<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | rukaiya rakhi | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/rukaiyarakhi/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/rukaiyarakhi/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for rukaiya rakhi.</description>
	<lastBuildDate>Fri, 05 Jun 2026 14:56:00 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">d2ecfdbd05b58fde5ccd56dd420b35ad</guid>
				<title>&quot;ভাঙ্গা ঘড়ির কাঁটা&quot;
পর্ব - ৪
লেখিকাঃ রুকাইয়া রাখি

সকালে ঘুম ভাঙল রাইসার। ঘরের ভেতর একটা অদ্ভুত নীরবতা ছিল—যেটা শান্তির নীরবতা না, বরং ঝড় থেমে যাওয়ার পরের ভারী নীরবতা।
রাইসা চোখ খুলে প্রথমে দেখল মায়ের মুখ। রাশিদা বেগম রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে আছেন, কিন্তু মনটা যেন কোথাও নেই।
রাইসা ধীরে বলল,
—আম্মু… আজকে থেকে আমি প্রাইভেট স্কুলে যাব?
রাশিদা বেগম একটু থেমে গেলেন। তারপর খুব স্বাভাবিক গলায় বললেন,
—যাবা। ব্যাগ রেডি কর।

রাইসা উঠে বসল। নীল ব্যাগটা হাতে নিয়ে সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। যেন এই ব্যাগটা তার জীবনের নতুন দরজা, কিন্তু দরজাটা খুলতে ভয় লাগছে।
ঠিক তখনই দরজার বাইরে শব্দ।
আবু সাইফুল।
তার গলা ভেতরে ঢুকল আগে, মানুষটা পরে।
—এই সিদ্ধান্ত আমি মানি না।
রাইসা চুপ হয়ে গেল।
রাশিদা বেগম ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালেন।
—কেন মানবে না?
আবু সাইফুল হালকা হাসলেন, কিন্তু সেই হাসিতে আনন্দ ছিল না।
—কারণ তুমি সবসময় নিজের সিদ্ধান্ত একা নাও।
রাশিদা বেগম শান্ত গলায় বললেন,
—এটা শুধু আমার সিদ্ধান্ত না। এটা আমাদের মেয়ের ভবিষ্যৎ।
এই “ভবিষ্যৎ” শব্দটা যেন ঘরের বাতাসে ভারী হয়ে ঝুলে থাকল।

রাইসা আস্তে করে বলল,
—আব্বু… আমি কি ভুল কিছু করছি?
আবু সাইফুল তার দিকে তাকালেন। অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।
তারপর বললেন,
—তুই কিছু ভুল করছিস না। কিন্তু জীবন তোর ইচ্ছায় চলে না, রাইসা।
রাইসা চুপ।
তার মনে হলো, সে কোনো অদৃশ্য দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে আছে—যেটা কেউ দেখতে পায় না, কিন্তু সে প্রতিদিন মাথা ঠুকে ঠুকে বুঝতে শেখে।

স্কুলের পথে।
নুসরাত রাইসাকে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
—ভয় পাচ্ছিস? নুসরাত জিজ্ঞেস করল।
—না… একটু।
—কেন?
রাইসা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
—সবাই আমাকে দেখবে।
নুসরাত হেসে বলল,
—দেখুক। তুই তো খারাপ না।
এই “খারাপ না” কথাটা রাইসার বুকের ভেতর একটু জায়গা করে নিল।
স্কুলে ঢুকতেই শব্দ, দৌড়, হাসি।
সব কিছু চলছিল নিজের নিয়মে।
রাইসা থেমে দাঁড়িয়ে রইল।
একজন মেয়ে পাশ দিয়ে যেতে যেতে বলল,
—নতুন না?
রাইসা মাথা নাড়ল।
—নাম কী?
—রাইসা।
মেয়েটা একটু থেমে বলল,
—তুমি কথা কম বলো নাকি?
রাইসা উত্তর দিল,
—আমি বুঝে বলি।
মেয়েটা হেসে চলে গেল।
রাইসা বুঝল না, এই হাসিটা ভালো না খারাপ।

