<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Shimanto Peter Gomes | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/shimanto-peter-gomes/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/shimanto-peter-gomes/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Shimanto Peter Gomes.</description>
	<lastBuildDate>Sun, 14 Jun 2026 08:14:35 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">e7b7d184df9c429f97255cd7666f99c7</guid>
				<title>Shimanto Peter Gomes and Rezaul Karim are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/99324/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Mar 2022 04:18:45 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cc1f10f745fea1630006d6e65d667d20</guid>
				<title>Shimanto Peter Gomes and Fazilatun Nesa are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/59063/</link>
				<pubDate>Sat, 20 Nov 2021 14:54:32 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bcfe95e38c42fd5075a0ccaf65228c24</guid>
				<title>বাড়ি নাম্বার ফোর নট থ্রি (পর্ব-২)
---------------------------------------

মিঃ থমাস, ওয়াহিদ সাহেব কে সাথে নিয়ে আগের খুনের যায়গা গুলো ঘুরে এসেছেন। আর সব জায়গাতেই লাভ চিহ্নের ভিতরে ক্রস আকা পেয়েছেন। প্রথমটা তে দুইটা ক্রস, দ্বিতীয় টা তে তিনটা, তৃতীয়টাতে চারটা আর চতুর্থ টায় পাঁচটা। তারমানে খুনি আরো একটা খুন করেছে যেটা কোন সংবাদে আসে নি। 
 মিঃ থমাস তার ডায়েরিটা নিয়ে বসলেন। তিনি এক এক করে সূত্র সাজানো শুরু করলেন। &quot;খুনি একজন মেয়ে। কম্ফু কারাতে তে দক্ষ।&quot; লাভের ভিতর ক্রস চিহ্ন এবং হৃদপিণ্ড বিক্ষত করে দেওয়ার কি কারন হতে পারে তিনি ভেবে পাচ্ছেন না। এমন সময় টিভিতে চলতে থাকা নাটকে নায়ক, নাইকা কে বলছে, &quot;আমি তোমাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি।&quot; ডায়লগটা শুনেই মিঃথমাসের মাথার অর্ধেক জট খুলে গেল। হৃদয়, হৃদপিণ্ড, হৃদয়, হৃদপিণ্ড বিরবির করতে করতে হো হো করে হেসে উঠলেন মিঃ থমাস। খুনি খুন করেছে হয়তো প্রেম ভালোবাসা জনিত কারনে। তাই লাভের ভিতর ক্রস চিহ্ন ও হৃদপিণ্ড ক্ষত বিক্ষত করে দিয়েছে খুনি। কিন্তু এতো গুলো পুরুষের সাথে এক নারীর প্রেম, এটা কিভাবে সম্ভব? আবার খুন হওয়া ব্যক্তিগুলো এক অপরের অপরচিত। তার থেকেও বড় কথা হলো তারা সবাই বিবাহিত ছিলো। তাহলে কি পরকীয়া? সেটাও যদি হয়, চারজন অপরিচিত ব্যক্তি কিভাবে একজন নারীর প্রেমে আসক্ত হলো? কেসটা বড্ড গোলমেলে। এই মনে হয় যে সব জট খুলে গেছে তারপরই আবার আরো বড় গোলক ধাঁধায় জরিয়ে যায় সব কিছু। মাথা টা ঝিমঝিম করছে। মিঃ থমাস তার শোবার ঘরের সেল্ফ থেকে হুইস্কির বোতল বের করে গ্লাসে এক পেগ হুইস্কি আর একটা সিগারেট নিয়ে বেলকনিতে গিয়ে দাড়ালেন। সকালের কোমলতা ছেড়ে রোদ ধীরে ধীরে প্রখর হচ্ছে। কিছু দূরে একটা ডোবায় একটা কুকুর গলা পর্যন্ত শরীর ডুবিয়ে বসে আছে। আসলেই প্রচন্ড গরম পড়ছে গত দুই দিন ধরে। 

দুপুর দুইটা দিকে জামান সাহেব ফোন করেছিলেন। মিঃ থমাসের সন্দেহ আংশিক সঠিক। খুন হওয়া প্রত্যেক জনেরই পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো। তবে সবাই আলাদা আলাদা বক্তি। তাদের কে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মিঃ থমাস বনানী থানার দিকে রওনা হলেন। ওই চারজন মহিলার সাথে কথা বলতে হবে। হয়তো কোন সূত্র হাতে আসতেও পারেন। 

শেষ পর্যন্ত আশাহত হয়েই বাড়ি ফিরতে হলো। ঐ মহিলাদের সাথে কথা বলে কোন কিছুই পাওয়া গেল না। তাদের কল লিস্ট চেক করেও কোন রকম সন্দেহজনক কিছুই সামনে আসলো না। কিভাবে কোন সূত্র ধরে এগিয়ে যাবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। মিঃ থমাস ঠিক করলেন খুন হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্ত্রীদের সাথে কথা বলবেন। তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত যে খুনির সাথে তাদেরও কোন সংযোগ নেই। কারন তিনি চতুর্থ ব্যক্তির স্ত্রী কে ঐদিন ঘটনাস্থলে দেখেছেন। মহিলা যেভাবে কান্না কাটি আর আহাজারি করছিলো তাতে বোঝা গেছে যে সে কোনভাবেই নিজের স্বামীর হত্যার চিন্তা মাথায় আনতে পারবে না। তবুও কথা বলতে হবে। এটাই এখন সর্বশেষ রাস্তা। 

মিঃ থমাস তার বসার ঘরের আরাম কেদারায় বসে দুলছেন। অবশেষে এক টুকরো আশার আলোর ঝলকানির তিনি পেয়েছেন। তিনি আজ সারাদিন ঘুরে ঘুরে ভিক্টিমদের প্রত্যেকের স্ত্রীদের সাথে কথা বলে এসেছেন। প্রত্যেকেরই মানসিক অবস্থা খুব খারাপ। কেউই স্বামীর এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেল তারা সবাই তাদের স্বামীর পরকিয়ার কথা জানতেন। এ নিয়ে প্রত্যেকেরই স্বামীর সাথে বাকবিতন্ডা লেগেই থাকতো। দুইজনের তো প্রায় ডিভোর্সই হয়ে যাচ্ছিলো। তারা এ বিষয়ে কারো সাহায্য চেয়েছিলেন কিনা বা কারো স্মরনাপন্ন হয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে তারা সবাই, &quot;দৈনিক দেশ ও বিশ্ব&quot; পত্রিকার একটা বিজ্ঞাপন দেখালেন। বিজ্ঞাপনের একটা লাইনে লেখা, &quot;সংসারে অশান্তি, স্বামী/স্ত্রী পরকীয়া, ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানো, সকল সমস্যার সমাধান করতে আসুন বাবা কদম শেখের দরবারে।&quot; পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখে সংসার বাঁচানোর জন্য তারা এই কদম শেখের দরবারে গিয়েছিলেন। মিঃ থমাস এখন অনেকটাই নিশ্চিত যে, বাবা কদম শেখের দরবারে গেলেই রহস্যের একটা সমাধান পওয়া যাবে। কাল একবার বাবার পায়ের ধুলো নিতে যাবেন মিঃ থমাস। ডাক্তারের আদেশ মান্য করতেই আজ তিনি তারাতারি বিছানায় চলে গেলেন। আসলেই তার প্রচুর বিশ্রামের দরকার।

