-
“”ছায়াশরীরের শেষ স্বীকারোক্তি””
নাজনীন শামীম
চট্টগ্রাম থেকে
২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং ঠিক রাত ৩টা ১৫ মিনিটে ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোটা পর পর তিনবার নিভে আবার জ্বলে উঠল। অর্ণব জানে, ওটা শহরের বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো গোলযোগ নয়—ওটা একটা অমঙ্গলজনক সংকেত। পুরো নিঝুম শহর যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই শুরু হয় তানভীরের অলিখিত খেলা। অথচ তানভীর তো বেঁচে নেই! ছয় মাস আগেই পদ্মার উত্তাল জলে তার লাশ ভেসে উঠেছিল, অন্তত পুলিশের রিপোর্ট তো সেটাই বলে।
অর্ণব পড়ার ঘরের কাঠের টেবিলটার সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ডেস্কের ওপর পড়ে আছে একটা কালো খাম। খামটার ওপর শুকনো রক্তের মতো গাঢ় লাল কালিতে লেখা একটিমাত্র বাক্য: “তুমি যা লুকিয়েছ, তা বাতাসেও গন্ধ ছড়ায়।”
হাতটা সামান্য কেঁপে উঠল অর্ণবের। আঙুলের ডগায় এক ফোঁটা ঠান্ডা ঘাম জমে উঠেছে। খামটা খোলার জন্য হাত বাড়াতেই ঘরের বন্ধ জানালাটা প্রচণ্ড শব্দে খুলে গেল। এক ঝলক অস্বাভাবিক হিমশীতল বাতাস ঘরের ভেতরের একমাত্র বাতিটা একসাথে নিভিয়ে দিল। ঘুটঘুতে অন্ধকারে কেবল শোনা গেল একটা পরিচিত কাশি—যা অর্ণব গত পাঁচ বছর ধরে চেনে।
“তুমি ভেবেছিলে নদী সব ধুয়ে নিয়ে যায়, তাই না অর্ণব?” অন্ধকারের ভেতর থেকে একটি ফিসফিসে কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।
অর্ণবের বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা যেন লাফিয়ে গলা পর্যন্ত চলে এলো। দেয়ালে হাতড়ে সুইচের খোঁজ করতে গিয়ে সে টের পেল, পেছনের দেয়ালটা যেন অদ্ভুতভাবে স্যাঁতসেঁতে আর ভিজে। ঘামের সঙ্গে এক তীব্র পচা জলের গন্ধ ঘরের আবহাওয়ায় ভারী হয়ে উঠেছে।
“তানভীর? তুমি… তুমি তো শেষ হয়ে গিয়েছিলে!” অর্ণবের গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছিল না বললেই চলে।
“যে সত্য তুমি পুঁতে রেখেছিলে, সে তো শিকড় গজিয়ে বৃক্ষ হয়ে গেছে অর্ণব। আজ ফল সংগ্রহের রাত।”
অন্ধকারে একটা দেশলাই জ্বালানোর খসখস শব্দ হলো। এক মুহূর্তের জন্য আলোর শিখায় ফুটে উঠল একটা মুখ—অর্ধেক পোড়া, চোখের কোটরে গভীর শূন্যতা, আর ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত কুটিল হাসি। দেশলাইয়ের আলোটা নিভে যাওয়ার আগেই অর্ণব দেখল, তানভীরের হাতে ধরা রয়েছে সেই পুরানো ডায়েরিটা, যা উদ্ধার করার জন্য অর্ণব ছয় মাস আগে একটা খুন করতেও পিছপা হয়নি।
“আজ রাতে খেলা শেষের বাঁশি বাজবে,” অন্ধকারের মধ্য থেকেই আওয়াজটা এবার একদম অর্ণবের কানের কাছে ভেসে এলো, “হয় তুমি নিজের মুখে পুরো শহরের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করবে, না হয় কাল সকালে ল্যাম্পপোস্টের নিচে তোমার ঝুলন্ত শরীরটা আবিষ্কার করবে পুলিশ। তোমার কাছে সময় আছে মাত্র দশ মিনিট।”
ঘরের দেয়ালঘড়িটার ‘টিক টিক’ শব্দটা এখন অর্ণবের কাছে কোনো ঘড়ির কাঁটার শব্দ মনে হচ্ছে না, মনে হচ্ছে তা তার নিজের মৃত্যুর কাউন্টডাউন। অর্ণব বুঝতে পারল, অতীত থেকে পালানোর কোনো পথ আর অবশিষ্ট নেই। সত্য প্রকাশ করা ছাড়া আজ রাতে এই ঘর থেকে জীবন্ত বের হওয়ার আর কোনো উপায় নেই।4 Comments
Friends
Zahidul Jamy
@zahidul
মোঃ বায়েজীদ
@bayejid
ঈশিতা ঈরু
@eshitabiswaseru15
Shojan Maria Shoche
@shojanmaria
সিরাজুল ইসলাম
@sherajulislam
Santo Mon
@santomon
Ariba Mehzabin Yeana
@aribamehzabin
Md. Jahangir Alam
@md-jahangiralam
Nusrat jahan Sadia
@nusratjahansadia


আপনার লেখাটা পড়ে একদম গা ছমছম করে উঠল, পুরোটা যেন সিনেমার মতো চোখের সামনে ভেসে বেড়াচ্ছিল। এত দারুণ সাসপেন্স আর রহস্যময় বর্ণনা যে শেষ পর্যন্ত শ্বাস ধরে পড়তে হয়েছে।