Profile Photo

বিষণ্ন সুমনOffline

  • logolabbd
  • Profile picture of বিষণ্ন সুমন

    বিষণ্ন সুমন

    • 1 month, 1 week ago

    অরণ্যের শেষ প্রহর

    (অধ্যায় চার)
    সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পর রেজোয়ানের ভেতরে অদ্ভুত একটা শান্তি নেমে এসেছিল। কয়েকদিন ধরে সে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই এখন তার কাছে পরিষ্কার। জমির কাগজ তার নামে, সীমানার পুরনো নকশা তার হাতে, ভূমি অফিসে তার মালিকানা নিয়ে সরাসরি কোনো আপত্তি ওঠেনি, প্রশাসন সমস্যাটা জানে, থানাও অভিযোগের কথা জানে, এমনকি মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের মালিক নিজেও স্বীকার করেছে যে জমিটা রেজোয়ানের। তারপরও কাজ বন্ধ হয়নি। বরং পাহাড়ের বুক আরও কাটা হচ্ছে, নতুন রাস্তা তৈরি হচ্ছে, মাটি সমান করা হচ্ছে। অর্থাৎ কথা বলার জায়গাটা শেষ। অন্তত আপাতত।

    সকালে ডিওএইচএস-এর বাসা থেকে বের হওয়ার আগে রেজোয়ান শেষবারের মতো ফাইলটা খুলেছিল। দলিল, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, পুরনো নকশা, সীমানার বিবরণ, পাহাড়ে তোলা ছবি, সবকিছু একবার দেখে ফাইল বন্ধ করল। তার চোখে উত্তেজনা ছিল না। বরং দীর্ঘদিনের অভ্যাসমতো একটা স্থির হিসাব চলছিল মাথার মধ্যে। কোনটা বৈধ পথ, কোনটা বাস্তব পরিস্থিতি, কোথায় কথা বলা যায়, কোথায় অপেক্ষা করতে হয়, আর কোথায় গিয়ে নিজের উপস্থিতি জানানো দরকার, এসব সে আলাদা করে ভাবছিল।

    সামরিক জীবনে একটা বিষয় সে শিখেছিল, কোনো পরিস্থিতিকে নিজের ইচ্ছামতো হতে বাধ্য করা যায় না। পরিস্থিতিকে আগে বুঝতে হয়। তারপর তার ভেতর থেকেই নিজের জায়গাটা তৈরি করতে হয়।

    এবার সে নিজের জায়গায় দাঁড়াবে। শেষবার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সে বেরিয়ে গেল।

    দিনের প্রথম ভাগটা আবার বিভিন্ন দপ্তরের দরজায় কেটে গেল। আগের অভিযোগের কথা সবাই জানে। নতুন করে কোনো কাগজ চাওয়া হলো না। কোথাও তাকে বলা হলো বিষয়টি বিবেচনাধীন, কোথাও বলা হলো সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, কোথাও আবার স্থানীয় পরিস্থিতির কথা বলে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলা হলো। রেজোয়ান এবার আর বেশি কথা বলল না। শুধু প্রয়োজনীয় কথাগুলো শুনল এবং যেখানে সম্ভব, নিজের বক্তব্য লিখিতভাবে নথিভুক্ত করার চেষ্টা করল।

    তার ধৈর্য শেষ হয়ে যাচ্ছিল না। বরঞ্চ বলা চলে তার আরও অপেক্ষা করার প্রয়োজনটাই ফুরিয়ে যাচ্ছিল।

    দুপুরের দিকে সে একটা অফিস থেকে বেরিয়ে আসার সময় আকাশের দিকে তাকাল। বর্ষার মেঘ নিচু হয়ে আছে। ঢাকার বাতাস ভারী। দূরে কালো মেঘের নিচে ভবনগুলোর মাথা ধূসর দেখাচ্ছে। রাস্তার পাশে পানি জমে আছে। গাড়ি ছুটে গেলে সেই পানি ছিটকে পথচারীদের কাপড়ে গিয়ে লাগছে। বাসের জানালা দিয়ে মানুষ বাইরে তাকিয়ে আছে, ফুটপাতে ছাতা হাতে লোকজন হাঁটছে, দোকানের টিনের চালের নিচে কয়েকজন বৃষ্টির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।