তারাতাড়ি বিছানায় এসেও কোন লাভ হলো না। এ পাশ ওপাশ করে এক ঘন্টা পার হয়ে গেল কিন্তু চোখে ঘুম আসার কোন লক্ষ্মণই নেই। মিঃ থমাস উঠে গিয়ে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে তার কম্পিউটার টা অন করলেন। &quot;বাংলাদেশের টপ মহিলা কারাতে বিদ&quot; লিখে সার্চ দিলেন গুগলে। জাতীয় পুরষ্কার বিজয়ী শামীমা আক্তার সহ রাজিয়া পারভীন, শাপলা দাস ও রুহেলী খানমের নাম ছবি সহ ভেসে উঠলো কম্পিউটারের পর্দায়। মিঃ থমাস খুটিয়ে খুটিয়ে সবার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য ও তাদের প্রকাশিত সব ধরনের চিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পর্যবেক্ষণ করলেন। কারো সাথেই খুনির উচ্চতার কোন মিল নেই। সবার উচ্চতাই পাঁচ ফুট চার ইঞ্চির নিচে। কিন্তু মিঃ থমাসের হিসাব অনুযায়ী খুনির উচ্চতা পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি। আর অন্য কোন ধরনের সন্দেহ জনক কিছুও খুজে পেলেন না তাদের বিরুদ্ধে মিঃ থমাস।

 হঠাৎ একটা ছবির উপর চোখ আটকে গেল মিঃ থমাসের। ছবিতে একটি বাড়ির ভিতরে একজন মহিলা আট দশজন মেয়েকে কারতে শিক্ষা দিচ্ছে। ছিপছিপে গড়নের, দূধ সাদা গায়ের বরণ মহিলাটির। এক পলক দেখেই মোহিত হয়ে যাওয়ার মত রূপের অধিকারী মহিলা। উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চির মতই হবে। তার মধ্যে একটা রাজকীয় রাজকীয় ভাব স্পষ্ট। তাদের অদূরে একটি খাচার ভিতর দানবাকৃতির দুটি রটওয়েলার আটকানো। রোগ নিয়ন্ত্রন ও প্রতিরোধ কেন্দ্র ‘সিডিসি’র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্টে কুকুরের কামড়ে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার অর্ধেক মৃত্যুর কারন ছিল রটওয়েলার প্রজাতির কুকুর। এই তথ্যই বলে দেয় এই প্রজাতির কুকুর কতটা আক্রমণাত্মক স্বভাবের হয়ে থাকে এরা। প্রচণ্ড শক্তিশালী হয় এরা। আর যে কোনও সময় মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তবে খারাপ গুণের মধ্যে ভালো যা আছে, তা হল এরা খুব ভালো পাহারাদার এবং প্রভুভক্ত হয়ে থাকে। তবে খুব ভালোভাবে ট্রেইনড করতে না পারলে এরা ভয়ংকর হয়ে ওঠে। পোল্যান্ড, রোমানিয়া, পর্তুগাল এবং আয়্যারল্যান্ডে রটওয়েলার প্রজাতির কুকুর পোষা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রটওয়েলার একটি জার্মান বংশোদ্ভূত কুকুর। তবে, রোমান সাম্রাজ্যের যুগেও রটওয়েলারের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। 

ছবিটাতে ক্লিক করতেই নিচে একই বাড়ির আরেকটা ছবি সাথে ভেসে উঠলো। পরের ছবিটাতে বাড়ি গেইট থেকে শুরু করে পুরো বাড়িটার মোটামুটি একটা স্পষ্টতা ফুটে উঠেছে। গেটের পাশে দেয়ালে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লেখা &quot;বাড়ি নাম্বার-৪০৩ (ফোর নট থ্রি), রোড- ৩২, রাধাচূড়া আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।&quot; গেটের সামনে শক্তপোক্ত গড়নের দূই জন গার্ড দাড়িয়ে আছে। যাদের দেখে মনে হয় অবসর প্রাপ্ত দক্ষ সামরিক অফিসার। বাড়ির প্রতি পরতে পরতে আভিযাত্যের ছাপ স্পষ্ট। বাড়ির ছাদের উপরে উন্নত প্রযুক্তির রাডার, এন্টেনা বসানো। যেগুলো দিয়ে সরাসরি স্যাটেলাইটের সহয়াতা খুব সহজেই পাওয়া সম্ভব। বোঝাই যাচ্ছে বাড়িতে যিনি বা যারা থাকেন তারা উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে থাকেন। এমন কি তাদের ব্যবহৃত প্রযুক্তির মাধ্যমে যেকোন প্রকার ভার্চুয়াল অপরাধ করা তাদের কাছে জলের মত সহজ।  এর বেশি কোন তথ্য আর সে বাড়ি সম্পর্কে পাওয়া গেল না। এমন কি সেই মহিলার নাম ও কোথাও পাওঅ গেল না। মিঃ থমাস মনে মনে ঠিক করে ফেলেছেন আজ রাতেই তিনি গোপনে &quot;বাড়ি নাম্বার ফোর নট থ্রি&quot; তে ঢুকে দেখবেন যে ঐ বাড়ির ভিতর লোকচক্ষুর আড়ালে কি চলছে। এরকম একটা আভিজাত্যপূর্ণ পরিবারের মহিলা কারাতে শিক্ষিকা এটা মিঃ থমাসের মন কোনভাবেই সায় দিচ্ছে না। 

