Profile Photo

Noorjahan TaniaOffline

  • Noorjahan-Tania
  • Profile picture of Noorjahan Tania

    Noorjahan Tania

    4 years, 6 months ago

    শিরোনামঃ অর্পিতার বিয়ে
    নূরজাহান তানিয়া

    আজ অর্পিতার বিয়ে। প্রথম নয়, দ্বিতীয় বিয়ে।
    পরিস্থিতির চাপে সামাজিকতার কারণে অনিচ্ছাসত্ত্বেও দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হচ্ছে অর্পিতাকে।
    একমাত্র সন্তান আয়ানকে ছেড়ে যেতে কলিজা ছিড়ে যাচ্ছে তার। তবুও কিছু করার নেই। ওর হাত-পা যে নিয়তির শিকলে বাধা!
    বছর পাঁচেক আগে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন মিলে খুব ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছিল অর্পিতাকে।কিন্তু সবার কপালে সুখ থাকেনা!
    বিয়ের আগে জানতো তার বর ব্যবসা করে। বিয়ের পরেও তাই জেনে এসেছে। ব্যস্ততার কারণে স্বামী তাকে ঠিকমতো সময়ও দেয়নি।
    মন খুলে তার সাথে দুটো কথাও বলতে পারেনি অর্পিতা।
    হোঁচট খেল কয়েকমাস পরে….
    রান্নাঘরে কাজ করার সময় একদিন তার বড়জা এসে বললো-
    শোন অর্পি, তোমাকে কিছু কথা বলে রাখি।তোমার বরকে বল কাজকর্ম কিছু করতে। এভাবে আমাদের ঘাড়ে বসে আর কতদিন গিলবে তোমরা!
    এতদিন একজনকে খাইয়েছি, এখন দুজন। কিছুদিন পরে তিনজন হবে। তোমাদের বিবেক বলে কিচ্ছু নেই!
    একনাগাড়ে কথাগুলো বলে হনহনিয়ে চলে গেল সে।অর্পি তার যাওয়ার পানে চেয়ে রইলো।
    অর্পিতার পায়ের তলার মাটি যেন সরে যাচ্ছে। মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো তার।
    বিয়ের আগে অর্পিতার পরিবার ছেলের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তেমন সময় পায়নি। তুষারের মা অসুস্থ, যায় যায় অবস্থা। মরার আগে ছোট ছেলের বউ দেখে যেতে চান।সেই অযুহাতে খুব তাড়া দিচ্ছিল পাত্রপক্ষ। সবচেয়ে বড় কথা হলো প্রস্তাবটা অর্পিতার কাছের আত্নীয়র মাধ্যমেই এসেছিল। সেই ভরসায় অর্পিতাকে বিয়ে দিয়েছিল তার মা-বাবা।
    বিয়ের পর থেকেই অর্পিতা নতুন পরিবারের সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি।কোথায় যেন একটা দূরত্ব ছিল বড় জা’এর উপরোক্ত কথায় সেটা বুঝতে পারে সে।
    ততদিনে অর্পিতার ঘরে নতুন অতিথি আসতে চলেছে।
    স্বামীকে বলতে গিয়ে উল্টো ঝাড়ি খেতে হয় অর্পিতাকে।
    দেখো অর্পিতা, আমি এমনিতেই খুব টেনশনে আছি। এসব আজেবাজে কথা বলে মেজাজটা গরম করোনা তো! তোমাদের মেয়েমানুষের এ-ই একটা বদঅভ্যেস, আজাইরা ঘ্যানঘ্যান প্যানপ্যান!
    আচ্ছা, তোমাকে কি না খাইয়ে রেখেছে? মারধর করেছে? গালমন্দ করেছে কেউ?
    একথার কোন জবাব দিতে পারেনা অর্পিতা।
    বিয়ের পর থেকে সবার রুঢ় আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গেছে অর্পি।কিন্তু স্বামীও যে এমন করবে সেটা তার ধারণায় ছিলনা!
    আস্তে আস্তে দূর্বল হয়ে পড়ায় আগের মতো সাংসারিক কাজকর্ম, সকলের সেবা করতে পারেনা সে। তাই উঠতে বসতে খাওয়ার খোটা, অপমান-লাঞ্ছনা তার নিত্যদিনের রুটিন হয়ে যায়।
    সন্তান প্রসবের জন্য বাবার বাড়ি আনা হয় অর্পিতাকে।তার আর স্বামীর ঘরে ফিরে যাওয়া হয়না।
    ডেলিভারি পেইন শুরু হলে অর্পিতা নিজেই ফোন করে তুষারকে।তুষার মাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবে তাই আসতে পারবেনা বলে জানায়।
    অনেক রাতে হাসপাতালে এসে ছেলেকে দেখে যায় তুষার। তারপর আর খোঁজ নেই!
    ডিসচার্জের দিন বারবার তুষারকে ফোন করা হয় কিন্তু সে রিসিভ করেনা।
    ছয়মাস পর ডিভোর্স হয়ে যায় তুষার-অর্পিতার।এই ছয়মাসে আয়ানকে একবার দেখতে পর্যন্ত আসেনি।

    আম্মু আম্মু, তুমি আজ সেজেছ কেন?
    আয়ানের কথায় ভাবনায় ছেদ পড়ে অর্পিতার।
    এমনিই বাবা- ছেলেকে বুকে জড়িয়ে নেয় অর্পিতা।
    বুক ফেটে কান্না বেড়িয়ে আসতে চায়, কিন্তু কাঁদতে পারেনা সে।
    জানালা দিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে আছে অর্পিতা। চারদিকে সুনশান নিরবতা। নিশাচর পাখিরাও ঘুমিয়ে গেছে। ঘুম নেই শুধু অর্পিতার চোখে।
    বিছানার দিকে তাকাতেই বুকটা ধক করে ওঠে। আসাদুজ্জামান তার দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে আছে। অথচ আয়ান?
    বাবা কি জিনিস জানেনা, এখন মাকেও হারালো!
    এদিকে অর্পিতা আসাদুজ্জামানের দুই মেয়ের মা হতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে অথচ নিজের ছেলেকে একবার দেখতে হলেও একজনের অনুমতি লাগে!
    এ এক সীমাহীন যন্ত্রণা!

    6
    5 Comments
Skip to toolbar