Profile Photo

ম পানা উল্যাহ্Offline

  • Profile picture of ম পানা উল্যাহ্

    নোয়াখালীর ঢেঁকি-ম পানা উল্যাহ

    নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি গ্রাম বাংলার সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মূলত ধান থেকে চাল তৈরি, চালের গুঁড়া করা এবং মুড়ি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতো । যদিও আধুনিক প্রযুক্তি ও রাইস মিলের কারণে এটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে , তবুও নোয়াখালীর গ্রামঞ্চলে এখনও বিশেষ পিঠা তৈরিতে ঢেঁকিছাটা চালের কদর রয়েছে ।
    নোয়াখালীর ঢেঁকির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
    ঐতিহ্যবাহী ব্যবহার: এই ঢেঁকিতেই তৈরি হতো ঐতিহ্যবাহী খোলাজালি পিঠা বা চালের গুঁড়া ।
    বিলুপ্তি: বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে কাঠের তৈরি এই আদি ঢেঁকির ব্যবহার প্রায় হারিয়ে গেছে ।
    সংস্কৃতি: এটি একসময় নোয়াখালীর প্রতিটি গৃহস্থের বাড়ির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, যা গ্রামীণ অর্থনীতির পরিচয় বহন করত ।
    নোয়াখালীর ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতির অন্যতম বাহক ছিল এই ঢেঁকি, যা এখন কেবলই স্মৃতি হয়ে থাকছে ।
    বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ‘ঢেঁকি’ ‘বৌ ধান বানরে উঠানে বসিয়া, আমি নাছি তুমি নাচ হেলিয়া ধুালয়া বৌ ধান বানরে’। নেচে গেয়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ‘ঢেঁকি’ দিয়ে চালগুড়া করার প্রাচিন এই পদ্ধত্বি বিলুপ প্রায়।

    বাঙালির পিঠা সংস্কৃতির ইতিহাসে ঢেঁকিচাঁটা চালের গুড়ি পিঠা তৈরির অনস্বীকার্য উপকরণ। প্রযুক্তি প্রসারে ঢেঁকির ব্যবহার কমে এলেও বিশেষত গ্রাম বাংলার রসুইঘরে ঢেঁকির উপস্থিতি এখনও লোকঐতিহ্যৈর সাক্ষর বহন কর

    খোলাজালি পিঠা –
    খোলাজালি পিঠা, খোলাজা পিঠা বা খোলা পিঠা হলো দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের নোয়াখালী অঞ্চলে উৎপন্ন চালের গুঁড়ার তৈরি একটি পিঠা। ঐতিহ্যবাহী এই পিঠা বৃহত্তর নোয়াখালীর লোকসংস্কৃতি প্রাণ। এই

    ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি
    গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশেও এর একটা বিশেষ গুরুত্ব ছিল। একসময় গ্রামগঞ্জসহ সর্বত্র ধান ভাঙা, চাল তৈরি, গুঁড়ো করা, চিড়া তৈরি, মসলাপাতি ভাঙানোসহ বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যবহৃত হতো।
    # সূত্র : দৈনিক খোলা কাগজ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দৈনিক বর্তমান বাংলা ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ষান্মাসিক শিল্প কলা ২০২৪ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

    4
    4 Comments
    • এখনকার প্রজন্ম ঢেঁকি কী জিনিস তাই জানে না। এই লেখাগুলো তাদের কাছে ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার একটা ভালো মাধ্যম হতে পারে।

    • আমাদের হারানো ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির এমন সুন্দর ও তথ্যবহুল একটি উপস্থাপন পড়ে সত্যিই খুব ভালো লাগল। আমাদের গ্রামীণ জীবনধারার এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি নিয়ে এভাবে নিয়মিত লিখে গেলে নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরা সহজ হবে, আপনার লেখনী আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠুক এই শুভকামনা রইল।

    • ম পানা উল্যাহ্, নোয়াখালীর ঢেঁকি আর খোলাজালি পিঠার কথাগুলো পড়ে একদম ছোটবেলার স্মৃতি মনে পড়ে গেল, লেখাটা দারুণ হয়েছে।

    • আহা! কি মনে করিয়ে দিলেন লেখকপ্রিয়! মা-কাকীরা এক সাথে মিলে পিঠে বানানোর সেই উৎসব, সেই ঢেঁকিভাঙ্গা চালেরগুড়ো দিয়ে বানানো পিঠের স্বাদ যান্ত্রিক এই জীবনে এসব এখন রূপকথার গল্পের মত লাগে!

Skip to toolbar