-
“ইচ্ছে ঘুড়ি”
আকাশে মেঘের ঘনঘটা এক পশলা বৃষ্টি শেষে কিছুটা রোদের হাতছানি। বড়ই বিচিত্র এক জগৎ। আকাশে চলে রঙের খেলা। প্রত্যেক দিনের মতো আজকেও আরিয়ান বিকেলে হাঁটতে বের হয়। উদ্দেশ্য অতি সামান্য, বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ করা।
রাস্তার ধারে ছোট্ট একটি জায়গায় ৮/৯ বছর বয়সি এক ছেলে শূন্য থালা নিয়ে বসে আছে। এই ছেলে, তোর নাম কি? আরিয়ান বলল, ইচ্ছে। ছেলেটি অন্যদিকে তাকিয়ে বলল। ইচ্ছে! এটা আবার কেমন নাম?
ঠিক ধরেছেন। এটা আমার বানানো নাম। নাম বানিয়ে রেখেছিস কেন? কি করবো বলেন? বাবা-মা মরা ছোট ছেলে আমি। তার উপর আরো ছোট এক ভাইকে খাওয়াতে হয়। অনেক স্বপ্ন দেখি, অনেক সাধ জাগে। এই জন্য আমার নাম ইচ্ছে।
তুই পড়াশোনা করিস না? পাশে যে শুয়ে আছে সে কি তোর ভাই?
একটু অবাক হয়ে শুয়ে বললো, পড়াশুনা! পেটে ভাত জুটে না করব কেমনে। হ্যাঁ, ও আমার ছোট ভাই রূপক। পাঁচ বছর বয়স তার।
কিছুটা ব্যথিত হয়ে আরিয়ান বলল, তোমরা কি রাস্তায় ঘুমাস? কষ্ট হয় না তোদের? কষ্ট! হয় বটে। গরিবের দুঃখ-কষ্ট থাকতে নেই।
এরমধ্যে রূপক ঘুম থেকে উঠে গেল। কার সাথে কথা বল, ভাইয়া? আধঘুম গলায়।
একজন বড়লোকের ছেলের সাথে। উনি কি আমাদের টাকা দিতে এসেছে? না রে। ওরা আমাদের মতো গরীবদের কিছু দেয় না।
ওদের অনেক কষ্ট তাই না রূপক? আরিয়ান বলল।
হ্যাঁ, অনেক। ভাইয়া ভিক্ষা করে, মানুষের কাজ করে যা পায় তাই দিয়ে একটু খাবার তুলে দেয় আমার মুখে।
তোরা কি সব সময় এখানে থাকিস?
কই আর যাব বলেন?
তোরা একটু দাড়া এখানে, আমি আসছি। এই বলে দৌড়ে চলে গেলো সিন্টুর বাসায়।
এই সিন্টু, দরজা খোল। এক নিঃশ্বাসে আরিয়ান বলে ফেলল।
কি হয়েছে? তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন? সিন্টু প্রশ্ন করল।
একজনকে সাহায্য করতে হবে। তোর কাছে যত টাকা আছে সেটা নে আর বাকিদের ফোন করে বলে দে কিছু টাকা নিয়ে রাস্তার মোড়ে আসতে।
ওকে, আমি বলে দিয়েছি। সবাই আসতেছে। আরিয়ান রূপকের মুখের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বলল, এই নে টাকা। আজ থেকে তোদের কষ্টের দিন শেষ।
তুই এখন থেকেই স্কুলে যাবি রে, রূপক। আরিয়ানের বন্ধু রুশান বলল।
ইচ্ছে বলল, কিন্তু কিভাবে স্কুল যাবে?
আমরা বন্ধুরা মিলে একটি স্কুল চালাই সেখানে পড়তে কত টাকা লাগে না । সিন্টু বলল। ইয়ে, কি মজা আমি স্কুলে যাব।
তুই কিছু ফুল নিয়ে স্কুলের সামনে ফেরি করবি আর অন্য সময় আমাদের কাছে পড়বি। আরিয়ান ইচ্ছেকে বলল।
আমাদের সব কষ্ট শেষ হয়ে গেল, ইচ্ছে বলল। এবার তো তোর ভালো নামটা বল ,আরিয়ান বলল।
আমার ভাল নাম হচ্ছে ইশরাক হাসান।
আমরা তোকে ইচ্ছে বলেই ডাকব। রুশান হেসে বলল।
কষ্টকর এক জীবন থেকে মুক্তির বাতাস যেন নতুন করে বাঁচতে শেখায়। নতুন এক আগামীর প্রত্যাশায়।নাম: নুশরাত জাহান মহিমা
ঠিকানা: কেরানিপাড়া, রংপুর সদর, রংপুর
7 Comments
Friends
মোহাম্মদ আফজাল হোসেন মাসুম
@afjalhossain
মীর অনাবিল
@miranabil
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
নাজমুল হক জুয়েল
@nazmulhoqjewel
কাজী জহির আহমেদ
@kazizahirahmed
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
আব্দুল মজিদ মারুফ
@abdulmojid
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
Shohag arnob
@shohagarnobgmail-com


চমৎকার গদ্য। অভিনন্দন।