-
আমাদের পরিবারে তিনজন রাজকন্যা, আর সাতজন রাজপুত্র (ব্যাঙ রাজপুত্র )।
আমার বড় রাজকন্যা , গত নভেম্বর মাসে আমাকে কল দিয়ে বললো- তোমার বাসার ঠিকানাটা পাঠাও।
বললাম- নাই টেলিফোন , নাইরে পিয়ন… এর যুগে তুমি বাই পোস্টে চিঠি দিবা?
(বড় রাজকন্যার নাম,মিথুন, সে ৭ বছর বয়সে আমেরিকাতে গিয়েছে , তখন থেকে প্রায় আমাকে বাই পোস্টে চিঠি পাঠাতো, ইন্টারনেট আসার পরে এখন আর পাঠায় না)
এখন মনের খবর পাঠানোর কতশত আধুনিক পদ্ধতি আছে!!
সে বললো – না আমি বাই পোস্টেই পাঠাবো।
ঠিকানা পাঠিয়ে দিলাম এবং যথারিতি বিষয় টা ভুলে গেলাম।
আমার মেজভাবি পলিটিকাল সায়েন্সে পাশ করলেও পাবলিক রিলেশন এ তাঁর বিশাল দক্ষতা।
তিনি দেশে আসার আগে মাইকিং করে অন্যদের জিনিস নিয়ে আসে।ঠিক তেমনি আমেরিকা থেকে কেউ তাঁর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশে আসবে তা পারে না। কিছু না কিছু তিনি আমাদের জন্য পাঠাবেনই। তাই আমেরিকা আমাদের কাছে মনে হয় আব্দুল্লাহপুর , সারাবছর বিদেশি পন্য পেয়ে হই ধন্য অবস্থায় থাকি।
সে যাই হোক যে কথা বলছিলাম – মিথুনের আম্মু পিয়নের অপেক্ষায় না থেকে একজনের হাতে সেই চিঠি দেশে পাঠিয়ে দিলেন ১৫ দিনের মধ্যে।
আমি যেয়ে চিঠি টা সংগ্রহ করলাম এবং বালিশের নীচে রেখে দিলাম, এই কারণে যে পড়লেইতো ফুরিয়ে যাবে।
আস্তে ধীরে পড়বো।
মেজভাবি যথারীতি তার স্কুলের লাঞ্চ ব্রেকে আমাকে ফোন দিয়ে জানতে চাইলেন চিঠি টা এনেছি কি না? এনেছি বললাম। তখন বললেন – বাসায় কে কে আছে? বললাম আণ্ডাবাচ্চা সবাই আছে।বললো- সবাইকে ডেকে এনে চিঠিটা খুলো।
এটা আবার কি কথা! আমার চিঠি আমি পাড়াপ্রতিবেশি সবাইকে নিয়ে খুলবো? আমার রাজকন্যা আমাকে লেখেছে, কত কিছু ই থাকতে পারে, সেটা সবাইকে জানাতে হবে?
ভাবি বললেন হ্যাঁ সবাইকে নিয়েই পড়তে হবে।রানীর(মেজভাবি) কথার উপর কথা বলার করার সাহস কি আমার মত প্রজার আছে?
হাক ছাড়লাম- এই সবাই কে কোথায় , কাছে এসে বসো, চিঠি খোলা হবে।সবাই এসে হাজির। আমি ব্যাজার মুখে চিঠির খাম খুললাম। ওমা একি!চিঠি কোথায়? এযে দেখি লটারি!
দিলাম ফোন মহারাণীকে, বললাম- যে মানুষ আমি জীবনে চার আনা দামের নাবিস্কো চকলেটও লটারিতে পাই নি, তাকে কেন লটারি পাঠালো?
ভাবি বললেন- খেলো এবার , ওয়ান মিলিয়ন ডলার এর লটারি।
একএর পরে কয়টা শূন্য দিলে ওয়ান মিলিয়ন হয়, তাইতো জানি না, চোখে বিশাল বড় একশূন্য দেখতে পাচ্ছি।
ভাবিতো ফোন রেখে দিলেন- মনে মনে ভাস্তির চোদ্দগুষ্টি ( শশুর বাড়ি দিকের) উদ্ধার করলাম।এরপর কম্পিত বক্ষে নিয়ম অনুযায়ী খেলা শুরু করলাম।
খেলা শেষ হলো- দেখলাম!!
বুঝলাম না। মনে মনে বললাম- শুধু বাংলাদেশ ই জীনের বাদশা বা বিকাশের টাকা মেরে দেওয়া বাটপার নেই, আমেরিকাতেও আছে। তা না হলে ওয়ান মিলিয়ন ডলার এর লোভ দেখিয়ে লটারি বিক্রি করে! আর আমার ভাস্তিও এত বোকা যে সেই লটারি কেনে?
নিজের পুত্র, পালক পুত্র যে যার কাজে চলে গেলো। আমি আবার দেখলাম কি লেখা আছে? হিব্রুতে তো নেই ইংরেজিতেই আছে।
ওমা একি কান্ড!!!
ভাস্তি আমাকে কি জানাতে চাচ্ছে?
We’re having a baby .
সঙ্গে সঙ্গে ১০০ পাওয়ার এর ফিলিপস বাত্তি জ্বলে উঠলো।
তারমানে আমি নানি হতে যাচ্ছি!
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম।আমাদের মেজরাজকন্যা মিথিলা আমাকে প্রথম নানি হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে আর দাদি হয়েছি তারও আগে।
এবার আবারও নানি হবো, সেটা ই আমার ভাস্তি জানিয়েছে।
এরপর শুরু হলো এক এক করে দিন পার করা।
অবশেষে আমার আপু জুলাই মাসের তিন তারিখে এলেন এই পৃথিবীতে। আজ আপুর এক মাস তিন দিন।আমার বড় আপুকে ( রাওনাফ)আমি প্রথম কোলে নিয়েছিলাম
কিন্তু আমার ছোট্ট আপু আমারা সোফিয়া কবীরকে কোলে নিতে না পারলেও প্রতিদিন আপুকে দেখতে পারছি , কথা বলতে পারছি।
আলহামদুলিল্লাহ।2 Comments
Friends
naznin shamim
@nazninshamim
Md Mofiz
@mdmofiz
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
wajibad
@wajibad
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
সুবহা জাহান
@subhajahan
Intisar Jabed
@intisarjabed
মেঘ
@megh
রোদেলা শিশির
@rodelashishir


লটারী তাহলে জিতেই গেলেন ! অভিনন্দন !