<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | ফারদিন ইসলাম উইনমি | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/winme/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/winme/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for ফারদিন ইসলাম উইনমি.</description>
	<lastBuildDate>Tue, 08 Sep 2026 10:31:33 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">22eea16c145f6aae514d57f10409972c</guid>
				<title>ফারদিন ইসলাম উইনমি and ভাস্কর are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/250016/</link>
				<pubDate>Thu, 21 May 2026 10:39:14 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e96e6121d1e97a91dd458ffa83e95182</guid>
				<title>#প্রয়োকনিকার_ফাসি
#প্রথম_খন্ড
 #আমিনুল_ইসলাম_আমিন★

রাত্রি ১১.৫০ মিনিট, আর মাত্র ১০ মিনিট পরেই ফাসি হবে। বিখ্যাত ডিটেকটিভ &#038; মাস্টার কিলার প্রয়োকনিকা।
রাত অনেক হলেও আজ রাতটা হাজার মানুষের কাছে খুশির রাত।প্রয়োকনিকাকে যে জেলখানা ফাসির ব্যবস্থা করা হয়েছে।সে জেলখানা বাইরে হাজার হাজার মানুষ এক প্রকার রাস্তা দখল করে তারা বসে পরেছে।অনেকে ব্যানার উচু করে ধরে আছে সেখানে বড় বড় করে লেখা আছে।
ফাসি চাই, ফাসি চাই, প্রয়োকনিকার ফাসি চাই।
অনেকে প্রয়োকনিকার মতো দেখতে পুতুল বানিয়ে, আগুনে পুরে ফেলে। তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে।আবার কেউ কেউ মাইক নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।
&quot;মানুষরূপী শয়তান প্রয়োর মৃত্যু চাই মৃত্যু চাই।&quot;
এভাবে মাতিয়ে আছে হাজারো মানুষ,কিছুদিন আগে সবার প্রিয় ছিলো এই ডিটেকটিভ, প্রয়োকনিকা।
অনেক সিরিয়ার কিলার সাইকো কিলারদের হাত থেকে বাঁচিয়েছে, সাধারণ মানুষদের কে।
কিন্তু আজ কারাগারে হাজার মানুষ তার মৃত্যুর অপেক্ষায় আছে।শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে জড়ো হয়েছে সাধারণ জনগণ।
প্রয়োকনিকাকে ফাসিতে ঝোলানোর জন্য, 
এখানে অবস্থান করা হাজার মানুষের ভিতরে, কারো &#039;বাবা&#039; কারো &#039;মা&#039; কারো &#039;ভাই&#039; কারো &#039;বোন&#039; এরকম অনেক লোক মারা গেছে প্রয়োকনিকার হাতে।তাই তারা সবাই একত্র হয়ে তাদের আত্বীয় মৃত্যুর প্রতিশোধের জন্য এ জনসমাবেশ তৈরি করেছে।
এই সমাবেশ একটাই দাবি। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রয়োকনিকার ফাসি না হবে ততক্ষণ তারা, এখান থেকে উঠবে না।আর রাস্তা দখল হওয়াতে গাড়ি গুলো আটকে যাচ্ছে।
রাস্তায় খুব জ্যাম লাগছে, দেশের অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পরেছে।
শেষে কোনো উপাই না পেয়ে প্রয়োকনিকার বিচার প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি শুরু করে।
আর সব শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমান হওয়াতে, আদালত তাকে ফাসির রায় ঘোষণা করে।
প্রয়োকনিকা চাইলে প্রানভিক্ষা চাইতে পারতো,
কিন্তু সে মাথা নত করবে না।
তাই এ আদালতের আদেশ অনুযায়ী প্রয়োকনিকার ফাসির কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর প্রয়োকনিকাকে ফাসির মঞ্চে আনা হয়।
প্রয়োকনিকার শেষ ইচ্ছা ছিলো তাকে বোরখা পরিধান করা অবস্থায় যেনো ফাসি দেওয়া হয়।
তাই আদালত তাকে বোরখা পরার অনুমতি দিয়ে দেয়।
সম্পুর্ন বোরখা পরে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ফাসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছে।
একজন মহিলা পুলিশ এসে, প্রয়োকনিকার গলায় দড়ি পড়িয়ে দেয়।আর মঞ্চের এক কোনায় একজন কোট পরা লোক হাতে রুমাল নিয়ে উচু করে রাখছে আর চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা পরে বাম হাতে ঘড়ির কাটার দিকে লক্ষ রাখছে।ঠিক ঠিক ১২ টা বাজা মাত্রই তার হাত নিচু করে। আর মঞ্চের এক পাশে থাকা জল্লাদ তার হাতের কাছে থাকা লিভার টেনে দেয়।

কিছুদিন আগে (অতিতে ফিরে যাওয়া)

সকালের সুর্যের আলো ফুটে উঠেছে অনেক আগেই। কিন্তু জেলার সাহেব নিশান, এখনো ঘুম থেকে উঠেনি খুব ঘুম পাগল সে।
এদিকে তার স্ত্রি ইরা বার বার তার গা ঝাকিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। কিন্তু জেলার সাহেব নিশানের, ঘুম ভাঙ্গার কোনো নাম নাই।
শেষে ইরা কোনো উপাই না পেয়ে,
একটা শুই নিয়ে হাতের বেশকিছু জায়গা ফুরে দিলো।
&quot;মা মা &quot;বলে চিৎকার করে বিছানা শোয়া থেকে উঠে বসে পরে নিশান।
আর ইরা তা দেখে ঠোটের নিচে মুচকি হাসি হেসে বলে &quot;জেলার সাহেব ঘড়িতে তাকিয়ে দেখেন কয়টা বাজে।পুরো রাজ্যের মানুষ কাজে ব্যস্ত হয়ে পরে। আর আপনার ঘুম থেকে উঠার কোনো নাম নেই।&quot;
নিশান কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না।
কারন ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সে প্রায় থমকে গেছে।আজ জেলখানা পরিদর্শন করার জন্য D I G. সাহেব আসবে।
আর এসে যদি জেলারকেই না দেখে, তাহলে আর চাকরি করার কথা ভুলে যাওয়া লাগবে।
কোনোকিছু না বলে বিছানা থেকে উঠে, আলমারি থেকে ইউনিফর্ম বের করে, বাথরুমের দিকে দৌড় দেয়।বাথরুমে ঢুকে একহাতে ব্রাশ আর একহাত দিয়ে পুরো শরীর শাওয়ারের পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে থাকে।
যত তাড়াতাড়ি পারে গোসল শেষ করে,ইউনিফর্ম পরে বের হয়।
কোনো কিছু না বলে ।বাসা থেকে এক প্রকার দৌড়ে বের হয়।
রাস্তার পাশে বাসা হওয়াতে রিকশা বা &#039;সি এন জি &#039;সবসময় চলাচল করে, তাই গাড়ি পেতে তেমন অসুবিধা হয় না।
নিশান রাস্তার পাশে দাঁড়াতে এক অটো রিকশা তার দিকে এগিয়ে আসলো।
নিশান কিছু বলার আগেই রিকশাচালক বলে &quot;স্যার জেলখানা যাবেন?&quot;
নিশান শুধু &quot;হ্যাঁ&quot; বলে রিকশা চরে বসে।
রিকশাচালক হয়তো তার পোষাক দেখে বুঝে গেছে।আর এ শহরে মোটামুটি অনেকে নিশান কে চিনে।
এর কারন নিশান অনেক ফাসির আসামিকে নির্দোষ প্রমান করে। তাকে ফাসির হাত থেকে বাঁচিয়েছে।
আর নিশানের কাজের উপরে একটা বই লিখেছে একজন বিখ্যাত লেখক।
যেখানে নিশানের বিষয়ে অনেক কিছু লেখা আছে।
আর এ কারনেই নিষান সেলিব্রেটি হয়ে গেছে।
সবার একটা মনে বিশ্বাস জন্মেছে নিশান কোনো নির্দোষ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলতে দিবে না।

জেলখানায় যাদের ফাসির আদেশ দেওয়া হয়। তাদের কেসের উপর, নিষান নিজে নতুন করে ইনভেস্টিগেশন করে।
যদি সে নির্দোষ হয় এই আশায় ইনভেস্টিগেশন করে।কারন সে শপথ করেছে যতদিন এ পেশায় আছে, ততদিন তার হাতে একটা নির্দোষ মানুষকেউ ফাসিতে ঝুলতে দিবে না।
এ দিকে ইরা বাড়ির দরজাকবাট ধরে দাঁড়িয়ে আছে।কারন সে জানে নিষান একটু পর আবার ফিরে আসবে।
কারন আজ তার পাওনা না দিয়েই চলে গেছে।
খুব তাড়াহুড়া করাতে পাওনা শোধ না করেই চলে গেছে।
হয়তো মনে ছিলো না।
কিন্তু মনে পরা মাত্রই ফিরে আসবে নিশান।
ইরা খুব ভালো করেই চিনে নিষানকে, তাই দরজাকবাট ধরে তার অপেক্ষা করছে।
খুব বেশি অপেক্ষা করতে হলো না ইরাকে,
একটু পরেই রিকশা চরে হাজির হয়ে গেলো। নিশান রিকশা থেকে এমন ভাবে নামলো মনে হচ্ছিলো রাজা ঘোড়া থেকে নামছে।
ইরা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিশানের দিকে।
অদৃশ্য এক মায়া তার মুখের দিকে কাজ করে। যখনি ইরা নিশানের দিকে তাকায় নিজের অজান্তেই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
চাইলেও চোখ সরাতে পারে না ইরা।
নিশান রিকশা থেকে নেমে তার হাতে থাকা ৩ টা হলুদ গোলাপ উচু করে ধরে, হাটু গেরে বলতে থাকে &quot;হে আমার অর্ধাঙ্গিনী আমি খুবই দুঃখিত আজ তোমার পাওনা না দিয়েই চলে গিয়েছি।
আমার এই ছোট্ট গোলাপ নিয়ে আমার ভুল কিক্ষমা করা যায় না?&quot;
ইরা তার কাণ্ডকারখানা দেখে মুচকি হেসে গোলাপফুল হাতে নেয়।
কিছুই বলে না শুধু তাকিয়ে থাকে তার দিকে। 
এরকম পাগলামি সে বহুবার করেছে।
পুরো পাগল একটা,নিশান বুঝতে পারে তার বউয়ের রাগ একটু কমেছে।
যাক রাস্তার পাশে ফুলের দোকান হওয়াতে সুবিধা হয়েছে ১৫ টাকার ৩ টা গোলাপ। কিন্তু আজ অমুল্য ভালোবাসার দাম দিয়ে গেলো।
আর কিছু না ভেবে ইরার গালে একটা ভালোবাসার আদুরে চুমু দিয়ে, তাড়াহুড়ো করে রিকশায় চরে বসে।
দেখতে দেখতে চোখের সিমানার বাইরে চলে যায় নিশান।
ইরা এখনো দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
একটা পাগল এসে তার পাওনা দিয়েই চলে গেলো তাকে কিছু বলতে দিলো না।
তাই একটু অভিমান হলো মনটা,
ইরা দরজা লাগিয়ে তার রুমের দিকে চলে যায়। তারপর বইয়ের মাঝখান থেকে একটা চাবি বেড় করে তার তালা যুক্ত ডাইরি খুলে বিছানায় উবু হয়ে শুয়ে লিখতে শুরু করে।
এই ডাইরি তার অভিযোগ ডাইরি, তার নিষানের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ এই ডাইরিতে লিখে রাখে।
কেনো লিখে রাখে জানে না।
এক ধরনের পাগলামি বলা যায়।
নিশানকে সে এই ডাইরি পরতে দেবে না এই কারনে ডাইরিতে ছোট্ট তালা মেরে রাখে আর চাবি লুকিয়ে রাখে।
ডাইরি যেখানে লেখা শুরু করবে। তার এক কোনায় আগে অভিযোগ নম্বর লেখা তার অভ্যাস হয়ে গেছে। এযাবৎ ২৫৬ টা অভিযোগ করেছে তার স্বামির নামে। আজ ২৫৭ টা হবে।
কলমটা আলতো করে ধরে ডাইরিতে লিখতে শুরু করে।
প্রিয় স্বামি অভিযোগ নাম্বার ২৫৭
আজ তুমি আমাকে একটি ভালোবাসার আলতো চুমু একে দিয়ে গেছো, কপালে আর ডান পাশের গালে পাওনা শোধ না করেই চলে গেলে।
আর কিছু বলতে দিলে না আমায়।
জানি খুব ব্যস্ত ছিলা তাই বলে ৪৫ সেকেন্ড সময় দিলে কি হতো।
আমাকে আমার কথা বলতে দাওনি তাই খুব খারাপ লাগছে আমার।
তুমি পচা যাও আর কথা নাই তোমার সাথে।
আজ প্রায় ২ বছর হয়ে গেলো তুমি আমায় নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওনি।
আমার বুঝি খারাপ লাগে না?
এই বাড়িতে সারাদিন বসে থাকতে।
ভাবছিলাম মায়ের বাড়িতে গিয়ে ২/৪ দিন থেকে ঘুরে আসবো। কিন্তু তোমাকে ছাড়া আমার একটুও মন টিকবে না।
আমার মন যে আমি তোমাকে দিয়েছি।
তাই এই মন তোমাকে ছাড়া কিছুই বুঝে না।
এ কারনে আজো তোমাকে ছাড়া কোথাও যায় নি।
একটা রাত তোমাকে ছাড়া কাটায় নি।
যখন তুমি রাতে বাসায় ফিরো না জেলখানা কয়েদির সাথে রাত্রি যাপন করো।
আমার খুব খারাপ লাগে তখন।
কতবার যে চিৎকার করে কান্না করেছি। তুমি হয়তো জানো না।
কত রাত না খেয়ে তোমার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পরেছি, তুমি হয়তো তা জানো না।
হয়তো বা জেনেও না জানার ভান করে থাকো।
মাঝে মাঝে খুব রাগ হয় তোমার উপরে কিন্তু তোমার উপরে রাগ করে থাকতে পারি না।
হয়তো আজ রাতে বাসায় আসতে দেড়ি করবা।
কিংবা আসবে না।
আমি কাল রাতে তোমার ফোনআলাপ শুনেছি,
তুমি কাকে যেনো বলছিলা আজ এক দম্পতি ফাসি দিবা।
তাতেই বুঝতে পারছি আজ তুমি বাসায় দেড়িতে আসবা।
হয়তো বা আসবা না।
আজ রাতে দুটি দেহ ফাসির মঞ্চে ঝুলে থাকবে, তাদের দেহ থেকে রুহ ত্যাগ করবে। 
অনেক কষ্ট হবে তাদের তা আমি অনুভব করতে পারছি।
তুমি কিভাবে এটা দেখো আমি বুঝতে পারি না।
কি ভয়ংকর দৃশ্য,
আমার ভাবতেই ভয় লাগে।আর তুমি তা নিজ চোখে দেখো।
আচ্ছা আজকের অভিযোগ এখানেই শেষ করলাম।
সকালে তো কিছুই খেলে না।
এতো রান্না করে কি লাভ হলো বলো?
সেই খুব ভোরে উঠে তোমার জন্য রান্না করলাম তুমি না খেয়ে চলে গেছে।
ওখানে গিয়ে খেয়ে নিয়ো।
আল্লাহ হাফেজ।

