-
আজ আর গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ , দ্রব্যমূল্য নিয়ে কোন কথা বলবো না।
শুধু একটা বিষয় নিয়ে না বলেই পারছিনা।
বড় পুত্রের বেগুন ভাজা অনেক পছন্দের। বড় বড় বেগুন চাকা চাকা করে কেটে ,ধুয়ে, হলুদ , লবন ,মরিচ , জিরা, ধনিয়া গুড়া এবং চালের আটা দিয়ে মেখে ডুবা তেলে ভাজা।
সাথে আলু ভর্তা এবং ঘি। গরম ভাতের সাথে খেতে কি যে মজা।
বোনাস হিসেবে আমার জন্য- সেই ডুবো তেলে ৪/৫টা শুকনো মরিচ ভেজে নিয়ে দেশী পিয়াজ ৫/৬টা কুচি কুচি করে কেটে লবন দিয়ে দিতে হবে ডলা , শেষে এর মধ্যে সরিষার তেল দিয়ে দিলেই হয়ে গেলো মজাদার মরিচের ভর্তা।
ছেলে বললো – আম্মু বেগুন ভাজি করো না কেন?
বললাম- বেগুন ১৬০/- কেজি, আলু ৬০/-, পিয়াজ ১১০/-….
পুত্র তখন পালক পুত্রকে বললো- আম্মু না জানি রাজুর ( 3 Idiots) আম্মুর মত আমার বন্ধুরা আসলে বলে- বেগুনতো কয়দিন পরে সোনার দোকানে বিক্রি হবে🤣😃😁😜।
আম্মুতো এখন “প্রাইজ মেশিন ” হয়েছে , ডাল পাতলা কেন বললে ডালের দাম,কোন কিছু বললেই সঙ্গে সঙ্গে তার দাম বলে দেয়।
মনে মনে বললাম- কি আর করা? জিনিস পত্র কিনে আনিতো আমিই ,তখন কেউ তো দাম জানতে চায় না।তাই সুযোগ পেলেই দাম বলে দেই।
এবার আসি যে বিষয় এ লেখতে চাচ্ছি সেটায়।পরিচিত একজন এর সাথে দেখা হলো, সে আমার কাছে এসে বললো- আপু কেমন আছেন? আমি বললাম- ভালো আছি(Complementary transactions)
আপু আমি না এখন কাউন্সেলিং করি। আমি ভাবলাম সে তার পেশা পরিবর্তন করেছে( সে সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় ছিলো )। বললাম- খুব ভালো লাগলো শুনে।এরপর সে বললো- আসলে কাউন্সেলিং এর খরচ তো অনেক বেশী , তাই আমার পরিচিত যাদের সমস্যা হয় তাদেরকে আমিই কাউন্সেলিং করি।তারা অনেক ভালো আছে এখন। (Parent ego state)
এই পর্যায়ে এসে আমি চুপ করে আছি( Cross transactions)
এ সময়ে আবার যোগাযোগ শুরু করার জন্য আমাকে আমার Ego state পরিবর্তন করতে হবে, তা না হলে যোগাযোগ বা transaction বন্ধ হয়ে যাবে।
আমি বললাম- তাহলে তুমি কাউন্সেলিং বিষয় এ প্রশিক্ষণ করো( Adult ego state)
এই উত্তরটা তার ঠিক পছন্দ হলো না এবং সে এর উত্তরও দিলো না। অন্যজনের সাথে কথা বলতে চলে গেল।
এরকম ঘটনার সাথে যে আমি বা আমরা পরিচিত না, তা কিন্তু না। প্রায়শই শুনতে হয়- আমি আমার ছেলে বা মেয়েকে কাউন্সেলিং করি।
আবার এমনও হয় যে- ক্লায়েন্ট এসে বলছে- আমারতো আগে OCD (Obsessive compulsive disorder) ছিলো এখন schizophrenia হয়েছে। প্রথমেই একটা ধাক্কা খাই এবং ভালো বোধ করি। ভালো বোধ করি এই ভেবে যে, যাক রুগী নিজেই diagnosis করে এসেছে।
Trichotillomania হয়েছিল এরপর আমি নিজে নিজে স্মোক করা শুরু করেছি এবং এখন আর আমার মেঝেতে চুল পড়ে থাকে না।( গুগল ব্যাটার বদৌলতে এখন যে কোন রোগের নাম খুঁজে পাওয়া কোন বিষয় ই না)
খুব ই খুশীর কথা, রুগী যদি নিজে নিজে রোগ সারিয়ে ফেলে তবে আমি কেন শুধু শুধু মনোবিজ্ঞান এ পিএইচডি করলাম!