মিঃ থমাস ছদ্মবেশ নিয়ে আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেই চমকে উঠলেন। তাকে এখন পরিপূর্ণ পেশাদার চোর মনে হচ্ছে। যেহেতু তিনি রাতের বেলায় যাচ্ছেন তাই চোরের ছদবেশই সব থেকে উত্তম। ধরা পরে গেলেও ছ্যাচড়া চোর ভেবে ছেড়ে দিবে। অন্য কোন কিছু সন্দেহ কেউ করবে না। রাত প্রায় সোয়া তিনটে। মিঃ থমাস বাড়ি নাম্বার &quot;ফোর নট থ্রি&quot; এর প্রাচীর টপকে ভিতরে ঢুকেছেন পয়তাল্লিশ মিনিট হয়ে গেল। এখনো তার কোন সাড়াশব্দ নেই।  আচমকা মি থমাসের বিকট চিকারে কেপে উঠলো পুরো বাড়ি। বাড়ি এমাথা থেকে ওমাথা চিৎকার করে ছুটাছুটি করতে দেখা গেল রটওয়েলার দুটোকে। প্রায় পাঁচ মিনিট পড় দেখা গেল মিঃ থমাসকে কাঁধে করে একজন গার্ড গটগট করে গেটের বাহিরে এলো। মিঃ থমাস অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে তার কাঁধে। আর তার সাথে সাথেই একটা পিক-আপ ভ্যান এসে দাড়ালো বাড়ি গেট এ। গার্ডটা টা মিঃ থমাসকে প্রায় ছুড়েই দিলো পিক-আপ ভ্যানের উপরে। ভ্যানটাও সাথে সাথে একগাদা ধুলো উড়িয়ে সাই করে মোড়ের আড়ালে হাড়িয়ে গেলো। (চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/59058/</link>
				<pubDate>Sat, 20 Nov 2021 14:03:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বাড়ি নাম্বার ফোর নট থ্রি (পর্ব-২)<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;</p>
<p>মিঃ থমাস, ওয়াহিদ সাহেব কে সাথে নিয়ে আগের খুনের যায়গা গুলো ঘুরে এসেছেন। আর সব জায়গাতেই লাভ চিহ্নের ভিতরে ক্রস আকা পেয়েছেন। প্রথমটা তে দুইটা ক্রস, দ্বিতীয় টা তে তিনটা, তৃতীয়টাতে চারটা আর চতুর্থ টায় পাঁচটা। তারমানে খুনি আরো একটা খুন করেছে যেটা কোন সংব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-59058"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/59058/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a305e8b4caff221f306030fe0074a3aa</guid>
				<title>বাড়ি নাম্বার ফোর নট থ্রি (প্রথম পর্ব)
সীমান্ত পিটার গমেজ 
----------------------------------
বাংলাদেশের নামকরা প্রাইভেট ডিটেকটিভ মিঃ থমাস আব্রাহাম তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে তিনটা দৈনিক পত্রিকা প্রায় একঘন্টা ধরে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছেন আর আনমনে বিরবির করছেন। চোখে মোটা গ্লাসের চশমা। বয়স যে খুব বেশি হয়েছে তা না, মাত্র পয়ত্রিশ। অতিরিক্ত রাত জাগা আর বই নিয়ে বসে থাকায় কয়েক মাস ধরে মাথা ব্যাথা ও চোখ দিয়ে পানি পরার ব্যধি শুরু হয়েছে। ডাক্তার খুব করে বলে দিয়েছে তিনি যেন পর্যাপ্ত বিশ্রাম করেন। এমনিতেই মিঃ থমাস যথেষ্ট শক্তপোক্ত গড়নের অধিকারী। 

তার সমানের পত্রিকা গুলো যথাক্রমে, ১৪-০২-২০২১, ১৭-০৪-২০২১ ও গতকাল ০৫-০৮-২০২১ এর। তিনটি পত্রিকারই প্রথম পাতায় বিভৎস খুনের বর্ণনা দেওয়া। খুন হওয়া ব্যক্তিরা যথাক্রমে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিঃ রাজীব আহমেদ (৪০), নামকরা হার্ট স্পেশালিষ্ট ডঃ রমেশচন্দ্র গুপ্ত (৩৮) ও বিখ্যাত ডিরেক্টর মিঃ রাকিব হাসান (৩৯)। সবাইকেই প্রচন্ড রকমভাবে শারীরিক অত্যাচার এর পর খুন করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী প্রত্যেকটা খুন কোন পেশাদার খুনির সংকেত দেয়। খুব ঠান্ডা মাথায় খুন গুলো করেছে খুনিরা। মিঃ থমাসের ধারনা তিনটা খুন একই ব্যক্তি করেছে। যদিও তারপক্ষে যথেষ্ট যুক্তি মিঃ থমাস দাড় করাতে পারছেন না। তিনজনকেই খুন করার আগে শারিরীক অত্যাচার করা হলেও অত্যাচারের ধরন ছিলো ভিন্ন। মিঃ রাজীব কে খুন করা হয়েছে কারেন্টে শক দিয়ে। মিঃ রমেশচন্দ্র কে খুন করার আগে এসিড দিয়ে তার মুখ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর বাথটাবের জলে ডুবিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। আর মিঃ রাকিবকে অনেকট ফিল্মি স্টাইলেই খুন করেছে খুনি। ফ্যানের সাথে উল্টো করে ঝুলিয়ে মাথায় লোহার রড দিয়ে পিটানোর পরে হাতের রগ কেটে দিয়ে শরীরের সব রক্ত বের করে দিয়েছে খুনি। যার ফলে মৃত্যু হয়েছে মিঃ রাকিবের। 