লেখা শেষ করে ডাইরিটা তালা মেরে টেবিলের এক কোনায় রেখে দেয়।
তারপর চোখ বুলাতে থাকে টেবিলের উপরে।
তার পুরো টেবিল জুরে, শুধু বই দিয়ে ভরিয়ে রেখেছে।
বই পোকা বলা যেতে পারে।
সারাদিন বই পরা ছেরে কোনো কাজ নেই।
দুজন মানুষ, নিশান সারাদিন প্রায় জেলখানা কয়েদির মাঝখানে দিন পারি দেয়।
তাই বাসায় তেমন কোনো কাজ নেই।
মিনহাজ মঞ্জুর ক্রাইম থ্রিলার নিয়ে লেখা  #শেষ_পর্বের_শুরু বইটা এ বছর বই মেলা থেকে কিনেছে এখনো পরা হয়নি।
আজ ওটাই পরার ইচ্ছা হলো খুব।
তাই ঐ বইটা নিয়ে।
হাতের ছোট্ট চাবিটা সেই বইয়ের ভাজেই রেখে দিলো।তার পর বইটা নিয়ে সিরি বেয়ে ছাদের দিকে রওনা হলো।
আর বইটা নিয়ে কিছু জল্পনা কল্পনা করতে থাকে।ইরা এই একটা কাজ খুব ভালো লাগে করতে।
আগে একটা পরিকল্পনা করে বইটা পরা শুরু করবে তারর তা মিলানোর চেষ্টা করবে।
যখন মিলবে না তার কল্পনার বাইরে কিছু খুজে পায় গল্পে। যা খুব আনকমন তখন তার মনে অজানা খুশির জোয়ার ভেসে যায়।
বইটা পরে খুব তৃপ্তি পায়।
এখন শেষ পর্বের শুরু বইটা নিয়ে ভাবছে।
বইটি লেখকের প্রথম উপন্যাস 
বই মেলা গিয়ে নহলী স্টলে বইটি প্রথম পাতা পরতেই কেনো জানি খুব ভালো লাগলো।
তাই কিনে ফেললি।
জানিনা কেমন হবে তবে মন বলছে ভালো হবে।
এসব ভাবতে ভাবতে ছাদে চলে যায় ইরা,
ছাদের এক কোনায় একটা সাদা সচ্ছ কাচের ঘড় তৈরি করা আছে।
পুরোটা কাচ দিয়ে তৈরি
জানালা দরজাও কাচ দিয়ে তৈরি।
নিশান আর ইরা সপ্নের ঘড় এটা।
এখানে বসে বৃষ্টি উপভোগ করবে,এরকম ভেবেই এ ঘড়টা তৈরি করা হয়েছে।
ঘড়ে শুধু একটা টেবিল আর বেশ কিছু চেয়ার ছাড়া আর কিছু নেই।
ঘরের এক কোনায় একটা চায়ের ব্যবস্থা করা আছে।
।
আজ আকাশটা খুব মেঘলা সুর্য দেখা যাচ্ছে না। একটু হালকা বাতাস বইছে উত্তর দিক থেকে।
খুব রোমান্টিক মুহুর্ত। 
ইরা এক কাপ চা তৈরি করে জানালার পাশে বসে পরলো।
তারপর বই নিয়ে পড়তে শুরু করলো।
এক হাতে চা আর এক হাতে বই।
পুরোপুরি কল্পনার জগতে হাড়িয়ে গেছে এখন ইরা।
চারপাশে প্রকৃতির আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেছে এদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।
এখন সে বইয়ের জগতে কল্পনা করছে নিজেকে।
আর এদিকে নিশান রিকশা থেকে নেমে, রিকশা ভাড়া মিটিয়ে যখন জেলখানা ঢুকতে যাবে। তখনি খেয়াল করলো বাসায় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে জুতো না পরে সেন্ডেল পরে চলে এসেছি।
এতক্ষনে এটা লক্ষ করেনি সে।
এখন কি করবে D I G এসে তাকে এই অবস্থায় দেখলে কি ভাববে।
হয়তো এটার জন্য আজ তাকে কথা শুনা লাগতে পারে।
একে তো এই শহরে নতুন D I G তার উপর শুনেছি খুব করা লোক একটা। 
কি যে হবে আজ তা ভাবতেই পারছি না। এখন বাসায় যাওয়া সম্ভব না।
যেকোনো মুহুর্তে চলে আসবে D I G সাহেব।
তাই এই অবস্থায় জেলখানায় ঢুকে পরলো।
যা হওয়ার হবে।অতো ভেবে লাভ নেই।
হন হন করে হেটে তার রুমে প্রবেশ করে নিশান, আর রুমে প্রবেশ করতেই তার চোখ কপালে ঠেকে যায় রুমের একি অবস্থা।
এতোদিন রুমের দিকে খেয়াল ছিলো না।
চারদিকে শুধু বই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
প্রায় ১৫০ টা বই হবে পুরো রুমে এখানে ওখানে যায়গা দখল করে আছে।
মাসে যা বেতন পায় তার এক অংশ বই কিনেই শেষ করে।দুজনেই বইপোকা
সারাক্ষণ বই পরতে তাদের কোনো ক্লান্তি নেই।
কিন্তু এ অবস্থা D I G দেখলে তার আর আস্ত থাকবে না।
তাই চটজলদি বই গুলো গুছিয়ে নিয়ে, পাশের রুমে সরিয়ে ফেলে।
আর পুরো রুম পরিষ্কার করে ফেলে।রুম স্প্রে ব্যবহার করে ঘর সুগন্ধি করে।
যদিও তার কাছে ভালো লাগেনা রুম স্প্রে, শুধু নতুন বইয়ের সুগন্ধি নাকে নিতেই নিশানের খুব ভালো লাগে।
এখন অন্যের জন্য নিজের ভালো লাগাকে কবর দিতেই হবে আজ।
তার রুম ঝকঝকা করে নিয়ে, চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে ফাইল ঘাটতে থাকে।
আজ এক দম্পতি ফাসি দেওয়া হবে।
দুজনেই মোষ্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল।
স্বামি নাম &#039;পলাশ&#039;
আর স্ত্রী &#039; স্মৃতি&#039;
তাদেরকে মোষ্ট ওয়ান্টেড বলার কারন।
তারা ১ বছর ধরে পলাতক ছিলো।
সমস্ত পুলিশ ফোর্স পাগলে মতো খুজেছে তাকে।
প্রায় ১ বছর পাগলা কুকুরের মতো খুঁজাখুঁজি করার পর তাঁদেরকে এক মাটির বাড়ি থেকে। অজপারা গ্রামে ছদ্মবেশ ধরা অবস্থায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
মেয়ে ছেলে সেজে
আর ছেলে মেয়ে সেজে তারা জীবনযাপন করতো।
কেউ বুঝতেও পারিনি এতোদিন
তারা ছদ্মবেশ ধরে ছিলো।
পলাশ আর স্মৃতি দুজনে মিলে ঠান্ডা মাথায়। একরাতে ৪৯ জনকে গলা কেটে হত্যা করেছে।
আর তাদের হাত পা কুচি কুচি করে কেটে বস্তা বন্দি করেছিলো হয়তো জঙ্গলে সেগুলো হায়নাদের খাওয়ার জন্য দান করতো।
কিন্তু তার আগেই আশেপাশে লোক টের পেয়ে যায় তখন জীবন বাঁচাতে ওখান থেকে পালিয়ে যায়।
তারপর দির্ঘ এক বছর পর তাদের খোঁজে পাওয়া যায়।
তাদেরকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে কিছুই বলে না চুপ করে থাকে।
আর খুনের বিষয়ে যখন জানার জন্য তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিলো, তখনো কিছু বলিনি।
শুধু এটুকুই বলছিলো &quot;আমি খুন করেছি তা তো আমি শিকার করছি। তাহলে আর কি জানতে চান।আমাকে ফাসি দিয়ে দিন।&quot;
শুধু এটুকুই বলেছিলো আর কিছু বলেনি।
পুলিশ তাদের মানষিক রোগ আছে এটা ভেবে ডাক্তার দেখিয়েছিলো।
তখন ডাক্তার বলেছিলো তারা এক ধরনের অদ্ভুত ড্রাগস সেবন করে।
আর তার ফলে তাদের চিন্তাধারা বিকৃতি পায়, এরকম কাজ করতে তারা খুব আনন্দ পাচ্ছিলো।
অনেকটা বাচ্চারা খেলার ভিতর যে আনন্দ পায় সেরকম আনন্দ।
এটা বলে তাদের কেস শেষ করে দেয়।
কিন্তু নিশান আলাদা ভাবে তাদের উপর ইনভেস্টিগেশন করেছে।
আর তাতে বুঝতে পারে এরা ড্রাগস জন্য এরকম করেনি এসব খুন ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছিলো।
কারন যাঁদের খুন করেছে তারা সবাই ক্ষুধার্ত ছিলো তাদেরকে আটকে রেখেছিলো ২/৩ দিন আর কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি, শুধু পানি ছাড়া।
আর তাতে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে , পরিকল্পনা করেই এসব করেছে।
ড্রাগস না, অন্য কোনো কারন আছে? এসব খুনের পিছনে।
আর সবথেকে বড় কথা তারা যে ড্রাগস নেয়।
ঐ ড্রাগস আর কেউ নেয় না। আর কোথাও খুজে পাওয়া যায়নি তাদের কাছে ছাড়া।
একদম নতুন ড্রাগস।
কে দিয়েছি এ ড্রাগস তা অনেক জিজ্ঞাসা করা হয়েছে কিন্তু তারা কিছুই বলেনি।
খুবি অদ্ভুত এই নেশা,সাদা মার্বেলের মতো গুটি গুটি খুব ছোটো এগুলা।
আগুনে পুরলে এক ধরনের ধোয়া বের হয়।
আর সেই ধোয়া চোখের সামনে ধরলে নেশা হয়।
পুরো চোখ লাল হয়ে যায়।

ড্রাগস গ্রহণকারী কল্পনায় যা ভাববে তা চোখের সামনে ভাসবে।
মনে হবে এটা কল্পনা না এটাই বাস্তব।
যেগুলো কোনোদিন সম্ভব না সেগুলা ভাবতে থাকে ব্রেন তখন।
নিশান টেবিলের উপর থাকা ,
পলাশ আর স্মৃতি ফাইল নিয়ে ঘাটাঘাটি করছিলো।
এতক্ষন 
আর নিজে নিজেই এসব আপন মনে ভেবে যাচ্ছে। বসে থেকে বিরক্ত হয়ে একসময় বলেই উঠে&quot;দূর আরো ভালো লাগছে না।&quot;
দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে লক্ষ করলো ১২.১৩ বাজে এতক্ষনে D I G আসেনি।
এতো দেড়ি হবে আগে জানলে সে এতো পারাপারি করে আসতো না।এখন বিরক্ত লাগছে বসে থাকতে।
তাই ভাবলো পাশের রুমে গিয়ে বই পরলে সময় চলে যাবে, যখন D I G আসবে তখন না হয় এই রুমে চলে আসবে।
এই ভেবে অন্যরুমে চলে যায়।
রুমে গিয়ে বই খুলে পরা শুরু করবে। তখনি মনে পরে সে চশমা ছাড়া এ রুমে চলে আসছে।
আর চশমা ছাড়া ছোটো লেখা ধরতে পারে না।
তাই আবার তার রুমে এসে ড্রয়ার খুলে চশমা নিয়ে বইয়ের রুমে আসার জন্য পা বাড়ায়।
তখনি গলা খাখার দিয়ে এক লোক তার রুমে প্রবেশ করে।
লোকটির পোষাক দেখে বুঝতে পারে, D I G দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে।
নিশান লোকটির দিকে মুখ করতেই অবাক হয়ে যায়।পুরোপুরি থমকে যায় নিষান।
এদিকে D I G সাহেব নিষানকে উদ্দেশ্য করে বলে &quot;কিরে চাশমিশ কি খবর তোর।&quot;
হঠাৎ করে এমন কন্ঠ শুনে হকচকিয়ে যায় নিষান।
নিজেকে সংযত করতে কিছুটা সময় লাগে।
নিজেকে সামলে নিয়ে।যথারিতি সালাম দিয়ে বলে।&quot;আসসালামু আলায়কুম D I G সাহেব কেমন আছেন?&quot;
D I G. সালামের উওর দিয়ে বলে &quot;ওয়ালাইকুম আসসালাম, আরে অতো সম্মান দিতে হবে না
ভুলে যাচ্ছিস কেনো দুজনে একি ব্যাচে ছিলাম
তুই আমি আর ইরা বেষ্ট ফ্রেন্ড&quot;
নিশান তখনি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে।
&quot;হুম ছিলাম এবং আছি,কিন্তু এটা কর্মস্থল। আর আপনি এখন D I G আর আমি জেলার এখানে কর্মটা বড় করা উচিৎ।&quot;
D I G ওসব কথা মাথায় না ঢুকিয়ে, পাশে ফেলে দিয়ে বলে&quot; আরে রাখ তোর জ্ঞানি ভাষন, বই পরে সারাক্ষণ লেকচার দেওয়ার অভ্যাস এখনো বদলায় নি দেখছি।
তা তোর রুমের বই কই?
দেখছি না কেনো?পাশের রুমে রাখছিস?
আমার ভয়ে?&quot;
হুহুহুহু এই বলে একটা অট্ট হাসি দেয় D I G ।
নিশান কিছুই বলে না শুধু নিরব দাঁড়িয়ে থাকে।
এই মুহুর্তে কি বলবে তা নিষান জানে না।
তাই চুপ থাকাই ভালো।
নিশানের এভাবে চুপ থাকা দেখে D I G বলতে শুরু করে &quot;কিরে ভ্যাংলার মতো চুপ করে আছিস কেনো?&quot;
নিশান: &quot;কি বলবো?&quot;
D I Gঃ&quot;কি বলবি মানে? তোর সাথে আজ সারাদিন থাকবো। তুই এভাবে চুপ থাকবি নাকি?
আচ্ছা শোন আজ ইংলিশ নিয়ে আসছি।
তুই আর আমি আজ পার্টি করবো।&quot;
নিশান:&quot; কর্মস্থলে এসব খাওয়া ঠিক হবে না।&quot;
D I G : &quot;আরে না ব্যাটা এই রুমে না। যে রুমে বই ঠাসাঠাসি করে রাখছিস সে রুমে খাবো।
কি মনে করছিস আমি কিছুই জানি না।
তুই যে কতবড় বই পোকা তা আমি খুব ভালো করেই জানি।
এখন চল আগে একটু ভিতর থেকে ঘুরে আসি।
মানে আজ যাদের ফাসি হবে তাদের দেখার খুব ইচ্ছা হচ্ছে তাই তোর কাছে আসা।
আর উপর মহল থেকে নির্দেশ আসছে তাদেরকে যেনো আমার সামনে ফাসি দেওয়া হয়।তাই সব মিলিয়ে আজ সারাদিন তোর সাথে আমি আছি।&quot;
এই বলে চুপ করে নিশানের দিকে তাকিয়ে আছে।

নিশান কিছু না ভেবে রুম থেকে বেড় হয়ে। সেলের দিকে এগিয়ে যাতে থাকলো।
তার পিছু পিছু D I G আসতে থাকে ।একটু একটু করে দুজনে অন্ধকার সেলের ভিতর দিয়ে যেতে থাকে, বাহিরের ভেন্টিলেটর দিয়ে যতটুকু আলো আসে, ততটুকুই দিনের আলো এখানে পাওয়া যায়।
তাই সবসময় অন্ধকার থাকে সেলগুলো।
দিনের বেলাতেও লাইট জালানো প্রয়োজন পরে এখানে।
এখানে দিন রাত প্রায় সমান,খুব ধিরে ধিরে পা বাড়িয়ে যাচ্ছে নিশান ।
আকাশের তখন কালো মেঘ গুলো আরো ঘন কালো হয়েছে।
চারদিকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে আর একেকটা বিদ্যুৎ চমকানোর শব্দ নিষানের কানে নয়।
বুকে গেথে যাচ্ছে।
কারন তার বন্ধু D I G আর সে জেলার এটা মানতেই তার বুকে অজানা হাহাকার অনুভব করছে।মনে হচ্ছে কেউ তার বুকে গরম লোহা দিয়ে আঘাত করছে।
গরম রড হওয়ার যখন আঘাত করছে তখন তো বুকে লাগছেই আর যে জায়গা আঘাত করছে সা জায়গা পুরে যাচ্ছে।
দেখতে দেখতে সেই সেলের সামনে দাঁড়িয়ে পরলো দুজনেই।
পলাশ আর স্মৃতি সেলের ভিতরে আপন মনে ড্রাগস নিচ্ছিলো।অন্যদিন হলে কারাগারে ড্রাগস সেবন করার কোনো নিয়ম নেই।
কিন্তু আজ এদের কাউকে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
কারন এটাই এদের শেষ ইচ্ছা।
তাদের শেষ ইচ্ছা পুরন করা হচ্ছে মাত্র।
আর কিছুক্ষণ পর তো তারা চাইলেও আর কিছু করতে পারবে না তখন।

সেলের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে। ওদের দুজনের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে চোখের কোনে জল জমে গেছে তা বুঝতেই পারেনি D I G
মনে তখন অনেক যন্ত্রণা হতে থাকে তার।
নিজের অজান্তেই D I G মুখ ফুটে বেড়িয়ে আসে,
&quot;মা রে মা,তুই কেমন আছিস?&quot;
স্মৃতির কানে এই কথাগুলো সজোরে আঘাত করে।নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মাথা ঘুরিয়ে দেখার চেষ্টা করে।
আর D I G দেখা মাত্রই স্মৃতি চোখ বড় হয়ে যায়।রাগে দাঁতের সাথে দাঁত লাগিয়ে কটমট করতে করতে বলা শুরু করে&quot;আপনি এখানে আসছেন কেনো?
আমাদের মৃত্যু দেখতে আসছেন তাই না?&quot;
এতক্ষণে স্মৃতি পুরো নেশা কেটে গেছে।
বসা থেকে উঠে D I G কাছাকাছি আসতে থাকে।
স্মৃতি চোখ মুখে তার রাগ আর অভিমানের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
মনে এখনি D I G গলা টিপে তাকে হত্যা করতে পারলে শান্তি পেতো। 

