<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | সুমাইয়া বিনতে করিম | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/sumaiya03/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/sumaiya03/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for সুমাইয়া বিনতে করিম.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 03 Aug 2026 10:15:08 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">b2ff419165b059351a5f0efc9b6551c1</guid>
				<title>আত্মজ (গল্প)

আজমাইনের গল্প

আমার নাম আজমাইন, আমার বয়স দুই। আমি আমার আব্বু-আম্মুর একমাত্র ছেলে ছিলাম, কিন্তু এখন আর নেই! মানে এক মাস আগে হুট করেই আব্বু আম্মু কোত্থেকে বাবু মতো কি একটাকে বাসায় নিয়ে এসেছে, এসে বলেছে এটা নাকি আমার ভাই! আমার খুব, খুব মন খারাপ হয়েছিলো আম্মুর কোলে ওই পুটলিকে দেখে। আরে আমার আম্মু, আমাকে সবসময় কোলে নেয়, আমি আম্মুর কাছে ঘুমাই, আর এ কোথা থেকে এসে সোজা আম্মুর কোলে উঠে গেলো! মানে হয় কোনো! আমার তো একদম সহ্য হচ্ছিলো না পুচকেটাকে! আবার কেমন মিয়াও মিয়াও করে শব্দ করছিলো! আরে আজব, কী সমস্যা হচ্ছে সেটা আমার মতো করে বললেই তো হয় আম্মুকে, তা না খালি মিয়াও মিয়াও!

আমি ইদানীং কথা বলতে শিখেছি। অবশ্য কথা আগে থেকেই বলতে পারতাম, কেউ আসলে বুঝতো না। মানে বুরররর, ব্লাহহহ, বে বে এরকম ভাবে কেউ কথা বললে আপনি কিছু বুঝবেন? আমি এতদিন এভাবেই কথা বলতাম, আমি তো জানতাম আশেপাশের সবাই বুঝতে পারছে। আম্মু আব্বুকেও দেখতাম হ্যা হ্যা করছে, আসলে তারা বুঝতোই না! নাইলে যখন তাদের মতো করে বাব্বাহ বা মাহ বললাম তখন এত খুশি হলো কেন বলেন তো! নাহ, এদের ভাব-সাব বোঝাই মুশকিল, বেশ মুশকিল! আরে, আমার তো একটা নিজের ভাষা ছিলো, কিন্তু দেখো তোমাদের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে আমার তোমাদেরকেই নকল করতে হলো! এটা কি ভালো হলো? আবার তোমাদের দেখি নকলই ভালো লাগে? যাকগে, আমার কি!

আমি কিন্তু বেশ হাসিখুশি, সবার সাথে মিশি এমনকি সবার কোলেও যাই। কিন্তু যেই আম্মু অই পুচকেটাকে সাথে নিয়ে এসেছে, সবাই আমাকে সবসময় বলছে আমি নাকি অনেএএএক মন খারাপ করেছি, পুচকেটাকে হিংসাও করছি! কি অদ্ভুত কথা বলেন তো! আমার একটু মন খারাপ হয়েছে, তা তো আমি মানছি। কিন্তু হিংসা করবো ওকে!এহ!আর কাজ নাই! এইটুকু একটা মানুষ, সারাদিন শুয়ে থাকে আর মিয়াও মিয়াও করে, বাথরুম এলে তো বলতেও পারে না (আমি অবশ্য এখন আম্মুকে বলতে পারি বাথরুম চাপলে, হাসছেন কেন, আশ্চর্য! হাসবেন না!) তাকে আমি হিংসা করতে যাবো কেন?ও কি আমার মতো সুন্দর করে মা ডাকতে পারে, পারে না! আমি কি সুন্দর করে কুটকুট করে বিস্কুট খাই, ও তো তাও পারে না!
********

সকালে ঘুম থেকে উঠেছি, বেলা হয়েছে বেশ!গতকাল রাতে আম্মুর সাথে অনেক খেলেছি,অনেক! আম্মু অবশ্য ঘুমে কাহিল হয়ে যাচ্ছিলো, তবুও আম্মু আমার সাথে খেলছিলোই! কিন্তু কি করা বলেন, আব্বু তো সময়ই পায় না, সারাদিন অফিসে থাকে, বাসায় এসে আবার দেখি চুলার ওপর কি নিয়ে যেন খুটখুট করে! তো এতকিছু শেষ করে আবার আহনাফকে নিয়েও বসে থাকে। দাদু ছিলো, সেও এখন আমাদের কাছে নেই! কিন্তু আমার তো একটু খেলতে হয় বলুন! নইলে নতুন নতুন যা শিখি এগুলো ভুলে যাবোনা? এইজন্যই আম্মুর সাথে খেলি! অথচ বড় মানুষগুলো মানে দাদু, নানু শুধু শুধুই আমাকে মিথ্যা বলে, যে অই আহনাফ মানে পুচকেটা এসেছে দেখে আম্মু নাকি আমাকে আগের মতো ভালোবাসবে না,আদর করবে না!হুহ, ওরা তো জানে না আম্মুর আজমাইন একজনই!

যাকগে, বিছানা থেকে নেমে চোখ মুছে মুছে বাইরে এসে দেখি রুবা ফুপি আর মেজো দাদু এসেছে! আমি তো খুশি হয়ে গেলাম! এই ফুপিটা অনেক ভালো! আমাকে অনেএএএক আদর করে, আমরা অনেএএএক খেলি! দৌড়ে উঠতে যাবো কোলে, ওমা! ফুপিও দেখি পুচকেটাকে কোলে নিয়ে বসে আছে! আরে আজব, আবার হাসছে ওকে নিয়ে, আমার সাথে যেভাবে কথা বলতো ওর সাথেও ওভাবেই কথা বলছে! দুচ্ছাই, থাকো তোমরা ওকে নিয়ে! গেলাম না তোমাদের কাছে!