    রেজোয়ান গাড়িতে উঠে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল। তার সামনে এখন আর কোনো অস্পষ্টতা নেই।

    সে আইনগত পথ ছেড়ে দিচ্ছে না। কিন্তু আইন নিজের কাজ করার আগ পর্যন্ত নিজের জমির ওপর অন্যের কাজ চলতে দেবে না। এই দুটো বিষয় তার কাছে আলাদা।

    বিকেলের আগেই সে একজন পরিচিত মানুষের কাছ থেকে কল পেল, যে খাগড়াছড়িতে ছিল। লোকটি জানাল, রিসোর্টের জায়গায় কাজ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। পাহাড়ের একটা বড় অংশ কেটে ফেলা হচ্ছে। নতুন মেশিন এসেছে। রাস্তার জন্য মাটি সরানো হচ্ছে।

    রেজোয়ান শুধু বলল, “ছবি পাঠান।”

    কিছুক্ষণ পর তার মোবাইলে ছবি এল। একটার পর একটা। রেজোয়ান গাড়ির ভেতর বসে ছবিগুলো দেখতে লাগল।

    একটা ছবিতে পাহাড়ের সবুজ ঢাল কেটে বিশাল একটা অংশ খোলা হয়েছে। লালচে মাটি স্তরে স্তরে দেখা যাচ্ছে। গাছের শিকড় মাটির বুক থেকে বেরিয়ে আছে। অন্য ছবিতে একটা ভারী মেশিন পাহাড়ের গায়ে দাঁড়িয়ে, তার ধাতব বাহু দিয়ে মাটি সরিয়ে নিচ্ছে। কোথাও শ্রমিকরা বাঁশের খুঁটি বসাচ্ছে, কোথাও পাথর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আরেকটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নতুন রাস্তা ধরে একটা ট্রাক উঠে যাচ্ছে।

    রেজোয়ান শেষ ছবিটা অনেকক্ষণ ধরে দেখল। তার নিজের জমি। নিজের পাহাড়। কিন্তু সেখানে অন্য মানুষের পরিকল্পনা চলছে।

    সে মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে রাখল। তারপর গাড়ি ঘুরিয়ে বাসার দিকে রওনা দিল।

    পরদিন ভোরে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে বের হলো সে। ঢাকা ছাড়ার পর শহরের কংক্রিট ধীরে ধীরে পিছনে পড়ে গেল। রাস্তার দুই পাশে বদলে যেতে লাগল দৃশ্য। প্রথমে ঘন বসতি, দোকানপাট, বাজার, মানুষের ভিড়। তারপর ধীরে ধীরে রাস্তার দুপাশে ফাঁকা জায়গা বাড়ল। সবুজের পরিমাণ বাড়তে লাগল। দূরে গাছের সারি, কোথাও ধানক্ষেত, কোথাও ছোট বাজার, কোথাও রাস্তার ধারে চায়ের দোকান। বর্ষার পানি জমে থাকা নিচু জমির ওপর আকাশের মেঘের ছায়া পড়ে আছে।

    আর যত খাগড়াছড়ির দিকে এগোল, তত বদলে গেল চারিপাশ।

    পাহাড় শুরু হওয়ার পর রাস্তা যেন অন্য একটা জগতের মধ্যে ঢুকে গেল। একদিকে উঠে গেছে সবুজ পাহাড়, অন্যদিকে ঢাল নেমে গেছে নিচের উপত্যকার দিকে। পাহাড়ের গায়ে কোথাও বাঁশঝাড় এত ঘন যে ভেতরের মাটি দেখা যায় না, কোথাও কলাগাছ আর বুনো লতাগুল্মের জঙ্গল, কোথাও জুমের জমি থেকে সদ্য পরিষ্কার করা ঢাল রোদে লালচে হয়ে আছে। বর্ষার শেষে পাহাড়ের শরীর তখনো ভিজে। ছোট ছোট ঝরনা আর ছড়া পাহাড়ের বুক কেটে নেমে এসেছে নিচে। কোথাও পানি পাথরের ওপর দিয়ে স্বচ্ছ স্রোতে বয়ে যাচ্ছে, কোথাও রাস্তার নিচ দিয়ে কালভার্টের ভেতর অদৃশ্য হয়ে আবার অন্য পাশে বেরিয়ে এসেছে।