To Be Continue..</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/242974/</link>
				<pubDate>Fri, 03 Apr 2026 15:47:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>#প্রয়োকনিকার_ফাসি<br />
#প্রথম_খন্ড<br />
 <a href="https://toulot.com/n_astream/?s=%23আম" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#আম</a>িনুল_ইসলাম_আমিন★</p>
<p>রাত্রি ১১.৫০ মিনিট, আর মাত্র ১০ মিনিট পরেই ফাসি হবে। বিখ্যাত ডিটেকটিভ &amp; মাস্টার কিলার প্রয়োকনিকা।<br />
রাত অনেক হলেও আজ রাতটা হাজার মানুষের কাছে খুশির রাত।প্রয়োকনিকাকে যে জেলখানা ফাসির ব্যবস্থা করা হয়েছে।সে জেলখানা বাইরে হাজার হাজার মানুষ এক প্রকার রাস্তা দখল করে তারা বসে পরেছে।অনেকে ব্যানার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-242974"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/242974/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d2fa6dcbf058653bab0d636d44c3ecb3</guid>
				<title>#unsolved_অরূপ(৫)
 #শেষ_পর্ব★
আযিয মনে মনে রাতের অপেক্ষায় করছে।
রাত হলেই শুরু হবে তার মৃত্যুর খেলা,
আর রক্ত, অরূপ নামে হিংস্র সত্তা বেরিয়ে আসবে রাতে।
আজ রাতে মনের মতো খু*ন করবে, দুজনকে।
মিযানের চোখ তুলে ফেলে তার চোখের ফাকা অংশে, মাছ ধরা হুক লাগিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে দিবে।পায়ের আঙ্গুল কেটে ফেলে একটা করে সূচ ঢুকিয়ে রাখবে। এরকম অনেক কিছু মনে মনে ভেবে আছে।
আর বেলালকে সে আরো খারাপ ভাবে হত্যা করবে এতোটাই বিভৎস করবে, তা ভাবতেই মন খুশিতে ভরে উঠে।
একটু একটু করে সময় গড়িয়ে দিনের আলো, রাতের অন্ধকারে মিশে যেতে শুরু করতে থাকে।
এ রাত যে শেষ রাত, তা বেলাল সাহেব ভুল ক্রমেও জানতে পারে নি। মিযান আজ সারাদিন একটুও হাসেনি সারাক্ষণ মনমরা হয়ে ছিলো।
অনেকক্ষণ কান্না করতে করতে চোখের পানি মুখের উপরেই শুকিয়ে গেছে। বেলাল সাহেব আর মিযান দুজনেই বারান্দায় বসে, আকাশের পানে চেয়ে আছে।
কোনো কিছুই বলছে না।মাঝে মাঝে বাসার ভিতর এসে দু একজন খোজ খবর নিয়ে যাচ্ছে।
তারপর আবার নিরবতা বিরাজ করতে থাকে চারদিকে।আযিয ছদ্মবেশী অরুপ, আশেপাশে বার বার তাকাচ্ছে সে শুধু সময়ের অপেক্ষা করছে।যখন সবাই ঘুমিয়ে পরবে তখন তার আসল কাজ শুরু হবে।
এভাবে সময় তার নিজ গতিতে চলতে থাকে। রাত্রি ৯ টা বাজে,কিন্তু বেলাল সাহেবের কাছে সময় যেনো থমকে আছে।
সময়ের কথা তার মনেই নেই,তার মনে এখন অতিতের পুরোনো স্মৃতি ঘুরপাক খাচ্ছে।
কয়েকদিনে পুরো ফ্যামিলি এভাবে শুন্য হয়ে যাবে তা কল্পনাতেও ভাবেনি। বেলাল সাহেব
এক মনে নিরব হয়ে খুব গভীর চিন্তায় মগ্ন।
এক এক করে সবাই খু*ন হয়ে যাচ্ছে তার পরিবারের। মাত্র ৩ জন ছাড়া আর কেউ নেই।
এখন তার মৃত্যুর পালা তা খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই খুনি কে?আর কেনো খু*ন করছে?
কি উদ্দেশ্য তার?
কেনো জানি বেলালের মনের এক কোনে তার ভাইয়ের ছেলে আযিযের উপর সন্দেহ তৈরি হতে থাকে । 
মন বলছে আযিয নিজে খুনি, কারন বেশ কিছু জিনিষ লক্ষ করছে যা আযিযের থেকে আলাদা
ছোট্ট থেকে আযিযকে দেখে আসছে, কিন্তু কয়েকদিনের আযিয আর আগের আযিযের অনেক অমিল খুজে পেয়েছে।
প্রধানত তার চোখ কেমন জানি আযিযের চোখের মতো দেখায়না !
আর আযিযের ভাবভঙ্গি অন্যরকম, বেলাল সাহেব বেশ কিছুক্ষণ আযিযের দিকে তাকিয়ে তার সবকিছু নজরে আনলো তার চোখে অনেক কিছু অদ্ভুত লাগলো।কেমন জানি টেনশন  লাগছে আযিযকে ,আর কপালে ঘাম জমে যাচ্ছে অবিরাম।কোনো কিছু অপেক্ষা করছে যে তা তার মুখের ভাব স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে।
সবকিছু মিলিয়ে সন্দেহভাজন মনে হচ্ছে খুব,দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তারি পেশায় আছে
আর তাই মানুষের এরকম পরিবর্তন খুব ভালো করেই বুঝতে পারে।
এখন এসব কেনো ভাবছে তা নিজেও জানে না।
আর না ভেবে উপাই কি,বাচঁতে কে না চায়?
বেলাল সাহেব মনকে স্থির করে একটা উপাই বের করে।
বেলাল এটা বুঝতে পারে যে খুনি যাই হোক খুন করতে তো আসবেই, আর তাকে খুন করতে গেলে তার ঘরে প্রবেশ করতেই হবে।
তাই মনে মনে একটা ছক কষে নেয়। তারপর নিজের ঘরে প্রবেশ করে একটা ফাদ তৈরি করে
রুমে আসলেই আটকা পরবে এমন একটা ফাদ তৈরি করে।
যাক এখন মনে মনে অনেক শান্তি পাচ্ছে।
কিন্তু আবার ভয় হচ্ছে মিযানকে নিয়ে কারন যদি খুনি তার ফাদ থেকে মুক্ত হয়ে যায় তখন তো মিযানকে আর বাঁচানো সম্ভব না।
তাই বেলাল সাহেব ভাবে মিযানকে অন্যের বাড়ি নিয়ে যাওয়া ভালো অনেক মানুষ থাকবে, সেখানে মিযানকে খুন করা সম্ভব হবে না।
এই ভেবে মিযানকে মিতুর বাড়ি নিয়ে যায়।
মিতুর বাড়িতে রেখে নিজের রুমে এসে শুয়ে পরে বেলাল সাহেব।
আজ তার খেতে ভালো লাগছে না তাই কোনোকিছু খেলো না।
যদিও খেতে বলছে মিতুর আম্মু, কিন্তু সে আর খায়নি।
ঘরে এসে শুয়ে পরে এতক্ষণ মিযানের কথা ভাবতে ভাবতে আযিযের কথা ভুলেই গেছিলো। যখন আযিযের কথা মনে হলো।
তখন বারান্দায় এসে দেখে আযিয নেই, কোথায় গেছে?
আযিয তো কখনো এভাবে হুট করে চলে যায় না।
এখন তো পুরোপুরি সন্দেহ হয় আযিযের উপরেই।বিছানায় এসে শুয়ে শুয়ে আযিযের কথায় ভাবছে, তাহলে কি আযিয খুনি? আর এসব খুন আযিয খুন করেছে?
কিন্তু আযিয কেনো খুন করবে?
তার খুন করে লাভ কি নিজের ফ্যামিলিকে কেনো খুন করবে সে?
নিজের বাবা মা কে কেউ এভাবে খুন করতে পারবে?
না কিছুই ভাবতে পারছে না আজ আর ঘুম ধরবে না। বার বার চোখ বন্ধ করছে আর চোখ খুলছে
এদিকে আযিয রুপি অরূপ
তার মুখোস খুলে ফেলে হিংস্র সত্তাকে বেরিয়ে নিয়ে আসে
.
সঙ্গে নেয় হাতুরি, ধারালো অস্ত্র তলোয়ার।
আর অজ্ঞান হওয়ার স্প্রে
অরূপ এখন যাচ্ছে মিতুদের বাড়ি
অরূপ খুব ভালো করেই জানে মিতুর বাড়ি যখন মিযানকে রেখেছে তাহলে মিতুর সাথেই ঘুমিয়েছে, কারন মিতু আর তন্ময়া দুজনেই সমবয়সী তাই মিতুকে নিজের বোনের মতো ভেবে তার কাছে শুয়ে পরবে এটাই স্বাভাবিক
তাই আজ ২ জনকে খুন করতে হবে ১ মিতু ২ মিযান।
যখন সবাই ঘুমিয়ে পরেছে, তখন আলতো পায়ে মিতুদের বাসায় যায় অরূপ।
বাসায় প্রবেশ করেই দেখে একটা ঘরের দরজা খোলা। আর বাহিরে মিযানের সেন্ডেল রেখে দেওয়া। এই রুমেই দুজন শুয়ে আছে তা নিশ্চিত। কিন্তু দরজা খুলে রেখেছে কেনো তা বুঝতে পারেনি।
আর বেশি বুঝার ইচ্ছাও নাই,তার শুধু খুন করা নিয়ে কথা ।
আজ সবাইকে খুন করে এই গ্রাম থেকে বিদায় জানানোর সময় হয়ে গেছে।
চারদিকে ভালো করে তাকিয়ে ঘরের ভিতর প্রবেশ করে তারপর মাক্স পরে নেয়।
কারন অজ্ঞান হওয়ার স্প্রে যখন মিযানের মুখের সামনে ধরবে তখন পুরো বাতাসে সে অক্সিজেন মিশে যাবে আর আশেপাশে বেশ কিছু জায়গা তার প্রভাব থাকবে।
একসাথে অনেকগুলাকে অজ্ঞান করার জন্য এটা আবিষ্কার হয়েছে।
প্রথমে ভাবলো অজ্ঞান করে খুন করবে কিন্তু পরে ভাবলো না।
অজ্ঞান করে খুন করলে তো মজা পাওয়া যাবে না।এর চেয়ে জীবন্ত অবস্থায় খুন করা বেশি তৃপ্তি পাবে, এটা ভেবে হাতে তলোয়ার তুলে নিয়ে এক কোপে মিতু আর মিযানের মা*থা শরীর থেকে আলাদা করে দেয়।
মুহুর্তেই ছটফটানি শুরু হয় পুরো দেহে।
চারদিকে রক্ত গড়িয়ে পরতে থাকে বিছানা লাল রক্তে রাজ্ঞিয়ে যায়।
দুজনেই নিজেদের দেহকে ছটফট করতে করতে মাটিতে পরে যায় কিন্তু তাদের ছটফটানি থামে না।
আরূপ খুশি হলেও অতোটা খুশি হয়নি। কারন তার ইচ্ছামতো খুন করতে পারেনি।তার মনের ইচ্ছাগুলো মনেই রয়ে গেলো।
এখন সব ইচ্ছা পুরন করতে হবে বেলাল সাহেবের লাশের সাথে।
তাছারা আর উপাই নেই।
এখানে মিযানকে শুধু তার বুকে একটা আঘাত করে বুক আর শরীর আলাদা করে আরো এক খন্ড করে।
আর মিতুর পায়ের রগ কেটে দেয় 
এতে করে রক্তক্ষরণ বেশি হয়।
অরূপ আর অপেক্ষা না করে হন হন হাটতে শুরু করে বেলাল সাহেবের ঘরের দিকে।
তাকে খুন করবে নিজের ইচ্ছা মতো।
বেলাল সাহেবের ঘরে প্রবেশ করতেই একটা সূচের মতো কি যেনো এসে ঘারে এসে আঘাত করে। আর সাথে সাথে মাটিতে পরে যায় অরূপ
পুরো মুখে রক্ত মেখে আছে।
বেলাল বার বার চোখ খুলছিলো আর বন্ধ করছিলো। 
অরূপকে  এভাবে দেখে থ হয়ে যায় বেলাল সাহেব,
নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতেই পারছে না। কিছুদিন আগে অরূপ কে নিজ হাতে মাটি দিয়েছে। তাহলে এখন কোথা থেকে অরূপ আসলো।
আর তার মুখে রক্ত লেগে আছে কেনো?

