Profile Photo

শেখ মোঃ মহিউদ্দিন সজীবOffline

  • Sajive7061
  • প্রিয় শুভ্রবতী,

    ই-মেইল, এস.এম.এস এর এই যুগে তোমাতে লিখতে কোন এই আদিমতর যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার, তাই না? মনে কি পড়ে তোমার, তুমি সবসময় বলতে তোমাকে যেন সবসময় চিঠি লিখি। তুমি বলতে একটি চিঠির মধ্যে যে পরিমাণ আবেগ, ভালোবাসা জড়ানো থাকে অন্যকিছুতে নাকি তা থাকে না। কিন্তু তোমাকে কোনদিন ও চিঠি লিখা হয়নি, না হয়নি আমাতে লিখা তোমারো! কারণ মুঠোফোন নামক এক আশ্চর্য ডাকঘরের মাধ্যমে আমাদের যত কথা, ব্যথা, চিঠিগুলো আদান প্রদান করতাম। এস, এম, এস. নামক এক ডিজিটাল খামে আমাদের কত আনন্দ বেদনার চিরকুট পৌছে দিতাম একে অপরের কাছে। যাক সে কথা। এই চিঠিতে যখন আমাদের ভালোবাসার গল্পটি লিখছি তখন পৌষের হিমভরা এক মধ্যরাত ৷শেষ হয়ে যাচ্ছে আমাদের ভালোবাসার আরেকটি বছর। যেদিন তুমি বলেছিলে, ” ভালোবাসো আমায়”, সেদিন থেকে আজ ৫ বছর পার হয়ে ৬ তম বছরে চলছি আমরা। এখন মনে হয় আমরা Matured হয়ে গেছি। তাই আর আগের মতো ঝগড়া হয় না।আসলে ঝগড়া করার তুমিটাই এখন নেই ৷ ইদানিং মনে হয়,ভাষা যেন অসম্পূর্ণ।বিশাল আবেগের মহাজগত, সৌরজগতে ভাষা যেন ক্ষুদ্র পৃথিবীর ছোট্ট একটা শহর। অথবা মহাসমুদ্রের বিশাল জলরাশির কাছে ভাষা যেন সৈকতের ছোট্ট একটি বালুকনা। ছোট্ট একটি বালুকনা দিয়ে, যেমনি মহা সমুদ্রের জল শুষে নেয়া যায় না। ঠিক তেমনি মানব মনের বিশাল আবেগের জোয়ারে, আবেগ প্রকাশ করার মাধ্যম ভাষা যে খুবই অপ্রতুল, নগণ্য। তবুও ভাষাহীন অসীম আবেগ বুঝতে হলে, তেমনি আবেগি মন চাই। যে আবেগের বন্যায় ভেসে যাবো আমরা সীমা লোকের অসীম প্রান্তরে ৷অনেক দিনের ইচ্ছে চাঁদের মুখ দেখবো।শুনেছি চাঁদের মায়াবী মুখ নাকিআকাশ কে করে উজ্জ্বল।তাই অনেক ইচ্ছে নিয়ে প্রতীক্ষার প্রহর গুণে সেদিন গিয়েছিলাম কোন এক মাঠে চাঁদ তোমাকে দেখবো বলে।ইচ্ছে ছিল তোমার কাছে বলবো না বলা কিছু কথা, তুমি শিখাবে আমার তোমার হাসির রহস্য।কিন্তু সেই সৌভাগ্য আমার হলো না ৷ আমি যেদিন তোমায় দেখতে গিয়েছিলাম সেদিন যে ছিল অমাবশ্যার রাত আর তাইতো সেদিন তুমি ছিলেনা ছিল আঁধারে ঘেরা এই আকাশ।
    তবে আজ দেখতে পারিনা কাল দেখবো, তবুও চাঁদ আমি তোমায় দেখবো।তোমাকে বলবো মনের না বলা কিছু কথা।তোমাকে দেখার ইচ্ছা যেন দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে,জানি তোমারও মনেহয়।আজকাল অনেক ইচ্ছে করে জীবনের সব পাঠ চুকিয়ে বাকি জীবন তোমাকে ভালবেসে কাটিয়ে দিই।তোমাকে ছুঁতে পারলে হয়তো জীবন টা আরও ভালো কাটতো।চাঁদ আমাদের পৃথিবী থেকেও হাজার মাইল দুরে কিন্ত তার পরও আমরা চাঁদকে দেখতে পাই,তুমি তো পৃথিবীতে ই তার পরও কেন এত বাধা।কোন কষ্ট রাখতে চাই না তার পরও কষ্টগুলো কেন যেন কোন কথাই শোনে না।দুপুরের নীলচে আকাশের দিকে যখন চেয়ে থাকি, তখন তোমার সাথে কাটানো মুহুর্ত গুলো মনে পরে মাঠের ওই মাতাল বাতাস উপভোগ করার সময় তোমার নানা কথা কানের সামনে বেড়ায় উরে আঁকাবাকা আকাশী নদী বয়ে যেতে যখন দেখি, তোমার সুশোভন হাসিতে আমার অন্তর ভরে হলুদ সরষে খেতে একলা যখন বসে থাকি তখন আরও কত কথা উদয় হয় এক এক করে আমার অস্থির হৃদয় আর এক মুহুর্ত অপেক্ষা করতে পারছেনা, আমার হৃদয়কে কি তুমি বুঝেছো? চন্দ্রপ্রভার মধ্যে উষ্ণতা অনুভব করি যখন তোমার কথা ভাবি সেই উষ্ণতা কি তুমি অনুভব করেছো? আমার মনের ভিতর পালকি করে যে আমার কাছে এসেছে, সে কে, তা কি তুমি বলতে পারো? আমার স্বপ্ন এসে জল ছিটিয়ে, রঙ লাগিয়ে কেউ গল্প লেখে সেই গল্পকি তুমি পড়তে পারো? চারপাশের মানুষের মাঝে তোমাকেই খুঁজে পাই যখন তোমায় মনে করি, কেন, তা কি তুমি জানো? আমার ইচ্ছের গোলাপি ঘুড়িটা আকাশে ওড়ে সেই ঘুড়ির সুতোটা কার কাছে আছে, তা কি তুমি জানো? ঘুমের নেশায় আমার চোখের পাতা যখন বিশ্রাম নেয়, তখন যাকে দেখি, সে কে, তা কি তুমি জানো? আমার লুকোনো হৃদয় তার সঙ্গীকে পেয়েছে সেই সঙ্গীকে কি, তুমি চেনো? পুরোনো কোন এক প্রেমের কাহিনী অনুসরন করে আমি চিঠি লিখি, তুমি কি সেই চিঠি পড়েছো? তোমার মেঘের বৃষ্টি আমার ফুলের বাগানে ফুল ফোটায়, তুমি কি সে ফুল দেখেছো? আমার মনের আকাশে অনেক তারাই উজ্জ্বল হয়ে তোমাকে কিছু বলতে চায় তুমি কি সেই তারাদের কথা শুনেছো? আমার সব প্রশ্নগুলোর জবাব খুবই সহজ, তবুও লিখো একটু ভেবে, আমি আমার প্রেমের সাদা কাগজটা তোমাকে পাঠাবো তাতে কি তুমি উত্তরগুলো লিখে দেবে?

    ইতি,
    তোমার শুভ্রজিৎ।

    3
    1 Comment

Friends

Skip to toolbar