ক্লাসে।
টিচার বললেন,
—আজকে  সবাই নিজের পরিচয় দেবে।
এক এক করে সবাই বলছে।
রাইসার পালা এলো।
সে উঠে দাঁড়াল।
—আমার নাম রাইসা। আমি… পড়তে ভালোবাসি।
ক্লাসে কেউ খুব একটা খেয়াল করল না।
সে বসে পড়ল।
তার মনে হলো, সে যেন একটা শব্দ বলেছে—যেটা বাতাসে হারিয়ে গেছে।

বিকেলে বাসায়।
রাশিদা বেগম জিজ্ঞেস করলেন,
—কেমন লাগল?
রাইসা ধীরে বলল,
—সবাই অনেক জানে।
—তুইও জানবি ধীরে ধীরে।
—আম্মু… আমি কি ওদের মতো হতে পারব?
রাশিদা বেগম একটু থেমে গেলেন।
—তুই ওদের মতো হতে যাবি না। তুই নিজের মতো হবি।
এই বাক্যটা রাইসা ঠিক বুঝল না, কিন্তু মনে রাখল।

রাতে।
আবু সাইফুল চুপচাপ বসে আছেন।
হঠাৎ বললেন,
—তুই কি ওখানে যেতে চাস?
রাইসা ধীরে বলল,
—হ্যাঁ।
আবু সাইফুল চোখ নামিয়ে বললেন,
—তাহলে যাও।
এই এক শব্দ—“যাও”—রাইসার কাছে খুব বড় মনে হলো।
অনুমতি না, কিন্তু বাধাও না।
মাঝামাঝি একটা অদ্ভুত জায়গা।

রাইসা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
বাইরে অন্ধকার শহর।
সে ফিসফিস করে বলল,
—আমি কি ঠিক পথে আছি?
কেউ উত্তর দিল না।
শুধু দূরে একটা কুকুর ডাকল।
আর সেই ডাকের ভেতর দিয়ে গল্পটা যেন একটু একটু করে এগোতে লাগল—যেখানে কেউ পুরোটা বোঝে না, কিন্তু সবাই বাঁচতে থাকে।
চলবে…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/252079/</link>
				<pubDate>Wed, 27 May 2026 15:04:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;ভাঙ্গা ঘড়ির কাঁটা&#8221;<br />
পর্ব &#8211; ৪<br />
লেখিকাঃ রুকাইয়া রাখি</p>
<p>সকালে ঘুম ভাঙল রাইসার। ঘরের ভেতর একটা অদ্ভুত নীরবতা ছিল—যেটা শান্তির নীরবতা না, বরং ঝড় থেমে যাওয়ার পরের ভারী নীরবতা।<br />
রাইসা চোখ খুলে প্রথমে দেখল মায়ের মুখ। রাশিদা বেগম রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে আছেন, কিন্তু মনটা যেন কোথাও নেই।<br />
রাইসা ধীরে বলল,<br />
—আম্মু… আজকে থেকে আমি প্রাইভেট স্কুলে যাব?<br />
র&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-252079"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/252079/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bd860649e7c897ab9fad00f44d3b1696</guid>
				<title>&quot;ভাঙ্গা ঘড়ির কাঁটা&quot; 
পর্ব - ৩
লেখিকাঃ রুকাইয়া রাখি  

রাইসা তখন একটি প্রাইমারি স্কুল থেকে ক্লাস টু শেষ করেছে। পড়াশোনায় সে ভালো। অদ্ভুত রকম ভালো। ক্লাস এর ফ্রাস্ট গার্ল। কেউ একবার কিছু বুঝিয়ে দিলে সে কখনই ভুলত না। ক্লাস এর শিক্ষকরা মাঝে মাঝে অবাক হয়ে বলতেন,
—মেয়েটার মাথা খুব পরিষ্কার। অনেক মেধাবী একটা মেয়ে। ভালভাবে এগিয়ে যেতে পারলে জীবনে অনেক ভাল কিছু করবে।
রাশিদা বেগম তখন চুপচাপ হাসতেন। সেই হাসিতে গর্বের চেয়ে স্বস্তি বেশি ছিল।
কারণ তিনি জানতেন, এই মেয়েটার জীবনে সুন্দর কিছু খুব কম এসেছে।