বেলাল সাহেবের মাথা সম্পূর্ণ ভাবে অকেজো হতে থাকে,কোনোকিছু নিয়ে ভাবতে পারে না।
তার মাথায় নতুন প্রশ্ন উদয় হয় আযিয কোথায়?
আর অরূপের মুখে কার রক্ত লেগে আছে?
মিযানকে খুন করেনিতো আবার
আর ৭/৫ না ভেবে বিছানা থেকে নেমে বাইরের দিকে ছুটতে যাবে তখনি দরজা দিয়ে কেউ ভিতরে প্রবেশ করে।
মুখের দিকে তাকাতেই চমকে যায়।
আরে অরূপ
মাটিতে পরে আছে এক অরূপ আবার আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরো একজন যা দেখতে অবিকল অরূপের মতো।
কি হচ্ছে আর কি হতে চলেছে কিছুই বুঝতে পারছে না।
এমন পরিস্থিতি মুখোমুখি পরে হতভম্ব হয়ে গেছে।
অরূপ কিছুক্ষণ বেলাল সাহেবের দিকে তাকিয়ে থাকে  তারপর মুচকি হেসে বলে &quot;কি ডাক্তার সাহেব কই যাচ্ছেন।
মিযান তো  উপরে চলে গেছে।আর এখন আপনার পালা &quot;
এই বলে মুচকি একটা হাসি দেয়।
বেলাল সাহেবের ঠোট কাপতে কাপতে বলতে থাকে &quot;কে তুমি?আর কি চাও?&quot;
---&quot;রক্ত চাই রক্ত&quot;এই বলে দুইটা ধারালো অস্ত্র চালান করে দেয় বেলাল সাহেবের চোখ বরাবর
বেলাল সাহেব চিৎকার করে দুই হাত দিয়ে চোখ চেপে ধরে। আর তখনি অরূপ আরো একটা ধারালো চৌকা জাতীয় সূচ মুখের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়।
.
চিৎকার করতে পারে না মুখ নরাতেই পারে না।
শুধু যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়।
তারপর অরূপ বেলাল সাহেবকে ধাক্কা মেরে মাটিতে শুয়ে ফেলে।
আর পায়ে অনেক বড় ধারালো সুচ পায়ের। এদিক থেকে ওদিক বের করে দিতে থাকে।
যদিও সহজে শরীরে এদিক থেকে ওদিক বের করা যায় না।তার জন্য হাতুরি ব্যবহার করে।
আর পুরো শরীর জুরে এক ইঞ্চি পর পর বড় বড় ধারালো সুচগুলো শরীরে ঢুকিয়ে দেয়।
পুরো শরীর রক্তে ভেসে যেতে থাকে, আর সেই সাথে গোঙ্গানি আওয়াজ বের হতে থাকে বেলালের মুখ থেকে।
বেলাল চাইছে এই মুহুর্ত পুরো শরীর মোচরাতে কিন্তু পারছেনা।
এই সুচগুলো তাকে মাটির সাথে লেপ্টে রেখেছে।
এভাবে সুচ ফুটিয়ে দিতে দিতে যখন সর্ব অঙ্গ এমনকি হাতের নখ পর্যন্ত দেওয়া শেষ হয়ে গেলো। শুধু মাথা টুকু বাকি।
তখন অরূপ ভেবে পাচ্ছে না কিভাবে মাথাটাকে যন্ত্রণা দেওয়া যায়।
কিভাবে আরো বেশি কষ্ট দেওয়া যায়!
৫ মিনিট চুপ করে থেকে ভাবতে থাকে, তারপর একটা বাটাল কোথা থেকে জানি ম্যানেজ করে নিয়ে এসে কপালে আঘাত করে।
আর যখনি মাথায় আঘাত করেছে তখন শরীর সব ব্যাথার চেয়ে এ ব্যাথা বেশি কষ্টদায়ক মনে হয়েছে বেলাল সাহেবের কাছে।
সবগুলো সূচ নিয়ে পুরো শরীর উলটা দিকে মোচড় দেয়।
এতে তার ব্যাথা আরো বারে।এবার উবু হয়ে পরে। যার ফলে সুচগুলো আরো গভীরে যেতে থাকে।
আর অরূপ আরো সুযোগ পেয়ে যায় মাথার খুলির পিছনের অংশ আঘাত করে।
বেলাল নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না।
খুব জোরে একটা গোঙ্গানি দিয়ে চিরতরে বিদায় জানায় এ শরীরকে
রুহ শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়।
কিন্তু অরূপের নেশা কমেনি এখনো তাই সে সমান তালে আঘাত করতেই থাকে, করতেই থাকে।
শেষমেশ খুলি ভেঙ্গেই ফেলে আর মগজ বের করে তা নিজ হাতে নাড়াচাড়া করে।
চোখের সামনে নিয়ে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে মগজের দিকে।
সময়ের কথা ভুলেই গিয়েছিলো এতক্ষনে।
হঠাৎ হাত ঘড়িটার উপর নজর পরাতে সময়ের কথা মনে হলো।
।
ঘড়িটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে নিজেই বলতে থাকে নাহ আর বেশি দেড়ি করা ঠিক হবে না।
মগজটা একটা ব্যাগে নিয়ে। অজ্ঞান হয়ে থাকে অরূপের কাছে গিয়ে তাকে আযিযের মুখোশ পরিয়ে দিয়ে।
বাসা থেকে বের হয়ে যায়।
***পরেরদিন সকালে***
শার্ট টাই নীল, এশ কালারের কোর্ট আর নৌ বাহিনীর বেশ কয়েকটা ব্যাচ বুকে ঝুলিয়ে হাটতে থাকে নতুন গন্তব্য
নতুন পরিচয়ে নতুন ভাবে খুন করে তার রক্তের পিপাসা মিটাবে।
তাকে দেখে কেউ বুঝতেই পারবে না, গত রাতে বিভৎস খুন করেছে।
নকল দাড়ি আর মোটা কালো ফ্রেমের চশমা ব্যাচে নেমপ্লেটে নতুন নাম মোঃ জায়ান ইসলাম
নতুন নাম নতুন চেহারা
সকালে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করছে, বাস আসতে খুব বেশি সময় লাগলো না।
যথাসময়ে বাস এসে হাজির হয়ে গেলো।
কোথায় যাচ্ছে তা অরূপ ছদ্মবেশী মোঃ জায়ান ইসলাম ছাড়া আর কেউ জানে না।
তবে এবার আবার যে খুনের সাগর বইতে যাচ্ছে তা নিশ্চিত।
বাসে উঠে পেপার বিক্রি করতে এক বাচ্চা বাসে উঠে  সেখান থেকে পেপার কিনে প্রথম পাতা। খুলতেই দেখে খুব সুন্দর একটি জায়গা।
চারদিকে অনেক গাছপালা আর সবুজের সমরহ
মনে মনে ভাবে এবার এই জায়গাটাকে শ্মশান করার দায়িত্ব তার। এই বলে মুখের কোনে মুচকি হাসি দিয়ে পেপারটা ভাজ করে জানালা দিয়ে প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে থাকে।
শুরু হবে আবার রক্ত খেলা, নতুন নামে নতুন পরিচয়ে।
সমাপ্তি
(আগেই বলছি অমিমাংসিত গল্প তাই অনেক রহস্য রয়েই গিয়েছে। আশা করি #unsolved_অরূপ ২ গল্পে সব রহস্য সমাধান করবো)
ততক্ষণ সুস্থ থাকু সুন্দর থাকুন এই কামনায় বিদায়
আল্লাহ হাফেজ
 #লেখা_উইনমি</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/241729/</link>
				<pubDate>Sun, 29 Mar 2026 17:01:05 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>#unsolved_অরূপ(৫)<br />
 <a href="https://toulot.com/n_astream/?s=%23শ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#শ</a>েষ_পর্ব★<br />
আযিয মনে মনে রাতের অপেক্ষায় করছে।<br />
রাত হলেই শুরু হবে তার মৃত্যুর খেলা,<br />
আর রক্ত, অরূপ নামে হিংস্র সত্তা বেরিয়ে আসবে রাতে।<br />
আজ রাতে মনের মতো খু*ন করবে, দুজনকে।<br />
মিযানের চোখ তুলে ফেলে তার চোখের ফাকা অংশে, মাছ ধরা হুক লাগিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে দিবে।পায়ের আঙ্গুল কেটে ফেলে একটা করে সূচ ঢুকিয়ে রাখবে। এরকম অনেক কিছু ম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-241729"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/241729/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">865fedf6fd89705251d4ee1f2b8900ac</guid>
				<title>#Unsolved_অরূপ★ (৪)
তন্ময়ার ঘুম ভেঙ্গে  যাওয়া দেখে, অরূপ একটুও বিচলিত হয় না।
বরং খুশি হয়।  চোখ খুলা মাত্র অরূপ নেমে যায়। কিন্তু একটা মেশিন তার বুকের উপর আটকে দেয়।
আর সাথে সাথে মেশিনটি চালু হয়।
একটা ধারালো চাকু ঘুরতে ঘুরতে তন্ময়া বুক চিরে ফেলে।তার পর অরূপ হাত দিয়ে ফুসফুস বের করে নেয়।রক্তমাখা ফুসফুস হাতে নিয়ে হাটতে শুরু করে।
ফুসফুসের গরম রক্ত চুইয়ে চুইয়ে মাটিতে পরতে থাকে।আর অরূপের পুরো হাত রক্তে ভেজা,
এতো গরম রক্ত স্পর্শ করতে পেরে অনেক ভালই লাগছে তার।কিন্তু সে অন্যভাবে মারতে চাইছিলো।
আরো অনেক কষ্ট দিয়ে মারতে চাইছিলো
কপালে তা আর হলোনা।
তবে এখনো কয়েকজন সদস্য, এ বাড়ির বেঁচে আছে, তাদেরকে খুন করবে মনের আয়েশ মিটিয়ে নিবে। কাউকে বাঁচতে দিবে না।
সবাই একসাথে কবরে শুয়ে থাকবে আর দূর থেকে সে দেখবে।
যতবার দেখবে ততবার অজানা ভালো লাগা কাজ করবে মনের ভিতর।
অরূপ হাটছে তার গন্তব্যস্থানের দিকে,সে ভাবছে সবাই এখন ঘুমিয়ে আছে।
হঠাৎ পিছন থেকে একটা শব্দ ভেসে আছে &quot;রক্ত&quot;
এটুকু বলেই চুপ হয়ে যায়।
অরূপ পিছন দিকে ঘুরে দেখে হেলাল সাহেব দাঁড়িয়ে আছে।
ঠোটগুলো কাপছে তার, আর এভাবে রক্তমাখা হাতে ফুসফুস দেখতে পেরে হঠাৎ মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে এ কথা।
হেলাল সাহেব যখন দেখতে পেলো রক্ত মাখা হাতে অরূপ দাঁড়িয়ে আছে।
তখন আর কিছু ভাবতে পারলো না।
ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।
অরূপ তো মহা খুশি আজ আরো একটা খুন করতে পারবে।আর যত খুন তত খুশি তার মন।
কিন্তু এভাবে অপ্রস্তুতভাবে খুন করতে তার ভালো লাগছে না।
এখন পকেটে একটা সুচ নাই তার ইচ্ছা ছিলো।
সম্পুর্ণ শরীর সুচ ফুটিয়ে রাখবে।
জিহবা বের করে সেখানেও সুচ ফুটিয়ে দিবে।
সেই সুচ দিয়ে রক্ত অবিরাম ঝরবে এরকম পরিস্থিতে লাশ ঝুলিয়ে থাকবে কোনো গাছের ডালে।
টুপ টুপ করে রক্ত মাটিতে পরবে।
আর সেই রক্ত মাথায় নিয়ে মাথা লাল করে ফেলবে রক্ত দিয়ে।এমন ইচ্ছা ছিলো তার।
কিন্তু কপাল দেখো আজ হুট করে খুন করতে হচ্ছে।
কিভাবে খুন করবে এটাই ভাবছে দাঁড়িয়ে থেকে। নাহ তার মনের মতো কিছুই পাচ্ছে না।
শেষে অজ্ঞান অবস্থায় হেলাল মিয়াকে বাসা থেকে বের করে। একটা বাশ বাগানে টেনে নিয়ে যায়।
বাশ বাগানে একটা বাশ অনেক কষ্টে কাত করে রশি দিয়ে মাটির কাছাকাছি আটকে রাখে।
তারপর পকেট থেকে চাকু বের করে অজ্ঞান অবস্থায় হেলালের পেট কেটে ফেলে, আর পেটের নাড়িভুঁড়ি সব বের করে।
&#039;উফ গরম রক্ত&#039; রক্ত ছোয়া পেলেই আরো উম্মাদ হয়ে যায়।
কোনোকিছু আর ভাবতে পারে না।
খুব খেতে ইচ্ছে করে তার, কিন্তু এসব মানুষের খাওয়া উপোযোগি না। তাই নাকের কাছে এনে ঘ্রাণ নিয়ে আবার মাটিতে ছুরে দেয়।
এভাবে বেশ কিছুক্ষণ রক্ত আর লাশ নিয়ে সময় কাটানোর পর।
যে বাশ কাত করে মাটির সাথে আটকানো ছিলো তা  ছেরে দেয়,আর তাতেই বাশের আগালে ঝুলে পরে হেলাল। 
তার পাশেই নাড়িভুঁড়ি আর তন্ময়ার ফুসফুস ঝুলে দেয়।

এবার নিজেকে আড়াল করে নেয়।
আযিযের বেশে তার বাসা (কোয়ার্টার) চলে যায়।
রাত মানেই ভয়ংকর অরূপ আর দিনে পুলিশ অফিসার আযিয।
এই ভাবে আপাতত জীবন গুছিয়ে নিয়েছে কয়েকটা দিনের জন্য।
বিজ্ঞান উন্নত হওয়ার ফলে তার মুখে আযিযের মতো চামড়া, আর কন্ঠ পাল্টাতে কোনো সমস্যা হয় না।
আর তাকে কেউ বুঝতেও পারে না।
সম্পুর্ণ অন্য এক আযিয। আজ পর্যন্ত কেউ জানতে পারেনি,আযিযের আসল রুপ।
যদিও আযিয হওয়ার ইচ্ছা ছিলো না।
কিন্তু হেলালের ফ্যামিলি খুন করার জন্য,কিছুদিন এ আযিয পরিচয়ে থাকতে হবে।
বাসায় গিয়ে নিজেকে ফ্রেস করে লম্বা একটা ঘুম দেয়।
আজ তার খুব আনন্দ হচ্ছে।ঘুম ভাঙ্গে ফোনের রিংটোনের শব্দে
ঘুম ঘুম ভাবে ফোনটা কানে নিয়ে বলে &quot;হ্যালো&quot;
তারপর ফোনের ওপাশে কি যেনো শুনে চমকে যায় সে
আর বিছানা থেকা উঠে বসে পরে আর বলে
&quot;কিভাবে সম্ভব &quot;
তারপর ফোনটা কেটে দিয়ে তড়িঘড়ি করে রেডি হয়ে আযিয বাইক নিয়ে বেড়িয়ে পরে।
বাইকের গতি ছারিয়েছে ঘন্টায় ১০০ + কিন্তু সেদিকে কোনো হুশ নেই।
বাইক এসে দাড় করায় তার বাড়ির সামনে তারপর ছুটে যায়, বাশবাগানের দিকে। সেখানে হেলাল সাহেবকে বাশের উপরে ঝুলে থাকতে দেখে।
চিৎকার দিয়ে উঠে বাবা বলে। তারপর আর কথা বলতে পারে না।
ঠোট কাপতে শুরু করে।দুচোখের কোনা দিয়ে জল গরতে শুরু করে।
কিন্তু মনে মনে খুশি সে।এটা তো লোক দেখানো তাই এতো নাটক করতে হচ্ছে।
বাশ বাগানে মাটিতে বসে পরে আর অপলক দৃষ্টি বাবার ঝুলানো লাশ দেখতে থাকে
সবাই লাশ কি দেখবে,আযিযের চোখের জল দেখছে।
হঠাৎ আযিযের মনে পরে তন্ময়ার কথা,তন্ম তন্ম বলে একটু উচু স্বরে ডাকতে থাকে।
কিন্তু এ কথা যেনো কেউ শুনেনি এমন আচরণ করে সবাই।
অরূপ তো খুব ভালো করেই জানে তন্ময়া এখন চির নিদ্রায় কিন্তু আযিয ছদ্মবেশ ধারন করা তা তাকে এমন আচরণ করতে হচ্ছে।
বাশ বাগান থেকে ধিরে ধিরে বাসায় আসে।তারপর তন্ময়ার রুমের দিকে যেতে থাকে।
তন্ময়ার রুমে গিয়ে দেখে একটা রক্তাক্ত চাদর আর রক্তাক্ত শরীর বিছানার উপর শুয়ে আছে।
কেউ মাথা পর্যন্ত চাদর দিয়ে ঢেকে রেখেছে অরূপ আর কাছে যায়নি।
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে একভাবে দেখছে সেই রক্তাক্ত বিছানা।
অরুপের পরিকল্পনা অনুযায়ি এখন তার মা কে খুন করবে।
আর এখন খুন না করলে সে হয়তো ধরা পরবে।
তাই সব ব্যববস্থা করেই এসেছে।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পাশের ঘরে প্রবেশ করে সেখানে দেখে অনেক মহিলা এক সাথে বসে মোমেনা বেগমের মাথায় পানি ঢালছে।
আর নানান বিষয় কথা বলছে।
খুব ধিরে ধিরে বলছে।
আযিযকে আসতে দেখে সবাই চুপ হয়ে একজন মাথায় পানি ঢালতে থাকে।
স্বামী আর মেয়ের লাশ এভাবে দেখে মোমেনা বেগম নিজেকে ঠিক রাখতে পারেনি।
আযিয মায়ের কাছে গিয়ে হাত দিয়ে তার 
মায়ের ঘন চুলে হাত বুলাতে থাকে। আর &quot;মা মা&quot; বলে করুন স্বরে ডাকতে থাকে।
যখন কোনো সারা পায় না তখন চলে আসে বাইরে।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকে আকাশ দেখে
যদিও সে আকাশ দেখছে না অপেক্ষা করছে ১০ মিনিটের তারপর তার মা মারা যাবে।
এমনটাই ব্যবস্থা করেছে।
তার মাকে খুন এখন করতে চায়নি কিন্তু আযিয ছদ্মবেশ অরূপ খুব ভালো করেই জানে
মা তার সন্তানকে কখনো ভুল চিনতে পারে না।
খুব সহজেই বুঝে যাবে এটা তার আযিয না।
আযিয নামে অন্য কেউ,আর অরূপ ধরা পরতে চায় না।
তাই তার মায়ের চুলে হাত বুলানোর সময় একটা ছোটো ধারালো চিপ মাথার চামড়ার সাথে আটকে দেয়।
১০ মিনিট পর ঐ চিপ থেকে হাই ভোল্টেজ বিদ্যুৎ বের হবে।
আর হঠাৎ করে অনেক বিদ্যুৎ ব্রেনে আঘাত পাওয়াতে, ব্রেন অকেজো হয়ে যাবে।
 তাতে নিশ্বাস নেওয়া সম্পুর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
ফুসফুস বন্ধ হয়ে যাবে।
ব্রেন কোনোকিছু আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
সম্পুর্ণ অকেজো হয়ে যায় শেষমেশ হার্ট এটাক নামে মৃত্যু হয়।
সব হবে একটু পরে।
হাত ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে সময় দেখছে,প্রত্যেকটা মিনিট তার কাছে অনেক সময় মনে হতে থাকে।
এর মাঝে কিছু পুলিশ এসে লাশ নামাতে থাকে
আযিযকে দেখে কয়েক জন কাছে আসতে থাকে শান্তনা দেওয়ার জন্য,
হঠাৎ ঘরের ভিতর থেকে চিৎকার শুনতে পেরে সবাই ঘরে যায়, আর দেখে মোমেনা বেগম ছোটফট করছে কখনো মাথায়, আবার কখনো বুকে হাত দিচ্ছে।
চোখগুলো উলটে গেছে।
মাথার চুল টেনে ছিরতে থাকে,
আযিয কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে থাকে
&quot; মা মা কি হয়েছে তুমি এমন করছা কেন?
মাথায় হাত বুলানোর ফাকে চিপ সরিয়ে নেয়
আরো একটা রহস্যময় খুন, কেনো এমন আচরণ করলো, মাথার চুল টানাটানি করার মানে কি?
এরকম হাজার প্রশ্ন সবাই আপন করতে থাকে
প্রশ্নের শেষ নেই
আযিয মনে মনে এখন অনেক খুশি
আজ রাতে কয়েকজনকে খুন করলে তার কাজ শেষ,পুলিশ ৩ টা লাশ ময়না তদন্তে নিয়ে যায়
আশেপাশে মানুষের ভির কমে যেতে থাকে
দিনশেষে রাত নেমে আসে।
মিযান বেলাল সাহেব এই দুই জন ছাড়া আর কেউ থাকে না পুরো বাসা জুরে,
আর আযিয মনে মনে রাতের অপেক্ষায় করছে।
রাত হলেই শুরু হবে তার মৃত্যুর খেলা
আর রক্ত, অরূপ নামে হিংস্র সত্তা বেরিয়ে আসবে রাতে।
আজ রাতে মনের মতো খুন করবে,দুজনকে।
মিযানের চোখ তুলে ফেলে তার চোখের ফাকা অংশে মাছ ধরা হুক লাগিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে দিয়ে
পায়ের আঙ্গুল কেটে ফেলে একটা করে সুচ ঢুকিয়ে রাখবে এরকম অনেক কিছু মনে মনে ভেবে আছে।
আর বেলালকে সে আরো খারাপ ভাবে হত্যা করবে এতোটাই বিভৎস করবে তা ভাবতেই মন খুশিতে ভরে উঠে।
.
চলবে

