Profile Photo

ম পানা উল্যাহ্Offline

  • Profile picture of ম পানা উল্যাহ্

    ম পানা উল্যাহ্

    • 1 month, 2 weeks ago

    সোনাভানের পুঁথি বাংলা পুঁথিসাহিত্যের (বিশেষ করে দোভাষী বা মিশ্র ভাষার পুঁথি) একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বিখ্যাত রোমান্টিক-বীরত্বগাথা আখ্যান। এটি মূলত বীরত্ব, অলৌকিকতা এবং ইসলামের রূপান্তরের কাহিনি নিয়ে রচিত।
    ​রচয়িতা ও বৈচিত্র্য
    ​প্রধান রচয়িতা: এ বিষয়ের সবচেয়ে বিখ্যাত পুঁথিকার হলেন ফকির গরীবুল্লাহ (১৮ শতক)। এছাড়া পরবর্তীতে সৈয়দ হামজা (‘ছহি বড় সোনাভান’), জালাল ফকির (১৮৮৫) এবং মুন্সী আবদুল করিম-সহ একাধিক লোককবির সংস্করণে সোনাভানের কাহিনি লিখিত ও বটতলার ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়।
    ​ভাষা ও লিপি: পুঁথিটি দোভাষী বাংলায় (বাংলা, আরবি, ফারসি ও উর্দু শব্দের মিশ্রণে) রচিত। সিলেট অঞ্চলে এটি পরবর্তীতে সিলেটি নাগরী লিপিতেও ব্যাপকভাবে অনুলিখিত ও পঠিত হতো।
    ​কাহিনি ও পাত্র-পাত্রী
    ​মূল চরিত্র: ‘কহরদরিয়া’ বা ঐতিহাসিক টঙ্গী অঞ্চলের পরাক্রমশালী ও রূপসী শাসকনন্দিনী সোনাভান এবং হজরত আলীর (রা.) পুত্র বীর আবু হানিফা।
    ​কাহিনি সংক্ষেপ: সোনাভান ছিলেন অসাধারণ রূপসী, তবে অত্যন্ত অহংকারী ও বীরপ্রতীম নারী। তার পণ ছিল— যে পুরুষ তাকে যুদ্ধে পরাজিত করতে পারবে, সে-ই তাকে বিয়ে করতে পারবে।
    ​এই খবর পেয়ে মদিনা থেকে বীর আবু হানিফা টঙ্গীতে আসেন এবং সোনাভানের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। প্রথমদিকে সোনাভানের হাতে আবু হানিফা বারবার পরাস্ত হন এবং বন্দি হন। পরবর্তীতে অলৌকিক সহায়তা ও পুনর্জাগরণের মাধ্যমে আবু হানিফা যুদ্ধে জয়লাভ করেন এবং সোনাভানকে পরাজিত করে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ করেন।
    ​ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্ব
    ​লোক-কিংবদন্তি ও স্থান: পুঁথিতে বর্ণিত ‘কহর দরিয়া’ বলতে বর্তমান গাজীপুরের তুরাগ নদ এবং সোনাভানের রাজ্য বলতে টঙ্গী অঞ্চলকে নির্দেশ করা হয়। স্থানীয় লোককথা ও ঐতিহ্যে এখনো সোনাভানের নাম জড়িয়ে আছে।
    ​সাংস্কৃতিক তাৎপর্য: আঠারো ও উনিশ শতকে গ্রামীণ বাংলায় কুপির আলোয় হাটে-বাজারে বা বাড়ির উঠানে সোনাভানের পুঁথি সুর করে পাঠ করা ছিল এক বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। এর মধ্য দিয়ে ইসলামি বীরত্বগাথা ও লোককাহিনির চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে।

    1
    2 Comments
    • ম পানা উল্যাহ্, সোনাভানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখাটি পড়ে আমাদের লোকজ ঐতিহ্যের প্রতি আপনার গভীর আগ্রহ ও মমত্ববোধের পরিচয় পেয়ে খুব ভালো লাগল। ‘সোনাভানের পুঁথি বাংলা পুঁথিসাহিত্যের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বিখ্যাত রোমান্টিক-বীরত্বগাথা আখ্যান’—তথ্যসমৃদ্ধ এই বাক্যটি আমাদের লোকগাথা সম্পর্কে জানতে বেশ উৎসাহিত করে। আপনার লেখনীর এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক এবং নতুন নতুন বিষয়ে আপনার এমন চমৎকার সব আলোচনার অপেক্ষায় রইলাম।

    • “পুঁথিতে বর্ণিত ‘কহর দরিয়া’ বলতে বর্তমান গাজীপুরের তুরাগ নদ এবং সোনাভানের রাজ্য বলতে টঙ্গী অঞ্চলকে নির্দেশ করা হয়।” – চমৎকার লাগল এই তথ্যটা জানতে পেরে। লোককাহিনী, ইতিহাস – এসবের সাথে বর্তমানকার স্থাঙ্গুলা মিলাতে পারলে ভালো লাগে। সনাভানের পুঁথি সম্পর্কে এই অবতারনামূলক লেখাটা খুব ভালো লাগল। শুভেচ্ছা নিবেন।

Skip to toolbar