মুখের রঙ বদলে গেল। তিনি ধীরে ধীরে বিছানার ধারে বসে পড়লেন। যেন তিনিও বুঝতে পারছেন না কী করা উচিত।
ঠিক তখনই বাইরে কলিং বেল বেজে উঠল। রাত বারোটায় কে আসতে পারে? বাবা দরজা খুলতেই দেখা গেল পাশের ফ্ল্যাটের আনোয়ার সাহেব দাঁড়িয়ে আছেন। তার মুখটা অস্বস্তিতে ভরা। তিনি নিচু গলায় বললেন, “ভাই, একটা ভিডিও নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। ভাবলাম আপনাদের জানিয়ে যাই।”
বাবার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। তিনি আর কিছু না বলে ধীরে ধীরে নীলার ঘরের দিকে এগিয়ে এলেন। ঘরে ঢুকেই দেখলেন, মেয়েটা মায়ের কোলে মুখ গুঁজে কাঁদছে। আর তার স্ত্রী স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন।
সেই রাতেই তাদের পুরো পৃথিবী যেন বদলে গেল।
পরদিন সকালটা ছিল আরও ভয়ংকর। ফজরের আজানের কিছুক্ষণ পর থেকেই ফোন আসতে শুরু করল। আত্মীয়স্বজন, দূর সম্পর্কের খালা, ফুফু, প্রতিবেশী—সবাই যেন হঠাৎ খুব আপন হয়ে উঠেছে। কেউ সহানুভূতি দেখাচ্ছে, কেউ কৌতূহল, কেউ আবার সরাসরি অপমান করছে। বিকেলের মধ্যেই নীলার ছবিসহ ভিডিওটা অসংখ্য ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে পড়ল।
ঘরের পর্দা টেনে দেওয়া হয়েছে, জানালা বন্ধ, দরজা বন্ধ। তবুও নীলার মনে হচ্ছে, বাইরের সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। সে বিছানার কোণায় বসে আছে। চুলগুলো এলোমেলো, সারারাত কান্না করতে করতে চোখ ফুলে গেছে।
ঠিক তখনই তার বাবা ঘরে ঢুকলেন। জীবনে এই প্রথম তিনি মেয়েকে এমন ভেঙে পড়তে দেখলেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর খুব ধীরে বললেন, “সত্যি করে বল, তুই কোনো ভুল করেছিস?”
কথাটা শুনে নীলার বুকের ভেতরটা ভেঙে গেল। সে বাবার দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে উঠল। “তুমিও আমাকে বিশ্বাস করছো না, বাবা?”
লোকটা যেন পাথর হয়ে গেলেন। তার মেয়েটা এমনভাবে কাঁদছে, অথচ তিনি বুঝতেই পারেননি শেষ কবে তার সঙ্গে বসে গল্প করেছেন। তিনি বুঝতেই পারেননি, তার মেয়ের জীবনে কে এসেছে, কে চলে গেছে। তিনি বুঝতেই পারেননি, তার মেয়েটা কতটা একা। সেই মুহূর্তে তার বুকের ভেতরে ভীষণ অপরাধবোধ জন্ম নিল।
সেই রাতে নীলা খুব আস্তে করে বিছানা ছেড়ে উঠল। ঘরের সবাই তখন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। সে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে কুয়াশা, রাস্তায় কোনো মানুষ নেই। দূরে একটা কুকুর ডেকে উঠল। মেয়েটা অনেকক্ষণ অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে পড়ার টেবিলের ড্রয়ার খুলল। ভেতর থেকে একটা ঘুমের ওষুধের পাতা বের করল। তার হাত কাঁপছে, চোখ দিয়ে অবিরাম পানি পড়ছে। তার মনে হচ্ছে, পৃথিবীতে তার জন্য আর কিছু নেই।
ঠিক তখনই দরজাটা আস্তে করে খুলে গেল। তার বাবা দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি হয়তো অনেকক্ষণ ধরেই জেগে ছিলেন। মেয়ের হাতে ওষুধের পাতা দেখে তার বুক কেঁপে উঠল। তিনি এক দৌড়ে এসে নীলার হাতটা চেপে ধরলেন।
কাঁপা গলায় বললেন, “তুই কী করতে যাচ্ছিলি?”