  #উইনমি*</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/241028/</link>
				<pubDate>Thu, 26 Mar 2026 15:23:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>#Unsolved_অরূপ★ (৪)<br />
তন্ময়ার ঘুম ভেঙ্গে  যাওয়া দেখে, অরূপ একটুও বিচলিত হয় না।<br />
বরং খুশি হয়।  চোখ খুলা মাত্র অরূপ নেমে যায়। কিন্তু একটা মেশিন তার বুকের উপর আটকে দেয়।<br />
আর সাথে সাথে মেশিনটি চালু হয়।<br />
একটা ধারালো চাকু ঘুরতে ঘুরতে তন্ময়া বুক চিরে ফেলে।তার পর অরূপ হাত দিয়ে ফুসফুস বের করে নেয়।রক্তমাখা ফুসফুস হাতে নিয়ে হাটতে শুরু করে।<br />
ফুসফুসের গরম রক্ত চুইয়ে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-241028"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/241028/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9ae5a4cd346485e6503f0bd600c9bda6</guid>
				<title>#unsolved_অরূপ★ (৩)
এই বলে হাত তালি দেয় আযিয।
আর তখনি মুখে গম্ভির ভাব এনে বলে, &quot;এখন আমার পালা।&quot;
এই বলা মাত্র একটা রশি গাছের উপর থেকে নিচের দিকে পরে,আর সোজা অরূপের গলা পেঁচিয়ে যায়।
সাথে সাথে অরূপ ঝুলে যায় গাছের সাথে।
গলায় এতো জোরে চাপ দেয়াতে নিশ্বাস নিতে পারে না অরূপ,হাত দিয়ে এদিক ওদিক ছুড়াছুড়ি করে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে,
কিন্তু এতো টাইটভাবে গলায় রশি পেঁচিয়ে আছে যে, তা থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
 জোর করে নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না।
.
আযিয কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে অরূপের এমন আচরণ দেখে মুচকি হাসি দিতে থাকে,এ হাসি কোনো সাধারণ হাসি না।
এটা পৈশাচিক হাসি
খুন করার ভিতর যে আলাদা আনন্দ কাজ করে। তা এই হাসি দেখলেই বুঝা যায়।
অনেক্ষণ এভাবে হাসতে থাকে, তার হাসি যেনো থামতেই চাইছে না।
অনেক কষ্টে হাসিকে থামিয়ে বলতে শুরু করে।
&quot;আরে আরে অরূপ মহাশয় এবার থামুন, কেনো এতো নাটক করছেন ভাই,
আমি খুব ভালো করেই জানি। আপনি এতো সহজে মারা যাবেন না।
কারন নিশ্বাস বন্ধ করে ৩০ মিনিট অনায়াসে পারি দিতে পারেন, তা আমি ভালো করেই জানি।
আর এভাবে ঝুলে থাকার অভ্যাস আপনার আছে তাও জানি।
আপনি নিজেকে শক্ত করার জন্য অনেক মারাত্বক ট্রেনিং নিয়েছেন,যা আর্মিদেরকেও দেওয়া হয়নি।
আপনি আমার সামনে মৃত অবস্থায় থাকবেন আর আমি ভাববো মারা গেছে, এটা ভেবে চলে যাবো তখনি আপনার হাতে থাকা হাত ঘড়িটার থেকে ধারালো ব্লেড বের করে রশি কেটে নিজেকে মুক্ত করবেন,এটাই তো আপনার প্লান তাই না?&quot;
অরূপ এসব শুনে আর হাত পা ছুড়াছুঁড়ি করে না,কারন যা বলছে সব সত্যি বলছে কিন্তু এ কে?
যে আমার বিষয়ে এতো কিছু জানে।
পরাজিত সৈনিকের মতো মাথা নিচু করে আযিযের কথা শুনার জন্য অপেক্ষা করছে।
আযিয কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলতে শুরু করে, &quot;মিস্টার অরূপ এভাবে নিজের পরিচয় অন্যের মুখে শুনতে কেমন লাগছে আপনার?
আপনাকে আমি খুব ভালো করেই চিনি,তাই আপনার মৃত্যুর ব্যবস্থা আমি নিজ হাতে করবো।
আমি আপনাকে অনেক আগে থেকেই চিনি অরূপ সাহেব অরফে অরূ
এখন কি মনে পরছে আমাকে অরূ
নাকি এই নাম মুছে ফেলেছো তাই আমার কথা কিংবা ওর কথা সব ভুলে গেছো।
অরূ
যদি ভুলে যায়,তাহলে আমি মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো না।
যাইহোক আমি ভুলিনি সে দিনের কথা।
সেই সিলেটে চা বাগানে কাটানো এক দিন আমার আজীবন মনে থাকবে।
জানো সেদিনের পর আমি অনেক রাত ঘুমোতে পারিনি,আর এর কারন শুধু তুমি
আমার ভিতর যে হিংস্র শয়তান আজ দেখছো তা শুধু মাত্র তোমার জন্য।
সেদিনের পর আমি সম্পুর্ণ ভেঙ্গে পরি, বাসা থেকে বের হইনা কয়েক মাস।দিনের আলো ভালো লাগেনা।অন্ধকারে থাকতে পছন্দ করতাম। তারপর ভাবলাম কেনো নিজেকে কষ্ট দিয়ে এভাবে শেষ করবো।
এর চেয়ে তোমাকে শেষ করলে তো অনেকটা শান্তি পাবো।
এটা ভেবে আমি আবার পুলিশের চাকরিতে ফিরে আসি।উদ্দেশ্য একটাই ছিলো তোমাকে শেষ করে দেওয়া।
যে কোনো মূল্যে তোমায় খুন করা।আজ আমার উদ্দেশ্য পূরণ  হবে।আজ আমি শান্তিতে ঘুমোতে পারবো।পুলিশের চাকরি ফিরে আসার পর যখন তোমাকে পাগলের মতো খুজে যাচ্ছিলাম। তখন হঠাৎ একটা বাস দুর্ঘটনা কথা কানে আসে,অদ্ভুত ভাবে এক্সিডেন্ট হয়েছে।
ফাকা রাস্তায় দিনের বেলা এমনি এমনি বাস উলটে পরে গেছে।
অনেকেই ড্রাইভারের গাফিলতি বলে থাকলেউ, আমি এর ভিতর রহস্য খুজে পাইছিলাম।
তাই নিজেই নেমে পরি আসল রহস্য উদঘাটন করতে।
হাসপাতাল আর মর্গে গিয়ে সবার বিষয়ে জানতে শুরু করি, আর সবার পরিচয় জোগার করে একটা ফাইল তৈরি করি আর সেই ফাইলে একটা পরিচয় মিসিং।
বাসের একজনকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।তার লাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
তাই আমি সেই জায়গা আসলাম যেখানে বাস এক্সিডেন্ট হয়েছে
আর সেখান থেকে জানতে পারি একজনকে আমার বাসায় নিয়ে গিয়েছে আব্বু।
পুরো ঘটনা শুনে ভাবলাম বাসায় পরে যাবো আগে ড্রাইভারের ময়না তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে দেখি আসল ঘটনা কি হতে পারে।
ময়না তদন্ত রিপোর্ট যখন হাতে আসে তখন থমকে যাই কারন রিপোর্ট লেখা আছে কেউ তার গলায় ছোটো সুচের মতো একটা চিপ ঢুকিয়ে দিয়েছে।
আমার তখনি সন্দেহ হলো, এটা তুমি হতে পারো মন তাই বলছে বার বার
তাই নিজেই সেই চিপ দেখতে যাই আর পুরো বিস্তারিত শুনে আমি বুঝতে বাকি নেই।
এটা তুমি ছাড়া আর কেউ না।
এতো ছোটো চিপ আর কেউ বানাতে পারে না।
এই চিপের প্রধান কাজ হলো মানুষের রক্তে এক ধরনের উত্তাপ সৃষ্টি করা, আর সেই উত্তাপ রক্ত যখন মস্তিষ্ক যায় তখন পুরো ব্রেন হ্যাং হয়ে যায়
আর তখনি ঘটে এ দুর্ঘটনা।
আমি এখন পরিষ্কার বুঝতে পারি এটা তোমার কাজ,কারন এর আগেও আমি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি।
তখনি আমার মনে ভয় কাজ করতে শুরু করে।
তাই আমি জানি খুন তুমি করবেই,কারন তুমি খুন ছাড়া থাকতে পারো না।
মনে মনে এই ভয়টা ছিলো যে তুমি কাকে খুন করবা?
কাকে খুন করবা?
আর তুমি যে সব খুন বিভৎস্য ভাবে করবা তা খুব ভালো করেই জানতাম।
কিন্তু আফসোস এতো কিছু জানার পরে ২ জনকে অকালে প্রান দিতে হলো।আমি কিছুই করতে পারলাম না।
জানো আমি যখন জানতে পারি তুমি আছো এখানে, ছুটে আসি ভাবছিলাম তোমাকে জেলখানা নিয়ে যাবো, কিন্তু এসে দেখি তুমি তোমার কাজ শুরু করে দিয়েছো।
আজ রাতে খুন করবা তাও জানতাম তাই তো তোমায় চোখে চোখে রাখছিলাম, আর তুমি এখানে এসে সব দেখে যখন ফিরে গেছো তখনি বুঝতে পারি তুমি এখানেই আজ কাউকে মৃত্যুর সাধ গ্রহণ করাবা।
যদিও ২ টা প্রাণ গেছে কিন্তু তোমাকে যে ধরতে পেরেছি এটাই অনেক।
আজ তোমার খেল খতম অরূ&quot;
.
এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিলো অরূপ, নিজের হাত কে দড়ি দিয়ে ধরে উপরের দিকে কিছুটা দড়ি ধরে ঝুলতে থাকে।এতে করে গলায় চাপ পরে না। এক নিস্বাসে মিযান তার কথা শেষ করে।
কিছুটা নিশ্বাস নিতে থাকে খুব জোরে জোরে। আযিযকে থামতে দেখে অরূপ বলে &quot; শেষ হইছে তোমার কথা। তাহলে আমার কথা শুনো&quot;
এই বলে হাত ঘড়িটা থেকে একটা ব্লেড বের করে রশিতে আলতো চাপ দিতেই রশি কেটে নিচে পরে।
আর আযিযের পায়ে নিচ থেকে একটা রশি তাকে পা পেচিয়ে ধরে।
অরূপ নিজে যে রশিতে ঝুলেছিলো সে রশি আবার আযিযের গলায় পেঁচিয়ে দিয়ে ঝুলে দেয় আযিয কে।
সাধারণত বিছানায় শুয়ে থাকে যেমন ভাবে
তেমনভাবে শুন্যে শুয়ে থাকে 
অরুপ নিজেকে মুক্ত করে, কিছুক্ষণ আগে আযিয যেমনভাবে হাসছে অরুপ নিজেও তেমনভাবে হাসতে থাকে আর বলতে থাকে
&quot;আমি জানি তুমি আমার পিছু পিছু আসবা আর আমাকে ধরার চেষ্টা করবা?
তবে তুমি কে তা জানার জন্য আমি তোমাকে আঘাত করিনি। না হলে তোমাকে খুন করা খুব সহজ।
আচ্ছা একটা কথা বলোতো তুমি আমাকে চিনো,কিন্তু আমি তোমাকে চিনি না কেন?&quot;
আযিয কিছুই বলে না শুধু নিজেকে মুক্ত করার জন্য ২ হাত ব্যবহার করতাছে।
রশি খোলার চেষ্টা করতাছে।
অরূপ নিজে নিজেই বলে &quot;আচ্ছা থাক অতিতের কথা মনে করে কি লাভ,  যা হবার তাই হইছে।
বাদ ওসব কথা আপাতত অনেক কথা বলছা এখন টা টা&quot;
এই বলে হাত দিয়ে টা টা বলেতে বলতে 
চলে যায়।
আর কিছুদুর যাওয়ার পর আযিযের শরীরে উপর থেকে পলিথিনের ভিতর করে কি যেনো তার শরীরে এসে পরছে।
একটা পলিথিন মুখের উপর পরতেই বুঝতে পারে এটা অকটেন। 
বুঝতে আর বাকি নেই তার মৃত্যু আগুনে পুরে হতে চলেছে।
চিৎকার করে কিছু বলতে যাবে, তার আগেই একটা গ্যাস ম্যাচ ছুরে মারে আরূপ মুহুর্তেই দাউ দাউ করে জলে উঠে।
আগুনে জলতে শুরু করে পুলিশ অফিসার আযিয।
আর মৃত্যু কষ্ট সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করতে থাকে।
তার চিৎকারে আশেপাশে মানুষ শুনতে পেরে, পানি এনে আগুন নিভানোর চেষ্টা করে
কিন্তু ততক্ষনে আযিযের লাশ পুরে ঝলসে গেছে।
এমন ভাবে পুরছে শুধু কয়লা মনে হচ্ছে।
আর মুখ চিনা যাচ্ছিলো না
তাই এটা কার লাশ, কার চিৎকার শুনেছে তা কেউ বুঝতে পারছে না।
গ্রামে ২ টা ছেলে মিসিং ১ অরূপ ২ আযিয
এখন এটা অরুপের লাশ নাকি আযিযের তা বলা মুশকিল তাই জানাজা করতেও পারছে না।
সবশেষে ধরেই নিলো ওটা আযিযের লাশ।
কারন আযিযের বন্দুক পাওয়া যায় ওখানে যা আগুনে পুরেনি।
আর লাশের যে অবস্থা তা থেকে খুনি নিজে আযিযকে খুন করেছে,আর শরীরের কিছু অংশ ল্যাবে দিয়েছে সেখান থেকে DNA. রিপোর্ট বের করার জন্য।
তাহলে বুঝা যাবে কার লাশ এটা।
লাশের সব কাজ সম্পন্ন করে মাটি দিচ্ছে তখনি ২ টা হাত দেখে সবাই অবাক হয়ে যায়
আরে এটা তো আযিয!
সবাই দেখছে আযিয বেঁচে আছে। আর হাত ভর্তি মাটি তুলে নিয়ে কবরে দিচ্ছে।
তারমানে এতক্ষণ যা ভাবা হয়েছে তা সব ভুল।
রাতে আযিয না অরূপ খুন হয়েছে।
কিছুক্ষন পর সবাই মাটি দিয়ে এসে, যে যার কাজে গিয়েছে তখনি  সরকারি গাড়ি করে একটা লোক এসে DNA রিপোর্ট দিয়ে যায়।
আর তাতে অরূপের DNA  স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।
সবাই এখন শিওর ঐ লাশটা অরুপের
.
তারপর বেশ কিছুদিন আর কোনো লাশ পাওয়া যায়নি।
সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলতে থাকে।
একরাতে তন্ময়া ঘুমিয়ে ছিলো, হঠাৎ সে অনুভব করলো তার বুকের উপর কেউ যেনো বসে আছে।
চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে।
অরুপ তার বুকের উপর বসে কি একটা মেশিন ফুসফুসের উপর লাগাচ্ছে
তন্ময়াকে জাগতে পাওয়া দেখে, অরূপ একটুও বিচলিত হয় না।
বরং খুশি হয় চোখ খুলা মাত্র আরূপ নেমে যায় কিন্তু একটা মেশিন তার বুকের উপর আটকে দেয় আর সাথে সাথে মেশিনটি চালু হয়।
একটা ধারালো চাকু ঘুরতে ঘুরতে তন্ময়া বুক চিরে ফেলে।
তার পর অরূপ হাত দিয়ে ফুসফুস বের করে নেয়।
.
চলবে..

