একটি শর্ষেদানা
বসবাস
দাঁত ভাঙা এক বুড়ো ভিখিরি বলল,
শাদা ভাতের দানা ভেঙে গ্যাছে তার,
হাতে তোমাদের খুচরো পয়সা
কত আর জোড়া দেবো ভাই ?
শুনে হলো ভয়,
কোনদিন এই গোলদানা পৃথিবীর
গা যদি ভেঙে যায়
মানুষ মরলে তার লাশ কি তবে
জোড়া দিতে হবে
সকল ভাঙার দাগে,
ওই ভাঙার দাগে যে
তীর আছে আমাদের,
আছে বসবাস।
ছি ছি আলনা
বাতিকেও বিখ্যাত করেছো দিনে,
আর কি করেছো ?
পাতার আশ্রয় থেকে ছায়াকে তুলে
ছায়াকে খুলে
দুহাতের নিঃসৃত আয়নায়
আলোমগ্ন নলে গতি পিপাসায়
প্রভুভক্ত কুকুরের হাড় মাংস পিষে যায়,
গতি বিরতির ফাঁকে
ধাবমান সব উপকারী ইশারা,
ছি ছি ডান বাম তুলে রাখো দ্রুত,
সম্মুখ অপরাধ মিশ্রিত হয়ে
ঝুলে রয় জানালায় —
যদি ক্রমে আলনায়
কাপড় রাখা বোঝা,
তবে তাকেও বিখ্যাত কোরো আজ, ঘরে।
মেরামত
জলের আচরণ জড়ো করে নদী হয়,
পলিমাটি জড়ো করে
যেখানে নদীমাতৃক হয় কোন দেশ —
বহু ইতিহাস, মানুষ জড়ো করে কি হয় !
নিঃশ্বাসে আত্মিক চেনাজানা
অনেকদিন জুড়ে মনের আবহাওয়ায়
কিছু গতি
কিছু ক্ষতি
কিছু ক্ষয়, কিছু জোড়া লাগা,
কিছু কিছু সংযুক্তির ফাঁদে
সমস্ত জীবন মেরামতে ভাসে।
কালো কাপড়
বারান্দার গ্রিলে হেলে পড়া রোদে
এক জোড়া ভেজা চোখ
কে যে শুকোতে দিয়েছে কবে? মনে নেই —
তুমি কি কালো কাপড় শুকোতে দিয়েছ মেঘের ওপর
আর আমার জানালার পাশে!
একজন জানালার মৃত্যুতে ঘরগুলো
একটুও ফাঁকা হয় না আজকাল,
বাইরে সবখানে ঢেউ —
ঢেউ থেকে উপরে, মেঘে মিশে আছে
কোন কালো কাপড়ের ঘ্রাণ?
গান
আমাদের বেতার কেন্দ্রের উপরের আকাশ
বোবা রয়ে গেল বলে
এত গান শোনা যায় দূরে দূরে,
বাড়ির ছাদটা বোবা রয়ে গেল বলে
ঘরে এত লোকজন কথা বলে,
ছাদ মেটাতে গিয়ে
বাড়িকে কেউ দোতলা তিনতলা করে নেয়
তবুও তো ছাদ রয়ে যায় —
সেখানে শুধু গোপন আলোর মৃত্যু ঝরে সারারাত।
অচিন কাগজ
মৃত্যুর কাছাকাছি
কাপড় নিঃসঙ্গ হয়ে ছুঁতে এলো দেহ —
দিন চুয়ে চুয়ে একা হয় দিন, কেবল
আমার ভ্রমণ চেনে বিশ্বাস ও ব্যাগের চেন;
জামার বোতাম চেনে তোমার দেহ –
আরও দুটো চোখ
আর একটা অচিন কাগজ
ধরে রাখবার জন্য মাত্র দুটো আঙুল
আমি লুকিয়ে রেখেছি বুকে।
একটি শর্ষেদানা
কাঠের খণ্ডগুলি গল্প বলে গাছে গাছে,
বহুদূরে, শর্ষে ক্ষেতের কাছে
রোদের হলদে রং রাখা ছিল —
আজ মাটি থেকে মা সরে যায়
রাত পুড়ে যায় শর্ষে ক্ষেতে —
অন্ধ পাখির ঠোঁট থেকে
একটি শর্ষে দানা পড়ে গ্যালে
পাখি কি ভিখিরি হতো হলদে রংয়ের কাছে!
পাখি কি আকাশটাই ঠোঁটে নিতে চেতো?
![]()
2 Comments
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.
Abul Hasan Tuhen
অনেক সুন্দর
Drako Shajib
কবিতাগুলো শীতল নদীর মত কলকল ছন্দে বয়ে গেল যেন আমার ভেতর দিয়ে! আর প্রতি পরতে পরতে যেন এক একটা চমক যেমন,
“বারান্দার গ্রিলে হেলে পড়া রোদে
এক জোড়া ভেজা চোখ
কে যে শুকোতে দিয়েছে কবে? মনে নেই” — ভীষণ ভালো লাগলো! ভালোবাসা নেবেন!