Profile Photo

রাহেনা বেগমOffline

  • Rahena-Begum
  • Profile picture of রাহেনা বেগম

    রাহেনা বেগম

    1 year, 5 months ago

    আমার ছোট বেলায় ঈদে আম্মা কি রান্না করবেন, সেটা যেন নির্ধারিত ই থাকতো। দুই পদের সেমাই, পায়েস আর বুটের হালুয়া। যদিও সবাই শবেবরাত এ বুটের হালুয়া বানায়, আমাদেরও বানাতেন। কিন্তু দুই ঈদে অবশ্যই পালনীয় হিসেবে আম্মা বুটের হালুয়া বানাতেন। আম্মার বুটের হালুয়া অনেক ,অনেক মজা হতো।
    এর বাহিরে কখনো কিছু নতুন আইটেম বানানোর কথা যে বলা যায় এটাই আমরা জানতাম না , প্রয়োজন ও মনে করতাম না।আম্মা এই সব নাস্তাই ঈদের দিন সকালে বানাতেন।আমরা যেমন একদিন আগে থেকে বানিয়ে ফ্রিজে রাখি, সেরকম করতেন না আম্মা।
    কিন্তু এখন ইন্টারনেট এর অবদানের ফলে বিশ্বের কোথায় কে ঈদে কি কি রান্না করছেন সব জানা যায়। এরই খেসারত দিতে হয় আমার মত অকর্মার ঢেকি কে।
    ছোট তনয় কিছু দিন থেকেই বলছে- আম্মু তুমি কাবুলি পোলাও রান্না জানো? বললাম- বাবা, আমি জীবন এ সোনার বাংলার বাহিরে কোথাও যাই নাই। কাবুল তো দূরের কথা।কাবুল গেলে ,ফিরে এসে লেখে ফেলবো- কাবুলের দিনগুলো অথবা কাবুলের পথে, প্রান্তরে।আর যদি খাদ্য বিষয়ক বই লেখি তবে লেখবো- কাবুলি ওয়ালার খাদ্য বিলাস।
    তনয় বললো- ইউটিউবে দেখে নেও।
    উল্লেখ্য ইউটিউব দেখে দেখে হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি রান্না শিখেছি এবং খুব সফল ভাবে “ওয়ান ও ওয়ান “(101) সার্টিফিকেট ও অর্জন করেছি তনয়দের কাছ থেকে।
    এবার ছোট তনয় কাবুলি পোলাও এর জন্য আগুন ধরালো আর বড় তনয় তাতে বাতাস দিলো।অর্থাৎ কাবুলি পোলাও জয়লাভ করলো মানে আমাকে ঈদে এটাই রান্না করতে হবে , একদম ফাইনাল। কি আর করা! মোবাইল হাতে ,ইউটিউব দেখে দেখে রান্না করলাম। ঠিক পরীক্ষা হলে ঢুকে প্রশ্ন পত্র পাওয়ার আগ মুহুর্তের মত দুরু দুরু বক্ষে অপেক্ষায় থাকলাম। দেখা যাক রেজাল্ট কি বের হয়? ঝু্ঁটি নাই, উজ্জ্বলতম তারা( লুন্ধক) সেও তার খুচরা পাপের জন্য “তওবা ” করা নিয়ে ব্যস্ত(মুরগি বসন্ত হয়েছে , তার মার মন্তব্য – খুচরা পাপ করেছিস, তাই ঈদের সময় তোর মুরগী বসন্ত হয়েছে। তওবা করতে থাক)।কাজেই সে আসতেও পারছেনা, আবার আমার তনয়দেরকে যেতেও নিষেধ করে দিয়েছেন ভাবি।পাছে মুরগি বসন্ত আমাদের বাসাতেও মেহমান হিসাবে চলে আসে।
    উজ্জ্বল তারা আবার ফেরদৌসীর রান্নার পরে আমার রান্না খেতে পছন্দ করে।
    রান্না হলো শেষ , এবার তেনাদের খাদ্য ভক্ষণ এবং দুরু দুরু বক্ষে আমার অপেক্ষা। ছোট তনয় বললো- ১০ এ ৯ দিলাম।এক নাম্বার কম দিলাম যেন পরের বার আরও ভালো হয়। বড় তনয় বললো- ভালো হয়েছে। শিহাব ২য় বার( সে সাধারণত একবারই নেয়) নিয়ে বললো ভালো হয়েছে।
    যাক, আমি পাস করেছি,আমি পাস করেছি।
    মনে মনে বললাম- ইন শা আল্লাহ আমার দুই কন্যা আসুক আগে। ঈদের আগে দুই কন্যাকে নিয়ে পার্লারে যেয়ে অক্সিজেন , হাইড্রোজেন করে , আমি ইন্দ্রিয়া গান্ধীর মত আর আমার মেয়ে দুইজন কে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মত হেয়ার কার্ট দিবো। তারপর তিন মা, মেয়ে মিলে ফুরুৎ করে উড়ে যাবো। তনয়রা দেখবে- পক্ষী উড়ে গেছে ,পড়ে আছে তার ছায়া। তখন আর ঈদের মেন্যু দিতে হবে না, বরং আমাদেরকে খুঁজতে , খুঁজতে অবস্থা নাস্তানাবুদ হবে🤣😀😃।
    আহ কি মজা টাই না হবে!!

    বিঃদ্রঃ খাবারের ছবি দিলাম এই কারণে যে, আমার কন্যারা যখন আসবে তখন তো আমার এগুলো মনে থাকবে না।ছবি আমাকে মনে করিয়ে দিবে।
    ২২/০৪/২০২৪

    3
    5 Comments
    • আপনার বর্ণনার গুনে মাথায় কাবুলী পোলাও ঢুকে গেলো। রান্না ছবি না দেন, রেসিপি তো দিতে পারেন, যেন আমরাও চেস্টা করতে পারি।

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 24 April 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

Friends

Profile Photo
naznin shamim
@nazninshamim
Profile Photo
Md Mofiz
@mdmofiz
Profile Photo
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
Profile Photo
wajibad
@wajibad
Profile Photo
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
Profile Photo
Intisar Jabed
@intisarjabed
Profile Photo
মেঘ
@megh
Skip to toolbar