 #আমিন★</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/240744/</link>
				<pubDate>Wed, 25 Mar 2026 16:41:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>#unsolved_অরূপ★ (৩)<br />
এই বলে হাত তালি দেয় আযিয।<br />
আর তখনি মুখে গম্ভির ভাব এনে বলে, &#8220;এখন আমার পালা।&#8221;<br />
এই বলা মাত্র একটা রশি গাছের উপর থেকে নিচের দিকে পরে,আর সোজা অরূপের গলা পেঁচিয়ে যায়।<br />
সাথে সাথে অরূপ ঝুলে যায় গাছের সাথে।<br />
গলায় এতো জোরে চাপ দেয়াতে নিশ্বাস নিতে পারে না অরূপ,হাত দিয়ে এদিক ওদিক ছুড়াছুড়ি করে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে,<br />
কিন্তু এতো টাইট&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-240744"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/240744/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a356f0275ca99382b671795458a300be</guid>
				<title>#Unsolved_অরূপ★ (২)
.
অরূপের মন এখন কিছুটা শান্তি অনুভব করছে। সবার মুখে হালকা ভয়ের ছাপ ফুটে উঠেছে। আর তা দেখেই অরূপের হাসি পাচ্ছে।
কেউ ভয় পেলে তার অনেক ভালো লাগে।
মনে মনে আরো একটা খুনের পরিকল্পনা করে নিয়েছে। 
তখনো ভাবেনি তার পরিকল্পনায় বড় বাধা আসতে চলেছে।হঠাৎ করে তার মুখ হাসি থেকে গোমরা হয়ে যায়।একরাশ চিন্তা তাকে গ্রাস করে।
এভাবে তার পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে তা ভাবতেই পারেনি।
চিন্তা চিন্তা চিন্তা সম্পুর্ন চিন্তার আর ভয়ের সাগরে হাবুডুবু খেতে শুরু করে।
চোখ দুটো বড় করে সামনে তাকিয়ে আছে।
আর এতো ভয় করার কারন একটাই তা হলো &#039;পুলিশ&#039;
অরূপ এটাই ভেবে ভয় পাচ্ছে যে, পুলিশ এতো তাড়াতাড়ি খবর পেলো কিভাবে?
আর আমার জানা তত্ত্ব অনুযায়ী এখানে আশেপাশে কোনো থানা নেই!
তাহলে পুলিশ এরি মাঝে খবর পেয়ে গেলো! আর তার থেকেও বড় বিষয় হচ্ছে পুলিশের মুখের দিকে কেমন যেনো একটা অন্যরকম ভাব ফুটে উঠেছে।
পুলিশ তো একা আসার কথা না।
সাথে একটা পুলিশ হলেও আনতো,আর পুলিশের পায়ে জুতা পরা থাকে,এখানে মোজা পরা আছে কিন্তু জুতার জায়গা সেন্ডেল দখল করে নিয়েছে।(মানে সেন্ডেল পরে আসছে।)
সবথেকে গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় যেটা,  পুলিশ যে বাইক করে এসেছে সে বাইকের নাম্বার প্লেট নেই।
পুরো বিষয়টা কেমন যেনো অন্যরকম মনে হতে থাকে।
.
পুলিশের মুখে একটা কঠিন ভাব কাজ করে সবসম্য।
এক কথায় মনে যা আছে মনেই রাখে, মুখে ভাব প্রকাশ করে না।আর রাগি রাগি ভাব থাকে এতে সুবিধা একটাই, ক্রিমিনাল তাকে ভয় পায়।
কিন্তু এখানে পুলিশের ভিতর কান্নার ভাব ফুটে উটেছে।
তার মানে কি, এই পুলিশ কি সাজেদার সন্তান?
মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে হয়তো ছুটে এসেছে তাই আশেপাশে কিছু খেয়াল করেনি। 
কিন্তু আমি যতদুর জানি সাজেদা কোনো সন্তান নেই,তবে কি পালিত সন্তান?
হ্যাঁ এটাই হতে পারে।
এক জায়গা দাঁড়িয়ে মনে মনে এটাই ভাবছে, আর পুলিশের দিকে তাকিয়ে আছে।
পুলিশের বুকে লেগে থাকা নেমপ্লেট দিকে নজর পরতেই দেখে,সেখানে লেখা আছে আযিয ইসলাম 
মোঃআযিয ইসলাম।
আযিয বাইক থেকে নেমে হেলাল সাহেবের কাছে গিয়ে, তাকে জরিয়ে ধরে &quot;বাবা&quot; বলে কাদতে থাকে।
অরুপ দূর থেকে অবাক হয়ে যায়! হেলাল সাহেব ওর বাবা হলে, মৃত সাজেদা তাহলে ওর কে হয়?
না না হিসেব কিছুই মিলছে না।
সব অগোছালো।
আর দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।
মাথা ঘুরতে শুরু করে অরূপের।
মাথা ঘুরে যে কোনো মুহুর্তে পরে যেতে পারে। তাই ওখানে দাঁড়িয়ে না থেকে বাসার দিকে রওনা হয়।
বাসায় এসে তন্ময়া রুমে শুয়ে পরে।
এখানেই কাল থেকে শুয়ে ছিলো, তাই ক্ষনিকের জন্য নিজের রুম ভাবলেও ক্ষতি নেই তার।
শুয়ে চোখ বন্ধ করে বার বার আযিযের বিষয় চিন্তা করছে।
খুব বেশিক্ষণ চিন্তা করতে পারলো না। তার আগেই কেউ তার নাম ধরে ডাক দেয়।
চোখ খুলে দেখে, পুলিশ অফিসার আযিয সাহেব তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
অরুপকে চোখ খুলতে দেখে একটা চেয়ার টেনে অরুপের খাটের কাছে বসে পরে আযিয।
আর অরুপ নিজেও কিছুটা উচু হয়ে বিছানায় কাত হয়ে হেলান দেয়।
দুজন দুজনার চোখের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকে,হয়তো দুজনেই চোখের ভাষা বুঝার চেষ্টা করছে।
তারপর আযিয নিজে থেকে কথা বলা শুরু করে  
&quot;মিস্টার অরুপ আপনার শরীরের কি অবস্থা?
আর একটু হলে তো আপনি ওখানেই মাথা ঘুরে পরে যাচ্ছিলেন.&quot;
.
&quot; আপনি তো দেখছি সব দিকে নজর রাখেন।&quot;
আযিযঃ&quot;পুলিশের চোখ এটা।সব দিকে নজর রাখায় আমাদের কাজ। আর হ্যাঁ আপনার মনের সন্দেহ দূর করে দিচ্ছি,আপনি ভাবছেন হেলাল সাহেব আমার বাবা। তাহলে মৃত সাজেদার জন্য এতো কান্না কেনো?
আসলে আমার জন্মদাতা হেলাল সাহেব কিন্তু পালিত আম্মা মৃত সাজেদা&quot;
.
অরুপ প্রায় হতবাক হয়ে যায় পুলিশ অফিসারের কথা শুনে, সে কিভাবে জানে আমার মনে এসব ভাবছি। কোনো কিছু না ভেবেই বলে ফেলে।
&quot;আপনি কিভাবে জানেন আমি মনে মনে এসব ভাবছি?&quot;
আযিযঃ&quot; ঐ যে বললাম পুলিশের চোখ, আমাদের পরিস্থিতি বুঝে নিতে হয়।
শুধু মাত্র এক দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে থাকলে।ক্রিমিনাল নাকের ডগা দিয়ে চলে যাবে কিন্তু টেরই পাবোনা। তাই সব জায়গাত চোখ ঘুরানোর একটা অভ্যাস হয়ে গেছে। প্রয়োজন পরুক আর নাই পরুক, যেখানেই থাকি চারদিকে নজর রাখি।
তা মিস্টার অরূপ এক্সিডেন্ট হওয়া সকলের নাম আর ঠিকানা দিয়ে একটা ফাইল তৈরি করা হয়েছে।আর সেখানে একটা পেজ এখনো খালি আছে আপনার জন্য,
আপনার নাম ঠিকানা নিলে তা পুর্ণ হবে&quot;
.
&quot; শুধু একটা পৃষ্ঠা দিয়ে কি হবে আযিয সাহেব।&quot;
হাহাহাহ এই বলে কিছুক্ষণ উচ্চহাসি দিয়ে থমকে গেলো,তারপর আবার বলতে শুরু করে
&quot; আযিয সাহেব দেখা গেলো আমার বিষয়ে লেখার আগে, আপনার বিষয়ে ফাইল না তৈরি হয়ে না যায়।
আযিযঃ&quot;মানে?&quot;
&quot; মানেটা না হয় নিজেই বুঝে নিয়েন ।&quot;
এই বলে চোখ বন্ধ করে অরূপ, সে চোখ বন্ধ করে বুঝাতে যাচ্ছে সে আর কথা বলতে চায় না।
যদি আযিয বুদ্ধিমান হয়ে থাকে তাহলে এ ইশারা বুঝে যাবে সে,তাই সে এটাই দেখছিলো আযিয তার ইশারা বুঝে নাকি।
.
এদিকে আযিয অরূপের আচরণ বুঝতে পারে। অরূপ আর কিছু বলতে চায় না।কিছুটা রাগ হলো তার কারন, সে আরো কিছুক্ষণ কথা বলতে চাচ্ছিলো কথার প্যাচে ফেলাতে চেয়েছিলো।কিন্তু কথা শুরু আগেই শেষ।
এখন নিজের অনিচ্ছায় বলতেই হচ্ছে।
আযিযঃ &quot;তা হলে অরূপ আজ তা হলে আসি। অন্য একদিন না হয় কথা হবে আমাদের।&quot;
এই বলে চেয়ারটা একপাশে রেখে খুব দ্রুত পথে প্রস্থান করে ঐ ঘর থেকে।
অরূপ আর চোখ খোলেনি। আযিয কি বলে গেলো তা কানেই এসেছে কিন্তু কিছুই বুঝে নি। কারন সে এখন আযিযের কথাগুলো বার বার মনে মনে রিপিট করছে।
.
আযিয কেনো এসব বললো?
 সে কি বুঝাতে চাচ্ছে? তবে কি সে বুঝে গেছে খুনি আমি!
না না কিছুতেই ধরা পরলে চলবে না,যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শেষ করে এখান থেকে বিদায় হওয়া উচিৎ। নইলে ধরা পরে যাবো।
আযিযের কথাগুলো ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছে,তা নিজেও জানে না।
অবশ্য ঘুম কাউকে বলে আসে না।
(একটা কথা আছে তা হলো মানুষের মস্তিষ্ক যে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সবসময়, ঘুমোনোর পরে তার মস্তিষ্ক কল্পনায় ঐ কাজটায় করে।)
কোনোকিছু নিয়ে সবসময় ভাবলে সেটায় স্বপ্নে দেখা যায়।
.
অরূপ এখন স্বপ্নে খুন করতে শুরু করেছে।
একটা মেয়েকে সে গাছের সাথে উলটো করে ঝুলে দিয়েছে। তারপর মুখের চামড়া খুব যত্ন করে কাটতে থাকে, অর্ধেক কাটছে আর অর্ধেক ওরকম রেখেছে , মেয়েটিযে জীবন্ত অবস্থায় এমন নির্মম কাজ করছে। 
মেয়েটি ছটফট করছে,বার বার মাথা এদিক ওদিক ঘুরাতে থাকে কিন্তু তাতে ব্যাথা একটু কমে না,বরং পুরো মুখে ব্যাথা অনুভব হতে থাকে। আর লাল রক্ত টপ টপ করে পড়তে থাকে।
হঠাৎ মনে হতে থাকে তাকে কেউ ধাক্কা দিচ্ছে
চোখ খুলে ধড়ফড় করে উঠে, বিছানা থেকে উঠে বসে পরে খুব জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে থাকে।
সে ভয় পেয়েছিলো এটাই যে তাকে কেউ দেখেনি তো আবার খুন করার সময়!
আশেপাশে তাকিয়ে বুঝতে পারে সে স্বপ্ন দেখছিলো।
.
পাশে তাকিয়ে দেখে ৫ বছরের ছেলে মিযান দাঁড়িয়ে আছে, মিযান এতক্ষণ ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে তুলার চেষ্টা করছিলো।
আমি চোখ খোলাতে সে বলে উঠে, &quot;পাগলা ভাই (অরূপ কে সে পাগলা ভাই বলে ডাকে,কেনো যে সে পাগলা ভাই বলে ডাকে তার উত্তর মিযান নিজেও জানে না,যখনি তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তুমি পাগলা ভাই বলে কেনো ডাকো? তখনি সে চুপ হয়ে যায়। হয়তো ও নিজেই ভাবতে থাকে, কেনো সে পাগলা ভাই বলে) &quot;এ বাসায় কেউ নাই।সবাই পাশের বাসায় গেছে মিতু আপির বাসায় গেছে। তোমাকেউ এক্ষনি যেতে বলছে।
তুমি আসো আমি গেলাম।&quot;
এই বলে সোজা দৌড় দিলো মিযান।
কিছু বলার সুযোগ দিলো না।
মিতুর বাসা কোনটা তা অরূপ জানে না।
তাই বুঝতে পারে না এখন কি করবে।
চারদিকে তাকিয়ে দেখে অন্ধকার ভর করেছে।আলোকে গ্রাস করে অন্ধকারের রাজত্ব চলছে।
চারদিকে কালো কালো ঘরের এক পাশে লেম্প জালিয়ে দেওয়া আছে আর সেখান থেকে, কিছুটা আলো এসে অন্ধকার মুছে দিয়েছে।
তবে এ ক্ষনিকের রাজত্ব কারন লেম্প তেল ফুরিয়ে গেলে আবার অন্ধকার অনায়াসে রাজত্ব করতে পারবে।
অরূপ উঠে হাত মুখ ধুয়ে নিলো।নিজেকে রিফ্রেশ করে নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে কারন অরূপ জানে কেউ না কেউ তাকে নিতে আসবে।
তা ছাড়া সে কার বাসায় যাবে, কিছুই চিনে না।
অল্প কিছুক্ষনের ভিতরে বাড়িতে হেলাল সাহেব প্রবেশ করে, অরূপ আসছে না দেখে নিজেই আসে দেখার জন্য।
বাড়িতে অরূপ এভাবে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা দেখে বুঝে যায়, কেনো সে দাঁড়িয়ে আছে।
তাই আর কিছু না বলে শুধু বলে
&quot;বাবা কিছু মনে করোনা মিযান ছোটো মানুষ, তাই কিছু বুঝোনি, ও তো জানে না তুমি বাসা চিনোনা।
যাইহোক অনেক রাত হয়ে গেছে চলো খেয়ে আসি।
আমিও খাইনি
&quot; চাচা এখানে খাবো না?&quot;
হেলালঃ &quot;না বাবা আগামি কিছুদিন কষ্ট করে অন্যের বাসায় খেতে হবে। এ বাড়িতে রান্না বন্ধ।
আর কি করা।কোনো উপাই না পেয়ে কাদা মাখা মাটিতে পা টিপে টিপে চলতে থাকে।
চলার পথে বার বার নিচে তাকাতে হচ্ছে কারন কাঁদায় পা আটকে গেলে, কিংবা পা পিছলে পরে গেলে একটা বাজে অবস্থা হবে।
কোনোরকম ভাবে মিতুর বাসায় আসলো, মিতুর বাসা অন্ধকার
তাই ঘরের ভিতর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
হালকা মেঘে ঢাকা চাঁদ মামা কিছুটা আলো দিচ্ছে। আর তা দিয়ে এটুকু বুঝা যাচ্ছে।
 বাড়ির বারান্দার একটা কোনায় টেবিল আছে।সম্ভবত  খাওয়া জন্য ব্যবহার করা হয়।
আর বারান্দায় আরেক কোনায় মাদুরের উপর মোমেনা বেগম তার পাশে একি বয়সি একটা মহিলা বসে আ,ছে। আর একদিকে তন্ময়া আর তার সমবয়সী দুজনে বসে নানান বিষয়ে আলাপ করতাছে
আলো পরিষ্কার না হওয়াতে কারো মুখ বুঝাই যাচ্ছে না।
হেলাল আর অরূপ দুজনে টাবিলে গিয়ে বসে, আগে থেকে এক চেয়ার দখল করে মিযান বসে আছে।
অরূপকে দেখে বলে&quot; ও পাগলা ভাই এতক্ষন লাগে আসতে।&quot;
অরূপ কিছু বলে না
হেলাল সাহেব পকেট থেকে ম্যাচ বের করে, সামনে থাকা লেম্প জালায়। তাতে কিছুটা আলো পাওয়া যায়।
অরূপ তাকিয়ে দেখে সামনে  মসুর কালাইয়ের ডাল,ছোটো আলু ভাজি আর মাছের ডিম ভাজি, তারপর চাম ঘাস ভর্তা (চাম ঘাস এক ধরনের শাক যা ভর্তা করে খাওয়া হয়)
হেলালবসাহেব আরূপের প্লেটে ভাত ডাল সব তুলে নিতে থাকে।
মিযান নিজ হাতে তুলে নেয়
তাকে হেলাল সাহেব তুলে দিতে চেয়েছিলো কিন্তু না  নিজ হাতে তুলে নিবে। তাই আর তুলে দেয়নি।
সবগুলো মিলিয়ে লোকমা করে খেতে শুরু করে অরূপ।
নাহ খেয়ে তৃপ্তি পাচ্ছে না।
এসব রান্না ভালো হয়েছে কিন্তু তাতেউ সে কেমন জানি অনুভব করছে।
তার মন চাচ্ছে রক্ত,এখন যদি খুন করে এসে খেতে বসতো তাহলে বেশ তৃপ্তি করে খেতে পারতো।
কিছুটা ভাত খেয়ে, হেলাল সাহেবের কানে ফিস ফিস করে কি যেনো বলে।খাবার প্লেটে হাত ধুয়ে চলে যেতে থাকে বাইরের দিকে।
বাড়িতে থাকা সবাই অরূপের দিকে তাকিয়ে আছে। কেনো এভাবে চলে গেলো,খাওয়া ছেরে তা বুঝার চেষ্টা করছে।
আর হেলাল সাহেব তার মতো করে খেয়েই যাচ্ছে।
অরুপ আসলে একটা নির্দিষ্ট জায়গা খুজতে বের হয়েছে আজ রাতে খুন করার জন্য,
আশেপাশে সে কিছুই চিনেনা তাই একটু ঘুরে ঘুরে রাস্তা চিনার চেষ্টা করছে।
আর জনবসতি থেকে দূরে নিরিবিলি জায়গা খুজছে।
যেখানে মনের আয়েসে খুন করা যাবে।
একটা জায়গা পেয়েও যায়।
আর তাড়াতাড়ি বাড়ি এসেপ  প্রয়োজনিয় বেশ কিছু জিনিষ নিয়ে যায়।
খুন করতে।
ধারালো চাকু,দড়ি আরো অনেক কিছু
অরূপ জানে এখন বাসায় কেউ নেই।
আর এই সুযোগে এগুলা আনলে কেউ বুঝতেও পারবে না।
তার প্লান মতো সব কাজ করে বাসার দিকে ফিরে আসছিলো।
ফাদ তৈরি করাশেষ। এখন শিকারের অপেক্ষা।
অরূপের কপাল ভালই ছিলো কারন একটা শিকার পেয়ে গেছে খুব তাড়াতাড়ি, কেউ এদিকে আসছে
আবছা আলোতে মনে হচ্ছে এটা মেয়ে,মনে মনে খুশি হলো, এখন আবার রক্ত খেলায় মেতে উঠবে।
ভাবতেই মন কেমন জানি অজানা খুশি বয়ে যাচ্ছে।
মেয়েটা অরুপের কাছাকাছি আসতেই অরূপ মেয়েটার সামনে দাঁড়ায় আর একটা সুই মেয়েটার কানের নিচে বরাবর চালান করে দেয়।
ব্যাস খেল খতম
মেয়েটা সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পরে যায়
অরূপ মেয়েটাকে ঘারে করে নিয়ে তার সাজানো জায়গা নিয়ে যায়। 
তারপর মেয়েটাকে পায়ে রশি দিয়ে ঝুলে দিয়ে দেয়।
কাজ শেষ এখন তার স্বপ্নে দেখা খুন, বাস্তবের রুপ নিবে।
স্বপ্নে যেভাবে খুন করেছে এখন সেভাবেও খুন করবে।
পুরো মুখ অর্ধেক চামড়া কাটবে
আর অর্ধেক চামড়া রেখে দিবে।
ধারালো চাকু নিয়ে উলটো ঝুলন্ত মেয়েটার কপালে চাকু ঠেকিয়ে চামড়া কাটতে শুরু করে। আর তখনি মেয়েটার জ্ঞান ফিরে আসে।
জ্ঞান ফিরে আসার পর নিজেকে এভাবে আবিষ্কার করে খুব ভয় পেয়ে যায়।আর তখনি জোরে চিৎকার দেওয়ার জন্য হা করে, অরূপ মেয়েটা এভাবে জ্ঞান ফিরতে দেখে মেয়েটার ২ ঠোটের মাঝখানে চাকু চালিয়ে দেয়। একটু জোরে চাপ দেওয়াতে ২ ঠোটের মাঝখানে নরম মাংশ কেটে দাঁতের শেষ সিমানায় পৌছে যায়।
আর রক্ত পরতে শুরু করে।
অরূপ এবার সুযোগ বুঝে জিহবা কেটে দেয়। যার ফলে মেয়েটা আর চিৎকার করতে পারে না।
শুধু চোখ দিয়ে অজস্র পানি বের হতে থাকে,মেয়েটা অপলক দৃষ্টিতে ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে আছে অরূপের দিকে।
হাত পা বাধা তাই কিছুই নরাতে পারছে না
তার উপর উলটো ঝুলে আছে।
চুল গুলো রক্তে ভিজে ছেপছেপা হয়ে গেছে।
মুখের রক্ত চোখের জল জিহবার রক্ত সব গড়িয়ে চুল ভিজিয়ে দিচ্ছে।
অরূপ যতবার চাকু মেয়েটার কপালে ধরছে,  মেয়েটা জীবন বাচানোর জন্য মাথা এদি ওদিক নারাচ্ছে এতে করে মুখের চামড়া কাটতে পারছে না।
.
মেয়েটার এমন আচরনে অরূপের খুব রাগ হয় আর সে রাগ কমানোর জন্য মেয়েটার উরু বরাবর ২/৩ বার চাকু দিয়ে আঘাত করে।
অনেক অংশ মোটা করে কেটে যায় আর রক্ত পরতে থাকে।
মেয়েটা মুখ হা করে চিৎকার করার মতো করে।
কিন্তু চিৎকার করতে গিয়েও করতে পারছি না।
এখন আর বাধা দেয় না,অরূপ তার ইচ্ছামতো চামড়া কাটতে শুরু করে 
মেয়েটা ব্যাথা অনুভব করতে গিয়েও করে না কারন