আম্মু আমাকে মুখ ধুইয়ে দিলো, নাস্তা খাইয়ে দিলো, আবার ঘুরে ঘুরে আহনাফ মানে পুচকেটাকেও দেখছে। আমি ঘুরছি সবার আশেপাশে, বরই হাতে নিয়ে।আহনাফ মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছে, এহ, এত মানুষের মধ্যে ভোস ভোস করে ঘুমাচ্ছে।কোথায় সবার সাথে কথা বলবে, খেলবে, তা না খালি ঘুম! আমি তখন কি করলাম জানেন? আস্তে করে উঠে ফুপির পেছন দিয়ে গিয়ে ওর সামনে বসলাম। এত কাছ থেকে অবশ্য আগে দেখিনি, ইস কি ছোট হাত-পা! কেউ যাতে না দেখে এমনভাবে আলতো করে একটা চিমটি দিলাম!হে হে হে, চিমটি খেয়ে সাথে সাথে পুচকেটা উঠে গেলো! ওমা আবার কেমন বড় বড় করে তাকালো দেখুন! আমি ভেবেছিলাম ঠোট উলটে বোকাটা আবার মিয়াও মিয়াও শুরু করবে! ওমা তাকিয়েই আছে! আমি হাতের বরইটা দেখিয়ে জিগেস করলাম &quot; খাবি, খাবি, এতা খাবি?&quot; বোকাটা আমার কথার জবাব না দিয়ে ফুরুত করে বমি করে দিলো! আরে জ্বালা! এভাবে কেউ বমি করে, কই আমি তো কখনো করি না! ফুপিদের সামনে মান-ইজ্জত নিয়ে টানাটানি!ইসস!
******

এরপর কেটে গেছে আরো কয়েক মাস, বুঝলেন! আহনাফ এখন বসতে পারে, আমারও ওকে এখন অত খারাপ লাগে না! বসে বসে ও বুররররর করে মুখ দিয়ে বুদবুদি বানায় আর একা একাই হাসে! এই খেলাটা আমিও খেলতাম একসময়, কিন্তু এখন যদি খেলি আম্মু দিবে পিট্টি! তাই খেলিনা আসলে! অবশ্য আম্মুও ইদানীং কেমন জানি চুপচাপ হয়ে গেছে! আগের মতো অনেক দৌড়াদৌড়ি করে না, অনেক কথা বলে না, আহনাফের সাথে আমিই কথা বলি,বোকা পুচকেটা খালি বুদবুদ বের করে!

মাঝে মাঝে আমার কি মনে হয় জানেন, এই যে আমি এখন একটু বড় হয়েছি এটা না হলেই মনে হয় ভালো হতো! তাহলে আম্মুকে বার বার বিভিন্ন ভাবে আমাদের জন্য খাবার তৈরি করতে হতো না, আমাদের দুইজনকে কোথায় কোথায় কার কাছে রেখে অফিসে যাবে তা ভাবতে হতো না, দুইজনকে দুই সময় ঘুম পাড়াতে হতো না! মানে আম্মুর কাজ একটু সহজ হতো আর কি! আব্বুও তো সারাদিন সময় পায় না,আর যাই বলেন না কেন আমাদেরকে আম্মুর মতো কেউ সামলাতেও পারে না। আমিও যদি আহনাফের সমান হতাম তাহলে এক খাবারেই দুজন খেতাম, আবার দুজনকে আম্মু একসাথে অফিস নিয়ে যেতো। আমার তো মনে হয় সেটাই ভালো হতো!

আমারও ভালো হতো!আমিও আহনাফের সাথে বুররররর করে বুদবুদ বের করতাম,কেউ কিচ্ছু বলতো না! কিন্তু চাইলেই কি আর সব হয়?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/34141/</link>
				<pubDate>Sat, 11 Sep 2021 14:24:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আত্মজ (গল্প)</p>
<p>আজমাইনের গল্প</p>
<p>আমার নাম আজমাইন, আমার বয়স দুই। আমি আমার আব্বু-আম্মুর একমাত্র ছেলে ছিলাম, কিন্তু এখন আর নেই! মানে এক মাস আগে হুট করেই আব্বু আম্মু কোত্থেকে বাবু মতো কি একটাকে বাসায় নিয়ে এসেছে, এসে বলেছে এটা নাকি আমার ভাই! আমার খুব, খুব মন খারাপ হয়েছিলো আম্মুর কোলে ওই পুটলিকে দেখে। আরে আমার আম্মু, আমাকে সবসময় কোলে নেয়, আমি আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-34141"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/34141/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">974acf78cd6df6547f7eb1edcf1cef38</guid>
				<title>হারানোর গান...

ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার অভ্যেস হয়েছে আমার!
নক্ষত্রের আলোয় নয়..
নয় কোনো জোছনা- আলোকিত রাতে! 
আমি হারিয়ে যেতে শিখেছি অতল অন্ধকারে!

যেখানে… 
আমি কারো নই!
কিংবা!
আমার জন্য কেউ নয়...