একদিন দুপুরে রাশিদা বেগম পাশের বাসার এক আপার সঙ্গে কথা বলছিলেন। রাইসা বারান্দায় বসে পেন্সিল দিয়ে খাতায় ফুল আঁকছিল।
—ভাবছি ওকে প্রাইভেট স্কুলে দেব - রাশিদা বললেন।
মহিলা অবাক হয়ে তাকালেন।
—প্রাইভেট স্কুল? খরচ তো অনেক।
—জানি। তবু চেষ্টা করতে চাই।
—সাইফুল ভাই মানবে?
এই প্রশ্নে রাশিদা বেগম চুপ হয়ে গেলেন।
দূরে তখন আজানের শব্দ উঠছিল। রাইসা খেয়াল করল, মা হঠাৎ জানালার বাইরে তাকিয়ে আছেন। যেন তিনি এই প্রশ্নের উত্তর ওই আকাশের কাছে খুঁজছেন।

সেই রাতে খাবার টেবিলে খুব নীরবতা ছিল।
আবু সাইফুল ভাত খাচ্ছিলেন ধীরে ধীরে। রাশিদা বেগম কয়েকবার কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন। শেষ পর্যন্ত সাহস করে বলেই ফেললেন।
—আমি ভাবছিলাম রাইসাকে একটা ভালো স্কুলে ভর্তি করাব।
আবু সাইফুল খাওয়া বন্ধ করে রাশিদা বেগম এর দিকে তাকালেন।
—মানে? আবু সাইফুল ধীরে জিজ্ঞেস করলেন।
—এখানকার একটা প্রাইভেট স্কুল আছে…
—প্রাইভেট স্কুলে পড়ানোর টাকা আছে তোমার?
গলাটা খুব উঁচু ছিল না। কিন্তু সেই শান্ত গলার ভেতর লুকানো রাগ রাইসা চিনে ফেলেছিল।
রাশিদা বেগম আস্তে বললেন,
—মেয়েটা ভালো পড়ে। একটু সুযোগ পেলে—
—সুযোগ? আমাদের মতো মানুষের আবার সুযোগ কীসের?
ঘরটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।
রাইসা নিঃশব্দে বসে ছিল। তার হাতের আঙুল কাঁপছিল। সে জানত না প্রাইভেট স্কুল কেমন, কিন্তু এটুকু বুঝেছিল—এই স্কুলের নাম উচ্চারণ করাটাই যেন অপরাধ।

রাশিদা বেগম আবু সাইফুলের অমতেই নিজের জমানো টাকা দিয়ে রাইসাকে শহরের একটি ভালো প্রাইভেট স্কুলে ক্লাস থ্রীতে ভর্তি করিয়ে দিলেন ।সেদিন রাতে অনেক ঝগড়া হলো।
দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ। থেমে থেমে কান্না। চাপা চিৎকার।
রাইসা বিছানার কোণে বসে ছিল। নুসরাত তাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
—কান বন্ধ করে রাখ।
কিন্তু কিছু শব্দ কান বন্ধ করলেও ভেতরে ঢুকে যায়।

হঠাৎ রাইসা শুনল, একটা থাপ্পড়ের শব্দ।
তার বুক ধক করে উঠল।
সে দৌড়ে ঘরের দিকে গেল।
রাশিদা বেগম মেঝেতে বসে আছেন। মুখ নিচু। আবু সাইফুল দাঁড়িয়ে আছেন দরজার পাশে, চোখ লাল।
রাইসা কিছু না বুঝেই মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
—আম্মুকে মারবা না!
তার ছোট্ট গলা কাঁপছিল।
কয়েক সেকেন্ড পুরো ঘর নিস্তব্ধ।
আবু সাইফুল মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন। সেই দৃষ্টিতে রাগ ছিল, ক্লান্তি ছিল, আর অদ্ভুত এক ভাঙাচোরা অসহায়ত্বও ছিল।
তারপর তিনি দরজা খুলে বাইরে চলে গেলেন।