তার শরীরে আর কোনো অনুভুতি কাজ করছে না,এক কথায় অবশ হয়ে যাচ্ছে।
এর চেয়ে যন্ত্রণাদায়ক আর কিছু আছে কি না তা মেয়েটা জানে না।
আরূপ তার প্রথম ধাপ শেষ করে, ২য় ধাপে এগিয়ে যায় মেয়েটার বুকের কিছু অংশ চামড়া তুলে ফেলে, ফুসফুস বরাবর চামড়া তুলে ফেলে তারপর সুই দিয়ে বার বার ফুসফুসে খোচাতে থাকে।

বড় সুই হওয়াতে খুব সহজেই ভিতরে গিয়ে সোজা ফুসফুসে আঘাত করছে,আর যতবার ফুসফুসে আঘাত করছে, ততবার রক্ত ছিটকে বেরিয়ে আসতে থাকে।
একটা ছোট্ট বাচ্চা নতুন খেলনা পেলে যেমন খুশি হয়ে সবকিছু বাদ দিয়ে ঐ খেলনা নিয়েই সারাক্ষণ পরে থাকে।
অরূপ ছোট্ট বাচ্চার মতো খেলছে।
এভাবে সুই কানা করতে করতে মেয়েটা মারা যায়।
এ কঠিন যন্ত্রণা পেয়েও একটুও চিৎকার করতে না পেরে আরো বেশি যন্ত্রণা অনুভব হয়েছে।
হয়তো মেয়েটার লাশ কাল সকালে সবাই দেখবে আর আফসোস করবে কিন্তু এর কষ্টটা কেউ অনুভব করতেও পারবে না।
অরূপ এখন অনেক খুশি মুখের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ৩২টা দাঁত বের করে হাসতে হাসতে ঐ জায়গা থেকে চলে আসতে শুরু করে, তখনি কারো উপস্থিতি টের পায়।
কেউ একজন দূরে দাঁড়িয়ে আছে তার থেকে কিছুটা দূরে
আর এতক্ষণ ধরে তার মৃত্যু খেলা সব দেখেছে।
অরুপ ভয় পেয়ে যায় আর ঠোট কাপা কন্ঠে বলে কে? কে ওখানে?
.
অরূপের মুখের কথা শুনে। লোকটা একটু একটু করে এগিয়ে আসতে থাকে।
আর যত কাছে আসে তত অরূপের বুকের হার্টবির্ট বারতে থাকে।
কেউ তার গলা চাপ দিয়ে ধরেনি,অথচ তার অনুভব হচ্ছে তার নিস্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।
বার বার ঢোক গিলছে
লোকটি একবারে অরূপের থেকে ২ হাত দূরে দাঁড়িয়ে থেকে লোকটির হাতে থাকা টর্চ লাইট জালিয়ে নিজের মুখে ধরে।
আর তখনি অরূপ চোখ বড় হয়ে যায়।
যেটার ভয় করেছিলো সেটাই হয়েছে।
তার সামনে পুলিশ অফিসার আযিয সাহেব দাঁড়িয়ে আছে।
এখন সে কি করবে? 
মস্তিষ্ক গভীরে গিয়েও এখান থেকে উদ্ধার পাওয়ার কোনো উপাই খুজে পাচ্ছে না।
&quot;কিলার অরূপ সাহেব কি স্টাইলে খুন করলেন আপনি,আমি তো ফিদা হয়ে গেছি।
এভাবে কেউ খুন করতে পারে, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতেই পারতাম না।&quot;
এই বলে হাত তালি দেয় আযিয।
আর তখনি মুখে গম্ভির ভাব এনে বলে।
&quot;এখন আমার পালা।&quot;
এই বলা মাত্র একটা রশি এসে সোজা অরূপের গলা পেঁচিয়ে যায়।
আর অরূপ ঝুলে পরে
গলায় এতো জোরে চাপ দেয়াতে নিশ্বাস নিতে পারে না অরূপ,হাত দিয়ে এদিক ওদিক ছুড়াছুড়ি করে নিজেকে বাচানোর চেষ্টা করে,
কিন্তু এতো টাইটভাবে গলায় রশি পেঁচিয়ে আছে যে তা থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
.
চলবে..
 #উইনমি</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/240624/</link>
				<pubDate>Tue, 24 Mar 2026 13:11:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>#Unsolved_অরূপ★ (২)<br />
.<br />
অরূপের মন এখন কিছুটা শান্তি অনুভব করছে। সবার মুখে হালকা ভয়ের ছাপ ফুটে উঠেছে। আর তা দেখেই অরূপের হাসি পাচ্ছে।<br />
কেউ ভয় পেলে তার অনেক ভালো লাগে।<br />
মনে মনে আরো একটা খুনের পরিকল্পনা করে নিয়েছে।<br />
তখনো ভাবেনি তার পরিকল্পনায় বড় বাধা আসতে চলেছে।হঠাৎ করে তার মুখ হাসি থেকে গোমরা হয়ে যায়।একরাশ চিন্তা তাকে গ্রাস করে।<br />
এভাবে তার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-240624"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/240624/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6db8c387f62d8fc8dbdb43ec35733987</guid>
				<title>#Unsolved_অরূপ★
.
বারান্দার এক পাশে দাঁড়িয়ে টিনের চালে বৃষ্টি ফোটার গুরি গুরি শব্দ কান পেতে শুনছে।
খুব ঠান্ডা বাতাস আর হালকা বৃষ্টির ঝাপ্টা এসে শরীরে ধাক্কা খাচ্ছে বার বার।
এরকম পরিবেশে মোটামুটি অনেক মানুষের মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু অরূপের মন আজ কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না।
কোনো কিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না।
গতকাল প্রায় ১০০+খুন করেছে। কিন্তু তাতেও আজ তার মন শান্ত হচ্ছে না।নিজেও মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছে, এমতাবস্থায় নিজেকে ধন্য ভাবা উচিৎ। কারন এখনো সে বেঁচে আছে।
কিন্তু না কোনো কিছুতেই আজ তার মন ভালো নেই।
 সবকিছু থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
তার মন এখন একটা ভাবেই শান্ত করতে পারবে। আর তা হলো রক্ত, তাজা মানুষের রক্ত নিজ চোখে দেখে আর নিজ হাতে হত্যা করতে পারলেই তার মন শান্ত হবে।
তা ছাড়া কোনোকিছুতেই শান্ত হবে না।
খুন, খুন, খুন, এটাই এখন তার মস্তিষ্ক বশ করে রেখেছে।খুন ছাড়া অন্যকিছু বুঝে না।
এক ধরনের নেশা হয়ে গেছে, যত বেশি খুন তত মনে শান্তি।
অচেনা জায়গা, অচেনা মানুষ আর রিমঝিম বৃষ্টি সবকিছু তার অসস্থি লাগছে।
এই অচেনা জায়গা আসতে চায়নি সে, নিজের অনিচ্ছায় এখানে এসেছে।
গতকাল যখন তাকে এই বাড়িতে নিয়ে আসছে, তখন অজ্ঞান ছিলো।
নিশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। সারা শরীর রক্ত মাখা। 
যদিও তার রক্ত শুধু গায়ে লেপ্টে নেই
আরুপের রক্ত সহ প্রায় অনেক মানুষের রক্ত শরীরে লাগিয়ে ছিলো।
অনেক মানুষ মারা গেছে। 
অনেকগুলো লাশের ভিরে যখন অরূপ চাপা ছিলো, ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পরতে শুরু করেছে।
ঠিক তখনি এক আগন্তুক তাকে এই বাড়িতে নিয়ে আসে।
তার ভাই ডাক্তার, এ কারনে আগন্তুক ভেবেছে হাসপাতালের চেয়ে এখানে ভালো চিকিৎসা হবে। ভালো সেবা যত্ন পেয়ে তাড়াতাড়ি সুস্থ হবে।
এটা ভেবেই নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছে।
আগুন্তুক বুঝতেই পারেনি নিজেই নিজের মৃত্যুকে ডেকে নিয়ে এসেছে।
আগন্তুকের নাম হেলাল আর তার ভাই বেলাল।
বেলালের পরিবার বলতে বউ আর সে নিজে আর কেউ নেই।
আর হেলালের পরিবারে বউয়ের একটা ৫ বছরের ছেলে মিযান, আর ১৯ বছর বয়সি মেয়ে তন্ময়া,
অরূপ মাটির বারান্দার এক পাশে দাঁড়িয়ে থেকে মিযানের বৃষ্টিতে ভিজে এদিক ওদিক ছুটে বেরানো দেখছে।
আর ঘরের ভিতর তন্ময়া আর তার আম্মু মিলে, সকালের খাওয়ার ব্যবস্থা করছে।
একসময় তন্ময়া এসে মিযানকে ধমক দিয়ে বাসার ভিতর নিয়ে গিয়ে, মাথা মুছে দিতে থাকে।
অরূপ আনমোনা হয়ে বৃষ্টি দেখেই যাচ্ছে, আর মনে মনে ভাবতে থাকে কিভাবে খুন করা যায় এদের সবাইকে।
একটা ঘরে সবাইকে বন্ধ করে দিয়ে। খুন করবে গলা দিয়ে রক্ত ছিটকে পরবে দেয়ালে, পুরো দেয়াল জুরে লাল রক্তে রাঙ্গিয়ে যাবে।
মনে মনে এটাই ভাবছে,তখনি তার ভাবনার ছেদ পরে।
হেলাল সাহেব তাকে উদ্দ্যেশ্য করে হালকা উচু করে ডাকতে থাকে &quot;বাবা এভাবে বৃষ্টির পাশে আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে ঘরের ভিতরে আসো সকালের খাবার খেয়ে নাও&quot;। 
অরুপ কিছুক্ষণ হেলাল সাহেবের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে কি যেনো ভাবলো, তারপর ঘরের ভিতর প্রবেশ করতেই দম বন্ধ হয়ে আসবে এমন অবস্থা।
কারন পুরো ঘর অন্ধকার আর কেন যেন অন্যরকম গন্ধ।
গন্ধটা ভালো করে নাকে নিতেই বুঝতে পারে। এটা কেরোসিন তেলের গন্ধ, পাশের রুমে তাকাতেই বুঝতে পারে গন্ধটা কেন আসছে।
পাশের রুমে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে, কারেন্ট না থাকাতে লেম্প জালিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর তা থেকেই কেরোসিন তেলের গন্ধ আসছে।
অরূপ এ রুম থেকে ও রুমে প্রবেশ করলো।
হেলাল সাহেব আর বাকি সবাই মাটিতে মাদুর বিছিয়ে খেতে বসেছে।
খাওয়ার জন্য কোনো টেবিল নেই শুধু কয়েকটা চেয়ার আছে আর একটা পড়ার টেবিল চোখে পরে।
এটা যে হেলাল সাহেবের মেয়ের ঘর তা ঘরের পরিবেশ দেখেই বুঝা যাচ্ছে।
যাইহোক সবার সাথে অরূপ মাটিতেই খেতে বসে।
হেলাল সাহেবের পাশে বসে আর হেলাল সাহেবের বাম পাশে তন্ময়া খেতে বসেছে।
মিযান তার মায়ের কোলে বসে খাচ্ছে।
মাথা নিচু করে সবাই নিরব হয়ে মুখে লোকমা নিচ্ছে,কেউ কোনো কথা বলছে না।
অরূপ খুব ভালো করেই জানে এ নিরবতা খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী থাকবেনা।
কারন হেলাল সাহেব কিছু বলার জন্য বার বার অরূপের দিকে তাকাচ্ছে আবার মাথা নিচু করে মুখে লোকমা দিচ্ছে 
.
একসময় নিজের অসস্তিকে বিদায় জানিয়ে বলতে শুরু করে &quot; বাবা আমি আর আমার কিছু বন্ধু মিলে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ একটা বাস আমাদের চোখের সামনে একদম ফাকা রাস্তায় উলটে পরে।
উলটে গিয়ে রাস্তার সাইডে নিচু জমিতে পরে যায়।
আমরা তখনি সবাই ছুটে যায়। বাসে থাকা সবাইকে সাহায্য করতে।
এম্বুলেন্স ফোন করে জলদি আসতে বলা হয়।
কিন্তু এখান থেকে হাসপাতাল অনেক দূরে তাই এম্বুলেন্স আসতে আসতে অনেক লোক এখানেই মারা যায়
আমার হাতের উপর ৩ জনের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে দেখেছি।
একটুর জন্য কাউকে বাঁচাতে পারিনি।
এম্বুলেন্স তাড়াতাড়ি আসলে হয়তো অনেক মানুষের জীবন বেচে যেত।
কি বিভৎস, মানুষের দেহ ক্ষতবিক্ষত হয়ে পরে ছিলো রাস্তার পাশে।
দেখে মনে হয়েছিলো লাশের স্তুপ,
১৯৭১ সালে যখন দেশে যুদ্ধ লেগেছিলাম তখন এরকম লাশ দেখেছি, আর আজ এতো বছর পর আবার দেখলাম।
লাশগুলো দেখে আমার সেই ৭১ সালের কথা মনে পরে গিয়েছে।
এম্বুলেন্স আসে আর অনেক লোককে এম্বুলেন্স করে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু তাতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে এম্বুলেন্স এর লোকদের।
তবুও অনেক্ষন ছুটাছুটি করার পর কিছুটা শান্তি পাই,অনেক মানুষ বেঁচে গিয়েছে কিন্তু তারচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে, আর সব মৃত লাশ তখনো রাস্তার পাশে ছিলো
শুধু যাদের বাঁচার মত অবস্থায় আছে তাদের আগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
যখন সবাইকে হাসপাতালে পাঠানো শেষ করে বাসায় আসার জন্য পা বারায়,তখনি লাশের স্তুপ একপাশে হালকা নরতে দেখি।
বুঝতে আর বাকি নেই কেউ একজন জীবিত আছে এই লাশের স্তুপের ভিতরে বন্ধুদের সবাইকে ডেকে লাশের স্তুপ সরিয়ে তোমাকে দেখতে পাই। এম্বুলেন্স আসতে সময় লাগবে এটা ভেবে তোমাকে আমি বাসায় নিয়ে আসি।
আর ভাইকে সব খুলে বলি, তখন ভাই এসে তোমার চিকিৎসা করে ঘুমের ইনিজেকশন দিয়ে ঘুমিয়ে রাখে।&quot;
অরূপ সবটা শুনে মুখে হালকা হাসি টেনে নিয়ে বলে &quot;ধন্যবাদ চাচা&quot;।
মুখে ধন্যবাদ বললেও মনে মনে তার উল্টোটা বলছে কারন বাঁচতে সে চায়না।