    পাহাড়ের ঢালে বাঁশের তৈরি ছোট ঘর চোখে পড়ছে, দূরে কোনো কোনো বসতির টিনের চাল রোদের আলোয় চকচক করছে। তারও ওপরে নীলচে পাহাড় একটার পেছনে আরেকটা, যেন দূরত্বের সঙ্গে সঙ্গে তাদের রং ফিকে হয়ে গেছে।

    এই দৃশ্য রেজোয়ানকে থামিয়ে দেয়নি। বরং তার চোখে সবকিছু ধরা পড়ছিল। পাহাড়ের ঢাল। রাস্তার বাঁক। ছড়ার অবস্থান। নতুন কাটা মাটি। মানুষের চলাচলের পথ। গাড়ির ওঠানামার জায়গা। কোনটাই বাদ পড়ছিল না।

    একজন সাধারণ ভ্রমণকারী এই দৃশ্য দেখে সৌন্দর্য খুঁজে পেত। রেজোয়ানের চোখ সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রকৃতিও দেখছিল। অসংখ্য বছর ধরে গড়ে ওঠা অভ্যাস এটা।

    খাগড়াছড়ির পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে অবশেষে সে পরিচিত পথে ঢুকল। নতুন কাটা রাস্তার মুখে পৌঁছেই সে গাড়ি থামাল। আগের চেহারার সঙ্গে এখন আর খুব বেশি মিল নেই। রাস্তা চওড়া হয়েছে। পাহাড়ের গা আরও কাটা।

    একটা জায়গায় মাটি এতটা সরিয়ে ফেলা হয়েছে যে ওপরের সবুজ ঢালটা যেন মাঝখান থেকে ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে। কাটা মাটির গায়ে শিকড় ঝুলছে। কোথাও মাটির ভেতর পাথর বেরিয়ে আছে। ভারী মেশিনের শব্দে পাহাড়ের নীরবতা ভেঙে যাচ্ছে। ডিজেলের গন্ধ বাতাসে মিশে আছে। কাটা মাটির স্যাঁতসেঁতে গন্ধের সঙ্গে সেই গন্ধ মিশে একটা ভারী পরিবেশ তৈরি করেছে।

    রেজোয়ান গাড়ি থেকে নামল। তার পরনে সাধারণ শার্ট আর ট্রাউজার। দূর থেকে দেখলে তাকে পাহাড়ে বেড়াতে আসা কোনো মধ্যবয়সী মানুষের মতোই মনে হতে পারে। কিন্তু হাঁটার সময় তার শরীরের ভঙ্গিতে একটা আলাদা দৃঢ়তা ছিল। পা ফেলছে মেপে, চোখ একবারে একটা জায়গায় আটকে নেই, সামনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশটাও দেখছে।

    সে ধীরে ধীরে নিজের জমির দিকে এগিয়ে গেল।

    শ্রমিকরা তাকে দেখল। কেউ কিছু বলল না। কাজ চলতে থাকল।

    একটা মেশিনের শব্দ এত জোরে যে পাশে দাঁড়িয়ে কথা বললেও গলা উঁচু করতে হয়। মেশিনের ধাতব বাহু মাটির ভেতর ঢুকে একসঙ্গে অনেকটা মাটি তুলে ফেলছে। ওপর থেকে মাটি গড়িয়ে নিচে পড়ছে। ধুলো আর কাদা মিশে বাতাস ভারী।

    রেজোয়ান মেশিনটার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

    অপারেটর তাকে দেখে মেশিন থামিয়ে দিল। কয়েকজন শ্রমিক কাছে এগিয়ে এল।

    রেজোয়ান চারপাশে একবার তাকাল। তারপর শান্ত গলায় বলল, “তোমরা কাজ বন্ধ কর।”

    একজন লোক এগিয়ে এল। বয়স ত্রিশের কাছাকাছি। মুখে কাজের ক্লান্তি, গায়ে মাটি লেগে আছে। “স্যার, আমরা কোম্পানির লোক। আমাদের যা করতে বলা হয়েছে, আমরা সেটাই করছি।”

    রেজোয়ান তার দিকে তাকাল। “আমি জানি।”