রাইসা মায়ের দিকে তাকাল।
—আম্মু, তুমি কেঁদো না।
রাশিদা বেগম মেয়েকে বুকে টেনে নিলেন। খুব শক্ত করে।
সেই রাতে রাইসা প্রথমবার মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
সে আরও ভালো করে পড়বে।
অনেক ভালো।বড় কিছু হবে।
এত ভালো, যেন একদিন কেউ তার মাকে আর অপমান করতে না পারে।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে দেখল, টেবিলের ওপর একটি নতুন স্কুল ব্যাগ রাখা।
নীল রঙের।
রাইসা ব্যাগটার দিকে তাকিয়ে রইল। তার মনে হচ্ছিল, এই ছোট্ট ব্যাগটার ভেতরে শুধু বই নেই—আরও কিছু আছে।
হয়তো যুদ্ধ।
হয়তো মুক্তি।
অথবা দুটোই।
আর ঠিক তখনই বাইরে থেকে আবু সাইফুলের গলা ভেসে এল—
—রাশিদা! আমি কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মেনে নেইনি!
রাইসার হাত ব্যাগের ওপর থেমে গেল।
জানালার বাইরে আকাশটা অদ্ভুত অন্ধকার হয়ে আসছিল।

চলবে…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/250352/</link>
				<pubDate>Fri, 22 May 2026 14:57:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> &#8220;ভাঙ্গা ঘড়ির কাঁটা&#8221;<br />
পর্ব &#8211; ৩<br />
লেখিকাঃ রুকাইয়া রাখি  </p>
<p>রাইসা তখন একটি প্রাইমারি স্কুল থেকে ক্লাস টু শেষ করেছে। পড়াশোনায় সে ভালো। অদ্ভুত রকম ভালো। ক্লাস এর ফ্রাস্ট গার্ল। কেউ একবার কিছু বুঝিয়ে দিলে সে কখনই ভুলত না। ক্লাস এর শিক্ষকরা মাঝে মাঝে অবাক হয়ে বলতেন,<br />
—মেয়েটার মাথা খুব পরিষ্কার। অনেক মেধাবী একটা মেয়ে। ভালভাবে এগিয়ে যেতে পারলে জীবনে অনেক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-250352"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/250352/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cc98f48159814e4e34a55a95d3cfec78</guid>
				<title>&#039;&#039;ভাঙ্গা ঘড়ির কাঁটা&#039;&#039;
পর্ব - ২
লেখিকাঃ রুকাইয়া রাখি          

রাইসার বয়স তখন পাঁচ বছর। এই বয়সের শিশুরা সাধারণত পৃথিবীকে খুব সহজভাবে দেখে—মাটি, পাখি, বৃষ্টি, আর মায়ের কোলে ঘুম। রাইসার পৃথিবী একটু আলাদা ছিল। তার পৃথিবীতে ছিল চাপা কান্নার শব্দ, থেমে থেমে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ, আর এমন কিছু কথা যার মানে সে বুঝত না, কিন্তু ভয় পেত।