এভাবেই হয়তো কোনো একদিন…
সন্ধ্যার আঁধারে পাখিরা যখন নীড়ে ফিরবে!
ঘাসের বিন্দুর মতো...
আমি মিলিয়ে যাবো…!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/29633/</link>
				<pubDate>Mon, 30 Aug 2021 16:03:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হারানোর গান&#8230;</p>
<p>ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার অভ্যেস হয়েছে আমার!<br />
নক্ষত্রের আলোয় নয়..<br />
নয় কোনো জোছনা- আলোকিত রাতে!<br />
আমি হারিয়ে যেতে শিখেছি অতল অন্ধকারে!</p>
<p>যেখানে…<br />
আমি কারো নই!<br />
কিংবা!<br />
আমার জন্য কেউ নয়&#8230;</p>
<p>এভাবেই হয়তো কোনো একদিন…<br />
সন্ধ্যার আঁধারে পাখিরা যখন নীড়ে ফিরবে!<br />
ঘাসের বিন্দুর মতো&#8230;<br />
আমি মিলিয়ে যাবো…! </p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">517c55c9276ed45377bee173fde86271</guid>
				<title>আত্মজ…(গল্প)

দিন-১
চোখে কি যেন এসে লাগলো, কেমন যেন গরম গরম!কি বলে এটাকে? আমি পিটপিট করে তাকানোর চেষ্টা করছি, আস্তে করে চোখ মেলেছি এখন, এহহে এত সাদা কেন চারদিক! একে কি আলো বলে? কে জানে!

পাশ থেকে একজন চিৎকার দিয়ে উঠলো, &quot;চোখ মেলেছে, চোখ মেলেছে কিন্তু ও কাঁদে না কেন? নিউ বর্ন না কাঁদে?&quot; ধুর, এত জোরে কেউ চিৎকার করে? কান ঝালাপালা হয়ে গেলো।

তার পাশ থেকে আরেকজন বলছে, &quot; কি জানি,কাঁদার তো কথা! দাঁড়াও ডাক্তার ডাকি!&quot;

আমি ইতিউতি তাকালাম, আম্মু কই কে জানে। আচ্ছা আপনারা অবাক হচ্ছেন তো! আমি মাত্র জন্মালাম,বুঝলেন!কিন্তু আম্মুকে তো দেখি না।আম্মুর কাছে কখন নিবে কে জানে, আলো পড়ছে দেখে চোখ জ্বলছে, ঘুম ঘুম লাগছে। কে যেন তোয়ালে দিয়ে পেচিয়ে দিল। ভালোই হলো, শীত লাগছিলো!

দিন-১, রাত ১২টা

ঘুম ভেংগে দেখি আমি একা,চারপাশে রেলিং দেওয়া কি যেন!কি বলে এটাকে? হাত-পা নড়ানোর চেষ্টা করে দেখি পারছি না। মাঝখানে একবার আম্মুর কাছে নিয়ে গিয়েছিলো, কী সুন্দর গন্ধ আম্মুর গায়ে। যখন আম্মুর ভেতরে ছিলাম তখন ঠিক এই গন্ধটাই আমি পেতাম।বেশ লাগতো,মনে হতো কোনো অদ্ভুত সুন্দর জায়গায় এসেছি! কিন্তু আমি যে কেন একা এখানে শুয়ে বুঝতে পারছি না! আম্মুর পেটের ভেতরেও একাই ছিলাম, এখনো দেখি একা, কি রে বাবা! ঘাড় উঠিয়ে যে আশপাশ দেখবো, অত শক্তি এখনো হয় নি। আজকেই তো আসলাম, কীভাবে হবে বলেন!

আবার ঘুমিয়েই যাচ্ছিলাম, কে যেন এল! আমার দিকে উঁকি দিলো। উনি সাদা জামা পড়া, এই জায়গাটাতে কি সবাই সাদা পড়ে,আর সবই সাদা?কে জানে! সমস্যা হচ্ছে উনি এসেই কাকে যেন বললেন,&quot; ওমা! নিউবর্ন কটে কেন?&quot;

&quot; ও তো ঘুমাবেই,থাকুক ওখানে, আমার সাথে বড়টা তো, ও আবার মন খারাপ করবে!&quot; আম্মুর গলা! 

&quot;কি অদ্ভুত কথা! আচ্ছা যাই হোক, এখন কট থেকে তুলে দেই,খাইয়ে দিন,আমি শুইয়ে রেখে যাবো।&quot;

এরপর ফুরুত করে যেন উড়ে আমি আম্মুর কাছে চলে গেলাম! ইসসস আম্মু কি সুন্দর!

দিন ১৪ঃ

আমার কথা মনে আছে? আমি অই যে কয়েকদিন আগে আপনাদের এই অদ্ভুত জায়গায় এলাম। আমি এখন নিজের বাড়িতে বুঝলেন। আমার একটা নাম আছে এখন, একজন বয়স্ক মতো মহিলা, উনি নাকি দাদু হয় আমার, উনি আমাকে আহনাফ ডাকে। এখানে কি সবার নাম থাকে? অবশ্য থাকাই তো উচিত।নয়তো মানুষ মানুষকে কীভাবে ডাকবে? এই যে আমাদের বাসা, এখানে আম্মু আছে, দাদু আছে, একজন লম্বা মতো লোক উনি নাকি আমার বাবা উনি আছেন, আর আছে ছোট্ট একটা বাচ্চা, সে নাকি আমার ভাই হয়। ওর সাথে এখনো আমাকে কেউ পরিচয় করিয়ে দেয় নি। ও আমার কাছেও আসে না। আসলে অবশ্য ভালো হত, একটু কথা বলা যেতো। আম্মু তো থাকে না সাথে, দাদুই যা একটু কথা বলে, তাও নিজের মনে। আমি যদি কিছু বলি সেটা বোঝেও না। কি জ্বালা! আচ্ছা, ভাই কি? আমি কয়েকবার ভাবার চেষ্টা করলাম। সমস্যা এক জায়গায়,ভাবতে গেলেই আমি ঘুমিয়ে যাই, আমার শুধু ঘুম পায়!