    “তাহলে অফিসে কথা বলেন।”

    রেজোয়ানের চোখ কয়েক মুহূর্ত তার ওপর স্থির রইল। “অফিসে অনেক কথা বলেছি। কোন লাভ হয় নাই। এবার নিজের জমিতে দাঁড়িয়ে যা বলার নিজেই বলছি।”

    লোকটা একটু অস্বস্তিতে চারপাশে তাকাল। তারপর বলল, “স্যার, আপনি এখান থেকে সরে যান। অযথা ঝামেলা করবে না। এখানে কাজ বন্ধ করার দায়িত্ব আমাদের না।”

    “তাহলে কার?”

    লোকটা উত্তর দিল না। পেছন থেকে আরেকজন এগিয়ে এল। তার গলায় বিরক্তি। “আপনাকে যা বলার বলা হয়েছে। এখানে কাজ চলবে।”

    রেজোয়ান নড়ল না। সে আবার চারপাশে তাকাল। এক মুহূর্তের জন্য তার চোখ পাহাড়ের ঢালের দিকে গেল। তারপর মেশিনের দিকে। তারপর শ্রমিকদের দিকে। তারপর স্থির হলো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির ওপর। “আমি কাজ বন্ধ করতে বলেছি।”

    লোকটা এবার আরও কাছে এল। “আপনি বুঝছেন না, স্যার।”

    “আমি খুব ভালোভাবেই বুঝছি।”

    লোকটা রেজোয়ানের কাঁধে হাত রাখল। হাতটা ছিল ঠেলার জন্য।

    রেজোয়ান হাতটার দিকে তাকাল। তারপর লোকটার চোখের দিকে। “হাত সরাও।”

    লোকটা সরাল না। বরং সামান্য চাপ দিয়ে তাকে পেছনে সরাতে গেল।

    পরের মুহূর্তের ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটল যে আশপাশের লোকেরা প্রথমে বুঝতেই পারল না কী হয়েছে।

    রেজোয়ানের শরীর সামান্য ঘুরল। লোকটির হাতের চাপ বাতাসে দুলে রইলো। ওদিকে তার ডান হাত তখন লোকটার কবজির ওপর, বাঁ হাত কনুইয়ের কাছে। স্রেফ একটা টান। সাথে একটা মোচড়।

    লোকটির শরীর নিজের ভারসাম্য হারিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে গেল। রেজোয়ান তাকে ধাক্কা দিল না। শুধু তার গতিটাকে নিজের পক্ষে ব্যবহার করল। পরের মুহূর্তে লোকটা হাঁটু গেড়ে মাটিতে, তারপর পুরো শরীর নিয়ে কাদামাটির ওপর পড়ে গেল।

    সবকিছু ঘটলো দুই সেকেন্ডেরও কম সময়ে।

    লোকটা উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। রেজোয়ান ইতিমধ্যেই সরে গেছে।

    পেছন থেকে আরেকজন ঝাঁপিয়ে এগিয়ে এল। এইবার রেজোয়ান তাকে আসতে দেখে ফেলেছিল। লোকটির হাত তার কাঁধের দিকে বাড়ল। তৎক্ষনাত সে এক পা পাশে সরল। লোকটার বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা খালি বাতাসে চলে গেল।

    একই সঙ্গে রেজোয়ানের কনুই লোকটির বুকের সামনে ঠেকল। লোকটির গতি থেমে গেল। সে তার কাঁধ ধরে শরীরটা ঘুরিয়ে দিল।

    মাটির ওপর ভেজা কাদা। পায়ের নিচে সামান্য পিচ্ছিল। লোকটার নিজের গতি আর ভারসাম্যই তার বিরুদ্ধে গেল। সে পিছলে গিয়ে সোজা মাটিতে পড়ে গেল।

    চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলো স্থির দাঁড়ানো। কেউ এগিয়ে আসলো না।

    মেশিন বন্ধ। ডিজেলের গন্ধের মধ্যে হঠাৎ যেন পুরো জায়গাটা নিস্তব্ধ হয়ে গেছে।

    রেজোয়ান পড়ে থাকা দুজনের দিকে তাকাল। তার মুখে রাগ নেই। “আমি আবারো বলছি কাজ বন্ধ কর।”

    এইবার কেউ কোন উত্তর দিল না। আবার কেউ তাকে আটকানোরও চেষ্টা করল না।

    রেজোয়ান আর সেখানে এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। ঘুরে গাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল। তার পেছনে কয়েকজন শ্রমিক চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।

    কেউ একজন নিচু গলায় বলল, “উনি কে?”