সেদিন খুব ভোরে ঘুম ভাঙল তার। উঠোনে কয়েকটি বড় ব্যাগ রাখা। রাশিদা বেগম কাপড় গুছাচ্ছেন। নুসরাত বই-খাতা বেঁধে রাখছে। আবু সাইফুল বারবার বাইরে যাচ্ছেন, আবার ফিরে আসছেন। তাঁর মুখে এক ধরনের গাম্ভীর্য।
রাইসা মায়ের আঁচল টেনে জিজ্ঞেস করল,
—আমরা কোথায় যাব, আম্মু?
রাশিদা বেগম একটু থেমে মেয়ের দিকে তাকালেন। তারপর মৃদু হেসে বললেন,
—নতুন জায়গায়।
— কোন জায়গা আম্মু? ওখানে কি ঝগড়া হবে না তোমাদের?
প্রশ্নটা শুনে রাশিদা বেগমের হাত থেমে গেল। তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর রাইসাকে কোলে তুলে নিলেন।
—জানি না মা। তবে চেষ্টা করব।
“চেষ্টা করব”—এই দুটি শব্দ রাইসা তখন বুঝতে পারেনি। কিন্তু মায়ের গলার কাঁপন সে টের পেয়েছিল।

উত্তরবঙ্গের সেই ছোট গ্রাম ছেড়ে তারা চলে এল কোলাহলপূর্ণ ঢাকা শহরে ।
ঢাকা শহর রাইসার কাছে আশ্চর্যের মতো লাগল। এখানে সন্ধ্যায় রাস্তার ধারে বাতি জ্বলে। রিকশার ঘণ্টা বাজে। দোকানের সামনে রঙিন কাঁচের বোতল সাজানো থাকে। দূর থেকে ভেসে আসে ভাজা মুড়ি আর চানাচুরের গন্ধ।
ছোট্ট অবুঝ রাইসা বিস্ময়ে সব দেখে।
—এই শহরটা কি আমাদের? সে একদিন নুসরাতকে জিজ্ঞেস করল।
নুসরাত হাসল।
—না, তবে চাইলে হয়ে যেতে পারে।

আবু সাইফুল একটি এনজিওতে চাকরি পেলেন। সংসারে কিছুটা স্বস্তি এল। শহরে চলে আসার পর থেকে রাশিদা বেগমকে আর আগের মতো শ্বশুরবাড়ির সবার জন্য দিন রাত খাটতে হয় না; সবার খোঁচা সহ্যও করতে হয় না। বিকেলে তিনি বারান্দায় বসে কখনো কখনো চুপচাপ আকাশ দেখেন।

রাইসা ভাবত, নতুন শহরে এলে মানুষ কি নতুন হয়ে যায়?
প্রথম কয়েকদিন সত্যিই মনে হয়েছিল, সবকিছু বদলে যাবে। রাতগুলো কিছুটা নীরব। বাতাসে অচেনা শহরের গন্ধ। জানালা দিয়ে দূরের আলো দেখা যায়।
এক রাতে রাইসা ঘুম থেকে উঠে দেখে মা জানালার পাশে বসে আছেন।
—ঘুমাওনি কেন? সে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল।
রাশিদা বেগম চমকে তাকালেন।
—এমনি।
—তুমি কাঁদছ?
—না তো।
রাইসা এগিয়ে গিয়ে মায়ের গাল ছুঁয়ে দেখল। আঙুল ভিজে গেল।
সে আর কিছু বলল না।
শিশুরা অনেক কথা বুঝতে পারে না, কিন্তু চোখের জল চিনতে ভুল করে না।

শহরে আসার পর রাইসা ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করল। বয়সে নয়, ভেতরে ভেতরে। সে শিখল, মানুষ নতুন শহরে আসে; কিন্তু পুরোনো দুঃখ সুটকেসে ভরে সঙ্গে নিয়ে আসে।
তবু এই শহরেই প্রথমবার তার মনে হয়েছিল, হয়তো জীবন পুরোটা অন্ধকার নয়। হয়তো কোথাও সামান্য আলো আছে।
কিন্তু আলো যতই থাকুক, ছায়া তার পিছু ছাড়েনি।

এক সন্ধ্যায়, বৃষ্টির পর আকাশে হালকা রংধনু উঠেছিল। রাইসা বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেটার দিকে তাকিয়ে ছিল। ঘরের ভেতর থেকে হঠাৎ বাবার উঁচু গলা ভেসে এল।
তারপর একটি থেমে যাওয়া নীরবতা।
রাইসা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।
তার মনে হলো, নতুন শহরের গল্পটা হয়তো এত সহজ হবে না। শহরটি তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, শান্তি নয়।
তবুও এই শহরেই ধীরে ধীরে রাইসার জীবনের পরবর্তী অধ্যায় শুরু হতে লাগল ।

