-
আরিয়ান খুব দ্রুত গলির শেষ মাথায় পৌঁছে যায়। একটা ট্যাক্সি ডেকে উঠে পরে। তার হাতের ব্যাগটা সযত্নে আগলে রাখে।
সে মনে মনে ভাবে এতো সহজে ওরা তার পিছু ছাড়বে না। যতো দ্রুত সম্ভব তাকে গাড়ি পাল্টাতে হবে। আর খুব দ্রুত কোয়ার্টারে পৌঁছাতে হবে। সে তার রেডিও ট্রান্সমিটার এর সাহায্যে হেড কোয়ার্টারে সিগন্যাল পাঠাই।
গাড়িটা সামনে টার্ন নিতেই পিছনে একটা সিডানে বসা গলির সেই লোক গুলোকে দেখতে পায়। এতো দ্রুত ওরা পিছু নিবে সে ভাবতে পারে নি। এভাবে গাড়ি চলতে থাকলে তারা ওকে ধরে ফেলবে খুব দ্রুত।ট্যাক্সির পেছনের কাঁচে চোখ রেখে আরিয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
কালো রঙের সিডানটা প্রায় দুইশো গজ দূরে থেকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। রাস্তার অন্য গাড়িগুলোর ভিড়ের মাঝেও সেটি যেন ইচ্ছা করেই নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে।রাস্তায় হলুদ ট্যাক্সি, পুরনো বাস, সাইকেল আর মানুষের ভিড়। চারদিকে হর্নের শব্দ আর ধোঁয়ার গন্ধ।
আরিয়ান আস্তে করে ব্যাগটা নিজের হাঁটুর ওপর রাখল। ব্যাগের ভেতরে থাকা নথিগুলো যে কোনো মূল্যে নিরাপদে পৌঁছাতে হবে।
সে ড্রাইভারের দিকে ঝুঁকে বলল,
“সামনের মোড়ে ডানদিকে নিন। তারপর আবার বাঁদিকে।”
ড্রাইভার অবাক হয়ে তাকালেও কিছু বলল না।
ট্যাক্সি দ্রুত মোড় নিল।
পেছনের সিডানটাও নিল।
আরিয়ানের সন্দেহ নিশ্চিত হয়ে গেল।
ওরা তার পিছু নিয়েছে।
সে দ্রুত কোটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে ছোট রেডিও ট্রান্সমিটারটা বের করল।
“আলফা-সেভেন টু কন্ট্রোল। আলফা-সেভেন টু কন্ট্রোল। জরুরি অবস্থা। আমার অবস্থান পূর্ব সেক্টর। শত্রুপক্ষ পিছু নিয়েছে। কোড রেড।”
কয়েক সেকেন্ড স্ট্যাটিক শব্দ শোনা গেল।
তারপর ভেসে এলো পরিচিত কণ্ঠ।
“কন্ট্রোল টু আলফা-সেভেন। সিগন্যাল গ্রহণ করা হয়েছে। সরাসরি হেড কোয়ার্টারে আসবেন না। বিকল্প রুট ব্যবহার করুন। ব্যাকআপ ইউনিট পাঠানো হচ্ছে।”
“রজার।”
সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।
আরিয়ান জানত কেন সরাসরি হেড কোয়ার্টারে যাওয়া নিষেধ করা হয়েছে।
যদি শত্রুরা তার পিছু নিয়ে সদর দপ্তরের অবস্থান জেনে যায়, তাহলে পুরো নেটওয়ার্ক বিপদের মুখে পড়বে।
ট্যাক্সি শহরের পুরনো শিল্পাঞ্চলের দিকে ঢুকে পড়ল।
এখানে রাস্তা অনেকটা ফাঁকা।
হঠাৎ পেছনের সিডানটা গতি বাড়িয়ে দিল।
আরিয়ান দেখল গাড়ির জানালা সামান্য নেমে এসেছে।
ভেতর থেকে একজন লোক বেরিয়ে তাকাচ্ছে।
“আরও জোরে চালান!” সে ড্রাইভারকে বলল।
ট্যাক্সি গর্জন তুলে সামনে ছুটল।
কিন্তু পুরনো ইঞ্জিনের সীমাবদ্ধতা ছিল।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই সিডানটা অনেকটা কাছে চলে এল।
ঠিক তখনই সামনের ক্রসিংয়ে আরেকটি গাড়ি এসে দাঁড়াল।
গাঢ় ধূসর রঙের একটি সরকারি সেডান।
দেখতে সাধারণ হলেও আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে চিনতে পারল।
এটা তাদের ব্যুরোর গোপন ইউনিটের গাড়ি।
গাড়ির হেডলাইট দুবার জ্বলে নিভল।
এটাই ছিল সংকেত।
আরিয়ান দ্রুত ড্রাইভারকে থামতে বলল।
গাড়ি ধীর হতেই সে দরজা খুলে নেমে পড়ল।
এক মুহূর্তও নষ্ট না করে ধূসর সেডানে উঠে বসল।
পেছনের সিডান যখন ঘটনাটা বুঝতে পারল, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।
ব্যুরোর গাড়ি মুহূর্তেই অন্য একটি গলিতে ঢুকে অদৃশ্য হয়ে গেল।
গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসা অফিসার বলল,
“খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল ওরা।”
আরিয়ান সংক্ষিপ্তভাবে উত্তর দিল,
“জানি।”
তার চোখ এখনো সতর্ক।
“নথিগুলো নিরাপদ আছে?”