শুধু একটা জায়গাতেই কিছুটা মিল পাওয়া যায়। সেটা হল তিনজনেরই মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরে খুনি তাদের হৃদপিণ্ডের ভিতরে কিছু না কিছু ঢুকিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এতেও নিশ্চিত হওয়ার কোন উপায় নেই যে খুনি একজনই। কারন মিঃ রাজীব আহমেদের অনেকগুলো ব্যবসার মধ্যে একটি ছিলো সিগারেটের ব্যবসা। নামকরা সিগারেট ব্র্যান্ড &quot;বি এন্ড বি&quot; এর মালিক ছিলেন তিনি। হয়তো ধুমপান করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া কোন রোগীর আত্মীয় স্বজন রাগের বসে তাকে খুন করে তার হৃদপিণ্ডে গুলি করে নিজের মনকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যদিও যুক্তি টা হাস্যকর লাগছে তবুও একদম ফেলে দেওয়াও যায় না।। মিঃ রমেশচন্দ্র যেহেতু একজন হার্ট স্পেশালিষ্ট তাই তার খুনি তার হার্টে সার্জিক্যাল ছুড়ি ঢুকিয়ে খুন করেছে।  বেচারা হার্ট স্পেশালিষ্ট, নিজের হার্ট রক্ষা করতে পারলেন না। আর মিঃ রাকিবকে তার পরিচালিত সিনেমা &quot;পোড়া হৃদয়&quot; এর একটা সিনের হুবহু নকল করে খুন করা হয়েছে। খুনি মিঃ রাকিবের হৃদপিণ্ডে স্ক্রু-ড্রাইভার ঢুকিয়ে দিয়েছে। তিনটা খুনের পিছনেই আলাদা আলাদা যুক্তি আছে। তাছাড়া খুনের তারিখ ও খুন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কোন সম্পর্কও খুজে পাওয়া যায় নি। এমন কি বেঁচে থাকতে কেউ কাউকে দেখা তো দুরের কথা কে কারো কাছাকাছি ও কোন দিন আসে নি।  সব কেমন যেন জট পাকিয়ে যাচ্ছে। মিঃ থমাস ঘর থেকে বের হয়ে বাগানে চলে গেলেন। মাথা থেকে খুনের বিষয় গুলো ঝেরে ফেলতে চাইছেন। কিন্তু পারছেন না। প্রশাসন থেকে খুনের রহস্য উদঘাটনের ব্যাপারে তার কাছে কোন সাহায্য এখনো চায় নি। তবে তিনি নিশ্চিত যে আর কয়েকদিনের মধ্যেই তার সাথে প্রশাসন ঠিকই যোগাযোগ করবে। 

আরো একমাস পার হয়ে গেল। খুনের ব্যপার টা আস্তে আস্তে ধামাচাপা পরে গেল। মিডিয়া নতুন সংবাদের পিছনে ছুটলো। রাজধানীর ভিতর যে এত বিভৎস তিনটা খুন হয়ে গেল তাতে যেন এ শহরের কিছুই আসে যায় না। বর্তমান বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাটাই এমন। প্রত্যেকদিন নতুন নতুন খবর তৈরি হচ্ছে আর গতদিনের খবর তার নিচে চাপা পরে যাচ্ছে। আজ ০৭-০৯-২০২১। টেলিফোনের তীব্র আওয়াজে ঘুম ভাঙলো মিঃ থমাসের। সকাল সাড়ে ছয়টা বাজে। এত সকালে কে হতে পারে মিঃ থমাস ভেবে পেলেন না। ফোনটা কানে নিতেই অপর প্রান্ত থেকে চিফ অব বাংলাদেশ পুলিশ মিঃ জামান ওয়াহিদের গলা শোনা গেল। গলার আওয়াজে কেমন একটা আতংকিত ভাব স্পষ্ট। মিঃ থমাস, ঢাকায় আছেন তাহলে। কি যে এক মুশকিলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি বোঝাতে পারবো না। আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি, এক্ষুনি কলাবাগান চলে আসুন। আরো একটা খুন হয়েছে। আপনাকে আমার সাথে স্পটে যেতে হবে। একদমে কথাগুলো বলে গেলেন মিঃ জামান ওয়াহিদ, তিনি তাড়াহুড়োর করে ফোন দিলে কখনোই কুশল বিনিময়ের ধারে কাছেও জান না এইটা মিঃ থমাস খুব ভালো ভাবেই জানেন। 

মিঃ থমাস প্রস্তুত হয়ে তার ছোট যন্ত্রপাতির ব্যাগটা হাতে নিয়ে জামান সাহেবের পাঠানো গাড়িতে গিয়ে উঠলেন। কলাবাগ খুনের স্পটে পৌঁছে দেখলেন জামান সাহেব আগেই সেখানে হাজির। মিঃ থমাসকে দেখে ছুটে এলেন জামান সাহেব। কুশল বিনিময় করে মিঃ থমাসকে ডেড বডির কাছে নিয়ে চললেন। একটা আন্ডার কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংয়ের পাঁচ তলায় খুনটা করা হয়েছে। গলায় হাফ ইঞ্চি যায়গায় গোলাকার হয়ে কালো হয়ে আছে। মাঝের আঙুলটা ভাজ করে একটু উচু করে ঘুষি মেরেছে গলায়, তাই শুধু এক আঙুলের আঘাতই লেগেছে গলায়। তার ছাপ স্পষ্ট হয়ে আছে।  বুকের বাম পাশে প্রচন্ড জোরে ঘুষি মেরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে খুনি। কাজটা করতে সর্বোচ্চ দুই সেকেন্ড লেগেছে খুনি। বুকের পাঁজরের হার ভেঙে গেছে। বোঝাই যাচ্ছে কোন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত খুনির কাজ। আর এই লাশটিরও হৃদপিণ্ড একটা লোহার রড দিয়ে এফোড় ওফোড় করে দিয়েছে খুনি। মিঃ থমাস এখন শতভাগ নিশ্চিত যে আগের খুন গুলো ও একই ব্যক্তি বা একই গ্রুপের লোকই করেছে। মিঃ থমাস তার ব্যাগ থেকে আতশ কাচ বের করে সব খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলেন। কিন্তু কোন চিহ্ন বা প্রমান কিছুই খুজে পেলেন না। আশা প্রায় ছেড়েই দিচ্ছেন এমন সময় লাশের পাশের পিলারের গোড়ায় চোখ আটকে গেল। পিলার সামনে ঠিক মাঝামাঝি অবস্থানে আবছা জুতার ছাপ দেখা যাচ্ছে। মিঃ থমাস হাটু গেড়ে বসে আতস কাচ দিয়ে জুতার ছাপ টা ভালো ভাবে পরীক্ষা করতে লাগলেন। তার কপাল কুঁচকে গেল। জামান সাহেব সেটা লক্ষ্য করে প্রশ্ন করলেন, মিঃ থমাস কোন সূত্র পেলেন? উত্তরে মিঃ থমাস বললেন, খুনি একজন মহিলা। মিঃ থমাসের কথা শুনে জামান সাহেব স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। নিজেকে সামলে নিয়ে আবার প্রশ্ন করলেন, আপনি এতটা শিওর কিভাবে হচ্ছেন যে খুনি একটা মেয়ে। মিঃ থমাস জামান সাহেব কে কাছে ডাকলেন। তার পার আতস কাচ দিয়ে জুতার ছাপ দুটো ভালো ভাবে দেখালেন। দেখুন জামান সাহেব জুতার সামনের অংশের ছাপ স্পষ্ট মাঝখানে কোন ছাপ নেই আবার শেষ অংশে ছোট বর্গাকার একটি ছাপ। এমন ছাপ শুধু মাত্র মেয়েদের হাইহিল থেকেই পড়ে। জামান সাহেব মাথা ঝাকিয়ে মিঃ থমাসের কথায় সায় দিলেন। মিঃ থমাসা বির বির করতে লাগলেন, মেয়েটা কেন এই পিলারের সামানে দাড়ালো? মিঃ থমাস ভালো ভাবে পিলারটা আতস কাচ দিয়ে পরীক্ষা করতে লাগলেন। একটু উপরের দিকে উঠতেই মিঃ থমাসের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। অনেক ছোট কের একটা লাভি চিহ্ন আকানো। আর তার মাঝখানে পাঁচটি ক্রস চিহ্ন। মনে হয় খুনি কোন কিছু ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সাইকো কিলার রাই বেশিরভাগ এমন করে থাকে। খুন করার পর একটা সিম্বল রেখে যায়। এতে খুনি একধরনের পৈচাশিক আনন্দ পায়। মিঃ থমাস তার ব্যাগ থেকে মেজারমেন্ট টেপ বের করে দেওয়ালে কি যেনো মাপ ঝোক করলেন। তারপরে নোট খাতার মধ্যে লিখতে শুরু করলেন, &quot;খুনি একজনে মহিলা। উচ্চতা পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি। এবং খুনির কারাতে ব্ল্যাকবেল্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।&quot; জামান সাহেব অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন, মিহলার উচ্চতা পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি আপনি কিভাবে জানলেন? উত্তরে মিঃ থমাস বললেন, মানুষ সাধারণত দেওয়ালে বা বোর্ডে এক লাইনের কিছু লিখতে গেলে নিজের চোখ বরাবরই লিখে। এই পিলারের গায়ে আঁকা চিহ্নটা মাটি থেকে পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি উপরে। এবার পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি থেকে হাই হিলের উচ্চতা দুই ইঞ্চি বাদ দিন, তাহলে থাকে পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি, এবার তার সাথে চোখের উপরের অংশের তিন ইঞ্চি যোগ করুন, তাহলেই চলে আসে পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি। জামান সাহেব মিঃ থমাসের দিকে হা করে তাকিয়ে রইলেন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/56563/</link>
				<pubDate>Sun, 14 Nov 2021 06:34:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বাড়ি নাম্বার ফোর নট থ্রি (প্রথম পর্ব)<br />
সীমান্ত পিটার গমেজ<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
বাংলাদেশের নামকরা প্রাইভেট ডিটেকটিভ মিঃ থমাস আব্রাহাম তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে তিনটা দৈনিক পত্রিকা প্রায় একঘন্টা ধরে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছেন আর আনমনে বিরবির করছেন। চোখে মোটা গ্লাসের চশমা। বয়স যে খুব বেশি হয়েছে তা না, মাত্র পয়ত্রিশ। অতিরিক্ত রাত জাগা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-56563"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/56563/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2f74017d856f1d46a1e4be0586dfb1f5</guid>
				<title>ধর্ষকের জবানবন্দি
সীমান্ত পিটার গমেজ