চলবে…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248319/</link>
				<pubDate>Sat, 16 May 2026 14:46:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8221;ভাঙ্গা ঘড়ির কাঁটা&#8221;<br />
পর্ব &#8211; ২<br />
লেখিকাঃ রুকাইয়া রাখি          </p>
<p>রাইসার বয়স তখন পাঁচ বছর। এই বয়সের শিশুরা সাধারণত পৃথিবীকে খুব সহজভাবে দেখে—মাটি, পাখি, বৃষ্টি, আর মায়ের কোলে ঘুম। রাইসার পৃথিবী একটু আলাদা ছিল। তার পৃথিবীতে ছিল চাপা কান্নার শব্দ, থেমে থেমে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ, আর এমন কিছু কথা যার মানে সে বুঝত না, কিন্তু ভয় পে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-248319"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/248319/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6f1b22f4bd7a9539ac164d0c35fe069b</guid>
				<title>উত্তরবঙ্গের একটি ছোট গ্রামে জন্ম নেয় মেয়েটি। গ্রামের নামটা বড় নয়, কিন্তু সেই গ্রামের আকাশ ছিল অদ্ভুত রকম বিশাল—যেন সেখানে দুঃখ আর নীরবতা দুটোই একসাথে ভেসে বেড়ায়।
মেয়েটির নাম রাইসা।

তার বাবার নাম আবু সাইফুল, আর মায়ের নাম রাশিদা বেগম। বাইরে থেকে দেখলে তারা একটি সাধারণ পরিবার—কিন্তু ঘরের ভেতরের বাতাসটা ছিল অন্যরকম। সেখানে শব্দ থাকত, কিন্তু শান্তি থাকত না।

রাইসা তখন খুব ছোট। তার চোখ বড়, কিন্তু বোঝার ক্ষমতা ছিল তার বয়সের চেয়ে বেশি দ্রুত তম। সে তখনো “ভালোবাসা” শব্দটার মানে জানে না, কিন্তু “চিৎকার” শব্দটা তার খুব চেনা।
রাতে কখনো কখনো ঘরের ভেতর হঠাৎ শব্দ বেড়ে যেত। দরজার ধাক্কা, গলা উঁচু হওয়া, আর তারপর মায়ের চুপ করে যাওয়া কান্না। রাইসা তখন বিছানার এক কোণে চুপ করে শুয়ে থাকত। সে কাঁদত না, শুধু শুনত।

তার বড় বোন নুসরাত, তখন রাইসার চেয়ে অনেক বড়। সে মাঝেমধ্যে রাইসার হাত ধরে বলত,
“চুপ করে থাক, কিছু দেখিস না।”
কিন্তু ছোট চোখ তো সব দেখে ফেলে।

একদিন সন্ধ্যায়, আকাশটা ছিল ভারী মেঘে ঢাকা। বাইরে গরুগুলো ঘরে ফিরছিল। ঘরের ভেতর সেই একই অস্থিরতা। আবু সাইফুলের গলা এবার একটু বেশি উঁচু,মেজাজ একটু বেশিইই চড়া। রাশিদা বেগমের বারবার আকুতি যেন আবু সাইফুলের কানে যাচ্ছে না , &#039;&#039;আর মেরো না , দোহায় লাগে তোমার&#039;&#039;
রাইসা দরজার আড়াল থেকে সব দেখছিল। তার ছোট হাত দরজার কাঠে শক্ত করে ধরা। সে বুঝতে পারছিল না, কেন তার বুকের ভেতর এমন একটা চাপ অনুভব হচ্ছে, যেন কেউ ভিতর থেকে তাকে চেপে ধরছে।

সে তখনো জানে না—এই অনুভূতির নাম একদিন হবে “ভয়” আর আরেকদিন “একাকীত্ব”।
গ্রামের মানুষজন বাইরে থেকে এই পরিবারকে সাধারণ ভাবত। কেউ বলত, “সব সংসারেই একটু ঝামেলা থাকে।” কিন্তু কেউ দেখত না, একটি ছোট মেয়ের চোখে কীভাবে প্রতিদিনের সেই “ঝামেলা” জমে জমে পাহাড় হয়ে উঠছে। কী পরিমাণ বিষাদ তার অন্তরে জমত!

