Profile Photo

naznin shamimOffline

  • nazninshamim
  • Profile picture of naznin shamim

    naznin shamim

    • 3 weeks ago

    “অপূর্ণতার জলছাপ”
    নাজনীন শামীম
    চট্টগ্রাম থেকে
    ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং

    ​শ্রাবণের মেঘগুলো যখন আকাশজুড়ে ভারী হয়ে নামত, তপুর মনে হতো পুরো শহরটাই যেন একটা পুরোনো চিঠি—যার প্রতিটা ভাঁজে কেবল জলছাপ জমে আছে।
    ​তপু আর তুলির গল্পটা অন্য দশটা সাধারণ প্রেমের গল্পের মতোই শুরু হয়েছিল। ক্যাম্পাসের বকুলতলায় আড্ডা, একসাথে রিকশায় ভিজে বাড়ি ফেরা, আর শেষ বিকেলে এক কাপ চা ভাগ করে খাওয়া। তুলি বলত, “তপু, মানুষ নাকি অভিমান করে দূরে সরে যায়, কিন্তু আমি যদি কখনো হারিয়ে যাই, বুঝে নিও সেটা অভিমান নয়, অপূর্ণতা।” তপু তখন হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল কথাটা।
    ​কিন্তু মাঝরাতের বৃষ্টির মতো কিছু সত্য কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই নেমে আসে। তুলির পরিবারের সিদ্ধান্ত আর বাস্তবতার কাছে তপুর আবেগটা বড্ড ফিকে হয়ে গেল। তুলির বিয়ের দিন তপু কোনো নাটক করেনি, মণ্ডপে গিয়ে বাঁধাও দেয়নি। শুধু দূর থেকে দেখেছিল, লাল বেনারসিতে তুলিকে অপরিচিত কোনো এক রাজকীয়তার মতো লাগছে—যেখানে তপুর কোনো স্থান নেই।
    ​বিয়ের পর তুলি শহর ছেড়ে চলে যায়। সময় তার নিজের নিয়মে বয়ে গেছে পাঁচ বছর। তপু এখনো সেই পুরোনো শহরেই আছে, তবে এখন আর বৃষ্টি নামলে তার রিকশায় চড়তে ইচ্ছে করে না। সে এখন তুলট লেখকমঞ্চে মাঝেমধ্যে ছদ্মনামে ছোটগল্প লেখে।
    ​আজও একটা গল্প শেষ করে তপু ল্যাপটপটা বন্ধ করতে যাবে, এমন সময় অচেনা এক আইডি থেকে মেসেজ এলো। লেখা—
    “লেখক, আপনার গল্পগুলো বড্ড চেনা লাগে। মনে হয় কোনো এক শ্রাবণে কেউ একজন বকুলতলায় বসে এসব লিখে রেখেছিল। আপনি কি এখনো সেই বিকেলের চা-টা একা খান?”
    ​তপুর হাত দুটো কিবোর্ডের ওপর কিছুক্ষণ স্থবির হয়ে রইল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে সে হাসল—একটা ম্লান, নিশব্দ হাসি। তারপর কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু অ্যাকাউন্টটা বন্ধ করে উঠে দাঁড়াল।
    ​সব ভালোবাসার পরিণতি পেতে নেই। কিছু গল্প অপূর্ণতার খামে বন্ধ থাকলেই বোধহয় তাদের সৌন্দর্য বেঁচে থাকে।

    6
    11 Comments
    • গল্পটা আর একটু দীর্ঘ হতো যদি! ক্লাইমেক্সে পৌঁছেই শেষ।

    • কিছু ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না বলেই স্মৃতির ভাঁজে জলছাপ হয়ে চিরসুন্দর থেকে যায়…🖤

    • নাজনীন শামীম, আপনার লেখা গল্পটা পড়ে মনে হলো একদম নিজের চারপাশের চেনা কোনো অনুভূতি খুব সুন্দর করে গুছিয়ে তুলে ধরেছেন।

      • ধন্যবাদ রুপাই তোমার সুন্দর মন্তব্যের জন্য, এভাবে আমার লিখার পাশে থেকো🌺🌺

    • মনে হলো, কবিতাটি কোনো দৃশ্য আঁকেনি; বরং সেই দৃশ্যের পর মানুষের ভেতরে কী ঘটে, সেটাই ধরেছে।

    • নাজনীন শামীম, শ্রাবণের বৃষ্টির মতো স্নিগ্ধ এই লেখায় তপু ও তুলির অনুভূতির যে গভীর জলছাপ ফুটে উঠেছে তা হৃদয়ে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতার ছোঁয়া দিয়ে গেল, আর এমন অসম্পূর্ণ গল্পের সৌন্দর্য ঠিক তেমনি যেমনটা আমরা প্রায়শই শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে খুঁজে পাই—তাই ভবিষ্যতে আরও এমন হৃদয়স্পর্শী কাহিনী উপহার দেওয়ার প্রত্যাশায় আপনার কলম চলুক আপন গতিতে।

      • তোমার অনবদ্য মন্তব্যে আমি সত্যি ই অভিভূত সোনাই❤️❤️

    • তা ঠিক কিছু ভালবাসা অপূর্ণতাই হয়তো ভালো ।

Friends

Skip to toolbar