-
তোমাকে না পাওয়ার যন্ত্রণায় আমি সিলভিয়া প্লাথের মতো গ্যাস ওভেনে মাথা গুঁজে দিতে পারতাম, কিংবা সানন্দে মুখে তুলে নিতে পারতাম এক পেয়ালা হেমলক। বিচার না পাওয়া কোনো ধর্ষিতার মতো ক্ষোভে-ক্ষতে নিজের জীবনটাকে ঝুলিয়ে দিতে পারতাম ফাঁসির রশিতে।
অথচ—আমি তার কিছুই করিনি।
আমি বেছে নিলাম কলম। প্রতিদিন সাদা কাগজের শরীরে খোদাই করলাম তোমার দেওয়া প্রতিটি আঁচড়ের গল্প, জমাট বাঁধা ক্ষতের ইতিহাস। বাদ পড়েনি বেদনার নিষ্ঠুরতা কিংবা বিষাদের নির্মমতা। আমি ভেঙেচুরে আবার নিজেকে গড়লাম; শব্দের একেকটি ধারালো আঁচড়ে তোমার ওপর নিলাম চরম প্রতিশোধ—প্রতিটি দিন, নতুন করে।
তোমাকে হারানোর শোকে কোনো কয়েদির মতো আলো-বাতাসহীন চার দেয়ালের ঘরে নিজেকে চিরতরে বন্দি করে রাখতে পারতাম। পৃথিবীর ওপর জমা ক্ষোভ থেকে দু’আঙুল বিদ্ধ করে উপড়ে ফেলতে পারতাম নিজের জোড়া চোখ। অথচ আমি তা করিনি।
আমি ছুটে গেছি উত্তাল সমুদ্রের কাছে, পাহাড়ে উঠে ছুঁয়ে এসেছি মেঘ। আর নির্জন সবুজ অরণ্যে মিশে গিয়ে শরীর থেকে ঝেড়ে ফেলেছি সেই সব কলঙ্কের ধূলিকণা—যা মমতার ছদ্মবেশে তুমি আমার গায়ে লেপে দিয়েছিলে। আমাকে স্পর্শ করার কথা ছিল মৃত্যুর, অথচ অলৌকিকভাবে আমাকে আঁকড়ে ধরল বেঁচে থাকার তীব্র আকুলতা। আমি নতুন করে প্রেমে পড়লাম এই মহাজাগতিক পৃথিবীর।
নজরুল বলেছিলেন, “হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান।” সত্যি, দুঃখ আর যন্ত্রণাও যে মানুষকে কতটা মহান ও গভীর করে তুলতে পারে, তোমাকে পেয়ে গেলে হয়তো তা অধরাই থেকে যেত।
মানুষের জীবনে কিছু অপূর্ণতা থাকা বড্ড জরুরি; কিছুটা দুঃখ-যন্ত্রণা থাকা প্রয়োজন। বেদনাই তো জীবনকে তীব্রভাবে অনুভব করতে শেখায়, অনুভূতির গভীরে লুকিয়ে থাকা নিজেকে আবিষ্কার করতে সাহায্য করে। কখনো কখনো পাওয়ার আনন্দের চেয়ে না পাওয়ার বিষাদ অনেক বেশি মধুর, অনেক বেশি স্বর্গীয়।
দুঃখ তো কেবল ঈশ্বরের নেই। রক্তমাংসের মানুষ হয়ে জন্মে দুঃখহীন জীবনের প্রত্যাশা করাটা কি ঘোর বোকামি নয়?3 Comments
Masfi
Friends
মোঃ জামশেদ আলী
@zamshedali
Samiul Islam
@samiulislam
রফিকুল নাজিম
@rafiqulnazimgmail-com
মোঃ বাবুল হোসাইন
@babulsir2003gmail-com
অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
@arghyadeep2000
ফয়সাল মোরশেদ
@foysalmorshed
মনির হোসেন
@monirhossen
shibatus bhattacharjee
@shibatus
Monali Ahmed (Mona)
@monaliahmed


আপনার শব্দচয়নগুলো এক গভীর ক্ষতকে যেভাবে শিল্পের মোড়কে রূপান্তর করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং হূদয়স্পর্শী। যেভাবে আপনি ব্যক্তিগত শোককে ছাপিয়ে অস্তিত্বের নতুন অর্থ খুঁজে নিয়েছেন, তা অনেকটা রবীন্দ্রনাথের সেই দর্শনের মতো, যেখানে বিরহকে এড়িয়ে না গিয়ে তাকেই জীবনের গভীরতর উপলব্ধির খোরাক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষাদকে এভাবে সৃজনশীলতায় রূপান্তর করার সক্ষমতা একজন মানুষের জীবনের প্রতি পরম মমতারই পরিচয় বহন করে।