আমি রফিক। মফিজপুর থানার এস আই। সারারাত খুব ধকল গেছে। থানার পাশের মহল্লার এক কিশোরী নিখোঁজ। সারারাত খোজাখুজির পর ভোরবেলায় রেলওয়ে স্টেশনের পিছনে পরিত্যক্ত জমিতে পাওয়া গেল। বিবস্ত্র নিথর দেহ পরে ছিলো ঘাসবনের আড়ালে। লাস ফরেনসিক ল্যাব এ পাঠিয়ে কোয়াটারে ফিরে চোখটা বন্ধ করেছি ওমনি মোবাইলটা বেজে উঠলো।

থানায় ঢুকে আমার ডেস্কে এ গিয়ে বসলাম। ঢুকার সময়ই দেখলাম দরজার পাশে এক যুবক মাথা নিচু করে বেঞ্চে বসে আছে। মুখভর্তি খোচাখোচা দাড়ি। ভয়ংকর অপরাধীর ছাপ পরে আছে লোকটার উপরে। লোকটার সাথে কথা বলার মত কোন ইচ্ছাই এখন অবশিষ্ট নেই। এমুহূর্তে কড়া লিকারের এক কাপ রং চা দরকার।

লোকটা আমার সামনে বসা। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা হচ্ছে। আমার হাতে কড়া লিকারের রং চা।
স্যার মাইডারে আমি ধর্ষণ কইরা খুন করছি।
কথার আকস্মিকতায় গরম চায়ে আমার জিভ পুরে গেল। নিজেকে সামলে নিয়ে প্রশ্ন করলাম,
কি বললেন আপনি?
সত্যি কথাই কইছি, মাইয়াডারে আমি ধর্ষণ কইরা খুন করছি।
এক ঝলকের জন্য লাশের চেহারা চোখে ভেসে উঠলো। মাথায় চিনচিনে ব্যথা শুরু হয়ে গেছে। একলাফে চেয়ার থেকে উঠে লোকটার শার্টের কলার ধরে টেনে নিয়ে লকাপের এক কোনে ছুড়ে মারলাম। খটাস করে লকাপের দরজা টা বন্ধ করে চেয়ারে ফিরে এলাম। গায়ের লোম সব কাটার মত দাড়িয়ে আছে।

সকাল দশটা। আসামীকে জবানবন্দির জন্য নেওয়া হয়েছে। টেবিলের দুই প্রান্তে আমরা দুজন। এক গ্লাস পানি ঠেলে দিলাম লোকটার দিকে। পানির গ্লাসে একটা চুমুক দিয়ে বলতে শুরু করলো,
আমি আনোয়ার, বয়স সাতাইশ। গতকাল রেল লাইনের পাশ দিয়া যাওনের সময় মাইয়াডারে একলা পাইয়া ইস্টিশনের পিছে নিয়া গিয়া ধর্ষণ করছি।
মাত্র বার বছরের একটা মেয়েকে দেখেও লালসা জাগে? অতটুকু মেয়ে, তাকেও রেহাই দিলি না কুত্তার বাচ্চা?
স্যার মাইয়াডা বড় হইলে কি কইতেন?
আমি নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না। শরীরের সব শক্তি দিয়ে চড় বসিয়ে দিলাম বদমাইসটার গালে। চেয়ার সহ পরে গেল। কলার ধরে টেনে বসালাম।
স্যার যদি মারতে চান মারেন আমার আপত্তি নাই, আর যদি আমার কথা শুনতে চান তো আমি কই আপনার ধৈর্য নিয়া শুনতে হইবো।
আমি একগ্লাস পানি খেয়ে ঠান্ডা মাথায় চেয়ার টেনে বসলাম। আনোয়ার আবার বলতে শুরু করলো,
আমি ইস্টিশনের পাশের পার্কে এক কোনায় তাবু বানাইয়া থাকি। গতকাল সন্ধার দিকে পার্কের মইধ্যে দুইডা পোলা আর একটা মাইয়া আইলো। মাইয়াডার কাপড় চোপর মোডেই ভালা না, শইলের লগে লাইগা আছে। চামড়ার রঙের পায়জামা পরছে। দুর থাইক্কা মনে হয় গায়ে কিচ্ছু নাই। চক্ষের সামনে কাপড় চোপড় ছাড়া একটা মাইয়া মানুষ, আবার দাড়াইয়া দাড়াইয়া পোলাগ লগে বিড়ি টানতাছে। মাথাডা পুরা আউলািয়া গেল। শয়তান ভর করলো শইলের উপর। পার্ক থাইক্কা বাইর হইয়া বাচ্চা মাইয়াডারে একলা পাইলাম। তহন মাইয়া ছোড না বড় দেহার সময় আছিলো না।
স্যার এইডা আমার প্রথম না, আমি আগেও ধর্ষণ করছি কিন্তু খুন করি নাই আগে। এইবার করছি মাইয়াডা আমারে চিনা ফালাইছিলো তাই।