এই জন্যই তো আমাকে অনেকে ডঃ লেখতে চায় না, যেন ডঃ টাইপ করতে তাদের হাতে না বরং মনে ব্যথা লাগে।
এখনতো আমার নিজের মাথার চুলগুলোই ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে😈👹.
মনে মনে ভাবছি সমাধান যখন পেয়েই গেছে , মাথার চুল যখন মাথাতেই আছে তবে শুধু শুধু আমার কাছে আসার দরকারটা কি?
একটু পরে রুগী নিজেই কারণটা বললো যে- এখন আর মেঝেতে চুল পড়ে থাকে না, তবে সিগারেটের টুকরো ভর্তি থাকে। এরপর সিগারেট এর পরিবর্তে কি নিবে সেটা খুঁজে পাচ্ছে না।
ভানুর একটা কৌতুক শুনেছিলাম ছোট বেলার, পুরোটা মনে নেই, যেটুকু মনে আছে তা হলো- কি সুন্দর সুন্দর রোগের নাম, তারও একটা সুন্দর নামের রোগ লাগবে 😜।
যে দেশের মানুষ শারীরিক চিকিৎসাই নিজে নিজে করে। যেন প্রতিটি ঘরে ঘরে এক একজন সিভিল সার্জন আছে। কি দরকার আর কষ্ট করে ডাক্তারের চেম্বারে যাওয়ার? সে দেশের মানুষ মনের চিকিৎসার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য কর্মী কাছে যাওয়াটা নিতান্তই বিলাসিতা।8 Comments-
-
ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া আবেগের সাথে সম্পর্কিত একটি রোগ।যার মধ্যে রয়েছে: নেতিবাচক অনুভূতি । চুল টেনে তোলা নেতিবাচক বা অস্বস্তিকর অনুভূতি যেমন স্ট্রেস, উদ্বেগ, উত্তেজনা, একঘেয়েমি, একাকীত্ব, চরম ক্লান্তি বা হতাশা মোকাবেলার একটি উপায় হিসেবে এটা ব্যবহার করে।সাধারণত পিউবার্টি এর সময়ে এটা বেশি হয়ে থাকে, তবে অনেকের মধ্যে অনেক বেশি বয়সেও এটা দেখা যায়।
আমার ক্লায়েন্ট এর ক্ষেত্রেও এটা শুরু হয় পিউবার্টি পিয়ডেই।
তার childhood এর খুব কাছের একজন এর দ্বারা sexually abused হয়েছিল সে।
-
-
সত্যি বলতে, ডাক্তারের কাছে যাওয়া মানেই তো অনেক খরচ। তাই অনেকে নিজের চিকিৎসা নিজে করাটাই সাশ্রয়ী বলে মনে করে।
-
Friends
naznin shamim
@nazninshamim
Md Mofiz
@mdmofiz
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
wajibad
@wajibad
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
সুবহা জাহান
@subhajahan
Intisar Jabed
@intisarjabed
মেঘ
@megh
রোদেলা শিশির
@rodelashishir


Trichotillomania ব্যাপারটা নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন। গুগল করে জানা যায় হয়তো কিন্তু আপনার মত এত সুন্দর করে বুঝিয়ে দেবে কে!