দিন- ১৯ঃ

কোথায় যেন চিৎকার হচ্ছে। পিটপিট করে তাকালাম, অই তো আম্মুকে দেখা যায়, বাবাও আছে। এত চিৎকার করছে কেন কে জানে। এরকম চিৎকার অবশ্য আমি আম্মুর পেটে শুয়ে শুয়েও বেশ কয়েকবার শুনেছি। তখন অবশ্য জানতাম না কে আমার কি হয়,আর কেনইবা চিৎকার করে। অবশ্য কিছু কথা একবার কানে এসেছিলো। কে যেন বলছিলো, &quot;আজমাইন ই এত ছোট, এখন আবার আরেকজন? একসাথে দুইজনকে পালবো কীভাবে?খরচ কী আকাশ থেকে আসবে? তুমি তোমার বাচ্চাকে কীভাবে পালবা চিন্তা করে দেখো।&quot; বাবারে বাবা! কী সব কঠিন কঠিন কথা, আমি তখন আম্মুর পেটে ঘুরপাক খেতে খেতে ঘুমিয়ে গেলাম, আজকেও ঘুম পাচ্ছে! এই জায়গাটাই যেন কেমন!


দিন- ২৮ঃ

কে যেন এসেছে, আমাকে এত আলতো করে কোলে তুললো, ভয়ে ভয়ে। আমি অবশ্য হেসে ফেললাম। আমি তো ছোট বাচ্চা না যে লাফ দিয়ে পড়ে যাবো। কোলে উঠে আরাম লাগছে। সারাদিন তো একা একা শুয়ে থাকি।আম্মু খাওয়ানোর সময় একটু উঠি আম্মুর কোলে, অন্য সময় যদি দাদু আসে তাহলে, অবশ্য এখন নানুও এসেছে, তার কোলেও উঠি। কিন্তু আমার তো সবসময় কোলে থাকতে ইচ্ছা করে।কোলে থাকলে কত কাছ থেকে কথা বলা যায়, তাই না বলেন?

&quot; আম্মু দেখো, আহনাফ কি সুন্দর করে হাসে!আহনাফ,দেখো আমি ফুপি, আহারে আব্বু কতদিন পর দেখতে আসলাম তোমাকে।ফুপি তো আগেই আসতে চাইসিলাম,কেউ আমাকে নিয়ে আসে না জানো!&quot; 

ফুপি আবার কি! কই আম্মু তো কিছু বলে নি। আমার যদিও উনার কথা বেশ লাগছে, আমাকে অন্য সব বড় মানুষের মতো ভেবে নিয়ে কথা বলছেন, সবাই তো এভাবে বলে না।আমি উনাকে দেখতে থাকলাম।

“ আল্লাহ ভাবি, ও তো সরাসরি তাকায়, যেন সব কথা বুঝতেসে! আব্বু চল তোমাকে ফুপি নিয়ে যাই, এখানে তো কেউ তোমাকে দেখেনা, সবাই আজমাইনকে আদর করে। ফুপি তোমাকে অনেক আদর করবো, আমরা অনেক খেলবো, ঠিক আছে?”

হায় আল্লাহ! উনি কী বলে? আমাকে নিয়ে যাবে? আমি ইতিউতি সবার মুখের দিকে তাকালাম, সবাই অবশ্য এই ফুপির কথা শুনে হাসছে। কিন্তু যদি সত্যি নিয়ে যায়! আম্মুকে কীভাবে দেখবো?

“ হ্যা, হ্যা রুবাব, ওকে নিয়ে যাও তো, আমি তাহলে আজমাইনের টেক কেয়ার করতে পারি। বেচারা সারাদিন মন খারাপ করে ঘোরে। আহনাফকে খাওয়াতে গেলে আরো বেশি মন খারাপ করে।”

“ কী বলো ভাবি। দুইটাই তো ছোট, তোমাকে ওদের দুইজনেরই দরকার। তোমার অবশ্য বেশ প্রেশার যাচ্ছে, একদম রেস্ট হয় না বোঝা যায়। আজমাইনই তো মাত্র দুই বছরের। আহনাফ একটু তাড়াতাড়িই হয়ে গেসে। কিন্তু কি করবা বলো! কষ্ট হলেও তো বাচ্চা তোমাদেরই। আমি তো দুষ্টামি করলাম। তবে যাই বলো ও কি শান্ত হইসে।দেখো ও খুব একটা জ্বালাবে না তোমাকে!”

আমি কান খাড়া করে শুনলাম! এই এক কথাতেই এই ফুপিকে আমার অনেকককক পছন্দ হয়ে গেলো। আসলেই তো আমি কাউকে জ্বালাই না একদম। একটুও কাঁদি না।আম্মু আমার কাছে খুব কম আসে, তবুও কাঁদি না। কেউ কিছু বললে শান্ত হয়ে শোনার চেষ্টা করি। একা একাই হাত নিয়ে খেলি। আমি তো বুঝি সবাই ব্যস্ত। আমাকে নিজের খেয়াল নিজেরই রাখতে হবে। এই যে আজকে আজমাইন সুযোগ পেয়েই খুচিয়ে আমার ঘুম ভাংগালো, আমি কিন্তু একটুও কাঁদি নি। আমার ভালোই লাগে ও আমার কাছে আসলে। আমি নিজেই চাই ও আমার সাথে সারাক্ষণ খেলুক। আম্মু যে কেন আসতে দেয় না কে জানে।