নীলা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে বাবাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কেঁদে উঠল। “আমি বাঁচতে চাই না, বাবা… আমি পারছি না… সবাই আমাকে ঘৃণা করবে…”
লোকটা মেয়েকে বুকের ভেতর চেপে ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন। অনেক বছর পরে তিনি প্রথমবারের মতো বুঝলেন, সন্তানের পাশে শুধু টাকা-পয়সা থাকলেই হয় না, তার পাশে মানুষ হিসেবেও থাকতে হয়। তিনি মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “তুই কিছু করবি না। আমি আছি। তোর মা আছে। আমরা আছি।”
পরদিন সকালেই নীলার বাবা তাকে নিয়ে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে গেলেন। অফিসটা খুব সাধারণ। কয়েকজন কর্মকর্তা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করছেন।
একজন নারী কর্মকর্তা সব কথা মন দিয়ে শুনলেন। তারপর খুব শান্ত গলায় বললেন, “প্রথম কথা, আপনি কোনো অপরাধ করেননি। এটা এখন অনেকের সঙ্গেই হচ্ছে। এআই ব্যবহার করে মানুষের ছবি নিয়ে ভুয়া ভিডিও বানানো হচ্ছে।”
কথাটা শুনে নীলা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। তার মনে হলো, বুকের ওপর চাপা পাথরটা একটু হালকা হলো।
তদন্ত শুরু হলো। নীলার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পুরোনো ছবি, মেসেঞ্জারের চ্যাট—সব খুঁটিয়ে দেখা হলো। কয়েকদিন পর সত্যিটা বেরিয়ে এল। আরিফের নামটাই মিথ্যা। ছবিটাও চুরি করা। পুরো পরিচয়টাই ছিল একটা ফাঁদ। আর সেই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে নীলার ফেসবুকে আপলোড করা অসংখ্য ছবি ব্যবহার করে।
যেদিন অপরাধী গ্রেপ্তার হলো, সেদিন আকাশে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিল। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল নীলা।
তার বাবা এসে খুব আস্তে করে বললেন, “ছেলেটাকে ধরেছে।”
মেয়েটা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর খুব ধীরে বাবার দিকে তাকাল। লোকটার চোখেও পানি। তিনি এগিয়ে এসে মেয়ের মাথায় হাত রাখলেন। “মা, আমি তোকে সময় দিইনি। তোর পাশে থাকিনি। আমাকে ক্ষমা করে দিস।”
কথাটা শুনে নীলা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, জানালার কাঁচ বেয়ে পানির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে। অনেকদিন পরে তার মনে হলো, সে আর একা নয়।
কয়েক মাস পরে নীলা আবার কলেজে ফিরল। মানুষের ফিসফাস এখনো আছে, কৌতূহলী দৃষ্টিও আছে, কিন্তু সে বদলে গেছে। এখন সে মাথা নিচু করে হাঁটে না। একদিন কলেজের সেমিনারে তাকে বক্তব্য দিতে বলা হলো। মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে সে অনেকগুলো তরুণ-তরুণীর দিকে তাকাল। তারপর খুব শান্ত গলায় বলল, “অনলাইনে পরিচয় হওয়া সব মানুষ খারাপ নয়। কিন্তু কাউকে না জেনে, না বুঝে বিশ্বাস করা বিপজ্জনক। নিজের ব্যক্তিগত তথ্য আর ছবি নিয়ে সতর্ক থাকবে। আর যদি কখনো এআই দিয়ে তৈরি কোনো ভুয়া ছবি বা ভিডিও নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়, তাহলে লুকিয়ে থাকবে না, নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কথা ভাববে না। পরিবারের কাছে যাও, আইনের সাহায্য নাও। কারণ কউকে বিশ্বাস করা অপরাধ নয়। অপরাধ তার, যে তোমার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রযুক্তিকে অস্ত্র বানিয়ে তোমার জীবন ধ্বংস করে দিতে চায়।”
পুরো হলঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল। সামনের সারিতে বসে থাকা তার বাবা-মা চোখ মুছছিলেন। মঞ্চের আলোয় দাঁড়িয়ে নীলা হঠাৎ অনুভব করল, অন্ধকার কখনো চিরস্থায়ী হয় না। কিছু অন্ধকার মানুষকে ভেঙে দেয়, আর কিছু অন্ধকার মানুষকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়।
2 Comments
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন
ডিজাইনার
স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
Friends
atif ac
@atifac
Abdullah Al Amin
@abdullahalamin
Tanvir Ahamed
@tanvirahamed
এইচ আই হামিদ
@h-ihamid
বি.এম.কায়েস খান
@bmkayeskhangmail-com
জিনাত ফয়সাল
@zinatfaisal2gmail-com
Rijoana
@rijoana
mdjibonahmmed Sagor
@mdjibonahmmedsagor
sajjadul ehsan sakib
@sajjadulehsansakib


অন্ধকার থেকে নতুন করে বাঁচতে শেখা…..🖤