আমি আবারো চমকে উঠলাম। গলা চেপে ধরলাম ধর্ষক আনোয়ারের। জানোয়ার টা কে এখানেই শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে।

স্যার আরেকবার গায়ে হাত দিলে আমি আর কিছু কমু না। স্যার আমিই নিজেই এইবার আমার ফাঁসি চাই, আপনারা না দিলে আমি নিজে নিজেই ফাঁস লমু স্যার তয় মরার আগে কয়ডা কথা কইয়া যাইতে চাই স্যার।
আমি ওর গলা ছেড়ে দিলাম, আবার বসলাম চেয়ারে।

স্যার কোন মানুষের জন্মই ধর্ষক হইয়া হয় না। স্যার সব মানুষই বাবা মার আদর যত্নে বড় হয়। উঠতি বয়সে পোলা মাইয়ারা ভালো খারাপ অনেক বন্ধু বান্ধবের লগে মিসতে শুরু করে। এই সময় ই যে কত পোলা মাইয়ারা নেশার জগতে ঢুইক্কা যায় তার ঠিক নাই। আমগ ও একটা দল আছিলো। পাঁচটা পোলা দুইডা মাইয়া। সবাই অনেক ভালো ভালো পরিবারের। টাকা পয়সার কোন অভাব আছিলো না। এমনি তে সবাই উপরে উপরে ভদ্র হইয়া থাকলেও ভিতরে ভিতরে এমন কোন নেশা নাই যে করি নাই,সব রকম নোংরামি চলতো আমাগ মাঝে। আমার বাবায় সব জানতে পাইরা খুব মারলো, আবার আদর কইরা বুঝাইলো ও অনেক কিছু। উঠতি বয়স, ইস্কুলে গেলে দেখতাম প্রায় সব পোলারাই ক্লাসের অনেক মাইয়ারে নিয়া অনেক খারাপ কথা কয়। স্যার আমি বাজি ধইরা কইতে পারি আপনের ইস্কুল জীবনেও আপনি এইগুলা দেখছেন, তয় আপনে ভালার দলে আছিলেন তাই আজকে আপনে পুলিশ। কলেজ জীবন তো আরো বাজে অবস্থা।
স্যার ভালো হওয়ার অনেক চেষ্টা করছি। চুপচাপ যাইয়া যুবক পোলাপাইনে ভীরে দাড়াইছি, গালি ছাড়া কেউ কথা কয়না স্যার। নিজের বন্ধুর লগে কথা কয় তাও একজন আরেক জনরে গালি দিয়া। আর সামনে দিয়া চিপা চাপা কাপড় পড়া কোন মাইয়া গেলে একেকজনের মুখ দিয়া যেইসব কথা বাইর হয় শুনলে কইবেন স্যার, একটা মাইয়ারে ওরা কিভাবে মুখের কাথা ই ধর্ষন করে। স্যার আপনেরা কন কাপড় চোপর বিষয় না, এইডা ভুল কথা স্যার। যেই দেশের মানুষ রাস্তায় দুইডা কুত্তার মিলন দেখলেও সেইডা নিয়া মজা করে সেইদেশের মানুষের সামনে দিয়া শরীর দেহাইন্না পোশাক পইড়া গেলে মানুষের মুখ দিয়া এমনিতেই লালা ঝরবো। একসময় সিনেমার নাইকারা শারী পরতো এহন নাইকাগ গায়ে কাপড় খুইজা পাওয়া যায় না। কেন জানেন স্যার?  পবালিক ডিমান্ড, মানুষ যা দেখতে চায় তা না দেখাইয়া উপায় কি? আর আজকাল সিনেমার গান গুলা তো পরিবারের লগে বইয়া দেখতেই পারবেন না। এইগুলা দেইখা মাথায় খারাপ চিন্তা আইবোই স্যার আমি বাজি ধইরা কইতে পারি।
আরেক দিন চার-পাঁচটা মাইয়া ঢুকলো পার্কে, আমারে খেয়াল করে নাই। মাইয়া মানুষ ও একসাথে খারাপ গল্প করে একজন আরেকজন রে নোংরা গালি দিয়া কথা কয় ঐদিন শুনলাম।  অনেক বয়স্ক মানুষরেও মাইয়া দেইখা বাজে কথা কইতে শুনছি। স্যার বেশি না সাধারণ মানুষের পোশাক পইরা সাধারন মানুষের ভীরে কান খোলা রাইখা এক সপ্তাহ থাকেন, দেখবেন আমার কথা কয়ডা সত্যি কয়ডা মিছা। বিশ বছর বয়সে ঘর বাড়ি ছাইড়া চইলা আইছি, আমি চাই নাই আমার লাইগা আমার বাপের সন্মান নষ্ট হোক। কিন্তু নিজেরে পাল্টাইতে পারি নাই স্যার। স্যার সভ্য সমাজের মানুষের মইধ্যেই সভ্যতা হাড়াইয়া যাইতাছে তো আমরা অসভ্যরা সভ্য হমু কেমনে? স্যার আমি আনোয়ার মইরা গেলে যদি বাংলাদেশ ধর্ষণমুক্ত হইয়া যায় তয় আমি হাসতে হাসতে মরতে রাজি।
আজ রাত বারটা দশ মিনিটে আনোয়ারের ফাঁসি হবে। তিনটি ধর্ষণ ও একটি হত্যার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আনোয়ারের ফাঁসির আদেশ জারি করেছে আদালত। মৃত্যুর আগে তার শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়া হলে আনোয়ার আমার সাথে বসে চা খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করল।
আনোয়ার আমার কক্ষে আমার সামনের চেয়ারটা আমার মুখোমুখি বসে আছে। তার হাতে এক কাপ চা। টেবিলের উপর আজকের পত্রিকা। প্রথম পৃষ্ঠায় বড় করে লেখা &quot;ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন শেষে বাসায় ফিরতে গিয়ে ধর্ষিত হল এক কলেজ ছাত্রী।&quot; হেডলাইনটায় চোখ বুলিয়ে আনোয়ার আমার দিকে তাকালো। তার ঠোটের ফাকে রক্ত হিম করা হাসি।
(সমাপ্ত)