এভাবেই রাইসা বড় হতে লাগল । কিন্তু সে অন্য বাচ্চাদের মত দুরন্ত ছিল না ছিল অত্যন্ত নিশ্চুপ স্বভাবের।

বাড়ির পেছনের মাঠে যখন অন্য বাচ্চারা দৌড়াত, রাইসা তখন একা বসে থাকত। সে আকাশ দেখত। আকাশটা তার কাছে ছিল এমন এক জায়গা, যেখানে কেউ চিৎকার করে না।
কিন্তু ঘরে ফিরে এলেই আকাশটা ছোট হয়ে যেত।

এক রাতে রাইসা ঘুম ভেঙে দেখে, মা বিছানায় বসে চুপ করে কাঁদছে। পাশে আবু সাইফুল নেই। ঘরের আলো নিভে আছে, শুধু জানালা দিয়ে চাঁদের আলো এসে মায়ের মুখে পড়েছে।
রাইসা ধীরে ধীরে মায়ের পাশে গিয়ে বসে। সে কিছু বলে না। শুধু মায়ের হাতটা ধরে।
রাশিদা বেগম তখন হঠাৎ করে মেয়ের দিকে তাকান। চোখে জল, কিন্তু সেই জলের ভেতরেও একটা কঠিন ক্লান্তি।
তিনি আস্তে করে বলেন,
“তুই বড় হ, রাইসা… খুব তাড়াতাড়ি বড় হ।”
সেই রাতে রাইসা প্রথমবার বুঝতে পারে—বড় হওয়া মানে আনন্দ না, এটা একটা দায়িত্ব।
তার ছোট চোখ তখন জানে না, সামনে তার জন্য কী অপেক্ষা করছে। কিন্তু সে জানে, সে আর আগের মতো শিশু থাকবে না।
গ্রামের ভোরে যখন পাখির ডাক শুরু হয়, রাইসা তখন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। সে ভাবে, “সবাই কি এমনভাবে বাঁচে?”
কিন্তু তার ভেতরের নীরবতা কোনো উত্তর দেয় না।
শুধু একটা দীর্ঘ, ধীরে ধীরে বড় হতে থাকা নিঃশ্বাস তার সাথে থেকে যায়।
আর এভাবেই শুরু হয় রাইসার গল্প—একটি ছোট মেয়ের, যে ধীরে ধীরে শিখে যাবে, পৃথিবী সবসময় কোমল নয়, কিন্তু মানুষ তবুও বাঁচে।...

চলবে...।

গল্পের নামঃ ভাঙ্গা ঘড়ির কাঁটা
লেখিকাঃ রুকাইয়া রাখি</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/247776/</link>
				<pubDate>Thu, 14 May 2026 15:33:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>উত্তরবঙ্গের একটি ছোট গ্রামে জন্ম নেয় মেয়েটি। গ্রামের নামটা বড় নয়, কিন্তু সেই গ্রামের আকাশ ছিল অদ্ভুত রকম বিশাল—যেন সেখানে দুঃখ আর নীরবতা দুটোই একসাথে ভেসে বেড়ায়।<br />
মেয়েটির নাম রাইসা।</p>
<p>তার বাবার নাম আবু সাইফুল, আর মায়ের নাম রাশিদা বেগম। বাইরে থেকে দেখলে তারা একটি সাধারণ পরিবার—কিন্তু ঘরের ভেতরের বাতাসটা ছিল অন্যরকম। সেখানে শব্দ থাকত, কিন্তু শান&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-247776"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/247776/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>