দিন- ৩২ঃ

একাই শুয়ে ছিলাম, আম্মু খাওয়ানোর জন্য এখন কোলে নিলো। আস্তে আস্তে আমার মাথায় হাত বুলাচ্ছে,  আরামে ঘুম চলে আসছে। হঠাৎ দেখি চোখ দিয়ে পানি গড়াচ্ছে আম্মুর। আমি একটু অবাক হলাম, চোখ দিয়ে কীভাবে পানি বের হয়? কই আমার তো হয় না। আমাকে অবাক হয়ে তাকাতে দেখে আম্মু আরো অস্থির হয়ে কাঁদতে শুরু করলো। হঠাৎ শুনি ফিসফিস করে আম্মু বলছে, &quot; আহনাফ লক্ষী বাবা আমার, তোমাকে তো মা কাছেই রাখতে পারি না। বাবারে, আমি আসলে সামলাতে পারছি না ঠিকমতো কিছুই।তোদের বাবা চাকরি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, আমি তোদের দুই ভাই কে নিয়ে।কাকে বোঝাবো কষ্ট বলতো? সবাই শুধু বলতেসে, আমি একদম ভালো মা না, সামলাতেই যদি না পারবো তাহলে বাচ্চা কেন নিলাম।আরোও কত কথা।ভালো লাগে না আমার কিছুই,কিচ্ছু ভালো লাগে না।&quot;

আমার খুব ইচ্ছা হচ্ছিলো হাত দিয়ে আম্মুর গাল ধরি, চোখ থেকে যে পানি বের হচ্ছে সেটা মুছিয়ে দিই। কিন্তু আমার এত ছোট হাত! সেটা তো আম্মুর গাল পর্যন্তই যায় না,দুচ্ছাই!

আম্মুকে আমি বলতে পারলাম না,তুমি একদম কষ্ট পেয়ো না, আমি তোমাকে এক ফোঁটাও জ্বালাবো না, একটুও না। আমি বড় হবো যখন দেখো আজমাইন আর আমি তোমাকে সব কাজে হেল্প করবো।তুমি শুধু আমাদের দূরে সরিয়ে দিও না প্লিজ! আমাদের কাছে তুমি আর বাবা থাকলেই হবে। আজকে বাবা এসে যখন আমার সাথে গল্প করবে,তখন তো তুমি আজমাইনকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, তখন বাবাকেও আমি এ কথা বলবো, দেখো! 

একটাই সমস্যা, আমি অনেক কথাই বলি কিন্তু কেউ বোঝেই না! কবে বুঝবে কে জানে!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/27835/</link>
				<pubDate>Mon, 23 Aug 2021 16:52:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আত্মজ…(গল্প)</p>
<p>দিন-১<br />
চোখে কি যেন এসে লাগলো, কেমন যেন গরম গরম!কি বলে এটাকে? আমি পিটপিট করে তাকানোর চেষ্টা করছি, আস্তে করে চোখ মেলেছি এখন, এহহে এত সাদা কেন চারদিক! একে কি আলো বলে? কে জানে!</p>
<p>পাশ থেকে একজন চিৎকার দিয়ে উঠলো, &#8220;চোখ মেলেছে, চোখ মেলেছে কিন্তু ও কাঁদে না কেন? নিউ বর্ন না কাঁদে?&#8221; ধুর, এত জোরে কেউ চিৎকার করে? কান ঝালাপালা হয়ে গেলো।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-27835"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/27835/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>17</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">89df81a51f9b8ff1413a447bb3fa322e</guid>
				<title>এম্বুলেন্স….(গল্প)

প্যাঁ-পোঁ….প্যাঁ-পোঁ...প্যাঁ-পোঁ…. শব্দ তুলে ভুস করে এম্বুলেন্সটা স্বাতীর সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো। ভেতরে কে আছে কে জানে। উঁকি দিয়েছিলো, শুধু দেখলো সোনার চুড়ি পড়া একটা হাত পাখা দিয়ে সামনের বেডে শোয়ানো কোনো একজনকে তুমুলবেগে বাতাস করে যাচ্ছে। এর বেশি কিছু দেখা গেলো না। হতে পারে শুয়ে থাকা মানুষই চুড়িটা কিনে এনেছিলো, আবার হতে পারে এটাই ওদের একমাত্র সম্বল! স্বাতী বিড়বিড় করে দোয়া করতে লাগলো, &quot;ইয়া মাবুদ, সুস্থ করে দাও, হায়াত বাড়িয়ে দাও, সুস্থ হয়ে যাক। কার না কার বাবা, কার না কার ঘরের একমাত্র আয়ের মানুষ। সুস্থ করো, সুস্থ করো।&quot; 

&quot;আফা, আমারে কিছু কইন?&quot; রিকশাওয়ালা কখন যে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকে অবাক চোখে দেখছে, স্বাতী খেয়ালই করে নি। আজকে মনে হয় বেশি জোরেই বিড়বিড় করছিলো? 

&quot; না,না আপনাকে কি বলবো মামা! ঘাড় ঘুড়ায় রিকশা চালাচ্ছেন, নিজেও মরবেন, আমাকেও মারবেন!&quot; স্বাতী অপ্রস্তুত অবস্থা কাটিয়ে নিতে চায়। কিন্তু এত সহজে কি তা কাটিয়ে ওঠা যায়?