লেখকের কথাঃ গল্পটি অনেক সময় নিয়ে অনেক ভেবে চিন্তে লেখা হয়েছে। অনেক রিসার্চ এবং কিছু বাস্তব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে গল্পটি লেখা। লেখায় প্রকাশিত ভাবনায় কারো দ্বিমত থাকতেই পারে, তবে যদি প্রকাশিত ভাবনা বাস্তব প্রেক্ষাপট সম্পর্কিত মনে হয় তাহলে সকলের নিকট লেখকের অনুরোধ, আসুন আমরা সুস্থ সুন্দর চিন্তা, রুচিশীল পোশাক পরিচ্ছদ ও সুস্থ মানসিকতায় সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি। আমরা হয়তো সাধু সন্যাসী হতে পারবো না তবে চেষ্টা করলে প্রত্যেকেই একজন ভালো মানুষ হয়ে উঠতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস। ধন্যবাদ। 
(সমাপ্ত)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/46917/</link>
				<pubDate>Fri, 22 Oct 2021 13:25:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ধর্ষকের জবানবন্দি<br />
সীমান্ত পিটার গমেজ</p>
<p>আমি রফিক। মফিজপুর থানার এস আই। সারারাত খুব ধকল গেছে। থানার পাশের মহল্লার এক কিশোরী নিখোঁজ। সারারাত খোজাখুজির পর ভোরবেলায় রেলওয়ে স্টেশনের পিছনে পরিত্যক্ত জমিতে পাওয়া গেল। বিবস্ত্র নিথর দেহ পরে ছিলো ঘাসবনের আড়ালে। লাস ফরেনসিক ল্যাব এ পাঠিয়ে কোয়াটারে ফিরে চোখটা বন্ধ করেছি ওমনি মোবাইলটা বেজে উঠলো।</p>
<p>থানায়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-46917"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/46917/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">91df4d759bb70885180cda4c86b8fac4</guid>
				<title>ইনহেলার 
সীমান্ত পিটার গমেজ 

-------------------------------
&quot;কেমন আছিস বাবা?&quot; পরম মমতা মাখা সুরটা ভেসে আসলো ফোনের ওপাশ থেকে। 
ভালো আছি মা, তুমি কেমন আছো? আমিও ভালো আছি বাবা। এতটুকু কথা হতেই ওপাশে প্রায় আর্ত চিৎকারের মত একটা আওয়াজ শোনা গেল।&quot;তারাতারি কথা শেষ করেন। মোবাইলে বেশি চার্জ থাকে না, বেশি কথা বলা যাবে না। কথা গুলো শুনে মনটা মোচর দিয়ে উঠলো। পাশের বাড়ির মোবাইল। একটু কথা বলার জন্য মাকে এমন অনেক কটুক্তি হজম করতে হয়। মা তারাহুরো করে বললো &quot;বাবা আমার ইনহেলার টা শেষ হয়ে গেছে, আরেকটা কিনতে হবে। ভালো থাকিস বাবা, নিজের খেয়াল রাখিস।&quot; বিপ বিপ শব্দ করে ফোনটা কেটে গেল।নীরবে তাকিয়ে রইলাম দূর আকাশের একখণ্ড মেঘের দিকে।

মাস শেষ হতে এখনো দুইদিন বাকি। হাতটাও শূন্য। মায়ের শ্বাস কষ্টের সমস্যাটাও খুব ভাবাচ্ছে। ডাক্তার বলেছেন সব সময় ইনহেলার সাথে রাখতে। মাথায় একগাদা দুশ্চিন্তা নিয়ে টিউশনি করাতে গেলাম। দরদরিয়ে ঘাম ঝরছে। কাঁপা কাঁপা গলায় ছাত্রকে বললাম, তোমার মাকে একটু ডেকে দিবে? একটু পরই ছাত্রের মা এলো। &quot;আন্টি এই মাসের টিউশন ফিটা কি একটু আগে দেওয়া যায়?&quot; মাটির দিকে তাকিয়ে এক নিশ্বাসে বললাম কথা গুলো। &quot;তোমার আঙ্কেল তো অফিসের কাজে তিনদিনের জন্য বাহিরে গেছেন, তিনি ফিরে আসলেই দিতে পারবো। আস্তে করে মাথা ঝাকিয়ে বের হয়ে আসলাম। 

আজ টিউশনির ফিটা পেয়েছি। মার জন্য একটা ইনহেলার কিনে নিয়ে একটা মোবাইলের দোকানে ঢুকলাম। লালটুকটুকে একটা ফোন নিয়ে নিলাম মায়ের জন্য। এই মাসটাও নাহয় একটু কষ্ট করেই পার করে দেবো। 

রাতের ট্রেনেই বেরিয়ে পড়লাম। মনটা অনেক আগেই বাড়ি পৌছে গেছে। মায়ের জন্য কেনা ফোনটা বুকের কাছে ধরে রেখেছি। ফোনটা হাতে পেয়ে মা কত খুশি হবে ভাবতেই আমার মনটাও খুশিতে ভরে গেল। রাস্তা যেন শেষই হয় না। অবশেষে কাক ডাকা ভোরে বাড়ি পৌছালাম। 

&quot; মা....... মা..... মা....&quot; দরজার কাছে এসে ডাক দিলাম। কোন সারা নেই। আবারো ডাকলাম &quot;মা... মা....&quot; তবুও কোন সারা নেই। অজানা ভয়ে বুকটা আৎকে উঠলো। জোরে ধাক্কা দিতেই দরজাটা খুলে গেল। 