“হ্যাঁ।”
অফিসার আর কোনো প্রশ্ন করল না।
প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে তারা অবশেষে শহরের উত্তর প্রান্তে পৌঁছাল।
সেখানে একটি পুরনো গুদামঘর দাঁড়িয়ে আছে।
বাইরে থেকে দেখে পরিত্যক্ত মনে হয়।
ভাঙা জানালা, মরিচা ধরা গেট আর ধুলোমাখা দেয়াল।
কিন্তু এটাই ছিল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর অন্যতম গোপন সদর দপ্তর।
গাড়ি গেটের সামনে থামল।
প্রহরীরা পরিচয় যাচাই করে গেট খুলে দিল।
ভেতরে ঢুকতেই সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য।
সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী, যোগাযোগ কক্ষ, মানচিত্রে ভর্তি অপারেশন রুম আর ব্যস্ত কর্মকর্তারা।
আরিয়ান দ্রুত মূল ভবনের দিকে এগিয়ে গেল।
করিডোর পেরিয়ে সে পৌঁছাল ব্রিফিং কক্ষে।
সেখানে ইতিমধ্যেই অপেক্ষা করছিলেন ডিরেক্টর রিচার্ড ব্র্যানসন।
একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা।
তার মুখ সবসময়ই কঠোর।
“তুমি দেরি করেছো।”
আরিয়ান ব্যাগটা টেবিলের ওপর রাখল।
“স্যার, আমার অবস্থান ফাঁস হয়ে গেছে। ওরা আমার উপর স্নাইপার সহ পুরো গ্যাং নিয়ে নেমেছিলো। ওরা খুব চালাক।”ডিরেক্টরের চোখ সরু হয়ে এল।
“নিশ্চিত?”“ওরা সরাসরি আমার পিছু নিয়েছিল। মনে হচ্ছে তথ্য ভেতর থেকে পাচ্ছে।”
কক্ষের ভেতর হঠাৎ নীরবতা নেমে এলো।
ডিরেক্টর ধীরে ধীরে ব্যাগ খুললেন।
ভেতর থেকে সেই গোপন ফাইল বের করলেন।
ফাইলের ওপর বড় অক্ষরে লেখা—
“প্রজেক্ট ৭০৭ – কনফিডেন্সিয়াল”তিনি কয়েকটি পৃষ্ঠা উল্টাতেই মুখের ভাব বদলে গেল।
“অসম্ভব…”আরিয়ান তাকিয়ে রইল।
“কি হয়েছে, স্যার?”ডিরেক্টর ধীরে ধীরে একটি ছবি সামনে এগিয়ে দিলেন।
ছবিটা দেখে আরিয়ানের বুকের ভেতর কেঁপে উঠল।
ছবির নিচে লেখা তারিখ—
১৯৫১।আর ছবির পাশে লাল কালিতে লেখা মাত্র দুটি শব্দ—
“এখনও জীবিত। তাকে উদ্ধার করো।”ব্রিফিং কক্ষের বাতাস যেন মুহূর্তেই ভারী হয়ে উঠল।
আরিয়ান বুঝতে পারল—
এই মিশন কোনো সাধারণ গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে সমাধান করা যাবে না।2 Comments
হ্যাঁ বা না শব্দ দুটি সবচেয়ে পুরনো এবং ছোট। কিন্তু এ কথা দুটো বলতেই সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয়।
পীথাগোরাস
Friends
Tariqul Sazzib
@tariqulsazzib
Ashaduzzaman-Khokon
@ashaduzzaman-khokon
মিথিলা কনক
@methila06
Mehedy Hasan
@mehedyhasan
খান মোঃ এমদাদুল হক নিসু
@khannisu
Joy Iqbal
@joyiqbal
Subani News
@subaninews
ম পানা উল্যাহ্
@panaullah63gmail-com
Najir Hossain
@najirhossain

ধাওয়া শেষ, রহস্যের শুরু।