#######

দিনটা আর দশটা স্বাভাবিক দিনের মতোই ছিলো। স্বাতীর জীবনটাও। ও সেদিনও ঘুম থেকে উঠে নাস্তা বানিয়েছে,বড় ভাই অফিসে যাওয়ার পর বাবাকে ওষুধ দিয়েছে, ছোট ভাইকে স্কুলে দিয়ে এসে নিজে কলেজের জন্য রেডি হয়েছে। কোথাও কোনো ঘাপলা নেই, এমনকি ঘাপলা যে থাকতে পারে সেই আশংকাও নেই বা ছিলো না। বেলা গড়াতে বড় ভাই বাদে সবাই যার যার মতো বাড়িও ফিরে এসেছে, দুপুরের খাবার খেয়েছে। একটা নিখুঁত পরিবারে যা হয় আর কি। ও আচ্ছা বুঝতে মনে হয় পারছেন যে, স্বাতীর মা নেই। ছোট ভাইটা হবার বছর দুয়েক পড়েই উনি মারা যান। এরপর বাবার কাছেই তাদের বড় হওয়া। কিন্তু আজ দুপুরে খাবার টেবিল সবসময় হাসি-গল্পে মাতিয়ে রাখা বাবা একটু চুপচাপ ছিলেন, সেটা স্বাতী খেয়াল করেছে, কিন্তু খুব একটা পাত্তা দেয় নি। প্রায় চার বছর হতে চললো বাবার রিটায়ারমেন্টের,এখনো নিশ্চয়ই বাচ্চাদের মতো সবসময় হৈ হৈ করে বেড়াবেন না! হয়তো কিছু নিয়ে ভাবছেন, এটাই ভেবে নিয়ে স্বাতী ব্যস্ত হয়ে যায়। আজ দশ বছর পর এখনো ও নিজেকে, নিজের সেই ব্যস্ততাকে ক্ষমা করতে পারে না।

########

স্বাতীর বাবা, হাসমত সাহেব, রিটায়ার্ড ক্যাশ অফিসার, জনতা ব্যাংক। লম্বায় প্রায় ৫ফুট ৮ ইঞ্চি মতো, গায়ের রঙ একটু কালো, হাসিমুখ এবং মিশুকে একজন মানুষ। স্বাতী তার বাবার মতো হাসতে খুব কম মানুষকেই দেখেছে। বাবা হাসার সময় তার চোখ যেন কেমন ঝিকিমিকি করে উঠতো। বাবার গানের গলাও ছিলো দরাজ। কখনো কখনো হাঁক ছেড়ে গেয়ে উঠতেন, &quot; চোখ যে মনের কথা বলে…!&quot; যাই হোক, অন্য কোনো দিন তার ব্যাপারে বিশদ আলোচনা করা যাবে। সেই সন্ধ্যায় কি হলো শুনুন।

সন্ধ্যা নেমে আসার পর হাসমত সাহেব ক্লান্ত গলায় স্বাতীকে বললেন, &quot; বাবা, চা বসাও তো, খেয়ে মাথায় একটু পানি দেই। শরীরটা ভালো লাগছে না।&quot;

স্বাতী ফোনে ব্যস্ত ছিলো, কথার জবাবে হ্যা বলেছিলো ঠিকই কিন্তু বাবার চেহারার দিকে তাকানো আর হলো না। তাকালে দেখতে পেত, সেই হাসিমাখা মুখে পান্ডুর ছায়া! কিছুটা আনমনেই রান্নাঘরে এসে চায়ের পানি বসাতে না বসাতেই ধরাম করে আওয়াজ এলো বাথরুমের ভেতর থেকে! স্বাতী চমকে উঠে দৌড়ে গেলো সেখানে। ছোট ভাইটাও তখন ছুটে এসেছে। 

&quot; আপু, বাপি পড়ে গেলো নাকি?&quot;

দরজাটা ভেজানো ছিলো, ততক্ষনে তো স্বাতী বারবার ডাকছে বাবাকে, কিন্তু সাড়াশব্দ আসার কোনো লক্ষণ নেই। ভয়ে, আতংকে, কাঁপা কাঁপা হাতে স্বাতী বড় ভাইকে ফোন করলো।

&quot; ভাইয়া, বাবা তো বাথরুমে পড়ে গেছে, দরজার ওপর তাও, আমি বের করবো কিভাবে? তুমি কই?&quot;

&quot; কি বলিস! আমি তো অফিস থেকে বের হয়ে জ্যামে আটকা পড়লাম। দেখ তো পাশের বাসায় কাউকে পাস কিনা, আমি আসতেসি। ভয় পাস না।&quot;

স্বাতী ভয় পেলো, ভালোভাবেই পেলো। বাবাকে সে বের করবে কিভাবে, ভাইয়া কখন আসবে, এম্বুলেন্সের নাম্বার তো বাবা লিখে রাখে, কিন্তু সেটা এখন কোথায় খুজবে, পাশের বাসায় যেন কে থাকে, তাকে খবর দিলে কি কাজ হবে? এদিকে ছোট ভাইটা যে হাউমাউ করে কাঁদছে ওকে থামাবে কে?এতকিছু ছাপিয়ে স্বাতীর মাথায় ঘুরতে থাকলো একটাই কথা,&quot; বাবা বাথরুমে কিভাবে পড়ে গেলো&quot;!


সেই সন্ধ্যা, সেই কাল সন্ধ্যা! পাশের বাসার বয়স্ক চাচা কোত্থেকে ধরে পেতে দুইজনকে জোগাড় করে আনলেন, তারা টেনে-হিঁচড়ে হাসমত সাহেবকে বাথরুম থেকে বের তো করলেন, কিন্তু এ যেন শুধু একটা প্রাণহীন শরীর। পাড়ার ফার্মেসি থেকে একজন ডাক্তারও জোগাড় হলো, কিন্তু উনি এসে স্ট্রোক বলেই দায় সারলেন, বাকি কি করতে হবে সেটা বলার বা করার দরকার আছে বলে মনে হলো না। স্বাতীর ভাই জ্যাম ঠেলে, দৌড়ে, হাপিয়ে যখন বাসায় ঢুকলো ততক্ষণে প্রায় ঘন্টা পার হয়ে গেছে। আসতে আসতে একটা এম্বুলেন্স তো সে জোগাড় করেছিলো ঠিকই, কিন্তু সেটার আর আসার নামগন্ধ নেই!