মা......... গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে মাটিতে পরতে পরতে দেখলাম মা মেঝেতে পরে আছে। বাম হাতে শক্ত করে ধরে আছে শেষ হয়ে যাওয়া ইনহেলার টা। চোখ ঝাপসা হতে হতে সব যেন অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে।
(সমাপ্ত)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/43227/</link>
				<pubDate>Wed, 13 Oct 2021 11:45:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ইনহেলার<br />
সীমান্ত পিটার গমেজ </p>
<p>&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
&#8220;কেমন আছিস বাবা?&#8221; পরম মমতা মাখা সুরটা ভেসে আসলো ফোনের ওপাশ থেকে।<br />
ভালো আছি মা, তুমি কেমন আছো? আমিও ভালো আছি বাবা। এতটুকু কথা হতেই ওপাশে প্রায় আর্ত চিৎকারের মত একটা আওয়াজ শোনা গেল।&#8221;তারাতারি কথা শেষ করেন। মোবাইলে বেশি চার্জ থাকে না, বেশি কথা বলা যাবে না। কথা গুলো শুনে মনটা মোচর দি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-43227"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/43227/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">50e615edb0a6cf79b79dbd7d97304e60</guid>
				<title>Shimanto Peter Gomes and চিন্তাতরঙ্গিনী are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40801/</link>
				<pubDate>Tue, 05 Oct 2021 19:59:33 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1e695062cb2e96028c4ab7b6aef3c8a0</guid>
				<title>Shimanto Peter Gomes and G M Harun Rashid are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40704/</link>
				<pubDate>Tue, 05 Oct 2021 14:48:40 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d83fcc7db2aa8d10055a2a35b9ae2227</guid>
				<title>Shimanto Peter Gomes and Rehana Akter are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40216/</link>
				<pubDate>Sat, 02 Oct 2021 18:13:57 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fb46c5269b8d7318b7ee6c578df16765</guid>
				<title>Shimanto Peter Gomes and মুসকান হিম্রাদিতা - ছদ্মনাম are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40215/</link>
				<pubDate>Sat, 02 Oct 2021 18:06:02 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ada611a70d0896210baf8c1621afe59a</guid>
				<title>Shimanto Peter Gomes and Rejwana Khan are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40175/</link>
				<pubDate>Sat, 02 Oct 2021 17:08:28 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4d574f1e01856a552d2e13c534156566</guid>
				<title>Shimanto Peter Gomes and হাসনাত সৌরভ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40149/</link>
				<pubDate>Sat, 02 Oct 2021 16:40:53 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bdc8ac3f04c74c8ee1c5f1b992ddff86</guid>
				<title>স্বচক্ষে লালন দর্শন
সীমান্ত পিটার গমেজ
-------------------------

দুপুর ১টার কাছাকাছি সময়, দূরের মসজিদ থেকে ভেসে আসা আজানের শেষ ধ্বনিটুকু এখনো শোনা যাচ্ছে। কাকাদের উঠানের এক পাশে একটা আম গাছের ছায়ায় বসে আছি। এমন সময় একজন আগন্তুক বাড়িতে এসে ঢুকলো। পিঠে একটা ময়লা ব্যাগ, হাতে দুইটা জীর্ণ শীর্ণ ঝোলা। বয়স ত্রিশ-পয়ত্রিশের মধ্যে হবে। চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে একজন ফকির। উঠানে কাকীমা ছিল। লোকটা বললো-
“আম্মা, কিছু খাইতে দিবেন? অনেক ক্ষিধা লাগছে।”
কাকীমা লোকটাকে উঠানে বসার ব্যবস্থা করে দিল। লোকটাকে ভাত দিয়ে রান্না ঘরে চলে গেল কারন চুলায় তখনো রান্না চড়ানো। লোকটা খেতে খেতে বিভিন্ন কথা জিজ্ঞাসা করতে লাগলো–
“আম্মা, আপনার পোলা মাইয়া কয়জন।”
কাকীমা বললেন- “তিন মাইয়া এক পোলা। আপনার পোলা মাইয়া আছে?”
ফকির হেসে বললো- “না আম্মা, পোলা মাইয়া নাই। বিয়াই করি নাই।”
-“কেন বিয়া করেন নাই কেন?”
-“অসুখ আম্মা। ডাক্তাররা লাখ লাখ টেকা নিয়া কি যে অপারেশন কইরা দিছে অসুখ ভালা হয় নাই। নিজেই চলতে পারি না, বিয়া কইরা পরের মাইয়ারে খাওয়ামু কি?”
এরপর লোকটা তার জীবনের কঠিন সময়গুলোর কথা বর্ননা করে গেল। কথায় কথায় কাকীমা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন-
– “আপনি যে খ্রিস্টানদের বাড়ি খাওয়া দাওয়া করতাছেন আপনার ধর্মের মানুষ আপনারে কিছু কইবো না?”
– “কি কইবো আম্মা, আল্লায় আমারে যে অবস্থায় দাঁড় করাইছে, হেতে আমার সবার কাছেই মাথা নিচ করন লাগে। কোন দিন মুসলমানের ঘরে খাওন জোটে তো কোনদিন হিন্দুর ঘরে আবার কোনদিন খ্রিস্টানের ঘরে, বৌদ্ধর ঘরেও খাইছি আম্মা। রিজিকের মালিক আল্লাহ। আল্লায় যেইদিন যেইহানে রিজিক দেয় সেইদিন সেইহানেই খাই আম্মা। আর দুনিয়ায় কি একখান রোগ আইছে, মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান সবাই তো মরতাছে। যেইহানে আজরাইলেরই কোন বাছ বিচার নাই, আমি তো সাধারণ ফকির, আমার কি বাছ বিচার করলে চলবো আম্মা?”
ফকিরের কথা শুনে লালন ফকিরের একটা গান মনে পড়ে গেল, “জাত গেল জাত গেল বলে, এ কি আজব কারখানা।”
(সমাপ্ত)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40092/</link>
				<pubDate>Sat, 02 Oct 2021 15:46:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্বচক্ষে লালন দর্শন<br />
সীমান্ত পিটার গমেজ<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-</p>
<p>দুপুর ১টার কাছাকাছি সময়, দূরের মসজিদ থেকে ভেসে আসা আজানের শেষ ধ্বনিটুকু এখনো শোনা যাচ্ছে। কাকাদের উঠানের এক পাশে একটা আম গাছের ছায়ায় বসে আছি। এমন সময় একজন আগন্তুক বাড়িতে এসে ঢুকলো। পিঠে একটা ময়লা ব্যাগ, হাতে দুইটা জীর্ণ শীর্ণ ঝোলা। বয়স ত্রিশ-পয়ত্রিশের মধ্যে হবে।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-40092"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/40092/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9bcad4753f4b0c58c0dab96e75182536</guid>
				<title>Shimanto Peter Gomes changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40087/</link>
				<pubDate>Sat, 02 Oct 2021 15:42:06 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>