Profile Photo

মাহ্দী সাকিবOffline

  • Mahdi-Sakib
  • Profile picture of মাহ্দী সাকিব

    মাহ্দী সাকিব

    3 years, 5 months ago

    হারিকেনের অল্প আলোতে মায়ের একজোড়া মেয়ে কবুতরের গুনগুন পড়ার টেবিলে আঁচড়ে পরা কোন এক সন্ধ্যা। সাতাইশের পরিশ্রমি বট বৃক্ষের হাতে দুই প্যাকেট খুশি। ছোট মেয়ে কবুতর এক প্যাকেট খুশি খেয়ে ঘুমিয়েছে রাতে’ই, সকালে বড় মেয়ে কবুতরের ভাগের ওই বাকি এক প্যাকেট খুশির জন্য ফের করলো কান্নাকাটি, আবদার। ছোট মেয়ে কবুতর কে নিজের খুশি খেতে দিয়ে পর্দার আড়ালে গিয়ে হেঁচকি তুলে কাঁদলো, চোখ মুছলো হাতের উল্টো পিঠে বড় মেয়ে কবুতর। সাতাইশের বটবৃক্ষ তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, মা রে.. বড়দের সবসময় সেক্রিপ্রাইজ করতে হয়।

    ডিসেম্বরে নরম হাওয়ার কোন এক বিকেল। শস্তা রেষ্টুরেন্ট, প্লেটে গুটিসুটি মেরে বসে থাকা দু’টো সিঙ্গাড়া, পাশে দু’টকরো পেটকাটা শসা, জলের গেলাস। সম্মুখে বসা অকৃতজ্ঞ, আহাম্মক, ব্যার্থ বেকার প্রেমিক। নিজের তীব্র চাওয়াকে দূরে সরিয়ে বললো ঊনিশের প্রেমিকা, বিয়ের ডেট ফিক্সড হয়েছে আমাকে ভুলে যাও। তেলেবেগুনে গরম হয়ে নিজের ব্যার্থতার দিকে না তাকিয়ে প্রতারক বলে খিস্তি দিয়ে জলের গ্লাস ভাঙলো অকৃতজ্ঞ প্রেমিক। অপমান। লজ্জা। সবাই জলের গ্লাস ভাঙার শব্দ শুনতে পেয়েছে ঠিকিই কিন্তু মন ভাঙার শব্দ শোনেনি কেউ। বান্ধবী চোখ মুছে দিয়ে বললো, পরিবারের কথা একবার ভাব, তোর একটা ভুল সিদ্ধান্ত তোর ছোটবোনের উপরেও প্রভাব ফেলবে, পরিবারের বড় মেয়ে হয়েছিস এইটুকুন কষ্ট তো মেনে নিতেই হবে…

    শোবার ঘর, দেয়াল ঘড়িতে রাত বারোটায়। পাশে পরনারীর গন্ধ মাখা শরীর নিয়ে শুয়ে থাকা ক্লান্ত স্বামী, বুকে নবজাতক শিশু, চোখভর্তি জল। চরিত্রহীন স্বামীর সঙ্গে সংসার করা সম্ভবনা বলে জেদ ধরায় মা পিঠে হাত বুলিয়ে বুঝাচ্ছিলো, একটা বাচ্চা হইছে রে মা, কি আর করবি,সবই কপালের দোষ, তুই এখন সংসার ভেঙে আসলে তোর ছোটবোনকে বিয়ে দিবো কিভাবে, একটু ধৈর্য ধর মা, মেনে নে….

    বয়স ষাটোর্ধ বৃদ্ধ। মেরুদণ্ড ভাঙা জীবন। একটা অপরিচিত ঘর, অপরচিত কতগুলো মুখ, নিজের নামটি হারিয়ে এখন নাম হয়েছে বৃদ্ধা। দুঃখ নাম হারানোর জন্যে হচ্ছেনা, দুঃখ হচ্ছে পরিবারের হারানোর জন্য। বৃদ্ধাশ্রম লেখা সাইনবোর্ডের দিকে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে আঁচল টেনে ঝাপসা চোখ মুছে ফের ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে মনে মনে নিজেকে নিজে বললো, ওরা তো সুখে আছে, সন্তানের সুখেই তো মায়ের সুখ, সন্তানের জন্যে তো এইটুকুন কষ্ট করতেই পারি।

    এই নশ্বরে বড় হয়ে জন্মানোর মত অভিশাপ আর নেই। পরিবারের বড় মেয়েগুলো জীবনের প্রতিটি ধাপে ধাপে সেক্রিপ্রাইজ করতে করতে শেষমেশ নিজের জন্য অবশিষ্ট আর কিছুই থাকেনা। তারা দুঃখি কবিতা, তাদের কাদঁতেও হয় গোপনে একা। ভেজা চোখের জল মুছার জন্য নিজের দু’টো হাত ছাড়া আর কেউ থাকেনা হায়…

    13
    4 Comments
    • ছাড় দিতে-দিতে একসময় জীবনটাই ছেড়ে চলে যায়।

    • গল্প হচ্ছে বাক্যের নিপুন খেলা। লিখে যাও। অভিনন্দন।

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 30 December 2022 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

যে হৃদয়ে স্রষ্টার স্থান,সে হৃদয়ে পার্থিব মোহ বড্ড বেমানান!

মাহ্দী সাকিব

মাহ্দী সাকিব

আমি এক দৃশ্যের পেছনের মানুষ; আমাকে খুঁজতে হলে, তোমাকে অতীতে ফিরতে হবে।

নাকের ডগায় মৃত্যু নাচে, জীবনকে শোনাই মুক্তির গান।

Skip to toolbar