অবশেষে আরোও আধা ঘন্টা পার করে সেই এম্বুলেন্স যখন পৌছালো, স্বাতীর মনে হলো বাবার শরীরে দম হয়তো আর অবশিষ্ট নেই! স্ট্রেচারে করে ভাই আর হাসপাতালের লোকেরা যখন বাবাকে নিয়ে যাচ্ছে স্বাতী তখন ভাবলো, এ যেন এক শবযাত্রা! না চাইতেও ওর কেন যেন মনে হলো, বাবা আর ফিরবে না! প্রচন্ড শব্দে এম্বুলেন্স যখন রওনা হলো, স্বাতীর শুধু মনে হলো, এই প্রচন্ড আওয়াজ তার জীবনের সমস্ত শব্দ শুষে নিয়ে চোখের আড়াল হচ্ছে!

####### 

সেদিনের পর বাবা আসলেই আর ফেরেন নি! হতে পারে কখনো কখনো কিছু চলে যাওয়া না ফেরার জন্যই হয়!

© সুমাইয়া</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/18206/</link>
				<pubDate>Tue, 06 Jul 2021 10:06:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এম্বুলেন্স….(গল্প)</p>
<p>প্যাঁ-পোঁ….প্যাঁ-পোঁ&#8230;প্যাঁ-পোঁ…. শব্দ তুলে ভুস করে এম্বুলেন্সটা স্বাতীর সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো। ভেতরে কে আছে কে জানে। উঁকি দিয়েছিলো, শুধু দেখলো সোনার চুড়ি পড়া একটা হাত পাখা দিয়ে সামনের বেডে শোয়ানো কোনো একজনকে তুমুলবেগে বাতাস করে যাচ্ছে। এর বেশি কিছু দেখা গেলো না। হতে পারে শুয়ে থাকা মানুষই চুড়িটা কিনে এনেছিলো, আবার হতে পার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-18206"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/18206/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ce74e6ca7aacbb693935da73ea0bd560</guid>
				<title>সে
ছাব্বিশ তলা উঁচু দালানের ওপর ঠিক আকাশের কাছাকাছি একটি কফিশপ। মাঝারি টেবিলের তিনটি চেয়ারে, দুইজন ছেলে, একজন মেয়ে! টুংটাং চামচ এর শব্দ, কফি কাপে ছোট চুমুক। বাইরে তুমুল বৃষ্টি! সন্ধ্যার এরকম একটা সময়ে কফি কাপে চুমুক দিতে দিতে হয়তো কিছুটা চোখাচোখি! তুমুল আড্ডা! হঠাৎ একটু থমকে যাওয়া!
কফি শপের ঠিক বাইরে বারান্দায়, অন্ধকারে, সাদা চেয়ারে গা ডুবিয়ে বসে আছে কেউ! এই বৃষ্টিতে কেউ এভাবে বসে থাকে? ভিজে যাচ্ছে না? শপের ভেতরে থাকা মেয়েটা কফিতে চুমুক দিতে গিয়ে হঠাৎ চমকায়, কফি ছলকে পড়ে এক-দু ফোটা!বাইরে বিজলি চমকানোর আলোয় আরোও ভালো করে দেখে নিতে চায় বসে থাকা কাউকে! আসলেই কি কেউ আছে?
মেয়েটার ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া মুখ কিংবা বার বার বাইরে তাকানো খেয়াল করে বিপরীত পাশে বসে থাকা মানুষটি! &quot;কি ব্যাপার, বাইরে কি?&quot;
&quot;হুম! না কেউ না!&quot;
&quot; তাহলে বাইরে তাকাও কেন বার বার, খাও!&quot;
&quot;হ্যা, খাচ্ছি!” বলেই আবার বাইরে তাকায় মেয়েটি! বিকট শব্দে বাজ পড়ে, আলোয় ভরে যায় চারপাশ! আসলেই চেয়ারে কেউ আছে! আস্তে আস্তে উঠেও দাঁড়িয়েছে। পরনের সালোয়ার-কামিজের রঙ কি আবছা নীল? বিজলি চমকানোর সাদা আলো আর ঝুম বৃষ্টির নিকষ আঁধার যেন আরও অস্বস্তি বাড়ায় মেয়েটার মনে। ও আসলেই দেখছে ওখানে কেউ আছে! বাতাসে চুল উড়ছে তার, ঠিক রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি যেন পাখির পালকে ভর করে উড়ে যেতে চায়!
“ এই, আবার কি দেখো? কি ওখানে?”
“আচ্ছা দেখো তো ওখানে, বাইরে কি কেউ আছে? রেলিং এর ধার দিয়ে দাঁড়ানো!”
“কই, কোথায়? এই বৃষ্টিতে কে থাকবে ওখানে?” নিজেও ঘাড় ঘুরিয়ে ইতিউতি তাকায় ছেলেটি, কিন্তু কাউকে দেখেনা। তখন অন্য চেয়ারে বসে থাকা বন্ধুটি নড়েচড়ে ওঠে, চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়ায়।
“ তুই কই যাস?”
‘দাড়া, আমি একটা সিগারেট ফুঁকে আসি, চট করে দেখেও আসি, ও কাকে দেখছে। ঝুম বৃষ্টিতে কি কারোও থাকার কথা? ভুলভাল দেখছে, আলবাত!”