    কেউ কোন উত্তর করলো না।

    রেজোয়ান গাড়িতে উঠে বসে দরজা বন্ধ করল। ইঞ্জিন চালু করার আগে একবার পেছনে তাকাল।

    পাহাড়ের ঢালে সকালের রোদ এসে পড়েছে। কাটা লাল মাটির ওপর আলো পড়ে জায়গাটাকে আরও নগ্ন করে তুলেছে। সবুজ পাহাড়ের বুকের মধ্যে সেই ক্ষত অনেক দূর থেকেও দেখা যাচ্ছে।

    তারপর রেজোয়ানের চোখ গিয়ে থামল মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের সাইনবোর্ডে। কয়েকদিন আগে বোর্ডটা শুধু একটা নাম ছিল। আজ সেটা যেন একটা চ্যালেঞ্জ।

    রেজোয়ান গাড়ি চালু করল। পাহাড়ি রাস্তা ধরে গাড়ি নিচে নামতে শুরু করল। সে জানে, আজ যা হয়েছে সেটা এখানেই শেষ হবে না। তবে সে এও জানে না, কোম্পানির লোকেরা এই ঘটনাটা কীভাবে দেখবে।

    তার কাছে ঘটনাটা ছিল খুব সামান্য। দুজন লোক তাকে সরাতে এসেছিল। সে উল্টো তাদের সরিয়ে দিয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।

    কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর, শহরের আরামদায়ক অফিসে বসে যখন মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের মালিক ঘটনাটা শুনল, তখন তার মুখে প্রথমে অবিশ্বাসের ছাপ। তারপর সে হেসে দিল। বললো, “আসলে বুড়ো মানুষটার রাগ হয়েছে। যাকগে, ব্যপার না।” সে হাত নাড়িয়ে মাছি তাড়াবার ভঙ্গী করলো।

    সেময় ঘরে থাকা বাকী লোকজনও তার সাথে হেসে দিল। কিন্তু, তারা যদি জানতো আজকের ঘটনাটা কেবল যুদ্ধের শুরু নয়। বরং এটা ছিল তাদের জন্য শেষ প্রকাশ্য সতর্ক বার্তা, তবে এই হাসি কখনোই কূল পেত না।
    (চলবে)

    2
    4 Comments
    • শেষের হাসিটাই সবচেয়ে ভয়ংকর

    • বিষণ্ন সুমন, আপনার লেখায় অরণ্য আর মানুষের সংঘাতের যে দৃশ্যগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন তা অসাধারণ, বিশেষ করে এই লাইনটি— “সবুজ পাহাড়ের বুকের মধ্যে সেই ক্ষত অনেক দূর থেকেও দেখা যাচ্ছে”— অত্যন্ত গভীর এবং আবেগময়। পরিস্থিতির বর্ণনাগুলো খুবই স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত, যা পাঠকদের গল্পের সাথে একাত্ম হতে সাহায্য করবে। আপনার পরবর্তী পর্বের জন্য শুভকামনা রইল, চমৎকার সব লেখা উপহার দিতে থাকুন।

    • খুব যত্নে নির্মিত একটি অনুভূতি মনে হলো, যেখানে প্রতিটি শব্দের নিজস্ব ভূমিকা আছে।

    • আপনার গল্পের “পাহাড়ের বুক আরও কাটা হচ্ছে, নতুন রাস্তা তৈরি হচ্ছে, মাটি সমান করা হচ্ছে” লাইনটি পড়ে মনটা সত্যিই খুব খারাপ হয়ে গেল। রেজোয়ানের শান্ত অথচ দৃঢ় ব্যক্তিত্বের এই লড়াইটা অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন আপনি। সামনের পর্বগুলোতে রেজোয়ান কীভাবে নিজের জমি রক্ষা করবে, সেটা দেখার জন্য অনেক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকলাম।

আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন

ডিজাইনার

স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।

Skip to toolbar