মরে গেলেই খুশি হতো।
হেলাল সাহেব কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলতে শুরু করে
&quot;তা বাবা তোমার বিষয়ে তো কাল থেকে কিছুই জানতে পারিনি, তোমার মানিব্যাগ ভোটার আইডি কার্ড পেয়েছি তা থেকে জানতে পারি তুমি এই বগুড়ার সন্তান নাম কি যেন লেখা ছিলো&quot;
এটা বলেই হেলাল সাহেব বা হাত দিয়ে মাথা চুলকাতে থাকে হয়তো মনে করার চেষ্টা করছিলো।
তখনি পাশ থেকে তন্ময়া বলে উঠে _&quot;আব্বা উনার নাম অরূপ&quot;।
এই বলে আমার দিকে তাকায়
অরূপ একভাবে তাকিয়ে আছে তন্ময়ার দিকে।যদিও এসব প্রেম বা বিয়ে এসবে তার এলার্জি কিন্তু আলাদা মায়া টানছে তাকে বার বার
নিজের অজান্তে এই মায়াই জড়িয়ে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে নিয়ে অরূপ বলতে শুরু করে জী চাচা আমার নাম অরূপ আমি বগুড়া আজিজুল হক কলেজের সামনেই থাকি,আর আজিজুল হক কলেজে পড়াশুনা করছি। 
নিজের ছোটো খাটো দোকান আছে সেটা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। 
হেলালঃ &quot;বাহ বাহ বেশ ভালো তা আমাদের বিষয়ে শুনে নেওয়া ভালো, যদিও হয়তো এতক্ষণে বুঝেই গেছো সবকিছু
অরূপ হেলাল সাহেবকে আর কিছু বলতে দেয় না।তার আগেই বলতে শুরু করে &quot;জী চাচা আপনার পাশে আপনার মেয়ে তন্ময়া আর আপনার স্ত্রী, আর মিযান আপনার ছেলে।
এই নিয়ে আপনার সংসার&quot;
হেলাল সাহেব সব শুনে কিছুটা মুচকি হাসি হেসে বলে&quot;বাহ সব দেখছি বলার আগেই বুঝে গেছো।আচ্ছা তা কাল থেকে তো অজ্ঞান ছিলে,বাড়িতে কি কাউকে এ বিষয়ে জানিয়েছো?
বাড়ির লোক টেনশন করছে না! 
অরূপঃ &quot;চাচা আমি এতিম, ছোটো বেলায় আম্মু মারা গেছে আর ৭/৮ বছর বয়সে আব্বু মারা গেছে তখন চাচা আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয়।
সেই থেকে নিজের ব্যবস্থা নিজে করি।&quot;
হেলাল সাহেব কিছুটা অবাক হয়ে যায়
আর কিছু বলতে যাবে তার আগেই গলা খাকারি দিয়ে ঘরে আরেকজন প্রবেশ করে।
সবাই খাওয়া বাদ দিয়ে তার দিকে তাকায়, 
অরূপ নিজেও দেখার চেষ্টা করে কে আসছে এখন ঘরে।
তাকিয়ে দেখে বেলাল সাহেব শার্ট প্যান ইন করে লম্বা মানুষ চুল পেকে গেছে প্রায় কিন্তু একটাও দাড়ি নেই।
কখনো দাড়ি মোছ কিছুই গজায়নি,আর্মিদের মতো ছোটো ছোটো করে চুল কাটিয়েছে। 
দেখতে ব্যাংকের ম্যানেজারের মতো লাগছে।
শুধু একটা কোর্ট পরা বাকি
তাহলে একদম পারফেক্ট ম্যানেজারের মতো লাগবে।
বেলাল সাহেব জুতো জোরা খুলে মাদুরের উপর খেতে বসে।
আর অরূপের দিকে তাকিয়ে বলে &quot;বাবা অরূপ তোমার কেমন অবস্থা শরীর কি ব্যাথা ট্যাথা করছে?
অরূপ বেলালের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে
&quot;না চাচা সেরকম কিছু মনে হচ্ছে না
তবে মাথাটা খুব ব্যাথা করছে&quot;।
বেলালঃ &quot;তা তো একটু হবেই মাথায় খুব বড় আঘাত পাইছো ব্যাথা একটু করবেই,আর শহরে গেলে মাথার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে নিও। বলা যায় যদি কোনো ক্ষত হয়ে থাকে ভিতরে,
তাই করে নেওয়া ভালো। 
হেলাল সাহেব বেলাল কে উদ্দেশ্য করে বলে তা এতো সকালে কই গেছিলা?
বেলালঃ তুমি তো জানোই হাসপাতালে এখন কি অবস্থা কত লোকের মুখ হাত শিলাই করলাম তার ঠিক নেই।
চারদিকে সামলাতে গিয়ে জানের উপর উঠে যাচ্ছে,
এখন খেয়ে আবার যেতে হবে হাসপাতালে।
এটুকু বলে গ্লাস হাতে নিয়ে পানি খেতে থাকে আর চারদিকে চোখ বুলাতে থাকে।
পানি খাওয়া শেষ করে, বেলাল সাহেব আবার বলে সাজেদা কই তাকে দেখছিনা যে
(সাজেদা বেলালের স্ত্রী)
এটা শুনে হেলালের স্ত্রী মোমেনা বেগম বলে&quot;সাজে সকালে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গেছে, আপনি খেতে বসুন এখনি চলে আসবে।
.
বেলাল কিছুটা মাথা নেরে খাবারের থালা এগিয়ে নেয়,নিজ হাতে ভাতের গামলা থেকে ভাত বেরে নিয়ে খলসে মাছের পুরপুরি, আর ডাল নিয়ে সবগুলা এক করে হাতের ভিতর ছোটো লোকমা করে মুখে নেওয়ার জন্য হাতটা উচু করে।
তখনি একটা চিৎকার শুনতে পায় চিৎকার টা বেলাল সাহেবকে উদ্দেশ্য করে।
কেউ তাকে ডাকছে চিৎকার করে।
খুব বেশি সময় লাগলোনা চিৎকারের কারন বুঝতে একটা মোটা বয়স্ক লোক দৌড়ে ঘরের দরজার কাছে এসে থেমে যায়।
আর বলতে থাকে &quot;বেলাল তোর বউ পাটক্ষেতের পাশে লাশ হয়ে পরে আছে&quot;।
বেলাল সাহেবের হাতের লোকমা হাতেই রয়ে গেলো মুখে উঠলো না।
মোটা লোকটির কথা কানে বাজতে থাকে।
হাতের লোকমা থালায় রেখে ওখান থেকে খালি পায়ে দৌড় দিলো, তার পিছে পিছে অরূপ সহ সবাই ছুটতে শুরু করে।
চারদিক বৃষ্টির পানি পরছে কিন্তু সেদিকে কারো দেখার বিষয় নেই।
কাদা মাটি পায়ে লাগিয়ে সবাই ছুটে যায় মাটির তৈরি একটা রাস্তার পাশে।
রাস্তা খুব বেশি বড় না, একটা ভ্যান যাতায়াতের মতো চাওরা করে বানানো হয়েছে
রাস্তার দু পাশে নিচু জমি,কিছু উচু জমি আছে যেগুলোতে সবজি জাতীয় আবাদ চাষ করা হয়।
আর নিচু জমিতে ধান, আলু এসব চাষ করা হয়।
রাস্তার পাশে একটা পাট ক্ষেতের পাশে উলঙ্গ অবস্থায় উলটো হয়ে পরে আছে সাজেদা বেগম।
পুরো শরীর রক্ত ভেসে গেছে,কেউ তার শরীরে চামড়া ধারালো ঘাস দিয়ে কেটে দিয়েছে,আর দু এক জায়গা চামড়া হাত দিয়ে তোলার চেষ্টাও করেছে তা দেখেই বুঝা যাচ্ছে, অনেক জায়গা শরীরের চামড়া ভিতরের অংশ দেখা যাচ্ছে।
কানের চামড়া কেটে ফেলেছে।
আর একটা জিনিষ দেখা গেল যে_
পায়ের কানি আঙ্গুল কামরে তুলে নিয়েছে কেউ।
ঐ অংশ থেকে অঝরে রক্ত গড়িয়ে পরছে।
বেলাল সাহেব এমন অবস্থা দেখে ওখানেই অজ্ঞান হয়ে যায়।
হেলাল সাহেব তার স্ত্রীকে একটা চাদর আনতে বলে।
আর তা দিয়ে সাজেদার মৃত শরীর ঢেকে দেওয়া হয়।
.
চারদিকে শোকের ছায়া পরে যায়।
অনেকেই ভাবতে শুরু করে কে করলো খুন?
আর কেনো করলো?
তাও আবার এমনভাবে খুন করলো কেনো?
চারদিকে নানান ভাবে আলোচনা চলতে থাকে। কেউ বলে খুনির সাথে ঝগড়া বিবাদ আছে ফ্যামিলির তাই প্রতিশোধ নিয়েছে।
এরকম অনেক কিছু অনুমান করতে থাকে।
সবাই মন খারাপ করলেও অরূপের মুখে হাসি লেগে আছে।
অরুপের একটা টার্গেট পুরন হয়েছে। 
এখন পরের টার্গেট কাজ শুরু করবে সে।
সকালে সবাই যখন ঘুমিয়ে ছিলো,চারদিকে আবছা আলো ফুটেছে তখন অরূপের জ্ঞান ফিরে, আর প্রশাব করার জন্য বাইরে আসে।
বাইরে এসেই দেখে যে বাড়িতে সে বর্তমান আছে সে বাড়ির একজন হাতে বস্তা নিয়ে বাইরে বের হচ্ছে।
অরূপের মনে খুনের নেশা তো আগে থেকেই ছিলো তাই তখনি পিছু নিলো।
বেলালের স্ত্রী সাজেদা বেগম
পাট ক্ষেতের কাছাকাছি আসতেই দেখে আশেপাশে কেউ নেই।
তখনি পিছন থেকে মুখ চাপ দিয়ে ধরে সাজেদা বেগমকে পাট ক্ষেতের মাঝামাঝি জায়গা নিয়ে গিয়ে বুকের ওড়না দিয়ে মুখ পেচে দেয়,এতক্ষণ সাজেদা নিজের হাত দিয়ে ছাড়ানো চেষ্টা করে, কিন্তু অরূপের শক্তির কাছে তুচ্ছ তা। 
.
অরূপ হাত পা বাধার জন্য কিছুই খুজে পাচ্ছিলো না। তাই সাজেদার কাপড় এক প্রকার চিরে হাত পা বেধে দেয়।
তারপর হাতের কাছে ধারালো কিছু না পাওয়াতে পাট ক্ষেতের পাশেই অনেক গুলি ঘাসের গাছ লাগানো আছে বিদেশি ঘাস, খুব ধারালো হয় তার পাতা, সেই পাতা নিয়ে এসে সাজেদার শরীরের উপর এদিক সেদিক ঘুরাতে থাকে, কিন্তু তাতে খুব বেশি কাটে না চামড়া তাই হাত দিয়ে টেনে টেনে চিরে তুলে ফেলে।
সাজেদা নিজের শক্তি দিয়ে এদিক ওদিক পুরো শরীর মোচরাতে থাকে, চোখদিয়ে অবিরাম জল পরতে থাকে কিন্তু কোনো কিছুতেই রেহাই পায়না।
অরূপের কাছ থেকে
অরূপ হাতের কাছে ধারালো কিছুই না পাওয়াতে দাঁত দিয়ে কামড়ে নখ কেটে ফেলে।
যদিও অনেক প্রব্লেম হয় প্রচুর শক্তি খরচ করতে হয়েছে, তার উপর এমনিতেই ক্লান্ত শরীর
নাহ এতো কিছু করেও মন শান্তি পাচ্ছে না।
সাজেদা তখনো নিজেকে বাচানোর চেষ্টা করছে, মুখ দিয়ে চিৎকার করতে গিয়েও চিৎকার করতে পারছে না।
চোখের জল ছাড়া কিছুই করতে পারছে না।
সাজেদার মন বলছে এতো কষ্ট সহ্য করার চেয়ে মৃত্যু অনেক ভালো।
কিন্ত তার মনের কথা মনেই রয়ে গেলো।
অরূপ প্রায় পাগল হয়ে গেছে নাহ খুন করার মতো হাতের কাছে কিছুই পাচ্ছে না।
একবার ভাবলো বস্তার ভিতর তুলে রাখবি। এটা ভেবে বস্তা হাতে নেয় আর তাতেই একটা ধারালো অস্ত্র দেখতে পায়।
সম্ভবত ঘাস কাটার কাজে ব্যবহার করার জন্য নিয়ে আসছিলো।
ওটা দিয়েই কানের চামড়া , চোখের পাতা,আর নাকের অংশ কেটে ফেলে।
ছটফট করতে করতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে সাজেদা
.
সাজেদার ছটফটানি দেখে কিছুটা শান্তি পায়।
তারপর হাত পায়ের বাধন খুলে ফেলে ক্ষেতের এক পাশে ফেলে দেয় ধানি জমিতে বর্ষার জন্য কিছুটা পানি জমে গিয়েছে। সেখান থেকে হাত মুখে ছিটকে পরা রক্ত পরিষ্কার করে।
চুপিসারে ঘরে গিয়ে শুয়ে পরে।
কেউ বুঝতেই পারেনি সে খুন করেছে।
.
অরূপের মন এখন কিছুটা শান্তি পাচ্ছে সবার মুখে হালকা ভয়ের ছাপ ফুটে উঠেছে আর তা দেখেই অরূপের হাসি পাচ্ছে।
কেউ ভয় পেলে তার অনেক ভালো লাগে।
মনে মনে আরো একটা খুনের পরিকল্পনা করে নিয়েছে অলরেডি।
তখনো ভাবেনি তার পরিকল্পনা বড় বাধা আসতে চলেছে।
হঠাৎ করে তার মুখ হাসি থেকে গোমরা হয়ে যায়।
একরাশ চিন্তা তাকে গ্রাস করে,এভাবে তার পরিকল্পনা ভেস্তে যাবি তা ভাবতেই পারেনি।
চিন্তা চিন্তা চিন্তা সম্পুর্ন চিন্তার আর ভয়ের সাগরে হাবুডুবু খেতে শুরু করে।
চোখ দুটো বড় করে সামনে তাকিয়ে আছে।
.
চলবে
_১
 #লেখা_উইনমি</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/240359/</link>
				<pubDate>Mon, 23 Mar 2026 09:08:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>#Unsolved_অরূপ★<br />
.<br />
বারান্দার এক পাশে দাঁড়িয়ে টিনের চালে বৃষ্টি ফোটার গুরি গুরি শব্দ কান পেতে শুনছে।<br />
খুব ঠান্ডা বাতাস আর হালকা বৃষ্টির ঝাপ্টা এসে শরীরে ধাক্কা খাচ্ছে বার বার।<br />
এরকম পরিবেশে মোটামুটি অনেক মানুষের মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু অরূপের মন আজ কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না।<br />
কোনো কিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না।<br />
গতকাল প্রায় ১০০+খুন করেছে। কি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-240359"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/240359/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f1385ef95c26270fe1dc4563e814dc43</guid>
				<title>ফারদিন ইসলাম উইনমি changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/240358/</link>
				<pubDate>Mon, 23 Mar 2026 09:03:02 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>