ততক্ষণে মেয়েটি সচকিত, কই না তো! ও এখনো দেখছে মেয়েটাকে! চোখের ভুল? আসলেই? তাই বলে এতক্ষণ ধরে! অসম্ভব, হতেই পারে না। সিগারেট খেতে চাওয়া বন্ধুটি ছাতা হাতে বাইরের দিকে পা বাড়ায়। মেয়েটি একবার ভাবে আটকাবে, কিন্তু কি ভেবে আটকায় না। হতে পারে ওর মন নিশ্চিত হতে চায় যে ও ভুল দেখে নি। চার জোড়া চোখ ছাতে হাতে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে থাকে অস্বস্তি আর কিছুটা ভয় নিয়ে। ছেলেটি আরাম করে সিগারেট ধরায়, আয়েশ করে তাতে টান দেয়, আস্তে আস্তে সেটাও শেষ করে। কিন্তু সে জায়গার দিকে যায় না যেখানে হয়তো কেউ দাঁড়িয়ে আছে! সিগারেট শেষ হয়ে এলে পাড়ার রোমিওদের মতো একটা হাসি দিয়ে বন্ধুদের দিকে তাকায় ছেলেটি। ভাবটা এমন, “আরে ভাই দাঁড়া না, যাচ্ছি তো, কিছু যে নাই সেটা এখুনি দেখিয়ে দেই!”
এরপর আস্তে আস্তে ছেলেটি তো এগিয়ে যায়, এদিকে কফিশপের ভেতরে বসে থাকা দুজনের অস্থিরতা দেখা যায় না চোখে। একজন তো দেখছে না কিছুই কিন্তু অস্বস্তিতে ভুগছে বিপরীত পাশের জনকে নিয়ে! আর অন্যজন দেখছে, স্পষ্ট চোখে দেখছে, সেই নীকষ আঁধারে ছোট চুলের মেয়েটি ঘুরে তাকিয়েছে ঠিক যেন তার দিকেই। চোখে খুনে দৃষ্টি, মুখের মুচকি হাসিতে আশ্চর্য শীতলতা! ছেলেটি ততক্ষণে পৌছে গিয়েছে ওখানে। একদম কাছ ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে মেয়েটির! ধীরে ধীরে ব্যবধান কমছে ওদের দুজনের। ঠিক তখনই আলতো করে ছেলেটির ঘাড়ে হাত দেয় মেয়েটি। অথচ ছেলেটি সে সময় ভেতরে বসে থাকা দুই বন্ধুর দিকে তাকিয়ে আত্মবিশ্বাসের হাসি হাসছিলো, কারণ সে তো কাউকে দেখেই নি!
কিছুক্ষণ পর আচমকাই, একটি তরতাজা সুঠাম দেহের অধিকারী অল্প বয়েসী ছেলেকে ছাব্বিশ তলা থেকে পাখির পালকের মতো ভেসে ভেসে নিচে নামতে দেখা গেলো! একবারে নিচে যখন সে নামলো, তার আশেপাশে তখন লাল রঙের বন্যা, যেন শিল্পীর শেষ আঁচড়! তার বন্ধুরা যখন সেই উঁচু দালানের রেলিং থেকে আতংক আর ভয় নিয়ে এই নিথর হয়ে যাওয়া দেহের দিকে তাকিয়ে ছিল, পাশে একদম পাশেই সে ছিলো!
ঝুম বৃষ্টিতেও যার ছোট চুল উড়ছিলো বাতাসে, যার খুনে দৃষ্টি কফিতে চুমুক দিয়ে হাসতে থাকা মেয়েটি ছাড়া আর কেউ দেখেনি!
© সুমাইয়া
০১.০৭.২০২১!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17791/</link>
				<pubDate>Mon, 05 Jul 2021 07:30:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সে<br />
ছাব্বিশ তলা উঁচু দালানের ওপর ঠিক আকাশের কাছাকাছি একটি কফিশপ। মাঝারি টেবিলের তিনটি চেয়ারে, দুইজন ছেলে, একজন মেয়ে! টুংটাং চামচ এর শব্দ, কফি কাপে ছোট চুমুক। বাইরে তুমুল বৃষ্টি! সন্ধ্যার এরকম একটা সময়ে কফি কাপে চুমুক দিতে দিতে হয়তো কিছুটা চোখাচোখি! তুমুল আড্ডা! হঠাৎ একটু থমকে যাওয়া!<br />
কফি শপের ঠিক বাইরে বারান্দায়, অন্ধকারে, সাদা চেয়ারে গা ডুব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-17791"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/17791/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f3f994c0b5acfc227362185db25c6ad9</guid>
				<title>সুমাইয়া বিনতে করিম and অভিমানী মন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17789/</link>
				<pubDate>Mon, 05 Jul 2021 07:25:48 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f3f994c0b5acfc227362185db25c6ad9</guid>
				<title>সুমাইয়া বিনতে করিম and Neel tripura are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17788/</link>
				<pubDate>Mon, 05 Jul 2021 07:25:48 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f3f994c0b5acfc227362185db25c6ad9</guid>
				<title>সুমাইয়া বিনতে করিম and Drako Shajib are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17787/</link>
				<pubDate>Mon, 05 Jul 2021 07:25:48 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f3f994c0b5acfc227362185db25c6ad9</guid>
				<title>সুমাইয়া বিনতে করিম and চাঁদ সদাগর are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17786/</link>
				<pubDate>Mon, 05 Jul 2021 07:25:48 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>